বৃহস্পতিবার, মে ২৪, ২০১৮

দুধ মাংস জলাতংক

দুধ মাংস জলাতংক

আজ ফরিদপুর হইতে প্রাক্তন সিভিল সার্জন ডা সিরাজুল হক জিগাইলেন, সম্ভাব্য জলাতংকগ্রস্ত গাভীর দুগ্ধপানকারী আদমদিগকে জলাতংকের টিকা দিতে হইবে কিনা। চিকিৎসকদের ফেসবুক গ্রুপ প্লাটফর্মে অনুরূপ ক্ষেত্রে টিকা লইতে হইবে কিনা তাহার জোড় আলোচনা চলিতেছে। লক্ষণ শুভ; জলাতংক বিষয়ে চিকিৎসকদের আগ্রহ এবং বহুমাত্রিক মতামত ও গনতন্ত্র। বছর কয় পূর্বে রাজশাহীত  বিবাহের দাওয়াতে সম্ভাব্য জলাতংকগ্রস্ত গরুর মাংস খাওয়ানোকে কেন্দ্র করিয়া কলহ বিবাদ সহ দাম্পত্য সম্পর্ক হুমকিতে পতন বিষয়ক এক সমস্যা বিষয়ে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তার সংশয়পূর্ণ টেলিফোনের কথাও স্মরন হইতেছে। এই সমস্ত বিষয়ে আলোচনায় আমার আগ্রহ সমুদ্রতুল্য; সারাদিন তাহা বহমান হইলেও মনে কুলকুল বাতাস বহিতে থাকে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে pathogenesis, pathology, disease transmission, epidemiology  এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের যৌক্তিক পন্থা অবলম্বন করিয়া সিদ্ধান্ত নিলে সংশয়োত্তীর্ণ সিদ্ধান্ত লইতে, পরামর্শ প্রদানে এবং চিকিৎসা দানে সমস্যা হইবে না।
বাংলাদেশে মূলত পাঁচটি প্রাণীর মাধ্যমে জলাতংক ছড়ায়; ক্রমানুসারে তাহারা কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজী ও বানর; মূলত জলাতংকগ্রস্ত প্রাণীর লালার মাধ্যমে। ইঁদুর বা চিকার মাধ্যমে জলাতংক ছড়ায় না; জলাতংকগ্রস্ত গরুছাগলের মাংস বা দুধ খাওয়ার মাধ্যমে ছড়ায় না। জলাতংকগ্রস্ত মানুষ হইতেও আরেক মানুষে ছড়াইবার নজির নাই। তত্ব আর বাস্তবতায় বিস্তর তফাত; epidemiological বা রোগতাত্বিক নজির হইতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং সদস্য রাষ্ট্র সমূহ মাননীতি তৈয়ার করিয়া থাকে। আমরা সে ভাবেই সিদ্ধান্ত লইয়া থাকি, পরামর্শ দেই এবং ব্যবস্থাপনা করা হইয়া থাকে। শুধু ভাইরাস ঢুকলেই হইবে না,  কামড় বা আঁচড়ে লালার মাধ্যমে ভাইরাস যুক্ত লালা ক্ষতের নার্ভে প্রবেশ করিতে পারিলে এবং ভাইরাস সংখ্যা সংক্রমন যোগ্য হইলেই কেবল জলাতংক হইবে। খাদ্য নালীতে ক্ষত থাকিলেও ঐ স্থলের নার্ভের মাধ্যমে জলাতংক হইবার নজির নাই।
কামড় বা আঁচড় ক্ষতকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়; ক্যাটাগরি১: সামান্য রক্তপাতহীন ক্ষত বা আঁচড় বা লেহন, ক্যাটাগরি২: যে কোন পরিমানের রক্তাক্ত ক্ষত, ক্যাটাগরি৩: মারাত্মক ধরনের ক্ষত। ক্যাটাগরি অনুযায়ী চিকিৎসা তিন ধরনের; ক্যাটাগরি১: কাপড় কাঁচা সাবান দিনে ঘসে ঘসে পানি দিয়ে ১৫ মিনিট ধরে ধোয়া, ক্যাটাগরি২: ধোওয়া এবং টিকা, ক্যাটাগরি৩: ধোওয়া, টিকা এবং ইমিউনোগ্লোবিউলিন। দুই ভাবে টিকা দেয়া যায়; মাংসে (IM) এবং চামড়ার মধ্যে (ID); IM এর ক্ষেত্রে পাঁচ ডোজ: ০,৩,৭,১৪,২৮ দিনে; ID এর ক্ষেত্রে চার ডোজ ০,৩,৭, ২৮ দিনে। IM কোম্পানী ভেদে ০.৫ মিলি এবং ID ০.১মিলি করে ২ বাহিকে ০.২ মিলি।
ঢাকায় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, মহাখালী এবং দেশের সকল জেলায় প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্হ্য কর্মীদের মাধ্যমে সরবরাহ সাপেক্ষে বিনামূল্য ব্যবস্থাপনা দেয়া হয়। স্বাস্হ্য বিভাগের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ এই ব্যাপক সেবাটি দিয়ে আসছে ২০১০ সাল হতে; জলাতংক কমছে উল্লেখ যোগ্য সংখ্যা; পূর্বের ২ হাজারের অধিক হতে ২ শতের নীচে; শতকরায় হ্রাস ৯০%। সুখবর; ব্যাপক হারে কুকুরের টিকাদান  চলিতেছে দৌড় গতিতে। সপ্তাহে এক জেলা শেষ হইয়া যাইতেছে; সম্প্রতি লক্ষাধিক কুকুরের টিকা  ইউএসএআইডির হইতে পাওয়া গিয়াছে; ক্রয় অবস্থায় মেলা মেলা টিকা; দেবে মালকড়িও আছে। সুতরাং রুধিবে সাধ্যকার।
image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন