শুক্রবার, জুন ১৮, ২০২১

ভিটামিন ডি অভাবের লক্ষণ ও প্রতিকার

ভিটামিন ডি অভাবের লক্ষণ ও প্রতিকার

image_pdfimage_print

বহু মানুষ ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে ভুগছে। একাধিক গবেষণা অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষের এ সমস্যা আছে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ভিটামিন ‘ডি’র উৎস। সূর্য যখন প্রখর থাকে, তখনই অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে পৌঁছায়। কাচ, ঘন মেঘ, কাপড়চোপড়, ধোঁয়া ও সানস্ক্রিন এই রশ্মিকে বাধা দেয়। তাই দু-একবার বাইরে বেরোলেই আপনার শরীর ভিটামিন ‘ডি’ পাবে না।ভিটামিন ডি-এর অভাবের লক্ষণ খুব সহজে প্রকাশ পায় না। কিন্তু এর অভাবে সহজেই আপনার হাড় ফ্র্যাকচার হতে পারে। বাচ্চাদের রিকেটস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে দেখা দিতে পারে অস্টিওম্যালাশিয়া।ভিটামিন-ডি একটি ফ্যাট সলিউবল সিকুস্টারয়েড। এর কাজ হচ্ছে দেহের অন্ত্র (ইনটেসটাইন) থেকে ক্যালসিয়ামকে শোষণ করা; এটি আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফসফরাসকেও দ্রবীভূত করে। ভিটামিন-ডি নিয়ে আগে এত কথা না হলে বর্তমানে এ বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। পুষ্টিবিদরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন-ডি জাতীয় খাবার রাখার পক্ষে জোর দিচ্ছেন।

১) ক্লান্তি- যথেষ্ট ঘুমানোর পরেও আপনি ক্লান্ত সব সময়? ভিটামিন ডি এর অভাব এটা ঘটাতে পারে। .

২) বিষণ্ণতা- মস্তিষ্কে বেশকিছু ভিটামিন ডি রিসেপ্টর থাকে। বিষণ্ণতার সাথে সম্পর্কিত এলাকাতেও থাকে এগুলো। রক্তে কম পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকার সাথে বিষণ্ণতার যোগসূত্র আছে । .

৩) কপাল ঘামে- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কোনো রকম ভারি কাজ না করার পরেও যদি কারও কপাল ঘেমে চকচক করতে থাকে তাহলে তার আরও ভিটামিন ডি দরকার। .

৪) হাড়ে ব্যথা- প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ভিটামিন ডি এর অভাব থাকলে হাড় এবং পেশিতে ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে সকালে গিঁটে গিঁটে ব্যথা ও আড়ষ্টতা থাকতে পারে। এসব হাড় সহজে বাঁকা হয়ে যাওয়া ও চির ধরার সম্ভাবনা থাকে। .

৫) ইরেক্টাইল ডিসফাংশন- এটা পুরুষের যৌনজীবনের একটি সমস্যা। যাদের প্রায়ই এই সমস্যাটা দেখা যায়, তাদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি এর অভাবও দেখা যায় প্রায়ই। .

৬) হাড়ে ফ্র্যাকচার- ভিটামিন ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। অনেকেই হাড় শক্ত করার জন্য ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন। কিন্তু যথেষ্ট ভিটামিন ডি শরীরে না থাকলে এই ক্যালসিয়াম খুব একটা কাজে আসে না। ফলে হাড় হয়ে ওঠে নরম এবং ভঙ্গুর। .

৭) রোগ প্রতিরোধে অক্ষমতা- ভিটামিন ডি এর অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে আশেপাশে কেউ ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হলে আপনিও তার শিকার হয়ে পড়েন সহজেই। এতে এসব রোগ থেকে সেরে উঠতেও দেরি হয়। .

৮) উচ্চ রক্তচাপ- উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারন ভিটামিন ডি এর অভাব। . এছাড়াও আরও যেসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলো– – সোরিয়াসিস – দাঁতের ভঙ্গুরতা – ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি – হাইপারটেনশন অথবা কোনো কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ – শ্বসনতন্ত্রের অসুস্থতা – কিডনিতে সমস্যা – ইনসমনিয়া (ঘুমের ব্যাঘাত) – ঘন ঘন ইনফেকশন।

মাছ

বিভিন্ন মাছে রয়েছে ভিটামিন-ডি। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত মাছ, যেমন : স্যালমন, সারদিনস, টুনা, ম্যাককেরেল ইত্যাদি। দৈনিক ভিটামিন-ডি’র চাহিদার ৫০ শতাংশ পূরণ হতে পারে একটি টুনা মাছের স্যান্ডউইচ বা তিন আউন্স ওজনের একটি স্যালমান মাছের টুকরো থেকে।

মাশরুম

মাশরুমে রয়েছে ভিটামিন-ডি। পরটোবেললো মাশরুম সূর্যের আলোয় বড় হয়, এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-ডি। তাই চাহিদা পূরণে নিয়মিত মাশরুম খেতে পারেন।

সুরক্ষিত কমলার জুস

বাজারে কিছু ভালো ব্র্যান্ড রয়েছে, যারা কমলার জুস তৈরিতে ভিটামিন-ডি যোগ করে। অন্যান্য জুসের মধ্যে এটি দেওয়া হলেও কমলার জুস ভিটামিনের উপাদান ধরে রাখতে পারে। তাই ভিটামিন-ডি’র জন্য ভালো ব্র্যান্ডের জুসও খাওয়া যেতে পারে। তবে খাওয়ার আগে প্যাকেটের গায়ে দেখে নিন, কী কী উপাদান দিয়ে তৈরি হয়েছে এটি।

ডিম

ডিমে হালকা পরিমাণ ভিটামিন-ডি রয়েছে। তবে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, তাঁদের ডিমের কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জাতীয় খাবার

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জাতীয় খাবারে ভিটামিন-ডি রয়েছে, যেমন : গরুর মাংসের লিভারে ভিটামিন-ডি আছে। তবে এটা রান্না করে খাওয়ার চেয়ে অনেকেই হয়তো দুধ থেকে ভিটামিন-ডি খেতে বেশি পছন্দ করবেন।

[সংগ্রহীত ]

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন