গ্রীন টি

বিশুদ্ধ পানির পরে সবচেয়ে উপকারী পানীয় কি। গ্রীন টি বা সবুজ চা।

সবুজ চা আসলে প্রস্তুত করার পরে সবুজ থাকে না (একমাত্র জাপানীজ মাচ্যা ছাড়া কারন তার সবুজ গুড়া চা পাতা ব্যবহার করে আর প্রস্তুতকালীন ব্রাশ দিয়া ঘইষা ফেনানীভ কইরা দেয়)। পরিস্কার কাপে নিলে গ্রীন টি (বাংলায় সবুজ চা কেমুন জানি শোনায় তাই গ্রীন টি কমু)সোনালী দেখায় হালকা হলুদাভ টোন সহ।

গ্রীন টি তে এ্যন্টি অক্সিডেন্ট আর বিভিন্ন উপকারী ফ্ল্যাভনয়েড থাকে যা সুস্বাস্থ্যে অবদান রাখে রাখছে রাখতে পারে।

Icahn School of Medicine at Mount Sinai Hospital এর খাদ্যপুস্টি গবেষক Christopher Ochaner PhD. বলেন “It’s the healthiest thing I can think of to drink”

প্রথমেই কওয়া লাগে এইটা ওজন কমাইতে সাহায্য করেঃ অনেকেই দাবী করে, কেউ কেউ রেজাল্টও পাইছে  আর বৈজ্ঞ্যানিক ভাবে প্রমানীতও হইছে। এখন দেখা যাক আসলে কেমনে হয় কামটা!

গ্রীন টিতে ক্যাফেইন আছে এককাপে ২৪ থাইকা ৪০মিলিগ্রাম (কফিতে এরচেয়ে বেশী পাওয়া যায় ১০০ থাইকা ২০০ মিলিগ্রাম) পরিমানে কম হইলেও মৃদু প্রভাব রাখে। ক্যাফেইন চর্বি গলানোর স্টিমুল্যান্ট হিসাবে স্বীকৃত, ব্যায়াম কালে এইটা বুস্টার হিসাবে কাজ করে। এর চাইতে উল্লেখ্য হইতাছে এতে থাকা অন্যান্য উপকারি এ্যন্টি অক্সিড্যান্ট গুলি, নাম ‘ক্যাটেচিনস’ Catechins, এতে প্রধানটার নাম ইজিসিজি (EGCG Epigallocatchin Gallate) এইটা মেটাবলিজম বুস্ট করে। মনে রাখতে হইব, এর উপকার পাইতে গেলে গ্রীন টির সাথে সাথে গ্রীন টি এক্সট্রাক্ট সাপ্লিমেন্ট হিসাবে নিতে হইব। আর “সাথে ব্য্যয়াম করতে হইব”।

ফ্যাট সেল ধ্বংশ করতে গেলে তা আগে জমানো জায়গা থাইকা ভাইংগা আনতে হইব রক্তপ্রবাহে, গ্রীন টি পান করলে তাতে থাকা ইজিসিজি শরীরে নোরেপিনেফ্রিন Norepinephrine নামের হরমোন নিঃস্বরন বাড়ায় এই নোরেপিনেফ্রিন তোমার শরীরের নার্ভাস সিস্টেম/স্নায়ূ তন্ত্ররে শরীরের জমানে ফ্যাট সেল রে ভাংগতে কয়। ফ্যাট সেল ভাইংগা রক্ত প্রবাহে আসে যা এনার্জী আর তা অন্য সেল যেমন মাসল সেল ধইরা কামে লাগায়! (হুশ কইরা মাম্মা লোগ রক্তে বেশী ফ্যাট সেল মানে কার্ডিও বা হৃদয় ঘটিত সমস্যা হইতে পারে, তাই ব্যায়াম চালু)।

বাজারে পাওয়া যে কোন ফ্যাট বর্নিং প্রডাক্ট এর উপকরন দেখলে কোন না কোন চা এর নাম পাইবা। পরীক্ষা কইরা দেখা গেছে যেই মাম্মালোগ ব্যায়ামের সাথে সাথে গ্রীন টি এক্সট্রাক্ট নিছে তাগো রেজাল্ট ১৭% বেশী ভালো হইছে যারা নেয় নাই তাদের থাইকা। এইটা প্রমানীত যে গ্রীন টি এক্সট্রাক্ট কাম করে।

আরেকটা আট সপ্তাহ ধইরা চলা সমীক্ষায় দেখা গেছে এই গ্রীন টি ব্যায়াম চলা কালীন ও বিশ্রাম পর্যায়ে একই রকম কাজ করে।

মানুষের শরীর চলার জন্য জ্বালানীর প্রয়োজন হয়, তা ক্যালরী যা শরীর
বিভিন্ন ভাবে যোগান দেয়, এই ক্যালরী পুইড়াই শরীর চালায়, যখন ঘুমাও বা আমার মত কিছুই করনা তখনো ক্যালরী পুড়তাছে কারন শরীর জ্যন্ত! একজন স্বাভাবিক পূর্ন বয়স্ক মানুষ দিকে ২০০০ ক্যালরী পোড়ায়, দেখা গেছে গ্রীন টি এই ক্যালরী পোড়ানো ৩-৪% থাইকা ৮% পর্যন্ত বৃদ্ধি করে, তার মানে ২০০০ হাজার ক্যালরী ওয়ালা মাম্মার ৬০ থাইকা ৮০ ক্যালরী অতিরিক্ত পোড়াইতে পারে, এক ঘন্টা দ্রুত হাঁটলে (ঘন্টায় ৪ মাইল) ৪১৫ ক্যালরী খরচা হয়!

Ms. Kris Gunners, BSc. Authoritynutrition.com লেখছেন তিন মাস ধইরা চলা এক পর্যবেক্ষনে দেখা গেছে ৬০ জন স্থুল লোক যারা গ্রীন টি এক্সট্রাক্ট নিতাছিল তারা ৭.৩ পাউন্ড ওজন কমাইতে পারছে আর ১৮৩ ক্যালরী বেশী পোড়াইতে পারতাছিল প্রতিদিন! মনে রাখতে হইব একই রেজাল্ট সবার বেলায় নাও হইতে পারে একেকজনের মেটাবলিজম একেক রকম।

গ্রীন টি পানে ক্ষুধামান্দ দেখা দেয়, খাইতে রুচি নাই ওজন কমব এইটা বুঝতে রকেট সায়েন্স লাগে না।

Ms. Lizzie Parry, Daily mail online এর 5Feb15 সংখ্যায় লেখছে, গ্রীন টি তোমার ওজন কমাইতে সাহায্য করতে পারে কিন্তু তার রেজাল্ট পাইতে গেলে তোমারে প্রতিদিন কমপক্ষে সাত কাপ চা পান করতে হইব।

সমীক্ষায় মোট ১৪ জন অংশ নিছিল যাদের গড় বয়স ২১, দুই ভাগে ভাগ হইয়া একভাগ ৫৭১ মিলিগ্রাম ডি-ক্যাফিনেটেড গ্রীন টি এক্সট্রাক্ট ক্যাপস্যুল নিছিল আর বাকী সাত জন ‘প্ল্যাসিবো’ বা ‘সুগার পিল’ নিছিল। যারা ক্যাপ্স্যুল নিছিল তারা, যারা নেয় নাই তাদের চাইতে ১.৬৩% ক্যালরী পোড়াইছে আর ওজন কমাইতে পারছে। খেয়াল রাখতে হইব এরা এ্যাক্টিভ মানে ব্যায়াম/শাররীক পরিশ্রম করা মাম্মালোগ। এবং তাগো ফ্যাট বার্নিং প্রসেস ২৫% বৃদ্ধি পাইছিল।

Dr. Justin Roberts পরিচালিত এই সমীক্ষায় তার মন্তব্য “It is known that green tea as a drink can have numerous health benefits as it contains a relatively high amount of an ingredient called EGCG , However, to get the dosage required may require close to six or seven cups of green tea a day the 571 mg capsuled tested contained a daily EGCG dose of 400 mg.
In essence our study showed that the use of green tea extract could potentially help people to lose weight it combined with exercise.

কম্বাইন্ড উইথ এক্সারসাইজ, আমার মূল বক্তব্য এইটাই, শুধু গ্রীন টি খাইলেই আশানুরুপ রেজাল্ট পাইবা না, সাথে শাররীক পরিশ্রম চালু রাখতে হইব। The journal of the International Society of Sports Nutrition. এ ছাপা হইছিল সমীক্ষাটা।

আমার প্রিয় ওয়েবসাইট WebMD কয় “দুঃক্ষিত পৃথিবীতে এমন কোন খাবার বা পানীয় নাই তা গ্রহনে শরীরের চর্বি গইল্যা যাইব আর ওজন কইমা যাইব! তবে, এইটা চিনিযুক্ত পানীয়ের খুব ভালো আর উপকারী সাবস্টিটিউট হইতে পারে, বছরে গৃহীত সমপরিমান কোক, পেপসী অথবা অন্য কোন চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহনে যতটুকু ক্যালরী শরীরে ঢুকবো তার চাইতে ৫০,০০০ কম ক্যালরী ঢুকব গ্রীন টি পানে। যা কিনা ১৫ পাউন্ড চর্বির সমান”!!! খালি গ্রীন টিতে মধু, চিনিমিনি দিয়া উপকারের সাথে ছিনিমিনি খেইলো না!

Dr. Ochner বলেন, এছাড়াও গ্রীন টির অন্যান্য উপকারিতা দেখা গেছে, মগজএ রক্ত চলাচল বাড়ায়, ‘আলযাইমার’ রোগের কারন যেই ‘প্লাক’ তা কমাইতে সাহায্য করে, ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার, কলেস্টেরল নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে গ্রীন টির ‘ক্যাটেচেসিন’।

উক্কে ভালো জিনিষের ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, সবার জন্য সব কিছু না, গ্রীন টি গ্রহনে মাথাব্যাথা, নার্ভাসনেস, ঘুমাইতে অসুবিধা, বমি, ডায়ারিয়া, চিড়চিড়াভাব, অনিয়মিত হার্টবিট, বুকজ্বলা, কানে রিঙ্গিং মানে টিনেনাইটিস, খিঁচুনি হইতে পারে, আর বেশী দেখা যায় গ্রীন টি খাবার থাইকা আয়রন শোষন করতে বাধা দেয় তার ফলশ্রুতি এ্যানেমিয়া দেখা দিতে পারে। এখন কথা হইতাছে কতটুকু গ্রীন টি গ্রহন করা যাইতে পারে নিরাপদে, এইটা প্রত্যেকের বেলাই ভিন্ন হইতে পারে। ট্রায়াল এ্যান্ড এরর ছাড়া উপায় দেখি না।

সবাই পার তবুও একটু পন্ডিতি কইরাই যাই। গ্রীন টি বানানের সবচেয়ে সঠিক উপায়। আমি তাপমা্ত্রার সায়েন্টিফিক মাপ দিমু না, পাতা জ্বাল দিবা না, পাতা তিন মিনিটের বেশী গরম পানিতে রাখবা না। সহজ উপায়, ফুটানো পানি নেও কেটলীতে, কাপের উপরে ছাকনিতে পাতা রাইখা তাতে পানি ঢালতে পার। অথবা টি-ব্যাগ বা স্টিপার থাকলে তা ফুটন্ত পানিতে ডুবাইয়া ৩ মিনিট পরে তুইলা ফালাও। একটু ঠান্ডা হইতে দেও, লেবু দিতে পার। চিনি আর মধু দিলে মজা লাগবো কিন্তু উপকারের সাথে বোনাস অপকার আইস্যা পড়বো, চিনি!! স্টার্চ!!

সবকিছু বাদ দিলেও এতে থাকা ‘থিয়ানিন’ শরীরে শান্ত ভাব আনে!! তাই সারাদিনের কাউ কাউ শেষে বিকালে এককাপ গ্রীন টি হইতেই পারে! ইট হেল্পস!




এলোভেরা: প্রাকৃতিক টনিক পয়মন্ত গুণাগুণ

ঘৃতকুমারী আমাদের কি কাজে লাগে এবং ঘৃতকুমারী ব্যবহারের ফলে আমরা আমাদের স্বাস্থের কি কি উপকার পেতে পারি আমাদের চারপাশে প্রকৃতিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন গাছ- গাছালি লতাপাতা ফলমূলে রয়েছে অনন্য ভেষজগুণ। যা আধুনিক যুগের অনেক রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরি ওষুধের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কার্যকর। তেমনিভাবে রয়েছে ঝুলে যাওয়া ত্বক। চোখের তলায় বলিরেখা, নেতিয়ে পড়া বিবর্ণ চুলকে পুরনো লাবণ্য ফিরিয়ে দেয়ার জাদুকরী প্রাকৃতিক শক্তিও লুকিয়ে আছে গাছগাছালি, শিকড়-বাকড়ে। আমাদের আগের প্রজন্মের নারীরা রূপচর্চা করতেন এসব প্রাকৃতিক ভেষজ গুণসম্পন্ন গাছ, লতা পাতা, ফুল-ফল দিয়ে। তেমনি একটি ভেষজ উদ্ভিদ হল Aloe vera বা ঘৃতকুমারী।

এলোভেরা আজ থেকে 6000 বছর আগে মিশরের শহরে এই এলোভেরার উৎপত্তি । এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী আমাদের সবারই সুপরিচিত একটি ভেষজ উপাদান। ভেষজ চিকিৎসা শাস্ত্রে এলোভেরার ব্যবহার পাওয়া যায় সেই খৃীষ্টপূর্ব যুগ থেকেই। alovera তখন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এলোভেরার অনেক গুণের কথা আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে ত্বকের দাগ দূর করার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অনন্য। মুখ এবং ত্বকের দাগ দূর করতে এলোভেরা বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরিন দুইভাবেই কাজ করে। ঘৃতকুমারী ছাঁচ, ব্যাকটেরিয়া, funguses, এবং ভাইরাস হত্যা করতে সক্ষম। যাতে রয়েছে প্রায় প্রাকৃতিক ছয়ের অধিক Antiseptic উপাদান।

এ্যালোবেরা এতটাই উপকারী যে, উদ্ভিদ গবেষক এবং বিজ্ঞানীরা এ্যালোবেরার মধ্যে এইডস ও ক্যান্সার মত রোগের সম্ভাব্য প্রতিকার খুঁজছেন।

এলাভেরার টনিক বানাতে হলে আপনাকে এলোভেরার কচিপাতা যোগার করতে হবে। এজন্য আপনি স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করতে পারেন, অথবা বাড়িতেই টবে লাগাতে পারেন এলোভেরার চারা। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পান করলে, প্রাকৃতিক ভাবেই পেতে পারেন দাগহীন ত্বক। ব্রণ এবং সানবার্ণ থেকেও এটি আপনাকে মুক্তি দেবে। প্রাচীন কালেও রানী ক্লিওপেট্রা, সম্রাট আলেকজান্ডার, বাদশাহ সোলায়মান, নেপোলিয়ন এবং ক্রিস্টোফার কলম্বাসের মত বিখ্যাত মানুষেরা অ্যালোভেরা ব্যবহার করতেন এবং মহাত্মা গান্ধী। ঘৃতকুমারী গাছটা দেখতে অনেকটাই কাঁটাওয়ালা ফণীমনসা বা ক্যাকটাসের মতো। অ্যালোভেরা ক্যাক্টাসের মত দেখতে হলেও, ক্যাক্টাস নয়। এটা একটা লিলি পরিবারের উদ্ভিদ যেমন পেঁয়াজ ও রসুন। এটা পেঁয়াজ বা শাপলা-পদ্ম জাতীয় উদ্ভিদ। এর পাতাগুলো বর্শা আকৃতির লম্বা, পুরু ও মাংসল। পৃথিবীতে প্রায় 550 রকমের অ্যালোভেরা জন্মে, তবে মাত্র দু’রকমের অ্যালো বানিজ্যিক ভাবে চাষ করা হয়। ঘৃতকুমারী কোষ্ঠকাঠিন্য ও খুশকির ভালো ওষুধ।

গোটা বিশ্ব জুড়ে এই গাছের জুস বা রস ক্যাপসুল বা জেলের আকারে বিক্রি হচ্ছে। এই জেলের ভেতরে আছে বিশটি অ্যামিনো অ্যাসিড যা থেকে বিজ্ঞানীরা বলেন প্রাণের সৃষ্টি। মেছতা দূর করার আরেকটি উপাদান
হলো এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী পাতার জেল। এই জেলের রয়েছে ত্বকের যাবতীয় সমস্যা দূর করার ক্ষমতা। ডায়েরিয়া সারাতেও ঘৃতকুমারীর রস দারুণ কাজরে।

ঘৃতকুমারীতে রয়েছে ২০ রকমের খনিজ। মানবদেহের জন্য যে ২২টা এমিনো এসিড প্রয়োজন তার ৮ টি এতে বিদ্যমান। এছাড়াও ভিটামিন A, B1, B2, B6, B12, C এবং E রয়েছে। ঘৃতকুমারী পাতার রস, ২-৪ চামচ করে দিনে একবার খেলে যকৃতের ক্রিয়া বৃদ্ধি করে৷ একজিমা ঘৃতকুমারী শাঁস প্রতিদিন নিময়ম করে কয়েক সপ্তাহ লাগালে চুলকানি খেকে আরাম পাওয়া যায়৷কোমরে ব্যথা হলে শাঁস অল্প একটু গরম করে মালিশ করলে আরাম পাওয়া যায়। মিসরীয় লোককাহিনী থেকে জানা যায়, সৌন্দর্যবর্ধন করে যে প্রকৃতিকন্যা তার লাতিন নাম এলোভেরা ওরফে ঘৃতকুমারী। ঘৃতকুমারী পাতার রস যকৃতের জন্য উপকারী। বাংলায় নাম তরুণী
ঔষধি গাছ হিসারে এর অনেক কদর। তবে বাংলার মানুষ একে ঘৃতকুমারী নামেই বেশী চিনে। এর আর একটি নাম আছে তা হলো কুমারী । দেহ থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে ঘৃতকুমারীর রস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঔষধির কাজ করে। ঘৃতকুমারীর রস হাড়ের সন্ধিকে সহজ করে এবং দেহে নতুন কোষ তৈরি করে। এছাড়া হাড় ও মাংশপেশির জোড়াগুলোকে শক্তিশালী করে। এক চামচ ইসবগুলের ভুসি ও দুই চামচ অ্যালোভেরার রস পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেয়েই দেখুন। বাড়তি মেদ পালানোর পথ পাবে না। দূর হবে বাতের ব্যথাও। অ্যালোভেরার রস মাথার তালুতে ঘষে এক ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। চুল গজাবে। মধুর সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বকের দাগ দূর করে ত্বক করে তুলবে আরও উজ্জ্বল।

ঘৃতকুমারীর শরবতঃ

উপকরণ: ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা ১টি, পানি ১ গ্লাস, মধু ১ চা-চামচ।

প্রণালি: ঘৃতকুমারীর ভেতর থেকে শাঁস নিয়ে পানি ও মধু দিয়ে মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। তারপর গ্লাসে পরিবেশন। এই শরবত খেলে ত্বক ভালো হবে। পেট পরিষ্কার থাকবে।

শীতকালে খুশকি দূর করতে মেহেদিপাতার সঙ্গে ঘৃতকুমারী, অ্যালোভেরা মিশিয়ে লাগাতে পারেন চুলে। মানব দেহে প্রায় অনেক ধরনের রোগ হয়ে থাকে। দাঁত থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি অঙ্গ প্রতঙ্গে আমাদের রোগ হয়ে থাকে। কিন্তু এই রোগগুলো নির্মূল করার জন্য আমরা কি খেয়ে থাকি? এক কথায় মেডিসিন। এই মেডিসিন খাওয়ার পর আমাদের রোগ কি পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়? এক কথায় না। তাহলে কি হয় এই মেডিসিন গ্রহন করার ফলে? ওষুধ ব্যবহারের ফলে আমাদের রোগ নির্মূল হয় তবে দীর্ঘস্থায়ীর জন্য নয় ক্ষণস্থায়ীর জন্য। আমরা কি সবাই জানি যে মেডিসিন আমরা গ্রহন করে থাকি তার জনক কে? তার জনক হচ্ছে হিপোক্রেটিস। তিনি বলে গেছেন রোগ প্রতিরোধের চাইতে প্রতিকার করাই উত্তম। তাই প্রতিটি রোগের প্রতিকার মেডিসিনের মধ্যে না খুঁজে প্রাকৃতিক উপাদানের উপর খোঁজা দরকার নয় কি? এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো কি দুষ্পাপ্য? মনে হয় না। কারন আমাদের চারপাশে এসব উপাদান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে একটি হচ্ছে Aloe vera বা ঘৃতকুমারী। ঘৃতকুমারী ব্যবহারের ফলে আমরা কি উপকার পেতে পারি তা আমরা আগে জেনেছি। মানব দেহের প্রত্যেকটি রোগের প্রতিকার এই ঘৃতকুমারীর মধ্যে আছে। তাই আমাদের সবার উচিত Aloe vera বা ঘৃতকুমারী প্রতিদিন ব্যবহার করা। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগের মানুষদের কথা কতটুকু জানি? তখন তারা কিভাবে সুস্থ সবলভাবে শিকার করতো? তখনকার দিনে কি তাদের রোগ হতো না? তাহলে রোগ হলে কিভাবে রোগগুলো নির্মূল করতো? তারা কি মেডিসিন জাতীয় কোন কিছুই ব্যবহার করতো না? সহজ উত্তর তখনকার দিনের মানুষজন প্রাকৃতিক উপাদান বেশি ব্যবহার করতো। যার ফলে তাদের এই সমস্ত দিকগুলো তারা প্রতিকার করতে পারতো। তখনকার দিনের মানব দেহ আজকের দিনের মানব দেহের চাইতে কিছুটা ভালো অবস্থানে ছিল। কারণ কি? কারন হচ্ছে তখনকার দিনের মানুষ প্রাকৃতিক উপাদান বেশি ব্যবহার করতো। তখনকার দিনে মেডিসিনের ব্যবহার ছিল না। মনে কৌতুহল জাগে তাহলে তারা কিভাবে রোগ হলে মেডিসিন ব্যবহার না করে কি ব্যবহারের ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণ করতো। তারা বেঁচে থাকতো প্রাকৃতিক উপাদানের উপর নির্ভরশীল হয়ে। প্রাকৃতিক উপাদান বলতে গাছের শিকড়-বাকড়, লতাপাতা ইত্যাদি। এসব প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতো বলেই তখনকার দিনের মানুষ অনেক সুস্থ সবল থাকতো যার কারণে বর্তমানে আমাদের মত Diabetes, Hi Blood Pressure, Gastritis, Arthritis, Asthma, Cholesterol, Obesity, Sciatica, Prostatitis, Thyrodism এসব ধরনের রোগ তাদের মানব দেহে বাসা বাঁধতে পারতো না। কিন্তু আজকে আমাদের উন্নত চিকিৎসা সেবার ফলে আমাদের এই ধরনের রোগে ভুগতে হয়। তখনকার দিনে উন্নত চিকিৎসা ছিলো না বলে তারা এই ধরনের রোগে ভুগতো না। তাই বলে কি আমাদের চিকিৎসার কোন দরকার নাই? অবশ্যই আছে। এই মেডিসিনের পাশাপাশি আমরা যদি প্রাকৃতিক উপাদানের উপর কিছুটা নির্ভর করি তাহলে ক্ষতি কি। উন্নত চিকিৎসার ফলে আজকে আমরা মেডিসিন গ্রহন করছি। যদি আজকে উন্নত চিকিৎসা সেবা না থাকতো হয়তো আমরাও তাদের মত করে প্রাকৃতিক উপাদানের উপর নির্ভর হতাম। কিন্তু সভ্যতার বির্বতনের ফলে আমরা প্রাকৃতিক উপাদানের উপকারিতার কথা হয়তো ভুলেই গেছি। প্রাকৃতিক উপাদানের উপর নির্ভরশীল ছিল বলে তখনকার দিনের মানুষের গড় আয়ু ও ছিল বেশি। আর যেখানে আজকে আমাদের গড় আয়ু ৫০-৬০। তাহলে কি কারণে আমাদের গড় আয়ু স্বল্প। খুব সহজ উত্তর ভেজাল খাবার খাওয়া রোগ হলে মেডিসিন খাওয়া ইত্যাদি। জরিপে বলা হয় এখন পর্যন্ত ১০% মানুষ সুস্থ, ৬৫% মানুষ মোটামুটি সুস্থ আর ২৫% মানুষ পুরোপুরি অসুস্থ। হিপোক্রেটিস বলেছেন সুষম খাদ্যের মধ্যেই সব রোগের প্রতিকার আছে। বর্তমান বিশ্বের বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারই হিপোক্রেটিসের ধারণাকে বিশ্বাস করেন। একটা কথা বলুন তো আচ্ছা আমরা যে কাপড় চোপড় সাবান দিয়ে পরিষ্কার করি কেন করি? নিশ্চয়ই ময়লা হলে পরিষ্কার করি যাতে একটি পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় গায়ে দিতে পারি। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি কাপড় চোপড়ের মতই আমদের মানব দেহের ভিতরে কতটুকু ময়লা জমে থাকে। এসব ময়লা পরিষ্কার করার কথা কি আমরা চিন্তা করি। বেশিরভাগ উত্তর পাবেন না। কারণ আমাদের যখন রোগ হয় তখনই আমরা বুঝতে পারি আমাদের মানব দেহটা অসুস্থ। যদি আগে থেকে আমরা মানব দেহের পরিচর্যা নিতাম তাহলে এসব রোগ আমাদের দেহে বাসা বাঁধতে পারতো না। তাই এসব থেকে প্রতিকারের জন্য আমাদের অবশ্যই প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা উচিত।

প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে Aloe vera বা ঘৃতকুমারী আমাদের সকলের ব্যবহার করা দরকার। আমাদের সু-স্বাস্থ্য ও ভালো থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই প্রকৃতিতে আছে, যেমন- খাদ্য, পানি, ঔষধ। বিজ্ঞান ও আধুনিক রাসায়নিক ঔষুধের কল্যানে আস্তে আস্তে আমরা প্রকৃতি হতে দূরে সরে যাচ্ছি। প্রকৃতির মাঝে যে, আমাদের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের সকল উপাদান আছে আমরা তা ভুলতে বসেছি। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে একটি কোম্পানি প্রকৃতি থেকে এমন একটি শক্তিশালী উপাদান আবিষ্কার করলো যা মানুষের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য্য অমূলক পরিবর্তন করলো। হাজার বছর আগে থেকেই সুস্থ থাকার জন্য একটি উদ্ভিদ সব সময় ব্যবহার করতো। যা আধুনিক যুগে এসে আমরা জানলাম এর ব্যপক উপকারিতা। আর সেই উদ্ভিদটির নাম হলো এ্যালোভেরা। এই এ্যালোভেরা থেকেই আমেরিকার একটা কোম্পানি বিশ্বের সকল মানুষের জন্য তৈরি করল স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের সব ধরনের পণ্য। আর সেই কোম্পানির নাম হলো ফরএভার লিভিং প্রোডাক্টস ইন্টারন্যাশনাল। আজকের দিনে এ্যালোভেরা দিচ্ছে কোটি কোটি মানুষের সু-স্বাস্থ্য ও সুখী জীবন যাপনের সকল কিছু।

বর্তমানে সারা বিশ্বে ফরএভার লিভিং প্রোডাক্টস হচ্ছে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এ্যালোভেরা ভিত্তিক পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরন ও বিতরনকারী প্রতিষ্ঠান। আমাদের আছে পিউর এ্যালোভেরা ড্রিংকস, স্কিন ক্লিনজার এবং ময়েশ্চেরাইজার সহ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কসমেটিকস কালেকশন। এছাড়াও আপনার সম্পূর্ণ শারিরিক যত্নের জন্য আছে অসাধারন পণ্য, আছে আপনার শারিরিক পরিপূর্ণ পুষ্ঠির জন্য অনেক ফুড সাপ্লিমেন্ট পুষ্ঠির পণ্য, আছে পিউর মধু ও মধু দ্বারা তৈরি পণ্যসামগ্রী। যা আপনাকে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ ও সুন্দর রাখবে সারা জীবন। অন্য সব কোম্পানী যেখানে পণ্য তৈরিতে এক থেকে দুইটি ধাপে কাজ করে সেখানে ফরএভার তার সকল পণ্য উৎপাদন কাঁচামাল হতে পণ্য প্রতিটি ধাপে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাহায্যে ছাড়াই সঠিক মান বজায় রাখার জন্য নিজেরাই করে থাকে। যার মধ্যে আছে নিজস্বভাবে এ্যালোভেরার চাষ, হার্বেষ্টিং, মান নিয়ন্ত্রণ, ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা, সংরক্ষণ, উৎপাদন, বোতলজাতকরণ ও পেকেজিং পরিবহন এবং বিশ্বের ১৫৯টির ও বেশি দেশে প্রায় ৪ কোটি পরিবেশকের কাছে একই মানসম্পন্ন পণ্য পৌছানো।




শরীরটাকে খাটান, সুস্থ থাকুন।

হাত-পাগুলো ফেলে রাখার জন্য নয়, রোজ নিয়ম করে শরীরটাকে একটু খাটান। রোজ মাত্র আধঘন্টা সপ্তাহে অন্তত ছ’টা দিন। একান্তই না-পারলে কম করে তিনদিন। পরিশ্রম করলে হৃদযন্ত্রের ক্ষমতা বাড়ে, বাড়ে করোনারি ধমনীর বিকল্প প্রাকৃতিক বাইপাস। কমে করোনারী ধমনীর বিকল্প প্রাকৃতিক বাইপাস। কমে করোনারি হৃদরোগের আশঙ্কা, হার্ট অ্যাটাকের ভয়। বিশেষ করে যেসব পেশায় মানসিক পরিশ্রম বেশি, শরীরের খাটনি প্রায় নেই, হার্ট বাঁচাতে এমন পেশার মানুষকে খাটাতে হবে শরীরটাকে। অথবা যোগ্য প্রশিক্ষকের কাছে শিখে নিতে হবে হৃদয় ভাল রাখার উপযুক্ত যোগাসন।

জোরে হাঁটা, দৌড়োনো, সাঁতার কাটা, নাচা, স্কেটিং, মাঠে খেলা বা জোরে সাইকেল চালানোর মতো ‘এরোবিক এক্সারসাইজ’- এর যে-কোনও একটা বেছে নিন। যেটা পছন্দ হয় বা সুবিধাজনক মনে হয়। এতে শরীরে অক্সিজেনের জোগান বাড়বে, বাড়বে করোনারি ধমনীর নেটওয়ার্ক। শরীরের ক্ষমতা বেড়ে আনন্দ বাড়বে, ঝরে যাবে বাড়তি ওজন। কমবে কমবেই হার্ট অ্যাটাকের ভয়।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমে শুধু ওজন কমে না, কমে রক্ত চাপ আর কোলেস্টেরলের মাত্রা, কমে ডায়াবেটিসের ভয়। হার্ট অ্যাটকের আশঙ্কা তাই একভাবে নয়, কমে নানা ভাবে। এ ছাড়াও শারীরিক পরিশ্রমে শরীরে ফুর্তি আসে, কমে মনের চাপ। হাড় আর সন্ধি গুলোর জোড় বাড়ে। বাড়ে যৌন সক্ষমতা। এবার আপনার মত করে বেছে নিন যে কোন একটা ব্যায়াম বা খাটুনি। শুরু করতে গড়িমসি নয় শুরু হোক আজই। মাঝে মধ্যে মনে পড়লে নয়, রোজ নিয়ম করে করুন যে-কোন একটা ব্যায়ামঃ2_150090

  • ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটার বেগে ত্রিশ মিনিট হাঁটুন।
  • ঘন্টায় ছয় কিমি বেগে তেইশ মিনিট বা সাড়ে ছয় কিমি বেগে সতেরো মিনিট হাঁটুন।
  • অত হিসেব না করে যতটা জোড়ে পারেন একটানা কুড়ি মিনিট হাঁটুন।
  • আধ ঘন্টা ফ্রী-হ্যান্ড ব্যায়াম করুন সারা শরীরের।
  • মাঝারি বেগে দশ মিনিট সিঁড়ি ওঠানামা করুন ।
  • জোড়ে তিন চার কিমি সাইকেল চালান ফাঁকা রাস্তায়।
  • এক কিমি বা কুড়ি মিনিট সাঁতার কাটুন।
  • কুড়ি মিনিট ব্যাডমিন্টন খেলুন।
  • আধ ঘন্টা জোড়ে হাঁটুন ছাদে বা বাগানে।
  • এক ঘন্টা কাজ করুন বাগানে।
  • আধ ঘন্টা নাচুন।
  • আধ ঘণ্টা স্কেটিং করুন।
  • দশ মিনিট ফাঁকা মাঠে দৌড়োন।

একবারে না পারলে আস্তে আস্তে বাড়ান, বিশেষ করে বয়স চল্লিশ বা তার বেশি হলে।

অ্যানজাইনা থাকলে, অন্য কোনও বড় শারীরিক সমস্যা থাকলে, হার্ট অ্যাটাক হয়ে গিয়ে থাকলে ব্যায়াম অবশ্যই করবেন আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে।




পোষা প্রাণীর দ্বারা ত্বকের সংক্রামণ

পোষা প্রাণী আমাদের সঙ্গী এবং বন্ধু হিসেবে নির্মল আনন্দ দেয়। আধুনিক ও যান্ত্রিক জীবনে মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছে, পোষা প্রাণী নিঃসঙ্গ জীবনে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। আজকাল অনেক বাসা-বাড়িতেই পোষা প্রাণী দেখা যায়, যদিও মানব সভ্যতার শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রাণী মানুষের বিশ্বস্ত বন্ধু। বলার অপেক্ষা রাখে না এরা আমাদের বসবাসের কক্ষে অবাধে বিচরন করে, এমনকি বিছানাতেও জায়গা করে নেয়। আমাদের পোষা প্রাণী হিসেবে কুকুর এবং বিড়ালই বেশী। এসব পোষা প্রাণীর মাধ্যমে অনেক ধরনের সংক্রামক রোগ  আমদের আক্রমন করতে পারে। মনে রাখবেন শিশুরা খুব দ্রুত এদের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে,। কিছু রোগ প্রাণী থেকে সরাসরি,আবার কিছু রোগ আক্রান্ত মানুষের মাধমে প্রথমে পোষা  প্রাণী হয়ে আমাদের দেহে প্রবেশ করতে পারে।

আসুন কয়েকটি বহুল ত্বকের  রোগ সমন্ধে পরিচিত হই, যেগুলো পোষা প্রাণীর মাধ্যমে ছড়াতে পারে।

ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগঃ   

প্রায় তিরিশ ধরনের ব্যাকটেরিয়া পোষা প্রাণীর মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। রোগ আক্রান্ত মানুষের মাধমে প্রথমে পোষা প্রাণী আক্রান্ত হয়। পোষা প্রাণীর আঁচর বা কামড়ের মাধ্যমে এগুলো ছড়াতে পারে। প্রথমে ব্রনের মত দেকা যায়, পরে খত বড় আকার ধারন করে। চুল্কানি থাকতে পারে।

দাউদ বা রিং-ওয়ার্ম ঃ

এতি একটি ফাঙ্গাস জনিত রগ।আক্রান্ত পোষা প্রানির সংস্পর্শে সরাসরি আমাদের ত্বকে জায়গা করে নেয়।

খোস পোঁচরা বা স্কাবিসঃ  

এটি একটি পরজীবী জনিত খুবই বহুল পরিচিত রোগ। আপনার পোষা প্রাণী আক্রান্ত হলে, তার সংস্পর্শে আপনিও আক্রান্ত হতে পারেন।

ক্রিমি জনিত ত্বকের রোগঃ  

অনেক সময় পোষা প্রাণীর পেতে কৃমি হয়ে থাকে। এদের মলের সংস্পর্শে ত্বকে  একধরনের লালাভ চুলকানি যুক্ত  ফুস্কুড়ি হয়ে থাকে।

রিকিময়াউনটেন স্পটটেড ফিভারঃ

এটি খুবই মারাত্মক ধরনের রোগ। পোষা কুঁকড়ের দেহে এক ধরনের মাইট বা পোকার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত হলে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, প্রচণ্ড জ্বর হয় সাথে বমি, গিরা ফোলা, শ্বাস কষ্ট ইত্তাদি দেখা দেয়। সাধারনত হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়।

প্রতিরোধঃ

  • আপনার পোষা প্রাণীকে পরিস্কার রাখুন। এদের ত্বক নিয়মিত পরীক্ষা করুণ।
  • পোষা প্রানিকে টিকা দিন এবং আক্রান্ত প্রাণীকে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা প্রদান করুন।
  • আক্রান্ত প্রাণীকে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আলাদা রাখুন এবং শিশুদের নিকট থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখুন।
  • আপনি আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে ভুলবেন না ।



বিষাক্ত গরু, স্বাস্থ্যঝুঁকি, আমাদের করণীয় বর্জণীয়

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে আমাদের দেশের খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণের পরিকল্পনা নেয়। যদিও গরু মোটাতাজাকরণের জন্য স্বীকৃত স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু গরুকে দ্রুত মোটা ও ওজনদার করার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই খামারিরা অনৈতিকভাবে স্টেরয়েডসহ বেশ কিছু হরমোন প্রয়োগ করে থাকেন। বেশি ওজন মানেই বেশি মাংস; বেশি মাংস মানেই বেশি লাভ। গবেষকেরা বলছেন, হরমোন প্রয়োগে মোটাতাজা করা এসব পশুর মাংস খেলে মানুষের ব্রেস্ট, কোলন, প্রোস্টেট ও ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গরু মোটাতাজাকরণ একটি নিয়মিত ও প্রচলিত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত দুই থেকে আড়াই কেজি ইউরিয়া, লালিগুড় ও খড়ের একটি বিশেষ ধরনের মিকশ্চার খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকে সরকারের প্রাণিসম্পদ বিভাগ। টানা আট দিন কোনো পাত্রে এই মিকশ্চার মুখবন্ধ অবস্থায় রাখার পর, তা রোদে শুকিয়ে গরুকে খাওয়াতে হয়। একটানা ছয় মাস এটা খাওয়ালে গরু খুব দ্রুত মোটাতাজা হয়ে ওঠে। কিন্তু আরো দ্রুত ও বেশি মোটা করার আশায় খামারিরা প্রয়োগ করে থাকে স্টেরয়েডসহ আরো কিছু হরমোন ও মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া।

বাড়তি ইউরিয়ায় গরুর বিষক্রিয়া :

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দ্রুত মোটাতাজাকরণে গরুগুলোকে খেতে দেওয়া হয় অতিরিক্ত ইউরিয়া। কোনো গরুকে কয়েকমাস ধরে ইউরিয়া খাওয়ালে গরু দ্রুত দানব আকৃতি ধারণ করে। তবে এই সময়ের মধ্যে গরুর শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিডনি, লিভার, ব্রেইন নষ্ট হয়ে গরু মারা যেতে পারে। অতিরিক্ত ইউরিয়া বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ফলে গরুগুলো প্রাকৃতিকভাবে বেঁচে থাকার শক্তি হারিয়ে ফেলে। অনেক সময় হাটেই এইসব গরু মারা যায়। এই ধরনের গরুকে বিষাক্ত গরু বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউরিয়া বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত গরুর মাংস খেলে মানুষও ইউরিয়া বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। যার ফলে মূলত কিডনি বিকল হওয়ার মতো ঝুঁকিও থাকে।

গরুর হরমোন ইনজেকশনের ইতিহাস :

গরুকে মোটাতাজাকরণে ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায়, অনেক আগে থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃত্রিমভাবে তৈরি হরমোন প্রয়োগ করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গরুর মাংসপেশিতে হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয় কিংবা কানের চামড়ার নিচে পুঁতে দেওয়া হয়। কানের চামড়ার নিচে পুঁতে দেওয়া এই হরমোন ধীরে ধীরে একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করে থাকে। কৃত্রিমভাবে তৈরি ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরন ইনজেকশনই এক সময় বেশি প্রয়োগ করা হতো। ৭০ দশকের দিকে এই হরমোনে একটি উপাদান ডাইইথাইলস্টিলবেস্টেরল এর সঙ্গে যোনিপথের ক্যান্সার সৃষ্টির যোগসূত্র ধরা পড়লে তা নিষিদ্ধ করা হয়। এদিকে ইস্ট্রোজেনের সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর এই হরমোনটির প্রয়োগও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। ব্যবহৃত হরমোন এবং ঝুঁকি নিয়ে বির্তকের ঝড় : আরো বেশি নিরাপদ হরমোন খুঁজতে গিয়ে তৈরি হয় বোভাইন সোমাটোট্রপিন (বিএসটি) অথবা রিকম্বিনেন্ট বোভাইন গ্রোথ হরমোন (আরবিজিএইচ)। ১৯৯৩ সালে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) গরুর দুধ ও গরুর
দৈহিক বৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য কৃত্রিমভাবে তৈরি এই হরমোনের প্রয়োগকে অনুমোদন দিলেও, ইরোপিয়ান ইউনিয়ন, কানাডাসহ বেশ কিছু দেশ তা অনুমোদন দেয়নি। সম্প্রতি সারা বিশ্বেই খাবার হিসেবে
গ্রহণযোগ্য প্রাণীতে হরমোন  ইনজেকশন প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে ভোক্তারা সোচ্চার ও সচেতন ভূমিকা রাখছেন। অভিভাবকেরা মনে করছেন, হরমোনযুক্ত মাংস খাওয়ার কারণেই শিশুদের বিশেষ করে কন্যাশিশুদের মধ্যে আগাম যৌবনপ্রাপ্তি ঘটছে। কিন্তু হরমোন প্রয়োগ করার পর কিছুটা হরমোন যে পশুর মাংসে উচ্ছিষ্ট হিসেবে রয়ে যায়, এই বিষয়ে গবেষকদের মধ্যে কোনো মতভেদ না থাকলেও, উচ্ছিষ্ট হরমোনের কার্যকারিতা
নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞই। খামারিদের পক্ষ অবলম্বনকারী গবেষকদের কথা হচ্ছে, গরুর দুধ ও মাংসে উচ্ছিষ্ট এই হরমোনের মাত্রা এতটাই কম যে, তা ভোক্তার দেহে কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না।

গবেষকেরা বলছেন, উচ্ছিষ্ট অবস্থায় বিদ্যমান বোভাইন সোমাটোট্রপিন (বিএসটি) প্রকৃতপক্ষে একটি মৃত হরমোন, এর কোনো কার্যকারিতা থাকার কথা নয়। কিন্তু হরমোন নিয়ে এই বির্তক এখনো চলমান। কিছু কিছু গবেষকেরা দেখিয়েছেন, হরমোন ব্যবহার গরুর জন্য ক্ষতিকর। এসব হরমোন ব্যবহারে গরুর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশনের প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে গরুকে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হয়। অ্যান্টিবায়োটিকের উচ্ছিষ্ট অংশ গরুর মাংসেও বিদ্যমান। এই ধরনের গরুর মাংস খাওয়ার কারণে উচ্ছিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে মানুষের শরীরে উক্ত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জনকারী (রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া) জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়; যা ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে।

এই ধরনের রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সুস্থ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রভাব তো রয়েছেই। স্টেরয়েড ও গ্রোথ হরমোন শিশুর আগাম যৌবনপ্রাপ্তি ও মুটিয়ে যাওয়ার কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্টেরয়েড শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। বেশ কিছু গবেষণায়, গরুর মাংসের উচ্ছিষ্ট হরমোনের সঙ্গে মানুষের ব্রেস্ট, কোলন, প্রোস্টেট ও ফুসফুসের ক্যান্সার সৃষ্টির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। আমাদের দেশে হরমোনের চূড়ান্ত অপব্যবহার : আমাদের দেশে গরু মোটাতাজা করার বিজ্ঞানসম্মত ফর্মূলাকে উপেক্ষা করে কিছু অসাধু খামারি বেশি মুনাফার।

লোভে গরুর শরীরে ২৫ থেকে ৩০ আউন্স উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে থাকেন। ওরাডেকসন ও ডেকাসনের মতো স্টেরয়েড দিলে ২-৩ মাসের মধ্যেই গরুগুলো বিশাল আকৃতি ধারণ করে। গরুর শরীরে পানি জমতে থাকে। গরু ফুলে ফেঁপে অস্বাভাবিক ও বেঢপ আকৃতির হয়। প্রাণীবিদরা বলছেন, এ ধরনের গরু দেখলেই চেনা যায়। প্রাকৃতিকভাবে শক্তি সামর্থ্যের কোনো গরু যেমন তেজি ও গোয়ার প্রকৃতির হয়, এই গরুগুলো ঠিক।

উল্টোভাব, ধীর ও শান্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে। শরীরে ও আচরণে কোনো তেজি ভাবই লক্ষ করা যায় না। এসব হরমোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের দেশেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, রয়েছে শাস্তির বিধানও। কিন্তু আইনের প্রয়োগ কতটুকু হবে সে বিষয়ে সন্দিহান জনগোষ্ঠীর উচিত হবে, বিশাল আকৃতির অস্বাভাবিক মোটা গরুর প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে স্বাভাবিক আকৃতি ও গঠনের গরুকেই কোরবানির জন্য বেছে নেওয়া।




রূবেলা

রূবেলা নাম শুনলে আইসক্রীম আইসক্রীম মনে হয়, তাইনা! ভ্যানিলা, রূবেলা!!

আসলে এইটা একটা রোগের নাম। আরো কয়েকটা নাম আছে এই যেমন হাম (আমাদের দেশে), মিজলস, জার্মান মিজলস ইত্যাদি। এই রোগ এর উপসর্গ যদিও দেখতে প্রায় একই রকম কিন্তু ভিন্ন ভাইরাসে ভিন্ন রূপ দেখা দেয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আর বিভিন্ন দেশের সরকারের ঐকান্তিক চেষ্টায় এই রোগ প্রায় নির্মূল হইয়া গেছিল। কারন বাচ্চার জন্মের পরে প্রথম বছরের মধ্যেই যেই পাঁচটি রোগের জন্য ইম্যুনাইজেসন বা টিকার ব্যাবস্থা আছে তার মধ্যে একটা এই রূবেলা বা ‘হাম’। এই ইম্যুনাইজেশনরে “এম এম আর” (মিজলস + মাম্পস + রূবেলা) ও বলা হয়।

কিন্তু এই ইম্যুনাইজেসন ও তার বুস্টার ডোজ নেওয়ার গাফলতি তে এই রোগের প্রকোপ দেখা দিতাছে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায়। আজকের বিষয় রূবেলা বা হাম।

এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গ সর্দি সাথে উচ্চ মাত্রার জ্বর, নাকে পানি পড়া, হাঁচি, খসখসে গলা এবং জোরালো কাশি। ঘাড়ের লিম্ফনোড ফুইলা যাইতে পারে। অবসাদ লাগে, ডায়ারিয়া হইতে পারে, চোখ লাল ও জ্বলুনী হইতে পারে। উপসর্গ চইলা যাইতে পারে, মুখের ভিতরে লাল ছোপ থাকতে পারে এরপরে সারা শরীরে র্যাস দেখা দিবে। বাচ্চাদের চাইতে বড়দের এই রোগ হইলে কষ্ট আর উপসর্গ দেখা দেয় বেশী। এই রোগীর সংস্পর্শে আসার পরে ৭ থাইকা ১৮ দিন সময় লাগে আক্রান্ত হইতে। এইটারে ‘ইনক্যুবেশন’ পিরিয়ড কয়।13627086_10154103206492819_6411517735297623130_n

যদি অনুমান কর তোমার বা বাচ্চার হাম হইছে তাইলে দেরী না কইরা ডাক্তার মাম্মার কাছে নিয়া যাও। তিনি প্রাথমিক পরীক্ষা কইরা রক্ত ও ভাইরাল কালচারের পরীক্ষা দিতে পারেন নিশ্চিত ও রূপ নির্ণয় করার জন্য।

রূবেলা ভাইরাস বাতাসে ছড়ায়, আক্রান্ত রোগী হাঁচি কাশির সাথে ভাইরাস বাতাসে মিশা যায় আর একই বাতাস যখন তুমি নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহন কর তখনা তা তোমার শরীরেও প্রবেশ করে, রোগী খাবার শেয়ার করলেও এটা তোমার বা বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এই ভাইরাস মায়ের পেটের শিশুকেও আক্রান্ত করতে পারে। এই ক্ষেত্রে এইটা মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। বাচ্চা কনজেনিটাল রূবেলা সিন্ড্রোম নিয়া জন্ম নিতে পারে।

১৯৬৯ সালে এর প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগ শুরু হওয়ার আগে প্রতি ৬ থাইকা ৯ বছরে একবার ৫ থাইকা ৯ বছর বয়সী শিশুরা আক্রান্ত হইত এই রুবেলায়। বিশ্ব ব্যাপী এই প্রতিষেধক টিকার ব্যবহারের ফলে রুবেলা ও কনজেনিটাল রুবেলা সিন্ড্রোম নিয়া জন্মানো শিশুর সংখ্যা আশাব্যাঞ্জক কইমা গেছে।

এখন শিশুদের রূবেলা হইতে দেখা যায় না কিন্তু বয়ঃসন্ধির বাচ্চাদের এই রোগ দেখা যাইতাছে আর তাদের ১০% ভাগ ক্ষেত্রেই তারা প্রতিষেধক টিকা গ্রহনকারী না। এইটা বাকীদের জন্য একটা ঝুঁকির কারণ হইয়া দাঁড়াইছে।
রূবেলা ১/২ ৯৯ থাইকা ১০০ ডিগ্রী জ্বর, ঘাড়ের অথবা কানের পিছনের ‘লিম্ফনোড’ ফুইলা যাওয়া, চেহারায় র‍্যাস আভির্ভূত হওয়া শুরু হয় আর র‍্যাস শরীরের নিম্নাংগের দিকে যাইতে থাকে, তখন চেহারা পরিস্কার হইয়া যাইতে পারে। গোলাপী, লাল ছোপ ছোপ হইতে পারে র‍্যাশ। চুলকানি হইতে পারে দিন তিনেক থাকে এই উপসর্গ। র‍্যাস আক্রান্ত স্থান থাইকা চামড়ার উপরী ভাগ গুড়া হইয়া ঝইরা পরতে পারে।

একটু বড় বাচ্চা দের মাথা ব্যাথা, ক্ষুধামান্দ, মৃদু কনজাংটিভাইটিস (চোখ লাল) নাক বন্ধ বা পানি পড়া, মেয়েদের বেলায় হাড়ের জোড়ায় জোড়ায় ব্যাথা হইতে পারে আবার কারো এর কোন অভিযোগ নাও থাকতে পারে।
আগেই বলছি গর্ভবতী মায়ের দের রূবেলা হইলে গর্ভস্থ বাচ্চা কনজেনিটাল রূবেলা সিন্ড্রোম নিয়া জন্মাইতে পারে, তা থাইকা বাচ্চার বাইড়া উঠা, বুদ্ধিমত্তার স্থবিরতা, হৃদপিন্ডে বা চোখ, শ্রবণ শক্তি, লিভার, বোন ম্যারো বা অস্থিমজ্জার সমস্যা হইতে পারে।

এইটা ভীষন ছোয়াচে একটা ভাইরাস, আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি কাশির একটা সুক্ষ্ম ফোঁটা বাতাসে ভাইসা তোমার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। আক্রান্ত হবার প্রথম এক সপ্তাহ আর সুস্থ্য হবার আগের এক সপ্তা সবচাইতে বিপদজনক এই রোগ ছড়াইতে। বাচ্চা যদি কনজেনিটাল রূবেলা নিয়া জন্মায় তার মূত্রের সাথে, মুখের লালার সাথে এই ভাইরাস ছড়াইতে পারে, আর যারা এর প্রতিষেধক টিকা নেও নাই তারা আক্রান্ত হইতে পার।

এইরোগ খুব সহজেই প্রতিষেধক টিকা গ্রহনের মাধ্যমে এড়ানো যায়। সাধারনত বাচ্চা ভুমিষ্ঠ হবার পরেই ‘এম এম আর’ দেওয়া যায় তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই প্রথম ডোজ ১২ থেক ১৫ মাস বয়সের মাথায় দেওয়া হয় আরেক বার বুস্টার ডোজ হিসাবে বাচ্চার বয়স ৪ থাইকা ৬ এর মধ্যে দেওয়া হয়। এর ব্যতিক্রম ও আছে প্রয়োজন বিধায় ডাক্তার মাম্মার পরামর্শানুযায়ী আগেও দেওয়া যায়।

গর্ভাবস্থায় রূবেলা টিকা দেওয়া উচিত না, গর্ভ ধারনের চিন্তা থাকলে একমাস আগেই টিকা দিয়ে দেওয়া উচিত। রক্ত পরীক্ষা কইরাই বুঝা যাইতে পারে মা’র প্রতিষেধক টিকা দেওয়া আছে কিনা।

এই ভাইরাসের ‘ইঙ্ক্যুবেসন’ সময় ১৪ থাইকা ২৩ দিন গড়ে ১৬ থাইকা ১৮ দিন তার মানে একটা শিশুর শরীরে চিহ্ন দেখতে অথবা আক্রান্ত হইতে দুই থাইকা তিন সপ্তাহ লাইগা যাইতে পারে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার পরে।

রূবেলার র‍্যাস থাকে প্রায় তিন দিন, লিম্ফ নোড ফুলা আর ব্যাথা থাকে সপ্তাহ খানেক জোড়ায় ব্যাথা আরো সপ্তাহ দুই, বাচ্চারা সাধারনতঃ এক সপ্তাহেই ঠিক হইয়া যায় বয়স্কদের বেলায় সময় বেশী লাগে।

রূবেলা প্রাণঘাতী কোন রোগ না, এ্যন্টিবায়োটিকে কাজ হয় না কারন ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই অষুধ কাজ করে না যদি না অন্য কোন জটিলতা দেখা দেয়। রূবেলা নিজে নিজেই সাইরা যায়।

বাচ্চাদের হইলে জ্বরের দিকে খেয়াল রাখ, উচ্চ তাপে ও খিঁচুনি যেন না হয়, হইলে সাথে সাথে ডাক্তার মাম্মার স্মরণাপন্ন হও।

গর্ভবতী মায়েরা তাদের ‘অবস্ট্রেশিয়ান’ এর সাথে অবশ্যই দেখা কর।

বাচ্চাদের ‘এসিটোমেনোফেন’ অথবা ‘আইবুপ্রোফেন’ দেওয়া যাইতে পারে বোতলের গায়ে লেখা নির্দেশনা মত অথবা ডাক্তার মাম্মার পরামর্শ মত, কিন্তু কখনোই ‘এ্যাস্পিরিন’ জাতীয় কিছু দেওয়া যাবে না। (ভাইরাসাক্রান্ত বাচ্চাদের এ্যাস্পিরিন দেওয়া যাবে না অন্য সমস্যা দেখা দিবে)।

এইক্ষেত্রে দ্রুত ডাক্তার দেখাও। আগেই কইছ রূবেলা প্রাণঘাতী রোগ না কিন্তু ঘ্যান ঘ্যানে বাচ্চা কার পছন্দ, আর আমাগো জীবন বাচ্চাদের জন্যই উৎসর্গকৃত তাদের আরামের আর সুস্থ্যতার জন্য যতটুক করা যায়।

সব মায়েদের বাচ্চা নিরাপদ আর সুস্থ্য থাকুক।

সূত্রঃ আমার ডাক্তার বিমল অমরাসেকারা
WebMD




উচ্চ রক্তচাপ ও পটাশিয়াম চেরী

পটাশিয়াম চেরী জাপানের ফল হলেও আমাদের দেশে চেরির ব্যবহার অনেক আগে থেকে। সরাসরি খাওয়ার জন্য বা অন্য খাবারকে সুন্দর করে সাজাতে লাল টুকটুকে চেরির ব্যবহার চলছে সেই থেকেই। দেখতে লোভনীয় আর স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় চেরির কদর কমেনি, বরং বেড়ে চলেছে। অসাধারণ পুষ্টিগুণে ভরা দর্শনধারী চেরিফল। প্রতি ১০০ গ্রাম চেরিতে আছে ৬৩ গ্রাম ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ১৬ গ্রাম, প্রোটিন এক গ্রাম, ফোলেট চার গ্রাম, ভিটামিন সি সাত মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৬৪০ আইইউ, ভিটামিন কে দুই গ্রাম, পটাশিয়াম ২২২ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৩ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১১ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২১ মিলিগ্রাম

জেনে নেব চেরির স্বাস্থ্য উপকারী কিছু গুণ সম্পর্কে। 

চেরিতে থাকা পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপকমাতে সাহায্য করে। দেহে থাকা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগ কমাতেও চেরি সাহায্য করে। চেরিতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর। বাতের ব্যথা, মাথা ব্যথা ও মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে এই ফল সাহায্য করে। চেরি ফল নিয়মিত খেলে রক্তের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে। নিয়মিত চেরি খেলে ডায়বেটিক হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। চেরিতে থাকা মিলাটোনিন নামক উপাদান দেহের রক্ত চলাচলে সহায়তা করে।

ডাক্তার এর পরামর্শ আবশ্যক

(পটাশিয়াম অন্যান্য দীর্ঘ মেয়াদি রোগের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন,ক্রনিক কিডনি ডিজিজ)




গরমে ত্বকের সমস্যা

ত্বক মানব দেহের একক বৃহৎ অঙ্গ। শরীরের আবরণ হিসেবে কাজ করে বিধায় ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব সর্বাগ্রে ত্বকে পরিলক্ষিত হয়। ষড়ঋতুর প্রত্যেকটিতে আলাদাভাবে লক্ষণীয় পরিবর্তন না হলেও,শীত এবং গরমের প্রভাব ত্বকের উপর সুস্পষ্ট।

গরমে ত্বকের উপর পরিবর্তন দু’ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

সূর্যালোকের কারণে ত্বকের পরিবর্তন :

সূর্যালোকের কারণে ত্বকে সোলার ডার্মাটাইটিস বা সানবার্ন, সোলার একজিমা, সোলার আর্টিকেরিয়া, একনিটিক রেটিকুলয়েড, ত্বকের ক্যান্সার এবং মেছতা বা ক্লোজমা হতে পারে। সূর্যালোকের আলট্রা ভয়োলেট রশ্মিই সাধারণত এ জন্য দায়ী। গরমে সূর্যালোকের কারণে হিটস্ট্রোক বা সানবার্ন হতে পারে

গরমে সৃষ্ট ঘামের কারণে পরিবর্তন :

গরমের সঙ্গে বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ত্বকের সোয়েট গ্লানড  বা ঘর্মগ্রন্থি নিৎসরিত ঘাম তৈরি হয়। ঘামের কারণে ঘামাচি দেখা দেয়। এ ছাড়া ঘামে ডার্মাটাইটিস্, ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত  ত্বকের রোগ বিস্তার লাভ করে।

ব্যাকটেরিয়া জনিত যেমন ইমপেটিগো বা সামার বয়েল, ফলিকুলাইটিস, ইরাইসিপেলস, ফারাঙ্ককেল, কারবাংকেল ইত্যাদি। শিশুরা গরমে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয় যা সামার বয়েল  নামে পরিচিত।

গরম এবং আদ্র আবহাওয়ায় শরীরে প্রচুর ঘাম হয়ে থাকে যা ছত্রাক বা ফাঙ্গাসজনিত রোগের সঙ্ক্রামন বাড়িয়ে দেয়,এগুলোর মধ্যে  ক্যানডিডিয়াসিস, ইরাইথ্রাসমা, টিনিয়া ভারসিকলার, টিনিয়া ক্যাপিটিস, টিনিয়া পেডিস ,টিনিয়া কর্পোরিস বা দাদ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

আমাদের দেশে এ সময়ে মশার প্রকপ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে, যে কারনে মশাবাহিত রোগ যেমন ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়।

চিকিৎসা :

গরমে ত্বকের সমস্যা জটিল হতে পারে। কি ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, সেটি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে।

প্রতিরোধের উপায় :

  • সরাসরি সূর্যালোকে যাবেন না, ছাতা, হ্যাট এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

  • দীর্ঘক্ষণ সূর্যালোকে থাকবেন না,সান ব্লকের লসান ক্রিম  বা জেল ব্যবহার করুন।

  • ভারী জামা-কাপড়, টাইটফিট অন্তর্বাস পরিহার করুন।

  • নাইলন, পলিয়েস্টার ইত্যাদি সিনথেটিক পোশাক পরবেন না, সুতি এবং প্রাকৃতিক বস্ত্র ব্যবহার করুন,

  • একবার ব্যবহার করা পোশাক ও অন্তর্বাস পুনরায় ধৌত করার পর ব্যবহার করুন;

  • ঘাম তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে ফেলুন বা মুছে নিন, প্রয়োজনে গোসল করতে পারেন;

  • পানি ত্বকসুস্থ রাখতে সাহায্য করে,তাই প্রচুর পরিমানে পানীয় পান করুন।




চট্টগ্রামের ইউরিয়া সার কারখানায়, ৫০০ টন এমোনিয়া লিক

সময় ২ঃ০০ রাত। ২৩ অগাস্ট 
প্রথম আলোর রিপোর্টে দেখতে পাচ্ছি, চট্টগ্রামের ইউরিয়া সার কারখানায়, ৫০০ টন এমোনিয়া লিক হয়েছে । এখনো তেমন কোন জেনারেল এদ্ভাইজারি দেয়া হয় নাই।

আমার ওয়ালে বন্ধুরা রিপোর্ট করছেন, কোতওয়ালি, হালিশহর , আগ্রাবাদ অনেক এলাকাতেই মানুষের এখনো চোখ জ্বলছে বা গন্ধ লাগছে। হালিশহরে একজন বন্ধু জানিয়েছে তার বন্ধু চরম ভাবে বমি করছে।

২৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে, প্রথম আলো জানাচ্ছে। কিন্ত, আমার ধারণা আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরো অনেকেই হস্পিটালে যাবে। সকল ধরণের ডাক্তারদের এখন নিকটস্থ হসপিটালে রিপোর্ট করা উচিত।

কিছু তথ্য যা জানা দরকার:

ভারতের কোচিতে, ৯০ টন এমোনিয়া লিক ঘটেছিল, ২০১৬ সালের মার্চে। তাতে, ৫ মাইল পর্যন্ত এক্সলুশান জোন করা হয়েছিল এবং লোকজনকে এদ্ভাইজ করা হয়েছিল, এসি রুম এবং বদ্ধ ঘরের ভেতরে না থাকতে।
আই রিপিট। কোচি এমোনিয়া লিকের সময়ে পরিষ্কার ভাবে, ফ্লাটের ভেতরে এবং এসি রুমে না থাকতে বলা হয়েছিল।
http://www.thenewsminute.com/…/kochi-ammonia-leak-how-it-af…

প্রতিরোধ ব্যবস্থা:

আমি নীচের লিঙ্ক টার সহজবোধ্য ট্রান্সলেট করে দিচ্ছি, যেইটা নিউইয়রকে এমোনিয়ার প্রটেকশনের জন্যে পাব্লিক এডভাইজ।
https://www.health.ny.gov/…/chemical_terro…/ammonia_tech.htm

এমোনিয়া বাতাসের থেকে হালকা। তাই এই গুলো এক পর্যায়ে আকাসে উঠে যাবে এবং শুন্যে মিলিয়ে যাবে। কিন্ত, যদি হিউমিডিটি থাকে তবে, সেইটা লিকুইফাইড হয়ে ভুমির কাছে রয়ে যেতে পারে। এবং সেইটা বাতাসের সাথে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং মানুষকে ইম্প্যাক্ট করতে পারে। ।

এমোনিয়ার ইমিডিয়েট প্রভাব কি ?

নিঃশ্বাস। এমোনিয়া উচ্চ মাত্রায় গ্রহণ করলে (যেইটা এখন আর খুব সম্ভবত নাই। নাকের মধ্যে গলা এবং নিশ্বাসের রাস্তায় ইমিডিয়েট জ্বালা পোড়া করতে পারে। যার ফলে নিশ্বাসের কস্ট হতে পারে।

কম পর্যায়ের এমোনিয়া গ্রহণ করলে, কফ হতে পার,এ নাক এবং গলা জ্বলতে পারে। এমোনিয়ার গন্ধ খুব তীব্র তাই। এমোনিয়া উচ্চ পরিমানে থাকলে, আপনি তার গন্ধ টের পাবেন। আবার অনেক ক্ষণ ধরে, উচ্চ পরিমাণ এমোনিয়া থাকলে, সেই গন্ধটা সহনীয় হয়ে গিয়ে আপনি টের নাও পেতে পারে।

বাচ্চাদের শরিরের তুলনায় ফুস্ফুস বড় হওয়াতে, তারা বড়দের থেকে বেশী পরিমাণ এমোনিয়ে গ্রহণ করতে পারে।

চোখ এবং ত্বকে প্রভাব:
কম মাত্রার এমোনিয়ার এক্সপজার হলে, চোখ এবং ত্বক জ্বলতে পারে। উচ্চ মাত্রার এমোনিয়া হলে, অনেক বেশী জ্বলবে।
খুব বেশী উচ্চ মাত্রায় হলে, ত্বক জ্বলে যেতে পারে এবং চোখের ক্ষতি হতে পারে। (যেইটা নিয়ে ভয়ের কিছু নাই। কারণ, এইটা এখন নিঃসন্দেহে নাই।)

কিভাবে এমোনিয়ার এক্সপোজার নিরাময় করা হয়: 
এমোনিয়া এক্সপজারের কোন ইমিডিয়েট ওষুধ নাই। কিন্ত, এমোনিয়া এক্সপজার নিরাময় করা যায় এবং রোগী রিকাভার করবে।
চোখ এবং ত্বকে ব্যাপক পরিমাণ পানি দিয়ে, প্রথম ডিকমানিটেশান বা যে কিছু লেগে গ্যাছে, সেইটা দূর করতে হবে। পানির এই চিকিতসা খুব গুরুত্তপুরন।
এইটা ছাড়াও humidified oxygen, bronchodilators and airway management করা যেতে পারে।

নীচের এই লিঙ্কের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায়, আরো অনেক এক্সপার্ট পরামর্শ আছে। কিন্ত, জেনারেল পাব্লিকের জন্যে জেনারেল আডভাইজারিটাই আমি ট্রান্সলেট করলাম।
আরো জানতে চাইলে, এই লিঙ্কের দুই পৃষ্ঠায় পড়েন।
http://www.cdc.gov/niosh/docs/81-123/pdfs/0028-rev.pdf

আর কিছু সাধারণ পরামর্শ:

১। এসি রুম এবং বদ্ধ ঘরে থাকবেন না। কারণ এমোনিয়া বাতাস থেকে হালকা, খোলা বাতাসে এইটা উপরে চলে যাবে। কিন্ত, ঘরের মধ্যে আটকে যাবে।
http://www.thenewsminute.com/…/kochi-ammonia-leak-how-it-af…

২। চোখ জললে এবং ত্বক জ্বললে ১৫ মিনিট ধরে পানি দিতে বলা হয়েছে।
https://medlineplus.gov/ency/article/002759.htm

৩। এমোনিয়ার গন্ধ টের পাবেন। যদি বেশী গন্ধ না পান। প্যানিক করবেন না।
এমোনিয়া বাতাসে উড়ে যাবে।




হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় কেন আই সি ইউ (ICU)

কারণ একমাত্র হৃদচিকিৎসার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটেই থাকে হার্ট অ্যাটাকের রোগীর চিকিৎসা ও রোগীর ওপর টানা পর্যবেক্ষণের দক্ষ আধুনিকতম ব্যবস্থা।

শুধু বেসরকারি হাসপাতালে নয়, এখন বড় সরকারি হাসপাতালেও এরকম বেশ কিছু ইউনিট দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে চলেছে। এরকম ইউনিটে ভর্তি হলে রোগীর যে-কোনও জটিলতা মুহূর্তে ধরা পরে, জটিলতার চিকিৎসাও শুরু হয় এতটুকু কাল বিলম্ব না করে। যে-কোন হার্ট অ্যাটাকে আই সি ইউ-র চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা কমে, বাড়ে বাঁচার আশা।

যে-কোনও এরকম ইউনিটে থাকেন হৃদ চিকিৎসায় বিশেষভাবে দক্ষ ও প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত বেশ কিছু চিকিৎসক ও একদল নার্স। অনেক সময় থাকেন রোগীর বিশষ প্রয়োজন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একদল স্বাস্থ্যকর্মীও। বেশির ভাগ এরকম কেন্দ্রে থাকে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত আরামদায়ক স্বস্তিকর পরিবেশ। প্রত্যেক রোগীর হৃদযন্ত্রের অবস্থা, হালচাল বুঝতে থাকে ধারাবাহিক ই সি জি মনিটরিং-এর ব্যবস্থা। বড় কেন্দ্রে এরকম নজরদারি  বা মনিটরিং হয় ক্লোজড সার্কিট টিভি [ Ociloscopic Electrocardiographic Closed Circuit Television]  সাহায্যে।  টিভির পর্দায় চোখ রেখে হৃদ যন্ত্রের প্রত্যেক মুহূর্তের অবস্থার ওপর নজরদারি চালান চিকিৎসক, এমনকি দক্ষ সেবিকারাও। থাকে নাড়ীর গতি, রক্তচাপ, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ইত্যাদি প্রত্যেক মুহূর্তে রেকর্ড করার নানা ধরনের আধুনিক যন্ত্র ।

রক্তচাপ বা হার্ট রেট খুব কমে গেলে বা হার্ট হঠাৎ করে থেমে গেলে [ Cardiac Arrest ] বেজে ওঠা অ্যালার্ম সে ব্যাপারে সতর্ক করে চিকিৎসককে। একজন বা দুজন চিকিৎসক থাকেন সবসময়। থাকে নিলয়ের স্পন্দনে মারাত্মক ছন্দপতন বা ভেনট্রিকুলার ফিব্রিলেশন দেখা দিলে ওই সমস্যা দূর করার যন্ত্র ডিফিব্রিলেটর। ব্যবস্থা থাকে আকস্মিক হৃদস্তব্ধতা [Sudden Respirarory Arrest]-য় হৃদযন্ত্রকে আবার বাইরে থেকে চাপ দিয়ে সচল করার যন্ত্র ‘এক্সটারনাল কার্ডিয়াক কম্প্রেসর’-এর ব্যবস্থাও থাকে। শ্বাসবন্ধ হয়ে যাবার পরও রোগীকে বাঁচানো যায় এরকম আধুনিক প্রযুক্তিযুক্ত যন্ত্রের সাহায্যে।

হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা বাড়ে হৃদ স্পন্দনে ছন্দ পতন, শক, হার্ট ফেইলিওর, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা পালমোনারি এডিমার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিলে সমস্যার দ্রুতলয়, আধুনিকতম চিকিৎসায়। বিশেষ করে, হার্ট ফেইলিওর ও নানা ধরনের অ্যারিদমিয়ার নিয়ন্ত্রণে একটানা নজরদারির পাশাপাশি দক্ষ চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীর  প্রয়োজন হয় বিশেষভাবে। দেখা গেছে বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাক আক্রান্ত রোগীদের শতকরা প্রায় সত্তর জন হৃদস্পন্দনের নানা ধরনের অনিয়ম বা অ্যারিদমিয়ার আক্রান্ত হন।

শতকরা প্রায় পনেরোজন রোগী আক্রান্ত হন নিলয়ের স্পন্দনে মারাত্মক গোলযোগ [ ভেনট্রিক্যুলার ফিব্রিলেশন ]-এ, দ্রুত যে সমস্যার চিকিৎসায় আটকে দেওয়া যায় হৃদযন্ত্র আকস্মিক স্তব্ধ হয়ে যাবার বা আবার এর গোলোযোগ দেখা দেবার আশঙ্কা। হার্ট অ্যাটাকের গুরতর বা জীবনঘাতী সমস্যা গুলা দেখা দেওয়া মাত্র ধরে ফেলে উপযুক্ত চিকিৎসা হলে ইনফার্কশন জনিত মৃত্যুর হার কমানো যায় অনেকটাই। এর জন্য দরকার হৃদযন্ত্রের কাজকর্মের ওপর ধারাবাহিক যন্ত্রনির্ভর পর্যবেক্ষণ, একদল দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স, হাতের কাছে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও আধুনিক যন্ত্রপাতি। এরকম ব্যবস্থা একমাত্র বড় হাসপাতালের আধুনিক  আই সি ইউ-তেই পাওয়া সম্ভব।

সুধুমাত্র একগাদা আধুনিক যন্ত্র এরকম আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্রে ডাক্তার নার্স স্বাস্থ্য কর্মীদের দক্ষ তথা সুসংহত ‘টিম ওয়ার্ক’- এর বিকল্প হতে পারে না। বড় ও সুপরিচালিত এরকম ইউনিটগুলোতে দাক্তাররা তো বটেই, হৃদ সমস্যা ও জটিলতা ধরতে ও বিপদ কাটাতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত নার্সরা থাকেন। এঁরা হৃদস্পন্দনে ছন্দ ফেরানো ওষুধ [অ্যান্টি অ্যারিদমিক ড্রাগস, যেমন লিডোকেইন]- এর মাত্রা অ্যারিদমিয়ার অবস্থা অনুযায়ী কমাতে বাড়াতে পারেন দক্ষতার সাথে। নিলয়ের ফিব্রিলেশন দেহা দিলে ডিফিব্রিলেটর ব্যবহারেও ( এতে হৃদযন্ত্রে নির্দিষ্ট মাত্রায় DC শক দিয়ে ওই জটিলতা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়) এঁদের দক্ষতা থাকে। হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে মারাত্মক ওই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে আনতেও এঁদের বিশেষ প্রশিক্ষন থাকে।

এরকম সুদক্ষ সেবিকারা ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক আসার আগেই অনেক রোগীর প্রান বাঁচাচ্ছেন দক্ষতার গুনে, এরকম ঘটনা বড় কেন্দ্রগুলোতে প্রায়ই ঘটে।

শুধুমাত্র দক্ষ চিকিৎসকদের নয়, সুদক্ষ, বিশেষ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত সেবিকাদের আন্তরিকতা আর তৎপরতাও আই সি সি ইউ-তে থাকা হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের কারও কারও জীবন বাচায়। রোগী মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে আসেন জীবনের আলোয়। মৃত্যুর অবসন্ন অন্ধকার থেকে জীবনের উৎফুল্ল আলোয়, আড়ম্বরে।

যে-কোন হার্ট অ্যাটাকের রোগীর অন্তত প্রথম কয়েক দিনের চিকিৎসার আদর্শ জায়গা হিসাবে এরকম ইনটেনসিভ করোনারি কেয়ার ইউনিটের কোনও বিকল্প নেই, থাকতে পারে না। দুর্ভাগ্যবশত এ রাজ্যে এরকম ইউনিতগুলো এখনও পর্যন্ত বড় শহর আর মহানগরীতেই সীমাবদ্ধ। সরকারি স্তরে জেলা বা মহকুমা হাসপাতালে এরকম ব্যবস্থা চালু হলে ভবিষ্যতের বহু হার্ট অ্যাটাকের রোগী ফিরে পাবেন অমূল্য জীবন। হৃদরোগ মহামারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এরকম ইউনিতগুলো লড়তে পারবে জোরদার লড়াই।

অদূর ভবিষ্যতে।




বাংলাদেশে বছরে ১০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন

বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ১০ হাজার লোক আত্মহত্যা করেন, যাঁদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি ৷ বয়সের হিসেবে তরুণ-তরুণীরাই বেশি আত্মঘাতী হচ্ছেন ৷ তবে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এর চেয়ে আরো ১০ গুণ বেশি মানুষ ৷

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিচার্স বাংলাদেশ ২০১৩ সালে এক জরিপ চালিয়ে দেখে যে, প্রতিবছর দেশে গড়ে ১০ হাজার লোক আত্মহত্যা করে৷ বিভিন্ন বয়স, লিঙ্গ, পেশা এবং ভৌগলিক অবস্থানের নিরিখে ৮ লাখ ১৯ হাজার ৪২৯ জনের ওপর সরাসরি জরিপ চালিয়ে তারা এই তথ্য প্রকাশ করেন ৷ শহরের চেয়ে গ্রামে আত্মহত্যার হার ১৭ গুণ বেশি ৷ গ্রামে যাঁরা আত্মহত্যা করেন, তাঁদের বড় অংশ অশিক্ষিত এবং দরিদ্র।

নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ৷ বাংলাদেশে নারীদের ওপর শারীরিক, যৌন ও মানসিক নির্যাতন এবং ইভটিজিং-এর ঘটনা বাড়ায় অনেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে আত্মহত্যা করছেন ৷ এঁদের মধ্যে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি নারীরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ।

এছাড়া ২০১৪ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করেন৷ তাদের হিসেবে, ঐ বছর ফাঁসিতে ঝুলে ও বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন ১০ হাজার ১২৯ জন ৷ এঁদের মধ্যে একটা বড় অংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে৷ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আত্মহত্যা করছেন ২১-৩০ বছর বয়সিরা। এর মধ্যেও নারীর সংখ্যা বেশি ।

যাঁরা আত্মহত্যা করেন তাঁদের ৯৫ ভাগই কোনো না-কোনো মানসিক রোগে ভোগেন৷ মানসিক বোগের সঠিক চিকৎসা করা গেলে আত্মহত্যা কমবে৷ মাদকাসক্তি আত্মহত্যা প্রবণতার জন্য একটি বড় কারণ৷ তাই মাদকাসক্তদের চিকিৎসা এবং মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া দরকার।

আত্মহত্যা নিয়ে গোটা বিশ্বে উদ্বেগ আছে ৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ১৫-৪৪ বছর বয়সি জনগোষ্ঠীর মৃত্যুর প্রধান তিনটি কারণের একটি হলো আত্মহত্যা৷ ডাব্লিউএইচও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্বে প্রতিবছর সাড়ে ১৫ লাখ মানুষ আত্মঘাতী হবেন৷ আত্মহত্যার চেষ্টা চালাবেন এর কমপক্ষে ১০ থেকে ২০ গুণ মানুষ।

তথ্যসূত্রঃ ডিডাব্লিউ(DW) 13 July 2016




বুকজ্বালা (বিস্তারিত আলোচনা)

জীবন ধারা ও গার্হস্থ্য নিরাময়

 . আপনার জীবন ধারা কী আপনার বুকজ্বালার কারণ ?

বুকজ্বালার সময় আপনার বুকে আগুন লেগেছে এরকম একটা অনুভূতি সৃষ্টি করে, বুকজ্বালা প্রতিরোধে জীবন ধারায় নিম্ন লিখিত পরিবর্তন আনুন-

০১. অতিরিক্ত ওজন কমান

০২. ধূমপান ত্যাগ করুন

০৩. আঁটসাঁট পোষাক পরবেন না

০৪. বুকজ্বালা ঘটায় এমন সব খাদ্য পানীয়, যেমন এলকোহল, চর্বিযুক্ত খাদ্য, চকোলেট এবং মিন্ট এড়িয়ে চলুন

০৫. খাবার গ্রহণের পর পরই শুয়ে পড়বেন না

০৬. আপনার বিছানার মাথার দিক উঁচু করুন

শরীরের ওজন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ: সাফল্য লাভের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন

সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা প্রণয়ন আপনার চিন্তাকে বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করবে, কি করে ওজন কমানোর জন্য লক্ষ্য স্থির করতে হবে এখানে তা আলোচনা করা হয়েছে।

ওজন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণের অর্থ হল সফলতা এবং ব্যর্থতার মধ্যকার পার্থক্য নির্ধারণ করা। বাস্তবসম্মত, সুপরিকল্পিত ওজন হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারণের ফলে আপনি আরও বেশী মনোযোগী ও উৎসাহী হয়ে উঠবেন। স্বাস্থ্যকর জীবন ধারায় উত্তরণের প্রক্রিয়ায় এগুলো আপনাকে পরিবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণে সাহায্য করবে।

কিন্তু ওজন কমানোর সকল লক্ষ্যসমূহ উপকারী নয়। অবাস্তব ও অতিমাত্রায় ব্যাপক ওজন হ্রাস এর লক্ষ্য আপনার ক্ষতি করতে পারে। যেমন আপনি যদি সপ্তাহে দশ পাউন্ড ওজন কমাতে চান তাহলে তা হবে আপনার প্রচেষ্টায় বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বপ্ন দেখা ভালো। তবে বুদ্ধিদীপ্ত ও সুবিবেচক হোন এবং নিম্নের পরামর্শগুলো অনুসরণ করে আপনার ওজন হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন, যা আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাহায্য করবে।

লক্ষ্য স্থির করুন

যখন লক্ষ্য নির্ধারণের পরিকল্পনা করবেন তখন সব কিছু লিখে রাখুন এবং সমস্ত বিস্তারিত বিষয় গুলো মেনে চলুন। কখন ও কোথায় এটা করবেন? আপনার কাজের তালিকায় হাঁটার বিষয়টি কখন থাকবে? শুরু করার জন্য আপনার কি প্রয়োজন? এভাবেই আপনি আপনার অগ্রগতির ওপর নজর রাখতে পারেন যাতে করে আপনি বুঝতে পারেন আপনার লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে কি না।

পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য স্থির করুন

পরিমাপযোগ্য বলতে আমরা বোঝাতে চাইছি কতটা দূরে আপনি হাঁটতে যাচ্ছেন? কতক্ষণ? প্রতি সপ্তাহে কতদিন? এ সব ক্ষেত্রে আপনার অগ্রগতি কেমন, তা পরিমাপ করুন।

প্রতি সপ্তাহে আপনি আপনার অগ্রগতির পর্যালোচনা করুন। গত সপ্তাহে আপনি কি আপনার লক্ষ্য অর্জনের পথে সফল হয়েছিলেন? ভেবে দেখুন আপনার পরিকল্পনার কোন অংশ কাজ করেছিল, কোন অংশটি করেনি, এসব পরিমাপের পর পরবর্তী সপ্তাহে লক্ষ্য অর্জনে আপনার পরিকল্পনা স্থির করুন।

আপনার পক্ষে অর্জনযোগ্য প্রাসঙ্গিক লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

এমনভাবে লক্ষ্য স্থির করুন যা আপনার সামর্থের মধ্যে অর্জন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে আপনার সীমাবদ্ধতা গুলো বিবেচনায় রাখুন । আপনার ব্যক্তিগত শারীরিক সক্ষমতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, সময়ের লভ্যতা এবং আপনার আগ্রহ বিবেচনায় রাখুন।

বর্তমান ওজনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ হ্রাস করা অনেক মানুষের জন্য একটি যুক্তিসঙ্গত লক্ষ্য হতে পারে।  সপ্তাহে এক থেকে দুই পাউন্ড (০.৫ থেকে ১ কিলো) ওজন হ্রাসের পরিকল্পনা করতে পারেন। এতে যদিও প্রথম ১-২ সপ্তাহে আপনার ওজন হ্রাসের হার দ্রুততরও হয়।

সময় সম্পর্কে ভাবুন

সময় নিরূপণ অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আপনার সাফল্য ও ব্যর্থতার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। আপনার ওজন হ্রাস কর্মসূচী শুরু করার জন্য একটা নির্দিষ্ট দিন বেছে নিন এবং ঐ দিনটি মিস করবেন না। জীবনের নানা পরিস্থিতি যেমন; আপনার কর্মক্ষেত্র ও স্কুলের সাথে সংশ্লিষ্টতা, ছুটি ও সম্পর্কের টানাপোড়েন, যা আপনার প্রচেষ্টার পথে বাধা হতে পারে তা হিসাবে আনতে হবে এবং এসব কিছু বিষয় আপনাকে কার্যক্রম শুরুর আগেই সেরে নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য স্থির করুন, স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য আপনাকে প্রতিদিনের লক্ষ্য অর্জনে নিয়োজিত রাখবে এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য আপনাকে দীর্ঘযাত্রায় অনুপ্রাণিত করবে। স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য হবে আপনার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনের সোপান।

প্রক্রিয়ার ওপর নজর দিন

চূড়ান্ত ফলের চাইতে আপনার করণীয় লক্ষ্যের ওপর বেশী গুরুত্ব দিন। ‘সপ্তাহে তিন বার ব্যায়াম করা’-করনীয় লক্ষ্যের একটি উদাহরণ “ওজন ১৪৫ পাউন্ড এ স্থির করা” এটা হচ্ছে চূড়ান্ত ফলাফলের উদাহরণ। আপনার কাজকর্ম প্রক্রিয়ার পরিবর্তন- আপনার দৈনন্দিন কার্যক্রম ও অভ্যাস পরিবর্তন- এগুলো হল ওজন হ্রাসের মূল চাবিকাঠি, শুধুমাত্র ওজন মাপার স্কেলে কাঙ্খিত সংখ্যা অর্জন করাই গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ব্যর্থতার সম্ভাবনার কথা মনে রেখে  পরিকল্পনা করুন

স্বভাব পরিবর্তনের সময় ব্যর্থতা বা বিপর্যয় একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। প্রত্যেক নারী বা পুরুষ যারা সাফল্যের সাথে জীবনযাপনের প্রক্রিয়াতে পরিবর্তন এনেছেন, তারা ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছেন। সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাগুলো, যেমন ছুটির দিনে ভুরিভোজ বা অফিস পার্টির ভোজ ইত্যাদি প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ সকল বিষয় মাথায় রেখে ভেবে চিন্তে সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল অবলম্বন  করে আপনি আপনার অনুশীলন বজায় রাখতে পারেন।

প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার লক্ষ্য পুনঃবিবেচনা এবং সমন্বয় করুন

ওজন হ্রাস পরিকল্পনায় আপনি যখন অগ্রগতি সাধন করবেন তখন আপনার লক্ষ্য পরিবর্তনের কথা ভাবুন। যদি আপনি ছোট করে শুরু করে থাকেন,  তাহলে বৃহত্তর চ্যালেঞ্জের ঝুঁকি নেবার জন্য আপনাকে তৈরি থাকতে হবে অথবা আপনাকে জীবন যাপনের নতুন প্রক্রিয়ার সাথে খাপ খাইয়ে লক্ষ্য পুনঃ সমন্বয় করে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

. প্রতিরোধ

পেট ফাঁপা, ঢেকুর তোলা এবং অন্ত্রে গ্যাস: কি করে এড়ানো যায়

পেট ফাঁপা, ঢেকুর তোলা এবং গ্যাসের ব্যথা অস্বস্তিকর ও কষ্টদায়ক হতে পারে। এসকল লক্ষণ কেন ঘটে এবং আমরা কিভাবে প্রতিরোধ করতে পারি তা আমরা এখানে বলার চেষ্টা করেছি।

পেট ফাঁপা, ঢেকুর তোলা এবং বায়ু নিঃসরণ করা স্বাভাবিক ব্যাপার যা সাধারণত যে বাতাস আমরা গিলে ফেলি অথবা পরিপাক ক্রিয়ার সময় খাদ্যের ভাঙ্গনের ফলে তৈরি হয়। আপনি মাঝে মধ্যে বা একদিনে বার বার গ্যাস ও গ্যাসের ব্যথা অনুভব করতে পারেন।

গ্যাস ও গ্যাসের ব্যথা যখন আপনার দৈনন্দিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটায়, তখন বুঝতে হবে কোথাও কিছু সমস্যা আছে। কিভাবে গ্যাস ও গ্যাসের ব্যথা কমানো বা এড়ানো যায় এবং কখন আপনাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে তা নির্দিষ্ট করুন ।

পেট ফাঁপা: আপনার পাকস্থলী অন্ত্রে গ্যাস তৈরি হওয়া

ঢেকুর তোলা বা বায়ু নিঃসরণের মাধ্যমে যখন গ্যাস বের হতে পারে না, তখন তা পাকস্থলী ও অন্ত্রে জমা হয় এবং তখন পেট ফাঁপে। পেট ফাঁপলে আপনার তলপেটে ব্যথা অনুভূত হতে পারে, এই ব্যথা প্রথমে মৃদু ও অস্পষ্ট হতে পারে এবং ক্রমে তা বেড়ে তীক্ষ্ণও হতে পারে। বায়ু নিরসরণ ও মলত্যাগের মাধ্যমে ব্যথা উপশম হতে পারে।

নিম্নোক্ত বিষয়ের সাথে পেট ফাঁপার সংযোগ থাকতে পারে-

  • চর্বিযুক্ত খাদ্য যা গ্রহণের ফলে আপনার পাকস্থলী খালি হতে বিলম্ব হয় এবং আপনি অস্বস্তি বোধ করেন,
  • কার্বনযুক্ত পানীয় যা সাধারণ ভাবে কোল্ড ড্রিংঙ্কস্ নামে পরিচিত তা গ্রহণ বা গ্যাসীয় (গ্যাস সৃষ্টি করতে পারে এমন খাবার) খাদ্য গ্রহণ,
  • খুব তাড়াতাড়ি খাওয়া, ষ্ট্রয়ের মাধ্যমে পান করা, চুইংগাম চিবানো ও ক্যান্ডি চোষা এ সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের পেটে বাতাস ঢোকে,
  • অতিরিক্ত উদ্বেগ বা মানসিক চাপ,
  • ধূমপান,
  • পাকস্থলী/অন্ত্রের সংক্রমণ, অন্ত্রের ব্লক ও রোগ
  • ইরিটেবেল বাওয়েল সিনড্রোম- পেটের একটি রোগ যার ফলে পেটে ব্যথা, কামড় হতে পারে এবং তা অন্ত্রের ক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে,
  • সেলিয়াক রোগ (অন্ত্রে ক্ষতিসাধন হয়েছে এমন) অথবা যাদের ল্যাকটোস (দুধে পাওয়া যায়) অসহনীয়তা আছে তাদের ক্ষেত্রে অন্ত্র খাদ্যের কোন কোন অংশ হজম করতে বা বিশোষণ করতে পারে না, এরকম অবস্থায় পেট ফাঁপে।

পেট ফাঁপা কমাতে গ্যাস সৃষ্টি করে এমন সব খাদ্য গ্রহণ আপনাকে এড়াতে হবে বা কমাতে হবে। অনেক শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্যাস তৈরি করে যার মধ্যে নীচের খাবার গুলো বেশী দায়ী:

  • বিন বা শিম
  • ব্রোকোলি
  • ব্রুসেলস্ স্প্রাউট
  • বাঁধাকপি
  • কার্বনযুক্ত পানীয়
  • ফুলকপি
  • চুইংগাম
  • আপেল, পীচফল ও নাশপাতির মত ফল
  • শক্ত ক্যান্ডি
  • লেটুস পাতা
  • দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য
  • পেঁয়াজ
  • সুগার ফ্রি খাবার থেকে সুগারের এলকোহল (যেমন সরবিটল, ম্যানিটল বা জাইলিটল)
  • পূর্ণ শস্যদানা যেমন গম, যব, ওট, ভুট্টা, ইত্যাদি থেকে তৈরি খাদ্য

ঢেকুর: অতিরিক্ত বাতাস থেকে মুক্তি

আপনার দেহ থেকে অতিরিক্ত বাতাস বের করে দেবার জন্য দেহ যে পদ্ধতির আশ্রয় নেয়, তাকেই ঢেকুর বলে। বাতাস গিলে ফেলার কারণে এই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াটি হয়। আপনি যদি দ্রুত খান বা পান করেন, খেতে খেতে কথা বলেন, গাম চাবান, শক্ত ক্যান্ডি চোষেন, কার্বনযুক্ত কোমল পানীয় পান করেন অথবা ধূমপান করেন তাহলে আপনি অতিরিক্ত বাতাস গিলে ফেলতে পারেন।

এসিডের রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রো ইওসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজের (GERD) একই প্রভাব ফেলতে পারে। যদি পাকস্থলীর এসিড আপনার ইওসোফেগাসে উঠে আসে, তাহলে তা পরিষ্কার করতে  আপনি বারবার গিলবেন। এর ফলে আরো বাতাস গেলা হবে এবং আরো ঢেকুর উঠবে।

কিছু লোক স্বাভাবিক অভ্যাস হিসাবে বাতাস গেলে, এমনকি যখন তারা খাবার গ্রহণ বা পানি পান করে না তখনও ।  অন্যান্য ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ঢেকুর পাকস্থলীর অভ্যান্তরীণ আবরণের প্রদাহ (গ্যাসট্রাইটিস) সাথে সম্পর্কিত কিংবা সংক্রমণের জন্য দায়ী পাকস্থলীতে খত সৃষ্টিকারী হেলিকোব্যাকটর পাইলোরির নামক এক ধরনের  জীবাণু জড়িত থাকতে পারে।

আপনি ঢেকুর কমাতে পারেন, যদি আপনি

  • ধীরে খান এবং পান করেন। সময় নিয়ে খেলে বা পান করলে আপনি কম বাতাস সেবন করবেন।
  • কার্বনযুক্ত পানীয় (কোল্ড ড্রিংস) ও বিয়ার এড়িয়ে চলুন কারণ এরা কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করে।
  • চুয়িংগাম ও শক্ত ক্যান্ডি গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। কারণ যখন আপনি কোন গাম চর্বন করেন বা শক্ত ক্যান্ডি চোষেন তখন আপনি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী ঘন ঘন গিলে থাকেন এবং আপনি যা গিলে নেন তার একটা অংশ বাতাস।
  • ধূমপান করবেন না, কারণ আপনি যখন ধোঁয়াটা শ্বাস হিসাবে গ্রহণ করেন, তখন আপনি বাতাসও শ্বসন করেন এবং গিলে নেন।
  • আপনার বাঁধানো দাঁত পরীক্ষা করুন; ভালভাবে খাপ খায় না, এমন বাঁধানো দাঁত দিয়ে আপনি যখন খান বা পান করেন, তখন একই সাথে আপনি অতিরিক্ত বায়ু সেবন করে ফেলেন।
  • বুকজ্বালার চিকিৎসা করুন। কখনও কখনও হাল্কা ধরনের বুকজ্বালার জন্য দোকান থেকে কেনা এন্টাসিড বা অন্যান্য প্রতিকারক সহায়ক হতে পারে কিন্তু GERD-এর জন্য আপনার চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রেসক্রিপশনের ঔষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা দরকার হবে।

বুকজ্বালা না হার্ট অ্যাটাক : কখন উদ্বিগ্ন হবেন? জানতে ক্লিক করুন [এখানে]