শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০

পুরুষের পৌরুষের নতুন চিত্র।

পুরুষের পৌরুষের নতুন চিত্র।

image_pdfimage_print

যখন সি এ ছিলাম এপ্রোনের ভিতরে বাইরে চারটা পকেট ভর্তি ঔষধ আর টাকা রাখতাম গরীবের জান বাঁচাতে। কারন জায়গাটি ছিল ঢাকা মেডিকেল, যেখান থেকে কোন পেশেন্ট কখনও ফেরত পাঠানো হয়না। এক পেশেন্ট প্লাসেন্টা প্রেভিয়ার, শক এ। প্রচুর ব্লাড দরকার। স্বামীকে যখন ব্লাডের কথা বলা হোল জবাব দিল, “তিনশত টাকা দিয়ে আর একটা বিয়ে করা যাবে। আপনারা পারলে কিছু করেন, না পারলে কইরেন না”। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এপ্রোনের পকেটে হাত দিলাম।

স্বামীর সাথে ঐ স্ত্রীর চিত্র দেখা হয়নি।

সিভিয়ার এন্ডোমেট্রিওসিস, একবার সার্জারী করে বাচ্চা হোল না। টেস্ট টিউব চিকিৎসা আবশ্যক। স্বামী বেঁকে বসল এত টাকা খরচ করতে পারবে না। তার কথা, ” যে চিকিৎসার কোন গ্যারান্টি নেই তা করবনা। আগে বাচ্চা হোক তারপরে দেখা যাবে”। স্বভাবত:ই এই ঘাড় ত্যারা পার্টির চিকিৎসা করতে মন সায় দেয় না। কিন্তু মেয়েটার কান্না কাটিতে আবার গলে যাই। যেহেতু স্বামী টাকা দিবে না তাই নিজেদের সবকিছু ছাড় দিয়ে করে দিলাম। প্রেগন্যান্সি হোল। সারা জেস্টেশনাল পিরিয়ড হাস্পাতালে থাকতে হোল প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার ব্লিডিং থেকে থেকে চলছিল বলে। কত যত্ন, কত ব্লাড ট্রান্সফিউশন– এই পুরো দুর্যোগপূর্ন সময়ে তার বোন শুধু সাথে ছিল। একটি দিনের জন্যও স্বামীটি হাস্পাতালে আসেনি। সিজারের দু’দিন পরে নির্লজ্জ বেহায়ার হাসিমেখে বাচ্চা নেবার জন্য হাসপাতালে।

সেজেগুজে হাসিমুখে স্বামী আর বাচ্চাকে নিয়ে এসেছে ড্রেসিং করতে।

সর্বশেষ কাহিনী।

৩৯ বছর বয়স্কা মহিলা। স্বামী চিকিৎসার টাকা দিবে না। মহিলা স্কুল টিচার। নিজের সঞ্চিত টাকা দিয়ে ট্রিটমেন্ট চালালো। ৯ টি চমৎকার এম্ব্রায়ো হওয়াতে ফ্রীজিং এর অপশন জানানো হোল। অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করল। বুঝিয়ে বললাম যে এগুলো অনেক মূল্যবান। অবশেষে অন্তত ৫০% দিলেও রেখে দেয়া যাবে এই মর্মে মহিলার দুলাভাই রাজী হোল টাকা দিতে। প্রেগন্যান্সি হোল। টুইন। শুনলাম মহিলাকে তার স্বামী কোন টাকা পয়সাতো দেয়ই নি। সিমেনও দেয়নি। স্ত্রীর কাছে সে সিমেন বিক্রী করেছে। একটি চেকের বিনিময়ে সে সিমেন দিয়েছে।

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন