বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১, ২০১৯

Squeezing the ovaries

Squeezing the ovaries

image_pdfimage_print

ওভারীকে নিংড়ানো। হ্যাঁ সময়টা এখন এমনই যে ওভারীকে নিংড়িয়ে এগ বের করতে হয়। একসময়ে বলা হোত যে গত ষাট বছর ধরে উল্লেখযোগ্য কারন ছাড়াই পুরুষদের স্পার্মের কাউন্ট কমে যাচ্ছে। এখন সময় এসেছে এ কথা বলার যে উল্লেখযোগ্য কারন ছাড়াই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেয়েদের অতি অল্প বয়সে ডিম্বানুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। আর উল্লেখ করার মত অসংখ্য কারনতো আছেই।

যখন আই ভি এফ এর কাজ শুরু করি তখন বই পুস্তক বলত মিনিমাম তিনটা ফলিকল এবং এস্ট্রোজেন লেভেল ৫০০ পিকোগ্রাম না হলে সাইকেল ক্যান্সেল করে দিতে। এখন আর তা বলে না। বিশেষ করে এগ ডোনেশন যে সমাজে এলাউড নয় সেখানে বলা হয় ওভারী নিংড়িয়ে এগ আনতে হবে। হোক তা একটা।

এমন কাহিনী বেশ কতগুলো হলেও একটির গল্প শুনি।

মিসেস এক্স ২০১২ সালে আসেন বিশাল এডিনোমায়োমা নিয়ে, যাকে ডিফিউজ এডিনোমায়োসিস বলা হয়। ইনফার্টিলিটিতো ছিলই, সাথে সিভিয়ার ডিজমেনোরিয়া (মাসিকের সময়ে ব্যথা) ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরন।

জবেহ করা গরু কখনও ফিরে এসে বলেনি যে জবাই এর সময় তার কেমন ব্যথা ছিল। শুধু চোখের কোনায় পানি জমা দেখে আমরা তার কষ্টের বহিঃপ্রকাশ অনুমান করতে পারি। কিন্তু এই রকম এডিনোমায়োসিসের পেশেন্ট ব্যথার ব্যাখ্যা এভাবে দিয়েছেন যে, ” গরু জবাই করলে যে রকম ব্যথা লাগে সেই রকম ব্যথা”। যে ব্যথা কোন পেইন কিলারে সারে না। যা তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যহত করছে।

এই পেশেন্টদের মুক্তি দেবার একমাত্র উপায় জরায়ু ফেলে দেয়া। পরে স্যারোগেসীর মাধ্যমা বাচ্চা নেয়া। কিন্তু আবারও যে সমাজে স্যারোগেসী এলাউড নয়, অথবা যদি তাকে নিজ জঠরে বাচ্চা বহন করার তৃপ্তি দেয়া যায় সেই চেষ্টায় সার্জারী করা যেতে পারে। কিন্তু যার সম্পূর্ন মায়োমেট্রিয়াম এন্ডোমেট্রিয়াল টিস্যু দিয়ে রিপ্লেসড হয়ে গেছে তার সার্জারী কিভাবে হবে?

২০০৫ সালে জাপানী সায়েন্টিস্ট গাইনোকলজিস্ট ওসাদা দেখালেন ট্রিপল ফ্লাপ মেথডে কিভাবে এই ইউটেরাসের সার্জারী করা যায়। তখন থেকে শুরু করলাম এই সার্জারী। ইউটেরাসকে দ্বিখন্ডিত করে তালের শাসের মত মায়োমেট্রিয়াল লেয়ার ফেলে দিয়ে রিকন্সট্রাকশন করা হয়। খুব স্বাভাবিকভাবেই দুই টিউবই কাটা পরে যায়। টিউব ভাল থাকলে রিইম্পলান্ট করা যায়। অত্যন্ত ধৈর্যের একটি অপারেশন। ৪-৫ ঘন্টায় কোমড় ও পিঠ ব্যথা হয়ে যাবার মত অপারেশন। কলম্বাসের সহচরদের মত সার্জনের সহকারীদের মুখের হাবভাব দেখলে মনে হোত পারলে সার্জনকে ফেলে তারা চলে যায়।

ফলাফল ড্রাম্যাটিক ব্যথামুক্ত মিন্সট্রুয়েশন এবং স্বাভাবিক রক্তক্ষরন। তবে এদের বেশীর ভাগের জন্যই আই ভি এফ বাঞ্চনীয়।

মিসেস এক্স এর ২০১২ সালে ৩২ বছর বয়সে সার্জারী করা হয়। ৬ মাস পরে আই ভি এফ এর উপদেশ দেয়া হলেও সে আর দেখা করেনি। বহুদিন পরে ব্যথার এমন নিরসন এবং স্বাভাবিক রক্তক্ষরন দেখে ফ্যামিলির সবাই প্রচন্ড আশাবাদী ছিল যে স্বাভাবিকভাবে বাচ্চা হবে। কিন্ত টিউব ছাড়া তাই কি হয়? অবশেষে ২০১৮ সালে এলেন আই ভি এফ করতে যখন তার ওভারীযুগল প্রায় ডিম্বানু শুন্য। এ এম এইচ মাত্র ০.৩। যে প্রোফাইলে এগ ডোনেশন ছাড়া কেউ কথাই বলবে না। সম্ভাবনা ক্ষীন জানা সত্ত্বেও আই ভি এফ করলেন। মাত্র দু’টো এগ পাওয়া গেল। দু’টো ভাল এম্ব্রায়ও হোল। প্রেগন্যান্সি হোলনা। এই বয়সে অন্তত: ১৬ টা এগ প্রয়োজন একটি ইউপ্লয়েড (ক্রোমোজোমালী স্বাভাবিক) এম্ব্রায়ও পেতে।

ওভারী নিংড়িয়ে সেই একটি এম্ব্রায়ও পেতে সে মরিয়া হয়ে উঠল। এদের জন্য ডিওস্টিম স্টিমুলেশন সিস্টেমে মাসে দু’বার এগ কালেকশন করে জমিয়ে জমিয়ে এম্ব্রায়ও র নাম্বার বাড়িয়ে তিন চারটে একসঙ্গে ট্রান্সফার করা যায়। কিন্তু তাতে খরচ আরও বেড়ে যায়। তাই তিনি আবারও একটি বা দু’টি এগ এর আশা নিয়েই করলেন ২০১৯ সালে যখন তার বয়স ৩৯. এবারে মাত্র একটি ফলিকল থেকে একটি এগ পাওয়া গেল। একটি ভ্রূন এবং একটি প্রেগন্যান্সি হোল। প্রিন্যাটাল টেস্টে স্বাভাবিক প্রেগন্যান্সি এবং ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশন সহ ৩৭ সপ্তাহ অতিবাহিত করে সুস্থ পুত্র সন্তান লাভ। (ফটো এলাউড নয়)।

অনেক অনেক নেগেটিভ রেজাল্টে যখন চিকিৎসকের মন ভেঙ্গে দুমরে মুচড়ে যায় তখন এমন প্রেগন্যান্সি আবার ভাঙ্গা মন জোড়া দিতে সাহায্য করে।

এমন সার্জারীর পরে ওভারীয়ান রিজার্ভ ট্রিমেন্ডাসলি কমে যায় বলে এখনকার স্ট্রাটেজী হোল আগে আই ভি এফ, এম্ব্রায়ও ফ্রিজিং এবং পরে সার্জারী ও ফ্রজেন এম্ব্রায়ও ট্রান্সফার। উল্লেখ্য, এই প্রক্রিয়া এখনও বহুল প্রচলিত নয়।

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন