শনিবার, এপ্রিল ২১, ২০১৮

জয়তু চিকিত্সা বিজ্ঞান, জয়তু মানবতা।

জয়তু চিকিত্সা বিজ্ঞান, জয়তু মানবতা।

আমাদের এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে সবাইকে একদিন না একদিন ঠিক চলে যেতে হবে এটা প্রকৃতি ঘোষিত সবচেয়ে সত্য নিয়ম। কিন্তু তারপর ও মানুষ বাঁচতে চায় আস্বাদন করতে চায় এই পৃথিবীর রূপ, মায়া রস সবটুকু। সবাই পৃথিবীতে পরিপূর্ণভাবে আসে না এটা বিধাতার এক অজানা খেলা। শারীরিক অপরিপূর্ণতার আবার কিছু ধরণ আছে কিছু অপরিপূর্ণতা পূরণ করা যায় কিছু করা যায় না। তারপরও মানুষের চেষ্টা বিদ্যমান এই অপরিপূর্ণতাকে কিভাবে পরিপূর্ণতায় পরিবর্তন করে জীবনকে করা যায় আরো বেশি সহজ।

 

আজ আমরা একটি অপরিপূর্ণতা নিয়ে কথা বলবো চিকিৎসা বিজ্ঞান এর ভাষায় যাকে বলে কার্ডিওমায়োপ্যাথি। কার্ডিওমায়োপ্যাথি হলো হৃৎপিণ্ডের খুবই বিরল রোগ। কার্ডিওমায়োপ্যাথি এমন এক ধরনের হৃদরোগ যাকে পুরোপুরিভাবে বংশগত হৃদরোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে এবং বংশগত অনেক হৃদরোগের মধ্যে কার্ডিওমায়োপ্যাথি সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়ে থাকে। বাবা অথবা মা যে কোনো একজনের কার্ডিওমায়োপ্যাথি রোগ থাকলে ৫০ ভাগ ছেলেমেয়ে এ রোগে আক্রান্ত হবে এটা স্বতঃসিদ্ধ।

 

কার্ডিওমায়োপ্যাথি তে যারা আক্রান্ত তাদের কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে যা দেখে বুঝা যায় তারা আক্রান্ত এই যেমন অতি পরিশ্রমে বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও বুক ধড়ফড়ের মতো সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকা। কার্ডিওমায়োপ্যাথি তে আক্রান্ত ব্যাক্তির হার্টের দেয়াল পুরু হয়ে যাওয়ার ফলে মাংসপেশির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে খাদ্য চাহিদা বা রক্ত প্রবাহের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে রক্ত সরবরাহের মাত্রা সমান থাকলে প্রয়োজনের তুলনায় রক্ত সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।

 

কার্ডিওমায়োপ্যাথি চিকিৎসায় বিভিন্ন পদ্ধতি বিদ্যমান তবে সবচেয়ে আলোচিত পদ্ধতি হলো কৃত্রিম হৃৎপিন্ডের ব্যবহার। এমন  কৃত্রিম হৃৎপিন্ডে যা আপনি বহন করতে পারবেন আপনার সাথেই। অপারেশনের মাধ্যমে একটি ব্যাগ সংযুক্ত হয়। এতে স্থান পায় ২টি ব্যাটারি, একটি ইলেক্ট্রিক মোটর ও একটি পাম্প। শরীরে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে শরীরে হৃৎপিণ্ডের পরিবর্তে প্লাস্টিক চেম্বার স্থাপন করা হয়। শরীরের বাইরে থেকে পাম্পের মাধ্যমে এই প্লাস্টিক চেম্বারে বায়ুচাপ তৈরি করা হয়। আর এর মাধ্যমে শরীরে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা হয়। ২০১০ থেকেই এর সফল ব্যবহার চলছে এবং এই পর্যন্ত বিশ্বের অনেক মানুষ এর মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে।

বৃটিশ নারী সেলওয়া হোসেন এদের মধ্যে একজন, সেলওয়া হোসেন নিজের হৃৎপিণ্ড পিঠে ঝোলানো ব্যাগে রাখেন। এই ব্যাগ এখন তার দেহের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ছাড়া সর্বোচ্চ ৯০ সেকেন্ড বেঁচে থাকতে পারবেন তিনি। তাই দিনের ২৪ ঘণ্টাই এই ব্যাগ সঙ্গে রাখতে হয় তাকে। সেলওয়া বলেন, আগে আমি প্রচণ্ড অসুস্থ ছিলাম কিন্তু এই অস্ত্রোপচারের পর তা থেকে মুক্তি পেয়েছি, স্বাভাবিক মানুষের মতো বাড়িতে ফিরে এসেছি। একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান এই কৃত্রিম হৃদপিণ্ডটি প্রস্তুত করেছে কৃত্রিম হৃদপিণ্ড স্থাপনে খরচ হয়েছে ৯৬ লাখ টাকা। যদিও খরচটা অনেক বেশি আমাদের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের অধিবাসীদের জন্য কিন্তু এই পদক্ষেপ চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

জয়তু চিকিত্সা বিজ্ঞান, জয়তু মানবতা।

 

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন