মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

জনসংখ্যা রোধ

জনসংখ্যা রোধ

image_pdfimage_print

কালাম, রেহানা, শাহানা এবং এমন আরও অনেকেই আছে যারা গর্বিত ৩-৪ সন্তানের জনক জননী। অথচ প্রতিনিয়ত তাদের সাহায্যের দরকার হয় ছেলেমেয়ের নামকাওয়াস্তা পড়াশুনা কিংবা পোশাক পরিচ্ছদের জন্য। যখন প্রশ্ন করি যে মানুষের কাছে হাত পেতেই যদি বাচ্চাকে বড় করতে হয় তাহ’লে এতগুলো বাচ্চা নেয়া কেন? সকলেরই জবাব একটাই “আল্লাহ্‌ খাওয়াবে”। এই শ্রেনীর কোন জন্ম নিয়ন্ত্রন নেই। তাই অবাধে বেড়ে চলেছে এই জনশক্তিহীন অথর্ব জনসংখ্যা। জন্ম হচ্ছে নয়নবন্ডদের মত অপশক্তিশালীদের।

এইসব কালাম, রেহানা, শাহানার সাথে যুক্ত হয়েছে আমাদের মেহমানরা। শুনেছি প্রতিদিন গড়ে ১২৫ টি রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে।

কেমন করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন করতে হয় দেখিয়ে দিয়েছে আজকের বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী দেশ চায়না। ১৯৮০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত “একটি সন্তান” পলিসির ফলে ৪০০ মিলিয়ন জন্ম রোধ করেছে। বাবা ডিজএবল হলে, মা এবং বাবা একমাত্র সন্তান হলে এবং বাচ্চাটি শারিরীক বা মানসিক প্রতিবন্ধী হলে কেবলমাত্র তখনই দরখাস্ত করে দ্বিতীয় বাচ্চা নিতে হোত, তাও ৩-৪ বছরের বার্থ স্পেসিং দিয়ে। আর গ্রামাঞ্চলে প্রথম বাচ্চা মেয়ে হলে দ্বিতীয়টি এলাউ করা হোত একই পদ্বতিতে। অমান্যকারীকে হারাতে হোত সরকারী চাকুরী, দিতে হোত অর্থদন্ড যার নাম ছিল “Social child-raising fee” বা “Family planning fee”, এবং বন্ধ করে দিত ছেলেমেয়ের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধা। তিন বাচ্চা জন্মদানের জন্য একজনকে ফাইন দিতে হয়েছে ১.২ মিলিয়ন ডলার। জন্ম নিরোধের জন্য যে কপার টি ব্যবহার করত তা খুলতে প্র‍য়োজন হোত সার্জারীর। অর্থাৎ চাইলেই যে কেউ টান মেরে খুলে ফেলে পারত না।

কিছু অবাধ্যরা ফার্টিলিটি ট্রিটমেন্ট করাত জমজ বাচ্চা নেবার জন্য। আবার বিদেশে গিয়েও দ্বিতীয় বাচ্চা নিত কেউ কেউ, বিশেষ করে হংকং এ।

এই দীর্ঘ ৩৫ বছরের নিয়মের জন্য যারা একা একা মানুষ হয়েছে তাদের মধ্যে অটোম্যাটিকালী বীজ বপন হয়ে গেছে একটি সন্তানের। তাই ২০১৬ থেকে দুই সন্তান পলিসির প্রবর্তন করলেও এখনও অধিকাংশই আর এ পলিসি গ্রহন করতে পারছে না। তারা একটি সন্তান নিয়েই সুখী।

জনসংখ্যার ভারে নুহ্য বাংলাদেশের জন্য একটি সন্তান পলিসির প্রবর্তন করা একান্ত আবশ্যক।।

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন