বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

কর্ণনাদ (Ringing of the Ear)

কর্ণনাদ (Ringing of the Ear)

image_pdfimage_print

বায়ুবিকারে অর্থাৎ কর্ণস্রোতপথে বায়ু কুটিল গতিতে চলাফেরা করলে এমন এক একটা ধ্বনি হয় যেটা ওই স্থানেই প্রতিধ্বনিত হয় আর তারও তরঙ্গধন্নি এমনি একটারই আর একটা ধন্নি হতে থাকে;

তবে প্রাচীন আয়ুর্বেদীয়গণের শরীরে নিরীক্ষায় উপলব্ধি হয়েছে যে, এই সব বস্তুর এবং প্রানীর ডাকের শব্দ হতে থাকে, যেমন, ভৃঙ্গার থেকে জল ঢালার শব্দ/ঝি ঝি পোকার ডাকের শব্দ, মশা ডাকার শব্দ/ জল ঢালার শবড/কৌঞ্চ/মন্ডুক/কাক প্রানীর ডাকের প্রতীক শব্দ কানে যেন বাজতে থাকে, এভিন্ন আরও অনেক জিনিসের শব্দ কানে আসতে থাকে যেটা লোককে ঠিক বোঝানো যায় না। যখন এই রোগে অরিষ্ট লক্ষন দেখা দেয়, তখন ওই কানের স্রোত-পথে আকস্মাৎ সিংহনাত হতে থাকে, অর্থাৎ ঐ শব্দটা হঠাৎ হতে থাকে, ২/৪ দিন চুপচাপ, তারপরই হঠাৎ আবার, তবে তাতে সিঙ্ঘ-নাদ শুনতে থাকলে বুঝতে হবে, এটা আরও অশুভ। এটা এলে বুঝতে হবে এইটাই অরিষ্ট লক্ষণ। কানটা নষ্ট হয়ে যাবে।

কর্ণক্ষেড়

এই ক্ষেড়  মানে অব্যক্ত শব্দ। আয়ুর্বেদিকগণ এই রোগ বর্ণনার আগেই একটি সদুপদেশ দিয়েছেন। শরীর রক্ষার পক্ষে সর্বদা যেমন যত্ন নিতে হয় যে, কায়াগ্নি যেন বিনষ্ট না হয়, তেমনি আরও সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়- অজীর্ণ অগ্নিমান্দ্য না হলেই যে রোগ হবে না কোন অঙ্গে প্রত্যঙ্গে, তা নয়।

সঞ্চিত বায়ু, সঞ্চিত পিত্ত, সঞ্চিত কফ ধীরে ধীরে এমন বিকৃতি প্রাপ্ত হয় যে, শরীরের কোন না কোন অঙ্গে তাদের বিকার দেখা দেয়, যার ফল হয়ত সারা শরীরে ছড়ায় না, কিন্তু একটা অঙ্গে দেখা দেয়। এই যে কর্ণক্ষেড় নামক ব্যাধি, এটা ওই দীর্ঘদিনের সঞ্চিত দোষের বিকৃতির ফল। সেই বিকৃতি যদি কর্ণস্রোতে হয় সেইটাই হয় কর্ণক্ষেড় রোগ।

অর্থাৎ কফ পিত্ত এবং রক্ত বিকারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বায়ু যদি কর্ণস্রোতে এসে আর পথ পায়, তবে কানে যে অবস্থা ঘটায় তাতে দিবারাত্রই শুনতে পাচ্ছে কিসের যেন অব্যক্ত ধন্নি হচ্ছে।

এমন ঝি ঝি ভোঁ ভোঁ শব্দ যদি জোড়ে হতে থাকে, কিংবা থেমে গিয়ে মস্তিষ্কে গিয়ে ভ্রম রোগ সৃষ্টি করে, অর্থাৎ ভুল হয়ে যাওয়াটাই সর্বদা ঘটতে থাকে, তবে কর্ণক্ষেড় রোগের সেইটাই অরিষ্ট লক্ষণ বা অশুভ লক্ষণ।

[তথ্যসূত্রঃ চিরঞ্জীব বনৌষধি, চতুর্থ খন্ড]


FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন