বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

ডায়রিয়া হলেই এন্টিবায়োটিক নয়

ডায়রিয়া হলেই এন্টিবায়োটিক নয়

image_pdfimage_print
বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধাণ কারন ডায়রিয়া। ডায়রিয়াতে বারবার পাতলা পায়খানা হয়। পায়খানাতে শুধু পানি আর মল থাকে। পাতলা পায়খানার সাথে যদি রক্ত যায় তাকে আমাশয় বা ডিসেন্ট্রি বলে।
ডায়রিয়ার বিভিন্ন কারন আছে। দূষিত খাবার, দূষিত পানি, রোগ জীবানু এবং কৃমির কারনে ডায়রিয়া হয়। দূষিত খাবার ও পানিতে মূলত ভাইরাস ও ব্যকটেরিয়া থাকে। ভাইরাস ব্যকটেরিয়াই নানা রকম ভাবে ডায়রিয়া সৃষ্টি করে। তবে দেখা গেছে বেশির ভাগ ডায়রিয়ার কারন কিন্তু ভাইরাস। হটাৎ ডায়রিযা শুরু হলে অনেকেই আতংক গ্রস্ত হয়ে যান। কেউ কেউ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ না করেন ঔষধের দোকানে চলে যান। দোকানদার না জেনেই না বুঝেই দিয়ে দেন এন্টিবায়োটিক। কখনো দিয়ে দেন লোপেরামাইড বা কোডেইন জাতীয় ঔষধ। এসব ঔষধ গ্রহনে তেমন লাভ হয় না। তবে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। ভাইরাস জনিত ডায়রিয়ায় এন্টিবায়োটিক কোনই কাজ করে না। শুধু পয়সার অপচয়। এছাড়া এভাবে অযাচিত ভাবে এন্টিবায়োটিক দেয়া কোন ক্রমেই ঠিক নয়।
লোপেরামাইড দিলে বার বার পায়খানা হবার প্রবনতা কমে। তবে এটি ডায়রিয়া সারায় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে অন্ত্রের গতি কমিয়ে দেয়। অনেক সময় এ ঔষধ খেলে অন্ত্রেও গতি বন্ধ হয়ে যায়। তখন দেখা দেয় আরেক সমস্যা। মেট্রোনিকজল শুধু যদি প্রটোজোয়া দিয়ে ডায়রিয়া হয় তখন কার্যকর। অন্য ক্ষেত্রে দিয়ে কোন লাভ নেই। বরং এর ফলে মুখ তিতা হয়ে যায় এবং খাবার রুচি কমে যায়।
ডায়রিয়া হলে তাই খাবার স্যালাইন ই যথেষ্ট। অন্য ঔষধের তেমন কোন দরকার নেই। বমি হলে বা স্যালাইন না খেতে পারলে শিরায় কলেরা স্যালাইন দেয়া যাবে না তা কিন্তু  নয়। শুধু ডাক্তারের পরামর্শে কয়েকটি ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়। ডায়রিয়া হলে ঠিকমত স্যলাইন খেলেকোন সমস্যাই হয় না। ডাবের পানি খাওয়া যেতে পারে। শাক ও দুধ এসময় না খাওয়াই ভালো। তেল চর্বি এসময় পরিহার করতে হবে। স্বভাবিক খাবার সব খাওয়া যাবে। ব্যক্তিগত স্বাস্থবিধি মেনে চললে অনেকটাই ডায়রিয়ার হাত থেকে বাঁচা যায়।
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন