রোগ প্রতিকারে আম্রের (আম গাছ) গুণাবলী

প্রকৃতির গর্ভে জন্ম সবারই, বিকাশও প্রকৃতির বক্ষে, কিন্তু নিরুপদ্রবে জীবন সাফল্য লাভ কেবা পায়? এই যে ফল ফুলে তারও কি সস্তির জীবন সুষমা ভোগ করে?

পোঢ় শীতের আম্রকে ধরেই বলি- প্রকৃতির সঙ্গে তাকে বহু লড়াই করেই তো এই ফলটিকে বেচে থাকতে হয়। ভ্রুণকালে তাকে মেরে ফেলতে চায় কুজঝটিকা , শিলা বৃষ্টি, প্রচণ্ড খরা। এদের উপদ্রবে আমের মুকুল বা গুতিগুলি অসময়ে ঝরে যায় বলে টার নাম রাখা হয়েছে চুত।

এই গাছটির পরিচয় নিষ্প্রয়োজন। গার্হস্থ্য জীবনে এর উপযোগিতা উপলব্ধি করেই একে কৃষি লক্ষ্মীর পুজায় বা অন্য কোন মাঙ্গলিক কর্মের উপচার হিসাবে চিনহিত করা আছে। প্রাচীন বোটানিতে তার বহু পর্যায়ে নামকরন করা হয়েছে। কিন্তু পাশ্চাত্য উদ্ভিদ-বিজ্ঞানিদের দেওয়া নামটি হলো – Mangifera indica Linn, Family – Anacardiaceae

রোগ প্রতিকার

১। আমাশায়ঃ- কচি আম পাতা ও জামপাতার রস (২/৩ চা-চামচ) একটু গরম করে খেলে আমাশা সারে।

২। দাহ ও বমিভাবঃ- যাদের শরীরে দাহ বেশী এবং বমি বমি ভাব প্রায়ই ঘটে, তারা আম পাতা (৩/৪ টি) জলে সিদ্ধ করে সেই জলতাকে সমস্ত দিনে একটু একটু করে খেলে দাহ ও বমি ভাবটা চলে যাবে ।

৩। অকালে দাত পরে যাওয়ায়ঃ আম পাতা (কচি হলে ভাল হয়) চিবিয়ে তা দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত নড়েও না পড়েও না।

৪। পোড়া ঘায়েঃ- আগুনে পুড়ে গিয়ে ঘা হলে আম পাতার পোড়া ছাই ( পাএের মুখ লেপে শুকিয়ে পোড়াতে হবে) ঘিয়ে মিশিয়ে লাগালে পোড়া বা ঘা শুকিয়ে যায়।

৫। পা ফাটায়ঃ- যাদের পা ফেটে চৌচির হয়ে যায়, তাদের ফাটা আরম্ভ হলে প্রথম থেকেই ঐ ফাটায় আম গাছের আঠা লাগালে আর বাড়ে না। তবে আমের আঠার সাথে কিছু ধুনোর গুড়ো মিশিয়ে লাগালে আরও ভাল হয়।

৬। নখকুনিতেঃ- যারা নখকুনিতে কষ্ট পান, তারাও আমগাছের নরম আঠার সঙ্গে একটু ধুনোর গুড়ো মিশিয়ে নখের কোণে টিপে দিলে এ থেকে রেহাই পাবেন।

৭। কেশপতনেঃ- আমের কুশি থেঁতো করে জলে ভিজিয়ে ছেকে নিয়ে সেই জল শুষ্ক চুলের গড়ায় লাগালে কেশ পতন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

৮। অকালপক্কতায়ঃ- থেঁতো করা আমের কুশি  ৫/৬ গ্রাম ও শুকনো আমলকী ২/৩ টুকরো একসঙ্গে ১০/১২ চা-চামচ নিয়ে লোহার পাত্রে জলে ভিজিয়ে সেটা ছেকে নিয়ে চুলে লাগালে অকালপক্বতা রোধ করে।

৯। খুসকিতেঃ- আমের কুশি আর হরিতকি একসঙ্গে দুধে বেটে মাথায় লাগালে খুসকি কমে যাবেই, তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে উচিত- ওটি  ছেকে মাথায় লাগানো।

১০। গলা ব্যথায়ঃ- আম পাতার ধোয়া গলা-বেদনা নিবারিত করে।

উপরে উল্লেখিত রোগ ছাড়াও বহু রোগের প্রতিকার হিসাবে কাজ করে এই আম্র। হারানো দিনের সৃতির হিতৈষী যারা – তাদের অনেকেরই মনে জাগে আম্র খণ্ড ঔষুধে কবিরাজগণ এককালে কত রোগেই না সারাতেন- অল্পপিত্ত, উদাবর্ত, শূন্যগর্ভ, গুল্ম প্রভৃতি।

জনদরদী কবিরাজগণ সত্যই তেমনি ফলপ্রদ ঔষুধ প্রস্তুত করতেন। তবে পরিবর্তিত যুগধারায় সে সব আমাদের মনে আজ এখন স্রিতির সাগরে অবগাহন করে আত্মপ্রসাদ লাভ করা মাত্র। এখন এসবের স্থান যেন- “বন্ধ্যার কাছে প্রসব বেদনার অনুভুতি জ্ঞাপন কারানো”।

 

CHEMICAL COMPOSITION:

a)Vitnam viz, vitamin A, B, C and D, ascorbic acid. b) Caro-tenoid pigments. C) Glycosides viz, pesnidin 3-galactoside. d) Other constituents viz. UDP-g;ucosepyrophosphorylase, ADP- glucosepyrophosphorylase, UDP-glucose fructose-phosphate, nucleosideo diphosphate kinasc . e) Ethylgaliate, phenol, starch.




কংকাল-কথন

“ছুয়ে ছুয়ে দেখো আমার হাড়, ছুঁয়ে ছুয়ে শেখো একি”!!!!!….
কৃষ্ণকলির এ রকম একটা গান আছে। মেডিকেল লাইফের একেবারেই প্রথমে হাড়হাড্ডি নিয়ে পড়াশুনা এনাটমি হার্ড পার্টে। নামে শক্ত হলেও সাবজেক্ট টা সহজ এবং অনেক মজার।
হাড়গোড় নিয়ে পড়াশুনা শুরু হয়েছিল লিওনার্দো ভিঞ্চি এর স্কেচ থেকে। এই ধরনের কাজে কঙ্কালের প্রথমে ব্যবহার হয় ১৫৪৩ সালের দিকে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে চিকিৎসা শাস্ত্রের অন্যতম বিদ্যাপীঠ ইংল্যান্ড এ কঙ্কালের ব্যবহার তখন চরম তুঙ্গে। কঙ্কালের চাহিদা জোগান দিতে গিয়ে বড় বড় হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ চুরি কিংবা সমাধিক্ষেত্রে মৃতের আত্নীয়দের সাথে চিকিৎসাশাস্ত্রের ছাত্রদের মারামারির মত কুখ্যাত বিখ্যাত ঘটনাও ঘটেছিল।

আমেরিকার অবস্থা তখন আরো খারাপ। জনসং্খ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে চিকিৎসাশাস্ত্র তখন ব্যাপক জনপ্রিয়।যেখানে ১৭৬০ সালে আমেরিকা তে মেডিকেল স্কুলের সং্খ্যা ছিল মাত্র ৫ টি, একশ বছরের ব্যবধানে তা দাঁড়ায় ৬৫ টিতে।

ডাক্তারিতে রোজগারের সম্ভাবনা ছিল খুবই ভাল। ঠিকঠাক ভাবে শিখলে আর খাটতে রাজি থাকলে ডাক্তার হতে আর কোনও বাধা ছিল না। অন্যান্য অনেক জীবিকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে গরিব বড় লোকের যে প্রশ্ন উঠত, ডাক্তারিতে ভর্তির ক্ষেত্রে উঠত না। এই পেশায় যোগদানে কোনও রকমের সামাজিক বাধা ছিল না। আর্থিক সংস্থান করতে পারলেই ভাল রোজগারের জন্যে পড়া যেত। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ছাত্র সংখ্যা হুহু করে বাড়তে থাকল, আর শেখানোর জন্য জরুরি জিনিসপত্রে টান পড়ল, বিশেষ করে শবদেহে।ঐতিহাসিক মাইকেল স্যাপল তাঁর ‘A Traffic In Dead Bodies ’ বইয়ে লিখেছেন,কী ভাবে মেডিক্যাল কলেজে শব ব্যাবচ্ছেদের ঘরগুলো ডাক্তারি ছাত্র আর দেহ জোগানদারদের দহরম মহরমের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। পড়াশোনায় সাহায্যের জন্যে মৃতদেহ ছিল জরুরি, তাই সব ছাত্ররাই কঙ্কাল-কারবারিদের হাতে রাখার চেষ্টা করত। যিশুর জীবন কাহিনি থেকে ধার করেই যেন এই দেহ জোগানদারদের বলা হত, ‘রেজারেকশনিস্ট’ বা পুনরুত্থানবিদ। চিন্তা করা যাই শল্যবিদ, অস্থিবিদ-এর মতো পুনরুত্থানবিদ! কারণ, তাঁদের হাতেই কবর থেকে দেহগুলোর ‘পুনরুত্থান’ ঘটে! এইবিশেষজ্ঞরা মেডিক্যাল কলেজে আড্ডা জমাতেন। শবদেহ যোগান দিতে প্রায়ইদেহচুরির মত ঘটনা সেখানেও ঘটত। আমেরিকান সমাজ এই দেহ চুরির ব্যাপারটাকে মোটেও ভাল চোখে দেখত না। বেশির ভাগ দেহই চুরি হত কালো মানুষ বা আইরিশদের কবর থেকে। কারণ, এই দুই ধরনের মানুষই ছিলেন সমাজের সবচেয়ে নিচু তলার বাসিন্দা। দেহ চুরি এতই বেড়েছিল যে, বড় লোকেদের সমাধিগুলো আস্তে আস্তে সুরক্ষিত হয়ে উঠল। সমাধিতে প্রহরী, কংক্রিটের স্তম্ভ এমনকী অ্যালার্ম লাগানোর প্রচলন হল। তবে মোটের ওপর ডাক্তারি শিক্ষার কথা মাথায় রেখে আইন এই ব্যাপারে তত কঠোর হয়নি। এই কারণেই মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে শুরু করেছিল।ওয়েস্টপোর্ট শহরে উইলিয়াম হেয়ার-এর একটা ভাঙাচোরা বোর্ডিং হাউস ছিল। সেই বোর্ডিংয়ের অধিকাংশ বাসিন্দাই ছিল হতভাগ্য গরিব মানুষ।প্রায়শই না খেতে পাওয়া বোর্ডাররা সেখানে মরে যেত। আর হেয়ারকে তাদের দেহগুলোর সদগতির দায়িত্ব নিতে হত। এক বার এই রকম একটা দেহের শেষকৃত্যের জন্যে হেয়ার সেটি নিয়ে যাচ্ছিলেন। একজন মানুষ দেহটি তাঁর কাছ থেকে কিনে নিতে চান। বিনিময়ে হেয়ার ১০ পাউন্ডপান। ক্রেতা হেয়ারকে আরও বলেন যে, আরও দেহ পেলে তিনি এই রকম টাকা দিতে রাজি আছেন। এই ঘটনার পরে হেয়ারের মাথায় দুষ্টুবুদ্ধি চাপে। তিনি বার্ক বলে আর এক জনকে সঙ্গে নিয়ে এক বছর ধরে সতেরো জনকে বীভৎস ভাবে হত্যা করে দেহগুলো বিক্রি করে দেন। অনেকটা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ইংল্যান্ডে ১৮৩২ সালের ‘অ্যানাটমি অ্যাক্ট’ চালু হয়। মৃতদেহটি জীবিত অবস্থায় কে ছিল, এই নিয়েও কিন্তু চিরকালই মাথাব্যথা ছিল।অনেক সময় ডাক্তারদের চেম্বারে ঝোলানো দেহগুলোতে লেখা থাকত যে সেগুলো মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত কালো মানুষদের দেহ। তার ফলে সাদা মানুষরা নিশ্চিত হতে পারতেন যে, তাঁদের জাতের দেহের মরণোত্তর অসম্মানের ভয় নেই। তাঁরা যে দেহ কঙ্কাল নিয়ে কাটাছেঁড়া করছেন, সেগুলো কালো মানুষের।কিন্তু সমস্যা হল যে যথেষ্ট পরিমাণ কালো লোকেদের কঙ্কাল পাওয়া যাচ্ছিল না। ব্রিটিশ ডাক্তারদের তাই চোখ পড়ল উপনিবেশগুলোর ওপরে। স্বভাবতই উপনিবেশ ভারত বাদ পড়ল না। ভারতে ডোম জাতির লোকেদের এই হাড় জোগানের কাজে লাগানো হল। ১৮৫০ সাল নাগাদ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ বছরে ১০০টা কঙ্কাল জোগান দিচ্ছিল। প্রায় ১০০ বছর পরেও নতুন স্বাধীন ভারত এই জোগানে অগ্রণী ছিল। ১৯৮৫ সালে ‘শিকাগো ট্টিবিউন’-এ খবর বেরোয় যে ভারত তার আগের বছর ষাট হাজার খুলি ও কঙ্কাল রফতানি করেছিল। ব্যবসার ভাল সময়ে কলকাতার হাড় কারখানার মোট বাৎসরিক ব্যবসার মূল্য ছিল দশ লক্ষ ডলার। ভাঙা বুকের পাঁজর দিয়া কঙ্কাল ব্যবসায়ের স্বর্ণ যুগে কলকাতায় হাড়ের কারখানায় চাকরি করাটা বেশ সম্মানজনক ছিল। এই কারখানাগুলোতে শারীরবিদ্যা চর্চাভিত্তিক একটা বৈজ্ঞানিক পরিবেশ ছিল। কলকাতা শহরের প্রশাসনও তখন প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ইত্যাদির মাধ্যমে পূর্ণ সহায়তা করত। ব্যবসাটার ভাল দিকও ছিল। কেবল বেওয়ারিশ লাশের গতি হত তাই নয়, একটা বাণিজ্যিক ভাবে মরে যাওয়া শহর যেন তার কঙ্কাল বেচে করে খাচ্ছিল। কিন্তু সমস্যাটা হল যে কেবল বেওয়ারিশ লাশ আর ছোটখাটো কবর চুরি দিয়ে চাহিদা মেটানো যাচ্ছিল না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মরণোত্তর কঙ্কাল দানের ভরসায় জীবিতদের আগাম দাদন দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সেও তো খুব সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কবে মরবে সেই ভরসায় তো নিয়মিত জোগান চালিয়ে যাওয়া যায় না। তাই বড় ধরনের মড়া চুরিতে জড়াতেই হল। ১৯৮৫ সালে পনেরোশো শিশুর কঙ্কাল আবিষ্কার হওয়ায় দেশ জুড়ে আলোড়ন তৈরি হল। খবরের কাগজ দাবি করল, ওই শিশুদের চুরি করে হত্যা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বলে মানব শরীরের রফতানি বেআইনি বলে ঘোষিত হল। কঙ্কালের ব্যবসা প্রকাশ্য ভাবে বন্ধ হয়ে গেল।বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার্থী দের বোনস এর যে চাহিদা তার ৬০থেকে ৭০ ভাগই পুরন হয় সিনিয়র দের বোনস দিয়ে।এছাড়া বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের বেওয়ারিশ লাশসমূহ ,মরনত্তোর দেহ দান এবং কিছু পাচারকৃত বোনস দ্বারা চাহিদা পূরন হচ্ছে ।
স্যারদের কাছে শুনতাম তারা যে দামে বোনস কিনতেন সেইদামেই বিক্রি করে দিতেন, অনেকেই ফ্রি ফ্রি ই তাদের জুনিয়র দের দিয়ে দিতেন। কিন্তু দিবদলে গেছে ।আমাদের জেনারেশন বোনস বেচেই তাদের বিভিন্ন শখ আহ্লাদ যেমন ট্যুরে যাওয়া, মোবাইল কেনা, ল্যাপটপ কেনা, ইত্যাদি পুরন করে ফেলছে। ফলে দিনকে দিন বোনসের দাম বেড়েই চলেছে।শেখার জন্য প্রয়োজনের খাতিরে যে জিনিস কেনা সে জিনিস টাতে লাভ ক্ষতির হিসাব না করলেই কি নয়??




ভায়াগ্রা

***ভায়াগ্রা কী? What is Viagra?

ভায়াগ্রা একটি ট্রেড নেম বা নির্দিষ্ট একটি ওষুধের রাসায়নিক নামকরণ। এর মূল উপাদান সিলডেনাফিল সাইট্রেট। যা ইরেকটিক ডিসফাংশান (যৌন উত্তেজনায় অক্ষমতা) নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়। এটা ফাইজার কোম্পানীর বিজ্ঞানী এন্ড্রু বেল, ডেভিড ব্রাউন এবং নিকোলাস টেরেট আবিষ্কার করেন। এটা পুরুষাঙ্গে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। সিলডেনাফিল সমগোত্রীয় অন্যান্য ঔষধ টাডালাফিল, ভারডানাফিল প্রভৃতি।
.

.

***কাজ:

 প্রাথমিক পর্যায়ে ভায়াগ্রা হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ব্যবহার করা হলেও তাতে আশাপ্রদ ফল পাওয়া যায়নি। কিন্তু গবেষণা চলাকালীন দেখা যায়, পুরুষ রোগীদের লিঙ্গ উত্থানের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হচ্ছে। বিষয়টি লক্ষ্য করে সেই সময় ভায়াগ্রা নিয়ে নতুন ভাবনা-চিন্তা শুরু করেন গবেষকরা। মূলত অনিচ্ছুক মসৃণ কোষের শিথিলতার সময়সীমা বৃদ্ধি করে এবং পুরুষাঙ্গে রক্ত চলাচলের হার বাড়ানোই ভায়াগ্রার কাজ। তবে শুধুমাত্র পুরুষাঙ্গই নয়, গোটা শ্রোণী এলাকাতেই রক্ত সরবরাহ বাড়ায় ভায়াগ্রা। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শতকরা ৮৮ ভাগ ক্ষেত্রে যৌনতায় অক্ষম পুরুষ ভায়াগ্রা ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। শুধু লিঙ্গ উত্থানের সমস্যাই নয়, এই অবস্থা ধরে রাখতেও ভায়াগ্রার ভূমিকা প্রশ্নাতীত। এর প্রয়োগে যৌন সুখের সময়সীমা বৃদ্ধি হয় বলেও প্রমাণিত।
.

.

***কি ডোজে ভায়াগ্রা সেবন করবেন?

ভায়াগ্রা সেবনের পর পুরুষের পেনিসের উত্থান
বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, ৫০ মিঃ গ্রাঃ এর নির্দেশিত মাত্রায় পুরুষের পেনিসের উত্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং এই মাত্রায় খেলে স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকি সবচেয়ে কম। তবে এটি রোগীর বয়স এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। রোগীর যদি যকৃত বা লিভার, কিডনি ইত্যাদি কোনো ধরনের কার্যগত সমস্যা দেখা দেয় তবে সিলডেনাফিল সাইট্রেটের ডোজ কমিয়ে ২৫ মিঃ গ্রামে আনা উচিত। আবার অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ৫০ মিঃ গ্রাঃ ভায়াগ্রা সেবন ইরেকশনের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে তার যদি অন্যান্য স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকি না থাকে তবে ডাক্তার তার ডোজ বাড়িয়ে ১০০ মিঃ গ্রাঃ পর্যন্ত করতে পারেন। তবে কখনোই ১০০ মিঃ গ্রাঃ এর বেশি ভায়াগ্রা এক সাথে সেবন করা উচিত নয়। এতে করে আপনার তীব্র নিুরক্তচাপ দেখা দিতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য খুব হুমকিস্বরূপ। আরেকটি কথা বিষেশভাবে উল্লেখযোগ্য, তা হলো ভায়াগ্রা বা সিলডেনাফিল সাইট্রেস একদিন বা ২৪ ঘন্টা সময়ের ভেতরে একেবারের বেশি সেবন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ তা যে ডোজেই সেবন করা হোক না কেন।
.

.

***ভায়াগ্রার সাইড ইফেক্ট:

সাধারণ ভাষায় বলতে গেলে ভায়াগ্রার মূল জটিলতা হলো হার্টে কোনো অসুখ থাকলে এবং এটি যদি এমনটি হয়ে থাকে যে জন্য শারীরিক কার্যক্রম পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হয়। এজন্য ভায়াগ্রা সেবনের পূর্বে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ফিজিশিয়ানের মাধ্যমে মেডিকেল ইতিহাস এবং সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে নিতে হবে। হার্ট ফেইলিওর, হার্টএ্যমিটাক , স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষণ, খুব বেশি মাত্রায় বা অল্প মাত্রার রক্তচাপ ইত্যাদি অবস্থায় ভায়াগ্রা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূূর্ণ। ফিজিশিয়ান পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখবেন আপনার ইরেকশনে সমস্যা হওয়ার পেছনে মূল শারীরিক বা মনোগত কারণ কি এবং সে অনুযায়ী তিনি ঠিক করবেন আপনাকে সিলডেনাফিল সাইট্রেট দেবেন কি দেবেন না। ভায়াগ্রা সেবনজনিত আরেকটি মূল জটিলতা হলো আপনি এর সাথে অন্য আর কোনো ড্রাগ বা ওষুধ সেবন করছেন কিনা। নানা ধরনের ড্রাগের সাথে ভায়াগ্রার ইন্টারেকশন বা রাসায়নিক ক্রিয়া হতে পারে। এখন পর্যন্ত সব ধরনের ড্রাগের সাথে এর কি ধরনের ক্রিয়া পতিক্রিয়া হয় তা সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি। তবে নাইট্রেটস (জিহ্বার নিচে প্রয়োগযোগ্য গ্লিসারিন টাইনাইট্রেটস ট্যাবলেট, স্প্রে, ডাইনাইট্রেটস ইত্যাদির সঙ্গে) জাতীয় ওষুধের সঙ্গে ভায়াগ্রা সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বাজারে প্রচলিত অর্গানিক নাইট্রেটসের মধ্যে রয়েছে নাইটোগ্লিসারিন, আইসোসরবাইটডাইনাইট্রেটস, নাইটোডুর, নাইটোপেস্ট এবং আইসোবিউটালনাইট্রে নামক ওষুধ। আপনি এগুলোর যে কোনোটি সেবন করতে থাকলে একই সাথে ভায়াগ্রা বা সিলডেনাফিল সাইট্রেট সেবন করলে রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে এবং অপরিবর্তনীয়ভাবে স্বাভাবিক লেভেলেরা অনেক নিচে নেমে যেতে পারে। এটি যেমন নানাবিধ মেডিকেল অসুস্থতার সৃষ্টি করতে পারে তেমনি দুটি একই সাথে সেবনে মৃত্যুর ঘটনাও অনেক ঘটেছে। যে সব রোগী সিমেটিডিন, ইরাইথ্রোমাইসিন, কেটোকনাজল অথবা ইট্রাকনাজল জাতীয় ওষুধ সেবন করেছেন তাদের এসব ওষুধের সাথে সিলডেনাফিল সাইট্রেস বা ভায়াগ্রা সেবন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভায়াগ্রা উপরোল্লিখিত ওষুধগুলোর সাথে রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়া করে থাকে। একে আমরা ড্রাগ ইন্টারেকশন বলি। তাই আপনি যদি ওপরের কোনো ধরনের ওষুধ সেবন করে থাকেন তবে ডাক্তারকে অবশ্যই অবহিত করবেন।
ভায়াগ্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে মতান্তর
তবে প্রচলিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে মাথাব্যথা, মুখমণ্ডল রক্তবর্ণ ধারণ করা এবং দৃষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানা গেছে। বেশি মাত্রায় ভায়াগ্রা ব্যবহারে চোখের নানা সমস্যা দেখা দেওয়া বিরল

নয়।

.

.

***ব্যবহার:

 সাধারণত  লিঙ্গের উত্থানজনিত সমস্যা দূর করতে ৫০ মিলিগ্রাম ভায়াগ্রাই যথেষ্ট। ক্ষেত্র বিশেষে তা ১০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত প্রয়োগ করা চলে। তবে, ভায়াগ্রা বা সিলডেনাফিল সাইট্রেট ২৪ ঘণ্টায় একবারের বেশি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যৌনমিলনের এক ঘণ্টা আগে ভায়াগ্রা ব্যবহার করাই উত্তম।
ভায়াগ্রা শুধুমাত্র বেশি বয়সে ব্যবহারের জন্য নয়। কম বয়সে যদি কারও ইরেকশন না হয়, তা হলে ভায়াগ্রা ব্যবহার করা সম্পূর্ণভাবে সেফ। বরং বয়স হলে অনেকে প্রেশার ইত্যাদি রোগের জন্য নানারকম ওষুধ খায়, তখন ভায়াগ্রা খাওয়ায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকে, কিন্তু কম বয়সে এ ধরনের কোনও সমস্যা থাকে না। তবে আমার আদৌ ভায়াগ্রার প্রয়োজন আছে কি না, বা নিলে কীভাবে, সেটা ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ না করে নেওয়া উচিত নয়।

ভায়াগ্রা নিলে তা সেক্সুয়াল আর্জকে বাড়াবে বা পেনিস ভ্যাজাইনাতে বেশিক্ষণ রাখা যাবে, এমনটা কিন্তু একেবারেই নয়। এটা শুধুমাত্র তাদের জন্য, যাদের ইরেকশন যথেষ্ট হচ্ছে না। ইন্টারকোর্সের জন্য যথেষ্ট মাত্রায় ইরেকশন না হলে ডাক্তারের সঙ্গে কনসাল্ট করা উচিত, এর চিকিত্সা সম্ভব এবং এটা কোনও বড় রোগ নয়।




সন্তান জন্মের পর পেট পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা

সন্তান জন্মের পর পেট কিভাবে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়? মহিলাদের এটা খুব সাধারন ও আলোচিত জিজ্ঞাসা । এই প্রশ্নের কোন সুনিদ্রিস্ট উত্তর নাই। কেননা প্রতিটি মহিলাই আলাদা এবং সব মহিলাই স্পেশাল। কিছু মহিলার বাচ্চা হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই পেট এমনিতেই আগের মত হয়ে যায়। কারো আবার অনেক লম্বা সময় লাগে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো অনেকের আবার কখনোই আগের অবস্থায় আসে না। এধরনের মহিলারা যারা তাদের পেট পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চায় ও তলপেটের দাগ দূর করতে চায় তাদের জন্য কসমেটিক সার্জারী অন্যতম উপায়। যাহোক, এবডোমিনোপ্লাস্টি (পেটের কসমেটিক সার্জারি) করার পূর্বে আরো বেশ কিছু উপায় চেষ্টা করা যেতে পারে। নিম্নে তার কিছু উল্লেখ করা হলোঃ

১। নিয়মিত ব্যায়ামঃ
বাচ্চা জন্মের পর পেট পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার একটা প্রধান উপায় হচ্ছে ব্যায়াম। এতে পেটের মাংশের টোনও ফিরে আসে। কিন্তু ব্যায়ামের জন্য দৃঢ় ইচ্ছা ও দীর্ঘদিনের চেষ্টা লাগে। তাছাড়া বেশি ব্যায়াম বাচ্চার স্তন্যদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে ।

২। নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহনঃ
ব্যায়ামের মতো নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহন প্রসব পরবর্তী পেটের সৌন্দর্য ফিরে পেতে সাহায্য করে। কিন্তু এক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে কারন অতিরিক্ত ডায়েটিং শুধু নিজের নয়, বাচ্চার স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করে। ডায়েটিং শুরু করতে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ বা তার চাইতে বেশি দেরি করা উচিত।

৩। স্তন্যদানঃ
বাচ্চা জন্মের পর মায়ের পেটের আকৃতি কমানোর একটা অন্যতম উপায় হচ্ছে বাচ্চাকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো। এটা বিশেষভাবে বাচ্চা জন্মের প্রথম কয়েক মাস খুবই উপকারি।

৪। লাইপোসাকশনঃ
উপরের উপায় গুলোতে যখন কাজ না হয় তখন কসমেটিক প্রসিডিউরে যেতে হয়। লাইপোসাকশন তার মধ্যে অন্যতম। এখানে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে পেটের দেয়াল থেকে চর্বি বের করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ফল পাওয়া যায় কিন্তু তলপটে থলথলে চামড়া ঝুলে থাকে। যা পরে এ্যাবডোমিনোপ্লাটি নামের কসমেটিক সার্জারি করে ঠিক করতে হয়।

৫। এ্যাবডোমিনোপ্লাটি বা টামি টাকঃ
সর্বশেষ উপায় হচ্ছে এ্যাবডোমিনোপ্লাস্টি নামক কসমেটিক অপারেশন। এখানে পেটের মাঝ থেকে শুরু করে তলপেট পর্যন্ত চামড়া ও চর্বি কেটে ফেলে দেয়া হয় ও পেটের মাংস পেশীকে সেলাই করে টান টান করা হয়। যেসকল মহিলা তাদের ওজন কমানো বা মাঝপেটের দাগ সরানোর জন্য এই অপারেশন করতে চায় তাদের এই অপারেশন করা যাবে না। কারন এটা ওজন কমাতে বা মাঝপেটের দাগ দূর করতে পারে না। শুধুমাত্র তলপেটের দাগ দূর করতে পারে।

মনে রাখবেন প্লাস্টিক সার্জারি শুধুমাত্র একজন প্রশিক্ষিত প্লাস্টিক সার্জনের সাথে বিস্তারিত আলোচনার পর করা উচিত। অপারেশনের আগে আলোচনা করে আপনি অবশ্যই নিশ্চিত হবেন যে এটা আপনার কতটুকু উপকার করবে। আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমার ফেসবুক পেইজে www.facebook.com/wahidplastic মেসেজ করলে আমি খুবই খুশি হব এবং আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।




মনের দুয়ারে মৃত্যুর কড়া নাড়া

জীবনের পূর্নতা আসে মৃত্যুতে। অবধারিত, অনিবার্য এই পরিনতি নিয়ে অল্পই জানা গেছে। হতে পারে আমাদের জানার ইচ্ছাটাও নেই। মৃত্যুর আরেক সার্থক প্রতিশব্দ বোধহয় বিভীষিকা।  মৃত্যু নিয়ে কোন ইতিবাচক আলোচনা শুরু করাটা বাস্তবিকই কঠিন। সে ভাবনা বোধ করি তেমন হয়ওনি। গ্রীক বা রোমান দর্শন এ ব্যাপারে নিশ্চুপ । আধুনিক দর্শনও ধোঁয়াশায়  ভরা। মৃত্যু সম্পর্কে অবধারিতভাবে ধর্ম ও দর্শনের কথা আসতেই হবে। এটাকে শুধু প্রানীদেহের ডিজেনারেশন হিসেবে দেখলে একে অনর্থক অর্থে ভাবার প্রশ্ন অবান্তর হয়ে যাবে। আবার শুধু একটি তথ্য হিসেবে দেখলে প্রশ্ন আসবে মৃত্যু কি জীবনে অনুপস্থিত? না জীবনের NEGATION (নেতি) এই নানা প্রশ্ন উপস্থিত থাকতে বাধ্য। পৃথিবীর বর্তমান প্রচলিত ধর্মগুলোতো অনেক পুরনো ঘটনা। হেলেনিক দর্শনে (যেখানে জীবন নানাভাবে জিজ্ঞাসিত হয়েছে) মৃত্যুর  প্রসঙ্গ নেই। এতে যা আছে সেটা কি? দেখা যাক তা। এই ভাববাদীদের মধ্যে যাকে আমরা বেশি চিনি তিনি হচ্ছেন প্লেটো আর এরিস্টটল। প্লেটো যা বলেছেন যা সত্য তা তা সার্বিক, কিন্তু সত্য প্রত্যক্ষগম্য নয়; সত্যের কোন সার্বিক রূপ নেই। ধারনার সাহায্যেই সত্যকে জানা যায়।  সুতরাং ধারণা করা যেতে পারে যে, মৃত্যু যেহেতু প্রত্ত্যক্ষগম্য তাই সার্বিক ধারনার সাহায্যেই একে জানতে হবে। হিন্দু ধর্ম দর্শনে মৃত্যুকে অনেকটা ইতিবাচক রুপে দেখা হয়েছে। মৃত্য মানে এখানে জীবনের পরিসমাপ্তি  নয়। হিন্দুরা পুনর্জন্মে  বিশাস করেন এবং মনে করেন যে, প্রতিটা মৃত্যুই মানুষকে মূল্যবোধ অনুযায়ী পরিচালিত করার  সুযোগ করে দেন। হিন্দু ধর্ম মতে, মৃত্যুর সময় মানুষ যে যে কষ্ট আর যন্ত্রনা ভোগ করে তা ‘মৃত্যু’ এই প্রক্রিয়ার জন্য নয় বরং অনিশ্চয়তা এবং জাগতিক বন্ধন থেকে বিচ্ছিন্নতার জন্য। এই বেদনা বস্তু জগতের জন্য আমাদের ভালবাসা, অযৌক্তিক বন্ধন ছিন্ন হওয়ার প্রতীকী রূপ।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রায় মৃত্যু বলে একটা অবস্থা আছে। যে অবস্থায় মানুষ ক্লিনিক্যালি মৃত অর্থাৎ জীবনের সমস্ত লক্ষণ অনুপস্থিত। দৈব কোন কারণে যে অবস্থা থেকে যারা ফিরে এসেছেন, তাদের ভাষ্যমতে প্রায় মৃত্যু এক অনন্ত প্রশান্তিদায়ক অবস্থা। সকলেই একই অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। বলেছেন শান্তির, আনন্দের এক নিরুদ্বিগ্ন জগতের কথা। মৃত্যুক্ষনে মৃত প্রিয়জনদের দেখতে পাওয়া বা প্রিয়জনেরা প্রায়ই শোনা যায়। এগুলোকে নিছক হেল্যুসিনেশন বলে চালানো হত। এখন বিজ্ঞানীরা আরো গভীরে গিয়ে মৃত্যুক্ষনে বা আসন্ন মৃত্যুর বিষয়টি আরো কিছু জানানোর চেষ্ঠা করেছেন। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা মৃত্যু বিষয়টি বুঝতে পারে না। তাদের কাছে মৃত্যুর অর্থ হচ্ছে দূরে চলে যাওয়া, দূরে কোথাও থাকা। পাঁচ বছর বয়সের এক শিশুর ক্যান্সার হয়েছিল। ক্যান্সার চিকিৎসার সময় সে তার বন্ধুদের মৃত্যু দেখেছে।  চিকিৎসা শেষে ডাক্তার  বললেন, আপাদত দৃশ্যমান ক্যান্সারগুলোকে ধ্বংস করা গেছে। ছেলেটি বাসায় ফিরে আসে। তার জানালা দিয়ে একটি পুরনো দুর্গ দেখা যেত। দুর্গটি দেখিয়ে বাচ্চাটি তাঁর  বাবা-মাকে  বলতো তাঁর মৃত বন্ধুরা ওখানে থাকে। শিশুটির অযৌক্তিক চিন্তা তার বাবা-মা শিশুটিকে ঐ দূর্গে নিয়ে যেতে চাইলে শিশুটি মোটেই সেখানে যেতে  চায়না। একদিন শান্তভাবে শিশুটি এসে বললো আর কিছুদিনের মধ্যেই সে তাঁর বন্ধুদের কাছে থাকবার জন্য দুর্গে চলে যাবে।একমাস পরেই দেখা গেলো শিশুটির ক্যান্সার আবার ফিরে এসেছে। কাজেই কোন দৈব বলে শিশুটি  জেনে গেছে এ পৃথিবীর দিন শেষ-মৃত্যু আসন্ন। এমনকি ডাক্তাররা বোঝার আগেই। জগতের সবচেয়ে বড় ডাক্তারের সাথে তার জানা শোনা!

(৯০ এর দশকে আজকের কাগজে প্রকাশিত এই লেখাটি পরবর্তীতে “বালাই ষাট” বইয়ে সংকলিত হয়েছে)



স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ওপর হামলা এবং সহিংসতা

গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে “নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে” একটি গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ প্রকাশিত হয়েছে। অনেকরই হয়তো এটা নজর এড়িয়ে গিয়েছে। রিভিউয়ের বিষয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ওপর হামলা এবং সহিংসতা।আমরা সচরাচর বাংলাদেশে চিকিৎসকদের ওপর রোগী কিংবা তার আত্মীয়স্বজনদের হামলার খবর শুনে অভ্যস্ত।

কিন্তু বিস্ময়কর মনে হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ওপর হামলা এবং সহিংসতা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। কিন্তু এর সমাধান এখনও অস্পষ্ট। কারণ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের প্রতি মন্দ আচরণ, অত্যাচার কিংবা সহিংসতার খবর অনেকক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষের নজরে আসে না, ভুক্তভোগীরাও এটা জানাতে অনীহা প্রকাশ করেন। এজন্য এটা নিয়ে তেমন কোন বিচার-বিশ্লেষণ কিংবা গবেষণা হয় না।

২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে বোস্টনের একটি বিখ্যাত হাসপাতালের শল্য চিকিৎসককে তারই এক রোগীর ছেলে প্রকাশ্যে গুলি করে এবং এতে ওই চিকিৎসক মৃত্যু বরণ করেন। ঘটনাটি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত সকলের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং এটা নিয়ে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়। এরই প্রেক্ষিতে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের চিকিৎসক জেমস ফিলিপস “নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের” রিভিউটি লিখেছেন।

এরকম হত্যাকাণ্ড প্রতিদিন ঘটে না সত্য; কিন্তু চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিনিয়ত রোগী কিংবা তাদের স্বজনদের দুর্ব্যবহার, গালি-গালাজ, শারীরিক হামলা, যৌন হয়রানি কিংবা সহিংস আচরণের শিকার হতে হয়। স্বাস্থ্যকর্মীগণ মানবতার স্বার্থে এধরণের অন্যায় আচরণ অগ্রাহ্য করেই নিরবিচ্ছিন্ন সেবাদান করে যান। ডাঃ ফিলিপসের ভাষায়, “সাধারণ মানুষ যতটুকু জানতে পারে আসলে কর্মস্থলে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা তার চেয়ে অনেক বেশী নিগ্রহ এবং অন্যায় আচরণের শিকার হয়ে থাকেন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এসম্পর্কে খুব কমই সচেতন বলে মনে হয়। এরজন্য এ বিষয়ে একটি আদ্যপান্ত অনুসন্ধান হওয়া দরকার এবং সমাধানের পথ খোঁজা জরুরী”। তিনি আরও বলেছেন, “মার্কিন আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের পরে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাই সবচেয়ে সহিংসতাপূর্ণ কর্মস্থলে কাজ করছেন; কিন্তু কিভাবে এটা মোকাবেলা করতে হবে সে সম্পর্কে তাদের খুব কমই ধারণা আছে এবং কোন প্রশিক্ষণই নেই। এখন এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার সময় এসেছে”।

সহিংসতার যে হিসেব নিবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে তা আসলেই ভয়ংকর। যেমনঃ

• ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে কর্মস্থলে যত শারীরিক নিগ্রহের ঘটনার প্রমাণ মিলেছে তার ৭৫ শতাংশই ঘটেছে হাসপাতাল-ক্লিনিকে।
• জরুরী বিভাগে কর্মরত প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জন কোন না কোন পর্যায়ে সহিংস আচরণের শিকার হয়েছেন।
• গত বছর প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুসারে সারাদেশে ৭৮% জরুরী বিভাগের চিকিৎসক কর্মস্থলে নিগ্রহের শিকার হয়েছেণ।
• জরুরী বিভাগের ১০০% নার্স মৌখিক খারাপ আচরণ বা গালি-গালাজের অভিযোগ করেছেন এবং ৮২% নার্স বলেছেন তারা শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন।
• মানসিক রোগের চিকিৎসকদের মধ্যে শতকরা ৪০ জন শারীরিক নিগ্রহের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
• বস্তুত সাইকিয়াট্রি বিভাগে নিগৃহীত হওয়ার হার অন্যান্য কর্মস্থলের চেয়ে ৬৯ গুণ বেশী।
• যে সকল স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ীতে যেয়ে সেবা দিয়ে থাকেন তাদের মধ্যে বছরে শতকরা ৬১ জন নিগৃহীত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
• পারিবারিক চিকিৎসক বা জিপিরাও ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। তবে তাদের সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য সংগৃহীত হয়নি।

অবশ্য এই তথ্য পরিপূর্ণ নয়। প্রকৃত সমস্যা হয়তো এর চেয়ে আরও বেশী এবং জটিল হতে পারে। জরুরি বিভাগ, হাসপাতালের ইনডোর এবং সাইকিয়াট্রি বিভাগ থেকেই সবচেয়ে বেশী তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কারণ এই জায়গাগুলিতেই বেশী নিগ্রহের ঘটনা ঘটে থাকে। পর্যবেক্ষণে দেখা যায় স্বাস্থ্য কর্মীদের মধ্যে নার্সদের ওপরেই বেশী উৎপাত এবং অত্যাচার করা হয়।

স্বভাবতই সকলের মনে প্রশ্ন কেন এমন ঘটছে?

মূলত যে সকল রোগী কিংবা রোগীর স্বজন এ ধরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে তারা সাধারনত মানসিকভাবে বিকৃত, মাদকাসক্ত, স্মৃতিবিভ্রম কিংবা স্মৃতিভ্রংশতা রোগে আক্রান্ত অথবা কোন না কোন ধরণের মানসিক অসুস্থতায় ভুগছে। এছাড়া চিকিৎসকের সাক্ষাত পেতে দীর্ঘ বিলম্ব, অতিরিক্ত রোগীর ভিড়, হাসপাতালের খাবারের মান খারাপ, রোগ সম্পর্কে দুঃসংবাদ শোনা, খারাপ অর্থনৈতিক অবস্থা, কারা বন্দী কিংবা পুলিশের কাস্টডিতে থাকা ইত্যাদি কারণেও নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে।

অনেকে মনে করছেন মানসিকভাবে অসুস্থ রোগীরা এধরণের অপকর্মের সঙ্গে বেশী জড়িত, এটা ভাবার কোন কারণ নয়। কারণ কিছু পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে চিকিৎসাক্ষেত্রে নিগ্রহের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের অর্ধেকই পূর্ণ সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী। আর অনেক ঘটনাই স্বাস্থ্যকর্মীরা কর্তৃপক্ষের নিকটে কখনই জানায় না।

কর্তৃপক্ষের নিকট হয়রানির অভিযোগ না করা এ ধরণের সমস্যা নিরসনের পথে একটি বড় অন্তরায়।

দেখা যাচ্ছে মাত্র ৩০% নার্স এবং ২৬% চিকিৎসক কর্তৃপক্ষের নিকট হাসপাতালে নিগৃহীত হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন। চিকিৎসা পেশার সংস্কৃতি হিসেবে স্বাস্থ্যকর্মীরা যেন ধরেই নিয়েছেন এ ধরণের নিগ্রহ পেশার অংশ। কিন্তু দিনে দিনে এর সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। সঙ্গত কারণেই গবেষকগণ মনে করছেন মূল সমস্যা হিমবাহের মতো দৃশ্যমান অংশের চেয়ে আরও গভীর এবং ব্যাপক। আর আইনের দৃষ্টিতে কোনটি প্রকৃত নিগ্রহ আর কোনটি নয়, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। কারণ যারা মানসিকভাবে অসুস্থ কিংবা স্মৃতিভ্রংশতায় ভুগছে তাদের আচরণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনিচ্ছাকৃত। তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হচ্ছে হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য সব ধরণের স্বাস্থ্যকর্মীর কার্যক্রম নিরাপদ করার জন্য কারও দ্বারা কোন ধরণের অভব্য কিংবা নিগ্রহমূলক আচরণ কোন অবস্থাতেই বরদাশত করা কাম্য নয়। আর এজন্যই মানসিকভাবে সুস্থ কিংবা অসুস্থ রোগী কিংবা রোগীর স্বজন যেই সহিংস আচরণ করুক না কেন তা কর্তৃপক্ষের গোচরে আনা জরুরী।

হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে অসুস্থ ব্যক্তিরাই আসেন। এটা মনে করাই সঙ্গত যে এরা এবং এদের স্বজনেরা যেকোনো সময় অসঙ্গত সহিংস আচরণ করতে পারেন; কারণ এদের মানসিক স্থিতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক থাকে না। হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের এই সচেতনতা থাকলে এবং যেকোন অসঙ্গত আচরণ সম্পর্কে রিপোর্ট করলে এবং রোগীদের নথিতে তা লিখিত থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরণের অপ্রিয় পরিস্থিতি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

কর্মস্থলে সহিংস আচরণ পরিহার করার জন্য কি করণীয় তা নিয়ে আসলে তেমন কোন গবেষণা হয়নি। আর এটা প্রতিরোধের জন্য তেমন কোন মহৌষধও কারও জানা নেই। প্রতিটি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকের কিছু নিজস্বতা রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের আচার-আচরণও কোন বাধা-ধরা নিয়ম দ্বারা পরিচালিত নয়। ফলে হাসপাতালসমূহকে সহিংসতামুক্ত রাখার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা রাখাই সঙ্গত বলে বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন। রক্তবাহিত জীবাণু প্রতিরোধের জন্য আমরা যেমন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়ে থাকি, হাসপাতাল-ক্লিনিকে সহিংসতা সম্পর্কেও তেমন ব্যবস্থা থাকতে হবে। যেকোনো ধরণের অসঙ্গত নিগ্রহমূলক আচরণের জন্য “জিরো টলারেন্স” নীতিই এক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে মনে করা হচ্ছে। হাসপাতাল-ক্লিনিকের দরজা দিয়ে যে ব্যক্তিই প্রবেশ করবে তার একটি স্পস্ট ধারণা থাকা জরুরী যে এখানে প্রত্যেকের যেকোনো ধরণের হুমকিমূলক অসঙ্গত এবং সহিংস আচরণ থেকে মুক্ত এবং নিরাপদ থাকার অধিকার রয়েছে।

সমাধান হিসেবে অনেকেই অনেক ধরণের পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহের মধ্যে রয়েছেঃ আগ্রাসী মনোভাব এবং রাগ কমানোর চিকিৎসা প্রদান, স্বাস্থ্যকর্মীদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দান, সংবেদনশীল এলাকায় বেড়া কিংবা প্রাচীর দেওয়া, হাসপাতালের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সিকিউরটি ক্যামেরার আওতায় রাখা, মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা, হাসপাতালে প্রশিক্ষিত প্রহরী রাখা, হাসপাতালে যেকোনো ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা ইত্যাদি। এছাড়া হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কোন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অপরাধে দণ্ড দানের জন্য কি আইন প্রণয়ন করা যায় সেটা নিয়েও চিন্তা-ভাবনা চলছে।

তবে এসবের পাশাপাশি হাসপাতালসমূহের সেবার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা, রোগীর ভিড় এবং চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষার সময় কমানো, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সুসম কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা এবং রোগীদের বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সর্বোপরি প্রতিটি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে সহিংস আচরণ প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এই কমিটির কাজ হবে যে কোন ধরণের সহিংসতার কারণ অনুসন্ধান করে তার প্রতিকার ব্যবস্থা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানানো। এছাড়া প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মী যেন নির্ভয়ে তার প্রতি ঘটে যাওয়া যে কোন সহিংস আচরণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন তার নিশ্চয়তা প্রদান করা।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যথাযথ সুপারভিশন থাকলে সহিংস আচরণ প্রতিরোধ করা কঠিন কোন কাজ নয়। তবে সকলেই মনে করছেন হাসপাতাল, ক্লিনিক কিংবা চিকিৎসা কর্মীদের কর্মস্থলকে যেকোন ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা এবং নিগ্রহ থেকে নির্ঝঞ্ঝাট এবং নিরাপদ করার জন্য আরও বিশ্লেষণ এবং গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

(এ সম্পর্কে যারা আরও বিস্তারিত জানতে আগ্রহী তারা নীচের তথ্যসূত্রে দেওয়া নিবন্ধটি পড়তে পারেন।)

তথ্যসূত্রঃ Phillips JP. Workplace Violence against Health Care Workers in the United States. New England Journal of Medicine. 2016; 374(17):1661-9.




রজঃনিবৃত্তির পরে মহিলাদের কর্মক্ষমতা

আগে মেয়েদের মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তি সম্পর্কে যত না বিজ্ঞানসম্মত চিন্তা ভাবনা হতো, তার চেয়ে বেশী ছিল ভুল ধারণা এবং কুসংস্কার।যে বয়সে একজন মহিলা পেশাজীবনের সাফল্যের শীর্ষে থাকেন, তখন মেনোপজের নানারকম যন্ত্রণাদায়ক ভোগান্তি অনেকসময় তার কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। এতদিন এটা নিয়ে যথেষ্ট গবেষণামূলক কাজ হয়নি। আসলে আগে এর প্রয়োজনও হয়নি। কারণ সমস্যা তেমন প্রকট ছিল না। তখন রজঃনিবৃত্তির বয়স পেরোনো মহিলার সংখ্যা তেমন বেশী ছিল না। এখন মহিলাদের গড় আয়ু বেড়েছে। বর্তমানে কোটি কোটি মহিলা রজঃনিবৃত্তির পরেও অন্তত পনেরো থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত কর্মব্যস্ত জীবন যাপন করেন। এজন্য মেনোপজ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

মহিলাদের ওভারি বা ডিম্বাশয়ের কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তি বলা হয়। মেনোপজের প্রধান লক্ষণ-উপসর্গসমূহ হচ্ছেঃ তাপঝলক বা হট ফ্লাশ, রাতে অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা, মানসিক উদ্বেগ এবং অস্থিরতা বোধ করা ইত্যাদি। এরমধ্যে তাপ ঝলক বা হট ফ্লাশ খুবই কষ্টদায়ক বিব্রতকর অভিজ্ঞতা। হট ফ্লাশ হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো। এর ফলে শরীরে একধরণের গরম তাপের ঢেউ খেলে যায়। কান, মাথা, মুখ ঝাঁ ঝাঁ করে ওঠে; মুখ লাল হয়ে যায়, প্রচুর ঘাম ঝরতে থাকে এবং অত্যন্ত অস্থির বোধ হতে থাকে। ঘুমের মধ্যে হট ফ্লাশের কারণে শরীর ঘেমে যায়, ঘুম ভেঙে যায় এবং অবসন্ন বোধ হয়। কেন হট ফ্লাশ হয় তার কারণ এখনও তেমন পরিস্কার নয়।

অর্ধেকের বেশী মহিলা মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তির সাত বছর পরেও তাপ ঝলক অনুভব করতে পারেন এবং রাতে ঘামতে পারেন। মেনোপজ পরবর্তী লক্ষণ-উপসর্গ গড়ে ৭ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যাদের মেনোপজ কম বয়সে হয় তাদের ক্ষেত্রে এটা ৯ বছর পর্যন্ত ঘটতে দেখা গিয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের মেনোপজ পরবর্তী লক্ষণ গড়ে ১০ বছর এবং জাপানী এবং চীনা মহিলাদের গড়ে ৫ থেকে ৬ বছর স্থায়ী হয়। শ্বেতাঙ্গ মহিলাদের ক্ষেত্রে এটা সাড়ে ছয় বছর স্থায়ী হয়। সুতরাং মেনোপজের পরে দীর্ঘদিন যাবত এর আনুষঙ্গিক লক্ষণ উপসর্গ চলতে থাকলে অবাক হওয়ার কোন কারণ নেই।

মোনাস ইউনিভার্সিটির গবেষকগণ সম্প্রতি মহিলাদের মেনোপজ এবং কর্মক্ষেত্রে এর প্রভাব নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করেছেন। ৪০ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মজীবি প্রায় দুই হাজার মহিলার ওপর তারা পর্যবেক্ষণ করেছেন।
দেখা যাচ্ছে মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তির ফলে যে তাপ ঝলক এবং অন্যান্য যে সকল উপসর্গ হয় তা শুধু মহিলাদের শারীরিক এবং মানসিক অসুবিধা সৃষ্টি করে তাই নয়; এরফলে তাদের কর্মক্ষমতাও বিঘ্নিত হয়। সাধারনত যে সকল মহিলা বিধবা কিংবা তালাকপ্রাপ্ত সঙ্গীবিহীন, অতিরিক্ত মোটা, ধূমপায়ী, সন্তান-সংসারের দেখাশোনা করতে হয় এবং নিজের আবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে তাদের কর্মক্ষমতা বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

অস্ট্রেলিয়াসহ সব দেশেই এখন কর্মজীবী মহিলার সংখ্যা বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। এর মানে মহিলাদের মেনোপজের সমস্যাও বাড়তে থাকবে। আপাতদৃষ্টিতে প্রতি পাঁচ জন মহিলার মধ্যে চার জনই কর্মক্ষেত্রে মেনোপজ সত্ত্বেও সুচারুরূপে কাজকর্ম করে যান। কিন্তু যাদের তাপঝলক এবং মেনোপজের অন্যান্য উপসর্গের তীব্রতা বেশী তারাই বেশী সমস্যা বোধ করে থাকেন। এজন্য কর্মজীবি মহিলাদের মেনোপজের লক্ষণ-উপসর্গ শনাক্ত করে তার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তাদের সুস্থতা এবং নির্ঝঞ্জাট কর্মজীবন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্রঃ
1. Gartoulla P, Bell RJ, Worsley R, Davis SR. Menopausal vasomotor symptoms are associated with poor self-assessed work ability. Maturitas. 2016; 87:33-9.
2. Avis NE, Crawford SL, Greendale G, et al. Duration of menopausal vasomotor symptoms over the menopause transition. JAMA Internal Medicine. 2015 ;175(4):531-9.
3. Richard-Davis G, Manson JE. Vasomotor symptom duration in midlife women-research overturns dogma. JAMA Internal Medicine. 2015;175(4):540-1.




জিরা পানি পানের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বৃদ্ধিতে জিরা অতুলনীয়। কিছুটা ঝাঁঝালো স্বাদ হলেও এর রয়েছে অনেকগুলো স্বাস্থ্যগুণ। জিরার পানি শুধু স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয় ত্বকের জন্যও বেশ ভাল। এটি ডায়াবেটিস, টিউমার এবং মাইক্রোবিয়াল ইনফেকশন দূর করে থাকে।
প্রাচীনকালে অনেক রোগের চিকিৎসা হিসেবে এই পানি পানের পরামর্শ দেওয়া হত। পানি ১০ মিনিট ফুটতে দিন, তারপর এতে জিরা দিয়ে দিন। জিরা দিয়ে আবার ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা করে এটি পান করুন। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক এই জিরা পানির স্বাস্থ্যগুণ।
১। হজমক্ষমতা বৃদ্ধি
জিরার থাইমল এবং অন্যান্য উপাদান খাবার হজম করার শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে। এটি পাচনশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এক চা চামচ জিরা এক গ্লাস পানিতে জ্বাল দিন। বাদামী রং হয়ে আসলে চুলা বন্ধ করে দিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে এটি পান করুন। এটি দিনে তিনবার পান করুন। এটা পেট ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি করবে।
২। রক্তস্বল্পতা দূরীকরণ
জিরাতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। শরীরের জন্য জরুরী অন্যতম মিনারেল আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে যা অক্সিজেন পরিবহন করতে সাহায্য করে। নিয়মিত জিরা পানি পান রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।
৩। ক্যান্সার প্রতিরোধে
বেস্ট ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, পাকস্থলি ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে জিরা পানি। Cancer Research Laboratory of Hilton Head Island, South Carolina, USA এর মতে জিরার উপাদানসমূহ ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে। প্রতিদিনের রান্নায় কিছু পরিমাণের জিরা মিশিয়ে নিন।
৪। অনিদ্রা দূর করতে
আপনি কি অনিদ্রা সমস্যায় ভুগছেন? তবে জিরা হতে পারে এর সমাধান। জিরা গুঁড়ো এবং একটি কলা মিশিয়ে নিন। এটি নিয়মিত রাতে খান। এটি ভাল ঘুমাতে সাহায্য করবে।
৫। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে
কিছু পরিমানের জিরা ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এবার এটি পানি অথবা মধুর সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন। এছাড়া জিরার চা পান করতে পারেন। এমনকি জিরা পানিও আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে দিবে।
৬। গলা ব্যথা দূর করতে
গলা ব্যথা কমাতে জিরা পানি সাহায্য করে থাকে। কিছু পরিমাণে জিরা পানিতে ফুটিয়ে নিন। এবার এটি দিয়ে কিছুক্ষণ কুলিকুচি করুন। এটি আপনার গলা ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।
৭। ওজন হ্রাস করতে
জিরা মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে খাবারের রুচি হ্রাস করে থাকে। শুধু তাই নয় এটি রক্তে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে থাকে। নিয়মিত জিরা পানি পানে ওজন কমাতে সাহায্য করে থাকে।



জেনে নিন আনারসের ৮ স্বাস্থ্য গুণ

জনপ্রিয় ফল আনারস খাওয়া ছাড়াও ফ্রূট সালাদ, জুস ও ডেজার্টে ব্যবহার করা হয়। এতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর পুষ্টি উপাদান, যা আমাদের বিভিন্ন প্রকার রোগ থেকে বাঁচায়। খেতে টক বা মিষ্টি ফলটিতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ফাইবার, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম।
75(1)
ক্যানসার প্রতিরোধক– এন্টি-অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ আনারাস ফ্রি রেডিক্যালস ধ্বংস করে ও সেল ড্যামেজ রোধ করে। এটি অথেরোস্ক্লেরোসিস, হৃদরোগ, আর্থ্রাইটিস ও বিভিন্ন প্রকার ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা তৈরি করে।
প্রদাহ ও ইনফেকশন– আনারসে রয়েছে ভিটামিন সি ও ব্রোমেলিন। এই এনজাইমগুলো প্রোটিন ভ‍াঙে ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা তৈরি করে। তাই ঠাণ্ডা-কাশিতে প্রচুর পরিমাণে আনারস খান।
শক্তিশালি হাড় গঠন– এতে রয়েছে উচ্চমানের ম্যাঙ্গানিজ যা হাড় গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এক কাপ আনারসের জুসে রয়েছে ৭৩ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ।
চোখ ও দৃষ্টিশক্তি– বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় আনারস চোখের জন্য ভালো। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আনারস খান।
সুস্থ হৃৎপিণ্ড– এন্টি-অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ বলে আনারস ফ্রি রেডিক্যালসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে ও খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
ভালো হজম– এতে রয়েছে ব্রোমেলিন, ভিটামিন সি ও ফাইবার যা হজমক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ– যাদের হাইপারটেনশন রয়েছে তারা নিয়মিত আনারস খান। এতে বিদ্যমান পটাশিয়াম ও সোডিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
ব্রণ ও দাগ– আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা ডার্ক স্পট ও ব্রণ দূর করে একইসঙ্গে ত্বকের টোন উন্নত করে। স্কিন টাইটনিংয়েও আনারসের জুড়ি নেই।




পাইলটের লাইসেন্স বনাম এনেস্থেটিস্টের লাইসেন্স !

বাঙালী রিকশায় চড়ে প্রয়োজনে, কখনো শখে। কখনো বাজার করতে, তো কখনো প্রিয়জনের সাথে ভ্রমণে। কেউ কি কোনদিন রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করেছেন যে, ভাই তোমার লাইসেন্স আছে কিনা? আমি নিশ্চিত কেউ করেননি। কখনো সখনো এমন হয়ছে যে দেখে মনে হল এই রিকশাওয়ালা একদম নতুন, অথবা বৃদ্ধ; তারপরও তার রিকশায় চেপে বসেছেন যাত্রী। খানিকটা মমতায়, কখনো অন্য কিছু না পেয়ে। তবে কখনো জিজ্ঞেস করেননি লাইসেন্সের কথা। হয়ত লাইসেন্স যে লাগতে পারে এটাই জানিনা কেউ কেউ।

আজকাল বিমান ভ্রমণ সুলভ, সময় সাশ্রয়ী, নিরাপদ। প্রয়োজনে, অথবা শুধুই ভ্রমণের জন্য বিমান যাত্রীর  সংখ্যা প্রত্যেক বছর হু হু করে বাড়ছে। এদের কেউ কখনো জিজ্ঞেস করেন নি যে আজকের পাইলটের লাইসেন্স আছে কি না? সবাই নিশ্চিত যে লাইসেন্স ছাড়া কোন পাইলট প্লেন চালানো তো দূরের কথা, প্লেনের আসে পাশে আসতে পারবেন না। পাইলটদের  লাইসেন্সের মান অনেক উঁচু, সবার জন্য সমান, এবং তা মেনে চলা হয় কঠোরভাবে। এই উন্নত মান নিয়ন্ত্রনের কারণেই আমরা নিশ্চিন্তে এমন একটা বাহনে চেপে বসি যেখানে দুর্ঘটনা কদাচিৎ, কিন্তু ঘটলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত!

ধান ভাঙতে শিবের গীত! আমরা যে চিকিৎসকের চিকিৎসা নেই, অথবা যে হাসপাতালে /ক্লিনিকে চিকিৎসা নেই তার কোন খোঁজ নেই কি? রেজিস্ট্রেশন আছে কি না? প্রয়োজনীয় “জরুরি সরঞ্জাম” আছে কি না? আমার জীবন সংশয় হলে আমাকে বাঁচানোর সম্ভাবনা কতটুকু? নাকি দরদাম করে যেখানে সস্তা , সেখানে ঢুকে পড়ব? অথবা যেখানে আমার সামর্থ্যের মধ্যে সব চাইতে দামী, সেখানে ভর্তি হব? অপারেশনের জন্য ভরতি হলে কখনো কি শুনেছি আমার এনেস্থেটিস্ট কেমন?

আপনার অপারেশনে একজন এনেস্থেটিস্ট প্রয়োজন কিনা তা ঠিক করেন একজন সার্জন। যদি স্থানীয় ভাবে অবশ করে করা যায়, এবং রোগি/রোগিনি এভাবে করাতে রাজি হন, তবে একজন এনেস্থেটিস্ট ছাড়াই আপনার অপারেশন হতে পারে। অন্যথায় আপনার যে কোন অপারেশনে একজন এনেস্থেটিস্ট  প্রয়োজন। সেই এনেস্থেটিস্ট এর কি আদৌ  কোন লাইসেন্স লাগে?

আপনি না চাইলে লাগে না। গ্রামে অনেক পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারী ( কেউ কেউ ভিজিটর নামে পরিচিত) গর্ভপাত অথবা M.R করেন নিজেই। কখনো ওষুধ  দিয়ে কখনো , কখনো ভেষজ দিয়ে। কখনো ঘুমের ওষুধ দিয়ে, কখনো ধমক দিয়ে। এরকম চিকিৎসা নিলে এনেস্থেটিস্ট এর প্রয়োজন নেই , তাই লাইসেন্স দেখারও বালাই নেই। কিছু কিছু চিকিৎসক আছেন যিনি রোগীকে বলেন এইভাবে, ” একজন এনেস্থেটিস্ট ডাকলে তো হাজারের উপরে লাগবে, আপনি বললে, আমি করে দিব, আপনার হাজার টাকা বেঁচে যাবে।” আপনি অজান্তেই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একজন সার্জন বা চিকিৎসকের হাতে ( যার আসলে লাইসেন্স নেই চেতনা নাশক কোন ওষুধ দেওয়ার)  নিজেকে তুলে দিলে আর এনেস্থেটিস্ট এর লাইসেন্স দেখার প্রয়োজন পড়ে না।

বাংলাদেশে দুটি প্রতিষ্ঠান বিশেষজ্ঞ সনদ দিয়ে থাকে। প্রথমটা  বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস এন্ড সারজনস যা বিসিপিএস  নামে পরিচিত। এখান থেকে যিনি (সব পরীক্ষায় পাশ করে)  সভ্য (Fellow) হন, তাকে FCPS ডিগ্রি দেওয়া হয়। এর জন্য প্রথমে First পার্ট পরীক্ষা দিতে হয়, সেটার জন্য ছয় মাস মেয়াদি কোর্স করতে হয় অথবা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ থাকলে সরাসরি পরীক্ষা দেওয়া যায়। এই সময় মূলতঃ বেসিক বিষয় সমুহ (উদাহরণ ঃ এনাটমি, ফিজিওলজি, প্যাথলজি, ইত্যাদি) জানতে হয়। এর পরে দুই বছরের ক্লিনিকাল প্রশিক্ষণ নিতে হয়  বি সি পি এস অনুমোদিত হাসপাতালে। তারপর  আরও একবছর কোর্স শেষে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষা পাশ না করা পর্যন্ত এই চিকিৎসক ” না ঘরকা না ঘাটকা!” তিনি জানেন অনেক কিছু, কিন্তু  সনদ প্রাপ্ত নন।

বি সি পি এস আরেকটা ডিগ্রি দেয় যার নাম MCPS। এই ডিগ্রির জন্য ৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। কোন কোর্স প্রয়োজন হয় না।

দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ডিগ্রি ভিন্ন হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভারসিটি (BSMMU) বর্তমানে একমাত্র মেডিকেল  বিশ্ববিদ্যালয়। আরও দুটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়াধীন। M.D ডিগ্রি দেওয়া হয়  মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়  সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও। এনেস্থেশিয়া বিভাগ থেকে পাশ করলে তিনি তার নামের পাশে লিখতে পারেন MD (Anesthesia)। MD কোর্সে থাকলে তিনটি পরীক্ষা দিতে হয়। First part, 2nd part, এবং থিসিস। প্রথম দুটো পরীক্ষা ছয় মাস অন্তর। এক বছর শেষে ট্রেনিং করতে হয় দুই বছর এবং থিসিস পার্টে আরও দুই বছর উচ্চতর ট্রেনিং। বর্তমানে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভারসিটি (BSMMU) তে MD ট্রেনিঙের রেসিডেন্সি মডেল চালু আছে, যেটি প্রশিক্ষণের  নিরিখে বিশ্বমানের।   বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেকটা ডিগ্রি দেওয়া হয় যার নাম ডিপ্লোমা। এটি মূলত দুইবছরের কোর্স এবং পরীক্ষা শেষে Diploma in Anaesthesiology ( সংক্ষেপে D.A) সনদ দেওয়া হয়।

একজন রোগী যদি তার এনেস্থেটিস্ট এর সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন  তাহলে তিনি চার ধরনের দেশি ডিগ্রি দেখতে পাবেন। FCPS, MD,   DA, এবং MCPS। এদের কোর্স  এর বিবরণ উপরে বিস্তারিত দেওয়া আছে। এগুলোর মধ্যে কোনটির শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণ এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। সংক্ষেপে বাংলাদেশে MD ৫ বছরের, FCPS সারে ৩ , প্রকারন্তরে ৪  বছরের, DA ২ বছরের কোর্স।  MCPS এর কোন কোর্স নেই। পাস করার পরে ৫ বছরের এবং বিষয়ে ১ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই হয়.

অন্য দেশের সাথে তুলনা ঃ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এনেস্থেসিয়া বিষয়ে চালু আছে ডিপ্লোমা এবং MD কোর্স। ওখানে DA দুই বছরের এবং MD ৩ বছরের কোর্স। কেউ একজন DA কোর্সে থাকলে সে আরেকবছর ট্রেনিং সম্পূর্ণ করতে পারলে DA বদলে MD পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে সনদ নিতে পারে ( সেজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সম্মতি নিতে হয়) । বাংলাদেশে তেমন সুযোগ নেই। আমাদের দেশের FCPS ব্রিটেনের FRCA ডিগ্রির সাথে তুলনীয়। ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সাউথ আফ্রিকা সহ অনেক দেশেই ক্লিনিকাল ডিগ্রি হিসেবে শুধু একটা ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য। সেটাকে ফেলোশিপ বলা হয়। এই ডিগ্রির নাম ব্রিটেনে FRCA, আয়ারল্যান্ডে FCA RCSI, অস্ট্রেলিয়াতে FANZCA এবং কানাডাতে FRCPC। ( বিশেষ লক্ষ্যনীয় যে  ব্রিটেন /আয়ারল্যান্ডের FRCA এবং FCA RCSI কানাডা, অস্ট্রেলিয়া , সাউথ আফ্রিকার মত বিশেষজ্ঞ প্রাকটিসের শেষ পর্ব নয়। বিশেষজ্ঞ তালিকায় নাম উঠাতে চাইলে তাদের বিশেষ ট্রেনিং কোর্সে (স্পেশালিষ্ট রেজিস্ট্রার বা ST) ভর্তি হতে হয় যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে হয়ে থাকে। সেই ট্রেনিঙের ৩ বছরের মধ্যে ফেলোশিপ পরীক্ষায় পাশ করতে হয়, না করা পর্যন্ত চতুর্থ বছরের ট্রেনিং শুরু করা যায় না। ৫ বছর সফল ট্রেনিং এর  শেষে যে ডিগ্রি দেওয়া হয় তাকে ব্রিটেনে CCST বলা হয়, আয়ারল্যান্ডে CST। যিনি CST/CCST পেয়েছেন শুধু  তার নাম বিশেষজ্ঞ তালিকায় থাকে। যারা বিশেষজ্ঞ তালিকায় নেই, কিন্তু FRCA করেছেন  তারা অন্যের প্রতিস্থাপন করতে পারেন ( Locum)  কিন্তু নিজে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পূর্ণকালীন চাকুরী পান না। FRCA/FCA RCSI পরীক্ষা পাশ করার জন্য মাত্র আড়াই বছরের ট্রেনিং দরকার হয়। সেজন্য FRCA/FCA RCSI প্রাপ্তি কোনভাবেই বিশেষজ্ঞ তালিকায় থাকা নিশ্চিত করে না) । কানাডা, সাউথ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড -অস্ট্রেলিয়াতে ৫ বছর রেসিডেন্সির শেষে ফেলোশিপ পরীক্ষা হয়। তারা পাশ করে বিশেষজ্ঞ হন।    আমেরিকাতে ৫ বছর রেসিডেন্সি শেষে তাদের স্পেশালিষ্ট বলা হয় বিষয়ের নামে। যেমন এনেস্থেশিয়া স্পেশালিষ্ট কে বলে হয় এনেস্থেসিয়লজিস্ট। আমেরিকা এবং কানাডাতে যখন কেউ চার বছরের মেডিকেল কোর্স (আমাদের MBBS এর সমমানের) শেষ করে তাদের সবাইকে MD বলা হয়। এই MD  আমাদের ও অন্যান্য দেশের MD এর মত পোস্টগ্রাজুয়েশন নয়।

এসব দেশের প্রত্যেক  এনেস্থেটিস্টের একটাই ডিগ্রি। সুতরাং সকলেই সমান।ঐসব দেশে  মাস্টার্স /M.Sc সাধারণত একবছরের (বেশিও আছে) এবং ফেলোশিপ কোর্সের বাইরে। মাস্টার্স /M.Sc মূলত গবেষণা ধর্মী। এটি ফেলোশিপের অতিরিক্ত এবং চাকুরী পাবার একটি অতিরিক্ত কিন্তু আবশ্যিক শর্ত নয় । প্রত্যেক চিকিৎসককেই নিজের দেশের লাইসেন্স নিতে হয়। প্রথমবার মেডিকেল পাস করার পরে। দ্বিতীয়বার এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে ফেলোশিপ পাশের পরে। ফেলোশিপ না করে কেউ এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে রোগীকে ছুঁলে তার সমস্ত লাইসেন্স বাতিল হয়ে যেতে পারে। আমাদের দেশে এমন কোন আইনের কথা আমি শুনিনি।বাংলাদেশে এনেস্থেসিয়াতে  ছয় মাস ট্রেনিং করে কেউ কেউ ক্লিনিকে /হাসপাতালে প্রাইভেট রোগীকে এনেস্থেসিয়া দিয়ে থাকেন। উপরে নাম লেখা দেশগুলোর বাইরে আমেরিকাতে শুধু প্রতি দশ বছর পরপর লাইসেন্স নবায়নের পরীক্ষা দিতে হয়। বাঁকি দেশগুলোতে প্রত্যেক বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক আলোচনায় অংশ নিতে হয়, না হলে লাইসেন্স/রেজিস্ট্রেশন ঝামেলার মুখে পড়ে.

বিদেশে যিনি লাইসেন্স প্রাপ্ত হন তার লাইসেন্স সব সময় মনিটর করা হয়। প্রায় প্রত্যেক দেশে রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ এই মনিটরিং এর কাজ টি করেন। কারও বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা অথবা অসাদাচরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল বা বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি হয়। লাইসেন্স পাওয়ার অর্থ হচ্ছে রোগী নিরাপদ থাকেন তা নিশ্চিত করার জন্য যে সমস্ত জরুরি যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, তা পর্যাপ্ত না থাকলে সেখানে রোগীকে এনেস্থেসিয়া না দেওয়া। গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া রোগীর জীবন বিপদাপন্ন হলে তার দায়িত্ব এনেস্থেটিস্টের। উদাহরণ হিসেবে বলি , এ সমস্ত দেশে অনেক প্রাইভেট হাসপাতাল। বেশিরভাগ হাসপাতালে কসমেটিক  সার্জারি হয়। এখানে ফিস অনেক বেশি পাওয়া যায় সরকারি হাসপাতালের চেয়ে। তবে এনেস্থেসিয়া উপকরণ পর্যাপ্ত থাকত না কারণ এগুলো বেশ দামী। এক রোগী অতিরিক্ত ওজনের জন্য গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি করাতে যেয়ে মারা গেলে কানাডাতে ৪০ BMI এর উপড়ে কোন রোগীকে প্রাইভেট হাসপাতালে অপারেশন করান নিষিদ্ধ করা হয়। কেউ এই নিষেধ না মানলে  সেই হাসপাতালের এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের লাইসেন্স বাতিল এবং সাজা হতে পারে।

এনেস্থেসিয়া দেওয়ার জন্য প্রায় সব ক্ষেত্রেই একটা মেশিন প্রয়োজন যা এনেস্থেসিয়া মেশিন নামে পরিচিত। প্রত্যেক হাসপাতালের/ক্লিনিকের  এই মেশিন থাকা জরুরি আমাদের দেশের আইনেই। এই মেশিন সচল কিনা এবং তা ঠিকমত কাজ করছে কিনা এটা দেখার দায়িত্ব এনেস্থেটিস্টের। এই মেশিন চেক করা কে পাইলটের টেক অফের আগে শেষবার প্লেনের মেশিন চেকের সাথে তুলনা করা হয়। কারণ এই মেশিনে সামান্য  গোলযোগ রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যে সমস্ত হাসপাতাল বা যে এনেস্থেটিস্ট মেশিন ব্যবহার ছাড়া জেনারেল এনেস্থেসিয়া বা অজ্ঞান করেন তারা এথিকালি ঠিক কাজটি করেন না। 

এনেস্থেসিয়া মেশিন ছাড়াও আরও কয়েকটি মনিটরিং যন্ত্র থাকা আবশ্যক। সেগুলো হচ্ছে কার্ডিয়াক মনিটর (এটি আপনার হৃদযন্ত্রের স্পন্দনের  একটানা  পর্যবেক্ষণ  করে , যদি হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা  দেয় সে পরিবর্তন ও দেখাতে পারে)  , পালস অক্সিমেট্রি ( এটি আপনার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা নিরূপণ করে, হৃদযন্ত্রের স্পন্দনের সংখ্যাও দেখাতে পারে), ও অটোমেটিক ব্লাড প্রেশার মেশিন ( যা নিয়মিত বিরতিতে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ব্লাড প্রেশার মাপবে প্রতি ৩-৫ মিনিট অন্তর অন্তর)। যেখানে এই চারটি মেশিন বা চারটি সুবিধা সম্বলিত কোন মেশিন নেই , বা মেশিনগুলি এনেস্থেটিস্ট পরীক্ষা করে দেখেননি, সেখানে আপনার জীবন সংশয়ের সমূহ সম্ভাবনা। একজন চিকিৎসক ভুল ওষুধ দিলে হয়ত রিএকশান হতে পারে, সার্জন ভুল অঙ্গ কেটে ফেললে তারপরেও বেঁচে থাকা যায়, কিন্তু এনেস্থেটিস্ট বা মেশিন বিগড়ালে অনুযোগ করারও সুযোগ থাকে না। 

আমরা বিমানে চড়ার আগে থেকেই জানি পাইলটের লাইসেন্স আছে, প্লেনও নিরাপদ! কারণ দুটোই ক্রমাগত পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে থাকে। আমাদের জীবন কারও হাতে তুলে দেওয়ার আগে কার হাতে তুলে দিচ্ছি সে সম্পর্কে খোঁজ নেওয়াটা আপনার নিরাপত্তার মধ্যেই পড়ে। যে কোন অপারেশনের আগে আপনার এনেস্থেটিস্টের সাথে কথা বলুন। তার অভিজ্ঞতা এবং যে হাসপাতালে অপারেশন হবে তাদের জরুরি সুবিধা পর্যাপ্ত আছে কিনা জেন নিন। যদি আপনার কোন জানা অসুখ থাকে (তার জন্য নিয়মিত ওষুধ খেতে হোক বা না হোক) অথবা কেউ যদি ওজনে ভারি হন, তবে অবশ্যই ডিগ্রিধারী এনেস্থেটিস্টের শরণাপন্ন হন।

আপনার নিজের জীবনের দায়িত্ব নিজে নিন! অপারেশনের আগে এনেস্থেটিস্টের সাথে কথা বলুন!জরুরি সুবিধা সম্পন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিন।  

অসিত বর্দ্ধনঃ কানাডা প্রবাসী এনেস্থেটিস্ট ও bdemr.com এর প্রতিষ্ঠাতা

 




প্রসঙ্গঃ হালাল ও হারাম (যাদের জন্য প্রযোজ্য)।

হালাল দেশে বসে অসাবধানতায় হারাম খাচ্ছেন না তো? একটু সাবধান করবার জন্যই এই লিখাটি। কারণ সম্প্রতি প্রাণ কোম্পানীর একটি পণ্যে হারাম উপাদান পাওয়া গিয়েছে। ছবিটি নীচে মন্তব্যে দিচ্ছি।
.

বিদেশে এসে হালাল এবং হারাম খাবারের পার্থক্য করতে বাধ্য হতাম। কি কি উপাদান থাকলে তা হালাল নয় তা শিখেছি। এলকোহল, শুকর, আল্লাহর নামে জবাই করা হয়নি এমন মাংশ এবং আর কিছু জিনিস যেমন ইমালসিফায়ার এবং জিলেটিন আছে কিনা তা দেখতে বাধ্য হন এখানে প্রতিটি মুসলমান। দেশে থাকতে এসব চিন্তাও করতাম না। নিশ্চিন্তমনে দোকানের খাবার খেয়ে নিতাম দোকানীকে কিংবা উৎপাদককে বিশ্বাস করে। আমাকে অন্তত হারাম খাওয়াবে নাকি আমার নিজের মানুষগুলো? এই ভরসায়। যদিও পরোক্ষভাবে হারাম খান আমাদের অনেকেই। সুদ খাই, ঘুষ খাই, দূর্নীতির টাকা খাই, মরা মুরগী খাই, আরো কতকিছু। কিন্তু সরাসরি শুকরজাত কিংবা শুকরের অংশবিশেষ খাওয়ানো হবে এটি ভাবিনি।
.

খাবারের উদাহরণ হিসেবে বলি,প্লেইন ব্রেড খেলাম। আটার তৈরি। কিন্তু শুধুই কি আটা? আর কিছু থাকেনা? থাকে এবং তাতে শুকরের চর্বি থেকে আসা একটি জিনিস যার নাম ‘ইমালসিফায়ার’ তাও থাকে। এখন এই ইমালসিফায়ার-কালার-প্রিজারভেটিভ-জিলেটিন মানেই যে হারাম হবে তা নয় আবার। সবজি থেকে আসে,ডিম থেকে আসে। তবে কোনটা কি থেকে আসে তা আপনি বিভিন্ন কোডের মাধ্যমে বুঝতে পারবেন। পন্যের গায়ে ইনগ্রেডিয়েন্টস সেকশনে দেখবেন ইমালসিফায়ার এবং সাথে কোড হিসেবে 471(Animal Base), e-481, e-110 এরকম কোড থাকে। এগুলো ইমালসিফায়ার-ফুড কালার-প্রিজারভেটিভের কোড। যা দেখে বুঝে নেয়া যায় যে এখানে যে ইমালসিফায়ার লেসিথিন ইউজ করা হয়েছে তা আসলে কোন প্রাণী কিংবা সবজি অথবা ডিম থেকে এসেছে কি’না।
.

দেখে শুনে কেনায় অভ্যেস হয়ে যাওয়ায় দেশে গিয়ে হঠাত একটি পাউরুটির গায়ে দেখেছি e-481কোডের ইমালসিফায়ার। যেটি হারাম। দোকানীকে বললে তিনি হাঁ করে চেয়ে থেকেছিলেন। তারই বা কি দোষ? তিনি আসলে জানতেন না এগুলো কি এবং আমি কিসের কথা বলছি। এরকম আমরা অনেকেই জানিনা। আর সেই সুযোগে মুনাফা লাভের আশায় বেনিয়ারা আমাদের হারাম খাওয়াতেও দ্বিধা করেন না। সম্প্রতি অনেকের লেখাতে জানতে পারলাম প্রাণ কোম্পানীর বেভারেজ ট্যাংগো অরেঞ্জে ইউজ করা হয়েছে E-110 কোডের রং যেটি মাশবুহ অর্থাৎ সাস্পেক্টেড তালিকা থেকে বাদ দিয়ে হারামের কাতারে আনা হয়েছে এবং মুসলমানদের খেতে নিষেধ করা হয়েছে আল-আজহার ইউনিভার্সিটি থেকে।
.

অথচ প্রাণ এটি আমাদের খাওয়াচ্ছে জেনে শুনে। শুধু প্রাণ নয়। এরকম উদাহরণ প্রচুর পণ্যের বেলাতে পাওয়া যায়। তবে এই প্রাণ কোম্পানী মুসলমানের ধর্ম নিয়ে ভাববেন না হয়ত। আপনি ভাবুন। এসব দেখে শুনে কেনা খুব কঠিন কাজ নয়। পারলে কোক-পেপসিও বর্জন করুন। আর প্রাণের প্রায় সকল পন্য ভেজাল। মিথ্যুক এরা। বোতল ভর্তি আম নামে মিথ্যে কথার প্রচলন করে আসলে মিষ্টি কুমড়ো খাওয়াতো। ফ্রুটো একটি আছে, সেখানে আমের নাম গন্ধ নেই। বার্লির সাথে রং আর ম্যাঙ্গো এসেন্স দিয়ে তৈরি এই ফ্রুটো। রমজান মাসে খেতে খুব মজা।
.

এরপর কোরিয়ান চুইংগাম চিবিয়ে চিবিয়ে পড়াশোনা করা। হায় কি দিন ছিলো একসময়। অথচ কোরিয়ান বেশিরভাগ চুইংগামে এইধরণের লেসিথিন থাকে। জানতাম না আগে। জ্যাম জেলী কত খেয়েছি। কিন্তু খেয়াল করিনি জিলেটিন আছে কি’না। জেলেটিনের বেশিরভাগ হয় পিগবোন কিংবা চামড়া ও হাড়ে লেগে থাকা লিগামেন্টস থেকে। শুকরের হাড়ের একধরণের পেকটিন জাতীয় পদার্থ যা জমাট বাধতে সাহায্য করে। ইমালসিফায়ার একটি ফ্যাটি এসিড। সোজা কথায় চর্বি থেকে আসে। তেলের সাথে পানি দিলে মেশেনা, কিন্তু যদি ইমালসিফায়ার যোগ করা হয় তবে তা মেশে। এজন্য প্রায় প্রতিটি প্রিজার্ভড খাবারে এই জিনিস যোগ করা হয়।
.

বিদেশে মানুষ অসৎ কম হবার সুযোগ পায়। এরা হালাল সাইন দিলে আর হারাম জিনিস সেল করবেনা। একবার ধরা পড়লে লাইসেন্স বাতিল। কিন্তু আমাদের দেশে এসব নাই। এমনকি পণ্যটি হালাল কিনা তা পরীক্ষার নিজস্ব কোনো সক্ষমতাও নেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের। ২০১২ সালের ১৫ জুলাই ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের মৌখিক অনুমোদনেই হালাল সনদ দিচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এখানে আপনাকে কিন্তু যা তা খাওয়াবে। সুতরাং সাবধানে খান। অসাবধান হলে শুকর ও খেয়ে ফেলতে পারেন।
.

ভালো কথা, মাত্র কিছুদিন আগে গুলশানের একটি নামকরা রেস্টুরেন্টে শুকরের মাংশ আর গরুর মাংশ একসাথে পাওয়া গিয়েছিলো। এবং সেটিও অস্ট্রেলিয়ান এক বাংলাদেশী শেফ সেই রেস্টুরেন্টে জব করতে গিয়ে আবিষ্কার করেন। বাংলাদেশের মানুষের ভেতরে বিন্দুমাত্র নৈতিকতা নেই এখন। গোপন রাখতে পারলে আপনাকে মানুষের মাংশ ও খাইয়ে দিতে পারবে এরা। মরা মুরগী সস্তায় কিনে এনে খাওয়ায় এটিতো এখন হরহামেশা। কি বীভৎস!




মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর তিন নম্বর প্রধান কারণ ভুল চিকিৎসা?

রীতিমতো পিলে চমকানো খবর। আমি প্রথমে বিশ্বাস করিনি। পরে গতকালের ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পুরো পড়লাম। আসলেই এমন বলা হয়েছে। ভুল চিকিৎসা যদি একটি রোগ হতো, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলিতে প্রতি বছর যত রোগী মৃত্যু বরণ করছেন তাদের তিন নম্বর প্রধান কারণ ভুল চিকিৎসা। অনেক বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল জানিয়েছেন জন্স হপকিন্স মেডিক্যাল স্কুলের সার্জারির অধ্যাপক মারটিন মাকারি এবং তার সহযোগী মাইকেল ড্যানিয়েল।

 

তারা মনে করছেন বর্তমানে চিকিৎসা গবেষণার একটি মূল বিষয় হওয়া উচিৎ কিভাবে ভুল চিকিৎসা প্রতিরোধ করা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যু এবং রোগব্যাধি সম্পর্কে সমস্ত তথ্য পাওয়া যায় রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) থেকে। হাসপাতালের মৃত্যুর প্রমাণ পত্র বা ডেথ সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ কেন্দ্র মৃত্যুর তালিকা প্রস্তুত করে থাকে। কিন্তু হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটে কারণ হিসেবে “ভুল চিকিৎসা” উল্লেখ করার কোন ব্যবস্থা নেই। আবার ডেথ সার্টিফিকেট লেখা হয় রোগের আন্তর্জাতিক শ্রেণীবিন্যাস (International Classification of Diseases (ICD) codes) অনুসারে। সেখানেও মৃত্যুর কারণ হিসেবে “ভুল চিকিৎসা”-র উল্লেখ নেই। গবেষকগণ মনে করছেন মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। আজকাল চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোবট এবং কম্পিউটারও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। তার কারনেও ভুল হতে পারে। যে কারণেই চিকিৎসা বিভ্রাট ঘটুক না কেন তা উল্লেখ করার স্বচ্ছ ব্যবস্থা থাকা দরকার। আর এটা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে ১১৭ টি দেশ রোগের আন্তর্জাতিক শ্রেণীবিন্যাস (I C D codes) ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্রে এখন মৃত্যুর প্রধান দুটি কারণ হচ্ছে ক্যানসার এবং হৃদরোগ। সেজন্য যত গবেষণা, প্রচার-প্রচারণা এবং প্রতিরোধ প্রচেষ্টা চলছে ওই দুটি রোগকে ঘিরে। ভুল চিকিৎসা যেহেতু কোন হিসেবেই আসছে না, এ জন্য এ বিষয়টি পুরোপুরিই আমাদের মনোযোগের বাইরে রয়ে যাচ্ছে।

 

তারা ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মোট চারটি পর্যবেক্ষণের মৃত্যু হার বিশ্লেষণ করেছেন এবং ২০১৩ সালে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়ার হার বিবেচনায় নিয়েছেন। তাদের হিসেব অনুসারে এ সময়ে যে প্রায় সাড়ে তিন কোটি রোগী ভর্তি হয়। এর মধ্যে মৃত্যুবরণকারী প্রায় আড়াই লাখ রোগী কোন না কোন ভাবে চিকিৎসা বিভ্রমের শিকার হয়েছেন। এর অর্থ প্রতিবছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দশ জন রোগীর মধ্যে একজন চিকিৎসা বিভ্রাটে মারা যায়। সেই হিসেবে এটা মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। সিডিসির হিসেব অনুসারে ২০১৩ সালে হৃদরোগে মারা গিয়েছেন ৬১১,১০৫ জন, ক্যানসারে ৫৮৪,৮৮১ জন এবং শ্বাসনালীর ক্রনিক রোগে ১৪৯,২০৫ জন। এটাকে হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসকদের ইচ্ছাকৃত বিভ্রাট মনে করলে ভুল করা হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসা বিভ্রাট ঘটে থাকে। কিন্তু কেন এবং কিভাবে ঘটছে তা আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরী। বিভ্রান্তির কারণ শনাক্ত হলে তার প্রতিকার এবং প্রতিরোধের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। আর একারণেই ভুল চিকিৎসা সম্পর্কে গবেষণার জন্য আরও অর্থ বরাদ্দ করা দরকার এবং এ সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। আর সেটা মনে হয় সব দেশের জন্যই জরুরী।

 

 

তথ্যসূত্রঃ Makary MA, Daniel M. Medical error—the third leading cause of death in the US. BMJ. 2016; 353.