স্তন ক্যানসার সচেতনতা এবং বাণিয়া বুদ্ধি

মহিলা খুবই ক্ষিপ্ত এবং বিরক্ত। বোঝার চেষ্টা করছিলাম কেন?
কিছুক্ষণ পরে কারণ উদ্ধার করা গেল। কোন কারণে তিনি একটি ওষুধের দোকানে গিয়েছিলেন। দোকানে সাজানো একটি মলম দেখে তার চক্ষু চড়ক গাছ। টিউবের গায়ে লেখা “নিজে স্তন পরীক্ষা করার ক্রিম”। তার প্রশ্ন- এটা কি বিক্রি করার কোন বস্তু?

আসলে স্তন ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির নামে ইদানীং কিছু অদ্ভুত কীর্তি-কলাপ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। মহিলারা নিজেদের স্তন নিজেরা নিয়মিত পরীক্ষা করলে আসলেই কি অগ্রিম ক্যানসার শনাক্ত করা যায়?

এটা নিয়ে সম্প্রতি খুব বড় আকারের সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সমীক্ষায় একদল মহিলাকে খুব যত্ন করে নিজের স্তন পরীক্ষা করা শেখানো হয়েছে। আরেক দল মহিলাকে বিশেষ কোন পরামর্শ দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে সমীক্ষায় চার লাখ মহিলা অংশগ্রহণ করেছেন। তারপরে দীর্ঘদিন তাদের কার্যক্রম অনুসরণ করা হয়েছে। কিন্তু ফলাফল খুবই হতাশাব্যাঞ্জক। দেখা যাচ্ছে যারা প্রতিমাসে নিয়মিত নিজের স্তন পরীক্ষা করে দেখেছেন তারা অন্যদের চেয়ে আসলে তেমন উল্লেখযোগ্য বেশী ক্যানসার শনাক্ত করতে পারেন নি এবং এভাবে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ কিংবা মৃত্যুর হার কমানোর অপর তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। অযথা অনেকের মধ্যে আশঙ্কা কিংবা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে শল্য চিকিৎসকদের অধিক হারে বায়োপসি কিংবা অপারেশন করতে হয়েছে।

কিন্তু এখানে একটি প্যারাডক্স রয়েছে। নিজে স্তন পরীক্ষা করে সুফল না পাওয়া গেলেও আসলে এখনও কিন্তু মহিলারা নিজের স্তনের সমস্যা নিজেরাই আগে বুঝতে পারেন। বাংলাদেশের মত দেশে তারা বিভিন্ন কারণে চিকিৎসার জন্য আসতে দেরী করেন। কিন্তু উন্নত দেশে সেই বিলম্বের হার তুলনামূলকভাবে কম। সবমিলিয়ে বিষয়টি এখন নীতি নির্ধারকদের জন্য বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।

বাস্তবতা হচ্ছে বেশীরভাগ স্তন ক্যানসার মহিলারা আপনাআপনি কিংবা দৈবাৎ শনাক্ত করে থাকেন। এদের অনেকে আসলে রুটিন করে নিয়মিত নিজের স্তন পরীক্ষা করার ধারও ধারেন না। প্রতিমাসে নিয়মমাফিক স্তন পরীক্ষা করার পরামর্শ খুবই মহৎ এবং সাধু প্রচেষ্টা। দুঃখজনক হলেও সত্য হচ্ছে এরফলে আসলে অতিরিক্ত ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার কোন প্রমাণ মেলেনি। অনেকের অযথা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অযথা উদ্বেগ কেন হচ্ছে? কারণ স্তন মূলত একটি গ্রন্থি বা গ্লান্ড। মেয়েদের শরীরের হরমোনের মাসিক পরিবর্তনের কারণে স্তনের গঠন সবসময় একরকম থাকে না। স্বাভাবিকভাবেই মাসের কোন কোন সময়ে স্তনে ছোট ছোট গুটি অনুভূত হতে পারে। অনেকেই এধরণের গুটি অনুভব করতে পারলেই আশঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য উদগ্রীব থাকেন।

তাহলে সমাধান কি?

স্তন ক্যানসার শনাক্ত এবং চিকিৎসার গাইডলাইন যারা প্রণয়ন করছেন তারা এই প্যারাডক্স সমাধান করার চেষ্টা করছেন। নিজে স্তন পরীক্ষা করার অসারতা সম্পর্কে তারা সচেতন; কিন্তু তারা মহিলাদের স্তন সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে অবহেলা করতে চান না। এজন্য এখন স্তন সম্পর্কে সচেতনতার কথা বলা হচ্ছে। একজন মহিলা ঠিকই বুঝতে পারেন কখন তার স্তনে প্রকৃত অসুবিধা অনুভূত হচ্ছে। তেমন হলে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিলম্ব না করে চিকিৎসকের নিকটে আসা জরুরী। কিন্তু নিজে স্তন পরীক্ষার নামে অতিশয়তা এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন অসচেতনতার মধ্যে সীমারেখা কোথায় সেটাই এখন প্রশ্ন। প্রমানভিত্তিক তথ্যের অভাবে প্রচার-প্রচারণার আধিক্য আর মলম বিক্রির বাণিজ্যিক আগ্রহ অনেক সময় বিষয়টিকে জটিল করে তুলছে।




হার্ট অ্যাটাকের পরে……

হার্ট অ্যাটাকে থেকে সেরে ওঠার পর একজন মানুষ বাড়িতে ফিরে একটু একটু করে কাজের মাত্রা বাড়াতে বাড়াতে এক থেকে দেড়মাসের মাথায় অ্যাটাক-পূর্ববর্তী কাজকর্ম বা পেশায় ফিরে যাবেন এমনটাই হওয়া বাঞ্ছনীয়। খুব মৃদু হার্ট অ্যাটাক হলে দু-তিন সপ্তাহ ছুটি নিয়েই কাজে ফিরতে পারবেন রোগী। অ্যাটাক খুব তীব্র হলে (অনেকটা জায়গায় ইনফার্কশনে যেমন হয়), খুব বেশি জটিলতা দেখা দিলে অথবা হৃদস্পন্দনের অনিয়ম [ Irregular Heart Beat] থেকে গেলে অবশ্য দেড়মাস বা তারও বেশি সময় লাগে এরকম রোগীর স্বাভাবিক কজকর্মে ফিরতে।

কখন পেশাগত কাজে ফিরবেন হার্ট অ্যাটাকের রোগী সে- ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, রোগী বা তার বাড়ির লোকজন নন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চিকিৎসকরা নেন বিশেষ কিছু তথ্যের ওপর নির্ভর করে।

এগুলো হলঃ

  • কতটা হৃদপেশির মৃত্যু ঘটেছে।
  • কত তাড়াতাড়ি সেরে উঠেছেন রোগী।
  • হার্ট অ্যাটাকের ঠিক পরে বা পরবর্তী সময়ে কোনও হৃদ জটিলতা বা অন্য জটিলতা দেখা দিয়েছে কি না।
  • রোগীর এর আগে কখনও হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কিনা।
  • হার্ট অ্যাটাকের আগে, চলাকালীন আর পএ যেসব ঝুঁকি হার্টের পক্ষে ক্ষতিকর সেগুলো কতটা আর কীভাবে রয়েছে [ যেমন বেশি রক্তচাপ, রক্তে বেশি সুগার বা কোলেস্টেরল, বেশি ওজন, বেশি বয়স ইত্যাদি]।
  • পেশার ধরন কীর।
  • এতে কতটা শারীরিক পরিশ্রম হয়।
  • রোগীর মানসিক অবস্থা কীরকম অবস্থায় রয়েছে ইত্যাদি।

অর্থনীতি যে কোনও মানুষের বেচে থাকার গুরুত্বপূর্ণ একটা স্তম্ভ। হার্ট অ্যাটাকের রোগী যত তাড়াতাড়ি কাজে ফিরবেন অ্যাটাকের ফলে দেখা দেওয়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অভাববোধ তত কমবে। কমবে মানসিক চাপ। যেসব পেশায় খুব বেশি খাটনির কাজের বদলে হালকা কাজ চাইতে পারেন, চাইতে পারেন অল্প সময়ের আংশিক কাজ। নিয়োগকর্তাকে এ ব্যাপারে বোঝানোর দায়িত্ব শুধু রোগীর নয়, তার দায়িত্বশীল নিকটজনেরও।

দেখতে হবে কোনও অবস্থাতেই যেন হার্ট অ্যাটাকের রোগী কাজ হারিয়ে বেকার না হয়ে যান। এরকম হলে তার ওপর যে মানসিক আর অর্থনৈতিক চাপ পড়বে তা সুস্থভাবে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকার পথে সমস্যা তৈরি করতে পারে যখন তখন।

[তথ্যসুত্রঃ ইন্টারনেট]




চোখের সাধারণ সমস্যা

চোখের সাধারণ সমস্যা কনটেন্টটিতে চোখে কোনো কিছু পড়া, সদ্যজাত শিশুর চোখের প্রদাহ, চোখ লাল হওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, ট্যারা চোখ, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, সেবাদান কেন্দ্র সন্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

চোখ মানুষের একটি অমূল্য সম্পদ এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ। চোখের অনেক ছোট এবং সাধারণ অসুখ থেকে বড় জটিলতার সৃষ্টি হয় এমন কি অন্ধত্বেরও সৃষ্টি হতে পারে। যদি প্রাথমিক অবস্থায় চোখের এই সব সাধারণ রোগ বা সমস্যাগুলোর সঠিক চিকিৎসা বা যত্ন নেওয়া যায় তাহলে অন্ধত্বের হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

চোখে কোন কিছু পড়া 

আমাদের খালি চোখে অহরহ বাহিরের কিছু না কিছু পড়ে থাকে যেমন- বালি ধূলিকণা, কীটপতঙ্গ, বাঁশ, ইট, কাঠের টুকরা ইত্যাদি। এগুলি আমাদের চোখে দারুন ভাবে পীড়া দেয়। যদি তাড়াতাড়ি বের না করা যায় তাহলে কর্ণিয়ায় ঘসা লেগে তা মারাত্মক ক্ষতি করে। এমনকি চোখ অন্ধও হয়ে যেতে পারে।

লক্ষণ 

  • চোখ খচ খচ করে পানি পড়ে।
  • রোগী তাকাতে পারে না, চোখ বন্ধ রাখলে আরাম পায়।
  • চোখ লাল হয় এবং চোখের ভিতরে কিছু পাওয়া যায়।

 চিকিৎসা 

চোখে ঘষা দেওয়া যাবে না। সহজ ভাবে কিছু পড়ে থাকলে তুলা দিয়ে আলতো ভাবে তুলে নিতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের জীবাণুনাশক মলম ও প্যাড দিয়ে ব্যান্ডেজ দিয়ে একদিন অপেক্ষা করতে হবে। কিছু ফুটে বা লেগে থাকলে চক্ষু হাসপাতালে রেফার করতে হবে।

সদ্যজাত শিশুর চোখের প্রদাহ 

সদ্য প্রসুত শিশুর জন্মের ২১ দিনের মধ্যে চোখের (কনজাংটিভার) সংক্রমন ও প্রদাহ হলে তাকে অপথলমিয়া নিওনেটারাম বলে। ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দিয়ে সংক্রমন হতে পারে। এসব সংক্রমন সাধারণত মায়ের প্রসব পথ থেকে আসে।

 লক্ষণ  

  • চোখের পাতা ফুলে যায়
  • প্রচুর ময়লা/ পুঁজ দিয়ে দুই পাতা লেগে থাকে
  • মা বলেন জন্মের পর থেকেই পুঁজ পড়ছে
  • শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে

করণীয় 

  • সাধারণত চেখের কোনায় হালকা ভাবে মালিশ করলে এটা ভাল হয়ে যায়।
  • ঘন্টায় ঘন্টায় চোখ পরিষ্কার করতে হবে। 
  • যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতাল বা চক্ষু চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে।

 জটিলতা 

কর্ণিয়ায় ঘা, কর্ণিয়া ছিদ্র হয়ে চোখ অন্ধ হতে পারে।

চোখ লাল হওয়া 

কনজাংটিভার ভিতরে অবস্থিত ছোট ছোট রক্ত নালী থেকে রক্ত বেরিয়ে আসলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

দুটি কারনে চোখ লাল হয়

১.কনজাংটিভায় রক্তক্ষরণ

২.চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ

 

১.কনজাংটিভায় রক্তক্ষরণ 

সমস্যা বা রোগের কারণ 

  • চোখে আঘাত
  • জোরে কাশি (হুপিং কাশি)
  • অতিরিক্ত ভারী জিনিস তোলা
  • অতিরিক্ত বমি
  • রক্তের রোগ
  • ডায়াবেটিস
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • কনজাংটিভার প্রদাহ
  • ঔষধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি কারণে রক্ত ক্ষরণ হয়ে চোখ লাল হয়।

রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ 

  • চোখ লাল হয়ে যায়
  • সাধারণত কোন ব্যাথা থাকে না (আঘাত ছাড়া) দৃষ্টির তেমন কোন অসুবিধা হয় না
  • ২/১ সপ্তাহের মধ্যে এই রক্ত আপনা আপনিই দূর হয়ে যায়।

 চিকিৎসা  

যেহেতু দৃষ্টির কোন অসুবিধ হয় না তাই চোখের চিকিৎসার তেমন প্রয়োজন হয় না।

২.চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ  লক্ষণ 

  • চোখ লাল হয়ে যায়
  • আঘাত বা দুর্ঘটনার ইতিহাস থাকবে
  • সাধারণত এক চোখে কিন্তু দুই চোখেও হতে পারে
  • চোখে ব্যথা হবে
  • চোখের দৃষ্টি শক্তি কমে যেতে পারে

চিকিৎসা 

উভয় চোখে প্যাড ব্যান্ডেজ করে বিশেষজ্ঞের নিকট রেফার করতে হবে।

চোখ দিয়ে পানি পড়া 

চোখ সব সময় ভিজিয়ে রাখার জন্য চোখের গ্রন্থি থেকে পানি তৈরী হয়। এই পানি নীচের পাতায় নাকের দিকে অবস্থিত একটি নালা দিয়ে নাকের ভিতর গিয়ে পড়ে। কোন কারণে ঐ নালী বন্ধ হয়ে গেলে পানি নাকে না গিয়ে পাতায় গড়িয়ে পড়তে থাকে। দীর্ঘদিন এই নালি বন্ধ থাকলে সেখানে জীবাণু দ্বারা সংক্রমণ হয়ে প্রদাহ হয় এবং চোখের কোনে পুজ হয়। অনেক সময় চোখ দিয়ে পুজ পড়ে।

 করণীয়

পানি পড়া দেখলেই চক্ষু চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে।

ট্যারা চোখ 

যখন কোন বস্তুর দিকে তাকাতে গিয়ে এক চোখ সোজা থাকে এবং অন্য চোখ বেকে যায় তখন সেই বাকা চোখকে ট্যারা চোখ বলে। যেই চোখ ট্যারা থাকে সেই চোখে রোগী কিছুই দেখে না। এক চোখ দিয়ে কোন রকমে কাজ চালিয়ে নেয়। ট্যারা চোখ বালক বালিকাকে মানুষ লক্ষ্ণী ট্যারা বলে থাকে। তাদের ধারণা ট্যারা চোখ মঙ্গলের লক্ষণ। এটি মস্ত বড় ভুল ধারণা কেননা সময় মত চিকিৎসা না করলে চোখের দৃষ্টিশক্তি একেবারেই নষ্ট হয়ে চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

 লক্ষণ  

১.প্রয়োজনে বস্তুর দিকে ঠিকমত চোখ ঘুরাতে পারে না বরং মাথা ও মুখ বস্তুর দিকে  ঘুরিয়ে নেয়

২. একটি বস্তুকে দুইটি দেখে

৩. কান ভোঁ- ভোঁ করে অনেক সময় রোগী বমি করে

চিকিৎসা 

জন্ম থেকে যদি ট্যারা হয় তবে ৬ মাস থেকে ১ বৎসর বয়সের মধ্যে অপারেশনে ভাল হয়। দুই থেকে ৮ বৎসর বয়সের শিশুদের চশমা দিয়ে, চোখের ব্যয়াম দিয়ে ভাল ফল পাওয়া যায়। চশমা, চোখের ব্যায়াম দিয়ে ভাল ফল না হলে অপারেশন করে ভাল করা যায়।

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি

দীর্ঘমেয়াদী অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিক রোগের কারণে উক্ত রোগীদের রেটিনায় প্রদাহের ফলে যে জটিলতার  সৃষ্টি হয় তাকে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বলে।

 রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ 

দৃষ্টি ক্রমেই ঝাপসা হবে এবং সময় মত ব্যবস্থা না নিলে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যাবে।

চিকিৎসা  

প্রতিরোধই এই রোগের প্রধান চিকিৎসা।

প্রতিরোধের উপায় 

  • জনগণের মধ্যে ডায়াবেটিক রোগ এবং এর ফলে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে
  • ডায়াবেটিক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
  • মেডিসিনের দ্বারা চিকিৎসা
  • লেজার থেরাপি
  • অপারেশন

সেবাদান কেন্দ্র 

  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
  • জেলা হাসপাতাল
  • মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
  • বিশেষায়িত সরকারী/বেসরকারী হাসপাতাল

সচরাচর জিজ্ঞাসা 

প্রশ্ন.১.চোখে কোন কিছু পড়লে কি করতে হবে? 

উত্তর. চোখে ঘষা দেওয়া যাবে না। সহজ ভাবে কিছু পড়ে থাকলে তুলা দিয়ে আলতো ভাবে তুলে নিতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের জীবাণুনাশক মলম ও প্যাড দিয়ে ব্যান্ডেজ দিয়ে একদিন অপেক্ষা করতে হবে। কিছু ফুটে বা লেগে থাকলে চক্ষু হাসপাতালে রেফার করতে হবে।

 প্রশ্ন.২.সদ্যজাত শিশুর চোখে প্রদাহের লক্ষণ গুলো কি কি? 

উত্তর.

  • চোখের পাতা ফুলে যায়
  • প্রচুর ময়লা/ পুঁজ দিয়ে দুই পাতা লেগে থাকে
  • মা বলেন জন্মের পর থেকেই পুঁজ পড়ছে
  • শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে

 প্রশ্ন.৩.সদ্যজাত শিশুর চোখে প্রদাহ হলে কি করতে হবে? 

উত্তর. ঘন্টায় ঘন্টায় চোখ পরিষ্কার করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতাল বা চক্ষু চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে। বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রে চোখ এর কোনায় হালকাভাবে মালিশ করলে এটা এমনিতেই সেরে যায়। তবে মালিশের সময় হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে।

 প্রশ্ন.৪.কি কারনে চোখ লাল হয়? 

উত্তর. দুটি কারনে চোখ লাল হয়

১.কনজাংটিভায় রক্তক্ষরণ

২.চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ

 প্রশ্ন.৫.চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ হলে কি করতে হবে?

উত্তর. উভয় চোখে প্যাড ব্যান্ডেজ করে বিশেষজ্ঞের নিকট রেফার করতে হবে।

 প্রশ্ন.৬.চোখ দিয়ে পানি পড়ে কেন?

উত্তর. চোখ সব সময় ভিজিয়ে রাখার জন্য চোখের গ্রন্থি থেকে পানি তৈরী হয়। এই পানি নীচের পাতায় নাকের দিকে অবস্থিত একটি নালা দিয়ে নাকের ভিতর গিয়ে পড়ে। কোন কারণে ঐ নালী বন্ধ হয়ে গেলে পানি নাকে না গিয়ে পাতায় গড়িয়ে পড়তে থাকে।

 প্রশ্ন.৭.চোখ দিয়ে পানি পড়লে কি করতে হবে?

উত্তর. পানি পড়া দেখলেই চক্ষু চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে।

 প্রশ্ন.৮.চোখ ট্যারার চিকিৎসা কি? 

উত্তর. জন্ম থেকে যদি ট্যারা হয় তবে ৬ মাস থেকে ১ বৎসর বয়সের মধ্যে অপারেশনে ভাল হয়। দুই থেকে ৮ বৎসর বয়সের শিশুদের চশমা দিয়ে, চোখের ব্যয়াম দিয়ে ভাল ফল পাওয়া যায়। চশমা, চোখের ব্যায়াম দিয়ে ভাল ফল না হলে অপারেশন করে ভাল করা যায়। মনে রাখতে হবে চোখ ট্যারা ভাল লক্ষণ নয়, এটার অবশ্যই চিকিৎসা করাতে হবে।

তথ্যসূত্র ঃ প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা প্রশিক্ষণ মডিউল, ন্যাশনাল আই কেয়ার, পৃষ্ঠা: ২৪, ২৬ ,২৭, ২৮,২৯, ৪১ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় মে, ২০০৮।




শ্বেতি ছোঁয়াচে কিংবা মারাত্মক রোগ নয়

শ্বেতি, চিকিৎসা পরিভাষায় ভিটিলোগো (vitiligo)’ নামে পরিচিত। এটি ত্বকের বিবর্ণজনিত একটি রোগ, যা ছোঁয়াচে কিংবা মারাত্মক নয়। সাধারণত যারা গাঢ় বর্ণের তাদেরই বেশি দেখা দেয়। শিশু, নারী, পুরুষ সবাই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।শরীরের যে কোন স্থান আক্রান্ত হতে পারে,এমন কি চোখের ভ্রুসহ সমস্ত শরীর বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে। পৃথিবীব্যাপী এ রোগে আক্রান্তের হার  ১-২% ,তবে এশিয়ান ও আফ্রিকানদের মধ্যে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। ঝুঁকিপূর্ণ রোগ না হলেও, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা কম হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে হীনমন্যতায় ভুগে থাকেন।অনেকে শ্বেতি আর কুষ্ঠ একই রোগ বলে ভুল ধারনা করেন।কুষ্ঠ একটি জীবাণুঘটিত সঙ্ক্রামক রোগ কিন্তু শ্বেতি তা নয়।

কিভাবে বুঝবেন : এ রোগে ত্বকের এক বা একাধিক স্থানে রং হালকা থেকে দুগ্ধসাদা হয়ে যেতে পারে। রং পরিবর্তন ছাড়া সাধারণ অন্যকোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না। এটি খুব ধীরগতিতে বিস্তার লাভ করলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে খুব দ্রুত বিস্তার ঘটতে পারে। শরীরের যেকোনো স্থানেই এটি আক্রান্ত হতে পারে। তবে মুখ, কনুই, হাঁটু, হাত, পা এবং কোমরে বেশি দেখা যায়।

কিভাবে শ্বেতি হয় : ত্বকে মেলানিন (melanin) নামে এক ধরনের পিগমেন্ট/রঞ্জক থাকে-যার কারণে রং গাঢ় বা ফর্সা হয়। যাদের ত্বকে মেলানিন বেশি তারা কালো এবং যাদের কম তারা ফর্সা হয়ে থাকেন।

সারা শরীরে একই অনুপাত বা ঘনত্বে মেলানিন থাকে যা, বর্ণ হিসেবে প্রকাশ পায়। কোনো কারণে মেলানিন নষ্ট বা তৈরিতে ব্যাঘাত ঘটলে উক্ত স্থানে সাদা হয়ে থাকে। শ্বেতি আক্রান্ত স্থানে, ত্বকের অন্যস্থানের চেয়ে মেলানিন কম বা থাকে না।

কি কারণে হয় : শ্বেতির নিশ্চিত কোনো কারণ অদ্যাবধি জানা যায়নি। তবে প্রধান দুটি কারণ হলো বংশগত (১০-১৫%) এবং শরীরে এক ধরনের স্ব-প্রণোদিত প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়ায় স্থানভেদে মেলানিন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যে যে সব কারণে প্রতিক্রিয়া হতে পারে তা হলো,

রোগ : থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ, ডায়াবেটিস এবং বিশেষ ধরনের রক্ত শূন্যতা।

পুষ্টিজনিত ঘাটতি  যা কোনো রোগ অথবা খাদ্যজনিত কারণে হতে পারে।

-ত্বকে ইনফেক্শন বা আঘাতজনিত

-অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও রোদ্রতাপ

-কিছু ওষুধ ও রাসায়নিক পদার্থ।

প্রতিরোধ : এটি প্রতিরোধ করার কোনো উপায় অদ্যাবধি আবিষ্কৃত হয়নি।

জটিলতা : সাধারণভাবে এটি কোনো জটিলতা তৈরি করে না তবে রোদে পোড়া/সান বার্ন এবং ত্বকের ক্যান্সারের সম্ভাবনা খুবই কম।

চিকিৎসা : এ রোগের কোন নিশ্চিত চিকিৎসা এখন পর্যন্ত নির্ণিত হয়নি তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি আপনা-আপনি ভালো হয়ে যায়। নানা উপায়ে এটি চিকিৎসা করা যায় তবে ফলাফল আশাব্যঞ্জক নয়।

-মুখে খাবার ওষুধ এবং ত্বকে ব্যবহার করার ওষুধ এর মাধ্যমে।

-আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মির মাধ্যমে ;

-সম্ভাব্য কারণসমূহ নির্ণয় করে চিকিৎসা যেমন পুষ্টিজনিত ঘাটতি।

-সার্জারির মাধ্যমে মেলানো সাইট গ্রাফট বা সম্পূর্ণ স্কিন গ্রাফট।

মনে রাখবেন কুষ্ঠ এবং ত্বকের অন্যান্য কিছু রোগে ত্বক বিবর্ণ হতে পারে। ত্বকের কোনো স্থান বিবর্ণ বা সাদা হয়ে গেলে তা শ্বেতি বা অন্যকোনো রোগ হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কুষ্ঠ রোগের সঙ্গে শ্বেতির কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। শ্বেতি আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করে তাকে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে উৎসাহিত করুন।




আট বছরের রিশাদের পায়োজেনিক মেনিনজাইটিস

আমাদের ওয়ার্ডে ভর্তি আট বছরের রিশাদের পায়োজেনিক মেনিনজাইটিস। মেনিনজাইটিসের কমপ্লিকেশন হিসেবে হাইড্রেকেফালাস ডেভেলপ করেছে। অনেকদিন ধরে অজ্ঞান ছিল ছেলেটা। তীব্র জ্বরের কারণে সান্ট অপারেশন করা যাচ্ছিল না। বিকল্প হিসেবে টেম্পরারিভাবে External Ventricular Drainage দেয়াতে সিএসএফ প্রেশার বেশ কমেছে। ফলশ্রুতিতে রিশাদ একটু একটু হাত পা নাড়ছে, তাকাচ্ছে, কথা বলছে। জ্বরও কমেছে। আজ ওর সান্ট অপারেশন হবে।

গতকাল বিকেলে যখন ওকে দেখি কানেকানে ফিসফিস করে বললাম – বাবা, তোমার গল্পটা লিখবো। একটা ছবি তুলি?
রিশাদ বলল – গল্প লেখো। কিন্তু ছবি তুলো না আন্টি।
জানতে চাইলাম – কেনো রে?
ও বলল – ভালো হই আগে, তারপর হাসি দিয়ে ছবি তুলবো!
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। নিজের অজান্তেই আমার একটা হাত ওর পিঠ বুক হাতড়ায়। কী হাতড়ায়? একটা ছোট্ট শিশুর বেঁচে থাকার আকুতি? মায়ের কোলে ফিরে যাবার তীব্র বাসনা? নাকি ওর ছোট্ট বুকে জমানো রঙীন রঙীন স্বপ্ন? জানিনা।

চোখ ছলছল করে আমার। ডাক্তারদের চোখ ছলছল করতে নেই, করলেও সেই ছলছল চোখ কাউকে দেখাতে নেই। আমি ঘুরে দাঁড়াই, ফিরবো বলে।
রিশাদ ফিসফিস করে বলে – আন্টি কাল আমার জন্মদিন।
আমি আর দাঁড়াতে পারি না। দৌড়ে পালাই। আমি জানি, ওর মায়ের কাছে শুনেছি আজ ওর জন্মদিন, আজই ওর অপারেশন।

পরমকরুণাময়ের কাছে ওর জন্য একটাই চাওয়া – রিশাদ সুস্থ্য হয়ে ফিরে যাক ওর মায়ের কোলে। ওর মা অনেক রাত ঘুমায় না, শুধু ওকে বুকে জড়িয়ে একটা শান্তির ঘুম দেবে বলে।




হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা

হার্ট রোগীর চিকিৎসার একেবারে গোড়ার কথা হল রোগীর তীব্র যন্ত্রণার উপশম ঘটিয়ে তার এ সংক্রান্ত উদ্বেক, অশান্তি বা ভয়কে কমিয়ে আনা। জখম হওয়া হৃদযন্ত্র আগের মত কর্ম দক্ষ থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। এমন চোট পাওয়া হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ যতটা কমানো যায় তত মঙ্গল। ব্যথা বা যন্ত্রনা আর ভয় উদ্বেক কমানোর পাশাপাশি রোগীর পুরোপুরি বিশ্রামে শুইয়ে রাখা, বারবার এমনি আশ্বস্ত করা তাই জরুরি। এর পাশাপাশি অ্যাটাকের কারণে দেখা দেওয়া শক, হৃদব্যর্থতা, ফুসফুসে জল, হৃদ স্পন্দনের ছন্দ পতন- ইত্যাদি সমস্যার চিকিৎসা যত দ্রুত শুরু হবে, রোগীর সেরে ওঠার সম্ভাবনা তত বাড়বে।

চিকিৎসার শুরু

বুকের যন্ত্রনা খুব তীব্র হলে, রোগী পড়ে গেলে বা জ্ঞান হারালে, খুব বেশি শ্বাসকষ্ট থাকলে স্থানীয় চিকিৎসকের খবরদেবার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ডাকা জরুরি। তাড়াতাড়ি ডাক্তার পাওয়া গেলে চিকিৎসক রোগীকে দ্রুতলয় পরীক্ষা করে ব্যথা কমানোর ওষুধ ও অন্য কোনও ওষুধ দেবার পর তাড়াতাড়ি ই সি জি করার ব্যবস্থা করবেন। এরকম ব্যবস্থা না থাকলে চিকিৎসক বলামাত্র অ্যাম্বুলেন্সের স্ট্রেচারে রোগীকে শুইয়ে দ্রুত তাঁকে নিয়ে যেতে হবে সবচাইতে কাছের যে কোন হাসপাতালে। সম্ভব হলে আই. সি. সি. ইউ. এমন কোন চিকিৎসা কেন্দ্রে।

ইনফার্কশন মৃদু হলে, রোগীর উপসর্গ তেমন তীব্র না হলে বা হার্ট অ্যাটাকের ব্যাপারে সন্দেহ থাকলে ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা আর ই সি জি করে যেভাবে বলবেন সেভাবে চিকিৎসা করতে হবে। তিনি বললে রোগীকে হাসপাতালে পাঠাতে গিয়ে নষ্ট করা চলবে না অমূল্য সময়।

হার্ট অ্যাটাকের রোগীর মরাবাচার প্রশ্নে প্রত্যেকটা মিনিটের দাম অনেক। এই মহামূল্যবান সময়ের একশো ভাগ সদ্ব্যবহার ইনফার্কশনের রোগীর চিকিৎসার পক্ষে, ভাল হবার পক্ষে সবিশেষ জরুরি।   




ভুলভাবে বানানো খাবার স্যালাইন হতে পারে মৃত্যুর কারন

আমার ক্লিনিক্যাল এসিস্টান্টসিপ এর মাঝামাঝি সময়। চট্টগ্রাম মেডিকেলের শিশু বিভাগের ডায়রিয়া ব্লকটা বারান্দায় এবং একটু অবহেলিতও বটে। কারণ এই রোগীরা ক্রমাগত পাতলা পায়খানা আর বমি করতে থাকে। সেজন্য সেখানে গন্ধ বেশী, তদুপরি টয়লেটের পাশে হওয়ায় পরিষ্কার আর গন্ধমুক্ত রাখা খুব কঠিন । এই ব্লকটা ছোঁয়াচেও বটে। আমার HMO আর IMO রা ঐদিকে সহজে যেতে চায় না। তাই সেটা আমি দেখি।

সকাল ৭:৪৫ । কিছুক্ষন পরেই মর্নিং সেশন এর কাঠগডায় দাঁড়াতে হবে। তার আগে খারাপ রোগীগুলো দেখে নেয়ার চেষ্টা। একটা ৮ মাসের বাচ্চা । ডায়রিয়ার রোগী।সেমি কনসাস, অনেক জ্বর ১০৩.৫। জিহবাটা একদম শুকনো। এই অবস্থাতেই দুধ মুখে দিলে চুষছে । মানে সে ভীষন তৃষ্ণারত , পেট টা ফোলা ফোলা। ৬/৭ ঘন্টা প্রসাব করেনি।

মনে হল এতো জ্বর! ম্যালেরিয়া নাতো? বারান্দায় রোগি কম দেখা হয় বিধায় ওকে ওয়ার্ডের ভিতর নিয়ে আসলাম। হিস্ট্রি নিয়ে জানলাম, ২ দিন ধরে ডায়রিয়া। তার মা তাকে ওর স্যালাইন (ORS)খাইয়েছে ৫ পেকেট কিনতু ors টা গুলিয়েছে অল্প অল্প করে । পুরো প্যাকেট একসাথে নয় । ভয় পেলাম খুব। বুঝলাম তার শরীরে লবনাধিক্য(hypernatremia) হয়েছে । সোডিয়াম লেভেল কত জানা যাচ্ছে না । তখন পেডিয়েটরিক আইসিইউ হয় নাই। আমাদের। এসব রোগীর চিকিৎসা খুব কঠিন। বেশীর ভাগ রোগি মারা যায় । কারণ এটা খুব সাবধানে আস্তে আস্তে (slow correction) করতে হয়। নাহলে ব্রেইনে পানি ( cerebral edema) জমে রোগী মারা যায়। ব্রেইনে কখন কখন রক্তক্ষরণও হতে পারে।

সামান্য ডায়রিয়া। ORS দিতে হয় পানি শুন্যতা রোধে কিন্তু সঠিক প্রয়োগ না জানাতে এটাই রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে যায়। এই রোগীর সোডিয়াম লেভেল ছিল ১৭১ মিলিমোল (১৩৫ পর্যন্ত নরমাল)। এক সপ্তাহ জমে মতে মানুষে টানাটানি করে রোগী বাঁচানো যায়।

যে জন্য এই গল্পের অবতারনা। কচকচে বই এর ভাষা লেখলে কেউ পড়বে না।

ORS ICDDRB এর একটা যুগান্তকারী আবিষ্কার। কিন্তু ব্যবহার বিধি না জানার কারণে এটাই মাঝে মাঝে মৃত্যুর কারণ হয়।
অনেকেই স্যালাইন গুলাতে জানেন না ।

১.ORS গুলোর আগে প্যাকেটের গায়ের লেখা পড়ে নিন । কোনটা ১ লিটার , কোনটা ৫০০ মিলি , কোনটা ২৫০ মিলি তে গুলাতে হয়। একমাত্র প্যাকেটের গায়ে লেখা পডলেই বুঝতে পারবেন কতটুকু পানি লাগবে।যেমন ঃ SMC’র ORS টা ৫০০ মিলি পানিতে গুলাতে হয়, টেষ্টি স্যালাইন ২৫০ পানিতে গুলাতে হয় । তাই গুলানোর আগে অবশ্যই প্যাকেটের গায়ে লেখাটা পড়ে নিন।

২. ৫০০ মিলি পানি মাপতে ৫০০ মিলি মিনারেল ওয়াটারের বোতল ব্যবহার করুন। কোন মগ বা গ্লাস ব্যবহার করবেন না। পানির পরিমাণ কম বেশি হলে মারাত্মক সমস্যা হয়। রোগির লবনাধিক্য বা লবনস্বল্পতা দেখা যায় যার চিকিৎসা খুব কঠিন।

৩. গরম পানিতে স্যালাইন কখনই গুলানো যাবেনা। পানি সিদ্ধ করে ঠান্ডা করে নিন।
রোগীকে জানতে হবে স্যালাইন খেলে ঠাণ্ডা লাগেনা। ঠাণ্ডা লগার ভয়ে অনেকে স্যলাইন খাওয়ায় না।

৪. পুরো প্যাকেট একসাথে গুলিয়ে নিতে হবে প্যাকেটের গায়ের লেখার সম পরিমান পানি নিয়ে। অল্প স্যালাইন অল্প পানি এভাবে গুলানো যাবেনা। আধ প্যাকেট স্যলাইন রেখে দিয়ে আধ প্যাকেট গুলানো যাবে না । অনেকে মনে করেন বাচ্চা ছোট এত স্যালাইন খেতে পারবেনা,(হসপিটালের অভিজ্ঞতা) তাই তারা আধ প্যাকেট গুলিয়ে খায়।
পুরো প্যাকেট একসাথে গুলান। ১২ ঘন্টা পর যা থাকবে ফেলে দিন । লাগলে আবার নতুন প্যাকেট গুলান। ORS এর দাম ৫ টাকা । বাচ্চার দাম টাকা দিয়ে পরিমাপ করলে হবে কি?

৫. ডাবের পানি দিয়ে স্যালাইন গুলানো যাবেনা। অনেককে তাই করতে দেখেছি। বেশী ডায়রিয়া হলে ২ প্যাকেট দিয়ে ৫০০মিলি পানিতেও গুলাতে দেখেছি । এটা মারাত্মক ক্ষতিকর।

৬. বেশীর ভাগ ডায়রিয়াতে ওষুধ লাগেনা। পানি শুন্যতা পুরনের জন্য ORS দিলেই চলে। কিন্তু ORS এক সাথে বেশিবেশি খাওয়ানো যাবে না। কারণ ডায়রিয়ার সময় অন্ত্রের পানি শোষণ ক্ষমতা কমে যায় । তাই একসাথে বেশী স্যালাইন দিলে তা সাথে সাথে পায়খানার সাথে বেরিয়ে যায়।

অতএব অল্প অল্প করে বারবার স্যলাইন খাওয়ান । সবচাইতে ভাল মিনিটে ১ চামচ করে । বমি থাকলে ২ থেকে ৩ মিনিটে ১ চামচ দিবেন।

৭. সবশেষ বলব আমাদের টেলিভিশনে এ বিষয়ক কোন বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয় না ।
নিয়মিত টিভিতে স্যালাইন বানানোর নিয়ম দেখানো উচিত । বিভিন্ন টেলিফোন কোম্পানিগুলো অনেক সুন্দর সুন্দর বিজ্ঞাপন বানায় । জনস্বার্থে এই ধরনের বিজ্ঞাপন কি বানানো যায় না?




জিভের রঙ দেখে কি করে বুঝবেন , আপনি কোন রোগে আক্রান্ত ?

শরীর খারাপ হলে চিকিৎসকেরা রোগীর জিভটা দেখেন। তার রঙ ও আকার দেখে শারীরিক সমস্যার কথা জানেন। কয়েক শতাব্দী পুরনো এই পন্থা আসলে চীনাদের চিকিৎসা পদ্ধতির অঙ্গ ছিল। আপনারাও বাড়িতে বসেই শরীরে কোথায় সমস্যা তা জানতে পারেন নিজেদের জিভ দেখেই।

) জিভের ওপর পাতলা সাদা আবরণ :

জিভ মূলত আমাদের পরিপাকতন্ত্রের খবরাখবর জানায়। কারণ জিভ থেকেই এই তন্ত্রে শুরু। জিভের ওপর যদি পাতলা সাদা একটি আস্তরণ থাকে, তা হলে বুঝবেন হজমে কোনও সমস্যা নেই। পরিপাকতন্ত্র ঠিকমতো কাজ করছে।

) মোটা সাদা আস্তরণ :

এটা শরীর খারাপের সংকেত। এটা হলে বুঝবেন শরীরে কোথাও চোট রয়েছে অথবা ভেতরে ভেতর শরীর খারাপ হচ্ছে। শরীরে কোনও একটি অংশ ঠিক মতো কাজ করছে না।

) হলুদ আস্তরণ :

মূলত জ্বর হলে জিভের ওপর হলুদ আস্তরণ পড়ে। দেহের তাপমাত্রা অনেক কারণে বাড়তে পারে। সেটা ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে, শরীরের কোনও অংশ ফুলে গিয়ে থাকতে পারে।

) উপরিভাগে লাল চাকাচাকা চামড়া উঠে যাওয়া:

এর অর্থ শরীরে এনার্জি বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই। কোনও অ্যালার্জির কারণেও এমনটা হতে পারে। চর্মরোগ, র‌্যাশ প্রভৃতি রোগের লক্ষণ হতে পারে। সুস্থ শরীরে জিভের স্বাভাবিক রং হাল্কা গোলাপি। এর অর্থ আপনার শরীরে বিশেষ কোনও সমস্যা নেই। পরিপাকতন্ত্রও ঠিকমতো কাজ করছে।

এ বার দেখে নিন জিভের রং কী রকম হলে শরীরে কোথায় সমস্যা দেখা যায়।

) ফ্যাকাশে :

জিভের রং যদি ফ্যাকাশে হয়ে যায় বুঝতে হবে হজম ঠিক মতো হচ্ছে না। ভেতরে ভেতরে ঠান্ডা লেগে রয়েছে। এর সঙ্গে যদি জিভ বার বার শুকিয়ে যায়, তা হলে তা অ্যানিমিয়ার লক্ষণ হতে পারে। তার সঙ্গে ইনসমনিয়া, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া প্রভৃতি রোগের লক্ষণ হতে পারে।

) উজ্জ্বল লাল রং :

এ রকম রং দেখলে বুঝবেন শরীরে কোথাও ইনফেকশন রয়েছে। প্রথমে জিভের ডগার দিকটাই লাল থাকবে। পরে তা পুরো জিভে ছড়িয়ে পড়বে।

) জিভের পাশে লাল রং :

খুব মশলাযুক্ত খাবার খেলে, প্রতুর ফ্যাট জাতীয় এবং অ্যালকোহলের মাত্রা শরীরে বেশি হলে এমন রং হয়। কোষ্ঠকাঠিণ্যের মতো সমস্যা থাকলেও জিভের রং এমন হয়।

) নীল রং :

শরীরে অক্সিজেনের অভাব হলে জিভের রং পাল্টে গিয়ে নীল বর্ণ হতে থাকে। ডাক্তারি ভাষায় একে সায়ানোসিস বলে। যদি এমনটা দেখেন অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যান। রক্তে সমস্যা, হৃদযন্ত্রের সমস্যার মতো রোগ থাকতে পারে। তাই দেরি করা ঠিক নয়।

) কালো রং:

সাধারণ কারও কারও জন্ম থেকেই এ রকম রং থাকতে পারে। তবে যদি হঠাৎ কালো রং দেখেন তা হলে বুঝবেন  এক সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ব্যাক্টেরিয়া জমা হয়েছে জিভে। তবে শুরু থেকেই এমনটা হবে না, প্রথমে হলুদ, তার পরে ব্রাউন, তার পর কালো রং হবে।

) হলুদ রং :

জিভের রং সাধারণ এমন হয় না। যখন হবে, তখন বুঝবেন লিবারে বড় সমস্যা রয়েছে। সম্ভবত জন্ডিস হয়ে গিয়েছে। দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

) পার্পল রং :

দীর্ঘ দিন ধরে শরীরে কোনও সমস্যা থাকলে জিভের রং পার্পল হতে শুরু করেন। এটার অর্থ শরীরে ভিটামিন B-এর ভীষণ ঘাটতি রয়েছে। মনে রাখবেন, শরীরে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল জিভ। তবে আমরা অনেকেই এর খেয়াল রাখি না। প্রতিদিন জিভ পরিষ্কার রাখলে অনেক রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। রোজ সকালে দাঁত মাজার সময়ই জিভ ভালো করে পরিষ্কার করে নিন।

সুস্থ থাকবেন




অ্যানজাইনার রোগীর ভবিষ্যৎ

সঠিক নিয়মকানুন মেনে চললে আর সমস্যার তীব্রতা খুব বেশি না হলে অ্যানজাইনার রোগী বহুদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনারি ধমনীর গহ্বরের সংকোচন আরও বাড়ে, সমস্যা আরও বাড়ার আশঙ্কাও বাড়তে থাকে। তবু প্রথম অ্যানজাইনা দেখা দেবার পর ২০, এমনকি ২৫ বছর সুস্থ শরীরে বেচে আছেন হৃদশূলের রোগী, এমন ঘটনা বিরল নয়। বেশিরভাগ রোগী ব্যথা শুরু হবার পর গড়ে দশ বছর সুস্থভাবে জীবন কাটান।

অ্যানজাইনার রোগী যে পরবর্তী জীবনে হাট অ্যাটাকে বা অন্য হৃদ-জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারেন তা  বলাই বাহুল্য। অ্যাথেরোসক্লেরোসিস করোনারি ধমনীর পাশাপাশি মস্তিস্কের সেরিব্রাল ধমনীকে সংকুচিত করে। যে-কোনও করোনারি হৃদরোগী তাই হার্ট-অ্যাটাকের পাশাপাশি আক্রান্ত হতে পারেন মস্তিস্কের নানা ধরনের, নানা মাত্রার স্ট্রোক ( CVA- Carebrovascular Accident) এ ।

দেখা গেছে যত কম বয়সে অ্যানজাইনার শিকার হবেন একজন মানুষ, সেই মানুষের জীবন (Life Spam) তত ছোট হবে। যত বেশি বয়সে অ্যানজাইনা শুরু হবে আয়ু তত বাড়বে। ৫০ বা ৬০ বছরে অ্যানজাইনা শুরু একজন মানুষ হয়তো আরম্ভ ১৫-২০ বছর বাঁচার পর মারা গেলেন হার্ট অ্যাটাকে। অথচ মাত্র ৪০ বছর বা তারও আগে অ্যানজাইনায় আক্রান্ত অন্য একজন মানুষ হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়ে মারা গেলেন  মাত্র ৮-১০ বছর পরেই। অ্যানজাইনার রোগী কতটা বাচবেন তা নির্ভর করে জীবনযাপন পদ্ধতি, করোনারী অ্যাথেরোমার তীব্রতা আর মোট আক্রান্ত করোনারি ধমনীর শাখা-প্রশাখার সংখ্যার ওপর।

একটি ধমনী আক্রান্ত, অ্যাথেরোমা মাঝারি মাত্রার, নিয়মকানুন কোঠর ভাবে মেনে চলেন এমন মানুষ বাঁচবেন অনেক বেশি দিন। অন্যদিকে একাধিক ধমনী তীব্র মাত্রার অ্যাথেরোমায় আক্রান্ত হলে আর বিধি নিষেধ ঠিক ঠিক মেনে না – চললে বেশি দিন বাঁচার সম্ভাবনাও কম হবে। এটাই সাধারন নিয়ম। তবে ক্ষেত্র বিশেষে এর ব্যতিক্রমও যে ঘটে না তা নয়। সাধারন ভাবে বলা যায়, রক্ত চাপ খুব বেশি হলে, হৃদযন্ত্র খুব বড় হয়ে গেলে ( Marked Cardiac Enlargement), আগে হার্ট ফেইলিওর বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে অথবা ডায়াবেটিস থাকলে অ্যানজাইনার রোগীর বিপদের আশঙ্কাও বাড়ে।

আশঙ্কা বিশেষ করে বাড়ে ধূমপান ছাড়তে না পারলে। অথবা পরিবারে বাবা-মা ও অন্য সদস্যদের মধ্যে আগে অ্যানজাইনা বা হার্ট অ্যাটাক দেখা দিয়ে থাকলে। আশঙ্কা বাড়ে নিয়মিত মদ্য পানে অভ্যস্ত মানুষের বেলাতেও। আশঙ্কা বলতে অ্যাটাক বা হৃদযন্ত্রের অন্য জটিলতা দেখা দেবার ভয়। জন্মগত কারণে রক্তে লিপিডের মাত্রা বেশি হলে কম বয়সে যে অ্যানজাইনা দেখা তার তীব্রতা বেশি হয়, ভবিষ্যতের আশঙ্কাও বেশি থাকে।

সামান্য অ্যানজাইনা দ্রতলয়ে তীব্র হয়ে দেখা দিল হার্ট অ্যাটাক, এমন ঘটনাও ঘটতে পারে। আবার কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর ব্যথার উপসর্গ থাকার পর করোনারির নতুন নতুন কোল্যাটারাল গজিয়ে অনেক কালের জন্য বা চিরকালের মতো উধাও হল অ্যানজাইনা, বিরল হলেও এমন ঘটনা ঘটে।

অ্যানজাইনা মানেই হার্ট অ্যাটাক যেমন নয়, অ্যানজাইনার ব্যথা শুরু হয় করোনারি ধমনীর যে সমস্যার তা জটিলতর হলেই দেখা দেয় হার্ট অ্যাটাক। অ্যানজাইনাকে তাই হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষন বলা না গেলেও সতর্ক বার্তা অবশ্যই বলা যায়। কত কাল সুস্থ থাকবেন একজন অ্যানজাইনার রোগী, কতকাল বাঁচবেন, কিভাবে বাঁচবেন তা যে নানা শর্ত নির্ভর, আগে বলেছি। একেক জন অ্যানজাইনার নানা ধরনের ক্ষেত্রেও তারতম্য ঘটে এরকম ঝুঁকির। ঝুঁকি কম হলেও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন অ্যানজাইনার রোগীর জীবন ছিনিয়ে নিতে পারে খুব তাড়াতাড়ি।

অন্যদিকে, ঝুঁকি বেশি এমন ইসকিমিয়ার রোগী নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করে সহজেই জীবনের কাছে চেয়ে নিতে পারেন মুল্যবান কয়েকটা বছর, অনেকগুলো দিনরাত।  




কোলেস্টেরল কমাতে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ

মোট আর খারাপ কোলেস্টেরল দুটোই মাত্রাই বাড়লে প্রথম পর্যায়ের খাদ্য নিয়ন্ত্রণ হল প্রথম চিকিৎসা। এরকম খাদ্য নিয়ন্ত্রণ শুরু করার আগে রোগী চিকিৎসক ও সম্ভব হলে পুষ্টিবিদের সঙ্গে বসে বুঝে নিবেন নিয়ন্ত্রনের খুটিনাটি, প্রয়োজনীয়তা। কোলেস্টেরল বাড়লে দুম করে খাবার দাবারে কোঠর নিয়ন্ত্রণ চালু করার আগে কেন নিয়ন্ত্রণ তা জানা জরুরি। জরুরি এরকম নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বাঁচার জন্য তা জেনে বুঝে নেওয়া। এই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সে সাময়িক নয়, চিরকালের জন্য, মাথায় রাখতে হবে গুরুত্বপূর্ণ এই কথাটাও।

মানসিক ভাবে তৈরি হয়ে আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণে যাওয়া হল যুক্তিবুদ্ধির কাজ। হঠাৎ করে কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালু করে কিছুদিন বাদে হতাশ হয়ে নিয়ন্ত্রণ ভাঙ্গেন অনেকেই। নিয়ন্ত্রণ চালু করার আগে তাই মানসিক প্রস্তুতি আবশ্যিক। আবশ্যিক নিয়ন্ত্রণ মেনে চলাকে অভ্যাস বানিয়ে নেবার অঙ্গিকার। শুধু চিকিৎসকের প্রতি নয়, নিজের কাছে। অঙ্গীকার অন্তরাত্মার কাছে। 

শুধু সম্পৃক্ত চর্বির নিয়ন্ত্রণ নয়, নয় শুধু কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবাড় দাবার এড়িয়ে চলা, প্রচুর শাকসবজি আর বেশ কিছু ফল খাওয়ায় ধীরলয়ে রপ্ত হয়ে ওঠা। রপ্ত হয়ে ওঠা নিরামিষে অথবা উপকারী মাছে। খুব বেশি তেল, ঝাল, নুন খাওয়ার অভ্যাস থেকে আস্তে আস্তে শাকসবজি, শস্যদানা, ফল,ডাল, স্যালাড, দুধ, মাছের জীবনে একবার রপ্ত হয়ে গেলে কমে চর্বি-তেলের প্রতি আসক্তি। কমে লাল মাংস খাওয়ার ইচ্ছা। শুধু কথার কথা নয়, এরকম ধারণা বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণিত সত্য। নুন খাওয়া কমাতে কমাতে কম নুনে রপ্ত হয়ে গেলে যেমন বিস্বাদ লাগে বেশি নুনের খাবার, মন তেল মাখন মশলার খাবারে অভ্যস্ত হলেও টান কমে তেল ঘি মাখন বা অন্য সম্পৃক্ত চর্বির দিকে। 

খাবার দাবারে ক্যালোরির পরিমাণ আর নানা ধরনের খাবারে কোলেস্টেরলের পরিমাণ সম্পর্কে মোটামোটি একটা ধারণা গড়ে নেওয়া কঠিন নয়। কঠিন নয় বয়স ও পরিশ্রমের মাত্রা অনুযায়ী দিনে কতটা ক্যালোরি দরকার চার্ট দেখে তা বার করে নেওয়া। এটুকু করতে শেখার পর জানা দরকার প্রোটিন, ফ্যাট আর শ্বেতসার শর্করার ক্যালোরি তৈরির ক্ষমটাকে বুঝে নেওয়া। এক গ্রাম ফ্যাট ভেঙ্গে তৈরি হয় ৯.৩ ক্যালোরি। সমপরিমাণ প্রোটিন আর কার্বোহাইড্রেট ভেঙ্গে তৈরি হয় যথাক্রমে ৪.১ ও ৪ ক্যালোরি। এই তথ্যগুলো জেনে বুঝে নিলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়াই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রনের প্রথম আর দ্বিতীয় পর্যায়ের খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কিভাবে হবে তা মোটামোটি ঠিক করে নিতে পারবেন সচেতন একজন মানুষ।

নিয়ন্ত্রণ মানতে গিয়ে ভুলে গেলে চলবে না, মানুষ ক্যালোরি খায় না, খাবার খায়। ফ্যাট পুরোপুরি বাদ দিলে খাবার বিস্বাদ হয়ে রুচি কমাতে পারে। খাবারে ফ্যাট ছেঁটে ফেলার ব্যাপারে অত্যুৎসাহী না হওয়া তাই বাঞ্ছনীয়। ইচ্ছে হলে এক আধ দিন নিয়ন্ত্রণ একটু শিথিল হলে হোক। রোজ রোজ নিয়ম না ভাঙ্গার রাস্তা খুলে দিতে পারে, এরকম মৃদু সাময়িক শৈথিল্য। কোলেস্টেরল কমাতে খাদ্য নিয়ন্ত্রণে যেন কোন গোঁড়ামি বা একগুঁয়েমি প্রশ্রয় না পায়।

বারবার সপ্তাহে সপ্তাহে নয়, মাসে একবার মোট আর খারাপ কোলেস্টেরল মেপে দেখাই যথেষ্ট। তিন থেকে ছয় মাস ধরে প্রথম পর্যায়ের খাবার অভ্যাস করে কাজ না- হলে তবেই চলে যেতে হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের খাবারে। ছ’ থেকে ন’ মাসে খাদ্য নিয়ন্ত্রণেও কোলেস্টেরল না কমলে তবেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শুরু করতে হবে কমানোর ওষুধ। জন্মগত নয় এমন কোলেস্টেরল বাহুল্যে শতকরা ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রে খাদ্য নিয়ন্ত্রণে আয়ত্তে আসে কোলেস্টেরল। মাত্র ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এর পাশা পাশি দরকার হয় ওষুধ খাওয়ার। 




জীবনের রসায়ন

বিজ্ঞান বিষয়গুলো নিয়ে পড়াশুনার ফলে রসায়ন শব্দটার সাথে বেশ আগেই পরিচিতি হয়েছিল। সাধারণভাবে আমরা সবাই হয়তো এটা বুঝি যে, একটা আর একটার সাথে ক্রিয়া বা বিক্রিয়া নিয়ে যে বিষয়ে আলোচনা হয় সেটাই রসায়ন। রসায়ন শব্দটা একেবারে আমার অন্তরে ঢুকেছে মনোরোগবিদ্যা পড়তে এসে।

মনোরোগবিদ্যা পড়াশুনা ও রোগী দেখতে গিয়ে বুঝতে পারলাম আমাদের আচার আচরণও রাসায়নিক ক্রিয়া বিক্রিয়া দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমরা প্রায়ই খুব অদ্ভুত অদ্ভুত প্রশ্ন বা পরিস্থিতির সম্মুখীন হই যা বরাবরই আমার মনে দাগ দিয়ে যায় আর মনে করিয়ে দেয় সেই অদ্ভুত জীবন রসায়ন। আমরা এমন রোগীদেরকে সেবা দিতে পারি যারা মনে করেন না তাদের নিজের কোনো রোগ আছে, অন্যরা সবাই তার ক্ষতি করার চেষ্টা করতেছে, পরিবারের লোকজন তাদের জোর করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিছু দিন ওষুধ খাওয়ার পর রোগীরা বুঝতে পারেন তাদের আসলে রোগ ছিল, কেউ আর তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করতেছে না, এখন আর কানে আলগা কথা আসে না ইত্যাদি। আবার কিছুদিন পর ওষুধ খাওয়া বাদ দিলে এই রোগই আবার সেই পুরান অবস্থায় ফিরে আসে। আমার বেশ কৌতূহল হত এগুলো কীভাবে সম্ভব?

আর এক ধরনের রোগের কথা বলি যেখানে আগের বেশ শান্ত লোকটি অনেক বেশি কথা বলেন, অল্পেতে রেগে যাচ্ছেন, রাতে ঘুমাতে চান না, অনেক কাজ করতে চান, হঠাৎ করে ধর্ম কর্ম বেশি বেশি করা শুরু করেন, নিজেকে অনেকে নবীও দাবি করে ফেলেন। সেই রোগীরাই কয়েক দিন ওষুধ খাওয়ার পর দেখি আবার স্বাভাবিক হয়ে গেছেন।

আর এক প্রকার রোগের কথা না বললে আমার লেখা বৃথাই থেকে যাবে, সেটা বিষণ্ণতা। এখানে সবচেয়ে প্রাণচাঞ্চল্য মানুষটি একেবারে মুষড়ে পড়েন, জীবনে সব কিছুই বৃথা হিসাবে দেখেন, জীবনে শুধু পাপ, ভুল ইত্যাদি মনে করেন, অনেকে আত্মহত্যাও করে বসেন। উপযুক্ত চিকিৎসায় এই রোগীরা আবার প্রাণ ফিরে পান, আবার আশার আলো দেখতে পান।

যারা নেশা করেন তাদের সব কিছুই ঘিরে থাকে শুধুই নেশা। যে মানুষটা আগে স্বাভাবিকই ছিলেন এখন শুধুই নেশার মধ্যে আছেন। নেশা মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান বিচার বিবেচনা নষ্ট করে দেয়।

আরও অনেক মানসিক রোগ চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে আমার মনে বার বার প্রশ্নটি আঘাত করে, কোন জিনিস আমাদের আচরণে এমন পরিবর্তন আনে। রোগ গুলো নিয়ে পড়াশুনা করতে গিয়ে বেশ রহস্যের জালে আটকা পড়েছি। হাতে গুনে কয়েকটা রসায়ন একটু বুঝতে চেষ্টা করছি। সেরোটোনিন, ডোপামিন, অ্যাড্রেনালিন, নরঅ্যাড্রেনালিন, এছিতায়িল কলিন, হিস্টামিন এই ছয়টি অতি ক্ষুদ্র রাসায়নিক পদার্থ আমাদের এই সব ব্যবহার, বিশ্বাস, আচরণ সব কিছুর জন্যই দায়ি। আমি আবারও আটকে যাই যখন পাই যে খুব নির্দিষ্ট করে বলা এবং সেটা খুব নির্দিষ্ট করে ঠিক করা বেশ কঠিন। তবে মদ্দাকথা যদি বলতে চাই তাহলে এটা বলতে পারব যে, এই ছয়টি বস্তুর সুন্দর সাম্যাবস্থার জন্যই আমাদের সব কিছুর ভারসাম্য বজায় আছে।

রোগের লক্ষণ, রোগীর আচরণ আর বইয়ের জ্ঞান থেকে এটা বুঝেছি যে সুন্দর ভাবে বাঁচার জন্য আমাদের এই রাসায়নিক ক্রিয়া সঠিকভাবে হওয়া জরুরি। আমার বেশি ভয় করে এটা জানার পর যে এই ক্রিয়ার নিয়ন্ত্রক হিসাবে আমার ভূমিকা বেশ নগন্য। সুতরাং, বার বার ভাবতে থাকি আমার রসায়ন যদি আমার অজান্তে পরিবর্তন হয় তাহলে আমিও হয়তো আমার পারিপার্শ্বিকতার সাথে বেমানান কাজ বেমালুম করে ফেলবো। আমার সহকর্মীরা হয়তো আমাকে চিকিৎসা দিবেন সেটা আবার ফিরিয়ে আনার জন্য।

– See more at: http://www.monerkhabor.com/featured/2016/07/31/6965#sthash.zsF5PR0z.dpuf




উচ্চরক্তচাপ !!!

১৷ উচ্চরক্তচাপ কি?

উচ্চরক্তচাপ একটি নিরব ঘাতক। কারও উচ্চরক্তচাপ আছে তা যদি সে না জানে, তবে কোন সতর্কবার্তা ছাড়াই এটি বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হতে পারে যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং কিডনি জনিত রোগ।
একটি মানুষের শরীরে রক্তের চাপ সারাদিন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হতে থাকে, এমনকি এটি প্রতি মিনিটে মিনিটে পরিবর্তন হয়। তাই দিনে শুধুমাত্র একবার রক্তচাপ পরিমাপ করলে শরীরে সঠিক রক্তচাপ নির্ণয় করা যায় না। রক্তচাপের এই পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে একজন রোগীর শারিরিক অবস্থা সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়।

 

২৷ ক্লিনিকে এবং বাসায় রক্তচাপ পরিমাপ করলে ফলাফলে পার্থক্য দেখায় কেন?

সাধারণত রোগী যখন ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে বা চেম্বারে যায় তখন বিভিন্ন দুশ্চিন্তায় মগ্ন থাকে যেমন কখন তার ডাক আসবে, কোন খারাপ রোগ হল কিনা, অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে কিনা ইত্যাদি।
অপরদিকে কোন রোগী যদি বাসায় রক্তচাপ পরিমাপ করে তার মধ্যে এই ধরনের দুশ্চিন্তা তুলনামূলক কম কাজ করে। আর যেকোন দুশ্চিন্তা রক্তচাপকে বাড়িয়ে দেয়। তাই ক্লিনিক বা হাসপাতালে রক্তচাপ পরিমাপ করলে তা বাসার তুলনায় বেশি দেখায়। এ ধরনের রক্তচাপের পার্থক্যকে “হোয়াইট কোট এফেক্ট’’ বলে।

 

৩৷ উচ্চরক্তচাপ এর লক্ষণঃ

কোন ব্যক্তির উচ্চরক্তচাপ থাকলেও সে বুঝতে পারে না তার এই রোগটি আছে কারণ, এটি বিশেষভাবে কোন লক্ষণ প্রকাশ করে না। যার কারণে এই রোগটি রোগীর অজান্তে তার ভেতরে বিভিন্ন জটিল রোগের সৃষ্টি করতে থাকে যেমন, হৃদরোগ, স্ট্রোক, হৃদপিন্ড এবং কিডনির অকার্যকারিতা এমনকি হার্ট এট্যাক।

নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি বুঝতে পারবে তার রক্তচাপ স্বাভাবিক আছে কিনা, যদি স্বাভাবিক না থাকে সেক্ষেত্রে সে ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, ফলে উচ্চরক্তচাপ জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

 

৪৷ উচ্চরক্তচাপ কি বংশগতভাবে হয়?

কোন ব্যক্তির বংশে কারও উচ্চরক্তচাপ না থাকলেও তিনি উচ্চরক্তচাপের বোগী হতে পারেন। উচ্চরক্তচাপ বিভিন্ন কারণে হতে পারে যেমন-

  • দুশ্চিন্তা
  • লিঙ্গ
  • অপর্যাপ্ত শারিরিক পরিশ্রম
  • বয়স বৃদ্ধি
  • অপর্যাপ্ত খাদ্য
  • অতিরিক্ত শারিরিক ওজন

৫৷ বাড়িতে নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপের গুরুত্বঃ

সাধারণত ডাক্তার ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য সেবক বাড়িতে রক্তচাপ পরিমাপের জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যাতে তারা বুঝতে পারে রোগী যে ঔষধ সেবন করছে, তাতে রোগীর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা।
রক্তচাপ পরিমাপের সঠিক নিয়ম হল আধঘন্টা বিশ্রাম নেয়ার পর বিশ্রামরত অবস্থায় রক্তচাপ পরিমাপ করা। সেক্ষেত্রে বাড়িতে রক্তচাপ পরিমাপ করলে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগটা পাওয়া যায় এবং পাশাপাশি দিনের যেকোন সময় রক্তচাপ পরিমাপ করা যায়। 

 

নিজের স্বাস্থ্য যত্নের সকল প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাবেন এখন অনলাইন বায়োমেড ফার্মেসীতে।