মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

আনএক্সপ্লেইন্ড প্রেগন্যান্সি

আনএক্সপ্লেইন্ড প্রেগন্যান্সি

image_pdfimage_print

টার্মটা নতুন লাগছে? হ্যা নতুনই। আনএক্সপ্লেইন্ড ইনফার্টিলিটি যদি থাকতে পারে তাহলে আনএক্সপ্লেইন্ড প্রেগন্যান্সিও থাকতে পারে।

স্বামী স্ত্রী দু’জনারই বিন্দুমাত্র কোন সমস্যা না থাকার পরেও অর্থাৎ বিনা কারনেই যদি বাচ্চা না হয়ে থাকে তবে তাকে আনএক্সপ্লেইন্ড ইনফার্টিলিটি বলে। এই কারনবিহীন ইনফার্টিলিটিরও স্টেপ বাই স্টেপ চিকিৎসা হয়ে থাকে। এদের আপাতদৃষ্টিতে কোন কারন নেই মনে হলেও মলিকুলার লেভেলে কারন থাকতে পারে। যেমন স্পার্ম ওভাম ইন্টার‍্যাকশনে সমস্যা হলে। স্পার্মের কারনেই হোক বা ওভামের কারনেই হোক স্পার্ম ওভামের যোনা পেলুসিডা ভেদ করে প্রবেশ করতে পারেনা। বা পারলেও স্পার্ম বা ওভামের কোন প্রোটীন ডেফিসিয়েন্সির জন্য নিষেক ঘটেনা। এইসব কারন খুঁজে পেতে হলে আই ভি এভ করতে হবে। তাই এই ব্যয়বহুল পর্যায়টি আর ইনভেস্টিগেশনের মধ্যে না রেখে সরাসরি চিকিৎসাতে চলে যাওয়া হয়। তাই আনএক্সপ্লেইন্ডদের আই ভি এফ এ ফার্টিলাইজেশন ফেইলিওর এর ঝুঁকি এড়াতে ইকসি করা হয়। যদি ইকসিতেও ফার্টিলাইজেশন না হয় তাহলে হয় স্পার্ম নয় ওভামে কোন প্রোটীন ডেফিসিয়েন্সি থাকে। মাউস স্টাডিতে তাও আবিষ্কার হয়েছে এবং প্রোটীন রিপ্লেস করে ফার্টিলাইজেশন সম্ভব হয়েছে (গবেষণাধীন) এক সেমিনারে গবেষকের প্রেজেন্টেশন অনুযায়ী।

যে কারনেই ইনফার্টিলিটি হোক না কেন তার কোন্ চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে বাচ্চা হোল সেটা আমরা নোট করে রাখি। যেমন ওভুলেশন ইন্ডাকশন, ল্যাপারোস্কোপী, ড্রিলিং, সিস্টেকটোমী, আই ইউ আউ, এ আর টি ইত্যাদি। কিছু কিছু পেশেন্ট দেখা গেল প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য বা চিকিৎসা শুরু করার জন্য মাসিকের অপেক্ষা করছে কিন্তু মাসিক হচ্ছে না। ঐ অবস্থায় আবার এল এবং পরীক্ষা করে দেখা গেল যে প্রেগন্যান্সি। দশ বছর, ১২ বছর পর্যন্ত বাচ্চা না হওয়ার রেকর্ড আছে এমন মানুষও আছে। আমার সহকারীরা বুঝে উঠতে পারছিল না যে কোন পদ্ধতিতে প্রেগন্যান্সি হয়েছে বলে রেকর্ড করবে। আমি নামকরন দিলাম “দর্শনে প্রেগন্যান্সি “। আমাদের দেখেই প্রেগন্যান্সি হয়ে গেছে। বিপত্তি হোল ঐ গ্রুপকে নিয়ে যারা দীর্ঘদিনের ইনফার্টিলিটিতে ভুগে নানান জায়গায় চিকিৎসা করে সব চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়ে আমাদের কাছে এল এবং আমরা প্রথম দিনেই আল্ট্রাসনোতে ডেফিনিটিভ প্রেগন্যান্সি স্যাক বা অতি ক্ষুদ্র স্যাক সন্দেহ করে বিটা এইচ সি জি দিয়ে প্রেগন্যান্সি সনাক্ত করলাম। তাদের কি পদ্ধতির নামকরন দেয়া যায়? এ তো বাতাস লেগে প্রেগন্যান্সি হবার মত অবস্থা। পেশেন্টের কাছেও অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। কেউ কেউ আনন্দের আতিশয্যে কান্নায় ভেঙ্গে পরে। ধন্যবাদ দিতে দিতে অস্থির হয়ে যায়। আরে আমরাতো কিছুই করিনি। কেউ কেউ তিনমাস, চারমাস অপেক্ষার পরে দেখাতে পেরেছে। তাই এগুলোর নামকরন দিলাম “শ্রবনে প্রেগন্যান্সি “।আমাদের কথা শুনেই প্রেগন্যান্সি হয়ে গেছে।

এর বেশীরভাগই আনএক্সপ্লেইন্ড ইনফার্টিলিটির পেশেন্ট এবং প্রেগন্যান্সিগুলোও আনএক্সপ্লেইন্ড। কারো কারো সব চিকিৎসা শেষ করে আই ভি এফ পর্যন্ত করা হয়ে যায় তাও প্রেগন্যান্সি হয় না। কিন্তু সবশেষে হতাশ হয়ে যখন চিকিৎসা বাদ দিয়ে বসে থাকে তখনই প্রেগন্যান্সি হয়ে যায়। সেটা যে শুধু আনএক্সপ্লেইন্ড দের হয় তা নয়। এজোস্পার্মিয়া এবং বাইল্যাটারাল টিউবাল ব্লক বাদে যে কারও হতে পারে। এমনকি ক্ষীন সম্ভাবনাময় যারা তাদেরও হয়।

আর এসকল প্রেগন্যান্সিগুলো এতদিন এত চিকিৎসায় কেন হয়নি আর এখন বিনা চিকিৎসায় কেনইবা হোল এর কোন ব্যাখ্যা নেই। তাই এদের প্রেগন্যান্সি আনএক্সপ্লেইন্ড এবং মিরাকল।।

সকল প্রেগন্যান্সিই মিরাকল এবং আল্লাহর দান।

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন