শনিবার, জুন ২৩, ২০১৮

সিয়াম এবং স্বাস্থ্যঃ শুরুর কথা

সিয়াম এবং স্বাস্থ্যঃ শুরুর কথা

হিজরী পঞ্জিকার নবম মাস “রমযান”। “রমযান” শব্দের অর্থ “দহন”। দহন বলতে রোযা বা সিয়ামকে বোঝানো হয়েছে। কারণ উপবাস বা রোযার মাধ্যমে ব্যক্তির পার্থিব লোভ-লালসা দগ্ধ হয়। রমজান মাস মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র মাস। এ মাসে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে এবং মুসলমানগণ “সাওম” বা “রোযা” পালন করে থাকেন। রমযান মাসের রোযা ইসলাম ধর্মের পাঁচটি প্রধান স্তম্ভের একটি বা অবশ্য পালনীয়। হিজরী পঞ্জিকা একটি চন্দ্রনির্ভর বর্ষপঞ্জি। চান্দ্র বছর ৩৫৫ দিনে হওয়ার কারণে প্রতি বছর রমযান ১০ দিন পিছিয়ে যায়; ফলে পর্যায়ক্রমে রমযান মাস ষড়ঋতুর যে কোন ঋতুতে পড়তে পারে।

২০১৫ সালের হিসেব অনুসারে ইসলাম ধর্মানুসারী মানুষের সংখ্যা ১.৮ বিলিয়ন যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২৪% বা প্রায় চার ভাগের এক ভাগ। অনুমান করা হয় প্রতিবছর ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মুসলিম রমযান মাসে রোযা পালন করে থাকেন। এই মাসের ২৯ কিংবা ৩০ দিন তারা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, যৌনাচার এবং ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থাকেন। দীর্ঘ একমাস সেহরি এবং ইফতারের খাবারের পরিবর্তিত তালিকা এবং ঘুমের সময় পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই কোটি কোটি রোযাদারের দৈনন্দিন স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পরে। শারীরিক অসমর্থতা কিংবা অসুস্থতার কারণে রোযা পালনে বিরত থাকার নির্দেশনা এবং সে অনুসারে কাযা ও কাফফারার বিধান রয়েছে।

কুরআন শরীফে বলা হয়েছেঃ “নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন। তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হবে, কিংবা সফরে থাকবে, তাহলে অন্যান্য দিনে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আর যাদের জন্য তা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদইয়া-একজন দরিদ্রকে খাবার প্রদান করা। অতএব যে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত সৎকাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর হবে। আর সিয়াম পালন তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জান।” -সূরা আল-বাকারাহ; আয়াতঃ ১৮৪।

কিন্তু অসুস্থতা সত্ত্বেও অনেক সময় ধর্মপ্রাণ অনেকে রোযা রাখতেই বেশী আগ্রহী হয়ে থাকেন। বলাবাহুল্য, ধর্মীয়, আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস মানুষের স্বাস্থ্যগত আচরণ এবং ওষুধ-পথ্য ব্যবহারের ওপরেও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। ফলে রমযানের কারণে অনেক ক্রনিক রোগব্যাধির সমস্যা এবং জটিলতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মনোদৈহিক স্বাস্থ্যের ওপর এই প্রভাব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট রোগী এবং চিকিৎসক উভয়েরই সচেতন থাকা দরকারী। পৃথিবীতে অর্ধ শতাধিক দেশ মুসলিম প্রধান হলেও, বর্তমানে প্রায় সকল দেশেই কমবেশী মুসলমান জনগোষ্ঠীর অবস্থান রয়েছে। অসুস্থতার জন্য তারা যেকোন সময় যেকোন ধর্মাবলম্বী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন; এজন্য চিকিৎসাশাস্ত্রে রমযানের সময় রোযা পালনের জন্য পরিবর্তিত স্বাস্থ্যগত সমস্যা ও ওষুধ-পথ্য সম্পর্কে সকল চিকিৎসকের ধারণা থাকা আবশ্যক মনে করা হয়। বিগত কয়েকবছরে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির ওপর রোযার প্রভাব এবং করণীয় নিয়ে বিভিন্নমুখী গবেষণা হয়েছে। গত এক বছরে প্রায় শ’খানেক নতুন গবেষণা এবং পর্যবেক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন