মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

আন্ডা খাইলে কি হয়!

আন্ডা খাইলে কি হয়!

image_pdfimage_print

‘নাহ তোমার ডিম খাওয়া ঠিক না’! এইটাই আজকাল ফ্রি উপদেশ ‘কনসার্নড’ আত্মীয় বন্ধুদের কাছ থাইক্যা। কেন জিগাইলেই কইবো ‘কোলেস্টেরল বাইড়া যায়’। ‘মিয়া! হার্ট এ্যাটাক হইব’। ‘ইয়ে এক সাজীস হ্যায়’ আর এর জন্য মুরগী জাতি মানব জাতির কাছে কৃতজ্ঞ্য!

কিন্তু এতে কইরা একটা ভাল জিনিষের চরিত্রে কালিমা লেপন করা হইতাছে! হ্যা, আন্ডার কিছু দোষ আছে তেমন সবারই, সবকিছুরই কিছু না কিছু দোষ আছে, কিন্তু যে ভাবে প্রচারণা হইতাছে এতে ডিম জাতি ভীষন মর্মাহত। আমি চেষ্টা করতাছি আন্ডার চরিত্র পুনরোদ্ধারে।

জানুক আর না জানুক সবাই কয় আন্ডা খাইলে কোলেস্টেরল বাইড়া যাইব। এখন এর পিছের কাহিনীটা কই।

একটা বড় সাইজের মুরগীর ডিমে ১৮৫মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল পাওয়া যায়। আর যেহেতু আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশন (AHA) বলে মানবদেহে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরলের মাত্রা ৩০০ মিলিগ্রাম, তার মানে দুইটা আন্ডা খাইলেই ঠান্ডা! ‘এ এইচ এ’ ধইরা নিছে কোলেস্টেরল ওয়ালা খাবার কম খাইলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমবো তোমার হার্ট ও ধমনী বেশী দিন সুস্থ্য ও সক্রিয় থাকবো।
কিন্তু এ এইচ এ যেইটা কয় নাই সেইটা হইল তোমার শরীর ঠিক এইভাবে কাম করে না!

বরং গবেষনায় দেখা গেছে তুমি খাবারে যতটুকু কোলেস্টেরল গ্রহন কর তার রক্তে প্রবাহিত কোলেস্টেরলের মাত্রায় কোন প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া ফেলে না। তোমার যকৃত বা লিভার প্রতিদিন ১ থাইকা ২ গ্রাম কোলেস্টেরল তৈরী করে যা একটা বড় মুরগীর ডিমের কোলেস্টেরলের ৫ থাইকা ১০ গুন! বরং দেখা গেছে যদি খাবারে কোলেস্টেরলের পরিমান বাইড়া যায় তাইলে শরীর তার উৎপাদন কমাইয়া দেয়, আর কোলেস্টেরল গ্রহন কইমা গেলে লিভার আরো বেশী উৎপাদন কইরা তারে ব্যালেন্স করে।
সূত্রঃ John Berardi, Ph. D. The Blog dated 17Jul2013 www.huffingtonpost.com

সবার শরীরেই একটা কোলেস্টেরলের কারখানা আছে। সেই কারখানা হইল তোমার যকৃত বা লিভার, শরীরের মোট ৮৫% কোলেস্টেরল এই যকৃত আর তার সহযোগী কারখানা খুদ্রান্ত্র (স্মল ইন্টেস্টাইন) তৈরী করে। ডাক্তার সাহেবের কপালের ভাঁজ আর শংকা বাড়ে যখন এই কোলেস্টেরলে বাইরে থেকে ১৫% খাবার এর মাধ্যমে প্রবেশ করে আর তার সুষম ব্যবহার না হইয়া ‘গুদামে’ জমা হইতে থাকে। অর্থাৎ শিরা উপশিরায় তা জইমা যাইতে থাকে। এই জইমা যাওয়াকে ‘হাইপার-কোলেস্টেরলেমিয়া’ নাম দেওয়া হইছে যা হৃদপিন্ডে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে যেমন ‘করোনারী হার্ট ডিজিজ’ যা হার্ট এ্যাটাকের মত ঝুঁকি বহন করে।

আগে জানা যাক ‘কোলেস্টেরল কিস বালা কা নাম হ্যায়’? কোলেস্টেরল কাদার মত বা গলানো মোমের মত এক্টা পদার্থ যা ‘যকৃতে’/লিভার/কইলজ্যা আর ‘ক্ষুদ্রান্ত্রে’ উৎপন্ন হয়, এটা শরীরের অত্যাবশকীয় ‘ভিটামিন ডি’ প্রস্তুতে সহায়তা করে যা শরীরের হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে।

কিছু ‘হরমোন’ এস্ট্রোজেন মহিলাদের জন্য ‘প্রজেস্টেরন’ ও পুরুষদের জন্য ‘টেস্টোস্টেরন’ তৈরী করে।

কোষের দেয়াল তৈরী করে।

‘বাইল লবন’ (সবুজ পিত্ত রস যা যকৃত উৎপন্ন করে আর ‘গলব্লাডার’ বা ‘পিত্ত থলী’ তে সংরক্ষন করে) তৈরী করা যা খাবার হজম করতে সাহায্য করে। পিত্তরস খাবারে গৃহীত চর্বির সাথে মিশা তাকে আকারে ছোট কইরা দেয় যাতে তা অন্যান্য ‘এনযাইমের’ সাথে মিশা হজম হইতে সহজ হয়।

এছাড়াও ‘কর্টিসল’ তৈরী করে যা শরীরের ‘শর্করা’ বা চিনি নিয়ন্ত্রণ করে, শরীরকে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

‘এল্ডেস্টেরন’ তৈরী করা যা শরীরকে প্রয়োজনীয় পানি ও লবন ধারন করতে সাহায্য করে।

দেখা যাইতাছে কোলেস্টেরেল ছাড়া দেহ যন্ত্র অচল! তাই বলা যাইব না যে আমার কোলেস্টেরল দরকার নাই, আমি এটা ছাড়াই থাকুম। যকৃত প্রতিদিন প্রায় একহাজার মিলিগ্রাম ‘কোলেস্টেরল’ তৈরী করে যা শরীরের প্রতিদিনের জন্য যথেষ্ট কিন্তু যেহেতু প্রানীজ খাবারেও কোলেস্টেরল থাকে তাই এইটাকে সম্পূর্নভাবে এড়ানোরও কোন উপায় নেই।

রক্তে কোলেস্টেরল পরিবহনের জন্য পরিবাহকের দরকার হয় এই পরিবাহক রে ‘এ্যাপোপ্রোটিন’ বলে, রক্তে ফ্যাট বা স্নেহ পদার্থ রে ‘লিপিড’ বলে আর ‘লিপিড’ রে শরীরের জ্বালানী কনিকা বলা যায়, যখন কোলেস্টেরল এ্যাপোপ্রোটিনের সাথে যুক্ত হয় তাকে ‘লাইপোপ্রোটিন’ বলে। এই লাইপোপ্রোটিনের মধ্যে প্রোটিনের ঘনত্বের উপরে নির্ভর করে তার নাম পরিবর্তিত হয়।

লাইপোপ্রোটিনের মধ্যে ভাল আর খারাপ আছে দুনিয়ার আর সব কিছুর মতই। ‘লো ডেন্সিটি লাইপোপ্রোটিন’ বা ‘এলডিএল’ বা বদ কোলেস্টেরল আর ‘হাই ডেন্সিটি লাইপোপ্রোটিন’ বা ‘এইচডিএল’ বা ভাল কোলেস্টেরল। কোলেস্টেরল একধরনের লিপিড, বেশী পরিমানে পাওয়া যায় প্রাণীজ খাদ্যে। অর্থাৎ আমরা প্রতিনিয়ত যে খাবার গ্রহন করি যেমন ডিম, মাংশ, দুধ, পনীর ও আইসক্রীম জাতীয় খাবার। আবার ভেষজ খাদ্যে যেমন ফল, শষ্যকনা ও শাকসব্জীতে নাই। দেখা যায় নিজ যকৃতের প্রস্তুত ১০০০ মিলিগ্রাম এর সাথে খাবার এর সাথে আরো ১৫০ থেকে ২৫০ মিলিগ্রাম শরীরে প্রবেশ করে প্রতিদিন।

এলডিএল রে ‘বদ’ বলার পিছনে যুক্তি হইল এইটার পরিমানই বেশী আর সমস্যার সৃষ্টি ইনিই করেন। আর ভাল কোলেস্টেরল শিরা থাইকা বদগুলিকে ঘাড় ধইরা যকৃতে ফেরত নিয়া যায়, প্রসেস করে আবার রক্তে ফিরাইয়া দিবার জন্য।

বেশী পরিমানে ‘এলডিএল’ রক্তে বাহিত হইতে থাকলে শিরার ভেতরের দেয়ালের গায়ে আটকাইয়া যায়, শরীরের ধমনী, শিরা উপশিরা সোজা বা স্ট্রেইট লাইনে অবস্থিত না, আর শিরার ভেতরের দেওয়ালও মসৃন নয়, কোন পাইপে যেমন পানি বাহিত হলে পানিতে থাইকা যাওয়া ময়লা পাইপের গায়ে জইমা যায়, ভাঁজে খাঁজে জইমা যায় তেমনি এলডিএল মিশ্রিত রক্ত বাহিত হবার সময় ‘এলডিএলে’র কাদা বা ‘প্ল্যাক’ পাইপ বা শিরায় জমে পাইপ এর ব্যস কমায়ে দেয়, পাইপের স্থিতিস্থাপকতা কমাইয়া তারে শক্ত কইরা দেয়, এই শক্ত হইয়া যাওয়া শিরারেও একটি ‘অসুখ’ নাম দেওয়া হয়েছে এইটারে ‘এথেরোস্কেলেরসিস’ বলে।

হৃদপিন্ডকে বেশী কাজ করতে হয় সরু হয়ে যাওয়া নল দিয়া রক্ত পার করাইতে; যদি চাপে শিরার জইমা যাওয়া জায়গা থেকে একটা টুকরা প্লাক বা চর্বি ছুইটা যায় আর তা বাহিত হয়ে সেই সরু হইয়া যাওয়া পাইপে আটকিয়া রক্ত বাহিত হইতে না দেয়; তা হইলে তা জায়গা ভেদে ‘হার্ট এ্যাটাক’ বা ‘স্ট্রোক’ এর কারন হইয়া যায়।

‘এলডিএল’ কোলেস্টেরলরে শরীরের কোষে কোষে নিয়া যায়, যেখানে কোষ তার ‘মেম্ব্রেনে’ তা জমা রাখে, যা দিয়ে কোষ ভিটামিন ডি ও অন্যান্য হরমোন তৈরী করে, এই কাজের জন্য তাকে ‘বদ’ বলা হয় না, তাকে বদ বলা হয় যখন তার নিয়ে যাওয়া কোলেস্টেরলরে কোষ প্রত্যাক্ষান করে তা শরীরের রক্তে রয়ে যায়। আর তা’ই শিরায় জইমা ‘এথেরোস্ক্লেরসিস’ র জন্ম দেয়।

এইবার ভাল ‘কোলেস্টেরল’ সমন্ধে বলা যাক – ‘এইচডিএল’ বা ভাল কোলেস্টেরলরে বলা হয় সে এলডিএল রে যকৃতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে তাকে পূনঃপ্রক্রিয়া করার জন্য এলডিএল থেকে ক্ষতিকারক উপাদানকে ‘বাইল’ এ পরিনত করে বিশুদ্ধ কইরা দিতে, এইচডিএল অনেকটা ‘এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট’ হিসাবে কাজ করে। তাতে কইরা ‘এলডিএল’ ধমনীর দেওয়ালে আটকাইয়া যায় না। রক্তে ‘এইচডিএল’ এর মাত্রা নিরুপন করা খুব জরুরী। এইচডিএল যত বেশী হবে করোনারী হাট্ট ডিজিজ হবার শংকা তত কমবে।

উক্কে কোলেস্টেরলে কিস্যা কইতে থাকলে মোটা বই হইয়া যাইব। আমার কাহিনী আন্ডা লইয়া।

ডিম একটা সুপার ফুড!
খাদ্যবিজ্ঞ্যানে আর ডি এ বইলা একটা একটা টার্ম চালু আছে যা রিকোমেন্ডেড ডেইলি এ্যালাউন্সেস এর সংক্ষিপ্ত রূপ। অর্থাৎ বিশেষজ্ঞ্যদের সুপারিশকৃত খাবারের পরিমান। একটা বড় সাইজের সিদ্ধ ডিমেঃ
ভিটামিন এ ৬% আর ডি এ (রেটিনল Retinol – যা চোখের জন্য ভালো)
ফোলেট Folate ৫% ( শরীর জেনেটিক মেটেরিয়াল DNA তৈরীরে কামে লাগে)
ভিটামিন বি-১২ ৯% (কোবালামিন cobalamin – রক্তে লাল রক্তকণিকা তৈরীতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে)
ভিটামিন বি-২ ১৫% (রিবোফ্ল্যাভিন Riboflavin – এটা খাবার রে ভাইংগা এনার্জীতে রূপান্তরে সাহায্য করে)
ফসফরাস ৯% (হাড্ডি আর দাঁতে গঠন গড়ন আর মেইনটেনেন্স এ কামে লাগে শরীরের পাওয়া ৮৫% ফসফরাস হাড্ডি আর দাঁতে আছে)
সেলেনিয়াম Selenium ২২% (ভিটামিন ই র সাথে মিশা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেলস কমায়) এছাড়া ভিটামিন ডি, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬, ক্যালসিয়াম, আয়রণ ও জিঙ্ক পাওয়া যায়।

ডিমে প্রায় ৭৭ ক্যালরি, ৬ গ্রামস প্রোটিন, ও ৫গ্রামস হেলদি ফ্যাটস। ডিমে প্রায় সব দরকারী খাদ্যপ্রাণই কিছু কিছু আছে সাথে আছে ওমেগা ৩! আর এর প্রায় সবকয়টাই পাওয়া যায় ডিমের কুশুমে!

ডিমের কুশুমে আছে কোলাইন (Choline), মগজের কাজ কাম আর হৃদয় বান্ধব হিসাবে কোলাইন কাম করে। ইনফ্ল্যামেশন কমাইতে, আলযাইমারস নিরোধে কোলাইন কাম করে।

ল্যুটিন (Lutein) আর যিয়াযান্থিন (Zeaxanthin) নামে দুইটা কামেল এন্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এই দুইটা চোখের জ্যোতি রক্ষ্যায় কামে দেয়, ল্যুটিন সূর্য্যের ক্ষতিকর ওয়েভলেংথ রোধ করে আর তাতে ম্যাকুল্যার ডিজেনারেশন বা এক ধরনের অন্ধত্ব থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।

শুধু ডিমের সাদা অংশ খাইলে এই উপকারী খাদ্যপ্রাণ থাইকা দূরে থাকা হয়।

আন্ডা খাইলে ওজন কমে!
অবিশ্বাস্য রচেস্টার সেন্টার ফর অবিসিটি রিসার্চ এর পরিচালিত গবেষনায় দেখা গেছে নিয়মিত ডিম খাইলে তা ক্যালরী ইন্টেক কমায় প্রায় ৪০০ ক্যালরী! তার মানে মাসে প্রায় তিন পাউন্ড!! কারণ হিসাবে বলা হয় ডিম ধীর গতিতে হজম হয় তাই ক্ষিধা কম লাগে যদিও ডিমে কোলেস্টেরল আছে যারে ডায়েটারী কলেস্টেরল কয় আর ডায়েটারী কোলেস্টেরল আর ব্লাড কলেস্টেরল এক জিনিষ না! আগের বিশ্বাস আর এখন বৈজ্ঞ্যানিক ভাবে প্রমাণিত না যে ডিম খাইলে রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ে। আর বোনাস হিসাবে ডিমে ট্রেস পরিমান আয়োডিন আছে যা থায়রয়েড হরমোন তৈরীতে সাহায্য করে, সেলেনিয়াম নামে এ্যন্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা ক্যান্সার ঝুঁকি এড়াইতে সাহায্য করে।
আন্ডা লো ক্যালরী প্রোটিন!

এক্টা মিডিয়াম সাইজের ডিমে ৭০ থাইকা ৮৫ ক্যালরী আর ৬দশমিক ৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে। তার মানে তিনটা ডিমে ২১০ থাইকা ২৫৫ ক্যালরী পাওয়া যায় আর প্রোটিন এর মাত্রা ১৯ দশমিক ৫ গ্রামস একজন প্রাপ্তবয়স্ক স্বাস্থ্যবতী মাম্মার ৫০গ্রামস প্রোটিন দরকার (ওজন উচ্চতা লাইফ স্টাইলে নির্ভর করে) তার মানে তিনটা ডিমে পোচড, স্ক্রাম্বল্ড অথবা অমলেট তোমারে অনেক ক্ষণ পরিপূর্ণ রাখবো

ডিম ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে!
হারভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ২০০৩ সালে পরিচালিত এক গবেষনায় দেখা গেছে কিশোরী বয়সে নিয়মিত হোল এগ মানে গোটা ডিম (হলুদ কুশুম বাদ দিয়া না) গ্রহনে পূর্ণ বয়সে স্তন্য ক্যান্সারে প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছে। ২০০৫ সালে একই ধরনের গবেষনায় দেখা গেছে যে মেয়ে সপ্তাহে ৬টা গোটা ডিম গ্রহন করছে তাদের স্তন্য ক্যান্সারে যারা সপ্তাহে দুই অথবা কম পরিমান ডিম গ্রহন করছে ৪৪% কম হইছে।

দি ইউনিভার্সিটি অফ নর্থ ক্যারোলিনার ২০০৮ ডিমের কুশুমে পাওয়া কোলাইন স্তন্য ক্যান্সার ২৪% কমাইতে পারে। একটা ডিমের কুশুমে ১২৫.৫ মিলিগ্রাম কোলাইন থাকে যা সুপারিশকৃত কোলাইন মাত্রার এক চতুর্থাংশ মানে সকালের নাস্তায় দুইটা পোচড আন্ডার কুশুম তোমার ডেইলি প্রয়োজনীয় কোলাইনের অর্ধেক সাপ্লাই দিতে পারে।
খাদ্যপ্রাণের গুদাম, সস্তা দাম!!

সাইজ অনুপাতে যদি তুলনা করা হয় তাইলে একটা ডিমে যতটুকু খাদ্যপ্রাণ পাওয়া আয় তার তুলনায় ডিমের দাম খুবই শস্তা! বাংলাদেশের দাম জানি না আমি ২০০১ সালে যখন প্রবাসী হই তখন ছিল ১০ টাকা হালি (এখন কত!) আমার এইখানে বিভিন্ন সাইজ আর কোয়ালিটি (ফ্রি রানিং, অমেগা ৩ ফর্টিফাইড, লাল, সাদা) আন্ডা পাওয়া যায়। সাধারন মিডিয়াম সাইজের ১২টা আন্ডা ২.৯৯ ডলারে পাওয়া যায়।

ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়!
আগেই কইছি কোলেস্টেরলে বদ আর ভালো আছ, এইচডিএল বা হাই ডেন্সিটি লাইপোপ্রোটিন ভালো কোলেস্টেরল সমীক্ষায় দেখা গেছে ছয় সপ্তাহ ধইরা ডেইলি দুইটা আন্ডা গ্রহনে এইচ ডি এল এর মাত্রা ১০% বাড়ছে। তার মানে হার্ট এ্যাটাক, স্ট্রোক, ছাড়া অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার উন্নতি।

বটম লাইন না না বটম প্যারাগ্রাফঃ
বিভিন্ন সমীক্ষা আর গবেষনায় প্রমাণীত আর প্রতিষ্ঠিত প্রতিদিন তিনটা গোটা ডিম গ্রহন “পারফেক্টলি সেইফ”।

ডিম একটা সুপার ফুড, একজায়গায় এত প্রয়োজনীয় খাদ্যপ্রান সম্পন্ন খাবার আর নাই, আর দামে তুলনামুলক সস্তা,আর এর ভার্সেটাইল প্রয়োগ! যে কোন ভাবে তারে খাওয়া যায়!

এইটারে নেচার’স পারফেক্ট ফুড ও কয়।

আন্ডা ডায়েটারী কোলেস্টেরল এইটা খাইলে ব্লাড কোলেস্টেরল বাড়ে এমন প্রমাণ পাওয়া যায় নাই। সমীক্ষায় অংশগ্রহণ কারী ৭০% মানুষের কোলেস্টেরল মোটেই বাড়ে নাই। বাকী ৩০% ক্ষেত্রে টোটাল আর এলডিএল বাড়ছিল।

এনিথিং উইথ আন্ডা , অন আন্ডা, ইন আন্ডা ,
বাই আন্ডা , আমি আছি খায়া ঠান্ডা!
আন্ডার দুষমন সাবধান!
গাও আন্ডার জয়গান!

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন