বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯

এ্যানজিওগ্রাম কি?

এ্যানজিওগ্রাম কি?

image_pdfimage_print

করোনারী এ্যানজিওগ্রাম ( Coronary Angiogram) ,যা আমরা সংক্ষেপে এ্যানজিওগ্রাম বলে থাকি, হার্টের রক্তনালীর ব্লক নির্ণয়ে শতভাগ নিশ্চিত একটি পরীক্ষা। রক্তনালীর ব্লক হলে হার্টের মাংসপেশিতে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত যেতে বাঁধাগ্রস্ত হয়। যদি এই ব্লক ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তাহলে রোগী একটু পরিশ্রম করলে বুকে ব্যথা, চাপ, বা শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। এবং বিশ্রাম নিলে আরাম বোধ করেন। এটাকে বলে এ্যানজাইনা (Angina)।
যদি বুকে হঠাৎ তীব্র ব্যথা , শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, শরীর ঘেমে যায়, রোগী আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন তাহলে বুঝতে হবে হয়ত কোন রক্তনালী হঠাৎ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এটাকে আমরা বলি হার্ট এ্যাটাক ( Heart attack) । এটি একটি জীবনবিপন্নকারী মারাত্মক রোগ। মানুষের মৃত্যুর যত কারণ আছে তারমধ্যে হার্ট এ্যাটাকই হচ্ছে সর্বপ্রথম এবং প্রধান কারণ।
অর্থাৎ এ্যানজাইনা বলি আর হার্ট এ্যাটাকই বলি দুটোই রক্তনালীর ব্লক থেকে হয়ে থাকে। কিন্তু দুটোর কারণ , উপসর্গ এবং চিকিৎসা প্রায় আলাদা ধরণের। তবে উভয় ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয়ের একমাত্র শতভাগ নিশ্চিত যে পরীক্ষাটি তা হচ্ছে এ্যানজিওগ্রাম। কিন্তু এ্যানজাইনার ক্ষেত্রে সেটি হচ্ছে রুটিন এ্যানজিওগ্রাম যা যেকোন সুবিধাজনক সময়ে করা যায়। আর হার্ট এ্যাটাকের ক্ষেত্রে সেটি হল জরুরি এ্যানজিওগ্রাম ( urgent angiogram)। অর্থাৎ জরুরি এ্যানজিওগ্রাম করার উদ্দেশ্য হল ব্লক নির্ণয়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বেলুন বা রিং ( Stent) এর মাধ্যমে অপসারণ করা। এটাকে বলে জরুরি এ্যানজিওপ্লাস্টি ( Primary angioplasty/ PTCA)। রোগীর লোকজন অনেক সময় জরুরি এ্যানজিওগ্রামের উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব বুঝতে পারেন না। তাঁরা ভাবেন হার্ট এ্যাটাকের মধ্যে এ্যানজিওগ্রাম না করে প্রথমে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করে পরবর্তী সময়ে এ্যানজিওগ্রাম করানো যাবে। এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। সারাবিশ্বে জরুরি এ্যানজিওপ্লাস্টি এখন হার্ট এ্যাটাকের প্রধানতম আধুনিক চিকিৎসা। এতে মৃত্যুহার, হার্ট ফেইল্যুর এবং ধুকে ধুকে মরার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
এই যে এ্যানজিওগ্রাম এটা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা আছে। অনেক মনে করেন এটি অজ্ঞান করে একটি অপারেশন। খুব ব্যথা, ভয়ংকর ব্যাপার ইত্যাদি ইত্যাদি । আসলে এটি একটি অতি সাধারণ একটি পরীক্ষা। রোগীকে সম্পূর্ণ সজাগ রেখে সামান্য লোকাল অবশ করার ওষুধ দিয়ে মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিটের একটি পরীক্ষা যা একটি লাল পিপড়াঁর কামড়ের চেয়ে কোনমতেই বেশী ব্যথার নয়।
এতদিন ধরে এই পরীক্ষাটি পায়ের একটি ধমনী বা রক্তনালীর মাধ্যমে করা হত। ফলে রোগীকে ৬ ঘন্টা চিত হয়ে শুয়ে থাকতে হত যা কিনা বয়ষ্ক বা স্থূলকায় মানুষের জন্য কিছুটা কষ্টকর। তাছাড়া পায়ের ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণের একটা ঝুঁকি থাকে। এসব ঝামেলা এড়াতে আধুনিক বিশ্বে হাতের ধমনীর মাধ্যমে এ্যানজিওগ্রাম করা একটি সহজ ঝুঁকিমুক্ত পদ্ধতি । হাতের মাধ্যমে এ্যানজিওগ্রাম ( Radial angiogram) করলে রোগী দিনের মধ্যেই বাড়ী চলে যেতে পারেন, শুয়ে থাকার কষ্ট নেই, হাঁটাচলা দিব্যি করতে পারেন।
এই radial angiogram and radial angioplasty এখন আমরা একটি রুটিন প্রসিডিওর হিসেবে করে থাকি। ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালসহ অনেক সেন্টারে এটি চালু আছে। আজ আমার ১০০০ তম রেডিয়াল এ্যানজিওগ্রাম এবং ১০০তম রেডিয়াল এ্যানজিওপ্লাস্টি সম্পন হবার দিনটি পার হল। এরমধ্যে একটি রোগীগেও হারাইনি, একটি রোগীরও কোন জটিলতা হয়নি। এটি সম্ভব হয়েছে আমার ক্যাথল্যাব টীম এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ঐকান্তিক সহযোগিতায়। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা । সামনে অনেকপথ পাড়ি দিতে হবে।

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন