রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০

জ্বর হলেই করোনা নয় – পর্ব ২

জ্বর হলেই করোনা নয় – পর্ব ২

image_pdfimage_print

নোভেল করোনা১৯ ভাইরাস এবং কোভিড১৯ নিয়ে সাধারণ মানুষের কতটুকু জানা দরকার?

নোভেল করোনা১৯ ভাইরাস, বৃহত্তর করোনা ভাইরাস পরিবারের নতূনতম সদস্য বিধায় পরিপূর্ণ তথ্য এখনো বিজ্ঞানীরা জানতে পারেননি, তবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গবেষণা চলছে। কিছু কিছু প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা ইতিমধ্যে পেয়েছি। পাশাপাশি, অবাধ তথ্য প্রবাহের এই যুগে এই ভাইরাস নিয়ে প্রচুর বিভ্রান্তিকর তথ্যও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যার ফলে মানুষের মধ্যে এক ধরণের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। যে কোন রোগের মহামারী নিয়ন্ত্রণে এ ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য ক্ষতিকর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজকের এই লেখায় তাই শুরুতেই কিছু ভুল তথ্যের ব্যাপার তুলে ধরছি।

নভেল করোনা১৯ ভাইরাস সব দেশে, সব অঞ্চলেই ছড়াতে পারে। গরম ও আদ্র জলবায়ুর (Hot and humid climate) এলাকায় ছড়াবে না এমন কোন কথা নাই। শীত ও তুষারপাতের দেশেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। শীতের ঠাণ্ডা এই ভাইরাসকে মারতে পারে না। বাইরের আবহাওয়া যাই থাকুক না কেন, সুস্থ মানুষের শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ৩৬.৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যেই থাকে।

গরম পানিতে গোসল করলে নভেল করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে কারো কারো মনে যে ধারণা জন্মেছে তা সঠিক নয়।
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মশার কামড়েও এই ভাইরাস ছড়ায় না। নভেল করোনা ভাইরাস ধর্ম-বর্ণ-গোত্র চেনে না, যে কোন মানুষকেই আক্রমন করতে পারে।

এই কারণে, নভেল করোনা ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় তা জানা জরুরী। ধারণা করা হয়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চীনের উহান শহরের কোন একটা সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণীর বাজার থেকে ভাইরাসটি প্রাণীর দেহ থেকে কতিপয় মানুষের দেহে প্রবেশ করেছিল। তারপর থেকে এক মানুষের কাছ থেকে অন্য মানুষের কাছে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।

যেভাবে ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে:

– সাধারণত এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে এলে
– ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের হাঁচি-কাশিতে ছড়ানো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দানার (ড্রপলেটস) সংস্পর্শে এলে
– ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি নি:সৃত ড্রপলেট কোন বস্তু বা পৃষ্ঠতলে (surface) লেগে থাকলে অন্য কোন ব্যক্তি যদি তা স্পর্শ করেন এবং পরবর্তীতে ভাইরাসযুক্ত সেই হাত দিয়ে যদি নিজের নাক-চোখ-মুখ স্পর্শ করেন তবে সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটি প্রবেশ করতে পারে। সাধারণত কোন পৃষ্ঠতলে এই ভাইরাসটি এই ভাইরাসটি কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত বাঁচতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নভেল করোনা১৯ ভাইরাস দ্বারা রোগের নামকরণ করা হয়েছে কোভিড১৯। কারো শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করলে কোভিড১৯ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে ২ থেকে ১৪ দিন সময় লাগতে পারে।

কোভিড১৯ রোগের লক্ষণসমূহ:

এই রোগের সাধারণ লক্ষণসমূহ হলো জ্বর, ক্লান্তি এবং শুকনো কাশি। এছাড়াও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে গায়ে ব্যথা, সর্দি, নাক বন্ধ থাকা, গলা ব্যথা বা পাতলা পায়খানা থাকতে পারে। লক্ষণসমূহ সাধারণত মৃদু আকারে শুরু হয় এবং আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। আক্রান্ত রোগীদের শতকরা আশি ভাগই তেমন কোন চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তারা লক্ষণভিত্তিত ওষুধ যেমন জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল, সর্দি-কাশির জন্য এন্টি হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। আক্রান্ত প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজনের অবস্থা জটিল হতে পারে এবং দেহে শ্বাসজনিত জটিলতা হতে পারে। বয়স্ক মানুষ কিংবা যাদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার জাতীয় অসুখ আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগ জটিল হতে পারে। শরীরে নভেল করোনা১৯ ভাইরাস ঢুকলেই যে একজন কোভিড১৯ রোগে আক্রান্ত হবেন, তা সত্যি নয়।

আমাদের মনে রাখা জরুরী, শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করলেও সবারই শরীরে কোভিড১৯ রোগের লক্ষণ দেখা যাবে না এবং অনেকেই সুস্থ থাকবেন।

(চলবে)

জ্বর হলেই করোনা নয় – পর্ব ৩

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন