শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০

কিটো ডায়েট এবং সম্ভাব্য ফলাফল……..

কিটো ডায়েট এবং সম্ভাব্য ফলাফল……..

image_pdfimage_print

চিকিৎসক ভাগ্নের কাছে গ্রামের সহজ সরল মামার প্রশ্ন – “পুলাপাইন যে প্রতিদিন গন্ডায় গন্ডায়  ঘি দিয়ে ডিম খাচ্ছে, এর ভবিষ্যৎ কি?”

সহজ প্রশ্ন, কিন্তু জবাব মোটেই সহজ নয়। সঠিক উত্তর আমার জানা নেই। বোধকরি কারোরই না হলেও অনেকের ই জানা নেই।

১। কিটো ডায়েট এর মূলমন্ত্র হলো দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দিয়ে শারীরবৃত্তীয় কর্মকান্ড বা Metabolic activities কে ইনসুলিন ল্যাক(Insulin Lack)-এ নিয়ে যাওয়া। ইন্সুলিন একটি এনাবলিক হরমোন। এটি শর্করা বা গ্লুকোজ কে ভেংগে ফেলতে সহায়তা করে এবং অন্যদিকে চর্বি ও প্রোটিন জমাতে সাহায্য করে। যদি Absolute বা চরম ইন্সুলিন ল্যাকে যাওয়া যায়, তখন কার্বোহাইড্রেট এর পরিবর্তে ফ্যাট ভেংগে শরীরে এনার্জী সরবরাহের রাস্তা উন্মুক্ত হয়। কিন্তু সমস্যা হলো – fat burns on the flame of carbohydrate!! ইনসুলিন ল্যাক এর কারনে কার্বোহাইড্রেট এর মেটাবলিজম যদি বন্ধ হয়ে যায়, অতিরিক্ত ফ্যাটিএসিড ব্রেকডাউন এর উপজাত বা এন্ড প্রডাক্টগুলো  পরবর্তীতে TCA Cycle এ যথাযথ ভাবে না ভেংগে বরং তা কিটো এসিড(Keto Acids) তৈরি করে। ফলে এক গ্রাম ফ্যাট থেকে যে  ৯ কিলো ক্যালরি এনার্জি পাবার কথা তা আর পাওয়া সম্ভবপর হয় না! তৈরী হবে অধিক মাত্রায় কিটো এসিড। অতিরিক্ত মাত্রায় যা ভয়াবহ কিটোএসিডোসিস(Life threatening keto acidosis) পর্যন্ত করতে পারে।

২। আমরা জানি ব্রেইনের ইউনিভার্সেল খাবার হলো গ্লুকোজ। ব্রেইন কিটোন ব্যবহার করতে পারে না তা নয়। দীর্ঘমেয়াদি ফাস্টিং এর সময়  ব্রেইন কিটোন ইউজ করে। কিন্তু এটা ব্রেইনের স্বাভাবিক জীবন প্রণালী নয়। একনাগাড়ে দীর্ঘদিন কিটোসিস চললে ব্রেইন সেটা কতটা সহ্য করে বা মেনে চলে তা নিয়ে গবেষণার সময় এসেছে।

দীর্ঘমেয়াদি কিটোসিস এর ফলে অধুনা কিটো ডায়েটে ক্রেজী যুবক ও মধ্যবয়সী জনগোষ্ঠী Early Dementia (স্মৃতিভ্রষ্টতা) -য় আক্রান্ত হলে বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না।

৩। “ইনসুলিন ল্যাক” অবস্থা তৈরি হলে ফ্যাট স্টোর adipose tissue থেকে চর্বি ভেংগে রক্ত প্রাবাহের সাথে মিশে বিভিন্ন অংগে গিয়ে পৌঁছে। ফ্যাট যত ব্রেক ডাউন হবে অক্সিডাইজড ফ্যাটিএসিডের সংখ্যা তত বাড়বে। অক্সিডাইজড ফ্যাট খুব সহজেই হার্টের করোনারী আর্টারীর ওয়ালে জমতে পারবে।

সুতরাং কিটোপ্রেমীদের মধ্যেই হার্ট এটাকের মাত্রা বেড়ে গেলে অবাক হবার কারণ নাই। ইদানিং অনেক ইয়াংদের মধ্যে হার্ট এটাকের ঘটনা ঘটছে যাদের কেউ কেউ কিটো ডায়েটে ছিলেন! এতে কিটো ডায়েটের প্রভাব আছে কি না খতিয়ে দেখা দরকার।

৪। ইনসুলিন ল্যাক হলে শুধু ফ্যাটই ভেংগে যাবে না, প্রোটিন ও ভেংগে যাবে। এটা কিন্তু ভয়াবহ একটা ব্যাপার যার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা কেউই ভাবছি না!

মনে রাখা দরকার, সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন যাপনের মূলমন্ত্র হলো, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কসরত, পর্যাপ্ত বিশ্রাম। অস্বাভাবিক কিটো ডায়েট নয়।

সব কথার শেষ কথা-

এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়!!

তরুণ এবং যুব সমাজ খাদ্য গ্রহণ করবে সুস্থ এবং সাবলীল জীবন যাপনের জন্য, রাষ্ট্র এবং সমাজকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য সে ছুটবে ঘোড়ার মত। কিটো ডায়েট খেয়ে কচ্ছপের মত শ্লথ গতির জীবন যাপন কখনই কল্যাণ বয়ে আনবে না।

রবিঠাকুরের ভাষায়:

ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, ওরে আমার কাঁচা,

আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা! — কিটো ডায়েট খেয়ে তা কখনোই সম্ভব নয়!!

(সংকলিত এবং ঈষৎ পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত)

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন