বুধবার, আগস্ট ১৫, ২০১৮

সাগু/সাবুদানা

সাগু/সাবুদানা

আমাদের দেশে এইটা পথ্য হিসাবে পরিচিত হইলেও পৃথিবী কোন কোন দেশে এইটাই প্রধান খাদ্য! সাগু (আমাদের দেশে সাবু দানা নামে পরিচিত) আসলে পাম বা তালগাছ সদৃশ্য এক জাতীয় গাছের কান্ড এলাকার ভিতের শাঁস থাইকা উৎপন্ন করা হয়।

পাম গাছ কইলেই মালায়েশিয়ার নাম আসে মনে, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশীয়া পাপুয়া নিউ গিনি এলাকায় এই গাছ পাওয়া যায়। ভারতের তামিল নাড়ুতে সাগু উৎপাদন করা হয়।

সাগু গাছরে স্বভাবতঃই ‘সাগু পাম’ বলা হয়। বৈজ্ঞানিক নাম Metroxylon sagu এইগাছের কান্ডের মাঝের স্পঞ্জ এর মত অংশ থাইকা জ্বাল দিয়া বানানো হয়। বানিজ্যিক ভিত্তিতে যখন এইটা উৎপন্ন করা হয় তখন এইটারে আংশিক জিলাটিনের মত রূপ আর হেমিওপ্যাথিক বড়ির মত আকার দেওয়া হয়। এইটারে তখন পার্ল (মুক্তা) বলে। সাগু রে দুধ অথবা পানির সাথে জ্বাল দিয়া ফিরনী বা জাউ রান্না করা হয়।

আজকাল একটু বড় সাইজের পার্ল পাওয়া যায় সেইগুলিরে ট্যাপিওকা পার্ল কয়, এইটা আসলে ‘ক্যাসাভা’ নামক মিষ্টি আলু সদৃশ্য এক গাছের শিকড় থাইকা বানানো হয়। (একই পদ্ধতি, ক্যাসাভা ছেইচা তাতে পানি মিশানো হয় পাতন প্রক্রিয়ায় ছাইকা নেওয়ার পরে শুকানো ও বলের আকৃতি দেওয়া হয়)।

সাগু পাম গাছ স্বভাবে কলা গাছের মত, একটা কন্দ বা গাছ হয় বড় হয় তাতে ফুল, ফল ধরে, মইরা যায় তার গোড়ায় আরেকটা হয়। যেই পাম গাছ থাইকা সাগু বানানো হয়, তারে পূর্নতায় বাড়তে দেওয়া হয় না। গাছ পরিপক্ক হইতে দিলে তার ফু্‌ল, ফল ও বীজ তৈরী করতে গিয়া কান্ডস্থিত মজ্জা শুকাইয়া যায় আর সাগু পাওয়া যায় না।

তাই গাছের বয়স ১৫ হইলে প্রায় ১০ থাইকা ১৫ মিটার লম্বা হয় আর কান্ডের মাথায় সুপারী গাছের মত ফুল দেখা মাত্রই গাছ কাইটা ফেলা হয়, গাছের কান্ড চিরা ফেইলা তারে শাঁস বাইর কইরা ছেইচা ভর্তা করা হয়, সেই ভর্তার সাথে পানি মিশাইয়া কাপড়ের ছাঁকনি দিয়া ছাঁকা হয় তার স্টার্চ বাইর কইরা নেওয়ার জন্য, কয়েকবার ছাঁইকা নিয়া তলানীটা রান্নার উপযোগী হয়। একটা গাছ থাইকা প্রায় ৮০০ পাউন্ড শুকনা পাউডার পাওয়া যায়।

কি আছে সাগুতে? স্টার্চ বা কার্বো হাইড্রেট বা শর্করা। খুবই অল্প মাত্রায় প্রোটিন, ভিটামিন ও খণিজ পাওয়া যায়। ১০০ গ্রামস শুকনা সাগুতে ৯৪ গ্রামস শর্করা/কার্ব হাইড্রেটস ( ভাতে ৭৭.১ গ্রামস), ০.২ গ্রামস প্রোটিন, ০.৫ গ্রামস ডায়েটারি ফাইবা্‌র, ১০ মিলিগ্রামস ক্যালসিয়াম, ১.২ মিলিগ্রামস আয়রণ, ট্রেস পরিমান ফ্যাট, ক্যারটিন, থ্যায়ামিন আর এ্যাস্করবিক এ্যসিড পাওয়া যায় আর ৩৩৫ ক্যালরী শক্তি দেয়। পক্ষান্তরে ১০০ গ্রাম ভাতে ১৩০ ক্যালরী শক্তি পাওয়া যায়। তাই ডায়াবেটিক মাম্মালোগ আর যারা ডায়েট কন্ট্রোল করতে চাও হুশ কইরা!

সহজ পাচ্য আর দ্রুত এনার্জী দেয় বিধায় আমাদের দেশে এইটা রোগীর পথ্য হিসাবে যুগ যুগ ধইরা চইলা আসতাছে। জাউ বানায়া লেবু চিপা খাওয়ানো হয় পেটের অসুখ বা জ্বর থাইকা কেউ উঠলে পরে। সাগু দিয়া ফিরনী,পায়েস, পাপড়, পুডিং, খিচুড়ি, বড়া বানানো যায়।

সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন