বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

গর্ভাবস্থা-জনিত উচ্চ রক্তচাপ লক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ

গর্ভাবস্থা-জনিত উচ্চ রক্তচাপ লক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ

image_pdfimage_print

হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ— এই সমস্যাটিতে বিপুল মানুষ আক্রান্ত। মায়েদের বেলায় উচ্চ রক্তচাপ গর্ভাবস্থার আগেও থাকতে পারে, আবার গর্ভাবতী হওয়ার পর সেই সমস্যা বাড়তে পারে বা নতুন করেও হতে পারে। গর্ভাবস্থায় নতুন করে হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ হয়। গর্ভাবস্থায় যে রক্তচাপ হয় একে আমরা বলি প্রি একলামসিয়া। যারা প্রথম মা হয় তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় এটি বেশি হচ্ছে। যাদের পারিবারিক ইতিহাস থাকে, মা-বাবার উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তাদেরও হচ্ছে। যারা মোটা থাকে, তাদের হচ্ছে। তবে আবার অনেক ক্ষেত্রেই এর কারণ পাওয়া যায় না। বলা হয়, প্রি একলামসিয়ার কারণ হলো ফুলে। ফুল ঠিকমতো গঠন না হলে প্রি একলামসিয়া হতে পারে।

গর্ভবতী মহিলার রক্তচাপ বেড়ে যায়। এই অবস্থা বেশিরভাগ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক যদিও ব্যতিক্রম হিসেবে কয়েকটি ক্ষেত্রে এটি প্রসবের পরেও চলতে থাকে।  গর্ভাবস্থা-জনিত উচ্চ রক্তচাপ (PIH), প্রিল্ক্যাম্পসিয়া নামেও পরিচিত এবং এটি প্রথম গর্ভবতী তরুনীদের মধ্যে বেশী দেখা যায়। যদি চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এর জন্য শিশু ও মা উভয়েরই গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

গর্ভাবস্থা-জনিত উচ্চ রক্তচাপের ১৩ টি লক্ষণ

গর্ভাবস্থা-জনিত উচ্চ রক্তচাপকে নিম্নলিখিত প্রধান লক্ষণগুলি দ্বারা সনাক্ত করা যেতে পারে।

  • দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ত্রৈমাসিকে রক্তচাপে বৃদ্ধি।
  • প্রস্রাবের নমুনাতে প্রোটিনের উপস্থিতি।
  • দেহ ফুলে যাওয়া।
  • অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি যা গর্ভাবস্থার সাথে সম্পর্কিত নয়।
  • চোখে ঝাপসা দেখা বা দুটি করে দেখা।
  • বমি করা এবং বমি বমি ভাব।
  • পেটে ব্যথা এবং অস্বস্তি।
  • ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া বা খুব কম পরিমাণে মূত্রত্যাগ করা।
  • লিভার এবং কিডনি কার্যকারিতা পরীক্ষার অস্বাভাবিক ফলাফল।
  • রক্ত জমাট বাঁধায় অসুবিধা।
  • প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতি।
  • হৃৎস্পন্দনের গতি বৃদ্ধি।
  • জ্বর আসা এবং কানে ঝিঁ ঝিঁ শব্দ হওয়া।

মহিলাদের নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থায় প্রিক্ল্যাম্পাসিয়া হবার ঝুঁকি বেশী থাকে। উদাহরণস্বরূপ, যেসব মহিলাদের উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, এবং প্রথম বারের গর্ভাবস্থায় প্রিক্ল্যাম্পাসিয়ার ইতিহাস আছে অথবা একাধিক ভ্রণের সাথে গর্ভবতী মহিলাদের এই জটিলতা হতে পারে।

নিয়ন্ত্রণের উপায়

লবণ খাওয়া কমান

খাবারের অতিরিক্ত লবণ, রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। রান্নার সময় অতিরিক্ত খাবার লবণ ব্যবহার করবেন না। প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, ক্যানড ফুড এগুলোর মধ্যে উচ্চ পরিমাণ সোডিয়াম থাকে। এগুলো এই অবস্থায় এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম

গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম শরীরে ভালোভাবে অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে। উদ্বেগ, মানসিক চাপ কমায়। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করাকেও বিশেষজ্ঞরা ভালো বলে মনে করেন।

  • আরাম করে বসুন।
  • নাক দিয়ে গভীরভাবে দম নিন।
  • ধীরে ধীরে শূন্য থেকে পাঁচ গুনতে গুনতে দম ছাড়ুন।
  • এভাবে দশবার করুন।
  • গভীর শ্বাসের এই ব্যায়াম দিনে দুই থেকে তিনবার করুন। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করবে।

হাঁটুন

যেসব নারী কর্মক্ষম কম থাকেন, তাঁদের গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। ২০ থেকে ৬০ মিনিটের এই হাঁটা আপনার কাজে দেবে।

পটাশিয়ামের পরিমাণ বাড়ান

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ হলে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি।  এটি শরীরে তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই মিষ্টি আলু, টমেটো, কমলার জুস, আলু, কলা ইত্যাদি খেতে পারেন।

[সংগ্রহীত ]

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন