বুধবার, মে ২৭, ২০২০

করোনা ভাইরাস কে কি আমাদের ধন্যবাদ জানানো উচিৎ?

করোনা ভাইরাস কে কি আমাদের ধন্যবাদ জানানো উচিৎ?

image_pdfimage_print

মানবিক(!!) বাংলাদেশের অমানবিকতার কদর্জ রুপ নগ্নভাবে প্রকাশ করে দেওয়ার জন্য??

এতকাল তো ডাক্তারদের দোষই দিয়ে গেলেন, ডাক্তারদের কথাও তো বিশ্বাস করতেন না, এবার একটু নিজেদের চেহারাডা দেহেন দেহি…

নিচের খবরগুলো পড়লেই বুঝতে পারবেন আপনি/আপনারা/আপনার আশেপাশের লোকগুলো কেমন?

খবর গুলো পড়তে পড়তেই হয়তো আপনাদের মনে ভেষে উঠবে কিছু জিঘাংসা, কিছু ঘৃণা, কিছু অদম্য ইচ্ছে, এই বিষাক্ত, নর্দমার কীটগুলোর প্রতি। কিন্তু এইসব হায়ওয়ান জীবগুলোকে নিয়েই আমাদের প্রতিনিয়ত হাসপাতালে উঠাবসা করতে হয়।

কিছু উদাহরণ শুনবেন? শুনুন…

উদাহরণ-
অল্প বয়স্ক প্রসূতি মহিলা, চেহারা ফ্যাকাশে, পেটে বাচ্চা, ব্যাথায় কাঁতরাচ্ছে, সাথে কিছু ধুমসি মহিলা, নির্বিকার ভঙিতে পান চিবাচ্ছে, আর কিছু তথাকথিত পুরুষরুপি জানোয়ার, গলা চড়ায়ে –ডাক্তার কই? কহন হাসপাতালে আইসি(আসছে কিন্তু কেবলই), অহনো আইতাছে না ক্যান? ডাক্তার আসলেন, পরীক্ষা করে দেখলেন, অবস্থা করুণ, বাসায় টানাহেঁচড়া করে বাচ্চা আর মায়ের বারোটা বাজায়ছে, সাথে রক্তক্ষরণও হয়েছে কোথাও, মনে হয় জরায়ু ফুটো করে ফেলছে।

ডাক্তারঃ প্রসব ব্যথা কখন থেকে উঠছে?

রোগীর সাথের মহিলাঃ ওই… গত ফরশু, মাইয়াডা শুধু ঢং মারায়, আংগোর কি আর বাচ্চা হয়নি?

ডাক্তারঃ (ওটিতে নিয়ে পরীক্ষা করার পর) রোগীর অবস্থা খারাপ করে নিয়ে আসছেন, জড়ায়ু ফেটে গেছে, এখনি অপারেশন করতে হবে। আর শরীরে রক্ত নাই, ৫ ব্যাগ রক্ত আপাতত লাগবে, ৩ ব্যাগ এখনি নিয়ে আসেন।
জানোয়ারগুলোঃ যা করার আফনারাই করেন, হাসপাতালত লই আইসি কিল্লাইগ্যা?

(লোকজন কমা শুরু করছে)

ডাক্তারঃ আমাদের যা করার সেটা তো করবোই, কিন্তু রক্ত তো আপনাদেরই যোগাড় করতে হবে। আপনাদের সাথে তো অনেকজন আছেন, যান সবার টেস্ট করান।

(এইবার তো ভাগবেই চান্দু… এখন লোক ১-২ জন, এদের ভেতর ১ জন অবশ্যই মা, মমতাময়ী মা)

এদিকে কসাই ডাক্তাররা ওই জানোয়ারদের আশায় বসে নেই, কিছু জুনিয়র চিকিৎসক কসাই আর ইন্টার্ন কসাই গুলো অলরেডি রক্ত যোগাড়ের জন্য দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিয়েছে। ম্যাচ করলে নিজের শরীর থেকে দিচ্ছে তারা।
কারণ, একজন মাকে তো বাঁচাতে হবে, একজন অনাগত পৃথিবীবাসিকে বাঁচাতে হবে, একজন মমতাময়ী মায়ের গর্ভবতি সন্তানকে তো বাঁচাতে হবে।

১-২ ঘন্টা পর,

জানোয়ারগুলোর পদার্পনঃ এই লন ১ ব্যাগ অক্ত, আর পারুম না, যা করার আফনারাই করেন, সরখারি হাসপাতালত আনছি কিল্লাইগ্যা??

কিছু ওষুধও তো লাগবে, নিয়ে আসেন…

আবার ওষুধ!!! সব তো বেঁচে খাই লইছেন। পারুম না আনতে। যা করার করেন, বাঁচা-মরা সব আল্লার হাতে (এহহ…খুব বুজুর্গ আইসে গেছে, হারামীগুলোর তো নিজের কেউ না!!!)

অতঃপর আবার কসাইদের দৌড়াদৌড়ি, কার কাছে কি স্যাম্পল আছে দেখ, এই কোম্পানিকে ফোন, ওই কোম্পানিকে ফোন। বাঁচাতে তো হবে!!!

অতঃপর অপারেশন পর্ব…

কোথাও কেউ (জানোয়ার) নেই… আছে কেবল মমতাময়ী মা আর অসহায় বাবা…করজোড়ে প্রার্থনারত,সাথে বইছে অশ্রুধারা… আর আছে মানুষরূপী কিছু কসাই, যারা জান-প্রাণ দিয়ে খাটছে একটা ফুলকে বাঁচাবে বলে…

অপারেশন পরবর্তি দৃশ্য-

জানোয়ারগুলোর আগমন… এবং
ক) যদি অপারেশন সাকসেসফুল হয়, বাচ্চা ঠিক আছে তো? অপারেশন ঠিকমতো হইছে তো? বাচ্চারে অক্সিজেন দিছে? (অক্সিজেন তোর হান্দামু আয়, উজবুক কোথাকার!!) চারপাশে এত গন্ধ কেন?? পরিস্কারও করে না ঠিকমতো। থুঃ… (পানের পিক ফেললো হারামীটা) ডাক্তার গুলোতো বদ, চাপ না দিলে কিছুই করে না ঠিকমতো… বাংলাদেশের ডাক্তর…হুহ… একবার ইন্ডিয়ায় গেছুনু বুইজলেন…সেকি পয়-পরিস্কার হাসপাতল…

অথবা,

খ) যদি রোগীকে বাঁচানো না যায়… কিহঃ রোগিকে মাইরা ফেলছে??? ধর শালাদের… আইজ তোর একদিন কি আমার একদিন… ভাং, সব ভাইঙ্গা ফেল… আগে হারামজাদা ডাক্তররে পিডা…

কিন্তু, ২ ক্ষেত্রেই রোগীর বাবা-মা, যারা সবসময় কাছে ছিলো… আল্লাহ ডাক্তরদের ভালা রাখুক, কত কষ্ট কইরছে আমার মাইয়াডারে বাঁচানোর লগে…ডাক্তারগো কুনও দোষ নাই…দোষ আমাদের কপালের… (যাওয়ার সময় ডাক্তারের মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করে যান, বিশ্বাস করেন …এই দোয়ার জন্যই আল্লাহ আমাদের ভালো রাখেন, আপনাদের এত এত বদদোয়া সত্বেও)

এরকম শত শত কদর্জ উদাহরণ রয়েছে প্রত্যেক চিকিৎসকের ঝুলিতে।

ও বাংলার সুশীল জনতা… শোন… প্রতিনিয়ত হাসপাতালে এরুপ মানুষরূপী জানোয়ারদের নিয়েই বাংলার চিকিৎসকদের চলতে হয়। আর তোমরা আসো আমাদের মানবতা শেখাতে, ভালো ব্যবহার শেখাতে… না??? এহ… কত কথা… নিজেদের দিকে কখনো নজর দিয়েছো? আয়নায় নিজের মুখটা দেখেছো? হাসপাতালে আইসা কি লাইন ধরে চিকিৎসা লও ? নাকি হেডম দেহায় আগে ঢুইকা যাও? …

একটা গোপন কথা বলি, শোনেন… আপনারা যখন ওইসব সুশীল মার্কা কথা বলেন না? তখন আমরা ডাইরেক্ট লাইন করে রাখি। কিসের ডাইরেক্ট লাইন, জানেন? কানের, সোজা এই কান থেকে ওই কান, অতঃপর বাহিরের নর্দমায়।

মন্ত্রি-আমলা-কর্মকর্তা-ভিআইপি-সুশীল সাথে আর যেগুলান আছে, সবগুলারে বাধ্যতামূলক সরকারী হাসপাতালে লাইন ধরে প্রটোকল ছাড়া চিকিৎসা নেওয়ালেই সব সুশীলতা কই যে যাইবো… খোদা মালুম!!!

আচ্ছা এতক্ষন নাহয় ঠাকুমার ঝুলি থেকেই আপনাদের কেচ্ছা শোনালাম, এবার লাইভে আসেন… কমেন্টের খবর গুলোয় একটুখানি চোখ বুলান দেখি… কত কত ভালো আপনারা…এগুলো তো শুধু নমুনা!!! খুজলে আরো কত পাওয়া যাবে…

করোনা আর যাই করুক, আমাদের আশেপাশের মানুষরূপী জানোয়ারগুলোর মুখোস খুলে দিয়ে গেল…

আল্লাহ সবাইকে হেফাজতে রাখুক…

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন