মঙ্গলবার, জুলাই ১৭, ২০১৮

আত্মসমালোচনা

আত্মসমালোচনা

একটা ছেলে বা মেয়ে যেদিন অসংখ্য ছেলে মেয়ের মধ্য থেকে মেডিকেলে চান্স পেয়ে যায় তখন থেকেই তার মধ্যে একটা ভাবের উদয় হয়,মানুষ দুই প্রকার। মেডিকেল আর ননমেডিকেল পারসন।এইটা পারসিস্ট করে বাকি জীবন।অমুকের বউ বা বর ননমেডিকেল প্রায় আমরা এমন বলে থাকি।

মেডিকেলে ভর্তি থেকেই নিজেকে আলাদা ভাবা শুরু।এরপর মাল্টিবিভাজন চলতে থাকে।যারা অপেক্ষাকৃত প্রথমসারির মেডিকেল তারা নিচুসারির মেডিকেলকে নিচু চোখে দেখে,যারা সরকারি মেডিকেল তারা বেসরকারি মেডিকেলকে যারা নামকরা বেসরকারী মেডিকেল তারা নামহীন বেসরকারি মেডিকেলের দিকে অবজ্ঞার চোখে দেখে।

মেডিকেলে পড়তে এসে,যারা অপেক্ষাকৃত খারাপ রেজাল্ট করে তাদের অপেক্ষাকৃত যারা ভাল রেজাল্ট করে তারা পাত্তাই দেয় না।এরপর এম বি বি এস পাশ করার পর আরেক যুদ্ধ।

ডিগ্রী, বিসিএস।যাদের এইসব থাকে তারা যে মেডিকেলই হোক অন্যদের নিন্ম দৃষ্টিতে দেখে।ডিগ্রির মধ্যেও ভেদাভেদ আছে,উত্তম, মধ্যম,অধম।উত্তম ডিগ্রিধারীরা অধমদের আধামরা ভাবে।আবার যাদের দুই তিনটা ডিগ্রী তারা এক ডিগ্রি আলাদের নিচু চোখে দেখে।ডিগ্রির মধ্যেও আবার ক্লিনিকাল আর বেসিক আছে।যারা ক্লিনিকাল তারা বেসিকদের ডাঃ ই মনে করেনা।

যারা কন্সাল্টেন্ট তারা মেডিকেল অফিসারকে ভাবে আয়া, পিওন(কিন্তু আয়া পিওনকে পারলে স্যার ভাবে),এসিস্ট্যান্ট প্রফেসরেরা কন্সাল্টেন্টদের,এইভাবে যত এরা উপরে উঠে ততই তারা নিজেকে প্রভু ভাবতে শুরু করে,অন্যদের ভৃত্য। ডাক্তার হয়ে ডাক্তারদেরকেই এমনকি সিনিয়রদেরকেও পাত্তা দেয় না,তাহলে অন্যদের কি করতে পারে!!

অন্যকেও পাত্তা দেয়।অনেককেই দেখেছি,ডাক্তারদেরকে পাত্তা না দিলেও,পুলিশের এস আই,সাংবাদিক পরিচয় দিলে,মিনিস্ট্রির কেরানী ইত্যাদি শুনলে ঝুকে পরে,মেরুদণ্ডহীন। যার যে লেভেল।

ননমেডিকেল বলা দিয়ে আমাদের অহংকার শুরু হয়,অথচ আমরা ভুলেই যাই,আমাদের বাবা মা কি সবার ডাক্তার কিংবা চৌদ্দগুষ্টির সবাই কি ডাক্তার?তাহলে অন্যদের অসম্মান কেন করি?সুশিক্ষার অভাব!অনেকেই হুট করে অনেক কিছু পেয়ে যায়,ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করে।

শিক্ষায় যতদিন ‘বিনয়’ না আসবে ততদিন,যে যত বড় ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার, জর্জ, ব্যারিস্টার, পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট যাই হোক না কেন,জনগণের সেবক হতে পারবে না।

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন