শনিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৮

স্যারোগেট এল এইচ

স্যারোগেট এল এইচ

হবু এবং হয়ে যাওয়া গাইনোকলজিস্টদের জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য।

স্যারোগেট এল এইচ।

যখন ওভুলেশন ইনডাকশনে ফলিকল রাপচারের জন্য বাইরে থেকে এল এইচ প্রয়োগ করা হয় তাকে স্যারোগেট এল এইচ বলে। এই স্যারোগেট এল এইচ প্রয়োগ সব সময়ে প্রযোজ্য কিনা?

আগে একটা গল্প বলে নেই। গল্প হোল সিটি হাসপাতালের লাঞ্চের সাথে অপরিহার্য ব্যবহৃত আচারের মত। যা ছাড়া ফ্যারিঞ্জিয়াল স্ফিংক্টার কিছুতেই খোলে না।

তখন সদ্য প্রাকটিশনার গাইনোকলজিস্ট। ভাবীসদৃশ এক পেশেন্ট এসেই খুব তাড়াহুড়ো করছিল বাসায় ফিরে অর্ডারী বার্থডে কেক বানাবে। বার্থডে কেক বাসায় বানাবে!!! শুনে খুব আগ্রহী হয়ে পরলাম, ভারী ইন্টারেস্টিং সে জিনিশ দেখার জন্য। উনি আমাকে এপয়েন্টমেন্ট দিলেন এবং আইজ অন ট্রেনিং দিলেন। শুরু হয়ে গেল আমার হ্যান্ডস অন প্রাক্টিস। প্রথম দিনে চারটা ডিম দিয়ে স্পঞ্জ কেক বানালাম। বাজী মাত। দ্বিতীয় দিনে আটটি ডিম দিয়ে করলাম। বাজী তখনও মাত। তৃতীয় দিনে বারোটি ডিম দিয়ে শুরু করলাম, অনেককে খাওয়াব বলে। এবারে বাজী বাজীই হয়ে গেল। কেক আর স্পঞ্জী হোল না। পুরো ময়দার দলা। সেই ভাবীকে ফোন দিলাম। বললেন এগ বিটিং হয়নি। বলে কি? পুরো গামলা ফেনায় ভরে উপচে পরছিল। বিটিং হয়নি মানে! পরবর্তীতে চেক করে দেখলাম ডিম বেশী বলে আপাতদৃষ্টিতে গামলা ফেনায় উপচে পরলেও নীচে অনেকখানি ডিমের লালা অংশ রয়ে যায়। ঐ অবস্থায় ওভেনে দিলে তখন ফেনা অংশ স্পঞ্জী হলেও নীচের অংশ শক্ত হয়ে যায়। তাই উপরের ফেনা সরিয়ে আবার বিটিং করতে হয়। এই ফিজিক্স কেমিস্ট্রী উনি প্রথমে আমাকে শেখাননি।

কি সম্পর্ক সেই ডিম আর এই ডিমের সাথে?

তিনটি কারনে এনওভুলেশন হয়।

১। ফলিকল বড় বা ম্যাচিউর না হওয়া। ফলিকল ম্যাচিউরিটি এবং ওভাম ম্যাচিউরিটি পাশাপাশি চলতে থাকে।
২। প্রিম্যাচিউর লুটিনাইজেশন। যেখানে ফলিকল ম্যাচিউর হবার আগেই এল এইচ প্রয়োগ করা হয়। এবং
৩। আনরাপচারড ফলিকল (LUFS)। যখন ম্যাচিউর ফলিকল কোন কারনে রাপচার হতে পারে না। ঐ অবস্থায়ই এল এইচের জন্য লুটিনাইজড হয় এবং ওভুলেশনের সব সাইন সিম্পটম পাওয়া যায়।

স্বাভাবিক ওভুলেশন কি করে হয়?

FSH এর প্রভাবে ফলিকল বড় হতে থাকে। গ্রানুলোসা সেল পপুলেশন বাড়তে থাকে, যেখান থেকে এস্ট্রোজেন রিলিজ হয় এবং সেই এস্ট্রোজেন ফলিকুলার সেল এ FSH রিসেপ্টর বাড়াতে থাকে। ক্রমান্বয়ে একটি ভিসিয়াস সার্কেল চলতে থাকে তুলনামূলক বড়টির মধ্যে, সে ফলিকল ডমিনেন্ট হয়, বাকীগুলো এট্রেসিয়া হয়ে যায়। ডমিনেন্ট ফলিকল বড় হতে হতে এস্ট্রোজেন বাড়তে থাকে এবং সেই বর্ধিত এস্ট্রোজেন পিটুইটারী থেকে LH রিলিজ করায়। একটি (এস্ট্রোজেন) বাড়ার জন্য আরেকটি (এল এইচ) বাড়ে বলেই এটাকে বলে পজিটিভ এল এইচ সার্জ। এই এল এইচ পরিপক্ক ফলিকল এবং ওভামের উপর কাজ করে। ওভামের ফার্স্ট মেয়োটিক ডিভিশনের প্রফেজ স্টেজের ডিক্টাইটিন স্টেজ এ আটকে থাকা কার্যক্রমকে ফিরিয়ে আনে এবং ফলিকল রাপচার করে মেটাফেজ ২ স্টেজ এর ওভামকে রিলিজ করতে সহায়তা করে। ফলিকুলার সেলগুলোকে লুটিনাইজড করে অর্থাৎ প্রোজেস্টারন রিলিজ করার উপযোগী করে তোলে।

ফলিকুলার সাইজ ১৭ মিমি বা তার বেশী হবার আগে যদি এই এল এইচ চলে আসে সে ফলিকলকে রাপচার করতে পারে না কিন্তু সেলগুলোকে লুটিনাইজড করে তবে সেলগুলো প্রোজেস্টারন তৈরীর উপযোগীও হয় না। ওভাম এন্ট্রাপট হয়ে যায় একসময়ে ফলিকল এট্রেসিয়া হয়ে যায়।

ঐ আধা ফেটানো ডিমের কেকের মতই অনাসৃষ্টি হয়।

যে কারনে লেখা

একটি মান্ধাত্বার আমলের প্রোটোকল অনেককেই এখনও ফলো করতে দেখা যায়। ইনডাকশনের ড্রাগ ডে থ্রী টূ ডে সেভেন, এল এইচ অন ডে টুয়েলভ এবং প্রোজেস্টারন ডে সিক্সটিন অনওয়ার্ডস। কোন মনিটরিং ছাড়াই। এই প্রোটোকল থেকে বের করে আনাই উদ্দেশ্য।

ওভুলেশন ইনডাকশনে exogenous or endogenous FSH যেটাই হোক না কেন ফলিকল বড় হবার সাথে সাথে বাকী কাজ আপন গতিতে ন্যাচারাল পদ্বতিতেই হওয়া সম্ভব যদি পিটুইটারী ঠিক থাকে। বাইরের বা স্যারোগেট এল এইচ প্রয়োজন হয় না।
যদি কেউ দিতে চায় অবশ্যই ফলিকুলার মনিটরিং করে ম্যাচুউরিটি কনফার্ম করে দিতে হবে। তা না হলে প্রিম্যাচিউর লুটিনাইজেশন হবে, ওভুলেশন হবে না।

ফলিকল ম্যাচিউর হলে এল এইচ না দিলেও যেহেতু চলে (আমাদের হাজার হাজার বাচ্চা তার প্রমান) তাই সুবিধা হোল

১। পেশেন্ট এর ২৬০০ টাকা বেঁচে যায়।
২। ইনডাকশনের একটা রেজিম দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া যায়। প্রতিমাসে মনিটরিং এর জন্য তাকে ডাক্তারের কাছে আসতে হয়না।

আর মনিটরিং ছাড়া দিলে যদি ফলিকল বড় না হয় পেশেন্ট এর টাকা এবং ওভাম দু’টোই বিফলে যায়। সেই সাথে যায় তার অমূল্য সম্পদ — সময়।

Time is essence for an infertile couple.

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন