শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২০

প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ কেন?

প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ কেন?

image_pdfimage_print

আমি যেদিন দেখলাম এয়ারপোর্ট থেকে ছেড়ে দেয়া ভাইরাস (ইতালীয়ান প্রবাসী) চেম্বারে ঢুকে গেছে এবং টেলিফোনে বিদেশফেরতদের এখনই দেখাতে আসার দরকার নেই বলেও ঠেকানো যাচ্ছে না, সাথে সাথে চেম্বার বন্ধ করে দিলাম।

কারন একটি ইনফেকটেড পেশেন্ট রিসিপশনে বসে আমার অন্যান্য সকল পেশেন্টকে ইনফেকটেড করবে। পঞ্চাশজন পেশেন্টের সাথে আরও পঞ্চাশজন এটেন্ডেন্টদের ইনফেকটেড করবে। এরা চক্রবৃদ্ধিহারে ছড়াতেই থাকবে। এরপরে আছে আমার ডাক্তাররা, অন্যান্য স্টাফরা। আমিসহ চেম্বারের ডাক্তার ও স্টাফদের কেউ ইনফেকটেড হলে ক্রমাগত পরেরদিনের, তারপরেরদিনের পেশেন্টদের ইনফেকটেড করবে। এই কিউমিলেটিভ বৃদ্ধির অংকটা আর কেউ না বুঝুক ডাক্তাররা বুঝে।

এর বিনিময়ে অনেক চিকিৎসক বিভিন্নভাবে পেশেন্টদের
চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।শতভাগ কার্যকরী না হলেও যথেষ্ঠ কার্যকরী। এ যাবত বহু পেশেন্টদের ই মেইলে, ম্যাসেঞ্জারে, টেলিফোনে চিকিৎসা দিয়ে আসছি। অনেক অনেক চিকিৎসক টেলিমেডিসিনের মাধমে সমস্যার সমাধান দিচ্ছেন। ইমার্জেন্সি হলে হাসপাতালে যাবে যেখানে সার্বক্ষনিক ডাক্তার আছে।

ডাক্তারদের চেম্বারে সাধারনত ইমার্জেন্সি পেশেন্ট আসে না। মনে রাখতে হবে এখনকার শ্লোগান “ঘরে থাকুন”। চেম্বার খোলা রেখে আপনি ডাক্তার এবং অবুঝ রোগীকে ঘর থেকে বের করছেন।

মানুষ করোনায় আক্রান্ত যত কম হবে পরবর্তীতে তত কম মানুষ আক্রান্ত হবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের উপরে চাপ তত কম পরবে। তাদের ঝুঁকিও কমবে। এখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশন চলছে। কাজেই সোস্যাল ডিস্ট্যান্সিং অবধারিত।

আমাদের আই সি ইউ বেডের সংখ্যা খুবই কম। কোভিডের জন্য নতুন তৈরী হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ঠ হবে না।
তাই আমাদের জন্য
প্রতিরোধ,
প্রতিরোধ এবং
প্রতিরোধ এর বিকল্প নেই।
আর তারই অংশ হিসেবে প্রাইভেট চেম্বার যারা বন্ধ রাখবে তাদের সাধুবাদ না জানিয়ে হুমকি দেয়া যুক্তিহীন। প্রয়োজনে হাসপাতালের আউটডোরও বন্ধ রাখতে হবে।

এখনও সরকারী, বেসরকারী সব হাসপাতালে ট্রায়াজ সিস্টেম এবং আইসোলেশন বেড না করে কোভিডকে এক্সক্লুড করতে না পারলে অন্যান্য অসুখের অসুস্থ রোগীর ভোগান্তি ঘুঁচানো সহজ হবে না।

এইদেশের সামাজিক নৈকট্যপ্রিয় মানুষ মড়ক লাগাবে, হাসপাতালে পর্যাপ্ত জিনিশ থাকবেনা, রোগী থই থই করবে আর জনতা বলবে “ঠ্যালা সামলা তুই ডাক্তার”।

বিশ্বের সর্বোচ্চ সুবিধাদিসম্পন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স আজ বিক্ষোভে রাস্তায়, আর নুন আনতে পান্তা ফুরায় হাসপাতালের চিকিৎসকরা ধমক খায়।

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন