রবিবার, জুন ২৩, ২০১৯

চা না কফি!

চা না কফি!

* ইয়া ইয়া লম্বা লেখা, ইচ্ছা হইলে পড়, নাইলে নাই! আমি তোমারে বাধ্য করি নাই।

কারো সাথে দেখা করতে গেলে ‘চা না কফি’? এই প্রশ্নটাই বেশী শোনা যায় দেশে আজকাল। অনেক সময় দ্বিধায় পইড়া যাইতে হয় কোনটা ভালো হইব। কারণ এই দুইটা শব্দ শোনার সাথে সাথেই মগজ কাজ করা শুরু করে, কেমন একটা চাঙ্গা চাঙ্গা ভাব চইলা আসে শরীরে।

মগজ আশা করে এখনি ‘যাদু ঢুকবে শরীরে’, যাদুটার নাম ‘ক্যাফেইন’। মজার ব্যাপার হইলো চা আর কফিতে একই জিনিষ প্রধান, ক্যাফেইন!
আরব মাম্মালোগ দুইন্যারে তেল এর সাথে আর দুইটা ভালো জিনিষ দিছে একটা হইল বেগুন আরেকটা কফি!

কফি শব্দটা ইংরজী্তে নাকি ১৬০০ সাল থাইকা আছে, এইটা আসছে আরবী শব্দ কাহওয়া (Qahwa) > তুর্কী শব্দ কাহভে (Kahve) > ডাচ শব্দ কফে (Koffie) > ইংরাজী শব্দ কফি (Coffee)। ইয়েমেন এ একটা বন্দর আছে যেইখান থাইকা কফি রফতানী হইতো ইয়োরোপে তার নাম মোকা (Mocha), এই নামে একটা কফি এখনো চালু আছে, আর ইয়োরোপীয়রা প্রথমে কফিরে ‘আরাবিয়ান ওয়াইন’ (!!!) নামে আমদানী করতো! এইটা আসছে ‘কাহওয়া আল বুন’ (Qahwaat al Bun) বাক্য থাইকা যার মানে ‘বীজ এর ওয়াইন’ (Wine of Bean)।

ক্যাফেইন একটা প্রাকৃতিক উপাদান যা প্রায় ষাট রকম লতা পাতা, ফল আর বীজে পাওয়া যায়। সেই সাথে চায়ের পাতা ও কফি বীজেও পাওয়া যায়। এইটা ‘সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম স্টিম্যুল্যান্ট’ যা সারা দুইন্যা জুইড়া গৃহীত হয় শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য, চনমনে ভাব আনার জন্য।

শরীর পরিশ্রমের ফলে ‘এ্যাডিনোসাইন’ নামের এক উপাদান তৈরী হয় যা জইমা অবসাদ আনে শরীরে, ক্লান্তি আনে, ক্যাফেইন সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের ‘নিউরোট্রান্সমিটার’ রে ব্লক করে আর শরীর রে এ্যাডিনোশাইনের প্রভাব পড়তে দেয় না।

সুখের কথা চা আর কফি পানে শরীরে বিভিন্ন উপকারিতা লক্ষ্য করা গেছে ( ইয়ে মানে… তাগো নির্জলা সিস্টেমে দুধ, চিনি আর আলিঝালি যোগ না কইরা)। এখন কোনটা খাওয়া উচিত।

জেস কর্ডিং একজন রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান তিনি বলেন, “There is more existing research on tea but we’ve been finding out a lot on coffee too. I think they both can be part of a healthy diet if you feel well when you drink them”. – Jess Cording R.D.

“চা এ প্রাপ্ত উপকারীতা নিয়া অনেক গবেষনা হইছে, সুখের কথা আমরা কফিতে আজকাল উপকারীতা দেখতে পাইতাছি, আমি মনে করি দুইটাই স্বাস্থ্যকর খ্যাদ্যাভাস এর অংশ হইতে পারে আর তা পানে একজন ভালো বোধ করে”।

কথিত আছে খৃস্টপূর্ব ২৭৩৭ সালে চীনা সম্রাট চা আবিস্কার করেন, একদা একদিন তিনি কোন এক বৃক্ষতলে বসিয়া পানি জ্বাল দিতেছিলেন (বুঝতাছিনা তখন কি বাবুর্চী আছিলো না! বাদশাহ নামদার পানি ফুটায় ক্যা!!) সেই পানিতে সহসা বৃক্ষ পত্র পতিত হইল, পরে সেই ফুটন্ত পানির স্বাদ তার কাছে অতি উপাদেয় লাগিল, তিনি চমৎকৃত হইলেন।
তার পর হইতে চা পন্ডিত, পুরোহিত আর সমাজের গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তিদের প্রিয় পানীয় হইল।

চীন, জাপানের উচ্চ সমাজ তাদের পড়াশোনা, জেগে থাকা, গবেষনা ও সাধনার ফাঁকে ফাঁকে চা পান করতে লাগিলেন। এই জন্যই চা পানের সাথে শান্ত সমাহিত, ধর্মীয় ভাব গম্ভীর সুস্থ্য শরীর বিষয় গুলি জড়িত ধারনা করা হয়।

কফির বেলায় কথিত আছ ইথিওপিয়ার উচ্চভূমিতে যাযাবর গোষ্টি ছাগল মেষ চড়াইতো জীবিকা নির্বাহের জন্য, মেষপালকদের একজনের নাম ছিল “কালদি” সে একদিন দেখতে পাইল, তার কয়েক্টা ছাগল একটা বিশেষ গাছের ফল খাইয়া একটু তিড়িংবিড়িং বেশী করতাছে। খোঁজ নিয়া দেখল কেইসটা কি! সেই থাইকা নাকি কফি চালু।

পৃথিবীর আর অন্য সব বিষয়ের মতই পক্ষে বিপক্ষে মতবাদ আর সমর্থক আছে। কোন পক্ষই কম যোগ্যতা সম্পন্ন না, চায়ের পক্ষে বিপক্ষে যেমন লোক আছে কফির পক্ষে বিপক্ষেও তেমন আছে।

হার্ভার্ড স্কুল অফ পাব্লিক হেলথ কয় কফি আর চা দুইটারেই কিছু উপাদান আছে যা মানব কল্যানে আসে, তবে তা প্রায় নিউট্রাল! কফি বেশী খাইলেও তেমন কিছু হয় না আবার না খাইলে বা কম খাইলেও তেমন কিছু হয় না। এমন কি ডেইলি ৬ কাপ কফি খাইলেও মৃত্যু ঝুঁকি নাই।

অন্য দিকে চা এ এন্টিওক্সিডেন্ট আছে যা সম্ভাব্য ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর ভাবা হয়। ইংল্যান্ডের NIH এর National Cancer Institute এর মতে চা পাতায় প্রাপ্ত কম্পাউন্ড পলিফেনল (compound poly-phenol) হইতাছে এ্যনিওক্সিডেন্ট (Anti-Oxidant) যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। যদিও নিশ্চিত কইরা বলা যায় নাই চা আসলেই এই কাজ করে কিনা কিন্তু থেরাপিউটিক ও মেডিসিনাল ড্রিঙ্ক হিসাবে সবুজ চা ধরা হইতাছে।

আট আউন্স (২৩০ মিলিলিটার) এক কাপ চায়ে প্রায় ৩৫ মিলিগ্রামস ক্যাফেইন থাকে, তবে বিভিন্ন ধরনের চায়ের পাতা ও তার প্রক্রিয়ার মধ্যে এর পরিমান ৩০ থাইকা ৫০ মিলিগ্রামস পর্যন্ত হইতে পারে।

উদাহরন হিসাবে বলা যায় টি ব্যাগের চায়ে ক্যাফেইন বেশী থাকে লুজ/খোলা চা পাতার চাইতে। এছাড়াও কত গরম পানি আর কতক্ষন চা পাতা পানিতে ভিজাইছ সেইটার উপরেও পানিতে নির্গত ক্যাফেইন এর পরিমান নির্ভর করে।

একটা তুলনা মূলক চিত্র দেখা যাক, এক কাপ বা আট আউন্স বা ২৩০ মিলিলিটারে কত টুক ক্যাফেইন থাকে?
সবুজ চা ৩০-৩৫ মিলিগ্রামস
ইনস্ট্যান্ট কফি ২৭-১৭৩ মিলিগ্রামস
প্লেইন ব্রিউড কফি ১০২= ২০০ মিলিগ্রামস
এস্প্রসো ২৪০-৭২০ মিলিগ্রামস
কালো চা ২৫-১১০ মিলিগ্রামস
সফট ড্রিঙ্কস ২৩=৩৭ মিলিগ্রামস
এনার্জী ড্রিংক্স ৭২-৮০ মিলিগ্রামস

সম পরিমান পানীয়তে ভিন্ন মাত্রার ক্যাফেইন দেখা যাইতাছে। আর তুলনা মূলক ভাবে সবুজ চায়েই কম!

ক্যাফেইন উদ্দীপক/স্টিম্যুল্যান্ট হিসাবে সারা বিশ্বেই আদ্রীত, যখন ক্যাফেইন পরিমিত আর পরামর্শিত মাত্রায় গ্রহন করা হয় তখন এইটারে নিরাপদ হিসাবেই ধইরা নেওয়া হয়। ১৯ বছর বয়সী মানুষের জন্য রিকোমেন্ডেড মাত্রা হইল সারা দিনে ৪০০ মিলিগ্রামস, বা তার নিজের শরীরের ওজনের প্রতি কিলোগ্রামের জন্য ৬ মিলিগ্রামস। তবে সম্ভাব্য ঝামেলা এড়ানোর জন্য একসাথে ২০০মিলিগ্রামস’র বেশী গ্রহন করতে নিষেধ করা হয়। তার মানে প্রতিদিন চাইর কাপ সবুজ চা পান করলে মোটামুটি ঊক্কে!

কফি = দীর্ঘায়ু + ভাল স্মৃতিশক্তি
আরে না এইটা আমার মত মূর্খের কথা না! “গবেষনায় দেখা গেছে নিয়মিত কফি পানে কিছু ক্রণিক অসুখ প্রিভেন্ট/প্রতিরোধ করা যায় যেমন, ডায়াবেটিস, হাইপেরটেসন আর লিভার ডিজিজ” – Nicole Hahn, RDN clinical dietitian Banner – University Medical Center Phoenix.

আমেরিকা থাইকা প্রকাশিত একটা আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নাল আছে নাম ‘JAMA – Journal of American Medical Association’, সারা দুনিয়ায় একটা রিসার্চ ম্যাগাজিন হিসাবে সমাদৃত, ২০১৮ সালে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের উপরের দশ বছরে পরিচালিত এক গবেষনায় প্রকাশ করে যে এই সময়টায় যারা বেশী কফি পান করছে ( প্রায় আট কাপ পর্যন্ত!!) তাদের মৃত্যু ঝুঁকি তুলনামূলক কম ছিল!!

নিকোল হান আরো বলেন “ one study found that drinking up to
three cups of coffee daily was associated with a 65 percent decreased risk of Alzheimer’s Disease’’ – www.womenshelthmag.com/food/a22855073/tea-vs-coffee
কফিতে পলিফেনল, আর এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা ইনফ্ল্যামেশন রোধ করতে পারে, আর তাতে কিছু কিছু ক্যান্সার রোধ করাও সহজ হয় যেমন এন্ডোমিট্রিয়াল (endometrial), ও (কলোরেক্টাল ক্যান্সার) colorectal cancer।.

চা = শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা + কম ক্যন্সার ঝুঁকি + শক্ত হাড়.
জেস কোরডিং আরো বলেন – “Regular tea cosumption has been associated with lower body weight, improved immure system function and decreased risk of heart attack and stroke” অর্থাৎ নিয়মিত চা পানে দেখা গেছে ওজন কমানো, উন্নত রোগ প্রতিরোধ, স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হইছে।.

এছাড়া উল্লেখ্য চা পান কারীদের বোন ডেন্সিটি বেশী থাকে তার মানে ফ্রাকচার হওয়ার সম্ভাবনা কমে। চা পান মস্তিস্কের উপর ও রিলাক্সড অনুভূতি ছড়ায়, “Green tea contains the amino acid L-theanine which triggers the release of GABA neurotransmitter and helps people enter a relaxed state of mind@ – Ashley Amaral Cardiovascular ICU registered dietitian and Banner – University Medical Center Phoenix, Arizona.

কফির ক্যাফেইন বেদনা নাশক হিসাবেও কাম করে। কারন ক্যাফেইন ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ প্রতিরোধ করতে পারে। দেখা গেছে কফি পানে ব্যাথা বেদনা নাশে প্রায় ৪০% সহায়তা করতে পারে। ক্যাফেইন এস্পিরিন, আইবুব্রুফেন, এ্যাসিটোমেনোফেন অসুধের সাথে বুস্টার এর কাম করে। মাথা ব্যাথার একটা অবস্থা আছে যারে ‘হিপনিক হেডেক’ (hypnic headache) কয়, এইটা সাধারনত বয়স্ক, বৃদ্ধ।বৃদ্ধা দের মাঝে দেখা যায়, ঘুমের মধ্যে মাঝ রাইতে প্রচন্ড মাথা ব্যাথায় জাগায়া দেয়। ডাক্তার মাম্মারা সেই সব রোগীরে ঘুমের আগে এক কাপ কফি পান করতে বলেন।

“Caffeine is a stimulant and affects multiple systems in the body. It can impact the nervous system, making a person jittery or hyperactive, increase heart rate and / or blood pressure and cause some gastrointestinal discomfort”– Ashley Amaral
~দুইটারই খারাপ দিকও আছে। যেহেতু দুইটাতেই ক্যাফেইন আছে, মাত্রাতিরিক্ত হইলে এংজাইটি (Anxiety) বৃদ্ধি, ট্যাকিকারডিয়া (Tachycardia) (হৃৎস্পন্দন বাইড়া যাওয়া) হার্ট প্যাল্পিটিশন (Heart Palpitition), অনিদ্রা বা ইন্সোমনিয়া (Insomnia), ছটফটে ভাব বা রেস্টলেস নেস (Restlessness), ও নসিয়া (Nausia) বা বমি ভা, পেটেভগোলমাল হইতে পারে।

অতি মাত্রায় আনফিল্টার্ড কফি পানের সাথে ব্যাড কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা বৃদ্ধির সংযোগ পাওয়া গেছে। চায়ে ফ্লুরাইড আছে যা দাঁতের জন্য ভালো , কিন্তু অতিমাত্রায় ফ্লুরাইড গ্রহনে ব্রিটল বোনস (Brittle Bones)বা ভংগুর হাড় ও অস্টিওফ্লুরোসিস (Oseofluorosis) রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়া দেয়।

হোয়াইট টি – স্থুলত্ব কমাইতে কামে লাগতে পারে। দেখা গেছে হোয়াইট টি নতুন ফ্যাট সেল জন্মাইতে বাধা দেয়।

হোয়াইট টি (হোয়াইট টি হইতাছে নতুন কূঁড়ি মানে পাতা মেলার আগেই তারে তোলা হয়) তে গ্রীন টির চাইতে বেশী এ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায় , তাই বিশ্বাস করা হয় সাদা চা সবুজ চায়ের চাইতে বেশী কার্যকর।

গ্রীন টি দেখা গেছে মহিলাদের এসোফেগাসের (Esophagus) ক্যান্সার
(খাদ্যনালীর) ঝুঁকি ৬০% কমাইয়া দেয়।

সাদা চা এ এ্যান্টিওক্সিডেন্টের সাথে এ্যান্টি এজিং সম্ভাবনাও পাওয়া গেছে, এইটা কিছু কিছু ক্যান্সারের বাধা হিসাবে কাজে লাগতে পারে, এছাড়াও এইটা রক্তনালীতে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন প্রতিরোধ করে যা হার্ট ডিজিজের নিরোধক হইতে পারে।

অতিরিক্ত গরম চা এসোফেগাল ক্যান্সারের (Esophageal Cancer) ঝুঁকি বাড়ায়।

চা ডায়াবেটিস টাইপ ১ প্রতিরোধ ও নির্নিত হইলে তার প্রগ্রেশন বা বৃদ্ধি রোধে সাহায্য করতে পারে।

প্রতিদিন ৩/৪ কাপ চা পানে হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো যায়।
চায়ে ফ্লোরাইড আছে যা দাঁতের উপকারী।

যে পুরুষরা প্রতিদিন ১০ কাপ সবুজ চা পান করে তাদের পরে লিভারের অসুস্থতার ঝুঁকি কইমা যায়।

চা হৃদরোগ ও কিছু ধরনের ক্যান্সার এর বিপক্ষে কাজ করে।
সমীক্ষায় দেখা গেছে যারা ৬ সপ্তাহের প্রতিদিন ৪কাপ কইরা কালো চা পান করছে তাদের স্ট্রেস হরমোন “করটিসোল” কম ছিল।

সবুজ চা কিছু ধরনের লাং (ফুসফুস) এর ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্য্যকর হইতে পারে।

সাধারন ধারনা ক্যাফেইন শরীরকে শুস্ক (ডিহাইড্রেট) কইরা ফেলে। চা য়ের ক্যাফেইন তা করে না।

চা এ পেস্টিসাইড থাকতে পারে, তবু এইটারে অর্গানিক ধরা হয়।

চা এ প্রচুর ট্যানিন (Tanin) পাওয়া যায়। ট্যানিন শরীর রে আয়রণ শোষনে বাধা দেয়, যা থাইকা রক্তশুন্যতা (Anemia) রোগ হইতে পারে।
চায়ের ক্যাফেইন এংজাইটি ও ব্লাড প্রেসার বাড়াইতে সহায়ক হইতে পারে।

চায়ে দুধ মিশাইলে এর ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে বাধা দিতে পারে।

আর চিনির কাহিনী না ই কইলাম।

এইবার কফিঃ
গবেষনায় দেখা গেছে টাইপ টু ডায়াবেটিসের জন্য কফি উপকারী।
৪০ বছর বা তার বেশী বয়সী পুরুষ মানুষের গাঊট রোগ প্রতিরোধে কফি উপকারী পাওয়া গেছে।

কফির ক্যাফেইন বেদনা নাশক অষুধের কার্য্যকারীতা বৃদ্ধি করে।
কফি লিভার বা কলিজারে প্রতিরোধ করে বিশেষ কইর সিরোসিস ও
লিভার ক্যান্সার থাইকা।

কফি ‘সর্ট টার্ম রিকল’ বা স্মৃতিতে সাহায্য করে, এবং রিয়েকশন টাইম উন্নত করে,বয়স্কদের বেলায় এর কার্য্যকারীতা লক্ষনীয়।

কফি দাঁতে রং বদলায়া দেয়। কাল কইরা দেয়।

ডেনমার্ক এ এক গবেষনায় দেখা গেছে প্রতিদিন আট কাপ বা ততোধিক কফি পানে মহিলাদের মৃত প্রসব এর ঝুঁকি উল্লেখ্য।

গবেষনায় দেখা গেছে কফি পানে হৃৎপিন্ডে রক্তের প্রবাহ হ্রাস পায়।
কফিতে প্রাপ্ত ক্যাফেইন কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করতে পারে।

বৈজ্ঞানিকরা বিশ্বাস করেন কফিতে প্রাপ্ত রাসায়নিক দিয়া কার্যকর নতুন হৃদরোগ প্রতিরোধ আর প্রতিকারকারী অষুধ ও অনিদ্রার চিকিৎসার অষুধ আবিস্কার করা যাইব।

লম্বা সময় ধইরা কফি পানে দেখা গেছে হৃদ রোগে মৃত্যু ঝুঁকি কমে।
যারা বেশী কফি পান করে দেখা গেছে তাদের আলযাইমার রোগের ঝুঁকি কমে।

রোস্টেড কফিতে প্রায় ১০০০ এর বেশী রাসায়নিক পাওয়া গেছে তার মনে ১৯টা কার্সিনোজেনিক! মানে ক্যান্সার হইতে পারে!

উক্কে কি বুঝলা! পুরা আউলাইয়া দিলাম!

প্রত্যেক জিনিষের ভাল আর খারাপ দিক আছে, চা কফি দুইটাই নিজ দোষ আর গুণ নিয়া উপস্থিত। তুমি তোমার প্রয়োজনানুসারে গ্রহন কর। চা কফি দুইটাই ভাল প্লেইন মানে কিছু সাথে না যোগ কইরা। দুধ চিনি সমস্যাই তৈরী করে।

সর্বোপরী আল্লাহ তোমার মগজ দিছে তার ব্যবহার কর।

তথ্য সূত্রঃ Chrisine Yu, Women’s Health
www.self.com
www.medicaldaily.com/health-benefit-coffee-vs-tea-which-one…

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন