বুধবার, আগস্ট ১৫, ২০১৮

শর্তাবলী

ব্লগিং বিধি এবং শিষ্টাচার

ব্লগ লেখার সিদ্ধান্ত এবং অনলাইন প্রকাশনা জগতে পদার্পণের সিদ্ধান্তের জন্যে আপনাকে অভিনন্দন! তবে শুরুতেই জেনে রাখতে হবে যে ব্লগিং এর দুনিয়ায় আপনাকে কিছু লিখিত ও অলিখিত নিয়ম-কানুন এবং আচরণ বিধি মেনে চলতে হবে।  এই প্রবন্ধে এমনই কিছু নিয়ম-নীতি তুলে ধরা হল যেগুলো মেনে চললে যে কোন ব্লগার অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়িয়ে নির্বিঘ্নে ব্লগিং করতে পারবে।


 

কপিরাইট/ স্বত্ব সংক্রান্ত আইন

অন্য কোন ব্লগ বা উৎস থেকে পাওয়া বিষয় বস্তুর ওপরে ব্লগ লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যয়ই সেই ব্লগের বা উৎসের ঠিকানা উল্লেখ করে লিংক দিতে হবে। কৃতিত্ব উল্লেখের প্রয়োজন থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে। ইন্টারনেটে প্রকাশিত যে কোন মৌলিক লেখার স্বত্ব থাকে সেই লেখকের। অন্য কোন লেখক বা ব্লগার নিশ্চয়ই চাইবেন না অন্যের লেখা কে নিজের বলে প্রকাশ করতে। তাই যে কোন লেখা প্রকাশের সময় তাতে ব্যাবহৃত তথ্য উপাত্ত বা ধারণা যদি অন্য কোন লেখা বা উৎস থেকে সংগৃহীত হয় তবে তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

তবে কপিরাইট আইনের একটা অস্বচ্ছ দিক রয়েছে, যাকে ফেয়ার ইউজেবল/ফেয়ার ইউজের আওতায় একজন লেখক অন্য লেখকের লেখা মন্তব্য আকারে বা শিক্ষণীয় কোন বিষয় বস্তু হিসাবে ব্যবহার করতে পারে। তবে অন্যের বক্তব্য বা লেখার অংশ প্রকাশের সময় তার নাম বা লেখার লিংক যুক্ত করে দেয়াটা আইন সিদ্ধ ও নিরাপদ। সেই সাথে নিজের মন্তব্য বা চিন্তা যোগ করে দিলে মূল বিষয়টির স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকে।

এ সকল নিয়ম মেনে লেখা প্রকাশ করলে আইনি জটিলতা মুক্ত থাকা যায়। পাশা পাশি সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাংকিং-এও কোন বিরূপ প্রভাব পড়ে না। কেননা দেখা যায় যে নিয়ম মেনে কোন লেখা প্রকাশ না করলে বা প্রয়োজনীয় লিঙ্কের উল্লেখ না করে কোন লেখা প্রকাশ করলে সার্চ ইঞ্জিন সে সব লেখাকে নিসিদ্ধ করে দেয় এবং সে গুলো আর খুঁজে পাওয়া যায় না।


 

ব্লগে ছবির ব্যবহার

ব্লগে ছবির ব্যবহার এবং এ সংক্রান্ত বিধি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মৌলিক লেখার পাশাপাশি কপিরাইট আইন ছবি এবং মিউজিকের স্বত্বও রক্ষা করে। বিনোদন সাইট থেকে পাওয়া কোন তারকার ছবি নিয়ে আপনি গসিপ ব্লগ তৈরি করতেই পারেন এবং সেটা নিশ্চয়ই খুব মুখরোচক। তবে এটা করলে কপিরাইট আইনের পরিপন্থী হতে পারে।

কপিরাইট আইন লঙ্ঘন না করে ব্লগে ছবি প্রকাশ করতে চাইলে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে। সেক্ষেত্র স্বত্বাধিকারী নিজে অনুমতি দিলে বা যে সকল ছবি স্বত্ব ত্যাগ করে সকলের প্রকাশের জন্য উন্মুক্ত ভাবে পাওয়া যায় সেগুলো ব্যাবহার করলে আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব। কপিরাইট লাইসেন্স সম্পর্কে যে তিনটি বিষয় জেনে রাখা দরকার-

রাইটম্যানেজড – ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে তৈরি কপিরাইট লাইসেন্স অনুযায়ী কোন ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেই ছবির জন্য তার স্বত্বাধিকারীকে মুল্য পরিশোধ করতে হবে বা তার থেকে অনুমতি নিতে হবে। সাধারণত রাইট ম্যানেজড সম্বলিত ছবির ক্ষেত্রে প্রতিবার ছবি ব্যবহারের সময় তার স্বত্বাধিকারীকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হয়।

রয়ালটিফ্রিস্বত্ব সংবলিত ছবির সাধারণত একটা নির্দিষ্ট মূল্য ট্যাগ থাকে এবং একবার সে মূল্য পরিশোধ করে বার বার ছবি ব্যবহার করা যায়। কিছু  রয়ালটি-ফ্রি ছবি আছে যেগুলোর জন্য কোন অর্থ প্রদান করতে হয় না। তবে সেগুলো ব্যবহারের কিছু বিধি-নিষেধ থাকে, যেমন ব্যবহারের সময় ছবির উৎস বা  স্বত্বাধিকারীর নাম উল্লেখ করা বা উল্লিখিত অন্য কোন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। রয়ালটি-ফ্রি এ ধরনের ছবি কে বলা হয় স্টক-ইমেজ।

ক্রিয়েটিভকমনস (creativecommons.org) এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা একজন মূল স্বত্বাধিকারীকে তার নিজস্ব কাজ তুলে ধরতে সাহায্য করে, যেখানে বিধি-নিষেধ কপিরাইট আইনের চেয়ে কম।


 

স্প্যাম বিষয়ক সতর্কতা

ব্লগের দুনিয়ায় স্প্যামার হিসেবে সহজেই পরিচিতি পাওয়া যায়। এর জন্য অসচেতনভাবে ব্লগমণ্ডলের কিছু অলিখিত নিয়ম ভঙ্গই যথেষ্ট। প্রচার-প্রচারণার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখে। আত্মপ্রচার থেকে শুরু করে নিজের কাজ, ব্যবসায়িক প্রচারণা সব কিছুই চলে এ মাধ্যমে। তবে এ জগতের বাসিন্দারা আত্ম-প্রচারককে পছন্দ করে না। তাই এ পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত বা পরিচিত করতে চাইলে নিজেকে এমনভাবে তুলে ধরতে হবে যেন কোনভাবেই নিজেকে আত্ম-প্রচারক না মনে হয়।


 

নীতি নির্ধারণ

একজন ব্যক্তির কাছে তার নিজস্ব ব্লগ একেবারেই তার নিজের জায়গা, তাকে তিনি সাজাবেন তার নিজের মতন করে, নিজের লক্ষ্যকে সামনে রেখে। সেখানে তিনি কি প্রকাশ করবেন বা কি প্রকাশ করবেন না তা একান্তই তার নিজের বিষয়। এখান থেকে ব্লগ নীতিমালার ধারণা সামনে আসে।এটা মূলত যার যার নিজের ব্লগ-পলিসি বা নীতি যা তাকে যেমন সুরক্ষিত রাখে তেমনি তার পাঠক বা অনুসারীদেরও। একই ভাবে তার সম্পর্কে একটা সামগ্রিক ধারনারও জন্ম দেয়; কী ওই ব্লগে লিখা হবে, কী না।

 

কমেন্ট বা মন্তব্য নীতি:

ব্লগে নিয়মিত পোস্ট দিলে এটা খুব স্বাভাবিক যে পোস্টগুলোতে অনেক কমেন্ট আসতে থাকে, সে সব কমেন্ট বা মন্তব্যের মধ্যে এমন অনেক কিছুই থাকে যা আপনি প্রকাশ করতে চান না। সে ক্ষেত্রে ব্লগার সে সমস্ত মন্তব্য প্রকাশ নাও করতে পারেন বা সংশোধন করে প্রকাশ করতে পারেন । যেমন অন্যকে আঘাত করে বা হেয় করে যে সব মন্তব্য বা অশ্লীল মন্তব্য কাঙ্ক্ষিত নয়। অথবা যেসব মন্তব্য স্প্যাম হিসাবে ব্যবহারকারীকে আহত করতে পারে তা ব্লগ থেকে মুছে ফেলা উচিত।

কমেন্ট সংশোধনী অপশনের মাধ্যমে কোন ধরনের মন্তব্য আপনি মুছে ফেলবেন বা সংশোধন করবেন তা নির্ধারণ করে দেয়া যায় এবং যার কমেন্ট সংশোধন করা হল তার কাছেও এ তথ্য চলে যায়। সুতরাং মন্তব্যকারীরও ওই ব্লগ বা ব্লগার সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয় যে কেন তাদের মতামত প্রকাশ করা হয় না।

 

প্রাইভেসি পলিসি:

প্রাইভেসি পলিসি আপনার ব্লগ ব্যবহারকারীদের জানতে সাহায্য করে কোন ধরনের তথ্য আপনি তাদের নিকট থেকে জানতে চান বা কোন ধরনের তথ্য আপনি তাদেরকে জানাতে চান। উদাহরণস্বরূপ একটি ব্লগ বিজ্ঞাপন প্রোগ্রামে বিজ্ঞাপনদাতা আপনার ব্লগ ব্যবহারকারীদের সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন বা তা সংরক্ষণ করতে চান যেন ভবিষ্যতে আরো উপযুক্ত মানের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারেন। আপনি যদি এই প্রোগ্রামে অংশ নিতে চান তাহলে বিজ্ঞাপন সংস্থা আপনার নিকট আপনার ব্লগের প্রাইভেসি পলিসি ছাপানোর কথা বলতে পারেন, যাতে বলা থাকবে ব্যবহারকারীদের কোন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং তা কী কাজে ব্যবহৃত হবে।

 

শর্তাবলী ব্যবহার নীতি:

ব্লগের সুরক্ষার জন্য ব্লগ ব্যবহারের কিছু শর্তাবলী নির্ধারণ করা খুবই জরুরি। ব্লগ ব্যবহারের পালনীয় শর্তাবলী এতে উল্লেখ থাকে।

মনে রাখতে হবে ব্লগের পলিসি নির্ধারণের দুটি মূল লক্ষ্য ব্লগের পাঠকদের প্রত্যাশা পূরণ এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখা।

শর্ত বা ব্লগের নীতি নির্ধারণের আগে একজন নতুন ব্লগারের উচিত অন্যান্য ব্লগের শর্তগুলি ভালো ভাবে পড়ে বুঝে নেয়া এবং ঐ সকল শর্তের সাথে নিজের ব্লগের নিরাপত্তার জন্যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মিলিয়ে  একটি পূর্ণাঙ্গ শর্ত ও নীতির তালিকা প্রকাশ করা।

যদি আপনি এই সহজ নিয়ম-কানুনগুলো মেনে চলেন, তবে আপনার ব্লগিং হবে নিরাপদ ও আনন্দদায়ক।

আপনার জন্য শুভেচ্ছা এবং শুভ ব্লগিং!