শুক্রবার, ডিসেম্বর ৭, ২০১৮

সিয়াম এবং স্বাস্থ্যঃ ব্রেইন স্ট্রোক

সিয়াম এবং স্বাস্থ্যঃ ব্রেইন স্ট্রোক

ব্রেইন স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতের ফলে মস্তিষ্কের রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায় কিংবা রক্তনালী ফেটে রক্ত ক্ষরণ হয়। মস্তিষ্ক কোষসমূহ অত্যন্ত সংবেদনশীল। স্ট্রোকের পরে মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্থ অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং গ্লুকোজ সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় মস্তিষ্কের নিউরনসমূহ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং ওই নিউরনসমূহ শরীরের যে অংশ নিয়ন্ত্রণ করত সেই অংশগুলো পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে অবশ হয়ে যায় এবং অন্যান্য লক্ষণ উপসর্গ দেখা দেয়।

হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি মোটামুটি একইরকম। যেমনঃ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে বাড়তি কোলেস্টেরল, ধূমপান করা, মেদ-ভুঁড়ি, মদ্যপান, শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করা, পারিবারিক ইতিহাস ইত্যাদি। বয়স্ক পুরুষদের (বিশেষত যাদের বয়স ৫৫ বছরের ওপরে) তুলনামূলক বেশী স্ট্রোক হয়।

অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে রোযার সময় বাড়তি স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে কি? রোযার সময় স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে কিনা,এ নিয়ে আগেও গবেষণা হয়েছে। কিন্তু সেসব গবেষণায় রমযান মাসে রোযা রাখার ফলে বেশী স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়নি। আজকাল স্ট্রোক হওয়ার হার বেড়েছে। সার্বিকভাবে স্ট্রোকের হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি এ সম্পর্কে একটি নতুন বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। দেখার বিষয় ছিল রমজানের সঙ্গে অতিরিক্ত স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে কিনা?

ইসরাইলের সরকা ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারে ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত যত স্ট্রোকের রোগী ভর্তি হয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সময়ে দক্ষিণ ইসরাইলের একটি আবহাওয়া কেন্দ্রে সংরক্ষিত দৈনিক তাপমাত্রা এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতার হিসেব নেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে উক্ত হাসপাতালে ৪৭২৭ জন স্ট্রোকের রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৬৪ জন ছিলেন আরব বেদুইন। এদের মধ্যে রমযান মাসে ৫১ জন আরব বেদুইনের স্ট্রোক হয়েছে। এই সংখ্যা অন্যান্য সময়ের চেয়ে এবং যারা রোযা রাখেননি তাদের চেয়ে দেড় থেকে দুইগুণ বেশী। অথচ স্ট্রোকের সকল রোগী একই রকম আবহাওয়ার তাপমাত্রা এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতার মধ্যে অবস্থান করছিলেন।

গবেষকগণের সিদ্ধান্ত হচ্ছে আরব বেদুইন যারা রমযান মাসে রোযা রাখেন তাদের মধ্যে স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা এই সময়ে (বিশেষত প্রথম দুই সপ্তাহে) বেড়ে যায়। এই ফলাফল আরব বেদুইন ছাড়া দুনিয়ার অন্যদের জন্যও প্রযোজ্য কিনা, সেটা এখনও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে যাদের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি কিংবা ঝুঁকিসমূহ রয়েছে, রোযার আগে এবং রোযা থাকার সময় তাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

তথ্যসূত্রঃ
• Zimhony N, Abu-Salameh, Sagy I, Dizitzer Y et al. Increase in Ischemic Stroke Incident Hospitalizations Among Bedouin Arabs During Ramadan Month. J Am Heart Assoc. 2018 May 3;7(10). pii: e008018.
• Bener A, Hamad A, Fares A, Al-Sayed HM, Al-Suwaidi J. Is there any effect of Ramadan fasting on stroke incidence? Singapore Med J. 2006; 47(5):404-8.

 

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন