রবিবার, জুলাই ২৫, ২০২১

অঙ্গ প্রতিস্থাপন : ওৎ পেতে আছে অসংখ্য পিশাচ

অঙ্গ প্রতিস্থাপন : ওৎ পেতে আছে অসংখ্য পিশাচ

image_pdfimage_print

কলকাতা থেকে মুম্বাই আসছি। প্লেনে দিনের পত্রিকাগুলোয় চোখ বুলাচ্ছি। হঠাৎ একটা ক্যাপশনে চোখ আটকে গেল — KIDNEYS SOLD HERE অর্থ্যাৎ ‘এখানে কিডনি বিক্রি হয়’। একটা গ্রাম্য লোকের ছবি তলপেটে স্পষ্ট অপারেশনের দাগ, নীচে ক্যাপশন –– হুলাউ গ্রামের জয়ারামু ব্যাঙ্গালোরে রক্ত দান করতে গিয়েছিল, ঘুম ভেঙে দেখে হাসপাতালের ডাক্তাররা তাঁর একটা কিডনি কেটে নয়েছে। কি ভয়ানক!! আমার আশংকা অবশ্য অন্যখানে, সে প্রসঙ্গে পড়ে আসছি। ব্যাঙ্গালোরে কালোবাজারে মানুষের কিডনি কেনাবেচা এক জমজমাট ব্যবসা। দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া রোগীদের শেষ ভরসা ট্র্যান্সপ্লান্ট অর্থাৎ আরেকজন ডোনারের শরীর থেকে কিডনি কেটে এনে লাগিয়ে দেয়া। ধনী রোগী অথচ যাদের প্রিয়জনেরা কিডনি দানে অনিচ্ছুক তাদের সহজ উপায় কালো বাজারে কিডনি কেনা। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০০ এই দুই বছরেই কালো বাজারে কেনা এবং অন্য দেহে প্রতিস্থাপিত হয়েছে এমন ২৫০টি কেস পাওয়া গেছে একটি হাসপাতালেই। ১৯৯৪ সালে ভারতের কেন্দ্রিয় সরকার Transplantation of Humans Organ Act পাস করে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে, শুধুমাত্র রোগীর ঘনিষ্ঠ আত্নীয়ের দেহ থেকেই প্রতিস্থাপনের জন্য অঙ্গ  সংগ্রহ করা যাবে। ঘনিষ্ঠ আত্নীয়দের সংজ্ঞা হচ্ছে বাবা-মা,ভাই-বোন,স্বামী-স্ত্রী এবং পুত্র-কন্যা। এই আইনের লক্ষ্যই ছিল শুধু নৈকট্য এবং আত্নীয়ের বন্ধন যেন অঙ্গ দানের ক্ষেত্রে নিয়ামক হয়। অন্য কোন কিছু যেমন, টাকা-পয়সা বা কোন সুবিধার বিনিময়ে যেন জীবন্ত অঙ্গে বিনিময় নয়া হয়। এই আইনটি প্রনীত হয়েছিল তখনই,যখনই ভারতের দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর এক বিপুল অংশ জীবন্ত অঙ্গ চোরাচালানের শিকার হয়েছিল।

শুধুমাত্র একটি ক্ষেত্রেই অনাত্নীয়ের অঙ্গে নেয়া যাবে যদি সরকারের নৈতিক কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয় যে, দাতা শুধু মানবিক এবং সামাজিক কারনে রোগীকে অঙ্গ দান করতে চায়, এখানে অর্থ বা অন্য কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি আমার অজ্ঞতা স্বীকার করে নিয়েই বলছি বাংলাদেশে অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন আছে কিনা তা আমার জানা নেই। এই মুহুর্তে দেশে থাকলে হয়ত জেনে নেয়া যেত। কিন্তু সেই সুযোগ এখানে নেই। এবার আমার আশংকার কথা বলি। একটা কার্যকর এবং কঠোর অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন থাকার পরও জয়ারামুর কিডনি রক্ষা পায়নি। কোন ক্ষতিপুরনও পায়নি জয়ারামু। ওর একটি দোষ ও গরীব। সমাজের সবচেয়ে নীচুতলায় থেকে জয়ারামুরা । সমস্ত পৃথিবীতেই তাবৎ নিগ্রহ- অবিচার মুখে বুজে সহ্য করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই ওদের। বাংলাদেশের নামহীন, পরিচয়হীন, গোত্রহীন, কোটি কোটি জয়ারামুদের কি হবে ? অঙ্গচোরাকারবারীরা কি বসে থাকবেন? তাদের নখ দাঁত বাগিয়ে কি এই অরক্ষিত মানুষগুলোর উপর ঝাপিয়ে পরবে না? বাংলাদেশের শিশুরা পাচার হয় উটের জকি হবার জন্য আর কোটি কোটি রহিমুদ্দি-কলিমুদ্দিরা কি অপেক্ষায় থাকবে কিডনি শিকারীদের খপ্পরে পড়ার জন্য? সতর্ক হবার সময় এখনই।

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

পিনাকী ভট্টাচার্য

The proletarians have nothing to lose but their chains. They have a world to win. ...

মন্তব্য করুন