শুক্রবার, জানুয়ারী ১৯, ২০১৮

অপুষ্পক উদ্ভিদের ছায়ায় (পুরুষ ও মহিলাদের ইনফার্টিলিটি)

অপুষ্পক উদ্ভিদের ছায়ায় (পুরুষ ও মহিলাদের ইনফার্টিলিটি)

রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া তবু রাজার মনে কোন শান্তি নাই। কারণ রাজার কোন সন্তান নাই। রাজার প্রথম রানি তাঁকে সন্তান দিতে পারেন না, দ্বীতিয়জনও পারেন না , তৃতীয়জনও না , চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠজনও না।শেষে সবচেয়ে ছোট রাণি, সপ্তম রানির কোলে আসে ফুটফুটে এক রাজপুত্র। রাজা তখন বাকি ছয় রানিকে পাঠিয়ে দেন বনবাসে আর ছোট রানিকে নিয়ে সুখে শান্তিতে বাস করতে থাকেন।

এ গল্প কম-বেশী আমাদের সবারই জানা। কিন্তু জানা নেই কি ঘটল ঐ ছয় রানির যাদের রাজা পাঠিয়ে দিলেন বনবাসে। বনবাসে কেমন কাটল দিন তাদের দিন ?  ঠিক তেমনি আমাদেরও জানা নেই আমাদের চারপাশের হাজারো দুঃখী নারীদের কথা যারা বন্ধ্যাত্বের দুঃখে দুঃখিনি।

ওল্ড টেস্টামেন্টে ঈশ্বর সর্বপ্রথম যে কথাটা মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন তা হল, “Be fruitful and increase in number”। [Genesis 1:28] অর্থাৎ “ফলবান হও এবং সংখ্যায় বৃদ্ধি কর”। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে সন্তান জন্মদান এক ধরনের আশীর্বাদ। প্রায় সব ধর্মেই সন্তান জম্নের বিষয়টিকে  সুসংবাদ হিসেবে দেখা হয়। আমাদের দেশে ইনফার্টিলিটি একটা প্রবল সামাজিক সমস্যা।  এখনো শহর বা গ্রামগুলোতে লিনাজ বা বংশ রক্ষা একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সন্তানের আকাঙ্ক্ষা শুধু মাত্র মানসিক প্রশান্তির বিষয়ই না এই চাওয়ার সঙ্গে একটা অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। কারন এখনো আমাদের দেশে সন্তান বলতে ছেলে সন্তানকেই বোঝানো হয়। সবচাইতে মজার প্যারাডক্স হচ্ছে, বন্ধ্যাত্বের জন্য আমাদের দেশে শুধুমাত্র নারীদেরকেই দোষারোপ করা হয়। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে পুরুষ বন্ধ্যাত্বের  হার ৫০ শতাংশেরও বেশি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। এই হার স্ত্রীদের চেয়ে স্বামীদের মধ্যে অতি দ্রুত হারে বেড়েই চলছে। চিন্তার কারণ হলো, স্ত্রীদের বন্ধ্যাত্ব  হলে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব, কিন্তু পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব হলে ৭০-৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ চিকিৎসার মাধ্যমে এটা দূর করা প্রায় অসম্ভব।  তবে অগ্রসর চিকিৎসা যেমন টেস্টটিউব চিকিৎসা দিয়ে অনাকাংশেই সফল হওয়া সম্ভব।

কেন এই পরিণতি ? এক কথায় বলতে গেলে আমাদের জীবনযাপনের নেতিবাচক  প্রভাবের জন্যই এটা হচ্ছে। যৌনরোগকে এর প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করা যায়; তা ছাড়া ধূমপান, মাদকদ্রব্য সেবন, নেশাগ্রস্ত হওয়া, গরম কলকারখানায় কাজ করা, এক্স-রে মেশিনে কাজ করা, জমিতে কীটনাশক ব্যবহারে নিয়োজিত থাকা পুরুষদেরও বন্ধ্যাত্বে হয়ে থাকে। কারণগুলো এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; জন্মগত কারণে যেমন অণ্ডকোষে টেস্টিস না থাকা, অর্থাৎ জন্মকাল থেকেই পেটের মধ্যে অবস্থান করে যদি কোনো কারণে অণ্ডকোষে আসতে না পারে, তবে সেই ব্যক্তির সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষমতা থাকবে না। এমনকি পেটের মধ্যে অবস্থিত  টেস্টিসটিতে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গুটিবসন্ত, মামস, পোলিও, মিজেলস, এইচআইভি, এইচবিএস এজি, টিবি প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত হলে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কমে যায়।  মেইল ইনফার্টিলিটির কোন কন্সেপ্ট আমাদের গ্রাম-দেশে নাই। স্পার্ম কাউন্ট, স্পার্মের মেটালিটি ইত্যাদির সাথে যে  ইনফার্টিলিটির সম্পর্ক আছে তা তারাঁ বোঝেন না। তাই বন্ধ্যাত্বের জন্য চিরকালই আমাদের দেশে নারীই দায়ী!

প্রতি দশজন দম্পতির মধ্যে একটি পরিবারে বন্ধ্যাত্ব সমস্যা দেখা যায়। বাঙালির তুলনায় মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপে এ সমস্যা বেশি। আমাদের দেশের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যে পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব সমস্যা আরও বেশি। কারও বেশি, কারও খুবই কম। প্রত্যেকের সমস্যা ও সংকট আলাদা। নারী-পুরুষ উভয়ের হরমোনজনিত সমস্যা, নারীদের ডিম্বাশয় এবং জরায়ু গঠন থেকে শুরু করে ফ্যালোপিয়ান টিউবের জটিলতায় অনেকে স্বাভাবিক মিলনে সন্তান লাভে সক্ষম হন না। এছাড়া জরায়ুতে টিউমার হলে,যৌনাঙ্গে যক্ষ্মা হলে, এন্ডমেট্রিওসিস হলে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। শহরের দম্পতিদের বেহিসেবি জীবনযাপন থেকে শুরু করে গ্রামের নারীদের পুকুরে স্নান, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণও মা হওয়ার পথে বাধার কারণ হয়ে থাকে। বর্তমানে গর্ভাবস্থায় ধূমপান, মদ্যপান এবং দৌড়ঝাঁপ করার জন্যও গর্ভপাত হয়ে মাতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার হার অনেক বাড়ছে। থাইরয়েড গ্রন্হির অসুখ অনুর্বরতার কারণ হতে পারে। মেয়েদের বন্ধ্যাত্বের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে দায়ি ফ্যালোপিয়ন টিউবে বাধা, পলিসিষ্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। বেশি বয়সে বিয়ে এবং বিয়ের পরও  ক্যারিয়ার গড়ার জন্য দেরিতে সন্তান ধারণ করতে গিয়ে অনেক নারীই সহজে এবং স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণ করতে পারছেন না।

এ সমস্যা শুধু ঢাকার নয়, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লার মতো শহরে এবং গ্রামেও ঘটছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন এতটাই উন্নত হয়েছে যে সামান্য একটু চিকিৎসা করালেই দ্রুত বন্ধ্যাত্ব দূর হয়ে দম্পতিদের সন্তান প্রাপ্তি ঘটানো সম্ভব। আমাদের দেশের গ্রাম তো দূরের কথা, উপজেলা, জেলা শহরের হাসপাতালেও কোন ইনফার্টিলিটির চিকিৎসা ব্যাবস্থা নেই। তবে আশার কথা হচ্ছে সরকারী ভাবে উদ্যোগ না থাকলেও বাংলাদেশের বহু ডাক্তার এ বিষয়ে ভালো চিকিৎসা দিচ্ছেন। রোগীদের একটু সময় নিয়ে চিকিৎসা করাতে আসা উচিৎ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রয়োজনে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে ঠিকমতো ওষুধ, ইঞ্জেকশন নেয়া দরকার। আর একটি বিষয় বলা দরকার তা হল, ধৈর্য ধরে চিকিৎসা করানো। আইভিএফ বা টেস্ট টিউব বেবি, ইকসি অথবা আইইউআই চিকিৎসা করানোর জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম এবং নীতি মেনে চিকিৎসা করাতে সময় এবং ধৈর্য দুই-ই প্রয়োজন।

myth_01

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে শুধু স্বামী দায়ী, ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে শুধু স্ত্রী দায়ী এবং ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই দায়ী। বন্ধ্যাত্বের কারণে  সন্তান ধারণে ব্যর্থতার কারণ অগণিত। কারণ যা-ই হোক, প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ চিকিৎসা বিদ্যমান।মূলত পুরুষ বন্ধ্যাত্বের মূলত জন্য চার রকম চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছেঃ

১.    মেডিসিন প্রয়োগজনিত চিকিৎসা।
২.    শল্য চিকিৎসা।
৩.    স্পার্মের মান উন্নয়নের নানা ব্যবস্থা।
৪.    অ্যাসিসট্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনিক (এআরটি)।

হরমোনজনিত ত্রুটির সমাধান করা যেমন লিউটিনাইজিং হরমোন, কোরিওনিক গোনাডোট্রফিন ইত্যাদির প্রয়োগ। এদেশেও  বর্তমানে এই ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ করা হচ্ছে। বর্তমানে এদেশে এসব উন্নতমানের ওষুধ পাওয়া যায়।স্পার্মের বিরুদ্ধে অ্যান্টিস্পার্ম অ্যান্টিবডির নিরসনের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্পার্মে বা রক্তে অ্যান্টিস্পার্ম অ্যান্টিবডির প্রকোপের পরিমাণ অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে এদেশেই নির্ণয় করা হচ্ছে। ফলে যথার্থ চিকিৎসা প্রয়োগও সম্ভব হচ্ছে। শল্য চিকিৎসায় মুখ্যত ভেরিকোসিল রিপিয়ার করা এবং অণ্ডকোষ থেকে স্পার্ম প্রবাহের পথ রুদ্ধ হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এর বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণই প্রধান। নানা কারণে স্পার্ম নির্ধারিত পথে প্রবাহিত না হয়ে উল্টোপথে মূত্রথলিতে চলে যায়, ফলে স্বাভাবিক স্পার্ম  হয় না। প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করে তা পুনরায় সঠিক পথে প্রবাহিত করা যায়।

প্রস্টেটগ্রন্থিতে যৌনরোগের জীবাণু বাসা বাঁধলে স্পার্মের মটিলিটি বা নড়াচড়ার মাত্রা খুব কমে যায়। ফলে পুরুষ নিষ্ফল হয়ে পড়ে। এ জন্য পুরুষের বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় যৌনব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শও একান্ত প্রয়োজন। কিছু ওষুধ যেমন ক্লামিফেন (অ্যান্টিঅ্যান্ড্রোজেন), ব্রোমোক্রিপটিন (অ্যান্টিপ্রলেকটিন), আরজিনিন, থাইরয়েড, স্টেরয়েড ইত্যাদি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসবের সঠিক প্রয়োগ বহু বন্ধ্যা পুরুষের জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছে।
যে সকল ক্ষেত্রে শল্য কিংবা মেডিকেল চিকিৎসা কাজে আসেনি সেখানে অ্যাসিসট্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনিক বা ‘এআরটি’র সাহায্য নেয়া হচ্ছে। মাত্র কয় বছর আগে এটা ভাবাই যেত না। নানা পদ্ধতির মধ্যে মুখ্যত একটি হলো আরটিফিসিয়াল ইনসেমিনেসন বাই হাসবেন্ড আর অন্যটি হলো বাই ডোনার। স্বামীর স্পার্ম , জরায়ুর মুখ অতিক্রম করে ভেতরে। আধুনিক পদ্ধতি যেমন GIFT, IFT, ZIFT, EIFTএসবে সফলতা আরো বেশি। তবে এ ধরনের চিকিৎসা কিছুটা ব্যয়বহুল এবং জটিল।

যেখানে প্রচলিত পদ্ধতি কাজ করে না বা স্বামীর স্পার্মে  সন্তান উৎপাদনের জন্য একান্ত প্রয়োজন শুক্রাণু পাওয়া যাচ্ছে না বা খুবই কম পাওয়া যাচ্ছে তাদের জন্যও উন্নততর কিছু পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। অণ্ডকোষ থেকে TESA, TESE ইত্যাদি পদ্ধতির মাধ্যমে স্পার্ম সংগ্রহ করে ICSI বা Intracytoplosmic sperm injection-এর মাধ্যমে স্ত্রীকে গর্ভবতী করা সম্ভব হচ্ছে। এসব অত্যাধুনিক ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি প্রতিদিনই বন্ধ্যা পুরুষের জীবনে অমিত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।

এ ছাড়া স্ত্রীর ডিম্বাণুর সাথে স্বামীর শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে স্ত্রীর জরায়ুতে সন্তান ধারণ করা হয়। আবার স্বামীর শুক্রকীট না থাকলে দাতার (donar) শুক্রকীট এবং স্ত্রীর ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করে সন্তান উৎপাদন করা হয়। যদি স্ত্রীর জরায়ু না থাকে কিন্তু ডিম্বাশয় আছে, তাহলে স্ত্রীর ডিম্বাণু এবং স্বামীর শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে অন্যের জন্য সন্তান ধারণে ইচ্ছুক ভাড়াটে মা-এর জরায়ুতে স্থাপন করে সন্তান উৎপাদন করা হয়। এ ধরনের ভাড়াটিয়া মাকে বলা হয় সারোগেট মা (Surrogate Mother)। আইভিএফ পদ্ধতির নানা কৌশল নিয়ে বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে অনেক দম্পতি টেস্টটিউব বেবির মাধ্যমে সন্তান গ্রহণ করছেন। টেস্টটিউব পদ্ধতিতে দুটি ভাগ আছে। একটি আইভিএফ (IVF), অন্যটি ইকসি (ICSI)। আইভিএফে স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণুকে প্রকৃতিগত পদ্ধতিকে বাদ দিয়ে একটি গ্লাসের পাত্রে মিলিত হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এ পাত্রটি একটি বিশেষ ইনকিউবেটরে রাখা হয় এবং সেখানেই নিষেক হয়ে ভ্রূণের সৃষ্টি হয়। এ পদ্ধতিতে একাধিক ডিম্বাণু তৈরি করা সম্ভব বলে একাধিক ভ্রূণ তৈরি হয়ে থাকে। তা থেকে সবচেয়ে ভালো মানসম্পন্ন তিনটি ভ্রূণকে স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়, যা পরে স্বাভাবিক গর্ভসঞ্চালনের মতোই বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ শিশু হয়। পদ্ধতিটির প্রসারিত নাম ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন। ভিট্রো একটি ল্যাটিন শব্দ যার ইংরেজি পরিভাষা গ্লাস। এই গ্লাসের পাত্রে নিষেক হয় বলেই এর নামকরণ হয়েছে টেস্টটিউব বেবি। ইকসি টেস্টটিউব পদ্ধতির আর একটি ভাগ। এ পদ্ধতিতে ডিম্বাণু সংগ্রহের পর একটি ডিম্বাণুর ভেতরে একটি শুক্রাণুকে ইনজেক্ট করে দেয়া হয়।

আইভিএফে একটি পাত্রে একটি ডিম্বাণুর সাথে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ শুক্রাণু ছেড়ে দেয়া হয়। তা থেকে একটি শুক্রাণু নিজ ক্ষমতাবলে ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করে। যখন শুক্রাণুর পরিমাণ অতি মাত্রায় কম থাকে কিংবা মোটেই থাকে না, তখন ইকসি করা হয়। স্পার্মে শুক্রাণু অনুপস্থিত থাকলে অণ্ডকোষ থেকে ছোট্ট অপারেশনের মাধ্যমে শুক্রাণু পরিপক্ব কিংবা অপরিপক্ব পর্যায়ে বের করে একটি বিশেষ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়। পরে ইনকিউবেটরে রাখা হয় এবং বাকি পর্যায় আইভিএফের মতোই। টেষ্টটিউব বেবি পদ্ধতি সম্পর্কে আজকাল কমবেশি সবার জানা।শরীরের ভেতরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলা হয় ইন ভিভো ফার্টিলাইজেশন, আর কৃত্তিম উপায়ে শরীরের বাইরে, পরীক্ষাগারে উপযুক্ত পরিবেশে এই নিষেক বা মিলন সফল হলেই তার নাম হলো ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন সাধারণ মানুষের কাছে, যা টেষ্টটিউব বেবি পদ্ধতি নামে পরিচিত। গোটা বিষয়টি তাই জেনেশুনেই রোগীদের  চিকিৎসা করাতে আসা উচিৎ।

বহুদিন আগের একটা ঘটনা দিয়ে শেষ করি। ছোট বেলায় যখনই দাদা বাড়ী যেতাম তখন শহর থেকে আমরা এসছি শুনে এক  বৃদ্ধা বুড়ী আমাদের দেখতে আসতেন। সেই বুড়ি আমাকে দেখেই ছড়া কাটতেনঃ

“একটা মাত্র মাছের পিছে কতশত পোনা

আমারে দিতে একখান পুতুল কে করছে মানা?”

ছেলেবেলায় শোনা  জরাক্লিষ্ট সেই বুড়ীর ছড়ার মানে সেইসময় বুঝিনি। কিন্তু এখন কানে বাজে তীব্র শেলের মতন আর শুনতে পাই আমাদের দেশের শহর আর গ্রামগুলোতে অগনিত নিঃসঙ্গ অপুষ্পকদের আওয়াজ!

ডা আঞ্জুমান আরা নিম্মি 
সহযোগী অধ্যাপক  (গাইনি অ্যান্ড  অবস )
বি আই এইচ এস  (BIHS) ডায়াবেটিক এবং জেনারেল হাসপাতাল ,
১২১।১, দারুস সালাম, মিরপুর-১ ঢাকা-১২১৬
এমবিবিএস, এসসিপিএস (গাইনি এন্ড অবস)
ফেলো এন্ড ডিপ্লোমা ইন মিনিমাল একসেস সার্জারি (ওয়ার্ল্ড ল্যাপারোস্কোপি হসপিটাল, দিল্লী ভারত)
অবস্ট্রেটিশিয়ান, গাইনেকোলজিস্ট এন্ড ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন
ল্যাপারোস্কোপি, হিস্টেরোস্কোপি এন্ড টিভিএস (চেন্নাই, দিল্লী, ভারত)
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ও ডায়াবেটিক রোগীদের চিকিৎসায় অভিজ্
রোবটিক সার্জারিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত
ইনফার্টিলিটি এবং আইভিএফ বিশেষজ্ঞ  (চেন্নাই, ভারত থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত)
চেম্বারঃ বায়োমেড ডায়াগনস্টিক সেন্টার,
নাভানা নিউব্যারি প্লেস  (৮ম তলা), ৪/১/এ, তল্লাবাগ (সোবহানবাগ), মিরপুর রোড, ঢাকা-১২১৫ 
image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন