বুধবার, আগস্ট ১৫, ২০১৮

ডাক্তার নীরবে সহ

ডাক্তার নীরবে সহ

ডাক্তার নীরবে সহ

পেসেন্ট অধিকারে আমি চরমভাবে বিশ্বাসী। আমি বিশ্বাস করি পেসেন্ট এর তার রোগের বিষয়ে জানার অধিকার আছে, তার রোগের চিকিৎসার বিভিন্ন অপশনের আউটকাম এবং খরচের বিষয়ে জানার অধিকার আছে, তার পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং ফলাফল পাবার ও জানার অধিকার আছে। তার চিকিৎসক বদলাবার বা পছন্দ করার অধিকার আছে, প্রয়োজনে (অবশ্যই প্রয়োজনে) চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবার অধিকার আছে।

তাদের সেই সব অধিকারের সাথে চিকিৎসা সংক্রান্ত জটীলতা, চিকিৎসায় ব্যর্থতা ও মৃত্যুর মত অমোঘ বাস্তবতাকে মেনে নেবার মত মানসিকতাও থাকতে হবে।

পেসেন্ট এর অধিকারের মূল্য দিয়ে সবকিছু সেভাবেই খোলাখুলি করে থাকি। খোলাখুলি এও বলে থাকি যে কারো মৃত্যু ঠেকাবার ক্ষমতা খোদা আমাকে দেননি। বাচ্চা তৈরী করার ক্ষমতাও খোদা আমাকে দেননি। তাই আমার ক্ষমতার সবটুকু ঢেলে দিয়ে আমি চেষ্টা করব।কিন্তু ফলাফলের কোন নিশ্চয়তা দিতে পারবনা। আমার কাছে পেসেন্টের নিরাপত্তা এত বেশী যে নিজের ভাইয়ের লাইফ থ্রেটেনিং অসুস্থতার সময়েও ভাইকে বাদ দিয়ে (শেষ মেস রোগী বেঁচে গেলেও ভাই মারা গিয়েছেন) পেসেন্ট এর কাছে থেকেছি।

একজন চিকিৎসক ব্যক্তিগতভাবে যতই অর্থলিপ্সু থাকুক না কেন, যতই রূঢ় স্বভাবের হোকনা কেন নিজের পেসেন্ট এর প্রতি যত্নবান থাকেন এবং বেশীর ভাগই তাই থাকেন।

তাই পেসেন্টদের যত অধিকারই থাকুক না কেন বাস্তবতাকে মেনে না নিয়ে ঢালাওভাবে চিকিৎসকের বিরুদ্বে যা খুশী তা বলার অধিকার তাদের বা তাদের এটেন্ডেন্টদের নেই।

স্কোয়ার হাসপাতালের প্রিএকলাম্পসিয়ার ২৮ সপ্তাহের বাচ্চার (৮ ডিসেম্ববর ৬ সপ্তাহ হলে ৮ মে তে যা হয়) ধারনকৃত জরায়ু কন্ট্রাকশন শুরু করলে যা করা উচিত তাই করার পরেও একজন সিনিয়র চিকিৎসক সম্পর্কে পেসেন্ট পার্টি এবং জনগন যে সব মন্তব্যে আক্রোশ প্রকাশ করেছে তা ভয়াবহ। অত ছোট বাচ্চার সি সেকশন (আসলে সঙ্গা অনুযায়ী হিসটারোটমী) এর সিদ্বান্তও গ্রহনযোগ্য নাও হতে পারত। অথচ ঐ চিকিৎসকের বিরুদ্বে সন্মানহানীকর এমন কোন কথা নেই যা বাদ আছে।

সর্বশেষ একজন প্রথিতযশা শিক্ষক, ক্লিনিশিয়ান এবং গবেষক এর বিরুদ্বেও সন্মানহানীকর পরিস্থিতি তৈরী করতে পেসেন্টকুল পিছপা হচ্ছে না।

যে পেসেন্টকে আপনি অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে আপনার চেষ্টার সবটুকু ঢেলে দিয়ে করছেন সে ভাল হয়ে গেলে আপনি দেবতা হয়ে গেলেন আর তার কোন ক্ষতি হয়ে গেলেই আপনি নিমিষে শত্রু হয়ে গেলেন।

চিকিৎসক ভূল করে না আমি বলব না। অনিচ্ছাকৃত ভূল কখনও হতেই পারে। সে ভূল ধরার দায়িত্ত্ব পেসেন্টপার্টি বা সাংবাদিকদের নয়। সেজন্য মেডিকেল এবং নন মেডিকেল তদন্ত টীম থাকবে, তদন্ত হবে এবং তাতে প্রমানিত হলে তখনই কেবল চিকিৎসককে দোষী সাব্যস্ত করা হবে। আর সে দোষ এর জন্য যা শাস্তি হয় তা তার প্রাপ্য হবে।

কিন্তু না বুঝে নিজেদের খেয়াল খুশীমত চিকিৎসককে দোষী সাব্যস্ত করে তার যে মানহানী এবং মানসিক টর্চার করা হয় তার প্রতিকার কি করে হবে?

সাধারন মানুষের কোন অধিকার নেই চিকিৎসকের চিকিৎসাকে ভূল বলার। ভূল বলার আগে ১৪ বছর ডাক্তারী পড়ালেখা ও প্রশিক্ষন নিতে হবে।

হে ডাক্তারগন – ছোট, বড়, মাঝারী তোমাদের/আপনাদের চামড়া কত মোটা? কতগুলো প্রলেপের পরে তোমাদের/ আপনাদের স্নায়ু যে তাকে কোন কিছুই স্পর্শ করে না? দিনের পর দিন প্রায় প্রতিদিন ছোট, বড়, মাঝারী সকলকে রাস্তার লোক থেকে শুরু করে রথি মহিরথী সবাই অপদস্ত করছে, মেরে রক্তাক্ত করছে, হাড়গোড় ভেঙ্গে দিচ্ছে কারো গায়ে লাগছে না। আর কি কি করলে তোমাদের / আপনাদের গায়ে লাগবে??

ডাক্তারদের অবদান যে কি সেটা এই অকৃতজ্ঞ মানুষদের বোঝাবার জন্য এবং ডাক্তারদের অহেতুক অসন্মান এবং গায়ে হাত তোলার প্রতিবাদে শুধু ৩/৪ টা দিন সারা বাংলাদেশে শুধু প্রাইভেট প্রাক্টিসটা বন্ধ করা যায় না?

আর যদি না যায়, হে ডাক্তার প্রজাতি – নীরবে সয়ে যাও সব।

image_print
FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন