আবিস্কারের মিথ্যা দাবি; বাংলাদেশী দুই চিকিৎসকের

বাণিজ্যিক লালসা না বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা

১৬ই এপ্রিল ২০১৬ বাঙলা ট্রিবিউন “হেপাটাইটিস বি-এর চিকিৎসায় দুই বাংলাদেশি চিকিৎসকের সাফল্য” শিরোনামে একটি সংবাদ ছাপে। সেখানে বলা হয়,

“হেপাটাইটিস বি-এর চিকিৎসায় ‘ন্যাসভ্যাক’ নামে নতুন ওষুধের সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশি দুই চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) ও ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর। এরই মধ্যে কিউবাতে শুরু হয়েছে তাদের উদ্ভাবিত নতুন এই ওষুধ।”

১৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৬ যুগান্তর ছাপে আরেকটা নিউজ “হেপাটাইটিস বি’তে কারও মৃত্যু হবে না;বাংলাদেশী দুই বিজ্ঞানীর বিস্ময়কর সাফল্য।

সেখানে লেখা হয়;

“সম্পূর্ণ নতুন এক ওষুধ আবিষ্কারের মাধ্যমে ‘হেপাটাইটিস বি’ চিকিৎসায় বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশের দুই চিকিৎসা বিজ্ঞানী। স্বীকৃতি মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ (এফডিএ) একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে। এ আবিষ্কারের ফলে ‘হেপাটাইটিস বি’র কারণে আর কাউকে মৃত্যুবরণ করতে হবে না বলে জানিয়েছেন ওই দুই চিকিৎসা বিজ্ঞানী।
যাদের হাত ধরে এ বিস্ময়কর অর্জন তারা হলেন- জাপান প্রবাসী বাংলাদেশী লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)। এ দুই চিকিৎসা বিজ্ঞানী ৭৫ জন রোগীকে ১০ বার তাদের গবেষণালব্ধ ফর্মুলা ‘ন্যাসভ্যাক’ প্রয়োগ করে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে অধিকতর উন্নতি দেখতে পান।”

ইংরেজি ব্লগেও লেখা হয়েছে;

“NASVAC” (Novel Nasal Vaccine for Hepatitis B or NASVAC). The first New Drug Molecule invented by Bangladeshi doctors”

গত ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ প্রথমআলো “বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর সাফল্য হেপাটাইটিস-বি চিকিৎসায় নতুন ওষুধ ” শিরোনামে একটি সংবাদ ছাপে।
সংবাদে বলা হয়;

শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর গত ২৬ জানুয়ারি প্রথম আলোকে জানান ‘ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ওষুধ তৈরির পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করি জাপানে,১৯৮৭ সালে। উদ্ভাবিত ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয় জাপান ও কিউবাতে ইঁদুরে ওপর। আমার কনসেপ্ট বা ধারণা এ রকম ছিল যে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে হবে, যেন ভাইরাস নির্মূল হয়, আর নির্মূল না হলেও যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ ক্ষেত্রে ন্যাসভ্যাক সফল প্রমাণিত হয়েছে।

 

খুব স্পষ্ট করে সব জায়গায় বলা হয়েছে,  এই দুই বাংলাদেশী চিকিৎসক এই ওষুধ তারা  নিজেরা উদ্ভাবন করেছেন। শুনে আমার মনে ভরে উঠলো। আরো কিছু জানার জন্য সার্চ দিয়ে তো চক্ষু চড়কগাছ। এই ওষুধটা আসলে উদ্ভাবন করেছে কিউবান সেন্টার ফর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি। ২০১৫ সালের ১১ই আগস্ট  কিউবান সরকারের মুখপাত্র, বিশ্বখ্যাত বিপ্লবী পত্রিকা গ্রানমা জানাচ্ছে;

“A Cuban medication to treat chronic hepatitis B, HeberNasvac, created by scientists at the Genetic Engineering and Biotechnology Center (CIGB), is currently undergoing clinical trials in collaboration with the French company Abivax.”

এটা কিউবান আবিষ্কার, কোনমতেই বাংলাদেশের নয়। গ্রানমাই জানাচ্ছে, এই ওষুধ আবিস্কারের জন্য যে সমস্ত কিউবানরা যুক্ত ছিলো তাঁরা কিউবান সরকারের একাডেমী অব সাইন্সের বার্ষিক পুরস্কার পেয়েছে। তাঁরা আরো জানাচ্ছে, এই ওষুধ নিয়ে তাঁরা দ্রুতই ফেইজ থ্রি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করতে যাচ্ছে। সেখানেই যা লেখা আছে  তা হচ্ছে সেন্টার ফর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি, জাপানের University of Ehim, বাংলাদেশের লিভার ফাউন্ডেশন ও লিভার রিসার্চ সোসাইটি, ফ্রান্সের পাস্তুর ইন্সটিটিউট, ভেনেজুয়েলান ইন্সটিটিউট অব সাইন্টিফিক রিসার্চ, জার্মানির হ্যানোভার ইউনিভার্সিটির সাথে কোলাবোরেশনে এই ভ্যক্সিনের উপরে ২০ টির অধিক রিসার্চ পেপার প্রকাশ করেছে। এই দুই বাংলাদেশী চিকিৎসক শুধু ফেইজ থ্রি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করেছেন বাংলাদেশী রোগীদের উপরে, কোন ক্রমেই তারা ওষুধটার উদ্ভাবক বা আবিষ্কারক নন। এই ফিল্ডে কাজ করেন বলে তারা আগে ভাগে তথ্যটি পেয়েছেন ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যুক্ত হয়েছেন।

কিউবান সরকার ২০১৬ সালে এই ভ্যাক্সিন তাঁদের বাজারে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। ১৯৯৮ সালে কিউবানেরা এই ভাক্সিনের পেটেন্ট করে। পেটেন্ট নাম্বার CU98/Dec.PCT/CU/99/00006
কিউবান সেন্টার ফর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজির একটি সাইটিফিক ব্রশিয়ার
তবে কেন বাংলাদেশী এই চিকিৎসকদ্বয় নিজেদের এই ওষুধের আবিস্কর্তা বলে দাবী করছে? এর কারণ পুরোটাই বানিজ্যিক। কিউবান সেন্টার ফর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজির সাথে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করার সুবাদে এই দুই বাংলাদেশী চিকিৎসকের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। এই সম্পর্ককে বানিজ্যে রূপান্তরের লক্ষ্য থেকে তারা বাংলাদেশে এই ওষুধ বাজারজাত করার জন্য এদেশের বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের সাথে কিউবান ইন্সটিটিউটের একটি সমঝোতা তৈরি করে দেন বলে মনে হয়।

বাংলাদেশের প্রচলিত ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইন ও ড্রাগ পলিসিতে কোন ওষুধ যদি আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জাপান বা জার্মানিতে নিবন্ধিত না হয় তাহলে তা বাংলাদেশে বাজারজাত করা যায়না। কিন্তু বাংলাদেশী আবিষ্কার হলে তখন কী হবে? যেহেতু এইধরনের কোন পরিস্থিতি কখনো সৃষ্টি হয়নি তাই বিশেষ বিবেচনায় ওষুধ প্রশাসন যেন এই ওষুধের নিবন্ধন দেয়, সেকারণেই এই বাংলাদেশী চিকিৎসকদ্বয়ের আবিস্কারের কাহিনী ফাঁদা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হাসিলের জন্য এই প্রচারণা চালানো হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে।

আমি ওষুধ প্রশাসনের কয়েকজন অফিসারের সাথে কথা বলেছি তাঁদের সকলেরই ধারণা এই ওষুধটি বাংলাদেশী আবিষ্কার। তাহলে কল্পনা করে নিতে হবে, দুই বাংলাদেশী চিকিৎসক যাদের ওষুধ উদ্ভাবনের কোন দক্ষতা নেই তারা তাঁদের প্রাত্যহিক রোগী দেখার ফাঁকে ফাঁকে  তাদের  গোপন কোন ল্যাবে এই ওষুধ উদ্ভাবন করে ফেলেছেন। কেয়া বাত!!

এই ওষুধ বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের নামে বাংলাদেশে নিবন্ধনের জন্য জমা দেয়া হয়েছে। মিথ্যা উদ্ভাবনের ভাওতা দিয়ে বের করা নিবন্ধনের সুবিধা নিয়ে চালানো হবে একচেটিয়া ব্যবসা, যেহেতু বাংলাদেশে অনেকে হেপাটাইটিস বি রোগে ভোগেন।

যা আমরা আবিষ্কার করিনি তাকে নিজের আবিষ্কার বলে দাবী করা বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা। এই HEBERNASVAC উদ্ভাবন বা আবিষ্কারের গৌরব বাংলাদেশের নয়। বাংলাদেশী দুই চিকিৎসকেরও নয়। এই গৌরব কিউবান বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের, আমরা এই আবিষ্কারের জন্য সমাজতান্ত্রিক কিউবাকে অভিনন্দন জানাই। একইসাথে আমরা বিচলিত বোধ করি যখন পুজিবাদী বাংলাদেশের অর্থলোভী কেউ এটা চুরি করতে উদ্যত হয়, বাণিজ্যের লালসায় অসাধু অন্ধকারে ঝাঁপ দেয়।

তাহলে এই ওষুধের ব্যবহারের সুবিধা বাংলাদেশের রোগীরা কি পাবেনা? নিশ্চয়ই পাবে। এই ওষুধ কিউবা থেকে নিয়ে আসার জন্য কোন বাধা নাই, এটা বলে ওষুধ প্রশাসন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করলেই কাজ হয়ে যাবে। বাংলাদেশে অনেক মানুষ আছে, প্রতিষ্ঠান আছে যারা বাংলাদেশে হেপাটাইটিস-বি রোগীদের জন্য এটা আমদানী করবে বিনা বাধায়।

আর যদি এই ওষুধটা বাংলাদেশের এই চিকিৎসকদ্বয়ের আবিষ্কার হয়, তাহলে সরকারী ওষুধ কোম্পানী EDCL এ তারা ফর্মুলা দিয়ে দিক, সরকার EDCL এর মাধ্যমে এই মহৌষধ শুধু উৎপাদনই নয় সারা বিশ্বে এর পেটেন্ট এপ্লিকেশন করবে।




শীতে নবজাতক এর খেয়াল

সারা দেশে খুব বেশি পরিমাণে ঠান্ডা অনুভব হচ্ছে এই পরিবেশে সবচেয়ে বেশী কষ্ট পায় নবজাতকের। তাই নবজাতক এর ব্যাপারে পরিবারে সবাইকে সবচেয়ে বেশি সচেতন থাকা প্রয়োজন। সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর জন্য অল্প শীতই জটিল রোগ ঘটাতে পারে তাই সাবধান থাকতে হবে এখন থেকেই। শিশুদের ত্বক পাতলা, অর্থাৎ ত্বকের নিচে স্তরে চর্বির আবরণ নেই। তাই অল্প শীতেই বাচ্চারা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলে বিপাক ক্রিয়া বন্ধ হয়ে খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে। শীতে জ্বর, সর্দি কিংবা কাশি সাধারণ ঘটনা জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশির জন্য বয়স অনুযায়ী সাধারণ ওষুধেই ভালো হয়ে যায়। অনেকের আবার তাও লাগে না। লবণ পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার এবং বুকের দুধ ও পর্যাপ্ত তরল খাবার খাওয়ালেই ভালো হয়ে যায়। বাসক পাতার রস এবং মধুও ভালো কাজ দেয়।

জন্মের সময় বাচ্চাদের খুব পাতলা এক ধরনের চুল থাকে। অপবিত্র বলে অনেকে এই চুল দ্রুত কেটে ফেলতে চান। এর কোনো প্রয়োজন নেই। প্রথম অপরিণত চুল পড়ে নিজে থেকেই পরিণত চুল গজাবে। তা ছাড়া চুল মাথার তাপমাত্রা ধরে রাখে, চুল কামিয়ে দিলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। খুব বেশি বড় চুল হলে এবং তাতে সমস্যা তৈরি হলে কাঁচি দিয়ে বড়জোর একটু ছেঁটে দিন। নবজাতককে ঘন ঘন মায়ের বুকের দুধ খেতে দিন। বুকের দুধে রোগ প্রতিরোধক শক্তি থাকে বলে শিশু সহজে ঠাণ্ডা, কাশি ইত্যাদিতে আক্রান্ত হয় না। মাকে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। শিশু যদি ২৪ ঘণ্টায় ছয়বার প্রস্রাব করে তাহলে বুঝতে হবে ঠিকমতো দুধ পাচ্ছে।

শীতকালে শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির প্রকোপ বাড়ে আর নবজাতক শিশুর শ্বাসনালি অতি সংবেদনশীল হওয়ায় তার এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই শিশুর ঘরে কার্পেট, লোমযুক্ত চাদর, কম্বল ইত্যাদি ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে।যদি পরিবারের কোনো সদস্য বা কোনো আত্মীয়ের সর্দি, কাশি, ভাইরাস জ্বর ইত্যাদি থাকে সে ক্ষেত্রে মা ও শিশুকে তাদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে। আর শিশুকে শীতকালে যথা সম্ভব ঘরের বাইরে নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

জন্মের পর ত্বকে এক ধরনের সাদা আবরণ দেখা যায়। অনেকেই এটি নোংরা ভেবে মুছে দেন বা গোসল করিয়ে ধুয়ে দেন। আসলে কিন্তু এই আবরণ নবজাতকের দেহের তাপমাত্রা ধরে রাখে, জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং ত্বককে সুরক্ষা দেয়। তাই এটি সঙ্গে সঙ্গে মোছা উচিত নয়। জন্মের ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত গোসল করানো উচিত নয়। এর মধ্যে শিশুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণক্ষমতা গড়ে উঠবে। শীতে অনেকে বাচ্চার নাভিতে তেল মেখে রোদে শুইয়ে রাখেন। এতে নাভিতে সংক্রমণ হতে পারে। জন্মের পর শুধু একবারের জন্য জীবাণুনাশক তরল দিয়ে মোছা ছাড়া পরবর্তী সময়ে নাভিতে কিন্তু কিছুই লাগানোর প্রয়োজন নেই।




স্তন ক্যান্সার সচেতনা প্রেক্ষাপট এবং প্রেক্ষিত

অক্টোবর মাস, স্তন ক্যান্সার সচেতনতার মাস। বিশ্বের সব দেশের মত বাংলাদেশেও কিছু কিছু স্তন ক্যান্সার সচেতনতা আলোচনা, সেমিনার , সিম্পোজিয়াম হচ্ছে এবং মাস ভরেই। গোলাপি ফিতা, গোলাপি পোশাক স্তন ক্যান্সার সচেতনতার প্রতীক।

ষোল কোটি জনগোষ্ঠীর এই বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সার হচ্ছে, নারী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। ক্যান্সার জনিত মৃত্যুর এক নম্বর কারণ। আমাদের দেশে স্তন ক্যান্সারের ইন্সিডেন্স, মানে একটি নিদৃষ্ট সময়ের মধ্যে (প্রতি বছর ) নুতন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হলো ১ লক্ষে ২২.৫ জন এবং প্রিভেলেন্স বা বিরাজমান স্তন ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ১ লক্ষে ১৯.৩ আর এদের বয়স হচ্ছে ১৫ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের জরীপে দেখা যায় বাংলাদেশে ১৬.৯ % মৃত্যু হয় স্তন ক্যান্সারের জন্য। সারা বিশ্ব জুড়েই স্তন ক্যান্সারের হার বেড়ে চলেছে। দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়া তে বলা হচ্ছে স্তন ক্যান্সার এপিডেমিক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। বিশ্বের উন্নত দেশে দেখা যায় স্তন ক্যান্সার মেনপোজ হয়ে গেছে এমন মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের হার বেশি। কিন্তু বাংলাদেশ সহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে প্রজনন সক্ষম বা মেনপোজের কাছাকাছি বয়সের মহিলাদের মধ্যে এই হার বেশি। দেখা গেছে ২১ বছর থেকে ৫৩ বছর বয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হার ৭১%। আরও একটি বিষয় বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত মৃত্যুর হার বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলের এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি।

তথ্য বা উপাত্ত সাজানোর উদ্দেশ্যে এই লেখা নয়, আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে স্তন ক্যান্সার বিরুদ্ধে কিভাবে সচেতন হতে পারি, কিভাবেই কমিয়ে আনা যায় মৃত্যু হার, অসুখ পরবর্তী রুগ্নতা কমিয়ে আনা। এসবের ক্ষেত্রে দর্শন একটাই, সেটা হচ্ছে ক্যান্সার হচ্ছে কিনা দেখা এবং হলে প্রাথমিক অবস্থায় নির্নয় করা। তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো এর ব্যাপকতাকে বোঝানোর চেষ্টা। যদিও ক্যান্সার একবার হলে রোগীকে চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হয়। আশার কথা হলো স্তন ক্যান্সারের খুব ভালো চিকিৎসা এখন আছে এবং তাতে রোগী ভাল থাকার হার অন্যান্য ক্যান্সারের থেকে অনেক বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে স্তন ক্যান্সারে সারভাইভাল রেট(বেঁচে থাকার হার) ৫ বছর পর্যন্ত ৯০%, ১০ বছর পর্যন্ত ৮৩%। যদি ক্যান্সার শুধু স্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে এই হার বেশি। গবেষণায় আরও দেখা গেছে ৬১% কেস মেটাস্টাসিস বা অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার আগেই ধরা পড়ে। সুতরাং আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই। দরকার চিকিৎসা। খুব প্রয়োজনীয় বিষয় হচ্ছে যে স্তন ক্যান্সার হচ্ছে কিনা বা হলে যাতে প্রাথমিক অবস্থায় যাতে নির্নয় করা যায় সেদিকে সতর্ক থাকাই হচ্ছে আমাদের নারীদের প্রধান দায়িত্ব।

প্রথমেই জানতে চেষ্টা করি, কেন হয় স্তন ক্যান্সার। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে যে, একজন মেয়ে শুধু মেয়ে বলেই তার স্তন ক্যান্সারের হওয়ার সম্ভাবনা পুরুষদের থেকে ১০০% বেশি। পুরুষদের ও স্তন ক্যান্সার হতে পারে। স্তন ক্যান্সার রোগ টা হচ্ছে স্তনের কোন একটা কোষ হঠাৎ করে স্বাভাবিক বৃদ্ধি অনুসরণ না করে এলোমেলো ভাবে সংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে পেতে একটা টিউমার বা স্ফীত অংশ তৈরি করে এবং যে বৃদ্ধিকে শরীরের প্রাকৃতিক নিয়ম রুখতে পারে না। কোষ যে কেন এই অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে তার প্রকৃত কারণ এখনো আবিষ্কার হয়নি। আর সেইজন্যই ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সার চিকিৎসা বা প্রতিরোধ এতো ভয়াবহ।

এ যেন ছায়ার সাথে যুদ্ধ। অনেকটাই অচেনা শত্রু। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বিজ্ঞান এগিয়ে চলেছে। যেমন স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন দুটো জিন ( বিআরসিএ-১ ও বিআরসিএ-২) যদি পিতা মাতার কাছ থেকে ত্রুটি নিয়ে সন্তানদের মধ্যে আসে, সেক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৫% থেকে ১০% বেড়ে যায়। সেইজন্য স্তন ক্যান্সারকে বলা হয় হেরিডিটারি বা উত্তরাধিকারিক যোগ থাকে। প্রথম ধাপের আত্মীয় যেমন মা, বোন, কন্যার যদি স্তন ক্যান্সার হয় বা থাকে তাহলে দ্বিগুণ আশংকা থাকে। মাসি, পিসি, দিদিমা, ঠাকুমা যে কারো থাকলেই আশংকা বেড়ে যায়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে স্তন ক্যান্সারের আশংকা বাড়তে থাকে। যদিও আমাদের দেশে স্তন ক্যান্সার অল্প বয়সী মেয়েদের মধ্যে অনেক দেখা যায়। স্তন ক্যান্সার মাসিকের সাথেও সম্পর্কিত। যদি খুব অল্প বয়সে মাসিক শুরু হয় বা ৫৫ বছরের পরে মাসিক বন্ধ হয়, তাহলে অন্যান্যদের চাইতে কিছুটা রিস্ক বেশি। কোন কারণে যদি বুকে রেডিয়েশন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়, সেটাও একটা আশংকার বিষয়। মেয়েদের কিছু বিনাইন বা সাধারণ স্তন রোগ আছে, যেগুলোতে খুব সামান্য আশংকা আছে ক্যান্সার হওয়ার।

এছাড়া জীবন যাত্রার সাথে স্তন ক্যান্সার যুক্ত। অতিরিক্ত ওজন, কায়িক শ্রম না করা বা কম করার সাথে বিশেষ ভাবে সম্পর্কিত। যাদের ওজন বেশি এবং যারা কম পরিশ্রম, কম ব্যায়াম, কম হাঁটেন তাদের সম্ভাবনা থাকে বেশি। সন্তান হীনতা বা সন্তানকে স্তন পান না করানো স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা কিছু হলেই বাড়িয়ে দেয়। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, ইনজেকশন বা অন্য কোন হরমোন যুক্ত জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বেড়ে যায়। তবে এসব পদ্ধতি ছেড়ে দেওয়ার পর সেই আশংকা কমে আসে কিছুদিনের মধ্যেই। মেনপোজের পর শরীরে নারীদের হরমোন ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেষ্ট্রেরন কমতে থাকে ফলে নারীদের লাবণ্য কমা, হাড়ের ঘনত্ব কমা, হঠাৎ করে গরম বোধ করা, ইত্যাদি নানা উপসর্গ দেখা দেয়। এর থেকে মুক্তি পেতে অনেকে হরমোন থেরাপি (এইচ আর টি) নেয়। এই থেরাপি নেওয়া স্তন ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। আরও কিছু ব্যাপার যেমন পরিবেশের রাসায়নিক এবং আণবিক দূষণ, ধূমপান সরাসরি বা পরোক্ষ ভাবে, মদ্যপান( আমাদের দেশের ক্ষেত্রে তেমন প্রযোজ্য নয়), রাত্রের শিফটের কাজ, বা খাদ্যের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে সামান্য হলেও যুক্ত এবং এসব ব্যাপারে এখনো গবেষণা চলছে।

আমাদের মত নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে, শিক্ষার হার কম, বিশেষ করে মেয়েদের। আরো নিদৃষ্ট করে বলা যায় স্বাস্থ্য শিক্ষা একেবারে নেই বললেই চলে। অনেকেই গ্রাজুয়েট বা মাস্টার্স ডিগ্রীধারী হয়েও তাদের বেসিক স্বাস্থ্য ধারণাটা নেই, শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে। একজন মেয়ে জানে না তার স্ত্রী অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নাম বা আকৃতি সঠিক করে। অথবা জানে না বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সঠিক কাজ। শিক্ষার ব্যাপারটা এলো এই কারণে যে, শিক্ষা দেয় জানার সুযোগ আর জানলেই তার বিরুদ্ধে অন্তত সতর্ক থাকা যায়।

এই আলোচনায় তাই খুব সংক্ষেপে স্তন ক্যান্সারের মৌলিক কিছু কথা আলোচোনা করলাম। এখানে জেনেটিক যে ব্যাপারটা বলা হয়েছে,সে ক্ষেত্রে একজন নারীর তেমন কিছু করার আছে এমন কিন্তু নয়। কিন্তু যদি একজন নারী জানেন তার পরিবারের নিকট রক্ত সম্বন্ধীয় আত্মীয়ের কেউ স্তন ক্যান্সারে ভুগেছেন বা ভুগছেন তাহলে তিনি নিজে সতর্ক হবেন। তাহলে তাকে ৪০ বছর বয়স হতে বা চিকিৎসকের পরার্মশ অনুযায়ী ম্যামোগ্রাম নামক এক্সরে করাতে হবে। উপরন্তু তার করনীয় হবে নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করা। যে কোন চিকিৎসকের কাছে গেলেই তিনি দেখিয়ে দিয়ে পারেন বা এখন ইউটিউবে ও কিভাবে পরীক্ষা করতে হয় সেই ভিডিও দেখে সহজ এই পরীক্ষাটা করা যায়।

এটা প্রতি মাসে একদিন নিদৃষ্ট সময়ে করতে হয় এবং নিজস্ব ডায়েরীতে নোট রেখে দিলে ভাল হয়। এগুলো করার উদ্দেশ্য হচ্ছে যদি কোন ম্যালিগনান্ট (ক্যান্সার) টিউমার স্তনে হয় এবং নিয়মিত পরীক্ষার ফলে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরে, তাহলে তা চিকিৎসার মাধ্যমে প্রায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিরাময় যোগ্য। যত প্রাথমিক অবস্থায় রোগটা ধরা পরবে তত রোগীর জন্য ভাল, মানে জীবনের ঝুঁকি ততই কম থাকবে।

একজন মেয়ের শারীরবৃত্তের কারণেই তাকে হিসাবী হতে হয়। হিসাবটা হচ্ছে, তাকে তার মাসিকের হিসাব রাখতে হয় বা উচিৎ। তার বিবাহিত জীবনের হিসাব, গর্ভধারণের কথা, যৌন মিলনের ক্ষেত্রে অসামাজস্য গুলো মনে রাখা একান্ত দরকার। জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কথা, তার শিশুকে স্তন পান করিয়েছেন কিনা ইত্যাদি হিসাব।

এটাকে আমি হিসাব বলছি এই কারণে যে এই অতি সাধারণ কথা গুলো আমাদের নারীরা কিছুদিন আগ পর্যন্ত তো একদমই ঠিকমত বলতে পারতেন না। বেশির ভাগ নারীর কাছে একেবারেই অর্থহীন ছিল। এখন চিত্র অনেকটাই ভিন্ন কিন্তু সেটাও শহর এবং শিক্ষিত সম্প্রদায় কেন্দ্রিক। নারী পাঠকদের কাছে আমার লেখা বিরক্তিকর হতে পারে, কিন্তু এ আমার চিকিৎসক জীবনের অভিজ্ঞতা। মনে হতে পারে, হায়রে পুরুষদের তো কোন ঝামেলা নেই। সৃষ্টির সেরা জীব যদি মানুষ হয় তাহলে নারী হচ্ছে শ্রেষ্টতম, কারণ মানব সন্তান জন্মদান করে নারী। সেদিক থেকে তারা অনন্যা। নিজেদেরকে হেয় না ভেবে শ্রেষ্ট মানুষ হিসাবে ভাবতে শিখতে হবে নারীদেরই। আর দাম্পত্য জীবনে পুরুষেরা অনায়াসেই এই সব হিসাবের সহযোগী হতে পারেন, বন্ধুর মত। অবিবাহিত মহিলার জীবনের ক্ষেত্রেও অন্যান্য হিসাব রাখার সাথে সাথে এই সাধারণ কথা গুলো মোটেও কঠিন কিছু নয়।

শারীরবৃত্তের এই স্বাভাবিক ব্যাপার গুলো যদি একজন নারী ঠিকমত খেয়াল রাখেন তাহলেই এর থেকে যে কোন ব্যাত্যয় বা বিচ্যুতি তার চোখে সহজেই ধরা পড়বে। তখনই স্তন ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সার (জরায়ুর মুখের ক্যান্সার) ধরা পড়া একেবারেই কঠিন থাকবে না।
এরপরে আসছে নিজের ওজন, দৈহিক পরিশ্রম তথা দৈন্দিন ব্যায়াম করা, হাঁটা ইত্যাদির মাধ্যমে নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরকে সচল রাখা একান্ত প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে ওজন এবং কম কায়িক শ্রমের সাথে স্তন ক্যান্সার খুব ভালোভাবেই যুক্ত। শুধু তাই নয় অন্যান্য অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে

আমাদের দেশের খেঁটে খাওয়া নারীদের স্তন ক্যান্সার তুলনা মূলক ভাবে কম। যদিও এ বিষয়ে কোন গবেষণা মূলক তথ্য আমি পাইনি। আমাদের দেশের নারীরা ধূমপানে আসক্ত খুব কম, কিন্তু পুরুষরা নিজেদের ধূমপান বন্ধ করে নিজেদেরকে এবং ঘরের নারীদেরকে রক্ষা করতে পারেন অনায়াসেই। তবে পানের সাথে জর্দা বা দোক্তা, গুল সমান ক্ষতিকারক।

জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার নিয়ে কোন সংশয় না রেখে, পাশে যে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য কর্মীরা আছেন তাদের পরামর্শ মত চললেই হবে। তবে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে এইচ আর টি বলে যে হরমোন থেরাপির প্রচলন সমাজের কিছু অংশের নারীদের মধ্যে আছে , সেটা সব সময় নিবিড় পর্যবেক্ষণ মাধ্যমে নিতে হয়। সব থেকে ভাল হয় ঐ থেরাপি না নিয়ে খাদ্যের মাধ্যমে শরীরের হরমোনের অভাব অনেকটাই পূরণ করে দৈহিক সতেজতা এবং অষ্টোয়ীওপরোসিস থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়। তিসি বা সয়াবিন এক্ষেত্রে কার্যকরী। পশ্চিমা দেশের নারীরা ও এখন এইচআরটি থেরাপি ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন।

শিশুকে স্তন পান করানো উচিত দেড় থেকে দুই বছর পর্যন্ত। এতে শিশু এবং মা, দুজনরেই উপকার নানা ভাবে। পরিবেশ দূষণ রোধ সম্মিলিত দায়িত্ব,নারীরাও তার অংশীদার। রোজকার খাবার একটা মুখ্য বিষয় রোগমুক্ত থাকার জন্য। সুষম খাবার বা ফল সবজী খাবারের তালিকায় বেশি থাকতেই হবে।

কারো কাছে বিষয়গুলো অতি সাধারণ মনে হতে পারে আবার কারো কাছে মনে হতে পারে ‘এ আবার এমন কি’, ‘ এইসব দিয়ে কি স্তন ক্যান্সার রোধ করা যায়’? বাস্তবিক ভাবেই এই সাধারণ ব্যাপার গুলো চর্চার মধ্যে নিয়ে এলে আসলেই স্তন ক্যান্সারের আশংকা এবং মৃত্যু ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে। পশ্চিমা দেশের নারীরা এসব চর্চার মাধ্যমেই স্তন ক্যান্সার এবং মৃত্যু ঝুঁকি কমিয়ে এনেছেন উল্লেখ্য যোগ্যভাবে। এই সব সাধারণ ব্যাপার গুলোর সম্মিলিত ফল আমাদের নারীদেরকে বহুলাংশে সুস্থ রাখতে পারে।

আরও একটা ব্যাপার প্রয়োজনীয় ব্যাপার হচ্ছে বাঙালি নারীরা লাজুক এবং নিজের প্রতি যত্নশীল একেবারেই নয়। তাদের কাছে পরিবার মুখ্য, নিজে নয়। লজ্জার কারণে স্তন বা নারী অঙ্গের কোন সমস্যা হলে তারা সহজে মুখ খুলতে চায় না। পুরুষ চিকিৎসকদের কাছে তারা স্বচ্ছন্দ নয়। এই লজ্জা এবং নিজের প্রতি অবহেলা তাদেরকে অনেক সময় মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে নিয়ে যায়। রোগটা এমন পর্যায় পৌঁছায় , তখন কিছু করার থাকে না। পরিবারের পুরুষদের দ্বায়িত্ব এক্ষেত্রে অনেক বেশি। তাদের পাশে থাকার মনোভাব একজন মা, বোন, কন্যা, স্ত্রীকে রোগমুক্ত রাখতে এবং রোগাক্রান্ত হলে সারিয়ে তুলতে পারে। পরিবারের পুরুষদের অবহেলা আমাদের নারীদেরকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়, বহুলাংশে। তাই সব ক্ষেত্রে পুরুষদের পর নির্ভরশীল না হয়ে কিছুটা নিজের স্বাস্থ্য রক্ষার সাধারণ পদ্ধতি মেনে নিজেকেই চলতে হবে। এটুকু সচেতনতা একজন নারীর না থাকেলই নয়। নারীর অঙ্গের অসুখ নিয়ে লজ্জার কিছু নেই। এই অসুখ যে কোন সময় যে কারো হতে পারে। চোখের বা পেটের অসুখ যদি লজ্জার ঘটনা না হয়, তাহলে স্তনের অসুখ কেন লজ্জার হবে!! পুরুষদের যৌনাঙ্গে বিভিন্ন অসুখ হয়। সেটা কেন লজ্জার নয়! এটা মানসিকতা। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের নারীদের নিজেদেরকেই। সাথে সাথে বেরিয়ে আসতে পরিবারের, সমাজের পুরুষদের।

উন্নত দেশে সরকারের চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে নারীদের স্তন ক্যান্সার রোধের স্ক্রিনিং বা ছেঁকে বের করবার ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশে এমন কিছু আছে বলে আমার জানা নেই। আমাদের চিকিৎসকদের দায়িত্ব অনেক। তারই সব থেকে বড় শিক্ষক। একজন নারী রোগী এলে তাদের কিভাবে স্তন ক্যান্সার ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারে তার জন্য পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় করলেই অনেক। কারণ শিশুরা যেমন শিক্ষকদের কথা মেনে চলে বেশি, তেমন যে কোন রোগী চিকিৎসকদের মুখের কথার মূল্য দেয় অনেক বেশি। চিকিৎসকদের ও রোগ প্রতিরোধের ব্যাপারে স্ব স্ব ভাবেই উদ্যোগী হলে আমাদের নারীরা উপকৃত হবে। অন্যথায় যারা সচেতন মহিলা আছেন, তারা নিজ উদ্যোগে, চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিয়ে ম্যামোগ্রাম পরীক্ষা (এক্সরে জাতীয়) করিয়ে নিতে পারেন। মনে রাখতে হবে এটা একটা সহায়ক পরীক্ষা তবে শত ভাগ সঠিক নয়। অনেকেই এই এক্সরে জাতীয় পরীক্ষায় আগ্রহী নয়, রেডিয়েশন সম্মুখীন হবেন ভেবে। উন্নত দেশগুলোতে স্ক্রিনিং পদ্ধতি হিসেবে ম্যামোগ্রামই স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বীকৃত।

সহায়ক পদ্ধতি হিসাবে মাসে একবার সব বয়সী মেয়েরা নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করে দেখা। খুব সহজ পরীক্ষা। স্নানের সময় বাথরুমে আয়নার সময় দাঁড়িয়ে করা যায় অনায়াসে। ছবি দেওয়া হলো সেলফ ব্রেস্ট এক্সামিনেশনের। ইউটিউবে খুব ভাল ভাবে দেখানো আছে। ‘সেলফ এক্সামিনেশন ব্রেষ্ট’ সার্চ দিতে হবে। শুধু মাসে একবার করতে হবে। স্বাভাবিক স্তনে লোবিউলোটেড বা নরম দলা দলা থাকে। একজন নারী নিজের স্বাভাবিক স্তন কেমন হয় বুঝতে পারবেন। সেক্ষেত্রে অস্বাভাবিক কিছু হলেও নিজের হাতেই ধরা পরতে পারে। অনেক মহিলাই পেরেছেন এভাবে আপনিও পারবেন। শুধু দরকার একটু সচেতনতা, নিজেকে একটু সময় দেওয়া আর নিজেকে একটু ভালোবাসা। মনে রাখতেই হবে পরিবার, সন্তানকে ভালবাসলে নিজেকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব প্রত্যেকটি মানুষের নিজের কর্তব্য।

পরিশেষে বলব, নারী পুরুষের মিলিত ভাবে হয় সংসার, সমাজ। “অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।” তাই পুরুষদের অসুখে নারীরা যেমন পাশে থাকে। নারীদের ক্ষেত্রেও পুরুষদের তেমনি পাশে থাকতেই হবে।
আমার এই লেখা, আমাদের দেশের প্রান্তিক নারীদের হাতে পৌঁছুবে না জানি, তাই আসুন আমরা নারীরা আমাদের আশে পাশের প্রান্তিক নারী সমাজের দিকে হাত বাড়িয়ে দেই।

এখানে আমি আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি এবং ইউ এস প্রিভেন্টিভ টাস্ক ফোর্সের (ইউ এ পি টি এফ) স্ক্রিনিং প্রোটকল বা স্তন ক্যান্সার ছাকুনি পদ্ধতি তুলে ধরলাম। কেউ মনে করলে এই মতে স্থানীয় চিকিৎসকের সহযোগিতায় নিজেদের সচেতনতার, সতর্কতার ব্যবস্থা নিজেরাই গড়ে তুলতে পারেন।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির প্রোটকলঃ কম রিস্ক গ্রুপ (যাদের পারিবারিক ইতিহাস নাই)
১। ৪০ বছর থেকে ৪৪ বছর পর্যন্ত নারীরা প্রতি বছর একবার ম্যামোগ্রাম করাতে পারেন, মনে করলে বা চিকিৎসক বললে।
২। ৪৫ বছর থেকে ৫৪ বছর পর্যন্ত নারীদের ম্যামগ্রাম প্রতিবছর করতেই হবে
৩। ৫৫ থেকে অধিক বয়স পর্যন্ত নারীদের দুবছর অন্তর অন্তর করতে হবে। যতদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো থাকে অথবা ক্ষেত্র বিশেষ ৭৫ বছর পর্যন্ত করা হয়।
হাই রিস্ক গ্রুপ ( স্তন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস আছে বা জিন পজেটিভ)ঃ এদের ক্ষেত্রে প্রতি বছর ম্যামগ্রাম সহ এম আর আই করাতে হবে।

ইউ এফ পি টি এফ –এর প্রটোকলঃ
১। কোন নারী যদি ৫০ বছর বয়সের পূর্বে স্কিনিংএর জন্য ম্যামোগ্রাম করে তাহলে অনেকটাই তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের পর নির্ভর করবে। সেক্ষেত্রে ৪০ বছর থেকে ৪৯ বছর পর্যন্ত দুই বছর অন্তর করতে পারে।
২। ৫০ থেকে ৭৫ বছর পর্যন্ত দুই বছর অন্তর করাতে হবে।
৩। হাই রিস্ক গ্রুপঃ এদের ক্ষেত্রে প্রতি বছর ম্যামগ্রাম এবং এম আর আই করাতে হবে।
এগুলো লিখলাম আমাদের নারীদের জানার জন্য। যে কেউ তার নিজের অবস্থা চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে এই ধরণের ছাঁকুনি পরীক্ষা করতে পারেন, যা কিনা আপনার আশংকা মুক্ত জীবনের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। গোলাপি গোলাপের মত বর্ণময় হোক আমাদের নারীদের জীবন।

তথ্য সুত্রঃ নিম্ন লিখিত অর্গানাইজেশনের অন লাইন ভার্সন
১। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি
২। ইউ কে ক্যান্সার সোসাইটি
৩। ব্রেষ্ট ক্যান্সার ফাউন্ডেশন
৪। ক্যান্সার ডট নেট
৫। ডাবলু এইচ ও
৬। সি ডি সি আটলান্টা
৭। ওরিয়েন্টাল ফার্মেসি এন্ড এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিন




ঠান্ডা ও হাঁপানি সমস্যায় সাবধানতা

হাঁপানি রোগীদের জন্য শীতল আবহাওয়া, সর্দি-কাশি-ফ্লু বা ঠান্ডাজ্বর প্রচণ্ড কষ্ট আর বিপদের কারণ হতে পারে। প্রতি বছর শীতে শিশুদের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ এবং বড়দের ৪০ শতাংশ হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের তীব্রতা বেড়ে যায়। এর প্রধান কারণগুলো হলো: এই সময়ে ঠান্ডা, জ্বর বা ফ্লুর প্রকোপ, ঠান্ডা-শুষ্ক বাতাস যা শ্বাসতন্ত্র সংকুচিত করে, শীতে বেড়ে যাওয়া ধুলাবালু ও ধোঁয়ার পরিমাণ, কুয়াশা ও বদ্ধ গুমোট পরিবেশ ইত্যাদি। এসবই শ্বাসতন্ত্রের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়, ফলে হাঁপানি রোগীর কষ্ট বাড়ে।

শীতে ঠান্ডা ও হাঁপানির সমস্যায় অনেকে ভোগেন। শীতে ঠান্ডা ও হাঁপানি থেকে রক্ষা পেতে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

-ঠান্ডা খাবার ও পানীয় পরিহার করুন।

-কুসুম কুসুম গরম পানি পান করুন। হালকা গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করতে পারেন।

-প্রয়োজনমতো কাপড় পরুন। তীব্র শীতের সময় কান ঢাকুন, টুপি পরুন এবং গলায় মাফলার ব্যবহার করুন।

-ধুলাবালি এড়িয়ে চলুন।

-ধূমপান পরিহার করুন।

-ঘরের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ না রেখে মুক্ত ও নির্মল বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।

-হাঁপানি রোগীরা শীত শুরুর আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ইনহেলার ও অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।

-যাঁদের অনেক দিনের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা আছে, তাঁদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিমোকক্কাস নিমোনিয়ার টিকা দেওয়া উচিত।

-তাজা পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এগুলো দেহকে সতেজ রাখবে এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে।

-হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। বিশেষ করে চোখ ও নাক মোছার পরপর হাত ধোন।

 

[সংগ্রহীত]




ডায়েট কি চুল পড়ে?

ডায়েট করলে চুল পড়ে কি না, এ ব্যাপারে কমবেশি শঙ্কা দেখা যায়। অভিযোগও শোনা যায়। ওজন কমানোর মূল উদ্দেশ্য যখন সুস্থ থাকা, তখন এই সুস্থ থাকার জন্য সৌন্দর্য হারানো পোষাবে না একদমই। ডায়েট করলে চুল পড়ে কি না, এ নিয়ে প্রচলিত আছে নানা ধরনের কথাও।

ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলেন, ‘ওজন কমাতে ডায়েট আর ব্যায়ামের কোনো তুলনা নেই। উচ্চতা, ওজন আর খাবার খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে ওজন বাড়া বা কমা নির্ভর করে অনেকটাই। সমস্যা হচ্ছে, ওজন কমানোর জন্য অনেক সময় মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট আছে এমন খাবার বাদ দেওয়া হয়, যা একেবারেই করা যাবে না। মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট মানে হচ্ছে পর্যাপ্ত ভিটামিন আর মিনারেলযুক্ত খাবার। প্রতিদিন যতটা মিনারেল আর ভিটামিন প্রয়োজন, তা না খেলে চুল পড়ে যাবে।’

চুল ঠিক রাখতে ভিটামিন ই যুক্ত খাবার খেতে হবে। তিন বেলা খাবারে অন্তত শাকসবজি, সালাদ থাকা খুবই জরুরি। তাহলে ওজন কমবে আবার সৌন্দর্য নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না।

ভিটামিন ই যুক্ত খাবার যেমন স্নেহজাতীয় খাবার, বিভিন্ন ধরনের বিন, বাদাম ইত্যাদি শুধু চুল মজবুত করবে তা-ই নয়, শরীরে ভিটামিনের চাহিদাও পূরণ করবে। ভিটামিন সি ওজন কমাতে সহায়তা করে। ওজন কমানোর জন্য পানির বিকল্প নেই। পর্যাপ্ত পানি পান করলে একদিকে যেমন পানির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে পানির অভাবে চেহারায় যে ফ্যাকাশে ভাব ফুটে ওঠে, তা-ও হবে না। সব থেকে বড় কথা, ওজন কমানোর জন্য না বুঝে তাড়াহুড়া করলে বা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান বাদ দিলে তা সব সময়ই উল্টো ফল আনতে পারে।

[সংগ্রহীত ]




ভিটামিন ডি অভাবের লক্ষণ ও প্রতিকার

বহু মানুষ ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে ভুগছে। একাধিক গবেষণা অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষের এ সমস্যা আছে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ভিটামিন ‘ডি’র উৎস। সূর্য যখন প্রখর থাকে, তখনই অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে পৌঁছায়। কাচ, ঘন মেঘ, কাপড়চোপড়, ধোঁয়া ও সানস্ক্রিন এই রশ্মিকে বাধা দেয়। তাই দু-একবার বাইরে বেরোলেই আপনার শরীর ভিটামিন ‘ডি’ পাবে না।ভিটামিন ডি-এর অভাবের লক্ষণ খুব সহজে প্রকাশ পায় না। কিন্তু এর অভাবে সহজেই আপনার হাড় ফ্র্যাকচার হতে পারে। বাচ্চাদের রিকেটস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে দেখা দিতে পারে অস্টিওম্যালাশিয়া।ভিটামিন-ডি একটি ফ্যাট সলিউবল সিকুস্টারয়েড। এর কাজ হচ্ছে দেহের অন্ত্র (ইনটেসটাইন) থেকে ক্যালসিয়ামকে শোষণ করা; এটি আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফসফরাসকেও দ্রবীভূত করে। ভিটামিন-ডি নিয়ে আগে এত কথা না হলে বর্তমানে এ বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। পুষ্টিবিদরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন-ডি জাতীয় খাবার রাখার পক্ষে জোর দিচ্ছেন।

১) ক্লান্তি- যথেষ্ট ঘুমানোর পরেও আপনি ক্লান্ত সব সময়? ভিটামিন ডি এর অভাব এটা ঘটাতে পারে। .

২) বিষণ্ণতা- মস্তিষ্কে বেশকিছু ভিটামিন ডি রিসেপ্টর থাকে। বিষণ্ণতার সাথে সম্পর্কিত এলাকাতেও থাকে এগুলো। রক্তে কম পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকার সাথে বিষণ্ণতার যোগসূত্র আছে । .

৩) কপাল ঘামে- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কোনো রকম ভারি কাজ না করার পরেও যদি কারও কপাল ঘেমে চকচক করতে থাকে তাহলে তার আরও ভিটামিন ডি দরকার। .

৪) হাড়ে ব্যথা- প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ভিটামিন ডি এর অভাব থাকলে হাড় এবং পেশিতে ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে সকালে গিঁটে গিঁটে ব্যথা ও আড়ষ্টতা থাকতে পারে। এসব হাড় সহজে বাঁকা হয়ে যাওয়া ও চির ধরার সম্ভাবনা থাকে। .

৫) ইরেক্টাইল ডিসফাংশন- এটা পুরুষের যৌনজীবনের একটি সমস্যা। যাদের প্রায়ই এই সমস্যাটা দেখা যায়, তাদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি এর অভাবও দেখা যায় প্রায়ই। .

৬) হাড়ে ফ্র্যাকচার- ভিটামিন ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। অনেকেই হাড় শক্ত করার জন্য ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন। কিন্তু যথেষ্ট ভিটামিন ডি শরীরে না থাকলে এই ক্যালসিয়াম খুব একটা কাজে আসে না। ফলে হাড় হয়ে ওঠে নরম এবং ভঙ্গুর। .

৭) রোগ প্রতিরোধে অক্ষমতা- ভিটামিন ডি এর অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে আশেপাশে কেউ ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হলে আপনিও তার শিকার হয়ে পড়েন সহজেই। এতে এসব রোগ থেকে সেরে উঠতেও দেরি হয়। .

৮) উচ্চ রক্তচাপ- উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারন ভিটামিন ডি এর অভাব। . এছাড়াও আরও যেসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলো– – সোরিয়াসিস – দাঁতের ভঙ্গুরতা – ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি – হাইপারটেনশন অথবা কোনো কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ – শ্বসনতন্ত্রের অসুস্থতা – কিডনিতে সমস্যা – ইনসমনিয়া (ঘুমের ব্যাঘাত) – ঘন ঘন ইনফেকশন।

মাছ

বিভিন্ন মাছে রয়েছে ভিটামিন-ডি। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত মাছ, যেমন : স্যালমন, সারদিনস, টুনা, ম্যাককেরেল ইত্যাদি। দৈনিক ভিটামিন-ডি’র চাহিদার ৫০ শতাংশ পূরণ হতে পারে একটি টুনা মাছের স্যান্ডউইচ বা তিন আউন্স ওজনের একটি স্যালমান মাছের টুকরো থেকে।

মাশরুম

মাশরুমে রয়েছে ভিটামিন-ডি। পরটোবেললো মাশরুম সূর্যের আলোয় বড় হয়, এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-ডি। তাই চাহিদা পূরণে নিয়মিত মাশরুম খেতে পারেন।

সুরক্ষিত কমলার জুস

বাজারে কিছু ভালো ব্র্যান্ড রয়েছে, যারা কমলার জুস তৈরিতে ভিটামিন-ডি যোগ করে। অন্যান্য জুসের মধ্যে এটি দেওয়া হলেও কমলার জুস ভিটামিনের উপাদান ধরে রাখতে পারে। তাই ভিটামিন-ডি’র জন্য ভালো ব্র্যান্ডের জুসও খাওয়া যেতে পারে। তবে খাওয়ার আগে প্যাকেটের গায়ে দেখে নিন, কী কী উপাদান দিয়ে তৈরি হয়েছে এটি।

ডিম

ডিমে হালকা পরিমাণ ভিটামিন-ডি রয়েছে। তবে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, তাঁদের ডিমের কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জাতীয় খাবার

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জাতীয় খাবারে ভিটামিন-ডি রয়েছে, যেমন : গরুর মাংসের লিভারে ভিটামিন-ডি আছে। তবে এটা রান্না করে খাওয়ার চেয়ে অনেকেই হয়তো দুধ থেকে ভিটামিন-ডি খেতে বেশি পছন্দ করবেন।

[সংগ্রহীত ]




দাঁতের ব্যথা চটজলদি নিরাময়ের উপায়

দাঁত ব্যথা একটি প্রচলিত সমস্যা। এতে দাঁত ও চোয়াল উভয় অংশেই ব্যথা করে। দাঁতের ক্ষয়, সংক্রমণ, মাড়ির রোগ, জয়েন্টে সমস্যা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে দাঁত ব্যথা হয়। দাঁত ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পাশাপাশি ব্যথা কমাতে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চলতে পারেন।

১)লবণ পানিতে কুলকুচি করুন-
দাঁতের ব্যাথায় দারুণ কাজ করে লবণ পানি। এমনকি ডাক্তা্ররাও এটি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন প্রায়ই। এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ গুলে নিন। মুখের ভেতরে পানি নিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন, কুলিকুচি করে ফেলে দিন। এভাবে করতে থাকুন পরপর কয়েকবার ।

২) লবঙ্গ

– যে দাঁতটা ব্যথা করছে, তার ওপরে বা পাশে (যেখানে ব্যাথা) একটা লবঙ্গ রেখে দিন। মাড়ি আর দাঁতের মাঝে বা দুই চোয়ালের মাঝে এই লবঙ্গ চেপে রাখতে পারেন যতক্ষণ না ব্যথা চলে যায়। লবঙ্গের তেল ব্যবহার করতে পারেন তবে দুই-এক ফোঁটার বেশি নয়। লবঙ্গ গুঁড়োর সাথে পানি বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করেও লাগাতে পারেন।

৩) মরিচ

– হ্যাঁ মরিচ। শুকনো মরিচের গুঁড়ো দিয়ে পেস্ট তৈরি করে দাঁতের ওপরে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে মরিচের ভেতরে থাকা উপাদান আপনার দাঁতের ওই ব্যাথাকে অবশ করে দেবে। গোলমরিচের গুঁড়োও ব্যবহার করতে পারেন।

৪)বেকিং সোডা
এক টুকরো তুলা একটু পানিতে ভিজিয়ে সোডা লাগিয়ে নিন এবং দাঁতে মাড়িতে ঘষে ঘষে লাগান। এক চা চামচ বেকিং সোডা হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে ঘরেই তৈরি করতে পারেন কেমিক্যাল বিহীন মাউথওয়াশ। এছাড়া এক চামচ বেকিং সোডা এক গ্লাস গরম পানিতে গুলিয়ে সেটা দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন।

মনে রাখবেনঃ

আপনার দাঁত ব্যথা করছে তার মানে নিশ্চয়ই দাঁতের ভেতরে কোনো সমস্যা আছে এবং অবশ্যই ডেন্টিস্টের সাহায্য ছাড়া সে সমস্যার থেকে মুক্ত হওয়া যাবে না। ঘরোয়া এই প্রতিকারগুলো আপনাকে কিছুটা সময়ের জন্য ব্যথা থেকে মুক্তি দিচ্ছে বলেই ডাক্তার দেখানোর কথাটা ভুলে যাবেন না যেন। বিশেষ করে যদি মাড়ি ফুলে যায় তবে বুঝতে হবে ইনফেকশন হয়ে গেছে এবং অতি সত্তর ডেন্টিস্টের সাথে দেখা করুন।




মিথ্যায় ভরা কীর্তির দাবী

আবিষ্কারের মিথ্যা দাবী বাংলাদেশী দুই চিকিৎসকেরঃ বানিজ্যিক লালসা নাকি বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা এই নামে আমি ১৩ই সেপ্টেম্বর একটা ব্লগ লিখি। উৎসাহী পাঠক লেখাটি লিংকে ক্লিক করে পাঠ করতে পারেন। সেখানে তুলে ধরা হয়েছিল ন্যাসভ্যাক নামে হেপাটাইটিস বি চিকিৎসার একটি ওষুধ বাংলাদেশী দুই চিকিৎসক উদ্ভাবনের যে দাবী করেছেন, তা অসত্য। এই অসত্য দাবী বাঙলা ট্রিবিউন ও যুগান্তর দেশী চিকিৎসকদের বড় সাফল্য হিসেবে ছাপিয়েছে।

এর জবাবে  ন্যাসভ্যাক নামা শিরোনামে ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) ১৬ই সেপ্টেম্বর ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবর্তন ডট কমে আরেকটি লেখা লেখেন।

সেখানে তিনি অজানা শত্রুদের নামে বিষোদ্গার করার পাশাপাশি নিজের আরো কিছু ক্রেডেনশিয়াল দিয়েছেন। আমি একজন সামান্য ব্লগার। নিজে চিকিৎসকও নই, বেশ কিছুদিন থেকে স্বাস্থ্য নিয়ে লেখালেখি করি; তাই আমি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে চিনতামও না। এবার জানলাম তার নিজের বয়ানেই।

তিনি লিখেছেন,

“ব্যক্তিগত ভাবে একটি আদর্শে বিশ্বাস করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাকে পিছপা হতে শেখায় না।”

তিনি লেখায় অজানা কাউকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন,

“দেশের ওষুধ প্রশাসনকে এমন সাহসী পদক্ষেপের জন্য অভিনন্দন না জানিয়ে এসব দেশ বিরোধীরা বরং আমাদের ওষুধ প্রশাসনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। অর্বাচীনরা জানে না যে এটা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রশাসন।”

আমি আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে বুঝি, প্রশাসন রাষ্ট্রের, সরকার প্রধানের নয়। তিনি রাষ্ট্র আর সরকারের মধ্যের তফাৎটা হয়তো বুঝতে পারেন নি। তবে আপনাকে চিনতে না পারার জন্য, গোস্তাফি মাফ করবেন জনাব। তবে আপনার ওষুধ উদ্ভাবনের ভেজাল দাবীর সাথে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, শেখ হাসিনা, দেশ বিরোধিতা এসব কীভাবে যুক্ত?

আপনি আপনার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার সাথে এই নামগুলো জড়াচ্ছেন কেন?

আপনার দাবীর বৈজ্ঞানিক দুর্বলতা কি আপনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর শেখ হাসিনাকে টেনে পূরণ করতে পারবেন?

যাই হোক এবারে আমি তার লেখায় আসি। আমি বলেছিলাম, এই ওষুধটি বাংলাদেশী চিকিৎসকের উদ্ভাবন নয় এটা কিউবান সেন্টার ফর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজির উদ্ভাবন। এখন তিনি এটা স্বীকার করেছেন,  জবাবে  তিনি লিখেছেন,

“ন্যাসভ্যাক হচ্ছে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের দুটি এন্টিজেনের একটি কম্বিনেশন। এই এন্টিজেন দুটি হলো HBsAg এবং HBcAg । ৯০’র দশকের শেষের দিকে কিউবার সরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি এই এন্টিজেন দুটি সিনথেসিস করে।”

আমি যা ১৩ সেপ্টেম্বর  লিখেছি তিনি নিজেই সেটা স্বীকার করলেন। তবে এবার তিনি আবার একটু ভাষার মারপ্যাচ কষলেন। তিনি লিখলেন যে, তারা দুই ডাক্তার ওষুধটি উদ্ভাবন না করলেও এটা একটা ডিসকোভারি। ধুম্রজাল সৃষ্টি করার জন্য আপনি লিখেছেন,

“ক্যামব্রিজ ডিকশনারিতে Discovery শব্দটির অর্থ লেখা হয়েছে, It is the process of finding information, a place or and object, especially for the first time, or the thing that is found সেই অর্থে HBsAg এবং HBcAg এন্টিজেন দুটির কম্বিনেশন অর্থাৎ ন্যাসভ্যাককে সাধারণ একটি মলিকিউল থেকে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত অসুস্থ মানুষের জন্য কার্যকর একটি ওষুধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা নিঃসন্দেহে একটি ‘Discovery’ Ges GB Discovery এর কৃতিত্ব শুধুমাত্র আমার ও ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবরের।”

আমি এই মহাউদ্ভাবক চিকিৎসক সাহেবের আর্গুমেন্ট দেখে হতাশ। কলম্বাস আমেরিকা ডিসকভার করেছিল, কারণ আমেরিকা পৃথিবীতে অনন্তকাল থেকে থাকলেও পশ্চিমা জগতের কাছে আমেরিকা অজানা ছিল। কলম্বাস এই আমেরিকাকে এভাবেই খুঁজে পেয়েছেন, মানে ডিসকভার করেছেন। এখানে হেপাটাইটিস -বি প্রতিশেধক ওষুধটি কিউবান বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার বা ডিসকভার করেছেন। আপনারা সে তথ্যটি জেনে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বা যোগাযোগ স্থাপন করে পরবর্তী উন্নয়নের কাজ করেছেন মাত্র। তার চেয়ে বেশি কিছুই নয়।

আর ইনভেনশন হচ্ছে এমন মৌলিক কিছু আবিষ্কার করা যা পৃথিবীতে আগে কখনো ছিলোনা, যেমন এরোপ্লেন, কম্পিউটার। আপনি যে এটা নিজেদের , ইনভেশন বা উদ্ভাবন দাবী করেছিলেন। আমার আপত্তিটা সেই জায়গায়। আপনি আবার দেখুন কী লেখা হয়েছিল সেই পত্রিকায়।

১৬ই এপ্রিল ২০১৬ বাঙলা ট্রিবিউন “হেপাটাইটিস বি-এর চিকিৎসায় দুই বাংলাদেশি চিকিৎসকের সাফল্য” শিরোনামে একটি সংবাদ ছাপে। সেখানে বলা হয়,

“হেপাটাইটিস বি-এর চিকিৎসায় ‘ন্যাসভ্যাক’ নামে নতুন ওষুধের সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশি দুই চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) ও ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর। এরই মধ্যে কিউবাতে শুরু হয়েছে তাদের উদ্ভাবিত নতুন এই ওষুধ।”

ইংরেজি ব্লগেও লেখা হয়েছে;

“NASVAC” (Novel Nasal Vaccine for Hepatitis B or NASVAC). The first New Drug Molecule invented by Bangladeshi doctors”

তাহলে আপনিই বলুন এই অধম ব্লগ লেখকের দোষ কোথায়? আপনি কি আগে কখনো উদ্ভাবন আর ইনোভেশনের দাবীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় প্রতিবাদ বা সংশোধনী পাঠিয়েছিলেন? পত্রিকাগুলো যখন খবর ছেপে আপনাদেরকে মহান বিজ্ঞানী বলে প্রচার করেছিল তখন চুপ করে বসেছিলেন কেন?

আপনার কোন অংশটুকু ডিসকভারি সেটাও আপনি বলেছেন। আপনি লিখেছেন,

“আর ২০১৫-তে এসে বাংলাদেশে বসে আমি আর ডা. আকবর, এই দুই বাঙ্গালি প্রমাণ করি যে ন্যাসভ্যাক হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আক্রান্ত ট্রিটমেন্ট নাইভ রোগিদের জন্য খুবই কার্যকর ও নিরাপদ একটি ওষুধ। শুধু তাই-ই না, ন্যাসভ্যাকের কার্যকর ডোজ, ডিউরেশন এবং রুট অব এডমিনিস্ট্রেশন এসব কিছুই আমাদেরই নির্ধারণ করা।”

তার মানে আপনি এটাই বলতে চাইছেন,

“কার্যকর ডোজ, ডিউরেশন এবং রুট অব এডমিনিস্ট্রেশন”

এটাই আপনার আবিষ্কার বা ডিসকভারি। এই ওষুধ নিয়ে হওয়া সব ট্রায়ালের একটা সিনোপ্সিস কিউবান কোম্পানী প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে হওয়া স্টাডিতে আপনি ডোজের সামান্য মডিফিকেশন করেছেন। এই লিংকে গেলে ১১ নম্বর পৃষ্ঠায় এই ডকুমেন্ট পাওয়া যাবে।

আপনার এই ডোজের মডিফিকেশনের জন্য অভিনন্দন। কিন্তু ড্রাগ ডেভেলপমেন্টের এটা খুব প্রচলিত নিয়ম যে ,ফেইজ থ্রিতে ঠিক কোন ডোজ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে সেটা ফেইজ ওয়ান বা আর্লি ফেইজ টুতে নির্ধারণ করা হয়। এই ফেইজ ওয়ান আর আর্লি ফেইজ টু স্টাডি আপনারা করেন নি। এটা করেছে কিউবান ডাক্তারেরা। সেই স্টাডি গুলোর উপরে ভিত্তি করেই আপনি বাংলাদেশের স্টাডির ডোজ নির্ধারন করেছিলেন। এটাই করা হয় সব ফেইজ থ্রি স্টাডিতে।

আপনি লিখেছেন,

“৯০’র দশকের শেষের দিকে কিউবার সরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি এই এন্টিজেন দুটি সিনথেসিস করে। তবে এর আগে পরে পৃথিবীর নানা দেশে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও এই এন্টিজেন দুটি সিনথেসিস করেছিল। প্রথম দিকে এই এন্টিজেন দুটি মূলত গবেষণাগারে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণায় ব্যবহার করা হতো। তবে কখনই পৃথিবীর কোথায় কোনো বিজ্ঞানী বা চিকিৎসক এই কম্বিনেশনটি হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আক্রান্ত রোগিদের দেহে প্রয়োগ করেননি।”

আপনি দাবী করছেন ২০১০ সালেই আপনার হাতে এই ওষুধ যাত্রা শুরু করে।  ডাক্তার সাহেব আপনার সাথে স্টাডিতে আর কি কেউ ছিলনা? Julio Cesar Aguilar, Yoichi Hiasa, Shunji Mishiro উনারা কারা?

আপনি তো কিউবান কোম্পানির হয়ে ট্রায়ালটা করেছেন। কিউবান কোম্পানি আপনাকে ইনভেস্টিগেটর হিসেবে হায়ার করেছে। আপনার এখানে আরেক বাংলাদেশী ডাক্তারের  নাম দেখা যায় Rahman.S তাঁকেও তো আপনি ক্রেডিট দিতে চান নাই; কোথাও তাঁর নাম আপনি উচ্চারণ করেননি? কেন করেন নাই ?

আর ডাক্তার সাহেব, বিনয়ের সাথেই বলি আপনার এই দাবীও সত্য নয় যে আপনিই প্রথম হেপাটাইটিস আক্রান্ত রোগীদের উপরে এই ওষুধ প্রয়োগ করেছেন। কিউবাতে প্রথম ছয়জন রোগীর উপরে এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। স্টাডির টাইটেল ছিলো Open-label Phase I/II CHB patients refractory or intolerant to IFN-a এই স্টাডিটা পাব্লিসড হয়নি। কিন্তু এই স্টাডির রেফারেন্স আছে এই আর্টিকেলে। সবাই দেখতে পারবেন এখানে চতুর্থ পৃষ্ঠায়।

আপনি আমার লেখাকে মিথ্যার বেসাতি বলে উল্লেখ করে বলেছেন,

“মিথ্যার বেসাতি করতে যেয়ে বলা হয়েছে কিউবানরা নাকি এহিমি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ লিভার ফাউন্ডেশন ও লিভার রিসার্চ সেন্টার, ফ্রান্সের পাস্তুর ইনস্টিটিউট, ভেনিজুয়েলার ইনস্টিটিউট অব সাইন্টিফিক রিসার্চ এবং জার্মানির হেনোভার ইনস্টিটিউটের সাথে যৌথ গবেষণায় ন্যাসভ্যাক Discover করেছে। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, লিটারেচার ঘেঁটে কেউ এ সম্বন্ধে একটি বৈজ্ঞানিক পাবলিকেশনও দেখাতে পারবেন না।”

ডাক্তার সাহেব, আমি এই কথা লিখিনি। আমি লিখেছি,

“গ্রেনমাই জানাচ্ছে, এই ওষুধ আবিস্কারের জন্য যে সমস্ত কিউবানরা যুক্ত ছিলো তাঁরা কিউবান সরকারের একাডেমী অব সাইন্সের বার্ষিক পুরস্কার পেয়েছে। তাঁরা আরো জানাচ্ছে, এই ওষুধ নিয়ে তাঁরা দ্রুতই ফেইজ থ্রি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করতে যাচ্ছে। সেখানেই যা লেখা আছে  তা হচ্ছে সেন্টার ফর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি, জাপানের University of Ehim, বাংলাদেশের লিভার ফাউন্ডেশন ও লিভার রিসার্চ সোসাইটি, ফ্রান্সের পাস্তুর ইন্সটিটিউট, ভেনেজুয়েলান ইন্সটিটিউট অব সাইন্টিফিক রিসার্চ, জার্মানির হ্যানোভার ইউনিভার্সিটির সাথে কোলাবোরেশনে এই ভ্যক্সিনের উপরে ২০ টির অধিক রিসার্চ পেপার প্রকাশ করেছে।”

আপনি কি বুঝতে পারেন বা জানেন, বিশ্বব্যাপী গ্রেনমা নামাক পত্রিকার বিশ্বস্ততা বাংলাদেশের সবগুলো সংবাদপত্রের যৌথ বিশ্বস্ততার চেয়ে বেশী।

আমি ভেবেছিলাম একটা একাডেমিক ডিবেট হবে। কিন্তু আমি দেখে হতাশ; আপনার লেখা একজন চিকিৎসক বা গবেষকের লেখা নয়, বরং পলিটিক্যাল এক্টিভিস্টের লেখা বলেই মনে হবে। সেই জোরেই যে আপনারা বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধাপ্পা দিয়ে ন্যাসভ্যাক রেজিস্ট্রি করে আওয়ামী লীগ নেতা এবাদুল করিম সাহেবের বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস কে দিয়ে বাজারজাত করতে চাইছেন তা এখন তথ্য অনুসন্ধানী মহলের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

আমি কিঞ্চিৎ হতাশ। তবে এই ব্লগের সুবাদে আমার প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়েছে। আপনার অছিলায় এই পড়াশোনা হল আপনাকে ধন্যবাদ।

তবে ন্যাসভাকের ডোজ শিডিউলে আপনার স্লাইট মডিফিকেশনের জন্য আপনাকে অভিনন্দন।

বাংলাদেশ সরকারও অভিনন্দন পেতে পারে, যদি তারা জীবন রক্ষাকারী এই অতি প্রয়োজনীয় ওষুধটি কিউবার সরকারের সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সরকারী হাসপাতালে সহজলভ্য করে দেয়। দেখা যাক বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্য প্রশাসন, ওষুধ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত  গ্রহন করে। তারা বৃহত্তর জনস্বার্থে কাজ করবে, না অর্থ লোভী  চিকিৎসক ও মুনাফা ভোগী কোম্পানির পক্ষে সিদ্ধান্ত নেবে।

চলবে……।




‘বিষাক্ত প্রসাধনীতে ভরা বাংলাদেশের বাজার’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে দেশে যে পরিমাণ কসমেটিকস অর্থাৎ স্নো,ক্রিম, শ্যাম্পু, সাবান, লোশন, আফটার-শেভ লোশন, পারফিউম এসব চাহিদা রয়েছে তার ১৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে দেশিয় কোম্পানির উৎপাদনে।আর ১৫ শতাংশ -আমদানি করা বিদেশি পণ্য। বাকি ৭০ শতাংশ কসমেটিকস নকল ও ক্ষতিকারক উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে ।গবেষণায় বলছে পুরান ঢাকার চকবাজার, জিঞ্জিরা, ইসলামপুর এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা শহরে এই ভেজাল কসমেটিকস তৈরির কারখানা গুলো গড়ে উঠেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ বলছেন ভেজাল করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সুগন্ধিটি ছাড়া বাকিটা ক্ষতিকারক উপাদানে তৈরি হয়। তিনি বলছিলেন “যে পরিমাণ ফরমালডিহাইড থাকলে ক্ষতি হবে না, সেটা অনেক বেশি পরিমাণে হচ্ছে, প্রিজারভেটিভ এবং এন্টি অক্সিডেন্ট ব্যবহারের মাত্রা থাকে ভেরি ভেরি হাই। এর প্রথম উপসর্গ হবে রোগীর এলার্জি দেখা দেবে।

প্রতিদিন নানা ধরনের কসমেটিকস বাজারে আসছে, সাধারণ ভোক্তারা এইসব প্রসাধনীর চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে অথবা অনেক সময় বাজারে যেয়ে এর গুনাগুণ শুনে দাম দিয়ে কেনেন এবং ব্যবহার করেন।

তবে বিজ্ঞাপনের তাক লাগানো এসব পণ্যের ভিতরের উপাদান কতটা ক্ষতি করতে পারে? বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম বিভাগের অধ্যাপক লে,কর্নেল(অব) আব্দুল ওয়াহাব বলছিলেন “আমরা যেসব রোগী প্রতিদিন পায় তাদের মুখে কালো দাগ, র‍্যাশ, গোটা, লালা হয়ে যাওয়া, এলার্জি, অত্যধিক ঘাম ঝরে।

তিনি বলছিলেন “রোগীর কাছে যখন জানতে চাই কি ব্যবহার করে,তখন তারা কিছু ক্রিম, লোশনের কথা বলে যেগুলোতে আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান থাকে।তবে রোগীদের পক্ষে জানা সম্ভব না তারা কি ব্যবহার করছে।

এই উপাদানগুলোর ইমিডিয়েট এলার্জিক রিয়্যাকশনে রোগী মারা যেতে পারেন। এমন রোগী আমরা পেয়েছি। এছাড়া দীর্ঘদিন এসব ব্যবহারে ত্বক সহ কিডনি এবং শরীরে অন্য অংশে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে”।অনেক সময় হয়তো ব্রান্ডের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সহজে ফর্সা হওয়ার জন্য কোন প্রসাধনীই আসলে ব্যবহার করা ঠিক না, কারণ সেটি ত্বক এবং শরীরের ক্ষতি করে। বিশেষ করে কমদানি কোন প্রসাধনী ব্যবহার করা একেবারেই ঠিক না। বরং ঘরে নানা ধরণের প্রসাধনী তৈরি করে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশের যেসব প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর বেশিরভাগেই ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান রয়েছে যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশর জন্য ক্ষতিকর বলে জানিয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থা।

এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশের নামীদামী ৩৩টি প্রসাধনী পণ্য পরীক্ষা করে সবগুলোয় ক্ষতিকর উপাদানের অস্তিত্ব পেয়েছে। হেয়ার জেল, বেবি লোশন, বিউটি ক্রিম, সহ বিভিন্ন প্রসাধনীতে আর্সেনিক সহ বিভিন্ন রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এমনকি এ শিশুদের জন্য ব্যবহৃত হয়, এমন প্রসাধনীতেও বিষাক্ত উপাদানের অস্তিত্ব রয়েছে বলে তারা সংস্থাটি জানিয়েছে।




এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন সচেতনতা।

ঘটনা এক :

– ডাক্তার, আমার ছেলের কী হয়েছে?
– জ্বর হয়েছে।
– হে আল্লাহ এ কী অসুখ দিলা আমার ছেলেরে? কী পাপ করছিলাম আমি? আমার এখন কী হবে?
– যা হবার হয়ে গেছে। ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে যান। যা খেতে চায় খাওয়ান। চেষ্টা করুন শেষক’টা দিন যাতে ভালো কাটে তার।

ঘটনা দুই :

– আমার কী হয়েছে ডক্টর?
– আপনার হাতে ফোঁড়া হয়েছে।
– হোয়াট? আর ইউ শিউর?
– ইয়েস।
– সিংগাপুর নাকি মাদ্রাজ, কোথায় ট্রিটমেন্ট নেবো এখন?
– আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি। কোথাও আপনার রোগের ট্রিটমেন্ট আর পসিবল না। আল্লাহকে ডাকুন।

জানি, কিছুটা অবিশ্বাস্য শোনাচ্ছে উপরের ঘটনাগুলো। কিন্তু আমরা সকলেই মনে হয় খুব দ্রুত এরকম ঘটনার চরিত্র হতে যাচ্ছি। সামান্য সর্দি কাশি হবে, হাত পা কাটবে, আমাদের জ্বর উঠবে তারপর আমরা টুপ করে মরে যাবো। কোনো এন্টিবায়োটিকই আর কাজ করবেনা।

এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেছিলেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। ফ্লেমিং বলেছিলেন, ‘এই এন্টিবায়োটিকের কারণে আজ কোটি কোটি লোক বেঁচে যাবে। অনেক বছর পর এগুলো আর কাজ করবেনা। তুচ্ছ কারণে কোটি কোটি লোক মারা যাবে আবার।’

বাড়িতে এসেছি গতকাল। আজ এক আত্মিয়ের ‘কালচার এন্ড সেনসিটিভিটি’ রিপোর্ট দেখে বুঝলাম, কোটি কোটি লোক মরে যাবার সময় বোধ হয় এসে গেছে। মাত্র কয়েকটা ছাড়া আর কোনো এন্টিবায়োটিকই ঐ আত্মিয়ের শরীরে কাজ করেনা!
কী ভয়ংকর একটা ব্যাপার!

আত্মীয়কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এর আগে ওষুধ টষুধ খেয়েছিলেন?’
বললেন, ‘ফার্মেসি থেকে প্রায়ই এনে খাই।’

এই ‘ফার্মেসি থেকে এনে খাওয়াটা’ই হলো সর্বনাশের মূল।
এন্টিবায়োটিক খাওয়ার কিছু নিয়ম আছে। একটা নির্দিষ্ট ডোজে, একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত এন্টিবায়োটিক খেতে হয়। না খেলে যেটা হতে পারে সেটাকে বলা হয় ‘এন্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স’।

নিজেও বুঝি কম। যেটুকু বুঝি, সহজ করে বলার চেষ্টা করি।

ধরি, আমার দেহে এক লক্ষ রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া আছে। এগুলোকে মারার জন্য আমার ১০টা এম্পিসিলিন খাওয়া দরকার। এম্পিসিলিন এক প্রকার এন্টিবায়োটিক। খেলাম আমি ৭ টা। ব্যাকটেরিয়া মরলো ৭০ হাজার এবং আমি সুস্থ্য হয়ে গেলাম।
৩০ হাজার ব্যাকটেরিয়া কিন্তু রয়েই গেলো। এগুলো শরীরে ঘাপটি মেরে বসে জটিল এক কান্ড করলো নিজেরা নিজেরা।
তারা ভাবলো, যেহেতু এম্পিসিলিন দিয়ে আমাদের ৭০ হাজার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে অতএব আমাদেরকে এম্পিসিলিন প্রুফ জ্যাকেট পরতে হবে এবার। প্ল্যান করে থেমে থাকেনা এরা, বরং সত্যি সত্যি জ্যাকেট তৈরি করে ফেলে এই ব্যাকটেরিয়াগুলো। এরা বাচ্চাকাচ্চাও পয়দা করে একই সময়ে। বাচ্চাদেরকেও সেই জ্যাকেট পরিয়ে দেয়।
এর ফলে যেটা হয়, পরেরবার এম্পিসিলিন নামক এন্টিবায়োটিকটা আর কাজ করেনা।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে, জ্যাকেট পরা ব্যাকটেরিয়াগুলো কেবল ঐ ব্যাক্তির শরীরেই বসে থাকেনা। তিনি হাঁচি দেন, কাশী দেন, ব্যাকটেরিয়াগুলো ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। একসময় পুরো এলাকায়ই আর ঐ এন্টিবায়োটিক কাজ করেনা। যারা খুব নিয়ম করে ওষুধ খান তারাও বিপদে পড়ে যান সবার সাথে।

আমরা খুব ভয়ংকর একটা সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি দ্রুত। ব্যাকটেরিয়া আর তাদের বিভিন্ন ‘জ্যাকেট’এর তুলনায় এন্টিবায়োটিকের সংখ্যা খুব বেশি না।
অনেক এন্টিবায়োটিক এখন আর কাজ করেনা, বাকিগুলোর ক্ষমতাও কমে আসছে। আমাদের বড় বড় হসপিটাল থাকবে, সেখানে এফসিপিএস, এমডি, পিএইচডি করা ডাক্তাররা থাকবেন কিন্তু কারোরই কিছু করার থাকবেনা। সামান্য সর্দীতেই রোগী মরে সাফ হয়ে যাবে।

উন্নত বিশ্বের চিকিৎসা ব্যাবস্থা আলাদা। তারা নিয়ম মেনে ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ খায়।
বিপদে আছি আমরা। ‘মেডিসিনের বাইবেল’ নামে পরিচিত ডেভিডসনের বইয়েও আমাদের এই উপমহাদেশের উল্লেখ আছে কথা আলাদা করে। অনেক ট্রিটমেন্টে বলা হয়েছে, ‘দিস অরগানিজম ইজ রেজিসটেন্ট অ্যাগেইন্সট দিজ ড্রাগস ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট…’

টিভি পত্রিকায় নানান বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়।
বাথরুম করে হাত ধুতে হবে, কাশি হলে ডাক্তার দেখাতে হবে, নিরাপদ পানি খেতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এন্টিবায়োটিক নিয়ে কোনো কিছু আজও চোখে পড়েনি। অথচ এটা অন্যগুলোর চেয়েও জরুরী। এন্টিবায়োটিক কাজ না করলে এত সচেতনতা দিয়েও আর লাভ হবেনা।

চিকিৎসা ব্যাবস্থার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে এখনই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবা উচিত। ফার্মেসিওয়ালা কর্তৃক ওষুধ দেয়া বন্ধ করতে হবে, এন্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। নাহলে আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকার।

[সংগ্রহীত]




সবার জন্য সাস্থসেবা

আপনি জানেন কি যে, ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীর আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিটি ২০১৩-১৪ অর্থ বছর হতে চালু হয়েছে?
ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগে আক্তান্ত গরীব রোগীদের সনাক্ত করে সমাজসেবা অধিদফতরের জনবল, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনের সহযোগিতায় এ নীতিমালা অনুসরণ করে প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়নপূর্বক গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যরালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগে আক্তান্ত গরীব রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। আক্রান্ত রোগীর পরিবারের ব্যয়ভার বহনে সহায়তা করা হয়। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করা হয়।
যোগাযোগঃ
কর্মসূচি পরিচালক:
জনাব মোঃ সাব্বির ইমাম, অতিরিক্ত পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন)
ফোন ও ফ্যাক্স: +৮৮০২ ৯১ ৩৩ ৬৪৩
মোবাইল নম্বর: ০১৭০৮৪১৪০০৫
সরকারি ইমেইল: pd.cklt@dss.gov.bd
ব্যক্তিগত ইমেইল: sabbirimam.dss@gmail.com
ডেস্ক অফিসার:
জনাব জাহাঙ্গীর কবীর
সমাজসেবা অফিসার (আর. ও)
ফোন:+৮৮০২ ৯১১৯৭৩০-১৮২
মোবাইল: ০১৭০৮৪১৪০৪৫
সরকারি ইমেইল: jahangirkabir@dss.gov.bd
ইমেইল: jahangirkabir.dss@gmail.com




অর্জুন এর কথা

অর্জুন মহাভারত মহাকাব্যের অনেক পরিচিত চরিত্র। ধনুর্বিদ অর্জুন সবার কাছে বেশ পরিচিত তার বলবান এবং তেজস্বী মনোভাব এর জন্য আমরা ও আজ অর্জুন নিয়ে কথা বলবো তবে তাহলো বৃক্ষ অর্জুন নিয়ে। বলা হয়ে থাকে, বাড়িতে একটি অর্জুন গাছ থাকা আর এক জন ডাক্তার থাকা একই কথা। এতে করে সহজে আমরা অনুধাবন করতে পারি অর্জুন বৃক্ষের গুনাগুন ও গ্রহণ যোগ্যতা নিয়ে। অর্জুন গাছের ছাল, ফল ও পাতা তিনটিই ওষুধী উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে অর্জুন গাছের ছালই ভেষজ চিকিৎসায় বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ভেষজ নাম : Terminalia arjuna.
ফ্যামিলি:- Combretaceae.

১-অর্জুন খাদ্য হজম ক্ষমতা বাড়ায়। খাদ্যতন্ত্রের শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

২-শ্বেত বা রক্তপ্রদরে- উপরিউক্ত মাত্রা মত ছাল ভিজানো জল আধ চামচ আন্দাজ কাঁচা হলুদের রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফল আশা করা যায়।

৩-খোস-পাচড়া দেখা দিলে অর্জুন গাছের ছাল বেটে লাগালে উপশম হয়।

৪-অর্জুন ছাল বেটে খেলে হৃৎপিন্ডের পেশি শক্তিশালী হয়, হৃৎপিন্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ে।এটি রক্তের কোলেষ্টরল কমায় এবং ফলত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে।

৫-অর্জুন গাছের তেল খাদ্য হজম প্রক্রিয়ার ক্ষমতা বাড়ায়। খাদ্যতন্ত্রের ক্রিয়া স্বভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

৬-জ্বর নিবারক হিসাবেও অর্জুন দারুন কাজ করে।

অর্জুন গাছের ঔষধিগুণ