বুধবার, জানুয়ারী ১৯, ২০২২

ঔষুধ খাবার যত নিয়ম কানুন

ঔষুধ খাবার যত নিয়ম কানুন

image_pdfimage_print

অসুখবিসুখ সারাতে অনেকে নানা রকম ওষুধ খান। আবার কেউ একই সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুসরণ করেন। এতে কখনো কখনো বিপত্তি হতে পারে। তার একটা হচ্ছে ওষুধে-ওষুধে প্রতিক্রিয়া বা ড্রাগ ইন্টারেকশন। বেশির ভাগ ওষুধের বিপাক যকৃতে এবং নিষ্কাশন কিডনি দিয়ে হয়ে থাকে। কখনো কোনো একটি ওষুধ অন্য ওষুধের বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বা অন্য ওষুধের কার্যকারিতা বাড়িয়ে বা কমিয়ে দিতে পারে। একে বলে ড্রাগ ইন্টারেকশন।

একই সঙ্গে রক্তে চর্বি কমানোর ওষুধ ও ছত্রাকরোধী ওষুধ খেলে চর্বি ও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেড়ে যেতে পারে। আবার হৃদ্‌রোগের ওষুধ ডিগোক্সিনের সঙ্গে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক আছে যা না খাওয়াই ভালো। আবার থাইরয়েডের ওষুধের সঙ্গে অন্য কিছু ওষুধ একসঙ্গে খেলে ওষুধটির শোষণ কমে যেতে পারে। ক্ষতিকর ড্রাগ ইন্টারেকশন এড়াতে আপনাকে একটু সচেতন হতে হবে।

দুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিক : কিছু অ্যান্টিবায়োটিক যেমন টেট্রাসাইক্লিন, কিপ্রোফ্লোক্সাসিন এবং অস্টিওপরোসিসসমৃদ্ধ কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে দুধ খাওয়া উচিত নয়। এই অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর সঙ্গে দুধ পান করলে অনেক সময় এইগুলো ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে এর কার্যকারিতা কমে যায়।

কলা এবং রক্তচাপ সম্পর্কযুক্ত ওষুধ : আপনি যদি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খেয়ে থাকেন, তবে পটাশিয়ামযুক্ত ফল কম পরিমাণে খাওয়া উচিত। কলা পটাশিয়ামের অনেক ভালো উৎস। রক্তচাপের ওষুধের সঙ্গে কলা কম খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত কলা খাওয়া হার্ট বিট বৃদ্ধি করে বুক ধড়ফড় বাড়িয়ে দিয়ে থাকে।

লেবু এবং কাশির ওষুধ : ডেক্সথ্রোমেথফেইন জাতীয় কাশির ওষুধের সঙ্গে লেবু জাতীয় ফল খাওয়া উচিত নয়। লেবুতে থাকা অ্যাসিড এই ওষুধের সঙ্গে মিশে আপনাকে আরও বেশি ক্লান্ত, তন্দ্রালু করে তুলবে।

যষ্টিমধু এবং হার্টের ওষুধ : আপনি যদি হার্টের রোগী হয়ে থাকেন, তবে যষ্টিমধু খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এই খাবারটি রক্তে পটাশিয়ামের পরিমাণ হ্রাস করে দেয়। পটাশিয়াম লেভেল কমে যাওয়ার কারণে রোগী দুর্বলবোধ করে এবং হার্টবিট অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

অ্যালকোহল এবং পেইনকিলার : আপনি যদি ডায়াবেটিস, অ্যানথিস্টামিনস অথবা অন্য কোনো পেইন কিলার খেয়ে থাকেন তবে অ্যালকোহল পান করা থেকে বিরত থাকুন। এই ওষুধগুলোর সঙ্গে আপনি যখন অ্যালকোহল পান করবেন, তখন লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাবে। অ্যালকোহল শরীরে মিশিয়ে নিতে লিভারকে অনেক বেশি কাজ করতে হয়। লিভারের এই অতিরিক্ত কাজ করার জন্য শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সবুজ শাকসবজি এবং অ্যান্টিকোঅ্যাগুলান্টস: রক্ত ঘন অথবা রক্ত বৃদ্ধি করার সবচেয়ে ভালো এবং কার্যকরী উপায় হলো শাকসবজি যেমন পালং শাক, ব্রকলি ইত্যাদি খাবার খাওয়া। এই সবজিগুলোতে ভিটামিন কে রয়েছে, যা রক্ত পরিষ্কার করে ঘন করতে সাহায্য করে। কিন্তু আপনি যদি রক্ত বৃদ্ধি করার ওষুধ খেয়ে থাকেন তবে শাকসবজি খুব বেশি পরিমাণে না খাওয়াই ভালো।

জাম্বুরা এবং স্টায়াটিন : জাম্বুরায় থাকা উপাদানগুলো শরীরের স্টায়াটিন ভেঙে দিয়ে থাকে। এটি রক্তচাপ কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। তাই প্রেশারের রোগীদের জাম্বুরা একটি সীমা পর্যন্ত খাওয়া উচিত।

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন