জেস্টেসনাল ডায়াবেটিস Gestational Diabetes – গর্ভকালীন ডায়াবেটিস

নাম পড়লেই কাম বুঝার কথা! গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, অর্থাৎ যখন কোন মহিলা গর্ভধারন করে তখন সে ডায়াবেটিক হইতে পারে। মানে এইটা শুধু মেয়েদেরই হয় আর এইটা শুধুমাত্র গর্ভকালীন সময়েই হয়। সংক্ষেপে গর্ভকালীন সময়ে প্রসুতীর রক্তে শর্করার পরিমান বাইরা গেলে যা কিনা গর্ভধারনের আগে স্বাভাবিক ছিল তারে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা জেস্টেসনাল ডায়াবেটিস কয়।

উক্কে তোমার জেস্টেসনাল ডায়াবেটিস হইছে এখন কি তোমার প্রেগ্ন্যান্সী ঝুঁকিপূর্ন হইল? নাহ, জেস্টেসনাল ডায়াবেটিস থাকলেও তোমার ডাক্তার এর সহায়তায় আর শুধুমাত্র রক্তে সুগার লেভেল ম্যানেজ করলেই সুস্থ্য বাচ্চা জন্মাইব। বাচ্চা জন্মাইবার পরে জেস্টেসনাল ডায়াবেটিস আপনাআপনই সাইরা যায়, যদি না সারে তাইলে ডায়াবেটিস টাইপ ২ (Diabetes Mellitus Type 2) রোগ রূপে দেখা দিতে পারে। কিন্তু হইবোই এমন কোন কথা নাই।

প্রসংগ ক্রমে বলা যায় ডায়াবেটিস আসলে দুই প্রকার ডায়াবেটিস টাইপ ১ (Diabetes Mellitus Type 1)- যেই ক্ষেত্রে অগ্নাশয় বা প্যাঙ্ক্রিয়াস Pancreas ইনসুলিন Insulin তৈরী করে না, ইনস্যুলিন যা রক্ত থাইকা চিনি দুর করেনা।

ডায়াবেটিস টাইপ ২ যেই ক্ষেত্রে প্যাঙ্ক্রিয়াস যথেস্ট ইনস্যুলিন তৈরী করে না যাতে রক্তের চিনি দূরীভুত করতে পারে।
একটা কথা বলা ভালো ডায়াবেটিস টাইপ ১ হঠাৎ কইরা হইতে পারে না, এইটা জন্মগত! কিন্তু মানুষের লাইফ স্টাইলের কেচালে ডায়াবেটিস টাইপ ২ হয়।

গর্ভকালীন অবস্থায় মায়ের শরীরে পুরাই ওলট পালটা অবস্থা হয়। আরেকটা জীবনরে দুইন্যায় আনা সহজ কোন ব্যাপার না। প্রেগনান্সীর সময় জরায়ুতে প্ল্যাসেন্টা (Placenta) হরমোন (Hormone) তৈরী করে যা তোমার শরীরের রক্ত সুগার বা চিনির মাত্রা বাড়াইয়া দেয়।

সাধারনতঃ তোমার অগ্নাশয় বা প্যাঙ্ক্রিয়াস (Pancreas) যা তোমার লিভার (Liver) বা কলিজার নিচেই থাকে যথেস্ট ইন্সুলিন তৈরী করা যা রক্ত থাইকা চিনি পরিশোধন করে। যদি না করে তাইলেই কেচাল শুরু। রক্তে সুগার বা চিনির গুদাম হয় মানে জমা হয় আর এই পরিস্থিতিরেই জেস্টেসনাল ডায়াবেটিস বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কয়।

সারা দুইন্যার ২% থাইকা ১০% গর্ভবতী মায়ের জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হয়। যেকোন আপাতঃ সুস্থ্য মায়েরই হইতে পারে কিন্তু যদি নিচের অবস্থা বিদ্যমান থাকে তাইলে তাদের বেলায় ঝুঁকি বাইড়া যায়, যেমনঃ

• প্রসূতীর বয়স ২৫ এর উপরে, দেখা গেছে যেই প্রসূতীর বয়স ২৫ এর উপরে তাদের জেস্টেসনাল ডায়াবেটিস হইছে।

• গর্ভাবস্থার পূর্বেই স্থুলতা (Obesity) .

• আফ্রিকান-আমেরিকান, এশিয়ান, হিস্পানিক, অথবা নেটিভ আমেরিকান গোত্রের অংশ হও।

• যদি রক্তে আগে থাইকাই সুগার লেভেল হাই থাকে, কিন্তু এতটা না যাতে ডায়াবেটিক বলা যায়।

• ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস।

• আগে জেস্টেসনাল ডায়াবেটিস ছিল।

• উচ্চ রক্ত চাপ বা অন্য কোন মেডিক্যাল জটিলতা বিদ্যমান।

• পূর্বে বড় আকারের বাচ্চা প্রসব (৯ পাউন্ড অথবা তার বেশী) কইরা থাকলে।

• পুর্বে জন্মগত ত্রুটি বা মৃতশাবক প্রসব করলে।

যখন তোমরা ভাবতাছ বাচ্চা জন্ম দিবা তখনই ডাক্তার মাম্মার সাথে দেখা কইরা এই ব্যাপারে আলাপ কইরা নেওয়া উচিত, ডাক্তার মাম্মা তোমারে পরীক্ষা কইরা তোমার জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা আর ঝুঁকি নিরুপণ কইরা ব্যবস্থা নিতে পারেন।

সাধারনতঃ গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় পর্যায়ে গিয়া জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের লক্ষন দেখা যায়। ডাক্তার মাম্মারা তোমার গর্ভাবস্থার ২৪ থাইকা ২৮ সপ্তাহের মাথায় এই পরীক্ষা গুলি করেন, লক্ষণ আগে প্রতীয়মান হইলে টেস্ট আগেও করতে পারেন। ডাক্তার মাম্মা চিনিওয়ালা একটা পানীয় দ্রুত পান করতে দিবেন, এতে তোমার ব্লাড সুগার লেভেল লাফ দিব উপরের দিকে!

একঘন্টা পরে তোমার রক্ত পরীক্ষা করা হইবো দেখার জন্য তোমার শরীর এই হঠাৎ বাইড়া যাওয়া সুগার লেভেল কি ভাবে ম্যানেজ করলো। যদি দেখা যায় তোমার রক্তে স্বাভাবিকের (১৩০ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটা্রে এমজি/ডিএল mg/dl) চাইতে বেশী হইলে আরো কিছু টেস্ট করতে দিবেন। তার মানে ফাস্টিং ব্লাড সুগার টেস্ট করাইবেন। প্রস্রাব টেস্ট করাইতে পারেন।

সমস্যা হইল, যার জেস্টেসনাল ডায়াবেটিস হইছে সে টেরই পায় না! নিয়মিত টেস্টে গিয়া ধরা পড়ে ডাক্তার মাম্মা আওয়াজ দেয় আর মাম্মালোগ চিন্তা শুরু করে ‘হায় হায় আমি ডায়াবেটিক’!! যদি আউট অফ কন্ট্রোল ডায়াবেটিস হয় তাইলে মাম্মালোগের পানি পিপাসা বাইড়া যাইতে পারে, টায়ার্ড লাগা, ঝাপ্সা দেখা, ক্ষুধা বেশী লাগতে পারে, বার বার প্রস্রাব এর বেগ পাইতে পারে। জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস প্রিএ্যাক্লেম্পসিয়ার (pre-eclampsia) কারন হইতে পারে।

ডাক্তার মাম্মা তোমার টোটাল অবস্থা পরীক্ষা কইরা চিকিৎসা করবো, হয়তো তোমারে দিনে চার বার রক্তে সুগার লেভেল পরীক্ষা করতে কইব, হয়তো তোমার প্রস্রাবে কেটোন (ketones) এর উপস্থিতি পরীক্ষা করবো যা তোমার সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে না প্রমান করবো, পুস্টিকর স্বাস্থ্যকর খাবার খাইতে কইব, শরীরচর্চারে অভ্যাসে পরিণত করতে কইব। তোমার ওজন বৃদ্ধির দিকে নজর রাখবো আর জেস্টেশনাল ডায়াবিটিসের চিকিৎসা করবো।

জেস্টেসনাল ডায়াবেটিক মাম্মাদের খাবারের ব্যপারে সাবধান হইতে হইব, ব্যালেন্সড ডায়েট মুল বিষয়। টোটাল খাবারের ৪০ থাইকা ৬০ ভাগ কার্বোহাইড্রেটস ২০ থাইকা ২৫ পার্সেন্ট প্রোটিন আর ২৫ থাইকা ৩৫ ভাগ ফ্যাট বা স্নেহ জাতীয় ক্যালরী হওয়া উচিত। ১২০থাইকা ১৯৫ গ্রামস কার্বো হাইড্রেট দিনের মোট তিন বেলা খাবার ও দুইবেলা স্ন্যাক বা নাসতার মধ্যে সমান ভাগ কইরা দেওয়া উচিত যাতে সুগার লেভেল হঠাৎ উঠা নামা বা স্পাইক না করে। ডাক্তার মাম্মা অথবা ডায়েটেশিয়ান ঠিক কইরা দিব তোমার কতটা কার্বোহাইড্রেট লাগবো প্রতিদিন।

ভালো কার্বোহাইড্রেটের মধ্যে হোল গ্রেইন্স, ব্রাউন রাইস, সীম মটরশ্যুটি, ডাল আঁশযুক্ত কম মিস্ট ফল ও সব্জী।

প্রতি দিন ৬০ গ্রামস প্রোটিন দরকার তা মাছ, চর্বি ছাড়া মাংশ, মুরগী আর টফু থাইকা আসতে পারে।

ফ্যাট আসতে পারে, বিভিন্ন প্রকার বাদাম (লবন ছাড়া) ওলিভ ওয়েল আর এ্যাভোকাডো থাইকা।

শেষ প্যারাঃ বেশীর ভাগ জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস সন্তান জন্মদানের পরে নিজে থাইকাই সাইরা যায়। এই অসুস্থতা গুরুতর কিছু না, কিন্তু মোটেই অবহেলা করা উচিত না, বাচ্চা গর্ভে আসার আগেই ডাক্তার মাম্মার সাথে কথা বলা উচিত যাতে তিনি ঝুঁকি নিরুপণ করতে পারেন, জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস নির্নিত হইলে না ঘাবড়াইয়া নির্দেশিত ব্যবস্থাপত্র অনুসরন করা উচিত, পুস্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাওয়া, শরীরের রক্তে চিনির পরিমান নিয়ন্ত্রন করা, এ্যাক্টিভ লাইফ অর্থাৎ শরীরচর্চায় মনোনিবেশ করা উচিত।

ইয়ে মানে…… আমি কইলাম ডাক্তার না, আমি চিকিৎসা দেই নাই আমি কইলাম কেন এইটা হয়। এই লেখা আমার নিজের অভিজ্ঞতা, ডাক্তার বইন নাজমা শাহনাজের টিপস আর অনলাইন লেখা পড়ার ফল। ভুল ভাল কইলে ডাক্তার মাম্মারা কইও শুধরাইয়া নিব।

তথ্যসূত্রঃ ডাক্তার নাজমা রশীদ
www.mayoclinic.com
www.webmd.com
www.healthline.com/health/gestational-diabetes




রোগীর মানসিক অবস্থা ও নির্ভরতা

অসুস্থতা যখন আসে তখন সেই ব্যক্তি অসহায় ও উদগ্রীব থাকেন।অস্থির হয়ে যান যে দুনিয়া থেকে বুঝি চলে যেতে হবে। তার কষ্ট কেউ বুঝে না -এমনই মনের অবস্থায় সে খুঁজে বেড়ায় একজনকে যে তার কষ্ট ব্যাথার কথা মন দিয়ে শুনবে,অন্তর দিয়ে অনুভব করবে এবং সমস্যার সমাধান করে দিবে। আর তাই এই সময়ে যে সেই ভূমিকায় আবির্ভূত হোন সে হয়ে যায় অসুস্থ ব্যক্তির খুব আপনজন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অল্প সময়ের মাঝেই কত নির্ভরতা নিয়ে আসেন রোগী সেই ব্যক্তির উপর।

আর তাই অনেক ক্ষেত্রেই এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নেয় মানুষ ও জীনের মাঝে কিছু শয়তান এবং বিপথগামী করে দেন সেই অসহায় ব্যক্তিটিকে। ফলে শিরক ও ভুল চিকিৎসার ফাঁদে পড়ে জীবনের কঠিন প্রান্তে এসে দাঁড়ান। তবে এইক্ষেত্রে ক্ষুদ্র জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরা মহান রবের প্রতি যাদের পূর্ণ সচেতনতা থাকে তারা ফাঁদ থেকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হোন।

সঠিকভাবে যখন একজন সুচিকিৎসকের কাছে আসতে পারেন তখন সেই চিকিৎসক হয়ে যান তার আপনজন। অন্তর থেকে সেই চিকিৎসকের জন্য দু’আ করেন মহান রবের কাছে,অসুস্থতা সেড়ে উঠুক বা না উঠুক অন্তত চিকিৎসকের আন্তরিক প্রচেষ্টা সুন্দর আশার বানী সম্বলিত একটু হাসি এবং আধুনিক চিকিৎসার জ্ঞান দেখে রোগী নতুন করে আশা নিয়ে প্রহর গুনেন। মহান রবের কাছেই চাইতে থাকেন নিজের আরোগ্য লাভের জন্য। অবশ্য এইক্ষেত্রেও অনেক রোগী ভুল করেন যেমন তারা ধরে নেন যে এই চিকিৎসকই পারবেন তার রোগ সাড়াতে,কিন্তু যখন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার পর উন্নতি না হোন তখন চিকিৎসকের উপর দোষারোপ করতে থাকেন।জানা থাকা প্রয়োজন মানুষ তাকদীরের কাছে বন্দী। মহান আল্লাহর অনুমতিতেই সমাধান হয়। সকল চেষ্টা করে মহান রবের উপর তাওয়াক্কুল করে তাঁকে ডাকতে হবে করুনা ভরে,নিজেকে পুরো সঁপে দিয়ে। মহান রবের কাছেই চাইতে হবে যে ,ইয়া রব, তোমার কাছেই আমি  সাহায্যপ্রার্থী এবং তুমিই একমাত্র সাহায্যকারী ও ব্যবস্থাপনাকারী।

এই অবস্থাটা পরিবারের রোগী থেকে নিয়ে সকল রোগীর ব্যাপারেই একই। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক পরিবারের রোগীদের অবস্থা বুঝেন না কিন্তু বাইরের রোগীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হোন। মনে রাখা প্রয়োজন পরিবারের দায়বদ্ধতা বাইরের চেয়ে বেশী বৈ কম নয়। তাই ডাক্তার ও রোগী যে যেই অবস্থায় থাকি না কেনো সকলের অবস্থান থেকে মহান রবের দরবারে হাযিরা দিয়ে জবাবদিহী করতে হবে সেই অনুভূতি নিয়ে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।




ডায়রিয়া হলেই এন্টিবায়োটিক নয়

বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধাণ কারন ডায়রিয়া। ডায়রিয়াতে বারবার পাতলা পায়খানা হয়। পায়খানাতে শুধু পানি আর মল থাকে। পাতলা পায়খানার সাথে যদি রক্ত যায় তাকে আমাশয় বা ডিসেন্ট্রি বলে।
ডায়রিয়ার বিভিন্ন কারন আছে। দূষিত খাবার, দূষিত পানি, রোগ জীবানু এবং কৃমির কারনে ডায়রিয়া হয়। দূষিত খাবার ও পানিতে মূলত ভাইরাস ও ব্যকটেরিয়া থাকে। ভাইরাস ব্যকটেরিয়াই নানা রকম ভাবে ডায়রিয়া সৃষ্টি করে। তবে দেখা গেছে বেশির ভাগ ডায়রিয়ার কারন কিন্তু ভাইরাস। হটাৎ ডায়রিযা শুরু হলে অনেকেই আতংক গ্রস্ত হয়ে যান। কেউ কেউ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ না করেন ঔষধের দোকানে চলে যান। দোকানদার না জেনেই না বুঝেই দিয়ে দেন এন্টিবায়োটিক। কখনো দিয়ে দেন লোপেরামাইড বা কোডেইন জাতীয় ঔষধ। এসব ঔষধ গ্রহনে তেমন লাভ হয় না। তবে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। ভাইরাস জনিত ডায়রিয়ায় এন্টিবায়োটিক কোনই কাজ করে না। শুধু পয়সার অপচয়। এছাড়া এভাবে অযাচিত ভাবে এন্টিবায়োটিক দেয়া কোন ক্রমেই ঠিক নয়।
লোপেরামাইড দিলে বার বার পায়খানা হবার প্রবনতা কমে। তবে এটি ডায়রিয়া সারায় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে অন্ত্রের গতি কমিয়ে দেয়। অনেক সময় এ ঔষধ খেলে অন্ত্রেও গতি বন্ধ হয়ে যায়। তখন দেখা দেয় আরেক সমস্যা। মেট্রোনিকজল শুধু যদি প্রটোজোয়া দিয়ে ডায়রিয়া হয় তখন কার্যকর। অন্য ক্ষেত্রে দিয়ে কোন লাভ নেই। বরং এর ফলে মুখ তিতা হয়ে যায় এবং খাবার রুচি কমে যায়।
ডায়রিয়া হলে তাই খাবার স্যালাইন ই যথেষ্ট। অন্য ঔষধের তেমন কোন দরকার নেই। বমি হলে বা স্যালাইন না খেতে পারলে শিরায় কলেরা স্যালাইন দেয়া যাবে না তা কিন্তু  নয়। শুধু ডাক্তারের পরামর্শে কয়েকটি ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়। ডায়রিয়া হলে ঠিকমত স্যলাইন খেলেকোন সমস্যাই হয় না। ডাবের পানি খাওয়া যেতে পারে। শাক ও দুধ এসময় না খাওয়াই ভালো। তেল চর্বি এসময় পরিহার করতে হবে। স্বভাবিক খাবার সব খাওয়া যাবে। ব্যক্তিগত স্বাস্থবিধি মেনে চললে অনেকটাই ডায়রিয়ার হাত থেকে বাঁচা যায়।



গর্ভাবস্থা-জনিত উচ্চ রক্তচাপ লক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ

হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ— এই সমস্যাটিতে বিপুল মানুষ আক্রান্ত। মায়েদের বেলায় উচ্চ রক্তচাপ গর্ভাবস্থার আগেও থাকতে পারে, আবার গর্ভাবতী হওয়ার পর সেই সমস্যা বাড়তে পারে বা নতুন করেও হতে পারে। গর্ভাবস্থায় নতুন করে হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ হয়। গর্ভাবস্থায় যে রক্তচাপ হয় একে আমরা বলি প্রি একলামসিয়া। যারা প্রথম মা হয় তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় এটি বেশি হচ্ছে। যাদের পারিবারিক ইতিহাস থাকে, মা-বাবার উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তাদেরও হচ্ছে। যারা মোটা থাকে, তাদের হচ্ছে। তবে আবার অনেক ক্ষেত্রেই এর কারণ পাওয়া যায় না। বলা হয়, প্রি একলামসিয়ার কারণ হলো ফুলে। ফুল ঠিকমতো গঠন না হলে প্রি একলামসিয়া হতে পারে।

গর্ভবতী মহিলার রক্তচাপ বেড়ে যায়। এই অবস্থা বেশিরভাগ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক যদিও ব্যতিক্রম হিসেবে কয়েকটি ক্ষেত্রে এটি প্রসবের পরেও চলতে থাকে।  গর্ভাবস্থা-জনিত উচ্চ রক্তচাপ (PIH), প্রিল্ক্যাম্পসিয়া নামেও পরিচিত এবং এটি প্রথম গর্ভবতী তরুনীদের মধ্যে বেশী দেখা যায়। যদি চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এর জন্য শিশু ও মা উভয়েরই গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

গর্ভাবস্থা-জনিত উচ্চ রক্তচাপের ১৩ টি লক্ষণ

গর্ভাবস্থা-জনিত উচ্চ রক্তচাপকে নিম্নলিখিত প্রধান লক্ষণগুলি দ্বারা সনাক্ত করা যেতে পারে।

  • দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ত্রৈমাসিকে রক্তচাপে বৃদ্ধি।
  • প্রস্রাবের নমুনাতে প্রোটিনের উপস্থিতি।
  • দেহ ফুলে যাওয়া।
  • অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি যা গর্ভাবস্থার সাথে সম্পর্কিত নয়।
  • চোখে ঝাপসা দেখা বা দুটি করে দেখা।
  • বমি করা এবং বমি বমি ভাব।
  • পেটে ব্যথা এবং অস্বস্তি।
  • ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া বা খুব কম পরিমাণে মূত্রত্যাগ করা।
  • লিভার এবং কিডনি কার্যকারিতা পরীক্ষার অস্বাভাবিক ফলাফল।
  • রক্ত জমাট বাঁধায় অসুবিধা।
  • প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতি।
  • হৃৎস্পন্দনের গতি বৃদ্ধি।
  • জ্বর আসা এবং কানে ঝিঁ ঝিঁ শব্দ হওয়া।

মহিলাদের নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থায় প্রিক্ল্যাম্পাসিয়া হবার ঝুঁকি বেশী থাকে। উদাহরণস্বরূপ, যেসব মহিলাদের উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, এবং প্রথম বারের গর্ভাবস্থায় প্রিক্ল্যাম্পাসিয়ার ইতিহাস আছে অথবা একাধিক ভ্রণের সাথে গর্ভবতী মহিলাদের এই জটিলতা হতে পারে।

নিয়ন্ত্রণের উপায়

লবণ খাওয়া কমান

খাবারের অতিরিক্ত লবণ, রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। রান্নার সময় অতিরিক্ত খাবার লবণ ব্যবহার করবেন না। প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, ক্যানড ফুড এগুলোর মধ্যে উচ্চ পরিমাণ সোডিয়াম থাকে। এগুলো এই অবস্থায় এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম

গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম শরীরে ভালোভাবে অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে। উদ্বেগ, মানসিক চাপ কমায়। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করাকেও বিশেষজ্ঞরা ভালো বলে মনে করেন।

  • আরাম করে বসুন।
  • নাক দিয়ে গভীরভাবে দম নিন।
  • ধীরে ধীরে শূন্য থেকে পাঁচ গুনতে গুনতে দম ছাড়ুন।
  • এভাবে দশবার করুন।
  • গভীর শ্বাসের এই ব্যায়াম দিনে দুই থেকে তিনবার করুন। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করবে।

হাঁটুন

যেসব নারী কর্মক্ষম কম থাকেন, তাঁদের গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। ২০ থেকে ৬০ মিনিটের এই হাঁটা আপনার কাজে দেবে।

পটাশিয়ামের পরিমাণ বাড়ান

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ হলে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি।  এটি শরীরে তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই মিষ্টি আলু, টমেটো, কমলার জুস, আলু, কলা ইত্যাদি খেতে পারেন।

[সংগ্রহীত ]




স্বেতীরোগ/ভিটিলিগো

হায় হায় তোমারতো স্বেতী হইছে! এল্লা কি উপায়?

নাহ, স্বেতী ক্যান্সার অথবা ছোয়াঁচে না! ইংরাজীতে ভিটিলিগো (Vitiligo) কয় এই অবস্থা রে, এতে শরীরের স্বাভাবিক রং হারায়, এই স্বাবভাবিক রং রে পিগমেন্ট (Pigment) বা মেলানিন (Melanin) য় যার পিছনে ‘মেলানসাইটিস’ Melanocytes নামের এক ধরনের কোষের অবদান ।

যাদের এই ভিটিলিগো হয় তাদের বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ত্বকের স্বভাবিক রং এর কোষ গুলি মশৃণ সাদা ইরেগুলার বর্ডার বা অসমান প্রান্ত সহ ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। এই বিবর্ন ছোপ ছোপ দাগ শরীরের যেকোন একজায়গায় অথবা ৫০ ভাগ পর্যন্ত হইতে পারে।

এই দাগ গুলি প্রধানতঃ শরীরের যেই অংশ গুলি সূর্যের আলো লাগে সেইখানেই দেখা যায়, যেমন হাত, চেহারা, বাহু ও পাতের পাতা তবে শরীরের নিম্নাঞ্চলে / যৌনাংগেও দেখা যাইতে পারে। আক্রান্ত রোগীর গড় বয়স দেখা গেছে ২১ বছরের নিচে। আর এইটা সারাজীবনই থাকে সারতে চায় না।

ভিটিলিগোর চিকিৎসা আছে কিন্তু নিরাময় নাই। এইটা একটা সারাজীবন নিয়ন্ত্রন করার ব্যবস্থা করতে হয়। এইটা ছোঁয়াচে না, এর কোন ব্যথা বেদনা নাই, এটা প্রাণঘাতী কিছু না, ছেলে আর মেয়ে সাদা আর কালো যে কারো হইতে পারে। এই বর্ণহীনতা রে ইংরাজীতে ‘ডিজপিগ্মেন্টেশন’ বলে যাদের ত্বকের রং গাঢ় তাদের টাই চোখে পরে।

ইংল্যান্ডের National Institute of Arthritis and Musculoskeletal and skin Diseases (NAIMS) এর মতে “ভিটিলিগো মূল কারণ এখনো জানা যায় নাই”। বিশেষজ্ঞ্যরা মনে করেন এইটা একটা ‘অটোইম্যুউন ডিজিজ’। তার মানে নিজ শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিজ শরীরের কোষ গুলিরেই আক্রমণ করে, এই ক্ষেত্রে তা আক্রমন করে শরীরের মেলাওসিটিস কোষ গুলিরে তাই তা স্বাভাবিক রং হারায়।

এইটা ছোঁয়াচে না হইলেও বংশানুক্রমিক, দেখা গেছে প্রায় ৩০% রোগীর পরিবারের কারো না কারো এই ভিটিলিগো ছিল। ভিটিলিগো বা স্বেতী র সাথে এ্যালোপিসিয়া এ্যরিয়াটা (Alopecia Areata) , হাইপারথায়রোডিজম (Hyperthyroidism) , এ্যাডিসন’স ডিজিজ (Addison’s Disease) অ জেনেটিক অসুস্থতা পেরনিসিওয়াস এ্যানেমিয়া (Pernicious Anemia) র ভুগে যোগসূত্র দেখা গেছে।

এই রোগের লক্ষন সমূহের প্রধান ত্বকের স্থানে স্থানে তার স্বাভাবিক রং হারায়, ফোকাল প্যাটার্নেঃ অল্প কিছু অংশে ত্বক তার রং হারায়।

সেগমেন্টাল প্যাটার্নেঃ শরীরে একপাশে ডিপিগ্মেন্টেশন হয়।

আর জেনারালাইজড প্যাটার্নে শরীরে দুই পাশের একই অংগে এই মেলানিন হারায় আর তার মিলও থাকে প্যাটার্নে। এইটাই বেশী দেখা যায়। চেহারা, বাহু বগলতলা, পা হাত পায়ের পাতা ঠোট ও কুচকি( যৌনাংগ সহ) আক্রান্ত হইতে পারে, মুখের তালুতে , মাথায় চাঁদিতে, কিছু চুল সহ, ভ্রূ চোখের পাঁপড়িতেও এর আক্রমন দেখা গেছে।

ডাক্তার মাম্মার কাছে গেলে পারিবারিক ইতিহাস, আর তোমার ত্বক পরীক্ষা কইরা নিশ্চিত হইবার আগে তোমার রক্তে ভিটামিন বি১২ ও থায়রয়েড ফাংশন পরীক্ষা কইরা দেখতে পারেন। দেখা গেছে ওভারএ্যাক্টিভ থায়রয়েড আর রক্তে ভিটামিন বি১২ শুন্যতা ভিটিলিগোর কারন হইছে।

পুরা ঝামেলার মইধ্যে সুখের ব্যাপারটা হইল এইটা প্রাণঘাতী রোগ না, এর কোন শাররীক ব্যাথা বেদনা নাই। হ্যা মানসিক দুঃচিন্তার যথেস্ট কারণ হয়। ভিটিলিগো চিকিৎসার উদ্দেশ্য হইল মেলানিন হারানো ত্বকে তার স্বাভাবিক রং ফিরায়ে আনা, লম্বা সময় ধইরা চলে এর চিকিৎসা, চিকিৎসার ফল দেখতে কয়েক মাসও লাইগা যাইতে পারে।

কয়েকটা চিকিৎসা পদ্ধতি আছে। মনে রাখতে হইব আমি কাউরে প্রেস্ক্রিপশন দিতাছি না, আমি ডাক্তার না আমার যোগ্যতা নাই। আমি শুধু প্রচলিত পদ্ধতির আলাপ করতাছি।

স্টেরয়েড (Steroids) – ত্বকে লাগানোর স্টেরয়েড সমৃদ্ধ ক্রীম ত্বকে তার  স্বাভাবিক পিগমেন্টেশন ফিরায়া আনতে ব্যবহার হয়, শিশু ও পূর্নবয়স্করা সবাই এটা ব্যবহার করতে পারে। প্রতিদিন নিয়মিত প্রেস্ক্রিপশনানুযায়ী মলম লাগাইতে হয় মাস তিনেক একটানা। স্টেরয়েড ক্রীমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, এইটা চামড়া পাতলা কইরা দেয় ও ত্বকে বিভিন্ন রংএর দাগ ফালাইয়া দিতে পারে।

ইম্যিউনোমডুলেটরস (Immunomodulators) – ভিটিলিগো চিকিৎসায় এই ইম্যিউনোমডুলেটরস ও ব্যবহার হয়, এতে ট্যাক্রোলিমুস (Tracolimus) অথবা পিমেক্রলিমুস (Pimecrolimus) নামে অষুধ থাকে, বিখ্যাত মেয়ো ক্লিনিকের (Mayo Clinic) মতে যাদের চেহারা আর ঘাড়ে অল্প জায়গায় ভিটিলিগো আছে তারা উপকৃত হয়।

অতিবেগুনী রশ্মি ( Ultra Violet Ray) – কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে আল্ট্রাভায়লেট রে প্রয়োগে উপকার পাওয়া গেছে, বেশীভাগ ক্ষেতেই রোগীকে আরে সোরালেন (Psoralen) নামের একটা অষুধ খাইতে দেওয়া হয় যা ত্বকরে আরো বেশী আলোর প্রতি স্পর্শকাতর কইরা তোলে।

সোরালেন মলম অথবা ট্যবলেট আকারে পাওয়া যায়, সোরালেন আর ইউভিএ বা আল্ট্রা ভায়োলেট রে র সন্মিলিত চিকিৎসাতে পিইউভিএ (PUVA) কয়, এইটা চামড়ার স্বাভাবিক রং ফিরাইয়া দেয়, ডাক্তারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সপ্তাহে কয়েকবারই নেওয়া যায় এই চিকিৎসা, তবে যেহেতু সোরালেন ত্বকের স্পর্শকাতরতা বাড়ায়া দেয় তাই রোদে যাওয়া যাইব না, আর আক্রান্ত জায়গা ছাড়া বাকী অংগ সান স্ক্রীন দিয়া ঢাইকা নেওয়া উচিত।

ডিপিগমেন্টেশনঃ যদি শরীরে অর্ধেকের বেশী অংশে দেখা যায়, ও উপরের চিকিৎসা ব্যর্থ হয় তাইলে এইটা করা যাইতে পারে। মানে বাঁইচা যাওয়া অংশের রংও বদলাইয়া ফেলা, মনোবেনজোণ (Monobenzone) নামের একটা অষুধ লাগানো হয় যা শরীরে রং হালকা কইরা দেয়। এই অষুধ রোগীর গায়ে লাগানোর পরে কমপক্ষে দুই ঘন্টা রোগীর সংস্পর্শে না আসাই ভালো নইলে তোমার গায়ে মনো বেনজোন লাইগ্যা গেলে তোমার চামড়ার রং ও ব্লিচ হইয়া যাইব।

সার্জারীঃ হইতাছে শেষ চিকিৎসা, যদি উপরের কোনটাই কোন কামে না দেয় তাইলে নিজ শরীরের অন্য স্বাভাবিক অংশের চামড়া আইনা আক্রান্ত স্থানে লাগানো হয়। সমস্যা বেশী, যেমন ত্বকে দাগ থাইকা যায়, অত্যন্ত ব্যায় বহুল আর কষ্ট সাধ্যতো বটেই।

আগেই কইছি এই রোগ শাররীক ব্যাথা বেদনার চাইতে মানসিক বেদনার কারণ। সবাই সন্দেহের চোখে দেখে, না জানি কি হইছে, আর রোগী সবসময় তারে আর সবার মত দেখায় না এই হীণমন্যতায় ভোগে। এই রোগ ছোঁয়াচে না তাই শংকিত হবার কিছু নাই। অবশ্যই অভিজ্ঞ্য ডাক্তার মাম্মা (ডার্মাটোলজিস্ট/চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ্য) র কাছে যাইতে হইব, আর আশে পাশের মানুষ আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধব রোগী মনোবল বাড়াইতে ঠিক রাখতে সাহায্য করতে পার।

এই লেখাতে ব্যবহৃত ছবির মেয়ে টার নাম উইনি হারলো, সে একজন প্রতিষ্ঠিত সুপার মডেল! সে তা

র ভিটিলিগো নিয়া গৃহবন্ধী হয় নাই। এমন আরো বিখ্যাত ব্যাক্তিত্ব সমাজে বর্তমান যাদের কাছে এই কসমেটিক সমস্যা কোন সমস্যাই না। তারা জীবনে আগে বাইড়া গেছে, প্রয়াত মাইকেল জ্যাকশন এর ভিটিলিগো ছিল কিন্তু তাকে এই সমস্যা গ্রাস করছিল যার জন্য সে ডিপিগমেন্টশন কইরা শরীরের দৃশ্যমান অংশের চামড়ার রং বদলাইছিল। আরেকজন সফল মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব আছেন রিচার্ড হ্যমন্ড, বিবিসির ‘টপ গিয়ার’ খ্যাত তাদের শাররীক সমস্যা তাদের সাফল্যের প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে নাই।

 

 

 

*** সংবিধিবদ্ধ সতর্কবানীঃ আমি ডাক্তার না, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞ্যতা আর ইন্টারনেট আমার ভরসা, আমার উদ্দেশ্য সচেতনতা তৈরী করা। আউলা কিছু কইয়া থাকি তাইলে ডাক্তার মাম্মালোগ একটা ধমক দিয়া শুধরাইয়া দিও।**

সুত্রঃ www. aad.org
www.mayoclinic.com
www.healthline.com

NAIMS.
George Krucik, MD. MBA

ছবিঃ গুগল

 




দন্তগত রোগ (Diseases of the Teeth)

মুখের তৃতীয় অংশ দন্ত, যাকে আমরা চলতি কথায় দাঁত বলি। এই দন্তই সমস্ত খাদ্যকে (দমিত) দুমড়ে দিয়ে পিষ্ট করে অর্থাৎ পিষে দেয়। এই দাঁত না থাকলে, কোন কঠিন জিনিসকে কেবল মাড়ির দ্বারা পিষে গলাধঃ করানো গেলেও তাকে পরিপাক করার উপযোগী করে পাঠানো আয় না। তাই শৈশবের দাতগুলিকে অবশ্যই যত্ন নিতে হয়।

তারপরে দাঁত পড়ে গিয়ে যে দাঁত উঠে তাও অনেকের যৌবনেই পড়ে যায়। তাই অকালে কেন পড়ে, তারই রোগ নির্ণয়ের প্রসঙ্গে আয়ুর্বেদে বলা হয়েছে দাতে রোগ হয় আট প্রকারের- কোনটি যে হবে বা হবে না সেটা নিদির্ষ্ট করা সম্ভব নয়- তবে প্রাচীনেরা বলেন- দাঁতের রোগের ক্রম থাকলেও কোন ক্ষেত্রে ব্যক্ত থাকে, কোন ক্ষেত্রে অব্যক্ত থাকে, কোন ক্ষেত্রে অব্যক্ত হয়েই রোগ সৃষ্টি করে।

দালনঃ 

এ এক ধরনের দাঁতের রোগ- এটির সম্পর্কে বলা হয়েছে- প্রথম প্রথম মনে হয় দাঁতগুলি শিরশির করছে, একটু গরম জল খেলে ওটা কমে যায়। তারপর কয়েকদিন পরে আবার দেখা দেয়, তখন মনে হয় দন্তগুলোতেই বোধ হয় ফাট ধরেছে। আবার অনেকে আয়না ধরে দেখেন দাঁতের মধ্যে কোন কোনটা ফেটেই গিয়েছে। এদের প্রকৃতি হয় বাত প্রকৃতির তাদেরই এ ধরনের রোগ দাতে। এই দালন শব্দটি এসেছে “দারণ” থেকে। আমরা প্রচলিত ভাষায় বলি ফাটা। দাঁতগুলি ফাটা ফাটা হলেই জানতে হবে এটি দালন ব্যাধি। এই ব্যাধিরও অরিষ্ট লক্ষণ হয় যদি এর সঙ্গে দাঁতে প্রচণ্ড যন্ত্রনা হয় আর দাঁতের গোড়া ফেটে রক্ত পড়তে থাকে-তখন ওস সব কাঁচা দাঁতও তুলে ফেলতে হয়।

[ তথ্যসূত্রঃ চিরঞ্জীব বনৌষধি, চতুর্থ খন্ড ]




কর্ণনাদ (Ringing of the Ear)

বায়ুবিকারে অর্থাৎ কর্ণস্রোতপথে বায়ু কুটিল গতিতে চলাফেরা করলে এমন এক একটা ধ্বনি হয় যেটা ওই স্থানেই প্রতিধ্বনিত হয় আর তারও তরঙ্গধন্নি এমনি একটারই আর একটা ধন্নি হতে থাকে;

তবে প্রাচীন আয়ুর্বেদীয়গণের শরীরে নিরীক্ষায় উপলব্ধি হয়েছে যে, এই সব বস্তুর এবং প্রানীর ডাকের শব্দ হতে থাকে, যেমন, ভৃঙ্গার থেকে জল ঢালার শব্দ/ঝি ঝি পোকার ডাকের শব্দ, মশা ডাকার শব্দ/ জল ঢালার শবড/কৌঞ্চ/মন্ডুক/কাক প্রানীর ডাকের প্রতীক শব্দ কানে যেন বাজতে থাকে, এভিন্ন আরও অনেক জিনিসের শব্দ কানে আসতে থাকে যেটা লোককে ঠিক বোঝানো যায় না। যখন এই রোগে অরিষ্ট লক্ষন দেখা দেয়, তখন ওই কানের স্রোত-পথে আকস্মাৎ সিংহনাত হতে থাকে, অর্থাৎ ঐ শব্দটা হঠাৎ হতে থাকে, ২/৪ দিন চুপচাপ, তারপরই হঠাৎ আবার, তবে তাতে সিঙ্ঘ-নাদ শুনতে থাকলে বুঝতে হবে, এটা আরও অশুভ। এটা এলে বুঝতে হবে এইটাই অরিষ্ট লক্ষণ। কানটা নষ্ট হয়ে যাবে।

কর্ণক্ষেড়

এই ক্ষেড়  মানে অব্যক্ত শব্দ। আয়ুর্বেদিকগণ এই রোগ বর্ণনার আগেই একটি সদুপদেশ দিয়েছেন। শরীর রক্ষার পক্ষে সর্বদা যেমন যত্ন নিতে হয় যে, কায়াগ্নি যেন বিনষ্ট না হয়, তেমনি আরও সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়- অজীর্ণ অগ্নিমান্দ্য না হলেই যে রোগ হবে না কোন অঙ্গে প্রত্যঙ্গে, তা নয়।

সঞ্চিত বায়ু, সঞ্চিত পিত্ত, সঞ্চিত কফ ধীরে ধীরে এমন বিকৃতি প্রাপ্ত হয় যে, শরীরের কোন না কোন অঙ্গে তাদের বিকার দেখা দেয়, যার ফল হয়ত সারা শরীরে ছড়ায় না, কিন্তু একটা অঙ্গে দেখা দেয়। এই যে কর্ণক্ষেড় নামক ব্যাধি, এটা ওই দীর্ঘদিনের সঞ্চিত দোষের বিকৃতির ফল। সেই বিকৃতি যদি কর্ণস্রোতে হয় সেইটাই হয় কর্ণক্ষেড় রোগ।

অর্থাৎ কফ পিত্ত এবং রক্ত বিকারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বায়ু যদি কর্ণস্রোতে এসে আর পথ পায়, তবে কানে যে অবস্থা ঘটায় তাতে দিবারাত্রই শুনতে পাচ্ছে কিসের যেন অব্যক্ত ধন্নি হচ্ছে।

এমন ঝি ঝি ভোঁ ভোঁ শব্দ যদি জোড়ে হতে থাকে, কিংবা থেমে গিয়ে মস্তিষ্কে গিয়ে ভ্রম রোগ সৃষ্টি করে, অর্থাৎ ভুল হয়ে যাওয়াটাই সর্বদা ঘটতে থাকে, তবে কর্ণক্ষেড় রোগের সেইটাই অরিষ্ট লক্ষণ বা অশুভ লক্ষণ।

[তথ্যসূত্রঃ চিরঞ্জীব বনৌষধি, চতুর্থ খন্ড]





মাল্টিপল মাইলোমা

মাল্টিপল মাইলোমা একটা অসুখ না অসুর এর নাম। জাতে ক্যান্সার আর কি কিছু কইতে হইব!!

মাল্টিপল মাইলোমা শরীরের প্রতিরক্ষা দুর্গে হামলা চালায়, লাল রক্তে থাকা স্বেত কণীকা বা হোয়াইট ব্লাড সেল রে কওয়া হয় শরীরের সেনাবাহিনী, যখন কোন জীবাণুর উপস্থিতি লক্ষ্য করে সেইখানে গিয়া জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করে, জীবানূরে হারাইতে পারলে তুমি সুস্থ্য থাক আর হোয়াইট ব্লাড সেল হাইরা গেলে তুমিও হাইরা যাও।

আমি কেন মাল্টিপল মাইলোমা হয় বা কি করলে ভালো হয় কইতে চাই না, আমি ডাক্তার না, আমার যোগ্যতা নাই। আমি মাল্টিপল মাইলোমা আক্রান্ত, চিকিৎসারত মাম্মাদের পুষ্টি নিয়া একটু কথা কইতে চাই।

সাধারনত কেমোথেরাপী দেওয়া হয় এই রোগে। খুব সুখের প্রক্রিয়া নয় এইটা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন অষুধের ককটেল আর র‍্যাডিয়েশন থেরাপীর যৌথ প্রয়োগ হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোগী খাদ্য খাবার ইচ্ছা লোপ পায়, খাইতে চায় না, মনে ভয়, অবসাদ, বমি ভাব অন্যান্য অভিযোগের সাথে যোগ হয়, রোগী খাবার খাইতে চায় না, আগ্রহ থাকে না।

অথচ এই চিকিৎসা চলাকালীন সময়েই শরীরের প্রচুর প্রতিরোধ ক্ষমতা দরকার, মাল্টিপল মাইলোমা কিডনী ড্যামেজ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস ও এ্যনিমিয়া বা রক্তশুন্যতার সৃষ্টি করতে পারে। একটু খেয়াল করলে একটু যত্ন করলে একটু চেষ্টা করেলেই শরীর তার প্রয়োজনীয় শক্তি পাইতে পারে যুদ্ধ করার।

এ্যানিমিয়া শরীরের রক্তে লোহিত কণিকা বা রেড ব্লাড সেল এর কমতি রে কয়।মাল্টিপল মাইলোমা রোগীদের এইটা সবসময় লক্ষ্য করা গেছে তারা এ্যানিমিয়ায় ভোগে। যখন রক্তে ক্যান্সারাক্রান্ত প্লাজমা সেল সংখ্যায় বাড়তে থাকে তখন রক্তে লোহিত কণিকার জায়গা থাকে না, পরে ক্যান্সার কোষ বাইরে আসে আর সুস্থ্য কোষ গুলিরে আক্রমন করে।

রক্তে রেড ব্লাড সেল এর কমতি হইলে দুর্বল লাগা, ক্লান্ত লাগা, শীত লাগা অনুভুতি হয়। রক্তে আয়রন এর পরিমান কম হইলেও রক্তশুন্যতা রোগ দেখা দিতে পারে। মাল্টিপল মাইলোমার কারনে যদি এ্যানিমিয়া হয় তাইলে ডাক্তার মাম্মা আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাইতে বলতে পারে। আয়রন রক্তে সুস্থ্য রেড ব্লাড সেল তৈরীতে সাহায্য করে। আর রক্তে যথেষ্ট রেড ব্লাড সেল থাকলে টায়ার্ডনেশ/ক্লান্তিও লাগে না।

কিসমিস, বেলপেপার, কচু শাক, চর্বি ছাড়া লাল মাংশ (চারপেয়ে যেকোন প্রাণী), কেল শাক, ব্রুশেলস স্প্রাউট, মিষ্টি আলু, ব্রকলি, আম পেপে আনারশ ও পেয়ারা তে প্রচুর আয়রন আছে।

কিডনী বান্ধব খাবার খাওয়া – মাল্টিপল মাইলোমা কারো কারো কিডনীর অসুখ সৃষ্টি করে। রক্ত কণিকা থাইকা যখন ক্যান্সার কোষ শরীরে ছড়াইয়া পরে, তখন এইটা শরীরের হাড় ক্ষয়ের কারণও হইতে পারে। একটা বিষয় বুঝতে হইব, হাড় ক্ষয় হইলে তা ক্যালশিয়াম ছড়ায় রক্তে, ক্যান্সারাক্রান্ত প্লাজমা সেল শরীরের প্রোটিন রেও রক্তে ছড়ায়, বেচারা কিডনীর তখন ট্রিপলটাইম কাজ করা লাগে রক্ত থাইকা ছাঁইকা এই অতিরিক্ত ক্যালশিয়াম আর প্রোটিন আলাদা করতে ও রেচন প্রনালী দিয়া বাইর করতে, এই কাম করতে গিয়া কিডনী ড্যামেজ করতে পারে।

তোমার কিডনী কেমন কাজ করতাছে সেইটার উপরে নির্ভর করে তোমার খাবার কেমন হইতে হইব, এমন কিছু খাওয়া উচিত না যাতে কিডনির কাম বাইড়া যায়, তাই লবন, পটাশিয়াম (কলা, কমলা) এ্যাল্কোহল ও প্রোটিন (ডাল, মাংশ) এড়াইতে বলতে পারে ডাক্তার মাম্মা।
যদি কিডনীর হাল খুব খারাপ থাকে তাইলে পানীয় গ্রহনেও সীমাবদ্ধতা আসতে পারে। ডাক্তার মাম্মার নিবীড় নজরে থাকতে হইব।

ইনফেকশন থাইকা বাঁইচা থাকতে হইব, এই রোগের চিকিৎসাকালীন সময়ে, কেমোথেরাপী ও রেডিও থেরাপী শরীরের ইম্যিউন বা প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মক ভাবে কমায়। তাই বার বার হাত ধোয়া, অসুস্থ্য লোকের সংস্পর্শে না আসা, সর্দি ঠান্ডা লাগা থাইকা বাচাইতে পারে।

কাঁচা খাবার (শুশী, কাঁচা ডিম, মাছ, মাংশ) উচিত না। এগুলি ব্যাকটেরিয়া বাহক সুস্থ্য মানুষরেই কাহিল কইরা দেয় আর মাল্টিপল মাইলোমার রোগীর ইম্যিউন সিস্টেম তো নাই বলা যায়।

কোন কোন কেমোথেরাপীর ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে, তাই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। যেমন ওটমিল, ব্রাউন রাইস, শুকনা ফলমুল- কিসমিস, ডুমুর এ্যাপ্রিকট/খোবানী প্রুণ, আপেল, নাশপাতি, কমলা, স্ট্রবেরী,ব্লু ও ব্ল্যাকবেরী, বাদাম ডাল জাতীয় খাবার, ব্রকলি গাজর ও আর্টিচোক।

খাবার হলুদ এ পাওয়া কুরকামিন খুব উপকারী মনে করা হইতাছে, বলা হয় কুরকামিন কেমোথেরাপীর অষুধ শরীরে সহযে গ্রহনে সাহায্য করে, গবেষনাগারে ইঁদুরে প্রয়োগ কইরা দেখা গেছে রক্তে মাল্টিপল মাইলোমা কোষের বিস্তার মন্থর করা গেছে। তাই খাবারে হলুদের প্রয়োগ সুপারিশ করা হইতাছে।

মাল্টিপল মাইলোমা একটা অসুর, তারে পরাস্ত করা অনেক কঠিন, তাই অষুধ এর সাথে সাথে পথ্য একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয়, যুদ্ধে যা হেল্প পাওয়া যায়! খাওয়া দাওয়া করতে হইব ঠিকমত, প্রসেসড খাবার ডিব্বার খাবার বাদ, ফলমূল, ডাল সব্জী, চর্বি ছাড়া মাংশ সুচিকিৎসার সাথে সাথে গ্রহনে রোগীর যুদ্ধ সহজ কইরা দিব।

আল্লাহ সবাইরে সুস্থ্যতা দান করুন।

সূত্রঃ হেলথলাইন.কম




বন্ধ হোক অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন

সন্তান জন্মদান একটি প্রকৃতি নির্ধারিত স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। মেয়েরা কম বেশী ২৭০ দিন গর্ভধারণের পর যোনীপথে সন্তান প্রসব করেন – এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তাই যোনীপথে  সন্তান বেরিয়ে আসাকে নরমাল বা স্বাভাবিক ডেলিভারী বলা হয়। বিজ্ঞান বলছে শুধুমাত্র ১০-১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ডেলিভারী যোনীপথে হবে না, সেক্ষেত্রে তলপেট দিয়ে জরায়ু কেটে নবজাতককে বের করতে হবে। এই অপারেশনটির নামই হচ্ছে সিজারিয়ান সেকশন বা সি-সেকশন।

এখানে কোন দ্বিমত নেই যে, সিজারিয়ান সেকশন একটি জীবন রক্ষাকারী পদ্ধতি। এই পদ্ধতিটি কোথায়-কখন প্রয়োগ করতে হবে অথবা হবে না, চিকিৎসা বিজ্ঞানে তা পরিষ্কারভাবে বলা আছে । যেখানে প্রয়োজন সেখানে সময়মতো সিজারিয়ান করতেই হবে, নইলে মা-নবজাতকের  একজন বা উভয়ের মৃত্যু হতে পারে, অথবা মারাত্মক শারীরীক জটিলতা দেখা দিতে পারে। সাধারণভাবে একটি দেশের সিজারিয়ানের হার নির্দেশ করে, সে দেশের প্রসূতিদের জন্য জীবনরক্ষাকারী ‘জরুরী প্রসূতি সেবা’ কতখানি সহজলভ্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, একটি দেশের সি-সেকশনের হার ১০-১৫ শতাংশের আশেপাশে থাকা উচিৎ।  

এই আলোচনার সূত্রপাত হচ্ছে একটি উদ্বেগ থেকে, আর তা হলো অতিরিক্ত সি-সেকশন নিয়ে। বাংলাদেশে সি-সেকশনের হার উর্দ্ধমূখী। ২০০৪ সালে এই হার ছিলো বছরে মোট ডেলিভারীর ৫ শতাংশ, ২০০৭ সালে ৯ শতাংশ, ২০১১ তে ১৭ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ২৩ শতাংশ।  এই হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশী তো বটেই, এশিয়া ও ইউরোপের গড়ের চাইতেও বেশী।

অপ্রয়োজনীয় সি-সেকশন জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের অবস্থার উন্নতি কিংবা মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে কোন অবদানতো রাখেই না, বরং সি-সেকশনের গুরুতর শারীরীক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে যার ভূক্তভোগী প্রসূতি ও তার পরিবার।

আরো চিন্তিত হবার বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশে প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোতে প্রায় ৮০ শতাংশ ডেলিভারীই হচ্ছে সি-সেকশনের মাধ্যমে, যেখানে সরকারী হাসপাতালে এই হার ৩৮ শতাংশ। আবার দেখা যাচ্ছে, প্রসূতিরা যত ধনী তাদের মধ্যে সি-সেকশনের হারও তত বেশী । স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, যদি প্রয়োজন ব্যতিরেকে সি-সেকশন করা না হয়ে থাকে, তাহলে হাসপাতালের রকমভেদে সি-সেকশনের হার ভিন্ন হবে কেন ?

সি-সেকশন একটি বিশেষ  ব্যবস্থা এবং তার অসংখ্য পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আছে । যেহেতু এটি একটি গুরুতর অপারেশন, তাই অপারেশন চলাকালীন ও পরবর্তী জটিলতা হতে পারে। পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক অজ্ঞান করে এই অপারেশন করতে হয় বলে, এনেসথেসিয়া সম্পর্কিত জটিলতাগুলো হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সি-সেকশন পরবর্তীকালে প্রসূতি মানসিক চাপ, অতৃপ্তি, বাচ্চার সাথে দুর্বল সম্পর্ক ইত্যাদি সমস্যায় ভোগেন। অপারেশনের ক্ষত থেকে বন্ধ্যাত্ব, এবং পরবর্তী গর্ভাবস্থায় গর্ভপাত, গর্ভফুলের অবস্থান সংক্রান্ত নানান জটিলতা এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে বেশী অপ্রয়োজনীয় সি-সেকশনের সাথে, বেশী নবজাতক ও শিশু মৃত্যু এবং বেশী প্রি-টার্ম (সময়ের আগে জন্মানো) ডেলিভারী সম্পর্কযুক্ত। এ ছাড়াও প্রসূতি ও পরিবারের সদস্যদের পারিবারিক, কর্মক্ষেত্রের ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় । তাছাড়া নরমাল ডেলিভারীর চাইতে সি-সেকশন অনেক বেশী ব্যয়বহুল।

অনেক প্রসূতিবিদই বলেছেন আজকালকার অনেক মা (বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মত মা, শহরবাসী ও শিক্ষিত) স্বপ্রণোদিত হয়ে সি-সেকশন এর মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিতে চাচ্ছেন । তাঁরা হয়তো প্রসব বেদনা সহ্য করার মতো মানসিক শক্তি সঞ্চয় করতে পারেন না। অধিকারবাদীরা বলেন আমার শরীর, আমার ইচ্ছা, আমার সিদ্ধান্ত আমি কিভাবে ডেলিভারী করাবো। আমার বক্তব্য হচ্ছে, অন্তত এক্ষেত্রে যেখানে মারাত্মক স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ঝুঁকি এবং জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন জড়িত সেখানে সিদ্ধান্ত নেবার অধিকারের আগে তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ প্রসূতি মা-টিকে সি-সেকশনের সকল ভালো মন্দ ও পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সমূহ নির্মোহভাবে ব্যাখা করতে হবে।

তথ্যপ্রদানের এই অবশ্যকরণীয় কাজটি সুচিকিৎসার অংশ। বহু দেশে চিকিৎসা শুরুর আগে পূর্বাপর ভালো-মন্দ পূর্ণাঙ্গভাবে রোগীকে না বলা কিংবা উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে বা আংশিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে রোগীর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর দায়িত্ব কার?

আমাদের শ্রদ্ধাভাজন প্রসূতিবিদরা নিশ্চয়ই মানবেন যে, সি-সেকশন আর দশটা ওভার-দি-কাউন্টার ওষুধের মতো পণ্য নয় যে রোগী চাইলেই তথাকথিত অধিকারের নামে তা দিয়ে দেওয়া উচিত।  

একটি পণ্য হিসাবেও স্বাস্থ্যসেবা আলু-পটলের মতো সাধারণ পণ্য নয় – যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্রেতা অনেকখানিই স্বাধীন। সাধারণ বাজারের ধারণা বা নির্ণায়ক চিকিৎসা সেবার বাজারের ক্ষেত্রে একটু ভিন্ন। এখানে চাহিদা প্রবলভাবে প্রভাবিত হবার সুযোগ থাকে বিক্রেতা (এক্ষেত্রে প্রসূতিবিদ) দ্বারা। প্রসূতিবিদ, সি-সেকশন করতে হবে কি হবে না সেই মতামত কতটা নির্মোহভাবে দিতে পারছেন সেটা বহুলাংশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

এই সমাজের একজন রক্তমাংশের মানুষ হিসাবে, প্রতিটি প্রসূতিবিদের ভেতরে – চিকিৎসক স্বত্বা ও বিক্রেতা স্বত্বা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ কর্।  

চিকিৎসক স্বত্বা যেখানে জয়ী হয়, সে সমস্ত পরিস্থিতিতে প্রসূতিবিদ মা কে স্বাভাবিক ডেলিভারীর ভালো দিকগুলো বোঝান, মমতাভরে উৎসাহ দেন, ধৈর্য্য ধরে প্রসববেদনা সহ্য করতে বলেন, জটিলতা দেখা দিচ্ছে কিনা তা সার্বক্ষণিক  মনিটরিং এর ব্যবস্থা করেন । আর, বিক্রেতা স্বত্বা যেখানে জয়ী হয় সেখানে প্রসূতিবিদ স্বাভাবিক ডেলিভারীর জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিধিসম্মত চেষ্টাগুলো না করেই সি-সেকশনের জন্য তাগিদ দেন, মা ও পরিবারকে ভয় দেখান এই বলে যে, মা বাচ্চার কিছু হলে তাঁর দায়িত্ব নেই, বলেন যে দীর্ঘক্ষণ তিনি অপেক্ষা করতে পারবেন না, ইত্যাদি। এই পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রেই প্রসূতি ও পরিবার ভয় পেয়ে যান, ঝুঁকি নিতে চান না,এবং অনেকটা নিরূপায় হয়ে কাগজে সই করেন সি-সেকশনের পক্ষে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, স্বাস্থ্য-মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিলো, প্রসূতিবিদদের মনোজগতের এই নিয়ত দ্বন্দ্বে এবং দোলাচলে যেনো বিক্রেতা স্বত্তা জয়ী হতে না পারে সে জন্য প্রক্রিয়াগত ও আইনী কাঠামো তৈরী ও কার্যকর রাখা । দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য, তারা তা করছেন না। পরিস্থিতি এতোটাই আশংকাজনক যে কোন কোন জেলা ও উপজেলা শহরে প্রশিক্ষিত ডাক্তার নন এমন মানুষেরা প্রাইভেট ক্লিনিক খুলে সিজারিয়ান অপারেশন করছেন, এমনকি অজ্ঞানবিদের কাজও তারাই করছেন।   এই ধরণের কাজ ফৌজদারী অপরাধ। মন্ত্রণালয়ের এই ‘কাকের চোখ বন্ধ করে রাখার নীতি’ ও স্থবিরতার সুযোগে অসাধু, নীতিহীন স্বাস্থ্য-পণ্য ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ব্যবসা করছেন (বাংলাদেশে অতিরিক্ত সি-সেকশনের আনুমানিক বাজার বছরে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা), সাধারণ মানুষ ভুগছেন শারীরীক, মানসিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ভোগান্তিতে, চিকিৎসক-রোগী সর্ম্পক নষ্ট হচ্ছে, কারো কারো লাগামহীন অসততার কারণে সব সম্মানিত প্রসূতিবিদ পড়ছেন বিব্রতকর ইমেজ সংকটে।

আমি মনে করি, এই সমস্যাটির সমাধানের ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি, প্রসূতিবিদদের সংগঠন অবসটেট্রিক এন্ড গাইনিকলজিকেল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ও জি এস বি) এই মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। মন্ত্রণালয়কে একটি বাস্তবসম্পন্ন মান-নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ও ব্যবস্থা (যার অংশ হতে পারে নিয়মিত ক্লিনিক্যাল অডিট, এক্রেডিটেশন ইত্যাদি) তৈরীতে সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি প্রসূতিবিদদের দক্ষতা বৃদ্ধি, মান নিয়ন্ত্রণ, স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল প্রটোকল মেনে চলা, এবং নৈতিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে ও জি এস বি এর সামষ্টিক উদযোগ খুবই কার্যকর হতে পারে ।

একটা বিষয় সুস্পষ্ট, বাইরের বিভিন্ন পক্ষের যতই নিয়ন্ত্রণ থাকুক না কেন শেষ বিচারে প্রসূতিবিদকেই সিদ্ধান্ত দিতে হবে ডেলিভারিটা নরমাল হবে না সিজার হবে।

ব্যক্তি প্রসূতিবিদ অথবা সামষ্টিকভাবে প্রসূতিবিদদেরই (ওজিএসবি এর মাধ্যমে) নিজেদের ওপর এই নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।

অনেক দেশে ইনসিউরেন্স পদ্ধতি চালু আছে যেখানে কোম্পানী গুলোর মাধ্যমে মানুষ নিয়মিত প্রিমিয়াম দিয়ে স্বাস্থ্য সেবার ব্যয় নির্বাহ করে। ইনসিউরেন্স কোম্পানীগুলো সেখানে নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্যই কঠোর মান-নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করে।

অপ্রয়োজনীয় সি-সেকশন ইস্যুতে করণীয় নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য কিছুদিন আগে ওজিএসবি আমাকে তাঁদের দপ্তরে ডেকেছিলেন। উপস্থিত সকল বয়োজ্যেষ্ঠ প্রসূতিবিদের সম্মিলিত মনোভাব যদি আমি বুঝতে পেরে থাকি, তাহলে স্পষ্টতই,

(ক) তাঁরা বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান সি-সেকশনের উচ্চ হার নিয়ে চিন্তিত,

(খ) এর কারণে ঢালাওভাবে তাঁদের ওপর যে অনৈতিকতার অভিযোগ আসছে তা নিয়ে তাঁরা খুবই বিব্র্রত,

(গ) সর্বত্র মান-নিয়ন্ত্রনহীন ভাবে যেভাবে সি-সেকশন হচ্ছে তার বেশ কিছু মারাত্মক জটিলতার আশংকাজনক বৃদ্ধি ইতোমধ্যেই তাঁরা তাঁদের পেশাগত চর্চায় নিয়মিত দেখতে পাচ্ছেন, (যেমন, সিজার পরবর্তী গর্ভধারণে জরায়ুমুখে গর্ভফুল চলে আসা যা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং নবজাতকের মৃত্যুর কারণ হতে পারে),

(ঘ) এই পরিস্থিতির আশু নিয়ন্ত্রণে, দায়িত্বশীল পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে তাঁরা সরকার এবং অন্য সবার সাথে কাজ করতে চান কিন্তু স্পষ্ট বূঝতে পারছেন না আসলেই কার্যকর সমাধানগুলো কি এবং কোথায়, কিভাবে সেগুলোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে।

অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ করতে হলে নীচের প্রস্তাবনাগুলো বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে ।

১।  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কঠোরভাবে চিকিৎসা সেবার মান-নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন করতে হবে ও তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
২।  সুনির্দিষ্ট মানদন্ড মেনে চলার ভিত্তিতে হাসপাতাল, ক্লিনিক ইত্যাদির লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন করার বিধান চালু করতে হবে এবং সঠিকভাবে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত প্রসূতিবিদ ছাড়া অন্য কারো অপারেশন করা বন্ধ করতে হবে। সিজারিয়ানের অনুমতিপ্রাপ্ত প্রসূতিবিদ ও ক্লিনিক/হাসপাতালের একটি ডাটাবেইস খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তৈরী করা সম্ভব।
৩।  প্রসূতিবিদদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সার্বক্ষনিক নিরীক্ষণ, জবাবদিহিতা ও পুনঃপ্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪।  সরকারী-বেসরকারী সকল হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোকে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ ও রিপোর্টিং পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
৫। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডি এস এফ কর্মসূচীতে, সিজারিয়ান অপারেশন ও নরমাল ডেলিভারী ভাতা একরকম করতে হবে যাতে প্রয়োজনহীন সিজারিয়ান নিরুৎসাহিত হয়।
৬। অত্যাবশ্যক সি-সেকশন এর প্রয়োজনীয়তা ও অনাবশ্যক সি-সেকশনের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সমাজকে সংগঠিতভাবে একটি কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
৭।  মানদন্ড নির্ধারণ, মান-নিয়ন্ত্রণ, নিরীক্ষণ ও নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও নৈতিকতা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে দায়িত¦প্রাপ্ত সংস্থা বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ও অন্যান্য সংস্থার ক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যুগোপযোগী করতে হবে।
৮। দেশের সকল নরমাল ডেলিভারী মিডওয়াইফদের মাধ্যমে সম্পন্ন করার সরকারী পরিকল্পনাটি সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদী। এটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন দ্রুততর করতে হবে। অতিরিক্ত সি-সেকশন রোধে এটি একটি ভালো সমাধান কারণ যেহেতু মিডওয়াইফদের কাজ ও দক্ষতার সীমারেখা নরমাল ডেলিভারীতে সীমাবদ্ধ তাই অপ্রয়োজনীয় সি-সেকশনের জন্য তাদের কোন প্রকার বাড়তি প্রনোদনা বা ইনসেনটিভ থাকবেনা।
৯। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সি-সেকশন কেন্দ্রিক বাস্তবতা ভালোভাবে বোঝা দরকার। আসলেই আমাদের সি-সেকশনের হার কত হওয়া উচিত এ বিষয়ে আমাদের নিজস্ব গবেষণা নেই বললেই চলে। যার কারণে ৈেবশ্বিক ও অন্যান্য আঞ্চলিক গড়কেই আমাদের রেফারেন্স হিসাবে ধরতে হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রয়োজনীয় গবেষণা প্রশ্ন সমূহ নির্ধারণ করে, গবেষণার উদযোগ নিয়ে আমাদের জানা-বোঝা ও  সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবতা সম্পন্ন করতে হবে।
১০। উপরের সবগুলো সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ওজিএসবি কে পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ তা না হলে অহেতুক ও বিব্রতকর দ্বন্দ্ব তৈরী হবার সম্ভাবনা থেকে যায়। নৈতিকতা ও নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে ভীতির সৃষ্টি হলে জীবনের ঝুঁকির ক্ষেত্রেও সি-সেকসন না করার আশংকা থেকে যাবে।

লেখক : জনস্বাস্থ্যকর্মী

 




ঢাকা মেডিকেলে সোয়া মাস -৪

হাসপাতাল হলো খাঁটি একটা অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ জায়গা, যেখানে সবাই কৃত্রিমতা ঝেড়ে একেবারে ঈশ্বরের মানুষ হয়ে ওঠে।

পাশের রোগীটি হিন্দু না মুসলিম এ নিয়ে কারো কোনো কথা নেই, একে-অপরকে সাহায্য করছে; যে ডাক্তার-নার্স-ওয়ার্ডবয়রা সেবা দিচ্ছে সে হিন্দু না মুসলমান, নারী না পুরুষ তা নিয়ে কারো ভাবনা নেই, নির্দ্বিধায় সেবা নিচ্ছে; বাথরুম-বেসিন সবাই একসাথে ব্যবহার করছে; একই গামলা থেকে বেড়ে দেওয়া ভাত-তরকারী থালা পেতে নিচ্ছে, কে দিচ্ছে না-দিচ্ছে কোনো প্রশ্ন নেই।

কতরকম যে রোগী! একটা রোগীর সারা শরীর পোড়া। জানলাম আগুনে নয়, ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় এমন হয়েছে। পাশের নারীটি ওই পোড়া শরীর ধরে কদিন থেকে বসে আছে।

একজন কালো বোরকা, হাতমোজা আর পামোজা পরে তার স্বামীকে নিয়ে আমাদের মতোই বারান্দার বিছানায় উঠলো। কিন্তু আশপাশে ক্যাথেটার-ডায়াপার, বমি-পায়খানা আর প্রায় উলঙ্গ সব রোগীর মাঝে নিজের রোগীকে সামলে কতক্ষণ এসব সম্ভব? পরদিন দেখলাম তাকে শুধু নাকের উপর একটা ওড়না পেঁচিয়ে চলতে। এর পরদিন সেটাও উঠে গেল।

ওপাশের রোগীকে একটা মেয়ে কি যে যত্ন করছে! রোগীটি বারবার বাড়ী যেতে চাইছে। সে তাকে শিশুর মতো ভোলাচ্ছে, বাইরে তো হরতাল, গাড়ী চলছে না, যাবেন কেমনে? জিজ্ঞেস করলাম, কে হয়? মেয়েটি বললো, শ্বশুর!

ডানহাতের রোগীর সাথে যে নারী, সে একা। সাহায্য করার কেউ নেই। একটু আসেন তো ভাই – এমনভাবে ডাকলো যেন কতদিনের চেনা। আমি গিয়ে রোগীর মাথাটা চেপে ধরলাম। ডাক্তার নাক দিয়ে খাবার নল ঢোকালেন। তার ছেলেটা আসলে ডেকে বললেন, সালাম দাও তোমার আঙ্কেলকে।

দরজার বাইরে একজন রোগী পড়ে আছে ক’দিন থেকে। কেউ নেই। কে রেখে গেছে! তার স্ত্রী নাকি তাকে ত্যাগ করেছে, তাই ষ্ট্রোক করেছে। কষ্ট করে মরে গেল।

আটরশির মুরিদ এক রোগী। সঙ্গের নারীর কানে পাঁচটি করে গহনা। পানবাটা সাথে। খাচ্ছে আর গান গাচ্ছে। বুঝি আমার চুলটা একটু লম্বা দেখে আলাপ জুড়ে দিলো। কোন মেঘনার চরে বাড়ি। নাম্বার-ঠিকানা দিয়ে গেল যাওয়ার জন্য।

কোণার বিছানায় হাত-পা চিকোন প্রতিবন্ধী ধরণের চার ফুটের একটা মানুষ। বিছানায় কি সুন্দর একটা মেয়ে শুয়ে। জিজ্ঞেস করলাম। বললো, আব্বা। পরে মেয়েটার মা এলো। বুঝতে পারলাম। স্বামীর প্রসাব-পায়খানা দিনের পর দিন পালটে চলেছে। খুব তেজ রোগীর। নাকি অনেক সহায়-সম্পত্তি।

চোখের সামনে একজনকে দেখলাম, জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। পাশ থেকে দেখি আত্মীয়স্বজন সব বাইরে চলে যাচ্ছে। আমি তাকিয়েই আছি। দেখতে দেখতে সারা শরীর হলুদ হয়ে গেল। মাকে জিজ্ঞেস করলাম, উনার কি হলো! মা বললো, মরে গেল তো! আমি চমকে উঠলাম।

এরকমভাবে চোখের সামনে কাউকে মরে যেতে দেখিনি। কাঁদলে সিষ্টাররা রাগ করবে এজন্য নাকি সবাই বাইরে চলে গেছে।

পাশের বিছানায় ইয়াং হাঁফপ্যাণ্ট-টিশার্ট পরা একটা রোগী এলো। কাশি-সর্দি অনেক বছর। সে বিসিএস পরীক্ষার্থী ইত্যাদি বলে প্রতিদিন আলাপ জুড়ে দেয়। কথা প্রসঙ্গে বললো, দীপন (প্রকাশক) অনেক সাহসী, সে অভিজিতের বই কেন বের করতে গেল? বললাম, তাই তাকে মেরে ফেলতে হবে? বললো, না, কিন্তু আপনি তার লেখা পড়ে দেখেছেন? পড়লে কোনো মুসলমানের মাথা ঠিক থাকবে না। বললাম, তুমি কোরাণ শরীফ পড়েছো? বললো, না। বললাম, আমি পড়েছি। তো তুমি কোরাণ না পড়ে অভিজিৎ পড়তে গেছো কেন? একদিন সেও চলে গেল। যাওয়ার আগে আমার নাম্বার চেয়েছিল, এড়িয়ে গেছি। মা বললো, ছেলেটা তার নাম্বার রেখে গেছে। মানুষের মন! (৩০শে জানুয়ারী ২০১৭)

প্রথম অংশের লিংক
দ্বিতীয় অংশের লিংক
তৃতীয় অংশের লিংক




যদি কিছু মনে না করেনঃ

খিলগাঁতে “ঠান্ডা-গরম” নামে একটা জুসের দোকান আছে। নরমাল বিভিন্ন রকম ফলের জুসের সাথে অদ্ভুত কিছিমের ফলের জুসও এখানে পাওয়া যায়। সেরকম এক জুস হলো -‘ডেউয়ার শরবত’।

পার্সেল করে বাসায় নিয়ে এসেছিলাম। স্ট্র দিয়ে খেতে খেতেই খবরটা নজরে পড়লো……

১. প্রেসক্রিপশন স্পষ্টভাবে বা বড় অক্ষরে বা ছাপানো আকারে দিতে চিকিৎসকদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত….

২. প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক নাম লেখার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে ব্যাপারে আদালত রুল জারি করেছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে….

#প্রথম খন্ডঃ

পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে। একটা পুরোনো ব্যক্তিগত এক্সপেরিয়েন্স বলি, ঘটনাটা আপনাদের আগেও বলেছিলাম,মনে আছে কিনা জানিনা….

■ইমার্জেন্সী মেডিকেল অফিসার হিসেবে ডিউটি করছি। দিনটা খারাপ যাচ্ছিলো, একের পর এক খারাপ পেশেন্ট। ষোলকলা পূর্ণ করার জন্য ডিউটির শেষ পর্যায়ে মধ্যরাতে হার্ট অ্যাটাকের( Myocardial infarction) রোগী এসে হাজির হলো…..

ইয়াং পেশেন্ট। রোগীর ওয়াইফ একটা প্রেসক্রিপশন আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে কনফিডেন্টলি জানালো প্রেসক্রিপশনের ওষুধটি খেয়েই তার স্বামীর এই দশা….

ওষুধটার নাম দেখলাম, Vigor Ace, মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট, পেশেন্টকে জানালাম এই ওষুধ খেয়ে এই সমস্যা হবার কোনো কারণ নেই।

পেশেন্টের স্ত্রী নাছোড়বান্দা, সে কনফিডেন্ট, ব্যাগ থেকে এবার ওষুধটি বের করে আমাকে দেখালো। ওষুধটি Vigorex (Sildenafil), যৌন উত্তেজক ওষুধ, এই ওষুধের কারণে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, আসলে সেটাই হয়েছে….

ঘটনাটা কি চিন্তা করে মাথা ঝিম্ করে উঠলো। চিকিৎসক সাহেব দিয়েছিলেন Vigor Ace(মাল্টিভিটামিন), হাতের লেখা অস্পষ্ট হবার কারণে ফার্মেসীর দোকানদার দিয়েছে Vigorex( যৌন বর্ধক) ওষুধ।ডেইলী ১ টা করে Vigorex খেয়ে রোগীর এখন যায় যায় দশা….

■প্রিন্টেড প্রেসক্রিপশন এর মত আকাশ-কুসুমের চিন্তা বাদ দেই, নিজের এক্সপেরিয়েন্স থেকেই বলছি-শহর এলাকা বাদে এটি কষ্টসাধ্য।কিন্তু হাতে লেখা প্রেসক্রিপশন অবশ্যই Capital হরফে হতে হবে, এটি নিয়ে এতদিন পর তোড়জোড় কেনো সেটিই প্রশ্ন…..

হাতে লেখার যে প্রেসক্রিপশন, সেটা যে বড় হাতের অক্ষরে হতে হবে সে ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। এরপরও এ ব্যাপারে যারা গাঁইগুই করেন, তাদেরকে #Davidson’s Principles and Practice of Medicine এর How to write a prescription অংশের একটা লাইন কোট করে দেইঃ

“Write in block capitals, legibly, with black ball point pen…..”

#দ্বিতীয় খন্ডঃ

■আমরা চিকিৎসকেরা যে কোনো একটি ড্রাগের দু’টা নামের সাথে পরিচিত। একটি Generic name, আরেকটি Brand/ Trade name.

Generic name হলো যে কোনো ড্রাগের মূল রাসায়নিক নামের একটি পরিবর্তিত শর্ট ফরম্যাট, এ নামে যে কোনো ড্রাগকে সারা পৃথিবীর সব চিকিৎসকই চিনবেন।Trade name হলো-যে নামে একটি দেশের বিভিন্ন কোম্পানি ঐ ড্রাগকে বাজারজাত করে।

উদাহরণ দেইঃ একটি অ্যান্টিবায়োটিকের কথা বলি, জেনেরিক নেইম-Amoxicillin। আমাদের দেশে বিভিন্ন কোম্পানি একে বিভিন্ন Trade নেইমে বাজারজাত করে, যেমন- Fimoxyl, Moxacil বা Demoxil. আমরা চিকিৎসকেরা প্রেসক্রিপশনে Trade name লিখি, জেনেরিক লিখি না। আদালত এখন রুল জারি করেছে-কেনো জেনেরিক নেইম লেখা হচ্ছেনা।এত ব্যাখ্যায় যাবো না, ঘটনা বলি, সেগুলো শুনুন…..

■ঢাকার বাইরে তখন নতুন-নতুন চেম্বার করি।দুই- একটা করে পেশেন্ট পাই। এরা ফলো আপে এসে আমাকে ঝাড়ি মারে, আমার চিকিৎসায় নাকি কোনো কাজ হয়না।মন খারাপ করে বসে থাকি….

একবার এক রোগী ফলো আপে ওষুধ সহ আসলো। আমি ওষুধের বহর ও সেগুলোর Trade name দেখে ধাক্কা খেলাম। আমার প্রেসক্রাইব করা ওষুধ ও ফার্মেসীওয়ালা প্রদত্ত ওষুধে যে আকাশ-পাতাল ফারাক!

লিখেছিলাম কোয়ালিটি Maintain করে- এমন কিছু ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ওষুধ। অথচ পঙ্কজ ( ফার্মেসীওয়ালা) এমন সব কোম্পানির ওষুধ পেশেন্টকে ধরিয়ে দিয়েছে যেগুলোর নাম আমি জীবনেও শুনিনি।আমার চিকিৎসায় কাজ হবে কি! রোগী যে মারা যায় নাই-সেটাই বেশী…..

পঙ্কজকে ডেকে কড়া গলায় জানালাম যদি এ ঘটনা দ্বিতীয়বার ঘটে তবে আমি আর চেম্বারে আসবো না। কড়া গলায় কথা বলাতে কাজ হলো, পঙ্কজ সোজা হলো…..

■সমস্যা শুরু হলো এরপরে।নাম না জানা কোম্পানীগুলো আগে পঙ্কজকে ম্যানেজ করতো, এবার তারা আমাকে ম্যানেজ করতে উঠেপড়ে লাগলো।একটার পর একটা অনৈতিক অফার।মানুষ আমি, ফেরেশতা তো নই, লোলুপ অফার ফিরিয়ে দিতে কষ্ট হয়, এরপরও ফিরিয়ে দিলাম।

■চেম্বারে উদ্ভট উদ্ভট কোম্পানির উদ্ভট উদ্ভট রিপ্রেজেন্টেটিভ উঁকি মারতো।এরা মিষ্টি হাসি দিয়ে হাত কচলিয়ে তাদের প্রোডাক্টের গুণগাণ গায়।আমিও মিষ্টি হাসি দিয়ে তাদের খুশি রাখি, শুধু ওষুধ লেখার সময় কোয়ালিটি Maintain করি।তাদেরকে জানালাম, আমি তাদের প্রোডাক্ট লিখতে চাইলেও প্রেসক্রিপশন লেখার সময় তাদের প্রোডাক্ট এর নাম মনে থাকে না।একবার তো এক রিপ্রেজেন্টেটিভ রাগ করে এক রোগী বের হবার পর রুমে ঢুকে বললো, “স্যার রোগী ঢুকার আগে প্রোডাক্ট এর নাম বলে গেলাম, এরপরও ভুলে গেলেন!” আমি হেসে জানালাম, আমি Alzheimer এর রোগী, Recent memory এর করুণ দশা!’ কয়েকদফা এরকম চলার পর ব্যর্থ মনোরথে এরা পার্মানেন্টলি প্রস্থান করলো।তারা বুঝতে পারলো এই ডাক্তারের কাছে সময় নষ্ট করা ছাগলামি ছাড়া আর কিছু না….

ঘটনা এখানে শেষ হলে ভালো হতো, বাট পিকচার আভি বাকি হ্যায় মেরা দোস্ত….

আউল-ফাউল কোম্পানির যে মোটকা এক রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাকে তাদের প্রোডাক্ট লেখার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী জোরাজুরি করে টর্চার করতো, সেই মোটকা বছর খানেক পর চেম্বারে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত তার মাকে নিয়ে ঢুকলো। আমার চোখ চকচক্ করে উঠলো।চার-চারটা প্রোডাক্ট লিখলাম সেই আউল-ফাউল কোম্পানির। আহ, কি শান্তি!

সমস্যা হলো- তার কোম্পানির সব প্রোডাক্ট লেখার পরও এবার ব্যাটা মুখ কালো করে আমার সামনে দাঁড়িয়ে রইলো….

আমিঃ (আনন্দিত চিত্তে) কি, কোনো সমস্যা?

মোটকাঃ স্যার, সবই দেখি আমার কোম্পানির প্রোডাক্ট !

আমিঃ হে হে, আপনি তো তাই চাইতেন সবসময়….

মোটকাঃ না মানে, স্যার, তখন কত কইতাম আমার প্রোডাক্ট লেখার জন্য। সে সময় খালি বলতেন-আপনার নাকি Dementia আছে।এখন তো দেখি আপনার সবই মনে আছে…..

মোটকা বিদায় হলো। পঙ্কজের কাছে শুনলাম নিজের মায়ের জন্য ওষুধ নেবার সময় নিজের কোম্পানি বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির ওষুধই নাকি সে নিয়েছে।বাটপার আর কাকে বলে!

■প্রেসক্রিপশনে ট্রেড নেইমের বদলে জেনেরিক নেইম লেখার পক্ষপাতী আমি নিজেও, তবে সেটি আরো বছর ১০ পরে। এ সময়ে দুটি সুনির্দিষ্ট কাজ করতে হবেঃ

ক) অনুমোদন দেয়া সব ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর স্ট্যান্ডার্ড একই রকম হতে হবে

খ) প্রতিটা ফার্মেসীতে ফার্মাসিস্ট নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে….

তার আগে এই ডিসিশন নেয়া হলে সাধারণ জনগণ ব্যাপকহারে ক্ষতিগ্রস্ত হবে….

■একটা ঘটনা বোধ হয় আমরা ভুলে যাচ্ছি–৮০ থেকে ৯০ এর দশকের মাঝামাঝিতে কোয়ালিটি মেইনটেইন করে না -এমন কোম্পানির প্যারাসিটামল খেয়ে শ’য়ে শ’য়ে বাচ্চা মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছিলো।এক চিকিৎসকের সময়োপযোগী দূরদৃষ্টিসম্পন্ন অ্যাকশনে সে যাত্রায় এই জাতি রক্ষা পায়।আবারও একই পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে।বাঙালির মেমোরি গোল্ডফিশ টাইপ, এরা ইতিহাস ভুলে যায়।আফসোস…..

■যেটা সঠিক, সেটা মানতে হবে। প্রেসক্রিপশন আরো স্পষ্ট হতে হবে–কোনো দ্বিমত নেই।বাট, প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক নেইম লেখার সময় এখনো আসেনি….

■প্রেসক্রিপশনে Trade name লেখার পরিবর্তে Generic name লেখার এই যে ধোঁয়া–এর কারণটা ঈর্ষাজনিত। বাঙালি মনে করে–ডাক্তাররা Trade name লেখে, কাজেই কোম্পানির সাথে ডাক্তারদের কিছু লুতুপুতু আছে। কিছু আছে সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে বাঙালি এটা বিশ্লেষণ করতে পারলো না যে, জেনেরিক নেইম লেখার ট্রেন্ড চালু হলে তাদেরকে এখন নির্ভর করতে হবে অশিক্ষিত/ অর্ধশিক্ষিত ফার্মেসীওয়ালাদের উপরে। নাম না জানা অসংখ্য মানবিবর্জিত কোম্পানিগুলো এই সুযোগের অপেক্ষায়ই ছিলো। উচ্চশিক্ষিত চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের উপর এই জাতি আস্থা রাখতে পারছে না, এরা এখন তাদের জীবন-মরণ ইস্যুতে আস্থা রাখতে চাচ্ছে ফার্মেসীওয়ালা আর কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের উপর।আহাম্মক কাহিকা!…….

#পরিশেষঃ

লেখাটা শেষ করি।আমি তুচ্ছ লোক, আমার কথা নীতিনির্ধারকদের কান পর্যন্ত বোধ করি যাবেনা।রুল জারি করা যেতে পারতো- সব ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি কেনো একই স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে না-সে ইস্যুতে।সেটি অবশ্য করা হয়নি, বাংলাদেশ বলে কথা, আমরা সোজা কাজ ঘুরিয়ে করতে পছন্দ করি…..

কয়দিন পর হয়তো আমরা চিকিৎসকেরা সবাই জেনেরিক নেইমে ওষুধের নাম লিখবো।আমরা পিছু হটবো, রঙ্গমঞ্চে ফার্মেসীওয়ালা আর কোম্পানির লোকেরা আসবে। আসুক, আমার কি? নিজের জিনিস যারা নিজেরা বোঝেনা -সেখানে আমার কিছু বলার নেই।তার চেয়ে সক্রেটিসের একটা কথা বলে বিদায় নেইঃ

“The hour of departure has arrived, and we go our separate ways, I to die, and you to live. Which of these two is better only God knows…..”

 




পিত্ত-প্রধান রোগ- কাস/কাশ

পশুপক্ষীই হোক আর মানবই হোক, গলার স্বর শুনলেই বোঝা যায়- এ পীড়িত, কিম্বা সুখী। এর স্বর কি বুঝাতে চায়-উদবেক না হর্ষ, চিন্তা না শোক, হর্ষ না ব্যাকুলতা, সবই অনুধাবন করা যায় ঐ গলার স্বরে। যদি না সে কৃত্রিম করে।  গলার আওয়াজই তো বোবার পীড়া বোঝায়, আবার শিশুর পীড়া, উম্মাদের পীড়া, অজ্ঞানের মূছির্তের পীড়া-সবই বোঝা যায় কণ্ঠের স্বরে।

কণ্ঠের এই বায়ু আসে প্রাণবায়ু আর ঊদান বায়ুর মিলনে। কিন্তু যখনই ঐ প্রাণবায়ু ও ঊদান বায়ুর ক্ষেত্রটি বায়ু, পিত্ত, কফ কিম্বা ক্ষয়ের জন্য দুষিত হয়, তখন সেই প্রাণ ও উদান বায়ুর ধ্বনিটি হয় দেহটি রোগগ্রস্থ হলেই, তা প্রকাশ করে দেয় হয়েছে পীড়িত এবং এই দোষের দ্বারা পীড়িত।

বায়ু ছাড়া যখন ধ্বনি ওঠে না, তখন বায়ুকে লক্ষ্য করেই তার চিকিৎসা করতে হবে। তাকে প্রধান ভেবেই পিত্ত, কফ এবং ক্ষয়ের চিকিৎসা করতে হবে। সাধারণ ভেষজের দ্বারা কি ভাবে এই কাস উপশম বা নিরাময় হতে পারে, তারই একটা ছক এখানে দেওয়া হলঃ

১। বায়ু-প্রবাহ হলে- কচি মূলো, সুষনী শাক, কাকমাচী শাক, বেতোশাক, আখের রস খুব দ্রুত উপশম করে।

২। পিত্ত-প্রধান হলে- মুগের যূষ, যবের পালো, বৃহতী, কন্টকারী, বাসক প্রভৃতি ভেষজের ক্বাথ।

৩। স্লেষ্মপ্রধান হলে- কূলথের যূষ, পিপুল, চৈ, শুঁঠ, আদার রস, শুকনো কূল বিশেষ উপকারী।

৪। সান্নিপাতিক কাসি হলে- এলাইচ, জটামাংসী, আকন্দমূল, তুলসী, শঙ্খ-পুষ্পী প্রভৃতি এইসব ভেষজ।

৫। ক্ষয় জন্য হলে- নাগেশ্বর, যব, কন্টকারী, বেড়েলা, বামুনহাটি, চিতা এইগুলি কাজে লাগতে পারে, তবে কোনটা এক্ষেত্রে কার্‍্যকারী হবে, সেটা চিকিৎসকের পরামর্শ ভিন্ন সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। তবে কোনটাতেই যে অপকার হবে না, এ বিষয়ে সন্দেহের অবিকাশ নেই।

সর্বশেষে জানিয়ে রাখি- যেকোন রকমের কাঁসি হোক না কেন, এই কাস রোগগ্রস্ত  ব্যক্তির যদি জ্বর, প্রচুর পিপাসা, প্রবল অতিসার (পেট ছাড়া) আর ফুলো দেখা দেয়, তবে সেইটাই অশুভ বা অরিষ্ট লক্ষন।

সে রোগীর আর সামলে ওঠার ভরসা নেই বললেই হয়। আয়ুবের্দিক পরিভাষায় এইটাই তখন তার বৈকারিক বিকৃতি লক্ষন।

তথ্যসূত্রঃ চিরঞ্জীব বনৌষধি (তৃতীয় খন্ড)