রবিবার, জুলাই ২৫, ২০২১

পুষ্টি তুষ্টির অন্য কথা

পুষ্টি তুষ্টির অন্য কথা

image_pdfimage_print

অনেকেরই শৈশবের মধুর স্মৃতি আছে– আমার নেই। মধুর শৈশব উপভোগ করা আমার কপালে জোটেনি। আমার ভয়ের আর দুঃখের অনেক স্মৃতির মধ্যে আছে –ছেলেবেলার রোগগুলো। যখনই কোন অসুখ বাঁধাতাম –সঙ্গে সঙ্গে জীবনীশক্তি অর্ধেকটা নষ্ট হয়ে যেত। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়েও সে সময়গুলোতে কুসংস্কারের বিষাক্ত ছোবল থেকে আমার রোগাক্রান্ত শৈশব রেহাই পায়নি।

ছেলেবেলায় যে রোগগুলো হয় সেগুলো প্রায় সবগুলিই ভাইরাসের কারণে জ্বর।“ চিকিৎসা করলে সাত দিন না করলে এক সপ্তাহ’ , ভাইরাস জ্বর এমনিই চলে যায়। অথচ এখনো লাখ লাখ শিশু কিশোর এই সময়ে অপচিকিৎসা আর আর অপপরিচর্চার শিকার হয়। জ্বর হলে প্রথম আঘাত আসত খাবারের উপর। মোটকথা স্বাভাবিক সব খাবার বন্ধ। চলত সাগু আর বার্লি। বিস্বাদ অসহ্য প্রায় সব তরল খাবার। মুখের কাছে আনলেই বমি বমি লাগতো। এক সপ্তাহের জ্বর, সাগু-বার্লির বদৌলতে সারতে দুসপ্তাহ লাগত। শরীরের সমস্ত শক্তি নিঃশেষ হয়ে দুর্বল ক্ষীণকায় আমি আবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্ঠা করতাম।

সাগু আর বার্লিতে এক ফোঁটাও পুষ্টি নেই। তবে যারা ওজন কমাতে চান, নিজেকে ক্ষীণতনু বানাতে চান, এই অ-খাদ্যগুলো চেখে দেখতে পারেন—ফল পাবেন।

যখনই আমি পুষ্টি  বিষয়ে এসব কথা বলতে গেছি  তখনই কোন দিগ্গজ প্রশ্ন করেছেন তবে কি রোগ নিরাময়ে পথ্যের কোন ভূমিকা নেই? না নেই, অন্তত মামুলী অসুখগুলোর ক্ষেত্রে। তাহলে মামুলী অসুখ নয় কোনগুলো? এটি কোন জটিল প্রশ্ন নয়। সেগুলিই মামুলী অসুখ যেগুলো এক মাসের মধ্যে চিকিৎসা দিলে অথবা না দিলেও সেরে যায়। এই এক মাসের বেশী হলেই; একজন নয় একাধিক বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয় রোগ নির্নয় এবং নিরাময়ের জন্য। সেগুলো জটিল অসুখ। সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য। মজার বিষয় হচ্ছে , মামুলী এবং জটিল অসুখের শুরুটা একই রকমের। সেজন্য রোগী পরিচর্চাকারীর কোন জটিলতা নেই। চোখ বন্ধ করে যেকোন রোগে স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যাবেন। যা খেতে ভাল লাগে রোগীকে তাই খেতে দিবেন। ভাত-মাছ-মাংস-পরাটা যাই হোক।

যে সমস্ত রোগীরা কেমোথেরাপী পায় তাঁরা ক্ষুধামন্দায় ভোগেন । কিছুই খেতে পারেন না। আমাকে রোগীরা বলতেন – ডাক্তার সাহেব কিছুই খেতে পারি না । খেতে ইচ্ছেই করে না। কিছুই না, আমি জিজ্ঞাসু হই। না ডাক্তার সাহেব পানিও না – রোগীর উত্তর। কোক, পেপসি, ফান্টা, মিরিন্ডা—কিছুই না! এবার আমার মুখে কৌতুক।

এগুলো খাওয়া যাবে, ঠান্ডা লাগবে না? রোগীর চোখে স্পষ্ট আগ্রহ।

আমি আশ্বস্ত করি। একটা খুব ঠান্ডা কোল্ড ড্রিঙ্কস এনে দিতে বলি। বোতলের গায়ে জমাট শিশিরের মত বিন্দু বিন্দু জল। পরম আগ্রহে পরিতৃপ্তির সাথে রোগী আকন্ঠ পান করে। আমি নিশ্চিত হই। কমপক্ষে সারাদিনের ক্যালোরি যতটুকু দরকার রোগী পেয়ে গেল। রোগীর আত্নীয় একজন রাগত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকায়। ভাবখানা এমন আমাদের রোগীকে spoil করে দিচ্ছ তুমি। আমি থোড়াই কেয়ার করি। মনে মনে ঠিক করি পরদিন হাতে করে নিয়ে আসব কয়েকটা ঠান্ডা কোল্ড ড্রিঙ্কস, সঙ্গে নোনতা চিপস। রোগীর পাশে বসে ভাল করে খাব। আমার রোগীকে দ্রুতই উঠে দাঁড়াতে হবে।         

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

পিনাকী ভট্টাচার্য

The proletarians have nothing to lose but their chains. They have a world to win. ...

মন্তব্য করুন