বুধবার, আগস্ট ১৫, ২০১৮

একল্যাম্পশিয়া Eclampsia

একল্যাম্পশিয়া Eclampsia

**সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ আমি ডাক্তার না, আমার জ্ঞ্যান কিছু ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞ্যতা, কিছু লেখাপড়া, আর ইন্টারনেট ভিত্তিক। আমি চিকিৎসা দিতে পারি না আমার যোগ্যতা নাই, আমার কাম সতর্ক করা।**

একল্যাম্পশিয়া Eclampsia আরেকটা ঝুঁকিপুর্ন অবস্থা প্রসুতী মায়েদের জন্য। এতে গর্ভবতী মায়ের জীবননাশের রিস্ক থাকে। একল্যাম্পশিয়া বুঝতে গেলে আরেকটা বিষয় বুঝতে হইব তারে প্রি-একল্যাম্পশিয়া Pre-Eclampsia, নামেই বুঝতাছ যে এইটা একল্যাম্পশিয়ার পূর্বাবস্থা। প্রি-একল্যাম্পশিয়া জটিলতা থাইকাই একল্যাম্পশিয়া হয়।

তাইলে আগে প্রি-একল্যাম্পশিয়া বুঝতে চেষ্টা করি, কম কথায় কইতে গেলে উচ্চ রক্তচাপ High Blood Pressure আর ‘প্রস্রাবে প্রোটিন’ এর উপস্থিতি থাকলে ‘প্রি-একল্যাম্পশিয়া’ বলা যাইব। আর একল্যাম্পশিয়া হইলো এই দুই অবস্থার পরে প্রসুতীর ‘সিইযার’ Seizure অথবা ‘কোমা’ Coma আক্রান্ত হইলে । সিইযারঃ মস্তিস্কের কার্যকলাপ উলটাপালটা হইয়া যাওয়া অবস্থা, অসতর্কাবস্থা, শুন্যদৃষ্টি থাইকা ভয়ানক খিঁচুনী Comvulsion হইতে পারে। এর একজন গর্ভবতী মায়ের খিঁচুনী যে কতটুক বিপদজনক তা ভাবতেই পার।

‘In the developed world eclampsia is rare and usually treatable if appropriate inervension is promptly sought.’ Preeaclamsia Foundation. তারা আরো বলেন, তবে যদি চিকিৎসা না নেওয়া হয় তাইলে সিইযার হইতে পারে তা থাইকা কোমা ব্রেইন ড্যামেজ, প্রসুতী বা শিশু মৃত্যুর কারন হইতে পারে।

“Preeclampsia is typically treate with mangesium sulfate as it has been proven to be extremely effective at preventing eclampsia from occuring” – Dr. Jim Martin, mmber of the Foundation Medical Board American College of Obstetricians and Gynecologists.

প্রি-একল্যাম্পশিয়া সাধারনতঃ ম্যাগনেশিয়াম সালফেট দিয়া চিকিৎসা কার্যকরী বইলা প্রমানীত।

ডাক্তার জিম মার্টিন আরো বলেন “We see most eclampsia now after delivery because we use medications to prevent it during labor and delivery”. অর্থাৎ শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরেও আজকাল একল্যাম্পশিয়া দেখা যাইতাছে, কারন আমরা প্রসব বেদনা ও ভূমিষ্ঠ হওয়াকালীন নিরোধের চিকিৎসা করতাছি।

যেই প্রসুতী মায়ের প্রি-একল্যাম্পশিয়া আছে তাদের প্রতি ২০০ জনের মধ্যে একজনের একল্যাম্পশিয়া দেখা দেয়। কোন কোন ক্ষেত্রে এই সিইযার অথবা কোমা দেখা গেলেই টের পাওয়া যায় যে প্রসুতীর প্রি-একল্যাম্পশিয়া ছিল। যেহেতু প্রি-একল্যাম্পশিয়া রোগ একল্যাম্পশিয়া লিড করে তোমার মাঝে দুই পরিস্থিতির বিদ্যমান হইতে পারে। যদিও বিদ্যমান কিডনী ডিজিজ ও ডায়াবেটিস থাকলে একল্যাম্পশিয়া লক্ষন দেখা যাইতে পারে।

প্রি-একল্যাম্পশিয়ায় হাত ও চেহারা ফুইলা যাওয়া (এডিমা), গর্ভাবস্থায় শরীর ফুইলা যাওয়া স্বাভাবিকই ধরা হয় কিন্তু অভিজ্ঞ্য ডাক্তার মাম্মারা বিশেষ কইরা চেহারা এবং চোখের পিছনের ফুলার দিকে নজর দেন। মাথা ব্যাথা সারতে চায় না, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি সপ্তাহে দুই পাউন্ড বা ততোধিক বাইড়া যাওয়া, গা গোলানো, বমি, দৃষ্টি সমস্যা – সাময়িক অন্ধত্ব, ফ্লাশিং লাইট দেখতে পাওয়া স্পটস দেখতে পাওয়া আলোর প্রতি স্পর্শকাতরতা ঝাপ্সা দেখা, প্রস্রাব ত্যাগে সমস্যা উপসর্গ দেখা দেয়।

আর একল্যাম্পশিয়ায় সিইযার, অজ্ঞ্যান হইয়া যাওয়া, চিড়চিড়াভাব, মাথাব্যাথা মাংশপেশী ব্যাথা, ও তলপেটের ডান উপরিভাগে ব্যাথার মত উপসর্গ দেখা দেয়।

It’s considered to be complication of the second half of pregnancy and after delivery – Dr. Jim Martin গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ পরে মানে পাঁচ মাস পরে প্রসুতীর উচ্চ রক্তচাপ আর প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি নির্নয় করে প্রি- একল্যাম্পশিয়া আর এইগুলি বিদ্যমান অবস্থায় অথবা প্রকোপ বাইড়া যদি মস্তিকের স্বাভাবিক কার্য্যকলাপে বাধা দেয় আর সিইযার হয় তখন একল্যাম্পশিয়া নির্নয় হয়।

ডাক্তার মাম্মারা এখনো জানে না কি কারনে প্রি-একল্যাম্পশিয়া হয় কিন্তু কিভাবে প্রি-একল্যাম্পশিয়া থাইকা তা একল্যাম্পশিয়া পরিনত হয় তার ব্যাখা দিতে পারেন। প্রি একল্যাম্পশিয়ারে নীরব রোগ বলা হয়, অনেকসময় রোগী টেরই পায় না তার এই অবস্থাউচ্চ রক্তচাপ, যখন তোমরা শিরায় প্রবাহিত রক্ত তার স্বাভাবিক চাপে চলাচল করতে পারে না, তখন তা আর্টারীর ভিতরের দেওয়ালে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, আর ক্ষতিগ্রস্ত আর্টারী রক্ত প্রবাহে বাধা দেয়, তাতে শিরা কোথাও কোথাও ফুইলা যাইতে পারে, তা তোমার নিজের মস্তিস্কের ভিতরে অথবা গর্ভস্থ শিশুরও হইতে পারে। যদি এই ফুইলা যাওয়া তোমার মস্তিস্কের স্বাভাবিক কার্য্যকলাপে বাধা দেয় তখন তা সিইযারের কারণ হইতে পারে।

প্রোটিনুরিয়া Protinuria টেস্টঃ প্রি-একল্যাম্পশিয়া তোমার কিডনী ফাংশনে ঝামেলা করে। প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি যারে প্রোটিনুরিয়া কয় তার প্রমাণ, তাই গর্ভাবস্থায় প্রতিবার যখন ডাক্তার মাম্মার সাথে দেখা করতে যাইবা প্রস্রাব পরীক্ষা করা দরকার।

সাধারনতঃ কিডনী হইল শরীরের ছাঁকনি, শরীর সম্পূর্ন রক্ত এই ছাঁকনি দিয়া প্রতিনিয়ত পার হইতাছে আর সে রক্ত থাইকা বর্জ্য আলাদা কইরা তা প্রস্রাবাকারে শরীর থাইকা বাইর কইরা দেওয়ার নিমিত্ত্ব মূত্রথলী বা

ব্লাডারে পাঠাইতাছে। যাই হোক কিডনী রক্ত থাইকা নিউট্রিয়েন্টস Nutrients যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় তা রাইখা দিতে সচেস্ট থাকে যেমন প্রোটিন Protien! সে প্রোটিন ধইরা আবার রক্তে পাঠাইয়া দেয় ব্যবহারের জন্য, কিন্তু কিডনির ছাঁকনি যারে গ্লোমেরুলি Glomeruli কয় তা ক্ষতিগ্রস্থ হইয়া যায় তাইলে প্রোটিন লিক কইরা প্রস্রাবের সাথে মিশা যায়।

আগেই কইছি উচ্চ রক্তচাপ, এছাড়াও মাথাব্যাথা ( অনেক কারনে হয়) বয়স ৩৫ এর বেশীতে গর্ভাবস্থা, যময বাচ্চা নিয়া গর্ভাবস্থা, প্রথম গর্ভাবস্থা, অপুস্টির শিকার, ডায়াবেটিস সহ শিরার অন্য কোন অসুখ একল্যাম্পশিয়ার কারণ হইতে পারে।

প্রি-একল্যাম্পশিয়া ও একল্যাম্পশিয়া দুইটাই গর্ভস্থ শিশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, কারন এইটা প্ল্যাসেন্টা Placenta র ক্ষতি করে। প্ল্যাসেন্টা মায়ের সাথে শিশুর সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা/রাস্তা, শিশুর জন্য অক্সিজেন, রক্ত, খাদ্য সব মায়ের রক্ত থাইকা শিশুর শরীরে এই প্ল্যাসেন্টা দিয়াই সরবরাহ হয়। যখন হাই ব্লাড প্রেসার শিরায় রক্ত সরবরাহে বাধা দেয় বা সীমিত কইরা দেয় তখন প্ল্যাসেন্টা তার স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না। এতে জরায়ূতে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধা পাইতে পারে আর অন্যান্য জটিলতা নিয়া শিশুর জন্ম নিতে পারে।
প্ল্যাসেন্টার সমস্যায় অনেক সময় প্রি-ম্যাচুর pre-mature বাচ্চা জন্ম দিতে বাধ্য করে বাচ্চার ও মায়ের জীবন চিন্তা কইরা। আর দূর্ভাগ্যবশতঃ কখনো কখনো তাতে প্রাণহানিরও কারণ দেখা যায়।

ডাক্তার মাম্মা তোমার বিভিন্ন রকম রক্ত পরীক্ষা কইরা তোমার প্রি অথবা একল্যাম্পশিয়ার পরিস্থিতি নিশ্চিত করবেন। সেই সব টেস্টের মধ্যে হেমাটোক্রিট Hematocrit টেস্ট যা তোমার শরীরের লোহিত কণিকার সংখ্যা নিরুপন করবে, প্ল্যাটিলেট কাউন্ট Platilate Count করবে তোমার রক্ত কতটা ভালো ভাবে জমাট বাধতে পারতাছে। তোমার কিডনী ও লিভার এর কার্যকলাপ দেখার জন্যও রক্ত পরীক্ষা করা হইব।

ক্রিয়েটিনিন Createnin টেস্ট করাইবেন, শরীরের পেশীর বর্জরে ক্রিয়েটিনিন কয়, শরীরের পেশীর এই বর্জ্য রক্ত বাহিত হইয়া কিডনিতে পৌছায় এইখানে গ্লমেরুলি Glomeruli নামের ছাঁকনি দিয়া রক্ত থাইকা এই ক্রিয়েটিনিন আলাদা কইরা তা প্রস্রাব আকারে ব্লাডারে পাঠায়া দেয় কিডনি, এই গ্লোমেরুলি ড্যামেজড হইলে ক্রিয়েটিনিন থাইকা যায় রক্তে আর অতিরিক্ত ক্রিয়েটিনিন উপস্থিতি প্রি-একল্যাম্পশিয়া কারণ হইতে পারে।

প্রস্রাব টেস্টঃ প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য ডাক্তার মাম্মা এই টেস্ট অর্ডার করতে পারেন।

সন্তান প্রসবই এই পরিস্থিতি থাইকা পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র উপায়।
তোমার প্রেগন্যান্সীর প্রথম দিকে ডাক্তার মাম্মা যদি প্রি একল্যাম্পশিয়া নির্ণয় করেন তাইলে তিনি তোমারে পর্যবেক্ষনে রাখবেন অসুধ পত্র, উপদেশ দিবেন যাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে আর তা একল্যাম্পশিয়া পর্যবসিত না হয়।

আর যদি তা একল্যাম্পশিয়ায় রূপান্তরিত হইয়া যাইয়া থাকে তাইলে তোমার গর্ভকালের উপরে নির্ভর কইরা তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসব করাইতে পারেন, সাধারনত ৩২ থাইকা ৩৫ সপ্তাহ গর্ভকালের সময় এই ডেলিভারী করাইতে পারেন যদি তোমার অবস্থা খারাপ থাকে আর প্রচলিত ওষুধ পত্রে কাজ না হয়, তোমাকে পুরা সময়টাই হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষনে থাকতে হইতে পারে।

উক্কে মাম্মা, আমি বাসায় বইস্যা কি করতে পারি?
খাবারে পুস্টির দিকে কড়া নজর রাখ, ক্যালসিয়াম গ্রহনে সচেস্ট হও। নিয়মিত নিজের ও গর্ভস্থ শিশুর মনিটরিং করাও। প্রেস্ক্রিপশনের সব অষুধ পরামর্শ মত গ্রহন কর, পরিমিত ব্যায়াম (নির্দেশিত হইলে) আর বিশ্রাম কর। ডাক্তার মাম্মার পরামর্শমত চললে ও মনিটরিং ঠিক মত করলে ভয় নাই, ইনশা আল্লাহ সুস্থ্য শিশুর মা হইতে পারবা কোন জটিলতা ছাড়া। যদি জটিলতা দেখা দেয়, তাইলে ইমারজেন্সীতে যাইতে হইতে পারে, যেমন যদি ‘প্ল্যাসেন্টার এব্রাপশন’ Placenta Abruptoion দেখা দেয়, এই ক্ষেত্রে জরায়ু থাইকা প্লাসেন্টা আলাদা হইয়া যায়, তৎক্ষনাত সিজারিয়ান কইরা বাচ্চা ভূমিষ্ঠ করা লাগে নইলে বাচ্চা গুরুতর অসুস্থ্য এমন কি মারাও যাইতে পারে।

সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পরপর সাধারনতঃ একল্যাম্পশিয়া লক্ষন সাইরা যায়। কিন্তু পরের বাচ্চার সময়ও উচ্চ রক্তচাপের কেচাল হইতে পারে। মেয়ো ক্লিনিকের মতে, যাদের সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরে প্রি একল্যাম্পশিয়া উপসর্গ দেখা দেয় তাদের দেখা দেয় সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে তা ছয় সপ্তাহ পরেও হইতে পারে। এইটারে ‘পোস্ট পার্টাম প্রি-একল্যাম্পশিয়া’ কয়,

‘While obviously not dangerous for the baby, postpartum preeclampsia is still critical for the mother’ – Preeclampsia Foundation
যদিও এতে শিশুর কোন ঝুঁকি থাকে না কিন্তু পোস্ট পার্টাম প্রি একলাম্পশিয়া মায়ের জন্য অতন্ত্য ঝুঁকিপূর্ণ।

‘Nearly 80% of women who die from preeclampsia die postpartum. Sleep deprivation postpartum depression more attention of the new born and lack of familiarity with normal post partum experience will contribute to more easily ignoring or missing indicators of a problem.’
প্রি একল্যম্পশিয়াতে যে মায়েরা মৃত্যুমুখে পতিত হয় তার ৮০% পোস্ট পার্টাম মানে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পরে!অনিদ্রা, (ঘুমাইতে না পারা) প্রসবোত্তর অবসাদ (ডিপ্রেসন), নতুন বাচ্চার প্রতি অতিরিক্ত খেয়াল, উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার অভিজ্ঞতা, সবকিছুই নতুন মায়েদের পোস্ট পার্টাম প্রি একল্যাম্পশিয়াতে মৃত্যুর কারন হইতে পারে।

আধুনিক যুগে সাধারনতঃ গর্ভাবস্থা চলাকালীন সময়েই ডাক্তার মাম্মাদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয় তাই প্রিএ্যাকলাম্পশিয়া নির্নয় সহজ আর চিকিৎসা মনিটরিং শুরু হইয়া যাইতে পারে। তাই ভয়ের কিছু নাই, ভয়টা হইল ডাক্তার মাম্মার কাছে যাইয়া মনিটরিং না করা।
“They’re focused on the baby” – Dr. Martin

কতা সইত্য! আমরা দুইন্যার নতুন মেহমান নিয়া বেশি ব্যস্ত হইয়া যাই আর মেহমান আনয়নকারীর শাররীক অবস্থারে বাচ্চা হওয়ার পরে “এমনই হওয়ার কথা” বইলা এড়াইয়া যাই।

মূল প্রশ্নঃ এই একল্যম্পশিয়া রোগের চিকিৎসা কি!
উত্তরঃ আমি কইতে পারুম না আমি ডাক্তার না। তোমার গাইনিকোলজিস্ট অবস্টেট্রেশিয়ান এর সাথে নিয়মিত কথা বল। আমার কাম তোমারে সতর্ক করা।

সহায়ক সুত্রঃ ডাঃ নাজমা রশীদ
Brindles Lee Macon and Marijane Leonard
Debra Rose Wilson, PhD, MSN RN www.Healthline.com/health/eclampsia
Ashley Hays, www.CNN.com
Melissa Conrad Stoppler MD www.emedicinehealth.com/eclampsia

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন