শুক্রবার, জুন ১৮, ২০২১

‘বিষাক্ত প্রসাধনীতে ভরা বাংলাদেশের বাজার’

‘বিষাক্ত প্রসাধনীতে ভরা বাংলাদেশের বাজার’

image_pdfimage_print

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে দেশে যে পরিমাণ কসমেটিকস অর্থাৎ স্নো,ক্রিম, শ্যাম্পু, সাবান, লোশন, আফটার-শেভ লোশন, পারফিউম এসব চাহিদা রয়েছে তার ১৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে দেশিয় কোম্পানির উৎপাদনে।আর ১৫ শতাংশ -আমদানি করা বিদেশি পণ্য। বাকি ৭০ শতাংশ কসমেটিকস নকল ও ক্ষতিকারক উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে ।গবেষণায় বলছে পুরান ঢাকার চকবাজার, জিঞ্জিরা, ইসলামপুর এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা শহরে এই ভেজাল কসমেটিকস তৈরির কারখানা গুলো গড়ে উঠেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ বলছেন ভেজাল করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সুগন্ধিটি ছাড়া বাকিটা ক্ষতিকারক উপাদানে তৈরি হয়। তিনি বলছিলেন “যে পরিমাণ ফরমালডিহাইড থাকলে ক্ষতি হবে না, সেটা অনেক বেশি পরিমাণে হচ্ছে, প্রিজারভেটিভ এবং এন্টি অক্সিডেন্ট ব্যবহারের মাত্রা থাকে ভেরি ভেরি হাই। এর প্রথম উপসর্গ হবে রোগীর এলার্জি দেখা দেবে।

প্রতিদিন নানা ধরনের কসমেটিকস বাজারে আসছে, সাধারণ ভোক্তারা এইসব প্রসাধনীর চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে অথবা অনেক সময় বাজারে যেয়ে এর গুনাগুণ শুনে দাম দিয়ে কেনেন এবং ব্যবহার করেন।

তবে বিজ্ঞাপনের তাক লাগানো এসব পণ্যের ভিতরের উপাদান কতটা ক্ষতি করতে পারে? বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম বিভাগের অধ্যাপক লে,কর্নেল(অব) আব্দুল ওয়াহাব বলছিলেন “আমরা যেসব রোগী প্রতিদিন পায় তাদের মুখে কালো দাগ, র‍্যাশ, গোটা, লালা হয়ে যাওয়া, এলার্জি, অত্যধিক ঘাম ঝরে।

তিনি বলছিলেন “রোগীর কাছে যখন জানতে চাই কি ব্যবহার করে,তখন তারা কিছু ক্রিম, লোশনের কথা বলে যেগুলোতে আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান থাকে।তবে রোগীদের পক্ষে জানা সম্ভব না তারা কি ব্যবহার করছে।

এই উপাদানগুলোর ইমিডিয়েট এলার্জিক রিয়্যাকশনে রোগী মারা যেতে পারেন। এমন রোগী আমরা পেয়েছি। এছাড়া দীর্ঘদিন এসব ব্যবহারে ত্বক সহ কিডনি এবং শরীরে অন্য অংশে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে”।অনেক সময় হয়তো ব্রান্ডের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সহজে ফর্সা হওয়ার জন্য কোন প্রসাধনীই আসলে ব্যবহার করা ঠিক না, কারণ সেটি ত্বক এবং শরীরের ক্ষতি করে। বিশেষ করে কমদানি কোন প্রসাধনী ব্যবহার করা একেবারেই ঠিক না। বরং ঘরে নানা ধরণের প্রসাধনী তৈরি করে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশের যেসব প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর বেশিরভাগেই ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান রয়েছে যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশর জন্য ক্ষতিকর বলে জানিয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থা।

এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশের নামীদামী ৩৩টি প্রসাধনী পণ্য পরীক্ষা করে সবগুলোয় ক্ষতিকর উপাদানের অস্তিত্ব পেয়েছে। হেয়ার জেল, বেবি লোশন, বিউটি ক্রিম, সহ বিভিন্ন প্রসাধনীতে আর্সেনিক সহ বিভিন্ন রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এমনকি এ শিশুদের জন্য ব্যবহৃত হয়, এমন প্রসাধনীতেও বিষাক্ত উপাদানের অস্তিত্ব রয়েছে বলে তারা সংস্থাটি জানিয়েছে।

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন