মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

দেশে দেশে স্বাস্থ্য সেবায় সহিংসতা ।।৯।। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকা

দেশে দেশে স্বাস্থ্য সেবায় সহিংসতা ।।৯।। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকা

image_pdfimage_print

দেশে দেশে স্বাস্থ্য কর্মীদের ওপর নিগ্রহ এবং সহিংসতার বিবরণ আরও দীর্ঘ করা যায়। কিন্তু তা অপ্রয়োজনীয়। কারণ ইদানীং সকলেই উপলব্ধি করতে পারছেন যে স্বাস্থ্য সেবাদান একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় পরিণত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে ৮% থেকে ৩৮% স্বাস্থ্য কর্মী তাদের কর্মজীবনে নানাভাবে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়ে থাকেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগী কিংবা রোগীর স্বজন কিংবা বন্ধুদের দ্বারা এই অপকর্মগুলি ঘটে থাকে। মৌখিক হুমকি কিংবা অযাচিত কটু মন্তব্যের হিসেব অগণিত।

অতীতে যুদ্ধক্ষেত্রে কিংবা গোলযোগপূর্ণ এলাকায় অন্তত চিকিৎসাকর্মীরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারতেন। রেডক্রস কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবা সংস্থাগুলি যুদ্ধ-বিগ্রহের সময় আহতদের সেবাদানে কখনও বাধার মুখোমুখি হতো না। কিন্তু আজকাল সেটাও নিশ্চিত নয়। আফ্রিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের বিরোধপূর্ণ এলাকায় কাজ করতে গিয়ে অনেক চিকিৎসা কর্মী হামলার শিকার হয়েছেন কিংবা প্রাণ দান করেছেন। গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব কিংবা রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে চিকিৎসা কর্মীদের নিরাপত্তা এখন আর আগের মতো নয়। নার্স, জরুরী সেবাদানের সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দৃষ্টিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর সহিংসতা কখনই মেনে নেওয়ার বিষয় নয়। এরফলে স্বাস্থ্যকর্মী শুধু মানসিক এবং শারীরিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন, তা নয়। পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর এর নেতিবাচক খারাপ প্রভাব পড়ে। সকলের মনে রাখা প্রয়োজন যে দেশের জনগণের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ভালো রাখা জরুরী। আতংক এবং হয়রানির মুখে আর যাই হোক উন্নত মানের স্বাস্থ্য সেবা আশা করা যায় না।

প্রশ্ন হচ্ছে সীমিত সম্পদ এবং নিদারুণ অপ্রতুলতার মধ্যে বিশাল স্বাস্থ্য সেবার চাহিদা কিভাবে মেটানো হবে? এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রম এবং কৌশল গ্রহণের সুপারিশ করেছে। তবে সর্বাগ্রে প্রয়োজন তথ্য সংগ্রহ করা। দরকার স্বাস্থ্য সেবাদান প্রক্রিয়ার দুর্বলতা, কমতি এবং করনীয় সম্পর্কে গবেষণা। এরজন্য অনেক আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং আরও দুটি প্রতিষ্ঠান মিলিত ভাবে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ভায়োলেন্স প্রতিরোধে করনীয় নির্ধারণের জন্য একটি ফ্রেম ওয়ার্ক গাইডলাইন তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবাদানের ক্ষেত্রে সহিংসতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ, সমস্যার কারণ নির্নয় এবং তা সমাধানের জন্য কি করনীয় তা ঠিক করা। এ সম্পর্কে যেকোন দেশে গবেষণা করার জন্য উন্নতমানের প্রটোকল এবং আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েব সাইটে রয়েছে। এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। আগ্রহীরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল ব্যবহার করে নির্ভরযোগ্য গবেষণা করতে পারেন এবং এভাবেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সহিংসতা এবং ভায়োলেন্স প্রতিরোধের কৌশল নির্ণয় করে সমাধান করা সম্ভব।

তথ্যসূত্রঃ http://www.who.int/violence_injury_preventi…/…/workplace/en/

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন