বুধবার, আগস্ট ১৫, ২০১৮

সিয়াম এবং স্বাস্থ্যঃ রোযা এবং ফ্যাটি লিভার

সিয়াম এবং স্বাস্থ্যঃ রোযা এবং ফ্যাটি লিভার

নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারকে অনেক সময় সংক্ষেপে ফ্যাটি লিভার বা NAFLD বলা হয়। এটাকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার বলা হয়; কারণ অতিরিক্ত মদ পান করলেও লিভারে একই রকম চর্বি জমে যা অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার নামে পরিচিত। মদ পানের জন্যই হোক কিংবা অন্য কোন কারণে হোক, উভয় ক্ষেত্রে লিভারের পরিবর্তন একই রকম। কিন্তু এদের আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। কারণ দুইয়ের মধ্যে চিকিৎসার পার্থক্য রয়েছে।

নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার কেন হয় তা বেশ জটিল। তবে শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া বা মেদভুঁড়ি এর একটি বড় কারণ। অন্যান্য ঝুঁকিসমূহের মধ্যে রয়েছেঃ ডায়াবেটিস, রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপ । ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল-এই তিনটি সমস্যা একসঙ্গে থাকলে তাকে বলা হয় “মেটাবলিক সিনড্রোম” (metabolic syndrome)। সুতরাং অন্যভাবে বলা যায় মেটাবলিক সিনড্রোম লিভারে চর্বি জমার একটি পর্যায় কিংবা পরিণতি। আর এরফলে এধরণের রোগীদের ডায়াবেটিসের জটিলতা এবং হৃদরোগ হতে পারে। বয়স বাড়লেও লিভারে চর্বি জমার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কারণ বয়সের কারণে ওপরের ঝুঁকিগুলিও বাড়তে থাকে। যারা বিড়ি-সিগারেট বেশী পান করেন তাদের লিভারে চর্বি জমার প্রবণতাও বেশী।

সম্প্রতি ইরানের তাব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে ফ্যাটি লিভারের ওপর রোযার প্রভাব নিয়ে খুব চমৎকার একটি গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাটি লিভারের রোগীরা রোযা থাকার ফলে রক্তের গ্লুকোজ, ইনসুলিন সহ অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের কেমন পরিবর্তন হয় তা লক্ষ্য করা। এরজন্য গবেষকগণ ৮৩ জন ফ্যাটি লিভারের রোগীকে বেছে নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৪২ জন স্বেচ্ছায় রমযান মাসে রোযা থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আর বাকী ৪১ জন রোযা থাকেননি।

ফলাফলে দেখা যায় যারা রোযা রেখেছেন, তাদের সকলেরই রক্তে গ্লুকোজ, ইনসুলিন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং প্রদাহজনিত বিভিন্ন সাইটোকাইনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। কিন্তু একই পরিস্থিতিতে যারা রোযা রাখেন নি, তাদের রক্তে কোন পরিবর্তন হয়নি। সুতরাং গবেষকদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে রমযানের রোযা ফ্যাটি লিভারের রোগীদের জন্য উপকারী।

এই ফলাফলে অবাক হওয়ার কোন কারণ নেই। নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রধান উপায় ওজন কমানো । আর ওজন কমাতে হলে অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে, যথেষ্ট পরিমাণে ফল এবং সবজি খেতে হবে, চিনি এবং মিষ্টিজাতীয় খাবারের পরিমাণ সীমিত রাখতে হবে, খাবারে লবণের পরিমাণ কমাতে হবে। সুষম খাবার খেলে এবং নিয়মিত ব্যায়াম করলে শুধু যে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তা নয়; অন্যান্য রোগ-ব্যাধি এবং ঝুঁকি (যেমন- ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ) থেকেও পরিত্রাণ পাওয়া যায়। আর এর ফলে ডায়াবেটিসের জটিলতা এবং হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। একমাসের রোযা এই উপকারী অভ্যাস গড়তে এবং ক্ষতিকর জীবনাচরন পরিবর্তনে বিশেষ সাহায্য করতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ Aliasghari F, Izadi A, Gargari BP, Ebrahimi S. The Effects of Ramadan Fasting on Body Composition, Blood Pressure, Glucose Metabolism, and Markers of Inflammation in NAFLD Patients: An Observational Trial. J Am Coll Nutr. 2017 Nov-Dec;36(8):640-645.

 

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন