মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

কেমোথেরাপী Chemotherapy – সাইড ইফেক্টস

কেমোথেরাপী Chemotherapy – সাইড ইফেক্টস

image_pdfimage_print

ক্যান্সার একটা রোগ যা মানুষের শাররীক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে ধ্বংশ কইরা দেয়, আর এতে শুধু রোগীই না তার পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শরীরের এমন কোন অংগ নাই যেখানে ক্যান্সার হয় না আর তার চিকিৎসার একটা ব্যবস্থা হইলো কেমোথেরাপী।

Chemotherapy is a drug treatment that uses powerful chemicals to kill fast-growing cells in your body. – Mayo Clinic.

শরীরে দ্রুত বিভাজন আর বর্ধনশীল ক্যান্সার কোষরে নির্মূল করার লক্ষ্যে যে অষুধ বা অষুধের সমষ্টি প্রয়োগ হয় তারে কেমোথেরাপী বলে। কেমোথেরাপী শরীরে সব দ্রুত বিভাজিত আর বর্ধনশীল কোষরেই হত্যা করে ক্যানসার সেলের সাথে সাথে, যেমন অস্থিমজ্জা বা বোন ম্যারোতে নতুন রক্ত কণিকা, মুখ, পাকস্থলী, ত্বক, চুল ও রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেমে। যখন কেমোথেরাপী শরীরের সুস্থ্য স্বাভাবিক কোষ হত্যা করে তখনই সাইড ইফেক্ট বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

তোমার সাইড ইফেক্ট হইব কি হইব না, কেমন হইব, কোথায় দেখা দিব সব কিছু নির্ভর করতাছে কি ধরনের অষুধ, কতটা অষুধ প্রয়োগ করা হইতাছে আগের ট্রিটমেন্ট সাইকেল এর প্রতিক্রিয়ার উপরে। বেশীর ভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাময়িক ও ম্যানেজ করা যায়। সাধারনতঃ চিকিৎসা সমাপ্ত হওয়ার পরে যখন স্বাভাবিক কোষ জন্মায় তখন এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চইলা যায়। কিন্তু কখনো কখনো কেমোথেরাপী লংটার্ম সাইডইফেক্ট এর কারণও হইতে পারে আর তা যাইতে চায় না। এত শরীরের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে যেমন হার্ট, লাংস, নার্ভএন্ডিংস, কিডনী অথবা রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেমে।

দুই পাতায় এর বিস্তার লেখা যাইব না, খুব সংক্ষেপে কিছু পয়েন্টস আলোচনা করতে চাই।

ক্যান্সার চিকিৎসায় আসলে টিমওয়ার্ক দরকার রোগী, চিকিৎসক, সহায়তা প্রদানকারী, পরিবার সবার একাট্টা হইয়া যুদ্ধ করতে হইব।

পয়লা কইতে চাই কেমোথেরাপী Active Cell বা সক্রিয় কোষের উপর কাম করে। যেই কোষ বিভাজিত হইয়া একই ধরনের আরেকটা কোষে পরিণত হয় তারে এ্যাক্টিভ সেল বা সক্রিয় কোষ কয়। ক্যান্সারাক্রান্ত কোষ যেমন এ্যাক্টিভ শরীরের কিছু স্বাভাবিক কোষও এ্যাক্টিভ। এই কিছু কোষের মধ্যে তোমার রক্ত, মুখ পরিপাক তন্ত্র, ও চুলের ফ্যলিকল Hair Folicle অন্তর্গত। কেমোথেরাপী যখন এই এলাকার সুস্থ্য স্বাভাবিক কোষগুলিরে আক্রমণ করে তখন এইটারে সাইড ইফেক্ট বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বলে।

আসল প্রশ্নটা আগে কই, এই সাইডইফেক্ট এর কি চিকিৎসা আছে?

আছে। তোমার চিকিৎসক আর পরিচর্য্যাকারী দল এই সাইডইফেক্ট দমন, প্রতিরোধ ও সহনশীল করার লক্ষ্যে সহায়তা করতে পারে। আজকাল অনেক অষুধপত্র পাওয়া যায় আগের দিন গুলির চাইতে, এই অষুধ প্রয়োগ প্রনালীরে প্যালিয়েটিভ কেয়ার Palliative Care বলে, এই প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা সাপোর্টিভ কেয়ার ক্যান্সার চিকিৎসার একটি অন্যতম বিভাগ। গবেষক ডাক্তার মাম্মারা প্রতিনিয়ত চেষ্টা কইরা যাইতাছেন নতুন অষুধ, অষুধের কমবিনেশন, নতুন প্রয়োগবিধি যাতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়। আজকাল অনেক ধরনের কেমোথেরাপী আগের দিনগুলির চাইতে সহজ আর সহনশীল হইছে।

আগেই বলছি ক্যান্সার শাররীক, মানসিক, অর্থনৈতিক আর সামাজিক প্রতিক্রিয়া আছে। তাই এর চিকিৎসায় আটঘাট বাইন্ধাই নামা লাগে। কেমোথেরাপীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলি একজায়গায় লেইখা রাখা উচিত, তাইলে ডাক্তার মাম্মার সাথে পরবর্তী কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা যায়।

মূল চিকিৎসার পাশাপাশি অলটারনেটিভ মেডিসিন Alternative Medicine , বা কম্পিমেন্টারী থেরাপী Complementary Therapy চেষ্টা করা যাইতে পারে। যা শাররীক, মানসিক ও আত্মিক সহায়তা দিতে পারে।কিছু কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি বৈজ্ঞ্যানিক ভাবে উপকারী বইলা প্রমাণিত হইছে যেমন মেডিটেশন, রিলাক্সেশন, ম্যাসাজ ও কাউন্সেলিং, এইগুলি এংজাইটি Anxaiety দুরীকরণে সহায়ক। এ্যাকুপাংচার Acupuncture কেমোথেরাপী পরবর্তী বমি ভাব ও অবসাদ হ্রাস ও দূর করতে পারে। মনে রাখতে হইব কমপ্লিমেন্টারী থেরাপী আসল ক্যান্সার চিকিৎসা না। আর যেই পদ্ধতিই গ্রহণ কর তার আগে ডাক্তার মাম্মারে জানাও, কারণ সহায়তাকারী চিকিৎসা পদ্ধতি মূল চিকিৎসার বাধা যাতে না হয়।

টায়ার্ড লাগা, কোন কিছু করতে এনার্জী না পাওয়া (Fatigue অবসাদ) কেমোথেরাপীর প্রধান অভিযোগ। অবসাদ যেকোন সময় লাগতে পারে, আর বিশ্রাম নিলে তা চইলা যায় না, এই অবসাদ থাইকা ‘ডিপ্রেশন’ও শুরু হইয়া যাইতে পারে। বিশেষজ্ঞ্য মাম্মারা বলে দিনের যেই সময়টাতে তুমি ভাল ফিল কর এনারজেটিক ফিল কর সেই সময়টাতেই তোমার জরুরী কাজ কাম কইরা ফেলার প্ল্যান কর। শরীররে ব্রেক দাও কাজের ফাঁকে ফাঁকে যাতে শরীর বিশ্রাম পায়। নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা কর। পরিবার বন্ধুবান্ধবের সাহায্য কামনা ও গ্রহন কর, কেমোথেরাপীতে অনেকসময় রক্তস্বল্পতা (এ্যানিমিয়া) দেখা দেয় ডাক্তার মাম্মারে সাথে আলাপ কর।

ক্ষুধামান্দ Loss of Appetite , গা গোলানো Nausea , বমি ভাব কেমোথেরাপীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কেমোথেরাপী চলাকালীন সময় এ্যাপিটাইট লস বা ক্ষুধামান্দ হওয়া খুব স্বাভাবিক। কেমোথেরাপী তোমার স্বাদ গ্রন্থীতে প্রভাব ফেলতে পারে আর খাবারে স্বাদ বদলাইয়া দিতে পারে, কখনো কখনো মনে হইব তোমার ক্ষুধা লাগে না। কেমোথেরাপীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গা গোলানো ভাব ও বমি হইতে পারে। কারো কারো কেমোথেরাপী সেশন চলাকালীন অনেকের গা গোলানো ভাবটা হয় না, শেষ হওয়ার পরে শুরু হইতে পারে তা কয়েক ঘন্টা থাইকা কয়েক দিন পর্যন্ত চলতে পারে। এর সাথে বমিও হইতে পারে। গা গোলানো ভাব শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তার মাম্মা। বমি চলাকালীন যদি তরল গিলতে অসুবিধা হয় তাইলে ‘ডিহাইড্রেশন’ দেখা দিতে পারে। মুখ শুকাইয়া যাওয়া, গাঢ় রং এর প্রস্রাব, মাথা ঘোরানো, ও দ্বিধান্বিত লাগা ডিহাইড্রেশনের লক্ষন।

যে খাবার খাইতে মন চায় সেইটাই খাও, যখন মন চায় তখনই খাও, অনেক খাবার এক সাথে খাওয়ার চাইতে স্ন্যাক হিসাবে কিছু কিছু বার বারে খাও। যখন কেমোথেরাপী চলে না সেই দিন গুলিতে বেশী খাও। কড়া ঘ্রাণওয়ালা খাবারে অরুচী হইতে পারে, তাই আগে রান্না কইরা রাখতে পার। চিকিৎসা চলাকালীন যদি প্রিয় কোন খাবার বিস্বাদ লাগে তাইলে জোর কইরো না চিকিৎসা শেষে তোমার স্বাদ ফেরত আসবো। সলিড খাবার খাইতে মন না চাইলে দুধ, দই, ডিম, মধু খাইতে পার। সম্ভব হইলে একজন ডায়েটেশিয়ান এর সাথে আলাপ কর ফুড চার্টের জন্য।

কনস্টিপেশন/কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়ারিয়া দেখা দিতে পারে কিছু কিছু কেমোথেরাপীর বেলায়। ডাক্তার সাহেবরে বলো তোমার স্বাভাবিক অভ্যাসের পরিবর্তন হইলে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাও (হোল গ্রেইন রুটি, পাস্তা, লাল, বাদামী চাইলের ভাত, পাস্তা, বাদাম, ফল, ডাল ও সব্জী) প্রচুর তরল পান কর গরম ও ঠান্ডা, প্রুন বা আলুবোখারার সরবত, নাস্পাতির সরবত কামে দিতে পারে। মল নরম করার জন্য অষুধ (ড্যুকালাক্স, Ducalux ডালকোলাক্স Dalcolux টাইপ) খাইতে হইলে ডাক্তার মাম্মার উপদেশ নাও। কেমোথেরাপী দেওয়ার দিন গুলির মধ্যে হইলে আর এই জাতীয় অষুধ খাইলে তোমার চিকিৎসা প্রদানকারী দলরে জানাও।

ডায়ারিয়া হইলে সিদ্ধ চালের ভাত খাও, ঝোল খাও, মসলাদার খাওয়া, হোলগ্রেইন, তৈলাক্ত, ডুবা তেলে ভাজা, চর্বীদার খাওয়া বাদ। ডায়ারিয়ায় যেই পরিমান পানি বাইর হইয়া যায় তার রিপ্লেসমেন্ট জরুরী, তাই পানি পান কর।

কেমোথেরাপীর সাইড ইফেক্ট হিসাবে যেইটা সবচেয়ে প্রকট, আর কমন সেইটা হইলো চুল পইড়া যাওয়া, এই ব্যাপারটা চাক্ষুস হওয়াতে এইটা শাররীক এর সাথে সাথে মানসিক আর সামাজিক প্রভাবও ফেলে। এই চুল পইড়া যাওয়ারে এ্যালোপিসিয়া alopecia কয়। আসলে তোমার চুল পইড়া যাইব কিনা তা তোমার জন্য কি অষুধ প্রয়োগ করা হইছে তার উপর। কারো কারো অতি দ্রুত চুল পরে আবার কারো কয়েক্টি সেশন করার পরে চুল পড়া শুরু হইতে পারে, কারো কিছু চুল পড়ে আবার কারো শরীরের ভ্রু, চোখের পাপড়ি সহ সব চুল পইড়া যায়। সাধারনত প্রথম কেমোথেরাপীর ২-৩ সপ্তাহ পরে চুল পড়া শুরু হয়, চুল পড়ার আগে ও পড়তে থাকা কালীন মাথায় চাঁদি গরম বোধ হওয়া, চুলকানো, ঝিন ঝিন ভাব, স্পর্শকাতর লাগতে পারে। কারো কারো মাথায় ব্রণ হইতে পারে। কেমোথেরাপী শেষ হওয়ার ৪ থাইকা ১২ মাসের মধ্যে চুল আবার গজায়। মাথার বা শরীরের চুল পইড়া যাওয়া অনেকেই সহজ ভাবে নিতে পারে না, শরীর চুল শুন্য এইটা স্বাভাবিক দেখায় না অনেকে এইটারে ক্যান্সারের প্রমান হিসাবে মনে করে। এইটা আত্মসন্মান আর সেলফ কনফিডেন্স কমায়।

অনেক রোগী কেমোথেরাপী চলাকালীন সময়ে ‘কুল ক্যাপ’ পরিধান করে। এই কুল ক্যাপ চাঁদিতে রক্ত চলাচল সাময়িক ভাবে কমায়, তাই কেমোথেরাপীর অষুধ চাঁদিতে কম পৌঁছায়। একটা টাইট টুপি পরানো হয় যার সাথে একটি হোস পাইপ দিয়া একটা কুলিং ইউনিটের সাথে সংযোগ থাকে, মেশিন চলা কালে কুলিং ইউনিট থাইকা হোস পাইপ দিয়া ঠান্ডা তরল চাঁদির উপরি ভাগে প্রবাহিত হয় যতক্ষন কেমোথেরাপী সেশন চলতে থাকে। এইটা আবার সব ধরনের কেমোথেরাপীতে কাজ দেয় না, আর ১০০% চুল পতন রোধ করে না। ডাক্তার মাম্মার সাথে কথা বল।

চুল পইড়া যাইতে থাকলে কি করা যায়?

• চুল আর চাঁদি খুব পরিস্কার রাখ, মাইল্ড বা বেবী স্যাম্পু ব্যবহার কর। যদি চাঁদিতে লোসন ব্যবহার করতে চাও তাইলে “সোরবোলেন” Sorebolene ব্যবহার কর। তোমার নার্স ডাক্তার এর সাথে আলাপ কর কোন হেয়ার প্রডাক্ট বা লোশন প্রয়োগের আগে।

• মাথার চুল আঁচড়াইতে চাইলে অবশ্যই নরম ব্রাশ ও বড় চিরুনী হালকা ভাবে ব্যবহার কর।

• পরিবারের সদস্যদের সাথে বিশেষ কইরা বাচ্চাদের সাথে কেমোথেরাপীতে চুল পইড়া যায় আলোচনা কর।

• মাথায় চুল লম্বা থাকলে পড়া শুরু হওয়ার আগেই কাইটা ছোট কইরা ফালাও, এতে সেন্স অফ কন্ট্রোল দেয় অনেকে বলে। আবার হঠাৎ কইরা নাই হইয়া যাওয়ার মত শকিং হয় না দর্শনে।

• রাতে ঘুমাইতে যাওয়ার সময় মাথায় ঠান্ডা লাগলে সুতী কাপড়ের পাগড়ী পরতে পার।

• সুতী, পলিয়েস্টার অথবা স্যাটিন বালিশ কভার ব্যবহার কর, নাইলনে মাথায় চুলকানি হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

• কেমোথেরাপীর পরে মাথায় অবশিস্ট চুল অথবা নতুন গজানো চুলে রং করতে চাইলে ছয়মাস অপেক্ষা করা উচিত আর ভেজিটেবল বেসড ডাই ব্যবহার করা উচিত।

• যদি চোখের পাপড়ি পইড়া যায় তাইলে বাইরে গেলে অবশ্যই রোদ চশমা ব্যবহার কর সূর্যের প্রখর তাপ আর ধুলা থাইকা বাঁচার জন্য।

• পরচুলা, টুপি, পাগড়ী, হ্যাট, ক্যাপ, স্কার্ফ, হিজাব যেইটাতে তুমি সাচ্ছন্দ বোধ কর তা পরতে পার মাথার চুল পইড়া গেলে, মোট কথা চাঁদি ঢাইকা রাখা উচিত সানবার্ণ ও ঠান্ডা থাইকা বাঁচার জন্য।

• মাথার চুপ পড়া শুরু আগেই একটা উইগ/পরচুলা পরা শুরু কর তাইলে মানুষ/সমাজ (!!) প্রশ্নবোধক চোখে কম তাকাইবো।

কেমোথেরাপী গ্রহন কালে মুখে ঘা দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু কেমোথেরাপীর অষুধ মুখে ঘা, ইনফেকসন, মাউথ সোর Mouth Sore দিতে পারে। বিশেষ কইর যদি মাথা, ঘাড় ও বুকে র‍্যাডিয়েশন থেরাপী দেওয়া হয় অথবা তোমার মাড়ি অথবা দাঁতের কোন অসুখ থাইকা থাকে। যদি মুখে ঘা, ঢোক গিলতে অসুবিধা, থুতু ঘন হইয়া যাওয়ার মত অভিযোগ থাকে তাইলে ডাক্তার মাম্মার সাথে দেখা কর।

এছাড়া তোমার অঙ্কোলোজিস্ট এর সাথে তোমার ডেন্টাল সমস্যার কথা বল। তোমার ডেন্টিস্টরে বল যে তোমার কেমোথেরাপী চলছে। নরম টুথব্রাশ দিয়া দিনে দুইবার দাঁত মাজো। একগ্লাস উষ্ণ পানিতে এক চা চামচ খাবার সোডা (সোডা বাই কার্ব) গুলাও অথবা লবন গুলাও তা দিয়া দিনে চাইর বার কুলি কর। কেমোথেরাপী চলাকালীন বরফ চুষলে মুখের আলসার হওয়ার সম্ভাবনা কমে। শক্ত খাবার বাদ দিতে পারলে ভাল, না হইলে ঝোল, সস, স্যুপ দিয়া ভিজাইয়া নেও। প্লেইন দই খাও।

কেমোথেরাপীতে ত্বক ও নখের পরিবর্তন হয়। ত্বক শুস্ক হইয়া যাওয়া, খড়ি উঠা, চুল্কানো ভাব হইতে পারে, রং বদলাইয়া যাইতে পারে। আলোর প্রতি সংবেদনশীল হইয়া পড়তে পারে। নখের রং চেঞ্জ হইয়া যাওয়া, ভাজ হইয়া যাওয়া, ভংগুর হইয়া যাওয়ার মত হইতে পারে। ময়েশ্চারাইজিং সোপ অথবা “সোরবোলেন” Sorebolene ব্যবহার কর। গোসলের পরে টাওয়েল দিয়া চাপ দিয়া মুছ ঘষবা না। লোশনে ইউরিয়া আছে কিনা দেখ ইউরিয়া ত্বকের ড্রাইনেশ কমায়। ঢিলা ঢালা নরম কাপড় পরিধান কর। শেভিং বাদ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত। সান প্রটেকশন এস পি এফ ৫০+ ব্যবহার কর যদি বাইরে যাইতে হয়।

কেমোথেরাপী রক্তে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া করে। শরীরে রক্তের ফ্যাক্টরী হইলো অস্থিমজ্জা বা বোন ম্যারো ( হাড্ডির ভিতরে থাকে) বোন ম্যারো তিনরকম ব্লাড সেল বা রক্ত কণিকা তৈরী করে।

লোহিত কণিকা বা রেড ব্লাড সেল – এইটা তোমার শরীরে অক্সিজেন নিয়া যায় কোষে কোষে।

স্বেত কণিকা বা হোয়াইট ব্লাড সেল – এইটা তোমার শরীরের সেনাবাহিনী, রোগ জীবানুর সাথে যুদ্ধ করে।

প্ল্যাটিলেট – রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে।

যেহেতু ক্যান্সারে শরীরের সেল বা কোষ দ্রুত বিভাজিত হয় তাই কেমোথেরাপীতে তা ক্ষতিগ্রস্থ হইতে পারে, শরীরে লোহিত কণিকা কম পইড়া যাইতে পারে (ব্লাড কাউন্ট)। শরীরে ব্লাডকাউন্ট কম হইয়া গেলে এ্যানিমিয়া বা রক্তশুন্যতা, ইনফেকশন ও ব্লিডিং প্রব্লেম দেখা দিতে পারে। কেমোথেরাপী শুরুর আগে ও প্রতি সেশনের আগে তোমার রক্ত পরীক্ষা করা হইব টোটাল ব্লাড কাউন্ট জানার জন্য যে তা স্বাভাবিক হইছে কি না।

ইন এ নাট শেল!! মানে পুরা লেখাটারে ক্যাপস্যুল বানাইলে…

• বেশীর ভাগ লোগ কেমোথেরাপীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভোগে। সাইড ইফেক্ট হয় যখন কেমোথেরাপীর অষুধ দ্রুত বিভাজিত সুস্থ্য কোষ ধ্বংশ করে।

• কেমোথেরাপী অবসাদ, ক্ষুধামান্দ, গা গোলানো, পেট সংক্রান্ত সমস্যা, চুল পড়া, মাউথ সোর, ত্বক ও নখের সমস্যা দিতে পারে।

• কেমথেরাপী তোমার মনোযোগ এ বাধা স্মৃতিতে গোলমাল কিছু কিছু বিষয় মনে করতে না পারা,মাসল ও নার্ভ এ প্রতিক্রিয়া ও শ্রবণ শক্তিরে ঝামেলা করতে পারে।

• সহজেই ইনফেকশন হইয়া যাওয়ার মত ঘটনা ঘটতে পারে, যেহেতু কেমোথেরাপী তোমার শরীরের প্রতিরক্ষক হোয়াইট ব্লাড সেল ধ্বংশ করে।

• স্বাভাবিক যৌণ জীবন ও ফার্টিলিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

• বেশীর ভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাময়িক, কেমোথেরাপী শেষে পরিস্থিতির উন্নতি হয়।

আরো বহু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কথা বলা যাইতে পারে। ফেসবুকের অল্প পরিসরে তা সম্ভব না। তা ছাড়া আমি ডাক্তারও না এইগুলি থাইকা আর কি জটিলতা সৃষ্টি হইতে পারে আমি জানি না। সমস্যা আছে তার সমাধান কল্পে আল্লাহপাক দুনিয়ায় ডাক্তার মাম্মা ও চিকিৎসক টিম পাঠাইছে, তাদের সাথে আলাপ কর, তাদের পরামর্শ মত চলো। তোমার সহযোগিতায় ডাক্তার মাম্মার চিকিৎসা সহজ হইয়া যাইব।
আল্লাহ পাক দয়া করুন সবার প্রতি।

সূত্রঃ Dr. Nazma Rashid

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন