শুক্রবার, জানুয়ারী ১৯, ২০১৮

~চিকিৎসক ঈশ্বর নন~

~চিকিৎসক ঈশ্বর নন~

~চিকিৎসক ঈশ্বর নন~

দয়া করে বুঝুন রোগীর মৃত্যু মানেই ভুল চিকিৎসা বা কর্তব্যে অবহেলা নয়।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার প্রেক্ষিতে কিছু কথা না বললেই নয়। ওই ছাত্রী বেশ কিছু দিন ধরেই শরীর ব্যথায় ভুগছিলেন। সেজন্য তিনি প্রায়ই ব্যথার ওষুধ খেতেন কিন্তু ডাক্তারের সরনাপন্ন হননি। এরপর তিনি যখন জ্বর এবং এক্সেসিভ পার ভ্যাজাইনাল ব্লিডিং নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তখন স্বভাবতই প্রভিশনাল ডায়াগনসিস ছিল ডেঙ্গু জ্বর। কোন চিকিৎসকই প্রথমেই কোন খারাপ রোগের চিন্তা মাথায় আনেন না সে রোগী যত গ্রেভ কন্ডিশনেই আসুক না ক্যানো। কিন্তু কমপ্লিট ব্লাড কাউন্টের রিপোর্ট আসার পর সন্দেহ দানা বাঁধে চিকিৎসকের মনে। কারণ রক্তে হিমোগ্লোবিন এবং প্লেটিলেট কাউন্ট মাত্রারিক্ত ভাবে কম অথচ শ্বেতকণিকা অনেক বেশী এবং ৯৯% ব্লাস্ট সেল। সেই সাথে রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং অতি অল্প সময়েই অবস্থার অবনতি এই ধারণাই বদ্ধমূল করে যে এটি অ্যাকিউট মায়লোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া। এই রোগে ডিসঅ্যামিনেইটেড ইন্ট্রভাসক্যুলার কোয়াগুলেশন ডেভলপ করে জন্যই রোগী রক্তক্ষরণ নিয়ে প্রেসেন্ট করে। তারপর হিস্ট্রি নিতে গিয়ে জানা গ্যালো রোগী তার ২/৩ দিন আগেই মাত্র এমআর করিয়েছেন। অয়াট আ কোইন্সিডেন্স। সব মিলে হিস্ট্র তালগোল পাকাতে পাকাতে অবশেষে ক্লিয়ার হয়। এমআর এর পর যে ব্লিডিংটা শুরু হয় সেটাই ডিসঅ্যামিনেইটেড ইন্ট্রভাসক্যুলার কোয়াগুলেশনের কারণে মাত্রাতিরিক্ত ভাবে প্রকাশ পায়, যদিও এএমএল (অ্যাকিউট মায়লোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া) বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ব্লিডিং নিয়েই প্রেসেন্ট করে। আর রোগীর অবস্থা এতই খারাপ ছিল যে ডায়াগনসিস কনফার্ম করার জন্য বোনম্যারো স্টাডি করারও উপায় ওই মুহূর্তে ছিল না। রোগীকে স্ট্যাবল করাই ছিল তখন চিকিৎসকের মূখ্য উদ্দেশ্য। তাই যারা ফলাও করে প্রচার করছেন ক্যান্সারের রোগীকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে তারা একটু মাথা খাটান আল্লার দোহাই লাগে। আশা করি আপনাদের মাথায় গোবর না ঘিলুই আছে।

চিকিৎসক ঈশ্বর নন। সে তার সারা জীবনের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই করে। সে যোদ্ধা। আপনারই জন্য সে যোদ্ধা। আপনাদেরই সহযোদ্ধা।

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন