শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২০

কোভিডের হাত থেকে মৃত্যুহার কমায় কোট্রাইমোক্সাজল ট্যাবলেট। ব্যবহারে সতর্কতা !!

কোভিডের হাত থেকে মৃত্যুহার কমায় কোট্রাইমোক্সাজল ট্যাবলেট। ব্যবহারে সতর্কতা !!

image_pdfimage_print

কোট্রাইমোক্সাজল ট্যাবলেট সিভিয়ার কোভিডের হাত থেকে মৃত্যুহার কমিয়ে ফেলে ৬ গুন!

[🔴সতর্কতা: এই ওষুধটির কিছু মারাত্মক ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ কোন ভাবেই সেবন যোগ্য নয়]

এই করোনা মহামারীতে এটা নিঃসন্দেহে একটা আশা জাগানো খবর!

কিন্তু এই খবরটা আমার কাছে নতুন কোন খবর না।যুক্তরাজ্যের সেন্ট হিলিয়ার ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের যে রিসার্চ ক্লিনিশিয়ান গ্রুপটি এই গবেষণা করছিল, তার লীড অথোর রেস্পিরেটরি মেডিসিনের কনসালটেন্ট ডঃ কাদরী আমার কলিগ এবং ভাল বন্ধু। এই গবেষনার ফলাফল নিয়ে সে আমার সাথে বেশ কয়েকবার আলোচনা করেছে পূর্বে। গত রাতে তাদের গবেষণা পত্রটি SSRN প্রি-প্রিন্ট সার্ভারে প্রকাশিত হয়েছে এবং পেপারটি বর্তমানে পীয়ার রিভিউতে রয়েছে।

আগেই বলে নেই যে তাদের এই গবেষণাটি একটি ক্লিনিক্যাল কেইস সিরিজ। এটা কোন RCT ড্রাগ ট্রায়াল নয়। এবং পেপারটি এখনও পীয়ার রিভিউতে রয়েছে। সুতরাং এই রিপর্টের ফলাফলকে সাবধানতার সাথে বিবেচনা করতে হবে।

এই গবেষণায় হাসপাতালে ভর্তি ২২ জন সিভিয়ার কোভিড রোগীকে কোট্রাইমোক্সাজল-ডিএস ট্যাবলেট অথবা ২০০ মিলিগ্রাম ট্রাইমেথোপ্রিম ট্যাবলেট দুই বেলা করে দেয়া হয় ৫ থেকে ৭ দিন। এই ওষুধের কার্যকারীতা তুলনা করা হয় আরও ২২ জন সমতুল্য সিভিয়ার কোভিড রোগীর সাথে, যাদেরকে কোন কোট্রাইমোক্সাজল বা ট্রাইমেথোপ্রিম দেয়া হয়নি, শুধু মাত্র স্ট্যান্ডার্ড থেরাপী দেয়া হয়।

এই ড্রাগ ট্রায়ালের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, কোট্রাইমোক্সাজল দেয়াতে রোগী মৃত্যুহার কমে যায় ৬ গুনের ওপরে। স্ট্যান্ডার্ড থেরাপীতে সিভিয়ার কোভিডে যেখানে মৃত্যুহার ছিল ৩২%, সেখানে কোট্রাইমোক্সাজল বা ট্রাইমেথোপ্রিম দেয়াতে মৃত্যুহার কমে গিয়ে দাড়ায় ৫% এ।

কোট্রাইমোক্সাজল বা ট্রাইমেথোপ্রিম দিয়ে চিকিৎসা করা সিভিয়ার কোভিড রোগীরা ভাল হয়ে বাসায় চলে যায় গড়ে ৯ দিনের ভেতর। আর যাদেরকে এই ওষুধ দেয়া হয়নি তাদের সুস্থ্য হয়ে বাসায় যেতে সময় লাগে ২২ দিন।

অন্যদিকে, যে সব রোগীদের শুধু স্ট্যান্ডার্ড চিকিৎসা দেয়া হয় তাদের ২২ জনের ভেতর ১৬ জনকেই ICU তে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দিতে হয়। আর যে ২২ জন রোগীকে কোট্রাইমোক্সাজল বা ট্রাইমেথোপ্রিম দেয়া হয় তাদের শুধুমাত্র ৩ জনকে ভেন্টিলেটরে নিতে হয়।

এই সবগুলো ফলাফলই বেশ ভাল। তবে কথা হল কোট্রাইমোক্সাজল কোভিডে কাজ করে কিভাবে?

কোট্রাইমোক্সাজল-ডিএস হল একটা কম্পাউন্ড ড্রাগ যার ভেতরে রয়েছে ১৬০ মিলিগ্রাম ট্রাইমেথোপ্রিম এবং ৮০০ মিলিগ্রাম সাল্ফামেথাজোল। এই দুটো উপাদানেরই এন্টি-ইনফ্লামেটরি ক্ষমতা রয়েছে। ট্রাইমেথোপ্রিম এবং সাল্ফামেথাজোল সতন্ত্র ভাবে ইমিউন সেল নিউট্রোফিল, মনোসাইট/ম্যাক্রোফেইজ এবং লিম্ফোসাইটের ইনফ্লামেটরি কার্যক্রমকে দমন করতে পারে। এবং এ সমস্ত কোষ থেকে বিভিন্ন রকম ইনফ্লামেটরি সাইটোরাইন্স যেমন ইন্টারলিউকিন-১, -২, -৪, -৬, টিএনএফ-আলফা ইত্যাদি রিলিজ কমিয়ে ফেলে।

আমরা জানি সিভিয়ার কোভিডে মৃত্যুর কারন হল সাইটোকাইন স্টোর্ম এবং ARDS। সুতরাং ধারোনা করা হয় যে কোট্রাইমোক্সাজল ওষুধটা সিভিয়ার কোভিডে যে অতি-ইনফ্লামেশন বা সাইটোকাইন স্টোর্ম হয় তা নিস্ক্রয় করে এবং এর ফলে আর ARDS সংঘঠিত হতে পারে না এবং এতে করে ফুসফুস চুরান্ত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় এবং রোগী বেঁচে যায়।

সুতরাং কোট্রাইমোক্সাজল ওষুধটি করোনা ভাইরাস নিধনে কোন ভুমিকা রাখে না। এটা শুধু সিভিয়ার কোভিডে যে অতি মাত্রার ইনফ্লামেশন হয় তা বন্ধ করে। অন্তত এতটুকু ভাবা যেতে পারে।

এ কারনেই, সুফল পেতে হলে এ ওষুধটি প্রয়োগ করতে হবে খুব হিসেব করে। পেপারটি অনলাইনে আসার পরপরই আমার সাথে ডঃ কাদরীর কথা হয়। তিনি পরিস্কার ভাবে বললেন যে সুফল পেতে হলে এ ওষুধটি শুরু করতে হবে ঐ সব রোগীদের উপর যারা ৭-১০ দিন করোনা ভাইরাস ইনফেকশনে ভুগছেন, এবং অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অক্সিজেনের প্রয়োজন পরছে, ও যাদের এক্স-রে বা সিটি স্ক্যানে ফুসফুসে নিউমোনিয়া ধরা পরেছে। ঠিক এই অবস্থায় কোট্রাইমোক্সাজল দিয়ে চিকিৎসা করলে সুফল পাওয়ার সম্ভনা রয়েছে। তাদের পেপারে এ বিষয়ে বিষদ বর্ননা রয়েছে। উৎসাহীদের জন্য আমি নিচে পেপারের লিংটি দিয়ে দিচ্ছি।

🔺অর্থাৎ এই ওষুধটা করোনা ইনফেকশন হলেই খাওয়া যাবে না। যথার্থ সময়ের আগে খেলে সমুহ বিপদের সম্ভবনা রয়েছে কারন কোট্রাইমোক্সাজলের এন্টি-ইনফ্লামেটরি অ্যাকশন ভাইরাস বিস্তারে সহয়তা করতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এ ওষুধ কোন ভাবেই সেবন করা যাবে না।

ডঃ কাদরীর কাছ থেকে জানতে পারলাম যে BSMMU তে কোভিডে কোট্রাইমোক্সাজল ট্রায়াল শুরু হতে যাচ্ছে অতিসত্তর। প্রথমে ১০০ জন রোগীর উপর এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালটি করা হবে। এটা একটা ভাল খবর।

বাংলাদেশ এখন করোনা মহামারীর পিকে পৌঁছাতে চলছে। সামনে অনেক রোগী আক্রান্ত হবে। অনেকের রোগ মারাত্মক আঁকার ধারন করবে। এমত অবস্থায় একটা কার্যকরী ওষুধ পেলে অনেকগুলো জীবন বেঁচে যাবে। আমাদের গরীব দেশে ICU আর ভেন্টিলেটরের চিকিৎসার আসা করা বাতুলতা মাত্র। সস্তা কোট্রাইমোক্সাজল ট্যাবলেটে যদি জীবন বাঁচে তার চেয়ে আর বড় আশির্বাদ কী হতে পারে।

দেখা যাক আমাদের দেশের কোট্রাইমোক্সাজলের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল কী ফলাফল দেয়। আমি কিন্তু কিছুটা আশাবাদী। এই প্রথম যদিও!

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন