বুধবার, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

আলসার/ Ulcer

আলসার/ Ulcer

আমি ডাক্তার না, আমি এইখানে যা উপস্থাপন করছি অনলাইনে রেডিলী এ্যাভেইলেবল, তার সাথে আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা, ডাক্তার মাম্মাদের সাথে সাক্ষাৎকার আর কিছু গবেষনা। আমি কোন প্রেশক্রিপশন দেই নাই, আমার জ্ঞ্যান নাই এই বিষয়ে, আমি চেষ্টা করছি, “এইটা কেন হয়? কিভাবে হয়? আর প্রতিরোধের কি করা যাইতে পারে” তা আলোচনা করার জন্য।

আজকার বিষয় আলসার!
জী এইটার এ্যানসার আছে! আলসার মানে ক্ষত, খোলা ক্ষত, আমরা আলসার শুনলেই মনে করি পেটের কোন একটা অসুখ। হ্যা বেশীর ভাগ আলসার পেটেই হয়! কিন্তু মুখের হাতে পারে শরীরের যেকোণ খানেই ক্ষত হইতে পারে। আলসার মানে আনট্রিটেড, আনহিল্ড ওপেনিং “an open sore on an external or internal surface of the body, caused by a break in the skin or mucous membrane that fails to heal.”

WebMD লেখে, আলসার হইতাছে সেই ক্ষত যা সারতে সময় লাগে আর বারে বারে ফিরা আসে, আলসারে অনেক রূপ আছে, এটা শরীরের ভিতরে অথবা বাহিরে যেকোন স্থানে হইতে পারে। স্বাভাবিক ভাবেই চোখে দেখা যায় এমন যায়গা যেমন হাত পা, চেহারা আবার স্বাভাবিক ভাবে চোখে দেখা যায় না এমন জায়গায়ও হইতে পারে যেমন পেপ্টিক আলসার (Peptic Ulcer), তোমার পাকস্থলির লাইনিং বা ভিতরে দিকে হয় অথরা অন্ত্রের উপরী ভাগে হয়। আঘাত, অসুস্থ্যতা, অথবা ইনফেকশন বা প্রদাহ এর কারণ হইতে পারে। তাদের পরিনাম নির্ভর করে কি ভাবে তা হইছে আর তার কি চিকিৎসা নেওয়া হইছে। কিছু কিছু নিজেই ঠিক হইয়া যায় আর কিছু ক্ষেত্রে যথার্থ চিকিৎসা দরকার।

পা আর পায়ের পাতার আলসারঃ পা আর পায়ের পাতায় হয়, অনেক সময় লাগে সারতে। দেখতে লালচে লাগে, চামড়া ফুলা থাকতে পারে, পূঁজ বাইর হইতে পারে, বেশির ভাগই আঘাত থাইকা শুরু হয় আর আঘাত প্রাপ্ত স্থানে রক্তের সরবরাহে বাধার কারনে ক্ষত শুকায় না। তোমার পায়ের শিরায় গোলমাল থাকলে তোমার ভেনাস আলসার (Venous Ulcer) হইতে পারে, এইটাই কমন।

আর্থারাইটিস (Arthritis) থাকলে, শিরায় প্ল্যাক জমা হইলে (এ্যাথেরস্কেলেরোসিস /Atherosclerosis) তোমার আরটিরাল আলসার হইতে পারে। পায়ের পাতা ও আংগুলে হয়। সবচেয়ে ঝুঁকি হইলো যদি তুমি ডায়াবেটিক হও। যা স্নায়ূ আর রক্ত চলাচলে সমস্যা তৈরি করে যা পরে পায়ে আলসারে পরিণত হইতে আরে। তাই ডায়াবেটিক মাম্মাদের পায়ে সামান্যতম আঘাতেও যথাযথ যত্ন নেওয়া উচিত ডাক্তার দেখানো উচিত। সম্পুর্ন সাইরা না যাওয়া পর্যন্ত। চিকিৎসার অবহেলায় ইনফেকশন, অংগচ্ছেদ (Amputation) আর অস্টিওপেরোসিস (Osteoporosis) হইতে পারে।

বেডসোরঃ এইটা মারাত্মক। বেডশোর (Bed Shore) রে প্রেসার সোর (Pressure Sore) বলা হয়। প্রথম দিকে শুধু ত্বকের রং বদল দেখা যায়, লালচে অথবা ফ্যাকাশে দেখায়, সময়ের সাথে তাতে ক্ষত আর তা গভীরতর হইয়া উন্মুক্ত ক্ষতে রূপ নেয়। লম্বা সময় ধইরা একই অবস্থায় ত্বকে চাপ লাইগা থাইকা রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হইলে এইটা হয়। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে যদি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যেইখানে শরীর একই অবস্থায় অনেকক্ষন থাকে আর নড়াচড়া করে না যেমন কোন অস্ত্রপোচার, নড়াচড়া করা নিষেধ অথবা স্ট্রোকের কারনে রোগী নড়তে পারে না।

বেডসোর মোটেই ভাল খবর না, বেডসোর থাইকা হাড় ও জোড়ায় ইনফেকশন, ত্বকের উপরস্তরে ক্যান্সার, সেলুলাইটিস (Cellulitis) – ত্বক ও সফট টিস্যুর বেদনাদায়ক প্রদাহ বা ইনফেকশন। ফ্লেশ ইটিং Flesh Eating বা মাংশ খাইয়া ফেলা ব্যাক্টেরিয়ার উদ্ভব (নেক্রোটাইজিং ফ্যাসিইটিস / Necrotizing Fasciitis) প্রাণঘাতী ইনফেকশন, সেপসিস Sepsis – প্রাণঘাতী ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রামন যাতে রক্ত দুষিত হইয়া সারা শরীরে ছড়াইয়া পরে।

জেনিটাল আলসারঃ নারী পুরুষ উভয়ের যৌনাংগে ও পায়ুপথে বেদনা দায়ক ক্ষতের জন্ম। সাধারনত যৌণ সংসর্গ থাইকা আসে, এইগুলিরে সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (Sexually Transmitted Disease) ও বলে। যেমন হারপেস (Herpes), সিফিলিস (Syphilis) , চ্যানক্রোয়েড (Chancroid) । অন্য আঘাত থাইকা অথবা ত্বকের যত্নের প্রসাধনীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাইকাও হইতে পারে। এইডস, এইচ আই ভি ও সেক্সুয়ালী ট্রান্সমিটেড ডিজিজ!

কর্নিয়াল আলসারঃ হ্যা ঠিক পড়ছ চোখের কর্নিয়াতেও ক্ষত বা আলসার (Corneal Ulcer) হইতে পারে। চোখ লাল হইয়া যাওয়া, ব্যাথা অনুভব করা, মনে হইব যেন কিছু চোখে গাইথা গেছে। সাধারনতঃ ইনফেকশন থাইকা হয়, আবার ড্রাই আই সিন্ড্রোম (Dry-Eye Syndrome) , কোন আঘাত, চোখের পাতায় কোন সমস্যার জন্যও হইতে পারে। ফলে দৃষ্টির সিরিয়াস প্রব্লেম এমনকি অন্ধত্বও হইতে পারে। যদি চোখে সমস্যা থাকে তাইলে অবিলম্বে ডাক্তার এর কাছে যাও।

স্টমাক আলসারঃ পাকস্থলীর আলসারের মধ্যে একটা পেপ্টিক আলসার (Peptic Ulcer)। এইটা পাকস্থলী Stomach ও খুদ্রান্ত্রের (Small Intestine) উপরি ভাগে হয়। Stomach Ulcer Gastric Ulcer বেশীর ভাগ রোগী পেট ব্যাথার অভিযোগ করে প্রথমে।

খাবার হজমের জন্য পাকস্থলীতে এ্যাসিড উৎপন্ন করে শরীর, আর তা যদি সঠিক মাত্রায় হয় তাইলে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু যদি কোন কারনে তা বেশী পরিমানে তৈরী হয় তাইলে সেই এ্যাসিড তোমার পাকস্থলীর লাইনিং বা প্রতিরক্ষা স্তর খাইয়া ফেলতে পারে আর আলসার বা ক্ষতের সৃষ্ট করতে পারে।

পেটে এইচ পাইলরি (Helicobacter Pylori) নামের এক ব্যাক্টেরিয়ার উৎপাদন আর অবস্থান, লম্বা সময় ধইরা অ্যাাস্পিরিন (Aspirin), আইবুপ্রফেন Ibuprofen(মট্রিন Motrin, এ্যাডভিল Advil) ও ন্যাপ্রোক্সেন Naproxen (এ্যালিভ Aleve, ন্যাপ্রোসিন Naprosyn) জাতীয় নন স্টেররডিয়াল এ্যান্টি ইনফ্লামাটরী ড্রাগস Nonsteroidal Anti-Inflammatory Drugs – NASID গ্রহনে হইতে পারে। এসিটোমেনোফেন Acetaminophen (টাইলিনল Tylenol) এ এই সমস্যা নাই। স্টেরয়েডের ব্যবহার অথবে ডিপ্রেশন ঠিক করার অষুধ সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিউপ্টাক ইনহিবিটরস বা এস এস আর আই (Selective Serotonin Reuptake Inhibitors SSRI) এর ব্যবহারে পেপ্টিক আলসার হইতে পারে।
পেপ্টিক আলসারে শরীরের ভিতরে ব্লিডিং, পাকস্থলী থাইকা খাবার বাইর হইয়া আসতে বাধা, ও ইনফেকশন হইতে পারে।

মুখের আলসারঃ এইটারে ক্যাঙ্কার আলসারও (Canker Ulcer) কয়, ছোট বৃত্তাকার ক্ষত কখনো লাল, হলুদ অথবা ধুসর বর্ণের হয়। এগুলি মুখের ভিতরে গালে, ও ঠোটে হয়, এছাড়াও মাড়ি ও জিহ্বায় হইতে পারে। এইগুলি আবার ঠান্ডা লাইগ্যা (Cold Sore) যে ঠোটের বাইরের দিকে হয় সেইগুলি থাইকা আলাদা।

সেলিয়াক ডিজিজ (Celiac Disease) গ্লুটেন (Gluten) এর রিয়েকশন থাইকা উদ্ভুত। ক্রোহন ডিজিজ (Crohn Disease) পেটের ইনফ্ল্যামেশন থাইকা উদ্ভুত, কোন খাবারের প্রতি অতি মাত্রায় স্পর্শকাতরতা যা বেশি এ্যাসিড তৈরী করে, তোমার হরমোনের কেচাল, শরীরে যথেস্ট ভিটামিন না থরন হইতে পারে।

ক্র্যাঙ্ক সোর বা মুখের এই আলসার নিজে থাইকাই সাইরা যায়, তিন সপ্তাহের বেশী থাকলে ডাক্তার মাম্মার পরামর্শ নেও।
স্টমাক আলসারটাই বেশী দেখা যায় আমাদের দেশে দুই নামে পরিচিতি আছে গ্যাস্ট্রিক আলসার ও ডিওডোনাম আলসার।

কি চিকিৎসা হওয়া দরকার তা ডাক্তার মাম্মায় পরীক্ষা কইরা কইব আর চিকিৎসাও করবো। এইটা থাইকা বাইঁচা থাকার জন্য কি করতে পার সেইটা আমি কইতে পারি।
পুস্টিকর আর স্বাস্থ্যকর খাবারও খাইতেই হইব তার সাথে নিচের বিষয় গুলি খেয়াল রাখলে পেটের ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া এইচ পাইলরী বা হেলিকোব্যাকটর পাইলরী নিয়ন্ত্রনে থাকে। তবে এইটা প্রেশক্রিপশনের অষুধরে পরিবর্তন করবো না।

প্রোবায়োটিক, মধু আর গ্লুটামিন (মুরগীর মাংশ, মাছ ডিম পালং শাক আর বাধাকপি থাইকা পাওয়া যায়) গ্রহন করা যাইতে পারে।
আগে মনে করা হইতো কিছু খাবার খাইলে আলসার হয়, আর
আজকাল মনে করা হয় এই কথাটা ঠিক না আর কেউ কেউ মনে করেন হয় কিছু খাবার খাইলে আলসার ঠিক হইয়া যায় এই কথাটাও ঠিক না। তবে স্বাস্থকর আর পুস্টিকর খাবার খাইলে ওভারঅল স্বাস্থ্য ভালো থাকে। সাধারনত, ফাইবার ওয়ালা খাবার, প্রচুর পরিমানে শাকসব্জী ও ফলমূল সমৃদ্ধ খাবার খাইলে শরীর ভালো থাকে।

ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, সবুজ পাতাময় শাক যেমন পালং শাক কেল শাক। প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ দই, আপেল, ব্লুবেরী, স্ট্রবেরী খাওয়া যাইতে পারে।
অভিযোগ আসলেই ডাক্তার মাম্মার সাথে দেখা করা দরকার, সময় মত চিকিৎসা না হইলে পেটের ভিতরে

ব্লিডিংঃ আলসার থাইকা রক্তপাত হইয়া তা জীবনসংহারী হইতে পারে।

পেনিট্রেশনঃ পেটের ইনার লাইনিং ক্ষত হইয়া যখন তা পেটের ভিতরের অন্য অংগেরে ক্ষতি করে যেমন প্যানক্রিয়াস এর ক্ষতি।

পারফোরেশনঃ এইটা ঘটে যখন আলসার অন্ত্রে বা পাকস্থলীতে ছিদ্র কইরা দেয়।

অবস্ট্রাকশনঃ ব্লকেজ, ইনফ্ল্যমেটেড টিশ্যু বা হজম বা ডাইজেস্টিভ ট্রাক্ট ব্লক কইরা দেয়।

স্টমাক ক্যান্সারঃ বিশেষ কইরা নন কার্ডিয়া গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার।
অসুখ মানেই সুখের অভাব! তাই অভিযোগ থাকলেই তার যথাযথ যত্ন নাও।

ভালো থাক, সুস্থ্য থাক।

সহায়ক সূত্রঃ ডাঃ নাজমা রশীদ

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন