ফিরে দেখাঃ ২০১৭ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞান

।।০৯।।
হাইব্রিড ক্লোজড লুপ ইনসুলিন ডেলিভারি সিস্টেম

এটাকে বলা হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম প্রকৃত কৃত্রিম অগ্নাশয় বা প্যানক্রিয়াস। হাইব্রিড ক্লোজড লুপ ইনসুলিন ডেলিভারি সিস্টেম(Hybrid Closed-Loop Insulin Delivery System) টাইপ ১ ডায়াবেটিস মেলিটাসের চিকিৎসাকে আগের চেয়ে অনেক সহজ এবং নিখুঁত করে তুলেছে। ২০১৬ সালের শেষের দিকে মার্কিন খাদ্য এবং ওষুধ প্রশাসন এটার বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলো। এই যন্ত্রটির সুবিধা হচ্ছে একই সময়ে এটা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয় করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুসারে ইনসুলিন নিঃসরণ করতে পারে। আগের যন্ত্রটি ছিল ওপেন লুপ ধরণের। অর্থাৎ প্রথমে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নির্ধারণ করতে হতো এবং রোগীকে হিসেব অনুসারে ইনসুলিন ইনজেকশন করে নিতে হতো। কিন্তু হাইব্রিড ক্লোজড লুপ ইনসুলিন ডেলিভারি সিস্টেম আগের যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশী উপযোগী এবং দক্ষ। এই বছর এর কার্যক্ষমতা আরও বেড়েছে। ২০১৮ সালে এর চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ার আশা করা হচ্ছে । অনেকে আশা করছেন একই ভাবে টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্যও শিগগীরই হয়তো হাইব্রিড ক্লোজড লুপ ইনসুলিন ডেলিভারি সিস্টেম বাজারে আসবে।

তথ্যসূত্রঃ
• Cleveland Clinic News Releases; October 25, 2017.
• FDA Approves First ‘Artificial Pancreas’ for Type 1 Diabetes – Medscape – Sep 28, 2016.




ফিরে দেখাঃ ২০১৭ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞান

।।১০।।
প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ওষুধের জটিলতা

প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ওষুধের তালিকায় রয়েছে ওমেপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল, র‍্যাবেপ্রাজল, ল্যান্সোপ্রাজল, ডেক্সল্যান্সোপ্রাজল, এসেমোপ্রাজল ইত্যাদি। কয়েক বছর যাবৎ প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ ব্যবহার কতটুকু নিরাপদ – এ নিয়ে নানারকম বিতর্ক চলছে। একের পর এক গবেষণার ফলাফলে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ব্যবহারের বিভিন্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে এবং তা অনেকের মনেই ভীতির সঞ্চার করেছে। চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত এ সম্পর্কে রোগীদের নিকট থেকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেক রোগী প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ সেবন বন্ধ করে দিয়েছেন। এ পর্যন্ত প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার তালিকায় যুক্ত হয়েছেঃ কিডনির ইন্টারস্টিসিয়াল প্রদাহ ও ক্রনিক কিডনির রোগ, ডিমেনসিয়া বা বুদ্ধিভ্রংশতা, অস্থি ক্ষয় এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা, হৃদরোগ হওয়ার বাড়তি সম্ভাবনা, অন্ত্রে ক্লস্ট্রিডিয়াল সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি, ফুসফুসে নিউমোনিয়া হওয়ার বাড়তি সম্ভাবনা, র‍্যাবডোমায়োলাইসিস বা মাংসপেশী গলে যাওয়া, অতিরিক্ত রক্তস্বল্পতা হওয়ার প্রবণতা, হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি হওয়ার ঝুঁকি, পাকস্থলীর ভিতরের আবরণী কলা ক্ষয়ে যাওয়ার প্রবণতা ইত্যাদি। বলাবাহুল্য এত রকম জটিলতার ঝুঁকি নিয়ে কোন ওষুধ সেবন করা আসলেই চিন্তার বিষয়। এজন্য প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর সেবন করা আসলে কতটুকু নিরাপদ কিংবা বিপজ্জনক তা সঠিক নির্ধারণ করা জরুরী হয়ে পড়েছিল।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে একটি গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে। প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ব্যবহার করলে আসলেই এত রকম জটিলতা হয় কিনা এবং হলে তার সম্ভাবনা কতখানি, এ সকল প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে উক্ত গবেষণা পত্রে। এতে বলা হয়েছে যে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ সেবনের ফলে যে সকল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার উল্লেখ করা হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে তা অতিরঞ্জিত। কারণ এসম্পর্কিত অধিকাংশ গবেষণা পর্যবেক্ষণমূলক (observational study)। পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত জটিলতাসমূহ আসলেই প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরের জন্য হয়েছে কিনা তা শতভাগ নিশ্চিত করা সবক্ষেত্রে এখনও সম্ভব হয়নি। এজন্য আরও উন্নত ধরণের গবেষণার প্রয়োজন।

বলাবাহুল্য প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর প্রয়োজনীয় উপকারী ওষুধ। যাদের আসলেই এটা দরকার তাদের সঠিক নিম্নতম মাত্রায় সেবন করা উচিত এবং নির্ধারিত সময়ের পরে আর না সেবন করা উত্তম। প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর সেবনে যাদের উপকার হয়না, তাদের এটা সেবন না করা ভালো। এ পর্যায়ে সকলেই মনে করছেন বিনা প্রয়োজনে মুড়ি-মুড়কির মতো প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

তথ্যসূত্রঃ
• Michael F Vaezi, Yu-Xiao Yang, Colin W Howden. Complications of Proton Pump Inhibitor Therapy. Gastroenterology. July 2017; 153(1): 35-48.




হার্ট ফেইলিউরে পেইসমেকারের ভূমিকা

হৃদপিণ্ডের অসুখ আছে শত শত। কিন্তু মানুষের হৃদপিণ্ড একটাই। আর এর প্রতিকারও হয় ভিন্ন। হৃদপিণ্ডের ভাল্ব, মাংসপেশি বা রক্তনালী সম্পর্কে আমরা শিক্ষিত সমাজে সবাই কম-বেশি কিছু না কিছু জ্ঞান রাখি। এখন আমরা হার্ট ফেইলিউরে পেইসমেকারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করবো।

হার্ট ফেইলিউর কি?
———————–
খুব সহজভাবে বলা যায়, যখন হৃদপিণ্ড শরীরের চাহিদা অনুযায়ী রক্ত সঞ্চালনে ব্যর্থ হয় তখন তাকে হার্ট ফেইলিউর বলে।

হার্ট ফেইলিউরের কারণ
——————————–
হার্ট ফেইলিউরের নানাবিধ কারণ আছে। বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগের শেষ পর্যায়ে হার্ট ফেইলিউর হয়ে থাকে। যেমন করনারি আরটারিজনিত রোগ, হার্ট ভাল্বের রোগ, জন্মগত হৃদরোগ, হৃদপিণ্ডের মাংসপেশির রোগ, ইত্যাদি। শেষোক্ত রোগের ক্ষেত্রে পেইসমেকার বিশেষভাবে কার্যকর।

পেসমেকার কাদের প্রয়োজন?
———————————-
যে সব রোগীর হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি অথবা ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ জনিত রোগের কারণে স্ফীত হয়ে যায় ও বাণ্ডল ব্রাঞ্চ ব্লক তৈরি হয় তাদের হৃদপিণ্ডের সবদিক স্বাভাবিক হৃদপিণ্ডের মতো এক সঙ্গে সংকুচিত হয় না। ফলে হৃদপিণ্ড প্রয়োজনমতো রক্ত পাম্প করতে পারে না। এই ধরনের রোগীদের সাধারণত প্রয়োজন মোতাবেক ওষুধ দ্বারা চিকিৎসা করা সত্ত্বেও উপসর্গ থেকে যায়। তাদের ক্ষেত্রে পেসমেকার স্থাপন করলে হৃদপিণ্ডকে সবদিক থেকে সংকুচিত হতে সাহায্য করে হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

পেসমেকার কী?
——————
পেসমেকার হলো ছোট একটি এলেক্ট্রনিক যন্ত্র বিশেষ, যা সাধারণ পেসমেকারের মতোই এবং একইভাবে সাধারণত বামপাশে বুকের উপরিভাগে চামড়ার নিচে ছোট একটি অপারাশনের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়। পেসমেকার থেকে বিশেষ তারের (লিড সিস্টেম) মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠে সংযোগ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে তিনটি লিড সিস্টেমের প্রয়োজন হয়। একটি ডান নিলয়ে, একটি ডান অলিন্দে ও একটি হৃদপিণ্ডের প্রধান শিরার (করনারী সাইনাস) ভিতর দিয়ে গিয়ে বাম নিলয়ের বাম পাশে স্থাপন করা হয়। এতে উভয় নিলয় একসাথে সংকুচিত হয় ও হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতার উন্নতি ঘটে।

স্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়?
————————————————-
মূল বিষয়ে যাবার আগে আমরা জেনে নেই স্বকাভাবিক হৃৎস্পন্দন কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। আমাদের হৃদযন্ত্রে বিশেষ এক ধরনের তন্তু আছে যাকে হৃদযন্ত্রের কণ্ডাকটিভ বা ইলেক্ট্রিক্যাল সিস্টেম বলা হয়, যা কি-না বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং হৃৎস্পন্দনকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ সিস্টেমের অংশগুলো হলো, সাইনোএট্রিয়াল বা এসএ নোড, এট্রিওভেন্ট্রিকুলার বা এভি নোড, বাণ্ডল্‌ অফ হিজ, রাইট ও লেফ্‌ট বাণ্ডল্‌ ব্রাঞ্চেস এবং পার্কিঞ্জি ফাইবারস। এসএ নোড হতে প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় যা যথাক্রমে এভি নোড, বাণ্ডল্‌ অফ হিজ, রাইট ও লেফ্‌ট বাণ্ডল্‌ ব্রাঞ্চেস এবং পার্কিঞ্জি ফাইবারসের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়ে নিলয়ের মাংসপেশিকে উত্তেজিত ও সংকুচিত করে।

পেসমেকার কীভাবে কাজ করে?
————————————-
যখন হার্ট ফেইলিউর হয় তখন হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ স্ফীত হয় এবং প্রায়ই বাণ্ডল্‌ ব্রাঞ্চেস ব্লক তৈরি হয় বিশেষ করে লেফ্‌ট বাণ্ডল্‌ ব্রাঞ্চ ব্লক। যার ফলে ডান ও বাম নিলয় এক সাথে সংকুচিত না হয়ে একটু আগে পরে সংকুচিত হয়। এতে হৃদপিণ্ডের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা হ্রাস পায়। এ ধরনের রোগী যাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ প্রয়োগ করা সত্ত্বেও উপসর্গ নিরাময় হয় না, তাদের পেসমেকার স্থাপন করলে উপকৃত হন। কারণ পেরমেকার উভয় নিলয়কে এক সাথে উত্তেজিত ও সংকুচিত করে। ফলে হৃদপিণ্ডের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

আমরা কীভাবে বুঝি যে পেসমেকার ঠিকভাবে কাজ করছে কি-না?
————————————————————————–
প্রথমত, রোগীরে উপসর্গের উন্নতি ঘটে, যেমন – চলাফেরায় যে শ্বাস কষ্ট হতো তা কমে যায় এবং রোগীর কর্মক্ষমতা বাড়ে। দ্বিতীয়ত, ইসিজিতে পরিবর্তন ঘটে এবং ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে উভয় নিলয়ের এক সঙ্গে সংকোচন ও হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতার উন্নতি পরিলক্ষিত হয়।

পেসমেকার জীবন দীর্ঘায়িত করে কি?
——————————————-
এর উত্তর ‘না’। এখন প্রশ্ন আসে, “কেনো?” এবং “তাহলে এতো টাকা খরচ করে কী লাভ?” অবশ্যই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এখানে বোঝার বিষয় হলো, যদিও পেসমেকার জীবন দীর্ঘায়িত করে না, তবুও এটি উন্নতর জীবনযাপন করতে সাহায্য করে এবং কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। অন্যভাবে বললে, একজন হার্ট ফেইলিউরের রোগী অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনধারণ করতে সক্ষম হন।

পেসমেকার স্থাপনের পর রোগীর কী করণীয় হয়?
——————————————————–
বাইভেন্ট্রিকুলার পেসমেকার স্থাপনের পর একজন রোগীকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। সেগুলো নিম্নরূপঃ

১। যে পাশে পেসমেকার বসানো হয় সে পাশের হাত এক মাস কাঁধের উপরে উঠাবেন না।
২। ঐ হাত দিয়ে ছয় মাস ভারি বস্তু বহন করবেন না।
৩। ঐ পাশের কান দিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না।
৪। মাইক্রোওয়েভ ওভেন, টেলিভিশন বা কম্পিউটার মনিটরের খুব কাছে যাবেন না।
৫। এমআরআই পরীক্ষা করা যাবে না।
৬। মেটাল ডিটেক্টর বা সিকিউরিটি স্ক্যানারের ভিতর দিয়ে যাবেন না।
৭। অন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেবার সময় জানাতে হবে শরীরে পেসমেকার বসানো আছে।
৮। পেসমেকার বসানোর দিন থেকে ৬ সপ্তাহ্‌, ৬ মাস ও ১ বছর পর হাসপাতালে এসে পেসমেকারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করাতে হবে। তারপর বছরে একবার পরীক্ষা করাতে হবে।




বংশ রক্ষা ২

শ্বাশুড়ীর এই দ্বৈত চরিত্রে মানসী অবাক হয়ে যায়। শফিক যখন বলল, মা একটু আস্তে বল। ভাবী একটা উচ্চ শিক্ষিত মেয়ে। আত্মসন্মানী। শুনতে পেলে কি হবে বুঝতে পারছ? তারস্বরে চিল্লিয়ে উঠল, “বউএর আবার উচ্চ শিক্ষিত কি, এম এ পাশ বি এ পাশ কি, জজ ব্যারিষ্ট্রার কি? বউ বউ-ই।” অথচ এই শ্বাশুড়ীই মানুষদের ধরে ধরে বলত, বুঝেছ লুবনার মা আমার বউ মা এম এ ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট। মন্ত্রনালয়ে কত বড় চাকুরী করে। যুগ পাল্টে গেছে। এখন ছেলে মেয়েতে কোন তফাত নেই”। সেই শ্বাশুড়ীর কাছে মানসী এখন তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের মানুষ!!

আজকাল উঠতে বসতে মানসীকে সে মানসিক নির্যাতন করে। কারন একটাই। ছ’ বছর হয়ে গেল মানসীর কোন বাচ্চা কাচ্চা হোল না। অনেক চিকিৎসা করিয়েছে। দেশের নামকরা ডাক্তার, নামকরা ক্লিনিক নিরাময় ফার্টিলিটি সেন্টারেও গিয়েছে কয়েকবার। স্পষ্ট বলে দিয়েছে হবে না। মিজানের টেস্টিকুলার ফেইলিউর। কোনক্রমেই তার বায়োলজিক্যাল বাবা হবার সম্ভাবনা নেই। মিজানের মা সেটা শুনেও কিছুতেই মানতে রাজী নন। আপনজনের মৃত্যু সংবাদ শুনে সংবাদ বহনকারীকে চপেটাঘাত করতে যেমন অনেকেই দ্বিধাবোধ করে না, মিজানের মা মানসীর মুখে মিজানের এই অপারগতার কথা শুনে মানসীকে কথার চপেটাঘাত করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেনি। মানসীর উপর তার নির্যাতন বেড়েই চলছে দেখে মিজান নিজে মাকে কত বুঝিয়ে বলেছে যে মানসীর কোন দোষ নেই। কে শোনে কার কথা।

বাবা ছাড়া এই জীবনটাকে চার ছেলে নিয়ে মা চালিয়ে এসেছে।হাইস্কুলের একজন সহকারী শিক্ষিকা জীবনযুদ্বে হেরে না গিয়ে ছেলেদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছে। মিজান ইঞ্জিনিয়র। মায়ের পছন্দেই মানসীকে বিয়ে করেছে। একটি নাতী দেখার জন্য সেই মানসীকেই এমন নির্যাতন করবে মিজান ভেবেই খুব লজ্জা ও কষ্ট পায়। কিন্তু মাকে ছোট ভাইদের কাছে রেখে আলাদা হয়ে যেতেও ওর বিবেকে বাঁধে। মানসীর কাছে হাতজোড় করে মায়ের এই আচরনের জন্য ক্ষমা চায়। মানসী অনুধাবন করে। তাই চুপচাপ মেনে নেয়।

মেঝভাই শফিক নিরাময় ক্লিনিকে যায় রোগী সেজে। নিজের অবস্থান বুঝতে চায়। ভাইয়ের মত তারও কোন জটিল সমস্যা আছে কিনা। নিশ্চিত হয় কোন সমস্যা নেই। জানতে পারে চিকিৎসার বিভিন্ন অপশন সম্পর্কে। হঠাৎ মনে হোল ভাবী ডোনার স্পার্ম দিয়ে চিকিৎসা করলেইতো পারে। মানসীকে বলতেই সে ভীষন রেগে গেল।

অপয়া মুখ পারলে না আমার বংশ রক্ষা করতে শুনতে শুনতে মানসী ক্লান্ত হয়ে গেছে। ভেবে ভেবে রাজী হয়ে গেল ডোনার স্পার্ম দিয়ে চিকিৎসা করতে। কিন্তু কার স্পার্ম নিবে? তা ছাড়া নিরাময় ক্লিনিক কোন ডোনার গ্যামিট নিয়ে কাজ করে না। শফিকের সাথে আলাপ করল। মিজানের সম্মতিক্রমে শফিককেই মানসী প্রস্তাব দেয় স্পার্ম ডোনেট করার জন্য। শফিক মনে মনে এটা অনেক আগে থেকেই চাচ্ছিল। কারন নিরীহ ভাবীটাকে মায়ের কথার শুলে জর্জরিত হতে দেখেছে নিয়ত। কিন্তু নিরাময় ক্লিনিকের ডা. রোখসানার মানসীকে ভালভাবেই মনে আছে। শফিককে নিয়ে গেলে সেতো বুঝে ফেলবে। তাই দ্বিতীয় বিয়ের স্বামী পরিচয়েই সেখানে গেল।

পি এইচ ডি করতে তিনমাসের মধ্যেই দেশের বাইরে চলে যাবে বলে শফিক তাড়াতাড়ি কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে কিনা তাই চায়। শফিক আগেই চিকিৎসার ধাপ সম্পর্কে জানত বলে এই বুদ্বি আটে। ডা. রোখসানা আই ইউ আই করে দেয়।

প্রথম চেষ্টাতেই প্রেগন্যান্সি। শ্বাশুড়ী বউ এর পরিবর্তন লক্ষ্য করে। ছেলের কাছে জানতে পায় মানসীর প্রেগন্যান্সির কথা। মানসীকে ডেকে আবার কথার ঝাঁটা। খুবতো বলতে আমার ছেলের দোষ। তখনইতো বলতাম যদি আমার ছেলের দোষই হবে তাহলে রোজ ভোরে এত চুল শুকানো কেন? আমার ছেলেটাও হয়েছে। বউকে বাঁচাতে নিজের ঘাড়ে দোষ নিয়েছে।

মানসী মন থেকে এই ডোনারিজম নিতে পারেনি। তাই দু’ চোখ গড়িয়ে কান্নার জলে ভেসে শ্বাশুড়ীকে বলল, “মা আপনি কখনও আমার বুকে মাতৃত্ত্বের হাহাকার শুনতে পাননি, আপনার ছেলের সমস্যা জেনেও আপনি আমাকে স্বান্তনা না দিয়ে উল্টো কথা শুনিয়েছেন। আপনি একজন মা হয়েও বুঝতে চাননি মা না হবার কষ্ট কি!”

আমার ছেলের দোষ এই মিথ্যে বলে বলে আজও মিথ্যে!! না মা মিথ্যে বলিনি। আপনি না বংশ রক্ষা করতে চেয়েছেন। আপনার এক ছেলের সমস্যা থাকতে পারে, সবারতো আর সমস্যা নেই। তাই বংশ রক্ষা করলাম।




অভিশাপ

ছোট বউ প্রেগন্যান্ট। ওমা বলে কি!!! ছোট বউ প্রেগন্যান্ট হোল কি করে!! বাড়ীর সবার মধ্যে কানাঘুষা আর গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। তিন বউ এর মধ্যে সব চেয়ে ছোট রাবেয়া। সুন্দরী, সদাহাস্যময়ী, চঞ্চল রাবেয়া বাড়ীতে সবার কাছেই খুব আদরের। বিশেষ করে শ্বশুর শ্বাশুরীর কাছে আদরের ছোট ছেলের বউ হিসেবে তার আদরের সীমা নেই। সেই শ্বাশুরীও রাবেয়াকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিল। খুব কড়া কন্ঠে ছেলেকে বলে দিল একটা বিহিত করতে। ওর মত নষ্ট মেয়েকে সে আর এ বাড়ীতে দেখতে চায় না। রায়হান কোন কিছুই মিলাতে পারে না। কি করে সম্ভব! রাবেয়ার মত মেয়ে কিছুতেই খারাপ কিছু করতে পারে না এই বিশ্বাসের সাথে বাস্তবতার সংঘর্ষে রায়হানের মাথা ঘুরতে থাকে।

আলীম সাহেবের তিন ছেলে দুই মেয়ে। দুই মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের বাচ্চা কাচ্চাও হয়েছে। কিন্তু তিন ছেলের কারুরই কোন বাচ্চা নেই। শহরে গিয়ে ছেলেদের পরীক্ষা করিয়েছেন। তিনজনার বেলাতেই ডাক্তার একই কথা বলেছেন। বাচ্চা হওয়া সম্ভব নয়। গ্রামের রক্ষনশীল পরিবার। কেন তিন ছেলের কারুরই বাচ্চা হচ্ছে না, তিনজনার বেলাতেই বউদের সমস্যা না হবারই কথা। ছেলেদের নিয়ে গেলেন মাজার শরীফে। খাদেম স্পষ্ট বলে দিল যে পরিবারের প্রতি কোন অভিশাপের ফল, এই বংশের আর বংশ বৃদ্বি হবে না।

সময় অনেক গড়িয়ে গেছে। বউদেরও বয়স হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক নিয়মেই বড় দুই বউ এর বাচ্চা হবার সম্ভাবনা শেষ। রাবেয়া এই ৩৮ বছর বয়সে কেমন করে প্রেগন্যান্ট হয়ে গেল নিজেরও বোধে আসে না। প্রেগন্যান্টইতো। শুধু যে মাসিক বন্ধ তাতো নয়। প্রচন্ড বমি বমি ভাবতো আছেই। কাজের ছেলেটাকে দিয়ে শহরের দোকান থেকে প্রেগন্যান্সি টেস্টের কিট আনায়।তাতেও প্রেগন্যান্সি পজিটিভ। রাবেয়ার দৃঢ় বিশ্বাস ঐসব অভিশাপ টভিশাপ কিচ্ছু না। আর ডাক্তারের ডায়াগোনোসিস ওতো ভুল হতে পারে। রায়হানকে কনভিন্স করার চেষ্টা করে। বোঝাতে চায় আল্লাহ্‌ যদি অভিশাপের জন্য বাচ্চা না দিয়ে থাকে আশির্বাদেতো দিতেও পারে। বিবি মরিয়মের হয়েছেনা?

রায়হান বিশ্বাস অবিশ্বাসের সংকটে সাত পাঁচ ভাবতে থাকে। বাসায় ১৮-২০ বছরের কাজের ছেলেটা ছাড়া আর কোন লোকের সংস্পর্শের সম্ভাবনা নেই। ভাবতেই অস্থির লাগে। রাবেয়ার কোন যুক্তিকেই বাবা মার কাছে দাড় করাতে সক্ষম হবেনা জেনে বাবা মা এবং পরিবারের সন্মান বাঁচাতে রাবেয়াকে বাবার বাড়ী পাঠিয়ে দেয়।

রাবেয়ার বাবা মা শহরে গিয়ে এই বাচ্চা নষ্ট করার কথা বলে। রাবেয়া রাজী হয়না। বাবা মা আশ্রয় না দিলে এই অবস্থায় কোথাও চলে যাবে বলে জানায়। বাধ্য হয়ে বাবা মা মেয়ের কথা মেনে নেয়।সময়ের সাথে সাথে রাবেয়ার শরীর খারাপ হতে থাকে। মাথা ব্যথা হতে থাকে। পেট যত বাড়ার কথা বাড়ে না। বমি কমে যাবার কথা হলেও বমি বাড়তে থাকে। কাশি এবং কাশির সাথে একটু রক্তও বের হতে দেখে। পাড়া প্রতিবেশীর জোড়াজোড়িতে রাবেয়াকে নিয়ে ওর বাবা মা শহরের ডাক্তারের কাছে গেল।

আল্ট্রাসনো করে কোন বাচ্চা পাওয়া গেল না। পাওয়া গেল ওভারীতে টিউমার। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষার পরে জানাল কোরিওকারসিনোমা (ক্যান্সার) অব ওভারী। ব্লাডে বিটা এইচ সি জি লেভেল অনেক বেশী। ননজেস্টেশনাল বা জার্ম সেল টিউমার। যা অত্যন্ত বিরল। ছড়িয়ে গেছে ব্রেইনে, ফুসফুসে, লিভারে। কোরিওকারসিনোমা অত্যন্ত কেমো সেনসিটিভ ক্যানসার যার নিরাময় খুব ভাল। কিন্তু ননজেস্টেশনাল কোরিওকারসিনোমার ফলাফল তুলনামূলক ভাল নয়।

চিকিৎসা হোল। দুই ওভারী এবং জরায়ু অপারেশন করে ফেলে দিয়ে মাল্টিএজেন্ট কেমোথেরাপি শুরু হয়ে গেল। রাবেয়ার বাবা মা বার বার রায়হানকে খবর দিতে চাইল। টাকা পয়সাতেও কুলাতে পারছিল না। অভিমানী রাবেয়া কিছুতেই খবর জানাতে রাজী হোল না। রাবেয়া কেমো দিতে গিয়ে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিল। কেমো বন্ধ করা হোল। আবার চালু করা হোক। কিন্তু ওর শরীর কেমোর ধকল আর সহ্য করতে পারছিল না। একদিন সবছেড়ে অভিশপ্ত রাবেয়া তার আত্মবিশ্বাস, তার আত্মমর্যাদায় উঁচু মাথা নিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করল।
.
.
.
এ খবর শুনে রায়হানের পরিবারের কি প্রতিক্রিয়া ছিল জানা নেই।




ডায়রিয়া হলেই এন্টিবায়োটিক নয়

বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধাণ কারন ডায়রিয়া। ডায়রিয়াতে বারবার পাতলা পায়খানা হয়। পায়খানাতে শুধু পানি আর মল থাকে। পাতলা পায়খানার সাথে যদি রক্ত যায় তাকে আমাশয় বা ডিসেন্ট্রি বলে।
ডায়রিয়ার বিভিন্ন কারন আছে। দূষিত খাবার, দূষিত পানি, রোগ জীবানু এবং কৃমির কারনে ডায়রিয়া হয়। দূষিত খাবার ও পানিতে মূলত ভাইরাস ও ব্যকটেরিয়া থাকে। ভাইরাস ব্যকটেরিয়াই নানা রকম ভাবে ডায়রিয়া সৃষ্টি করে। তবে দেখা গেছে বেশির ভাগ ডায়রিয়ার কারন কিন্তু ভাইরাস। হটাৎ ডায়রিযা শুরু হলে অনেকেই আতংক গ্রস্ত হয়ে যান। কেউ কেউ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ না করেন ঔষধের দোকানে চলে যান। দোকানদার না জেনেই না বুঝেই দিয়ে দেন এন্টিবায়োটিক। কখনো দিয়ে দেন লোপেরামাইড বা কোডেইন জাতীয় ঔষধ। এসব ঔষধ গ্রহনে তেমন লাভ হয় না। তবে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। ভাইরাস জনিত ডায়রিয়ায় এন্টিবায়োটিক কোনই কাজ করে না। শুধু পয়সার অপচয়। এছাড়া এভাবে অযাচিত ভাবে এন্টিবায়োটিক দেয়া কোন ক্রমেই ঠিক নয়।
লোপেরামাইড দিলে বার বার পায়খানা হবার প্রবনতা কমে। তবে এটি ডায়রিয়া সারায় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে অন্ত্রের গতি কমিয়ে দেয়। অনেক সময় এ ঔষধ খেলে অন্ত্রেও গতি বন্ধ হয়ে যায়। তখন দেখা দেয় আরেক সমস্যা। মেট্রোনিকজল শুধু যদি প্রটোজোয়া দিয়ে ডায়রিয়া হয় তখন কার্যকর। অন্য ক্ষেত্রে দিয়ে কোন লাভ নেই। বরং এর ফলে মুখ তিতা হয়ে যায় এবং খাবার রুচি কমে যায়।
ডায়রিয়া হলে তাই খাবার স্যালাইন ই যথেষ্ট। অন্য ঔষধের তেমন কোন দরকার নেই। বমি হলে বা স্যালাইন না খেতে পারলে শিরায় কলেরা স্যালাইন দেয়া যাবে না তা কিন্তু  নয়। শুধু ডাক্তারের পরামর্শে কয়েকটি ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়। ডায়রিয়া হলে ঠিকমত স্যলাইন খেলেকোন সমস্যাই হয় না। ডাবের পানি খাওয়া যেতে পারে। শাক ও দুধ এসময় না খাওয়াই ভালো। তেল চর্বি এসময় পরিহার করতে হবে। স্বভাবিক খাবার সব খাওয়া যাবে। ব্যক্তিগত স্বাস্থবিধি মেনে চললে অনেকটাই ডায়রিয়ার হাত থেকে বাঁচা যায়।



মেটফরমিন এবং ক্যান্সার

মেটফরমিন খুব পরিচিত ওষুধ । বেশির ভাগ মানুষই মেটফরমিনকে শুধু ডায়াবেটিস এর ওষুধ  হিসেবে জানে। যদিও ডাযাবেটিস এর চিকিৎসা ছাড়াও এর আরও বিভিন্ন ব্যাবহার আছে। অনেকেই এই বিষয়ে অবগত নয়।
মেটফরমিনের বেশকিছু সুবিধা রয়েছে। এটির দাম তুলনামুলকভাবে কম। এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে রক্তের গ্লুকজ কমিয়ে দিয়ে জটিলতা করে না। মেটফর মিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও খুব কম। বমি ভাব ও ক্ষুধামন্দা  করে। ডায়রিয়াও হতে পারে। কিডনিতে বেশি সমস্যা থাকলে অবশ্য মেটফরমিন ব্যবহার করা যায় না।
মেটফর মিনের বর্তমানে আরও বেশ কিছু উপকারিতা জানা গেছে। মেটফরমিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। দশ বছর ধরে প্রায় আট হাজার মানুষের উপর গবেষনা করে বিজ্ঞানীরা এমনটিই জানতে পেরেছেন । যাদেও আগে থেকেই ফুসফুসে , অন্ত্রে বা কোলনে এবং ব্রেস্টে ক্যান্সার ছিল মেটফরমিন দেবার পর তাদেও অবস্থার উন্নতি হয়েছিল।
কিভাবে মেটফর মিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এই বিষয়ের উপর বিজ্ঞানিরা কাজ করেছেন অনেক ব্যাখ্যা তারা দাঁড় করিয়েছেন। নতুন নতুন ব্যাখা আসছে।
মেটফরমিন ওজন কমাতে সাহায্য করে। ওজন বৃদ্ধির  সাথে কিছু ক্যান্সারের সম্পর্ক আছে। যেহেতু মেটফর মিন ওজন কমাতে সাহায্য করে তাই মেটফরমিন ব্যবহারে বিভিন্ন ক্যান্সার কমে যায়। যাদের ডায়াবেটিস নেই সে ক্ষেত্রেও দেখা গেছে মেটফরমিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।পরিবারে কারো কোলন ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সার থাকলে অন্যদের হবারও ঝুকি থাকে। গবেষনায় দেখা গেছে মেটফরমিন এ দুই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
 সুতরাং চিকিৎসকের পরামর্শে  যাদের উপরোক্ত ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি তারা মেটফরমিন খেতে পারেন। তবে নিজে নিজে এই প্রবন্ধ পড়ে কেউ ঔষধ শুরু করবেন না। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। তিনি যদি বলেন কেবল তখনি ঔষধটি শুরু করবেন। না হলে সমস্যা হতে পারে।
মেটফরমিন ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ। বর্তমানে গাইড লাইনে ডায়াবেটিস ডায়াগনসিস হলে এবং রক্তের গ্লুকজ একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকলে মেটফরমিন দিয়েই চিকিৎসা শুরুর কথা বলা হয়েছে। কারও যদি ডায়াবেটিস থাকে বা স্তন , কোলন , প্রস্টেট বা ইউটেরাসে ক্যান্সার হবার ঝুঁকি থাকে তার জন্য মেটফরমিন খুবই কার্যকরী হবে। ঔষধটি সত্যিই দিনের পর দিন রোগীদের কল্যাণ করে যাচ্ছে।



বাচ্চাদের চুল মোটা, বড় ও ঘন হয় কেন হয় ?

বাচ্চাদের মাথা ন্যাড়া করে দিলে কি পরবর্তীতে চুল মোটা, বড় ও ঘন হয়?

উত্তরঃ না।

এই ভুল ধারনা আমাদের বেশিরভাগের মধ্যেই বিদ্যমান। এমনকি আমি ও আমার পরিবারও এতদিন ভাবতাম, এটা হয়ত কিছুটা হলেও ঠিক। তাই আমাদের মেয়ের মাথাও জন্মের পর এই ২ বছরে মোট ৩ বার ন্যাড়া করে দিয়েছি, যা একবারও না করলেও চলত।

মানুষ ভুল থেকেই শিক্ষা নেয়। তাই, ন্যাড়া করার পরেও যখন চুলের ঘনত্ব ও পুরুত্ব একই থাকল, তখন আমি নড়েচড়ে বসলাম। ইন্টারনেট ঘেটে বের করলাম কিছু অবাক করা তথ্য, যেগুলো না জানার কারণে আমার ছোট্ট মেয়েটাকে আমি এতবার ন্যাড়া করে দিয়েছিলাম।

আমাদের জন্মের সময় আমরা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ চুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করি। এই চুলগুলোর প্রত্যেকটিই উৎপন্ন হয় তাদের নিজ নিজ হেয়ার ফলিকল থেকে।

আমরা চুলগুলোকে গাছ হিসেবে কল্পনা করলে হেয়ার ফলিকলকে সেই গাছ উৎপন্ন হবার বীজ হিসেবে কল্পনা করতে পারি। একটি বীজ থেকে যেমন মাত্র একটি গাছই উৎপন্ন হওয়া সম্ভব, ঠিক তেমনি একটি হেয়ার ফলিকল থেকে মাত্র একটি চুলই উৎপন্ন হবে, কখনোই দুইটি নয়।

এই ফলিকলগুলো আরো নির্ধারন করেঃ তাদের থেকে উৎপন্ন চুল সারা জীবনে মোট কতটুকু লম্বা, পুরু (মোটা নাকি পাতলা) ও কি রকমের (সোজা নাকি কোকড়া) হবে।

অনেকেই দেখা যায় জোয়ান বয়সেই চুল হারিয়ে টাক মাথায় ঘুরে বেড়ান। তাদের হেয়ার ফলিকলগুলো ঐ পরিমাণ চুল উৎপন্ন করার পর আর চুল উৎপন্ন করতে পারে না। ফলে একটা নির্দিষ্ট বয়সে তাদের মাথায় জোর করেও আর চুল আনা সম্ভব হয় না।

চুল বা দাঁড়ি কাটার পর আমাদের মনে হয়, নতুন গজানো চুলদাঁড়িগুলো আগের তুলনায় একটু বেশি মোটা। এটা একেবারেই ভ্রান্ত ধারনা। একটি চুলকে একটি পেন্সিলের মাথার সাথে তুলনা করলেই এটা বোঝা যাবে। যদি কোন পেন্সিলের মাথা লিখতে গিয়ে হঠাত ভেঙ্গে যায়, তখন তা ভোতা দেখায় (অর্থাৎ মোটা দেখায়)। চুল হঠাৎ কাটলেও তা ঠিক একই অবস্থা হয়। অর্থাৎ ডগাগুলো আগের চিকন অবস্থার তুলনায় মোটা অবস্থায় থাকে। তবে অচিরেই তা আবার আগের চিকন অবস্থায় ফিরে আসে। চিন্তা করুন, সেই ভাঙ্গা পেন্সিল দিয়ে এক পৃষ্ঠা লেখার পর কি পেন্সিলের মাথা আগের মতই মোটা থাকে?

আমাদের মাথায় মোট কতগুলো হেয়ার ফলিকল থাকবে, তা আমাদের বাবা-মা ও দাদা-দাদী বা নানা-নানী অর্থাৎ বংশানুক্রমে নির্ধারিত হয়।

অনেক সময় দেখা যায়, সদ্যোজাত বাচ্চাদের মাথার পেছনের দিকে চুল খুবই বর্নহীন ও পাতলা, যা নেই বললেই চলে। আর এটা দেখার পরে মা-বাবা সেই বাচ্চার মাথা ন্যাড়া করে দেন, যাতে চুল ঘন ও লম্বা হয়।

জন্মের পর এই পাতলা চুলকে বলা হয় ভেলাস হেয়ার। এই চুল জন্মের ৩ থেকে ৭ মাসের মধ্যেই পরিবর্তন হওয়া শুরু করে ও ২ বছরের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রাপ্তবয়স্ক চুল দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়।

আপনি যদি সত্যিই আপনার সন্তানের চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত ও গঠন সুগঠিত করতে চান, তবে আপনাকে নিয়মিত তার মাথা পরিষ্কার রাখতে হবে। চুলের গোড়ায় ময়লা জমে চুলের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। তাই আমাদের সবার উচিৎ, প্রতিদিন একবার শ্যাম্পু দিয়ে বাচ্চাদের চুল পরিস্কার করে দেয়া।

চুল বার বার কাটলে বা ন্যাড়া করে দিলেই চুল বেশি বড়, ঘন ও পুরু হয় না। বরং বার বার ন্যাড়া করলে লাভের বদলে ক্ষতি হয় বেশি। কারণ, এতে বাচ্চার স্কাল্প বা মাথার তালু বার বার আঘাতপ্রাপ্ত হয়। হেয়ার ফলিকল এই আঘাতের ফলে তার কাজ ঠিকমত না করতে পারলে চুল আরো ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

অনেকেই বলেন, জন্মের পর বাচ্চাদের মাথায় যে ময়লা (অ্যামনিওটিক ফ্লুইড) লেগে থাকে, তা দূর করতে জন্মের কিছুদিন পরেই মাথা ন্যাড়া করা উচিৎ। আসলে ১-২ সপ্তাহ মাথা শ্যাম্পু দিয়ে পরিস্কার করে দিলে এই ময়লা ৯৯-১০০% পরিস্কার হয়ে যায়। গন্ধও পুরোপুরি চলে যায়। বরং আপনি যদি বাচ্চার মাথা ন্যাড়া করতে গিয়ে অসাবধানতাবশতঃ রেজর বা ব্লেড দিয়ে হেয়ার ফলিকলসহ কিছুটা চামড়া তুলে ফেলেন, তবে নিশ্চিত থাকেন, আপনার বাচ্চার মাথার ঐ অংশটুকু সারাজীবন টাক হয়েই থাকবে।

ছোট্ট বাচ্চারা অনেক কিউট হয়। চুল থাকলে তাদের দেখতে আরো কিউট লাগে। বাচ্চাদের মাথা কখনোই টাক করবেন না। প্রয়োজনে চুল ছোট করে কাটবেন, ঠিক আপনি যেমন চুল বড় হয়ে গেলে কাটিয়ে আসেন সেলুন বা পার্লারে গিয়ে।




গর্ভকালীন পরিচর্যা ও প্রসূতীর নিরাপত্তা।

গর্ভকালীন পরিচর্যার উদ্দেশ্য হচ্ছে গর্ভাবস্থাজনিত কোন সমস্যা আগেভাগেই সনাক্ত করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া। কোন অসুস্থতা যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ,এ্যাজমা, থাইরয়েড ডিসঅর্ডার ইত্যাদি বিভিন্ন অসুস্থতাসহ প্রেগন্যান্সি হলে উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রনে রাখা। অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ন এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ন গর্ভাবস্থাকে পাহাড়া দিয়ে টেনেটুনে বাচ্চা পোক্ত করা পর্যন্ত নেবার পরে একজন সুস্থ নিরাপদ মা এর কাছ থেকে একটি সুস্থ নিরাপদ শিশুকে পাওয়া।

কিন্তু যথাযোগ্য যত্ন সহকারে গর্ভাবস্থাকে টেনে নিয়ে যাবার পরেও সবসময়ে মা ও বাচ্চার শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া যায়না। কিছু অনুনমেয় উপসর্গ এবং জটীলতা যে কোন সময় হতে পারে।

তারই একটি উৎকৃষ্ট উদাহরন হোল প্রসবোত্তর রক্তক্ষরন। এই প্রসবোত্তর রক্তক্ষরনের জন্য একসময়ের ভিকারুন্নিসা নুন কলেজের অধ্যক্ষের মেয়ে আমেরিকার মত জায়গায় মৃত্যুবরন করেন। পরিচিত একজন ইংল্যান্ডের মত জায়গায় মৃত্যুবরন করেন। ভয়াবহ অবস্থা এই রক্তক্ষরন। যাকে বলে অবস্টেট্রিসিয়ান’স নাইটমেয়ার

যদি কোন হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসক গাফিলতি করে তৎপর হয়ে ব্যাবস্থা না নেয় সেটা তার/ তাদের গর্হিত অপরাধ। প্রমানসাপেক্ষে উপযুক্ত শাস্তির দাবীদার।

কিন্তু আন্তরিকতার সাথে সকল প্রচেষ্টার পরেও যদি পেশেন্টকে রক্ষা করা না যায় তাহলে চিকিৎসককে অপরাধী করা কতখানি যুক্তিযুক্ত? সেখানে অপরাধী করে ৩০৪ ধারায় কেস কতখানি যুক্তিসঙ্গত? ডাক্তারতো পেশেন্ট এর শত্রু নয়। পেশেন্ট ভাল হলে ডাক্তার দেবতা বনে যায় আর খারাপ হলেই শত্রু হয়ে যায়।

কোন প্রসূতীর মৃত্যুই কাম্য নয়। একটি ফিজিওলজিক্যাল প্রসেস সন্তান জন্মদানের জন্য কারো মৃত্যু কোনভাবেই সহ্যের নয়। তাই কোন মৃত্যুকেই জাস্টিফাই করছিনা। কিন্তু আনএভয়ডএবল মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকদের যারপরনাই চেষ্টার পরেও চিকিৎসককে এটেম্পট টু মার্ডারে দোষী সাব্যস্ত করা কাম্য কিনা সেটাই প্রশ্ন।

পেরিফেরিতে অবস্টেট্রিক্স ম্যানেজ হয় বলেই মাতামৃত্যুর হার কমে এসেছিল। যদিও ২০১০ থেকে ২০১৬ তে একটু ব্যাকগীয়ারে গেছে। এমন ৩০৪ ধারা চললে ক্রমশ: আরও ব্যাকগীয়ারে যায় কিনা তাই ভাবছি।

সকল চিকিৎসক যেন দক্ষ হাতে তার চেষ্টার সবটুকু ঢেলে দেয় তার হাতে জীবন সপে দেয়া প্রসূতীর উপর।

সকল প্রসূতী তাদের বাচ্চাসহ নিরাপদে থাকুক, বেঁচে থাকুক এবং বেঁচে থেকে তাদের পরম কাছের লোক চিকিৎসককে বাঁচিয়ে রাখুক, নিরাপদে রাখুক।




মেয়েদের বিয়ে,মাতৃত্ত্ব ও ক্যারিয়ার

আজ এক ভদ্রলোক এলেন চিকিৎসা নিতে। স্ত্রীকে আনেননি। কারন সে এজোস্পার্মিক। মজার ব্যাপার হোল তার দু’টো মেয়ে আছে যথাক্রমে ক্লাশ ফোর ও সেভেন এ পড়ে। স্ত্রীর বয়স ৪০। ইতোপূর্বে তিনটি এবরশনও হয়েছে। কিঞ্চিৎ রাগতস্বরেই বললাম, আবার বাচ্চা কিসের জন্য? উত্তরে জানাল তার আরও বাচ্চা লাগবে। ঠিক আছে। টেস্ট টিউব করতে হবে, খরচ ৪ লক্ষ টাকা, কোন নিশ্চয়তা নেই। উত্তর, অত টাকা কই পাব? তাহলে আবার যে বাচ্চা নিতে চাচ্ছেন বাচ্চাকে খাওয়াবেন কি? আল্লাহ্‌ খাওয়াবে। তাইতো। সবইতো আল্লাহ্‌ করবেন। বাচ্চাও উনি দেবেন। এখানে কেন? আচ্ছা বলেন দু’টো মেয়ে থাকতে বাচ্চা চাচ্ছেন কেন? উত্তর, মেয়ের আর কি দাম!!

বলে কি এই লোক? জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কার কাছে এসেছেন? আপনার দেশ চালায় কে? দুই মেয়ের একজনকে গাইনোকলজীস্ট বানাবেন আর একজনকে প্রধান মন্ত্রী বানাবেন। তখন দেখিয়েনতো দাম কারে কয়! হা হয়ে তাকিয়ে রইল। শেষ প্রশ্ন, তাহলে কি আপনার কাছে আর আসবনা? না আমার কাছেও আসবেন না, অন্য কারো কাছেও যাবেন না।

এজোস্পার্মিক না হলে এই লোক নির্ঘাত আর একটি বিয়ে করত।

শুধু স্বল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিতদেরই এই প্রবনতা নয়। শিক্ষিত সমাজেও মেয়েদেরকে কম মুল্যায়ন করার প্রবনতা ঢের আছে। কেন এই বৈষম্য? এই বৈষম্য থেমে নেই বিত্তশালী কিংবা উচ্চশিক্ষিতদের মাঝেও। তাই সারভাইভাল ফর দি ফিটেস্ট– এর জন্য মেয়েদের ক্যারিয়ার একান্ত বাঞ্চনীয়। কিন্তু সেই ক্যারিয়ার হতে হবে প্ল্যানড।

কারন মেয়েদের সবচেয়ে বড় ক্যারিয়ার হোল মাতৃত্ত্ব। খেয়াল রাখতে হবে যেন পেশাগত ক্যারিয়ার গঠন করতে গিয়ে মাতৃত্ত্বের
ক্যারিয়ারে কেউ পিছিয়ে না পরে। তাহলে কি করা উচিত? ২৫ বছরের মধ্যে বিয়ে। যারা ডাক্তারী না পড়ে তাদের আরও আগেই হতে পারে। অর্থাৎ লেখাপড়া শেষ করার সাথে সাথেই বিয়ে করা উচিত। বিয়ের পরে টার্গেট থাকতে হবে ৩০ বছরের মধ্যে দু’টো বাচ্চা নেবার। তা ছেলেই হোক বা মেয়েই হোক।

তারপরে কত পরীক্ষা দিবে? কি কি পরীক্ষা দিবে? কত উপরে উঠবে? উঠতে থাক। কারন এ উঠার পথ কখনও বন্ধ হবে না। কিন্তু মা হবার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

কিভাবে বন্ধ হবে?

সবমেয়েদের ডিম্বানুর পরিমান একই সমান থাকে না। গর্ভে থাকাকালীন ১৮ থেকে ২২ সপ্তাহে এর পরিমান ৭০ হাজার থেকে ৭ লাখ পর্যন্ত থাকতে পারে। যাই থাকুক প্রতিনিয়ত নিজে নিজেই নষ্ট হয়ে যাবার ফলে ৩০ বছর বয়সে মাত্র ১২ শতাংশ টিকে থাকে। আর ৪০ বছর বয়সে তা মাত্র ৩ শতাংশে পৌঁছায়। সুতরাং যার ৭০০০০ দিয়ে শুরু তার অতি অল্প সময়েই ডিম্বানু শেষ হয়ে যাবে। এর সাথে যদি এন্ডোমেট্রিয়োসিস, সিস্ট অপারেশন, এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির অপারেশন, পেলভিক ইনফেকশন ইত্যাদি থাকে তাহলে আরও কমে যায়। ফলে অনেকেরই অল্প বয়সে ডিম্বানু শেষ হয়ে যায়।

তাই ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের জন্য দেরীতে বিয়ে নয়, বাচ্চা নেয়া রহিত নয়। কে জানে কার কবে ডিম্বানু শেষ হয়ে যায়?

দ্রষ্টব্য: উদ্দেশ্য ভয় দেখানো নয়, তথ্য দিয়ে সচেতন করা।

উল্লেখ্য: এখানে এজোস্পার্মিয়া সেকেন্ডারী। হয় Y সেগমেন্ট ডিলিশন অথবা ভাস ডিফারেন্স ব্লক। ঐ রিজিয়নে কোন সার্জারীর কারনেও হতে পারে।




ব্যাকপেইন

ব্যাকপেইন আমাদের খুব সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর যখনই আপনি এ সমস্যায় পড়বেন নিজের সব কাজকর্ম বাদ দিয়ে বসে থাকবেন না। সচল থাকুন, দেখবেন ব্যথা আর বাড়তে পারবে না। আর বাড়িতে একটু চেষ্টা করলেই কমাতে পারেন এই অসহ্য ব্যথা। জেনে নিন কীভাবে করবেন এই কাজগুলো

 অফিসে অনেকক্ষণ টানা বসে থাকবেন না। মাঝে মাঝে উঠুন, একটু হাঁটাচলা করুন। আর গদি চেয়ার পরিহার করে চেষ্টা করুন কাঠের অথবা প্লাস্টিকের চেয়ার ব্যবহার করতে।

 ভারী জিনিস বেশিক্ষণ টানাটানি করলে ব্যাকপেইন হতে পারে। খুব বেশি সময় এই কাজ করবেন না। মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিন।

 আর ব্যাকপেইনের সমস্যা নিয়মিত দেখা দিলে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

 ব্যাকপেইন কমানোর জন্য ফিটনেস এক্সপার্টের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করার জন্য। আমরা জানিয়ে দিচ্ছি কিছু এক্সারসাইজের নিয়মাবলি।

স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ

 লো ব্যাকপেইন কমানোর জন্য এই এক্সারসাইজ করতে পারেন। সিঁড়ির সামনে সোজা হয়ে দাঁড়ান। সিঁড়ির তৃতীয় ধাপে ডান পা রাখুন। এরপর মেরুদণ্ড সোজা রেখে সামনের দিকে ঝুঁকে মাথা হাঁটুর কাছে নিয়ে যান। ১৫-২০ মিনিট এই অবস্থায় থেকে আবার ফিরে আসুন। এবার বাম পা সামনে নিন। পুনরায় একই কাজ করুন। তবে লক্ষ রাখবেন খুব বেশি সময় যেন না করে ফেলেন। এতে ক্ষতি হতে পারে।

 মিড ব্যাকপেইনের জন্য এই এক্সারসাইজ। হাঁটুর তলায় দু’হাত রেখে পা বুকের সামনে নিয়ে আসুন। এই অবস্থায় কয়েক সেকেন্ড থেকে আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসুন। বিশ্রাম নিন।

 পা সোজা করে মাটিতে দাঁড়ান। ব্যালেন্স পাওয়ার জন্য দু’পায়ের মাঝে হাল্কা ফাঁকা রাখতে পারেন। এরপর মাথা ঝুঁকিয়ে পা ছোঁয়ার চেষ্টা করুন। দু’ পা জোড়া করে দাঁড়িয়ে নিচের দিকে ঝোঁকার সময় দু’ হাত হাঁটুতে রাখুন সাপোর্ট হিসেবে। এরপর হাত সরিয়ে নিন। ২০ সেকেন্ডের মতো এই অবস্থায় থেকে আবার সোজা অবস্থায় ফিরে আসুন, কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন।

নিয়মিত ব্যায়ামগুলো করতে থাকলে আস্তে আস্তে ব্যথা কমে যাবে। চেষ্টা করুন সময় মেনে করার। আর ব্যায়াম করে শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

[সংগ্রহীত ]