মঙ্গলবার, জুলাই ১৭, ২০১৮

নবজাতকের গোসল

নবজাতকের গোসল

সংসারে একজন নতুন অতিথি আসার মত আনন্দ বোধহয় আর কিছুতে নেই! কোন দম্পতির ঘর আলো করে যখন সন্তান আসে, তখন সেই মুহুর্তটিকে মনে হয় বেশ সুখের, তৃপ্তির। শুরু থেকে নতুন অতিথির স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সবই প্রস্তুতি নিতে থাকেন বাবা মা। শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ তো বটেই, সেইসাথে শিশুর নাজুক শরীরের সুরক্ষার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরী।

নবজাতকের জন্মের পর অন্য সবকিছুর পাশাপাশি শুরু থেকেই এ ব্যাপারটির উপর বাবা মায়ের গুরুত্ব দেয়া জরূরী সেটি হচ্ছে শিশুর ত্বক। মনে রাখবেন, জন্মের পর নবজাতক শিশুর ত্বক বেশ নাজুক থাকে। সেই সাথে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও। তাই একদম শুরুতেই হঠাৎ করেই কোন ধরণের ক্রিম, তেল, সুগন্ধী বা কাপড় ব্যবহার করলে তা শিশুর চামড়ায় শুষ্কতা, এমনকি লালচে র‍্যাশের মত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এই ব্যাপারগুলো নিয়ে সন্তান জন্মের আগে থেকে সাবধান হওয়া উচিৎ।

জন্মের পরপরই নবজাতকের শরীরের ময়লা পরিষ্কার করে ফেলা হয়। তাই জন্মের পরই গোসল করানোর দরকার নেই।

কিন্তু অনেকে গোসল করানোর জন্য অস্থির হয়ে পড়েন। আবার অনেকে মনে করেন চুল কাটা কিংবা নাভি পড়ার পর গোসল করানো উত্তম। আসলে জন্মের ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর গোসল করানো উচিত। সবচেয়ে ভালো নবজাতকের নাভি শুকানোর আগে পরিপূর্ণ গোসল থেকে বিরত থাকা। তবে শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে নরম কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে তা দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া, মলত্যাগ ও প্রস্রাবের পর শিশুকে ভালোভাবে পরিষ্কার করা দরকার।

গোসল আরামদায়ক রাখার জন্য আলতো করে মগভর্তি হালকা গরম পানি শিশুর শরীরের উপর ঢালুন যাতে সে ঠাণ্ডা অনুভব না করে।

প্রথমেই মনে রাখবেন বাচ্চাকে প্রথমবার পানির সংস্পর্শে আনছেন। তাই সে কিছুটা অসুবিধা বোধ করতেই পারে। অনেক নবজাতকই এ সময় কেঁদে উঠে। বাচ্চাকে তাই ধীরে ধীরে পানির সংস্পর্শে আনুন। হঠাত্ করে তার গায়ে পানি দিতে যাবেন না। কিছুক্ষণ পরেই বাচ্চা পানির সঙ্গে মানিয়ে নিবে। তবে বেশি কান্না করলে পানি থেকে উঠিয়ে নিন নবজাতককে।

শিশুর মুখমণ্ড এবং শরীর পরিস্কার করার জন্য কাপড়, তুলার প্যাড অথবা আপনার হাত ব্যবহার করতে পারন। তবে এজন্য অধিক সাবান ব্যবহার করার কোনো প্রয়োজন নেই। আস্তে করে শিশুকে বাথটাব থেকে তুলে নিয়ে একটি তোয়ালে দিয়ে তার শরীরকে মোড়ান যাতে ভেজা শরীর সহজে শুকিয়ে করা যায়। সাবধান ভেজা অবস্থায় শিশুদের শরীর অনেক পিচ্ছিল হয়ে থাকে।

নাভি যাতে না ভেজে সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখা চাই। গোসল আরামদায়ক করার জন্য আলতো করে হালকা গরম পানি শরীরের ওপর হাত দিয়ে আস্তে আস্তে দিন, যাতে সে ঠাণ্ডা অনুভব না করে। হঠাৎ করে গায়ে পানি দিতে যাবেন না। বাচ্চাকে কিছুটা সময় দিন পানির সঙ্গে মানিয়ে নিতে। অনেক নবজাতকই এ সময় কেঁদে ওঠে। বেশি কান্না করলে পানি থেকে উঠিয়ে নিন। গোসলের সময় শিশুর কান, বগল, কুঁচকি, কানের পেছনটা নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে ঘষে দিন। মাথার ময়লাগুলো আলতো করে ঘষে পরিষ্কার করে ফেলুন। খেয়াল রাখবেন নাকে-কানে যেন পানি না ঢোকে। চার-পাঁচ মিনিটে গোসলের পর্ব শেষ করে সঙ্গে সঙ্গে শরীর মুছে কাপড় পরিয়ে দিতে হবে।

নিয়মিত শিশুর বিছানাপত্র এবং কাপড় পরিষ্কার করতে হবে। এইক্ষেত্রে সুগন্ধী ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন। শুধু তাই নয়, পরিবারের অন্য সদস্যদের জামাকাপড়ের সাথে শিশুর লন্ড্রি মেলাবেন না। সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে পরিষ্কার ও গরম পানি দিয়ে সেগুলো পরিষ্কারের চেষ্টা করা দরকার।

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন