স্যারোগেট এল এইচ

হবু এবং হয়ে যাওয়া গাইনোকলজিস্টদের জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য।

স্যারোগেট এল এইচ।

যখন ওভুলেশন ইনডাকশনে ফলিকল রাপচারের জন্য বাইরে থেকে এল এইচ প্রয়োগ করা হয় তাকে স্যারোগেট এল এইচ বলে। এই স্যারোগেট এল এইচ প্রয়োগ সব সময়ে প্রযোজ্য কিনা?

আগে একটা গল্প বলে নেই। গল্প হোল সিটি হাসপাতালের লাঞ্চের সাথে অপরিহার্য ব্যবহৃত আচারের মত। যা ছাড়া ফ্যারিঞ্জিয়াল স্ফিংক্টার কিছুতেই খোলে না।

তখন সদ্য প্রাকটিশনার গাইনোকলজিস্ট। ভাবীসদৃশ এক পেশেন্ট এসেই খুব তাড়াহুড়ো করছিল বাসায় ফিরে অর্ডারী বার্থডে কেক বানাবে। বার্থডে কেক বাসায় বানাবে!!! শুনে খুব আগ্রহী হয়ে পরলাম, ভারী ইন্টারেস্টিং সে জিনিশ দেখার জন্য। উনি আমাকে এপয়েন্টমেন্ট দিলেন এবং আইজ অন ট্রেনিং দিলেন। শুরু হয়ে গেল আমার হ্যান্ডস অন প্রাক্টিস। প্রথম দিনে চারটা ডিম দিয়ে স্পঞ্জ কেক বানালাম। বাজী মাত। দ্বিতীয় দিনে আটটি ডিম দিয়ে করলাম। বাজী তখনও মাত। তৃতীয় দিনে বারোটি ডিম দিয়ে শুরু করলাম, অনেককে খাওয়াব বলে। এবারে বাজী বাজীই হয়ে গেল। কেক আর স্পঞ্জী হোল না। পুরো ময়দার দলা। সেই ভাবীকে ফোন দিলাম। বললেন এগ বিটিং হয়নি। বলে কি? পুরো গামলা ফেনায় ভরে উপচে পরছিল। বিটিং হয়নি মানে! পরবর্তীতে চেক করে দেখলাম ডিম বেশী বলে আপাতদৃষ্টিতে গামলা ফেনায় উপচে পরলেও নীচে অনেকখানি ডিমের লালা অংশ রয়ে যায়। ঐ অবস্থায় ওভেনে দিলে তখন ফেনা অংশ স্পঞ্জী হলেও নীচের অংশ শক্ত হয়ে যায়। তাই উপরের ফেনা সরিয়ে আবার বিটিং করতে হয়। এই ফিজিক্স কেমিস্ট্রী উনি প্রথমে আমাকে শেখাননি।

কি সম্পর্ক সেই ডিম আর এই ডিমের সাথে?

তিনটি কারনে এনওভুলেশন হয়।

১। ফলিকল বড় বা ম্যাচিউর না হওয়া। ফলিকল ম্যাচিউরিটি এবং ওভাম ম্যাচিউরিটি পাশাপাশি চলতে থাকে।
২। প্রিম্যাচিউর লুটিনাইজেশন। যেখানে ফলিকল ম্যাচিউর হবার আগেই এল এইচ প্রয়োগ করা হয়। এবং
৩। আনরাপচারড ফলিকল (LUFS)। যখন ম্যাচিউর ফলিকল কোন কারনে রাপচার হতে পারে না। ঐ অবস্থায়ই এল এইচের জন্য লুটিনাইজড হয় এবং ওভুলেশনের সব সাইন সিম্পটম পাওয়া যায়।

স্বাভাবিক ওভুলেশন কি করে হয়?

FSH এর প্রভাবে ফলিকল বড় হতে থাকে। গ্রানুলোসা সেল পপুলেশন বাড়তে থাকে, যেখান থেকে এস্ট্রোজেন রিলিজ হয় এবং সেই এস্ট্রোজেন ফলিকুলার সেল এ FSH রিসেপ্টর বাড়াতে থাকে। ক্রমান্বয়ে একটি ভিসিয়াস সার্কেল চলতে থাকে তুলনামূলক বড়টির মধ্যে, সে ফলিকল ডমিনেন্ট হয়, বাকীগুলো এট্রেসিয়া হয়ে যায়। ডমিনেন্ট ফলিকল বড় হতে হতে এস্ট্রোজেন বাড়তে থাকে এবং সেই বর্ধিত এস্ট্রোজেন পিটুইটারী থেকে LH রিলিজ করায়। একটি (এস্ট্রোজেন) বাড়ার জন্য আরেকটি (এল এইচ) বাড়ে বলেই এটাকে বলে পজিটিভ এল এইচ সার্জ। এই এল এইচ পরিপক্ক ফলিকল এবং ওভামের উপর কাজ করে। ওভামের ফার্স্ট মেয়োটিক ডিভিশনের প্রফেজ স্টেজের ডিক্টাইটিন স্টেজ এ আটকে থাকা কার্যক্রমকে ফিরিয়ে আনে এবং ফলিকল রাপচার করে মেটাফেজ ২ স্টেজ এর ওভামকে রিলিজ করতে সহায়তা করে। ফলিকুলার সেলগুলোকে লুটিনাইজড করে অর্থাৎ প্রোজেস্টারন রিলিজ করার উপযোগী করে তোলে।

ফলিকুলার সাইজ ১৭ মিমি বা তার বেশী হবার আগে যদি এই এল এইচ চলে আসে সে ফলিকলকে রাপচার করতে পারে না কিন্তু সেলগুলোকে লুটিনাইজড করে তবে সেলগুলো প্রোজেস্টারন তৈরীর উপযোগীও হয় না। ওভাম এন্ট্রাপট হয়ে যায় একসময়ে ফলিকল এট্রেসিয়া হয়ে যায়।

ঐ আধা ফেটানো ডিমের কেকের মতই অনাসৃষ্টি হয়।

যে কারনে লেখা

একটি মান্ধাত্বার আমলের প্রোটোকল অনেককেই এখনও ফলো করতে দেখা যায়। ইনডাকশনের ড্রাগ ডে থ্রী টূ ডে সেভেন, এল এইচ অন ডে টুয়েলভ এবং প্রোজেস্টারন ডে সিক্সটিন অনওয়ার্ডস। কোন মনিটরিং ছাড়াই। এই প্রোটোকল থেকে বের করে আনাই উদ্দেশ্য।

ওভুলেশন ইনডাকশনে exogenous or endogenous FSH যেটাই হোক না কেন ফলিকল বড় হবার সাথে সাথে বাকী কাজ আপন গতিতে ন্যাচারাল পদ্বতিতেই হওয়া সম্ভব যদি পিটুইটারী ঠিক থাকে। বাইরের বা স্যারোগেট এল এইচ প্রয়োজন হয় না।
যদি কেউ দিতে চায় অবশ্যই ফলিকুলার মনিটরিং করে ম্যাচুউরিটি কনফার্ম করে দিতে হবে। তা না হলে প্রিম্যাচিউর লুটিনাইজেশন হবে, ওভুলেশন হবে না।

ফলিকল ম্যাচিউর হলে এল এইচ না দিলেও যেহেতু চলে (আমাদের হাজার হাজার বাচ্চা তার প্রমান) তাই সুবিধা হোল

১। পেশেন্ট এর ২৬০০ টাকা বেঁচে যায়।
২। ইনডাকশনের একটা রেজিম দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া যায়। প্রতিমাসে মনিটরিং এর জন্য তাকে ডাক্তারের কাছে আসতে হয়না।

আর মনিটরিং ছাড়া দিলে যদি ফলিকল বড় না হয় পেশেন্ট এর টাকা এবং ওভাম দু’টোই বিফলে যায়। সেই সাথে যায় তার অমূল্য সম্পদ — সময়।

Time is essence for an infertile couple.




মাইগ্রেনের সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক

আমরা জানি মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে মাইগ্রেন শুধু স্ট্রোকের ঝুঁকিই নয়, অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

সম্প্রতি ডেনমার্কে ৫০,০০০ মাইগ্রেন রোগীর সঙ্গে ৫০০,০০০ সাধারণ মানুষের স্ট্রোক এবং হৃদরোগ হওয়ার তুলনা করা হয়েছে। মাইগ্রেনের রোগীদের গড় বয়স ৩৫ বছর এবং এদের অধিকংশই (৭১%) মহিলা। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে তাদের রোগের ইতিবৃত্তান্ত অনুসরণ করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, মাইগ্রেন শনাক্ত হওয়ার পর প্রথম বছরেই রক্তনালীর নানারকম সমস্যা দেখা দিয়েছে। মাইগ্রেনের রোগীদের মধ্যে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে ৮ গুণ বেশী এবং হার্ট অ্যাটাক, অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন ও শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার হার দ্বিগুণ। এই ঝুঁকি মাইগ্রেনের রোগীদের মধ্যে বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদেও রয়ে গিয়েছে।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এই তথ্য জেনে আমাদের কি উপকার হবে? আসলেই এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মাইগ্রেনের চিকিৎসা সময় থাকতে ঠিকঠাক মত করালে স্ট্রোক এবং হৃদরোগ হওয়া ঠেকানো যাবে কিনা, সেটাই এখনও আমরা জানিনা। সাধারণ বুদ্ধিতে বলা যায়, সময় থাকতে মাইগ্রেনের চিকিৎসা করানোই ভালো।

তথ্যসূত্রঃ Adelborg K, Szépligeti SK, Holland-Bill L, et al. Migraine and risk of cardiovascular diseases: Danish population based matched cohort study. BMJ. 2018;360:k96.




চিকেন পক্স

আইচ্ছা নামটা কে দিছিল আর কেন! মুরগী বসন্ত! ইয়ে মানে… চিকেন পক্স!!

এই বসন্ত মনে অনুরনণ না জাগাইলেও শরীরে ‘গোটা’ জাগায়! আমার খালি মনে হইতো আইচ্ছা, এইটার নাম চিকেন পক্স কেন? এইটা কি মুরগী থাইকা মানুষের শরীরে আসে? আমাগো সেই সময়ে গুগল মাম্মা আছিলো না। আর আলহামদুলিল্লাহ! এখন মনে কিছু প্রশ্ন জাগলে খালি কম্পূটারে বইসা প্রশ্নটা জিজ্ঞাসা করার অপেক্ষা! আমি জিগাইলাম এই আর্টিকেলটা লেখার আগে, যা পাইলাম এ্যামেইজিং!

চিকেন পক্স ‘ভ্যারিসেল্লা যোস্টার’ (Varicella Zoster) ভাইরাসের ডাক নাম! ১৯৯৫ সালে চিকেন পক্স এর প্রতিষেধক টিকা চালু করার আগে দুইন্যায় প্রায় ৪ কোটি লোকের প্রতি বছর চিকেন পক্স আক্রান্ত হইত আর প্রায় ১০০ লোক মারাও যাইত।

ইতালীর পালেরমো শহরের জিওভ্যান্নী ফিলিপ্পো (Giovanni Philippo) (১৫১০-১৫৮০) রে এই রোগের অফিসিয়াল পরিচিতির জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয়। অবশ্য তিনি এর নাম চিকেন পক্স দেন নাই তিনি এরে ‘ভ্যরিচেল্লা ভাইরাস’ নামে ডাকতেন। নাম শুইন্যাই বুঝতে পারো এইটা ইতালিয়ান নাম; এর ‘চিকেন পক্স’ নামটা ইংরেজ মাম্মাগো দেওয়া, ফরাসীরা কয় ভ্যেরিসেল্লা (Varicella), স্প্যানিশরা ভ্যেরিচেলা (Varicela) আর জার্মানরা উইন্ডপোকেন (Windpoken)!

১৬০০ শতাব্দীতে ইংরেজ ডাক্তার রিচার্ড মর্টন (Dr. Richard Morton) মাম্মা একবার এই ভ্যেরিচেল্লা যোস্টার (Vacicella Zoster) রে “ভূল ডায়াগনোজ” করলেন কইলেন, এইটা স্মল পক্স (Small Pox) এর মৃদু রূপ! দুইটা দেখতে প্রায় একই রকম, একই রকম মারাত্মক ছোঁয়াচে। প্যাচটা ওইখানেই লাগাইলেন।

১৮শ শতাব্দীর ডাক্তার স্যামুয়েল জন (Dr. Samuel Johnson) সন মাম্মা বললেন যেহেতু এইটা স্মল পক্স বা গুটি বসন্তের মৃদু রূপ তাই এইটা গুটি বসন্তের মত এত ‘ভয়ঙ্কর’ না ‘ভয়াল’ না, তার মানেই এইটা ‘চিকেন’, ইংরাজীতে ‘ভীতু’, ‘দূর্বল’ রে চিকেন তকমা দেওয়া হয়। সেই থাইকা রইয়া গেছে দূর্বল বসন্তের এই নাম!

১৭২৭ সালে চেম্বারস এন্সাইক্লোপিডিয়ায় (Chambers Encyclopedia) লেখেঃ Chicken Pox, a cutaneous disease, frequent in children, wherein the skin is covered with pustules like those of the small pox.

১৭৬৭ সালে ডাক্তার উইলিয়াম হেবারডেন (Dr. William Heberden) মাম্মায় বলেন যে চিকেন আর লায়ন মানে চিকেনপক্স আর স্মলপক্স দুইটা প্রায় একদেখতে গেলেও দুইটা ভিন্ন ‘প্রাণী’ জীবাণু! দুইটার ভাইরাস দুই ধরনের! স্মল পক্স বা গুটি বসন্তের ভাইরাসের নাম ভ্যারিওলা (Variola).

থিওরী নাম্বার টুঃ ১২শ থাইকা ১৫শ শতাব্দীতে প্রচলিত ইংরাজী ভাষায় Yicche, Icchen প্রচলিত ছিল যার মানে চুলকানো, পুরানা ইংরাজীতে চুলকানো রে Giccan কইতো (উচ্চারনটা খেয়াল কর জিক্কেন!), তাই হইতে পারে চিকেন পক্স আইছে Giccan / Yicche / Icchen / Itching” + Pox থাইকা!

থিওরী নাম্বার থ্রিঃ এই ভাইরাসের প্রকোপে শরীরে লাল লাল যে র‍্যাস দেখা দেয় তা মুরগীর ঠোকর দিলে যেমন দেখায় তার সাথে মিল আছে বইলাই এমন নাম, আবার কেউ কেউ বলেন ‘চিক পি’ (ছোলা/বুট) এর সাথে এর দৃশ্যত: মিল আছে।

উক্কে এল্লা ‘পক্স’ আইলো কই থাইক্যা!!
ইংরাজীতে ক্ষতরে পোক (POCKE) বলা হয় এইটা পোক এর প্লুর‍্যাল বা বহুবচন পোকস (POCKES) থাইকা আসছে pockes>poccs>pox!
http://www.todayifoundout.com/…/2014/04/chickenpox-got-name/

*** সংবিধিবদ্ধ সতর্কবানীঃ আমি ডাক্তার না, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞ্যতা আর ইন্টারনেট আমার ভরসা, আমার উদ্দেশ্য সচেতনতা তৈরী করা। আউলা কিছু কইয়া থাকি তাইলে ডাক্তার মাম্মালোগস একটা ধমক দিয়া শুধরাইয়া দিও।**

উক্কে নামকরনের সার্থকতা শেষ এইবার আসলি প্রসংগ!
জলবসন্ত হ্যা চিকেন পক্স এর বাংলা নাম জল বসন্ত, এই রোগে খুব চুলকানো, লালচে র‍্যাস/দানা চেহারা, মাথার তালু, বুক পিঠে বেশী আর হাত ও পায়ে কম দেখা যায়। এই দানা গুলি দ্রুত পরিস্কার তরলে পূর্ন হয়, পরে ফাইটা যায় এবং তাতে স্ক্যাব (Scab) বা মামড়ি পড়ে।

অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই ভাইরাস জণিত রোগ, ১৯৯৫ সালের আগে এই রোগের প্রতিষেধক টিকা আবিস্কার এর আগে পৃথিবীর প্রায় সব মানুষেরই তাদের বয়ঃসন্ধি কাল পৌছানোর আগে কখনো না কখনো এই রোগ আক্রমন হইছে। প্রতিষেধক আবিস্কার আর প্রয়োগের ফলে এই রোগ জনিতে হাসপাতাল টাইম উল্যেখযোগ্য ভাবে কইমা গেছে।
এখনো দেখা গেছে শিশুরাই এইরোগে আক্রান্ত হয়। প্রতিষেধক সহজ, দ্রুত, ভোগান্তি কমায়।

জলবসন্ত সাধারনতঃ ভাইরাস কর্তৃক আক্রান্ত হবার ১০ থাইকা ২১ দিন পরে শরীরে প্রকট হয়। এইটারে ইঙ্কিবিউশেন টাইম কয়। (মানে ভাইরাসটা তোমার শরীরে বাচ্চা ফুটানোর মানে তোমার প্রতিরোধ ব্যবস্থার লগে যুদ্ধ কইরা প্রকাশ হওয়ার অপেক্ষায়) আর প্রকট হবার পরে ৫ থাইকা ১০ দিন লাগে সাইরা উঠতে। গায়ে লালচে পানি পূর্ণ দানাই জলবসন্তের সাইনবোর্ড! এই সাইনবোর্ড দেখার এক দুইদিন আগেই জ্বর, খাবারে অরুচি, মাথাব্যাথা, ক্লান্ত লাগার মত সাধারন অভিযোগ দেখা যাইতে পারে।

র‍্যাস দেখা যাওয়ার পরে এইটা তিনটা ধাপে যায়ঃ

• গায়ে উঁচু উঁচু গোলাপীভ / লাল দানা দেখা দেয় যা দুই এক দিনে সারা শরীর ছড়াইয়া যায়।

• ফাইটা যাওয়ার দুই একদিন আগে সেই লাল গোটা বা দানা গুলিতে পরিস্কার তরলে পূর্ণ হয়

• ফাইটা যাওয়া গোটা গুলির মুখে মামড়ি বা স্ক্যাব জন্মায় তা শুকায় আর কয়েকদিন পরে সেই মামড়ি শরীর থাইকা খইসা পরে।
রোগ চলাকালীন সময় প্রায় প্রতিদিনই নতুন দানা দেখা দিতে পারে, আর তাই শরীরে একই সাথে এইন তিন স্টেজ দেখা যাইতে পারে। আক্রান্ত ব্যাক্তি দানা বাইর হওয়ার ৪৮ ঘন্টা আগ থাইকা মামড়ি ঝইড়া পরার সময় পর্যন্ত ছোঁয়াচে থাকে।

সাধারন সুস্থ্য বাচ্চা এইরোগে আক্রান্ত হইলে এইটা মৃদু রোগ হিসাবেই থাকে; কিন্তু যদি বাচ্চায় ইম্যিউন সিস্টেম দূর্বল থাকে তাইলে আবার এইটাই গুরুতর রূপ নিতে পারে। এই রোগ শরীরের যেকোন যায়গাতেই হইতে পারে, ইম্যিউন সিস্টেম দূর্বল থাকলে গলা, চোখ, মিউকাস মেম্ব্রেন, ইউরেথ্রা (মুত্রনালী) গুহ্যদ্বার, ও যৌণাংগে হইতে পারে, তখন ভোগান্তি গুরুতর হইব।

এই উপসর্গ দেখলে ডাক্তার মাম্মার সাথে কথা বল, আরো খেয়াল রাখ যদি:

র‍্যাস বা গোটা এক অথবা দুইচোখে দেখা দেয়।

র‍্যাস লাল টকটকে, স্পর্শকাতর, উষ্ণ লাগে; এইটা দ্বিতীয় পর্যায়ের ত্বকের ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন হইতে পারে।

র‍্যাসের সাথে মাথা ঘোরা, দ্রুত হৃদস্পন্দন, শ্বাস সল্পতা (সর্টনেস অফ ব্রেথ), হাত পা নাড়াইতে অক্ষমতা, বাজে কাশি, বমি, ঘাড় শক্ত হইয়া যাওয়া (ঘাড় ঘুরাইতে অসুবিধা) অথবা জ্বর ১০২ ডিগ্রীর বেশী থাকে ।

বাড়িতে দূর্বল ইম্যিউন সিস্টেমের রোগী বা ৬ মাসের নিচের শিশু থাকলেই তা ডাক্তার মাম্মারে বলতে ভুইলো না।

ভ্যারিসেলা যোস্টার এর জীবাণূ বায়ূ বাহিত মানে বাতাসে ছড়ায়, আক্রান্ত রোগী থাইকা মুখ শ্বাস প্রশ্বাসের (হাঁচি কাশি) সাথে তা বাইর হইয়া বাতাসে মিশে আর তা সুস্থ্য মানুষের দেহে আবার মুখ ও শ্বাস প্রশ্বাসের সাথেই প্রবেশ করে। জলবসন্তের জীবাণূ সরাসরি ছোয়ায়ও ছড়ায়, তুমি যদি একটা গোটায়, ফাইটা যাওয়ায় বের হওয়া রসে, অথবা শুকনা মামড়ি বা স্ক্যাবে হাত লাগাও সেইটা থাইকা তোমার আঙ্গুলে আর তা থাইকা তোমার শরীরে জীবাণূ সংক্রামিত হইতে পারে। তোমার চিকেন পক্স বা জল বসন্তের সম্ভাবনা বেশী যদি তোমার কখনো তা না হইয়া থাকে, তুমি কখনো প্রতিষেধক গ্রহন কর নাই, বাচ্চাদের স্কুল অথবা তাদের সাথে বেশী মেলামেশা কর।

প্রতিষেধক/ভ্যাক্সিন দিলেই তোমার আর হইব না ভাবার কোন কারণ নাই, হইতে পারে তবে তার প্রকোপ কম থাকবো, উপসর্গ আর কষ্ট কম হইব দ্রুত সাইরা উঠবা।

জলবসন্ত রে ‘মাইল্ড’ মৃদু অসুখ বলা হয় তবে এইটাই মারাত্মক হইয়া উঠতে পারে অনূকূল পরিবেশে, যাদের ইম্যিউন সিস্টেম দূর্বল, আর যাদের হাইরিস্ক মানা হয় তাদের ত্বকে ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন, সফট টিশ্যু, হাড়, জোড় (জয়েন্টস) ও রক্তে পঁচন বা ‘সেপ্সিস’ (Sepsis) হইতে পারে।, পানি শুন্যতা, নিউমোনিয়া, মগযে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন অফ দ্যা ব্রেইন বা এঙ্কেফেলাইটিস Encephalaities হইতে পারে। টক্সিক শক সিন্ড্রোম Toxic Shock Syndrome, আর যারা জলবসন্ত আক্রান্ত অবস্থায় এ্যাস্পিরিন গ্রহন করে তাদের রে’স সিন্ড্রোম Reye’s Syndrome নামের অসুস্থ্যতা দেখা দিতে পারে.

হাইরিস্ক কারা?
নবজাত শিশু, সদ্য প্রসুত শিশুর মা যার কখনো জলবসন্ত হয় নাই অথবা তার টিকা নেয় নাই

গর্ভবতী মা যার কখনো জলবসন্ত হ য় নাই অথবা টিকা নেয় নাই,

কেমোথেরাপী নেন, বা অন্য কোন রোগ যেমন এইচ আই ভি, এইডস যাদের নিজস্ব শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল।

যারা স্টেরয়েড নেয় যেমন এ্যাজমার চিকিৎসায় ব্যাবহার হয়।

বিশেষ কইরা গর্ভবতী মায়েদের অরিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে মায়ের জলবসন্ত হইলে গর্ভস্থ শিশু ও তার জন্মকালে তার ওজন কম হওয়া, অন্ধত্ব, শাররীক বৈকল্য ও অংগহাণীর মত পরিস্থিতি হইতে পারে । সবচেয়ে গুরুতর যদি শিশু জন্মের সপ্তাহ খানেক আগে অথবা জন্মদানের কয়েক দিনের মধ্যে মায়ের জলবসন্ত দেখা দেয়, এতে শিশুর প্রাণহানীর মত ইনফেকশন দেখা দিতে পারে।

চিকেন পক্স জীবানূ কাপড়ে, বিছানার চাদরে আ খেলনায় লাইগ্যা বাঁইচা থাকতে পারে না।

যদি তুমি প্রেগন্যান্ট হও বা হবার ইচ্ছা প্রকাশ কর আর তোমার কখনোই জলবসন্ত/চিকেন পক্স হয় নাই অথবা তার টিকা নেও নাই তাইলে অবশ্যই তোমার ডাক্তার মাম্মারে জানাও।

একটা কিনলে আরেকটা ফাও সিস্টেম আছে এই অসুখে!
যদি তোমার জল বসন্ত হয় তাইলে ভবিষ্যতে তোমার আরেকটা অসুখ হইতে পারে, তার নাম শিংগেলস Shingles এই ভ্যেরিসেল্লা যোস্টার

আপাতঃ সাইরা গেলেও তোমার নার্ভ সিস্টেম থাইকা পুরা পুরি যায় না।
অনেক বছর পরে যখন অনুকূল অবস্থা পায় তা শিংগেল নামে শরীরে আবির্ভূত হয়। অত্যন্ত বেদনা দায়ক লাল টকটকে বড়বড় দানা বের হয় প্রচন্ড জ্বর থাকে। ‘শিংগেলস’ এর নিজ্স্ব চারিত্রিক বৈশিষ্ট আছে, ফোড়া বা ফুস্কুরি শুকাইয়া যাওয়ার পরেও ‘শিংগেলস’ র ব্যাথা যায় না, এইটারে postherapetic neuralgia কয়, আমার জানা মতে এইটা জীবাণু শরীরে ৫০ বছর ঘুমাইয়া থাইকাও আবির্ভূত হইছে দেখছি।

কানাডাতে সরকারী ভাবে যাদের বয়স ৬০ হইছে, যাদের একবার জলবসন্ত হইছিল তাদের বিনা পয়সায় শিংগেলস এর Zostavax টিকা দেয়।

বিশেষজ্ঞ্যরা মনে করেন জলবসন্তের টিকাই এই রোগের আদর্শ চিকিৎসা! যারা টিকা গ্রহন করে তাদের ৯৮% লোককেই দেখা গেছে আক্রান্ত না হইতে আর হইলে তার প্রকোপ মৃদু ছিল।

প্রতিষেধক টিকার ক্ষেত্রে শিশুদের বেলায় দুই ডোজ লাগে, প্রথম ডোজ শিশুর ১২ থাইকা ১৫ মাসের মধ্যে, আর দ্বিতীয় ডোজ ৪ থাইকা ৬ বছরের মধ্যে দিতে হয়। এইটা যখন মাপম্পস,মিজেলস রুবেলা ভ্যাক্সিন দেওয়া হয় তখন তার সাথে দেওয়া যায়। তবে দেখা গেছে কোন কোন ক্ষেত্রে ১২ থাইকা ২৩ মাস বয়সী শিশুদের বেলায় এইটার প্রয়োগে জ্বর আর খিচুনী থাকতে পারে তাই ডাক্তার মাম্মার সাথে আলাপ কইরা নিও।

যেই শিশুর ছোট বেলায় জলবসন্তের ভ্যাক্সিন নেওয়া হয় নাই কিন্তু তার বয়স ৭ থাইকা ১২ তাদেরও দুই ডোজ ভ্যাক্সিন লাগবে, একটা থাইকা আরেকটা ডোজ তিন মাসের ব্যবধানে। আর ১২ বছরের বেশী হইলে দুই ডোজ কিন্তু তা ৪ সপ্তাহ ব্যবধানে।

আর যারা সেই সীমা পার হইয়া গেছ! তাদেরও দুই ডোজ ৪ থাইকা ৮ সপ্তাহ ব্যবধানে। যদি তোমার মনে না থাকে তাইলে একটা রক্ত পরীক্ষা করলেই বুঝতে পারবা তোমার শরীরে প্রতিরোধক ব্যবস্থা আছে কিনা।

একবার চিকেন পক্স হয় তাইলে আর ভ্যাক্সিন নেওয়ার দরকার নাই। কারন শরীর নিজেই তার প্রতিরোধ ব্যবস্থা গইড়া তুলে, আবার চিকেন পক্স হইতে পারে কিন্তু তা মৃদু হয়। চিকেন পক্স না হইলেও ভবিষ্যতে এই থাইকা শিংগেলস হইতে পারে তাই ডাক্তার মাম্মার সাথে কথা বল।

*** সংবিধিবদ্ধ সতর্কবানীঃ আমি ডাক্তার না, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞ্যতা আর ইন্টারনেট আমার ভরসা, আমার উদ্দেশ্য সচেতনতা তৈরী করা। আউলা কিছু কইয়া থাকি তাইলে ডাক্তার মাম্মালোগ একটা ধমক দিয়া শুধরাইয়া দিও।**

সবাই সুস্থ্য থাক।

Dr. Nazma Rashid Sraboni
www.mayoclinic.com
www.cdc.com
www.caringforkids.cps.ca/handouts/chickenpox




স্ট্রোক

এপ্রিল ১৯৯৮, আনওয়ার সাহেব একটা ফটো স্টূডিওর মালিক, সকালে ঘুম থাইকা উঠছেন প্রতিদিনের মতই, নাস্তা কইরা যাইতে হইব দোকান খুলতে, আজকা এ্যাসিস্টেন্টটা আইবো না কামে বইলা গেছে।

সংসারের সব কাজ কাম করতাছিল সব ঠিকঠাক, ঘুম থাইক্যা উইঠা গোছল কইরা দোকানে যাওয়ার জন্য কাপড় পড়তাছে, হঠাৎ যে কি হইল, মুখের একপাশটা বাঁকা হইয়া গেল, উনি মেঝেতে লুটাইয়া পড়লেন স্ত্রী তার নাস্তা বানাইতাছিলেন আওয়াজ পাইয়া দৌড়াইয়া আইসা দেখেন স্বামী মাটিতে, জ্ঞ্যান আছে চোখে শুন্য দৃষ্টি কথা বলতে পারছেন না। সবাই ধরাধরি কইরা শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করাইলো নিয়া।

দেখা গেল তার ডান পাশটা অবশ হইয়া গেছে। ডান হাত কনুইর সামনে ভাজ আর তা সোজা করতে পারেন না আর হাত মুঠো পাকানো আঙ্গুল খুলতে পারে না, কথা বলতে পারেন না, ডান পায়ে কোন সাড়া নাই। উনি অর্ধেক মানুষ অর্ধেক পাথর! ডাক্তার বললেন ইস্কেমিক স্ট্রোক।

পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ্য, কলসাল্টেশন, যত্ন, অষুধ, পথ্য, রিহ্যাবিলেটেশন, খরচা পাতি, রোগীর মেজাজ, পরিচর্যাকারীর সমস্যা পরিস্থিতির সাথে পরিবারের এ্যাডজাস্টমেন্ট আবার খরচা পাতি শুরু হইল আর চলতে থাকলো ২০১৮ পর্যন্ত। শেষমেষ আমার বড় মামা আনোয়ার সাহেব মারাই গেলেন ২০১৮ সালে। উনি ভাগ্যবানই কইতে হইব, স্ট্রোকের পরে মানুষ সাধারনত এতদিন বাঁচেন না, আনোয়ার সাহেবের মা স্ট্রোক হওয়ার পরে সাত বছর বেঁচে ছিলেন তখন এই আনোয়ার সাহেবই তার ছোট ভাইএর সাহায্য নিয়া মা কে দেখা শোনা করছেন। আর দেখা শোনা করছেন তার ছোট ভাই আর স্ত্রী! পরিবারের প্রচন্ড ত্যাগ আর সহযোগীতাই তার জন্য বাঁইচা থাকাটা সহজ হইছিল।

উক্কে আজকার সাব্জেক্ট স্ট্রোক!
‘আইছো ভবে যাইতে হবে’! আর যাওয়ার তরিকার অন্যতম প্রধান কারন স্ট্রোক!

স্ট্রোক আসলে কি?
কম কথায় কইতে গেলে স্ট্রোক হইল মেডিক্যাল ইমার্জেন্সী, যখন রক্ত প্রবাহ মস্তিস্কে যাইতে বাধা পায় তারে স্ট্রোক কয়। মগজের সেল বা কোষ গুলিতে রক্ত তার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন নিয়া যায়, অক্সিজেনের অভাবে মগজের কোষ গুলি মারা যাইতে থাকে। সিরিয়াস উপসর্গ, স্থায়ী বৈকল্য এমন কি মৃত্যু পর্যন্ত হইতে পারে।

কয়েক রকম স্ট্রোক হইতে পারে তার মধ্যে তিন রকম প্রধান, ট্রান্সিয়েন্ট ইস্কেমিক এ্যাটাক (টি এই এ) ইস্কেমিক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক। ধারনা করা হয় প্রায় ৮৭% স্ট্রোকই ইস্কেমিক স্ট্রোক।

ট্রান্সিয়েন্ট ইস্কেমিক এ্যাটাকঃ Transient Ischemic Attack (TIA) ডাক্তার মাম্মারা টি আই এ রে সতর্ক সংকেত বা মিনিস্ট্রোক (Mini-stroke) বইলা থাকেন। দানা বাঁধা রক্ত কনিকা বা ক্লট যদি সাময়িক ভাবে মস্তিস্কে রক্ত প্রবাহে বাধা দেয় তারে টি আই এ কয়। এই ব্লাড ক্লট আর উপসর্গ ক্ষণস্থায়ী । আমার বাবার হইছিল, তাঁর মুখের ডান পাশ বাঁকা হইয়া গেছিল, কথাও জড়াইয়া যাইত, সপ্তাহ দুয়েক পরে ঠিক হইয়া গেছিল তৎক্ষনাত চিকিৎসার ফলে।

ইস্কেমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke):
টি আই এ র পরবর্তী অবস্থা, যখন সেই ব্লাড ক্লট (Blood clout) সইরা যাইতে পারে না, আর মগজে রক্ত প্রবাহে স্থায়ী হইয়া যায়। ডাক্তার মাম্মারা বলেন এই রক্ত জমাট বাধার কারন এ্যথিরোস্কেলেরোসিস (Atherosclerosis) বা ধমনী/আর্টারীর নমনীয়তা কইমা যাওয়ার ফলে হইতে পারে। রক্তে প্রবাহিত চর্বি জাতীয় পদার্থ যখন ধমনী বা শিরার ভিতরের দেওয়ালে লাইগা যায় তখন তা ধমনীর নমনীয়তা কমায়, রক্ত নালীর প্রসারতা কমাইয় মানে চিপা কইরা দেয়। (পাইপে ময়লা জমলে কি হয়!) অই চিপা রাস্তা দিয়া গাড়ি যাওয়ার সময় আটকাইয়া যাইতে পারে রাইট!

সেইম কনসেপ্ট, রক্তনালীতে ফ্যাটি এ্যাসিড জইমা তারে সরু কইরা দিছে আর আরেকটা ফ্যাটি এ্যাসিডের দলা আইসা সেই সরু যায়গা দিয়া যাওয়ার সময় আটকাইয়া রক্ত প্রবাহ থামাইয়া দিছে, এই ট্রাফিক জ্যাম এর ঘটনাটা শরীরের অনেক জায়গায়ই হইতে পারে হার্টে হইলে হার্ট এ্যাটাক আর পায়ে হইলে পেরিফেরাল আর্টারী ডিজিজ (Peripheral Artery Disease, PAD) নামে ডাকা হয়। আর মাথায় হইলে তারে ইস্কেমিক স্ট্রোক কয়।

যখন এই ব্লাড ক্লট শরীরে অন্য অংশ থাইকা আইস্যা আকাম করে তারে এম্বোলিক (Embolic) কয়। আর শতকরা ১৫% এম্বোলিক স্ট্রোক ঘটে আট্রিয়াল ফিব্রিলেশনের (Atrial Fibrillation) কারনে, ( অনিয়মিত হার্ট বিট)।

আর থ্রম্বোটিক স্ট্রোক (Thrombotic Stroke) হইল যখন ব্লাড ক্লট মগজেই তৈরী হয়। টি আই এ (TIA) চিকিৎসা ছাড়াই সাইরা যাইতে পারে কিন্তু ইস্কেমেইক স্ট্রোকের জন্য প্রগাঢ় চিকিৎসা দরকার

হেমোরেজিক স্ট্রোক ( Hemorrhagic Stroke): অনেক সময় পত্রিকায় পড়বা মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ জনিতে কারনে অমুক মারা গেছেন, এইটাই হেমোরেজিক স্ট্রোক।

এই ঘটনা ঘটে যখন মস্তিকের রক্তবাহী নালী বার্স্ট করে, ছিড়া যায়, ফাইটা যায় আর রক্ত বাইর হইয়া আশেপাশের টিশুতে ছড়ায়। এইটার ও দুই ধরন আছে, একটারে এ্যনেউরিজম aneurysm,কয় মানে দুর্বল হইয়া যাওয়া মগজের রক্ত নালী বেলুনের মত ফুইলা ওঠা অথবা তা বার্স্ট হইয়া যাওয়া। আবার মস্তিস্কে রক্তবাহী নালী বা শিরায় গঠনই গোলমেলে হইতে পারে তখন সেইটারে আর্টিওভেনাস ম্যালফর্মেশন arteriovenous malformation কয়।

উক্কে শত্রূর পরিচয় দিলাম, এইবার দেখা যাক শ্রত্রূর কাজ কাম।
আশংকার কথা হইল কার কখন স্ট্রোক হইব বাইরে থাইকা বোঝার উপায় নাই। কারন ‘ইয়ে আন্দার কা ব্যাত হ্যায়’। রক্ত নালীতে ক্যাচাল তাও মগজের মত দুর্গে!! একজনের জীবন যাত্রা আর বর্তমান মেডিক্যাল কন্ডিশন দেইখা আন্দাজ করা যাইতে পারে মাত্র কিন্তু আগাম কোন উপায় নাই ।

স্ট্রোক এর ভিক্টিম দের তিনটা স্টেজ বলা যায়
** একঃ রোগীর স্ট্রোক হবার আগে, লাইফ স্টাইল বদলানোই প্রধান উপদেশ হইতে পারে। মানে উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টরল ডায়াবেটিক থাকলে স্ট্রোক হইতে পারে মাইনা নিতে হইব আর তার প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হইব।

** দুইঃ ঘটনা ঘটা কালীন সময় করনীয় ইংরাজীতে কয়েক্টা সংক্ষিপ্ত টার্ম ব্যবহার করে। একটা FAST এফ এ এস টি , ফাস্ট আক্ষরিক অর্থ দ্রুত, স্ট্রোক রোগীদের বেলায় টাইম ইজ দ্য এসেন্স, যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা ব্যবস্থা করা যায়। এর প্রাথমিক চিকিৎসা বলতে গেলে কিছু নাই।

F: ফেস – রোগীর মুখ কি এক দিকে ঝুইলা গেছে, বাঁকা হইয়া গেছে? দেখলে রোগীকে হাসতে বলো বা জিহ্বা বাইর করত বলো এতে পরিস্কার বোঝা যাইব তার চেহারার বিকৃত অবস্থা।

A: আর্মস – রোগীকে তার দুই হাত সামনের দিকে আ পাশে প্রসারিত কইরা ধইরা রাখতে বলো সেই অবস্থায় ৫/১০ সেকেন্ড, স্ট্রোকের রোগীর পক্ষে সম্ভব হইবো না হাত পাশে পইড়া যাইব।

S: –স্পীচ – রোগীর কথা কি জড়াইয়া যাইতাছে, তার কথা বলতে অসুবিধা বা বুঝতে অসুবিধা হইতাছে?

T: টাইম – উপরে একটা বা একাধিক লক্ষন দেখা গেলে বিদ্যমান ইমার্জেন্সী সার্ভিস ডাকো না থাকলে হাসপাতালে নিয়া যাও তৎক্ষনাত।

অনেকে ফাস্ট এর সাথে আরো দুই টা অক্ষর লাগায় বি ই (BE FAST)
B- ব্যালেন্স, স্ট্রোক এর রোগী শাররীক ভারসাম্য হারায়,
E আইজ – স্ট্রোকের রোগী দৃষ্টি ঘোলাটে হইতে পারে, দেখতে অসুবিধা হইতে পারে।

এইগুলি ছাড়াও অন্যান্য উপসর্গ প্রতীয়মান হইতে পারে।
শরীরের একদিক অবশ হইয়া যাওয়া।, এক চোখে দেখতে না পাওয়া, দৃষ্টি ঘোলাটে হইয়া যাওয়া, কথা বলতে অসুবিধা বা বন্ধ হইয়া যাওয়া, ঢোক গিলতে অসুবিধা বা না পারা, বমি ভাব, পায়খানা প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রন হারানো, মাতালের মত ভারসাম্যহীন আচরণ, দ্বিধাগ্রস্ত, হঠাৎ মাথা ব্যাথা, জ্ঞ্যান হারানো, মাথা ঘোরা। এর কয়েকটা ভবিষ্যত স্ট্রোকের সতর্ক সংকেত হইতে পারে।

ঘটনা ঘটা কালীন কি করা যায়?
তোমার সামনে যদি এই ঘটনা ঘটতে থাকে কি করা যায়, এইটারে ঠিক প্রাথমিক চিকিৎসাও বলা যাইব না, কারন তুমি আসলে রোগের কিছুই করতে পারবা না, খালি রোগীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারবা ডাক্তার মাম্মার কাছে পৌছানের আগ পর্যন্ত।

* রোগীর যদি জ্ঞ্যান থাকে।
১) শান্ত থাক, তুমি নিজেই প্যানিক হইয়া বা ঘাবড়াইয়া আসল ঘটনারে ঘোলাটে কইরা ফালাইবা।

২) স্থান এর নিরাপত্তা নিশ্চিত কর, রাস্তায় ঘটলে যানবাহন থাইকা বাঁচাও।

৩) রোগীর সাথে কথা বল, তার নাম, ঠিকানা আর জন্মতারিখ (জানা ঘটনা) জাতীয় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা, যদি দেখ কথা বলতে অসুবিধা হইতাছে তাইলে তার হাত মুঠো কইরা ধর আর জিজ্ঞাসার উত্তরে তারে তোমার হাতে চাপ দিতে কও, যদি অপারগ হয় তাইলে রোগী জ্ঞ্যান হারাইছে।

৪) যদি রোগীর সংজ্ঞ্যা থাকে। সাবধানে তারে আরামদায়ক পজিসনে শোয়াও, তার শরীরের একপাশে, মাথা ইষৎ উচুতে কাপড়, বালিশ বা অন্য কিছু দিয়া এলিভেটেড, এই অবস্থা থাইকা নড়ানোর দরকার নাই।

৫) পরিধানের কাপড় ঢিলা কইরা দেও, সার্টের কলার, টাই, বোতাম, স্কার্ফ, চাদর খুইলা দেও যারে শ্বাস প্রশ্বাস চলা সহজ হয়।

৬) যদি ঠান্ডা থাকে তাইলে কমবল বা গরম কাপড় দিয়া চাপা দেও।

৭) খেয়াল কর তার শ্বাসনালীর রাস্তা পরিস্কার, বমি বা অন্য কিছু গলায় আটকা আছে কিনা, থাকলে পরিস্কার কর।

৮) তারে ভরসা দেও, বলো ইমার্জেন্সীতে খবর দেওয়া হইছে ব্যাবস্থা হইতাছে চিকিৎসার।

৯) তারে কিছু খাইতে বা পান করতে দিও না।

১০) নজর রাখ, তার অবস্থার পরিবর্তন হয় কিনা, ইমার্জেন্সী /এ্যাম্বুলেন্স আসলে যাতে বলতে পার পরিবর্তন।

১১) সময়টা খেয়াল রাখতে চেষ্টা কর।চিকিৎসার সময় কামে লাগতে পারে।

* যদি রোগী অজ্ঞ্যান থাকেঃ

১) নিজে শান্ত থাক।

২) রিকোভারী পজিশনে ( শরীরের একপাশে শোয়ানো, কাত করা, মাথা একটু পিছন দিকে, হাত বাইরের দিকে, এক হাঁটু ভাজ করা) শোয়াও।

৩) শ্বাস প্রশ্বাস চলতাছে কিনা চেক কর, (রোগীর মাথা একটু পিছন দিকে বাঁকাও, থুতনী উচু হইব, বুকের দিকে খেয়াল কর উঠা নামা করতাছে কিনা, শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ পাওয়া যায় কিনা, নাকের কাছে নিজের গাল নিয়া যাও প্রবাহিত বাতাসের ছোয়া পাও কিনা)

৪) শ্বাস না থাকলে সিপি আর বা কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যবস্থা কর। বুকের মাঝখানে দ্রুত আর জোরে চাপ দেও যাতে তার ফুসফুস থাইকা বাতাস বাইর হইয়া আবার ঢোকে।
সর্বক্ষেত্রেই ইমার্জেন্সী সার্ভিস ডাক।

** তিনঃ ঘটনার পর করনীয়। হাসপাতালে নেওয়ার পরে ডাক্তার মাম্মা পরীক্ষা নিরীক্ষা কইরা রোগ নির্নয় আর চিকিৎসা ব্যবস্থা নিবেন। রোগ নির্নায়ক পরীক্ষা হিসাবে তারা এম আর আই ও সিটি স্ক্যান করাইতে পারে অন্যান্য পরীক্ষার সাথে। এই দুই টেস্টে স্ট্রোকের অবস্থান ও কারনও নির্ণয় করা যায়।

স্ট্রোক কাদের হইতে পারে?
এক কথায় সবার, তবে যাদের উচ্চ রক্ত চাপ, কোলেস্টেরল বেশী, পূর্ব স্ট্রোক হিস্ট্রি, ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ, আর যারা বিড়ি খায় তাদের হবার সম্ভাবনা বেশী।

স্ট্রোকের চিকিৎসা কি?
সেইটা তো ডাক্তার মাম্মায় কইতে পারবো, তবে পদ্ধতির মধ্যে অষুধ প্রয়োগ, ফিজিক্যাল থেরাপী, স্পীচ থেরাপী, লাইফস্টাইল চেঞ্জ, আর সার্জারী করতে পারেন। যদি স্ট্রোক হবার কয়েক ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া যায় তাইলে ডাক্তার মাম্মা ব্লাড ক্লট স জন্য চেষ্টা করতে পারেন যাতে তার লংটার্ম বা সুদুর প্রসারী এফেক্ট থাইকা বাঁচার জন্য।

বটম প্যারাঃ
সময় এইটাই আসল। দেরী করা যাইবনা। ফাস্ট দেখ ফাস্ট কাম কর!
হাসপাতাল থাইকা আসার পরেই রোগী আর তার পরিবারের আসল কাজ শুরু হয়, রোগীর চাই অদম্য আগ্রহ আর চেষ্টা, আর পরিবারের চাই সহনশীলতা, ধৈর্য্য, রোগীর চারপাশের পরিবেশকে তার জন্য নিরাপদ আর বান্ধব কইরা তোলা। যদি প্রাণে বাইচা যায় তাইলে স্ট্রোকের রোগীর অনেক সময় লাগে সুস্থ্য হইয়া উঠতে।

ডর লাগেরে মামু ডর লাগে!

সূত্রঃ ডাক্তার নাজমা রশীদ ( আমার ছোট বইন)