শনিবার, জুন ২৩, ২০১৮

সিয়াম এবং স্বাস্থ্যঃ কিডনির রোগীদের রোযা

সিয়াম এবং স্বাস্থ্যঃ কিডনির রোগীদের রোযা

অনুমান করা হয় পৃথিবীজুড়ে ১০% অর্থাৎ প্রায় ৭০ কোটি মানুষের ক্রনিক কিডনির সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন কারণে কিডনির রোগের প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। সুতরাং মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যেও একটি ব্যাপক সংখ্যক কিডনির রোগী রয়েছে এবং তাদের অনেকেই রোযা রাখতে আগ্রহী। কিন্তু কিডনির রোগীরা রোযা থাকলে কেমন সমস্যা হয় সে সম্পর্ক নির্ভরযোগ্য তথ্যের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ সম্পর্কে যে সীমিত গবেষণার ফলাফল পাওয়া যায় তাতে রোযা রাখলে কিডনির সমস্যা বেড়ে যায় বা ক্ষতি হয় এমন প্রমাণ কমই মিলেছে।

তারপরও অধিকাংশ গবেষক মনে করেন রোযা থাকাকালে দীর্ঘ সময় পানীয় গ্রহণে বিরত থাকা কিডনির রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং পারতপক্ষে ক্রনিক কিডনি ডিজিজের রোগীদের রোযা রাখা থেকে বিরত থাকা ভালো । সুতরাং যাদের কিডনির ক্রনিক সমস্যা রয়েছে তাঁরা রোযা থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত এবং পুরো রমযানের সময় নিয়মিত কিডনির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যাদের কিডনির রোগের গুরুতর উপসর্গ রয়েছে কিংবা কিডনি বিকলতার লক্ষণ রয়েছে তাদের রোযা রাখা থেকে বিরত থাকা বিধেয়।

অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে রোযা রাখলে কিডনির পাথরের ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে কি ?
কোন কোন গবেষণার ফলাফলে দেখা গিয়েছে রমজানের সময় রেনাল কোলিক বা কিডনির ব্যথা নিয়ে তুলনামূলকভাবে বেশী রোগী হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এসে থাকেন। কিন্তু অন্যান্য পর্যবেক্ষণে তেমন কোন প্রমাণ মেলেনি । রোযা থাকলে কিডনির পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে কিনা সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য খুব কম। তাছাড়া এ পর্যন্ত পাওয়া রোযা সম্পর্কে অধিকাংশ গবেষণা শীতকালে পরিচালিত হয়েছে । এজন্য গ্রীষ্মকালের রোযা কেমন প্রভাব ফেলে সে সম্পর্ক মন্তব্য করা কঠিন। সম্প্রতি সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ মেডিক্যাল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আগত এমন ২৩৭ জন রোগীর ওপর ১০ বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে । দেখা যাচ্ছে গ্রীষ্মকালে রমজান মাসে রোযা থাকলে যাদের ইউরেটারে পাথর রয়েছে তাদের ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে আসার হার অন্যান্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বেশী। তবে কিডনির অন্যান্য পাথরের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য দেখা যায়নি। সুতরাং বলা যায় রোযা সাধারণত কিডনি পাথরের ক্ষেত্রে কোন ঝুঁকি বাড়ায় না। তবে গ্রীষ্মকালে রোযা থাকলে ইউরেটারের পাথরের কারণে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এমন রোগীর ওপর রোযার প্রভাব নিয়ে অনেকগুলি গবেষণা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সফল কিডনি প্রতিস্থাপনের পরে রোযা রাখা নিরাপদ। তবে তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে রোযার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে ।

সকলেই একমত যে, যারা রোযা রাখবেন তাদের ইফতারী এবং সেহরির মধ্যবর্তী সময়ে যথেষ্ট পানীয় পান করতে হবে যেন ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২ লিটার পরিমাণ প্রস্রাব নির্গত হয়। যথেষ্ট পানীয় পান করলে এবং প্রস্রাবের পরিমাণ ঠিক থাকলে কিডনির পাথরের কোন বাড়তি ঝুঁকি থাকে না। এছাড়া, কিডনির রোগীদের খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ সীমিত রাখতে হবে; ভিটামিন সি, লবণ, পটাসিয়াম এবং অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার (যেমন- পালং শাক, রুবার্ব,আঙ্গুর, খেজুর, বীট, আলুর চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বাদাম ইত্যাদি) কম গ্রহণ করতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ
• Al Mahayni AO, Alkhateeb SS, Abusaq IH, Al Mufarrih AA, Jaafari MI, Bawazir AA. Does fasting in Ramadan increase the risk of developing urinary stones? Saudi Med J. 2018 May;39(5):481-486.
• Bragazzi NL. Ramadan fasting and chronic kidney disease: A systematic review. J Res Med Sci 2014;19:665-76.

 

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন