বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

মাল্টিপল মাইলোমা

মাল্টিপল মাইলোমা

image_pdfimage_print

মাল্টিপল মাইলোমা একটা অসুখ না অসুর এর নাম। জাতে ক্যান্সার আর কি কিছু কইতে হইব!!

মাল্টিপল মাইলোমা শরীরের প্রতিরক্ষা দুর্গে হামলা চালায়, লাল রক্তে থাকা স্বেত কণীকা বা হোয়াইট ব্লাড সেল রে কওয়া হয় শরীরের সেনাবাহিনী, যখন কোন জীবাণুর উপস্থিতি লক্ষ্য করে সেইখানে গিয়া জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করে, জীবানূরে হারাইতে পারলে তুমি সুস্থ্য থাক আর হোয়াইট ব্লাড সেল হাইরা গেলে তুমিও হাইরা যাও।

আমি কেন মাল্টিপল মাইলোমা হয় বা কি করলে ভালো হয় কইতে চাই না, আমি ডাক্তার না, আমার যোগ্যতা নাই। আমি মাল্টিপল মাইলোমা আক্রান্ত, চিকিৎসারত মাম্মাদের পুষ্টি নিয়া একটু কথা কইতে চাই।

সাধারনত কেমোথেরাপী দেওয়া হয় এই রোগে। খুব সুখের প্রক্রিয়া নয় এইটা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন অষুধের ককটেল আর র‍্যাডিয়েশন থেরাপীর যৌথ প্রয়োগ হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোগী খাদ্য খাবার ইচ্ছা লোপ পায়, খাইতে চায় না, মনে ভয়, অবসাদ, বমি ভাব অন্যান্য অভিযোগের সাথে যোগ হয়, রোগী খাবার খাইতে চায় না, আগ্রহ থাকে না।

অথচ এই চিকিৎসা চলাকালীন সময়েই শরীরের প্রচুর প্রতিরোধ ক্ষমতা দরকার, মাল্টিপল মাইলোমা কিডনী ড্যামেজ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস ও এ্যনিমিয়া বা রক্তশুন্যতার সৃষ্টি করতে পারে। একটু খেয়াল করলে একটু যত্ন করলে একটু চেষ্টা করেলেই শরীর তার প্রয়োজনীয় শক্তি পাইতে পারে যুদ্ধ করার।

এ্যানিমিয়া শরীরের রক্তে লোহিত কণিকা বা রেড ব্লাড সেল এর কমতি রে কয়।মাল্টিপল মাইলোমা রোগীদের এইটা সবসময় লক্ষ্য করা গেছে তারা এ্যানিমিয়ায় ভোগে। যখন রক্তে ক্যান্সারাক্রান্ত প্লাজমা সেল সংখ্যায় বাড়তে থাকে তখন রক্তে লোহিত কণিকার জায়গা থাকে না, পরে ক্যান্সার কোষ বাইরে আসে আর সুস্থ্য কোষ গুলিরে আক্রমন করে।

রক্তে রেড ব্লাড সেল এর কমতি হইলে দুর্বল লাগা, ক্লান্ত লাগা, শীত লাগা অনুভুতি হয়। রক্তে আয়রন এর পরিমান কম হইলেও রক্তশুন্যতা রোগ দেখা দিতে পারে। মাল্টিপল মাইলোমার কারনে যদি এ্যানিমিয়া হয় তাইলে ডাক্তার মাম্মা আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাইতে বলতে পারে। আয়রন রক্তে সুস্থ্য রেড ব্লাড সেল তৈরীতে সাহায্য করে। আর রক্তে যথেষ্ট রেড ব্লাড সেল থাকলে টায়ার্ডনেশ/ক্লান্তিও লাগে না।

কিসমিস, বেলপেপার, কচু শাক, চর্বি ছাড়া লাল মাংশ (চারপেয়ে যেকোন প্রাণী), কেল শাক, ব্রুশেলস স্প্রাউট, মিষ্টি আলু, ব্রকলি, আম পেপে আনারশ ও পেয়ারা তে প্রচুর আয়রন আছে।

কিডনী বান্ধব খাবার খাওয়া – মাল্টিপল মাইলোমা কারো কারো কিডনীর অসুখ সৃষ্টি করে। রক্ত কণিকা থাইকা যখন ক্যান্সার কোষ শরীরে ছড়াইয়া পরে, তখন এইটা শরীরের হাড় ক্ষয়ের কারণও হইতে পারে। একটা বিষয় বুঝতে হইব, হাড় ক্ষয় হইলে তা ক্যালশিয়াম ছড়ায় রক্তে, ক্যান্সারাক্রান্ত প্লাজমা সেল শরীরের প্রোটিন রেও রক্তে ছড়ায়, বেচারা কিডনীর তখন ট্রিপলটাইম কাজ করা লাগে রক্ত থাইকা ছাঁইকা এই অতিরিক্ত ক্যালশিয়াম আর প্রোটিন আলাদা করতে ও রেচন প্রনালী দিয়া বাইর করতে, এই কাম করতে গিয়া কিডনী ড্যামেজ করতে পারে।

তোমার কিডনী কেমন কাজ করতাছে সেইটার উপরে নির্ভর করে তোমার খাবার কেমন হইতে হইব, এমন কিছু খাওয়া উচিত না যাতে কিডনির কাম বাইড়া যায়, তাই লবন, পটাশিয়াম (কলা, কমলা) এ্যাল্কোহল ও প্রোটিন (ডাল, মাংশ) এড়াইতে বলতে পারে ডাক্তার মাম্মা।
যদি কিডনীর হাল খুব খারাপ থাকে তাইলে পানীয় গ্রহনেও সীমাবদ্ধতা আসতে পারে। ডাক্তার মাম্মার নিবীড় নজরে থাকতে হইব।

ইনফেকশন থাইকা বাঁইচা থাকতে হইব, এই রোগের চিকিৎসাকালীন সময়ে, কেমোথেরাপী ও রেডিও থেরাপী শরীরের ইম্যিউন বা প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মক ভাবে কমায়। তাই বার বার হাত ধোয়া, অসুস্থ্য লোকের সংস্পর্শে না আসা, সর্দি ঠান্ডা লাগা থাইকা বাচাইতে পারে।

কাঁচা খাবার (শুশী, কাঁচা ডিম, মাছ, মাংশ) উচিত না। এগুলি ব্যাকটেরিয়া বাহক সুস্থ্য মানুষরেই কাহিল কইরা দেয় আর মাল্টিপল মাইলোমার রোগীর ইম্যিউন সিস্টেম তো নাই বলা যায়।

কোন কোন কেমোথেরাপীর ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে, তাই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। যেমন ওটমিল, ব্রাউন রাইস, শুকনা ফলমুল- কিসমিস, ডুমুর এ্যাপ্রিকট/খোবানী প্রুণ, আপেল, নাশপাতি, কমলা, স্ট্রবেরী,ব্লু ও ব্ল্যাকবেরী, বাদাম ডাল জাতীয় খাবার, ব্রকলি গাজর ও আর্টিচোক।

খাবার হলুদ এ পাওয়া কুরকামিন খুব উপকারী মনে করা হইতাছে, বলা হয় কুরকামিন কেমোথেরাপীর অষুধ শরীরে সহযে গ্রহনে সাহায্য করে, গবেষনাগারে ইঁদুরে প্রয়োগ কইরা দেখা গেছে রক্তে মাল্টিপল মাইলোমা কোষের বিস্তার মন্থর করা গেছে। তাই খাবারে হলুদের প্রয়োগ সুপারিশ করা হইতাছে।

মাল্টিপল মাইলোমা একটা অসুর, তারে পরাস্ত করা অনেক কঠিন, তাই অষুধ এর সাথে সাথে পথ্য একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয়, যুদ্ধে যা হেল্প পাওয়া যায়! খাওয়া দাওয়া করতে হইব ঠিকমত, প্রসেসড খাবার ডিব্বার খাবার বাদ, ফলমূল, ডাল সব্জী, চর্বি ছাড়া মাংশ সুচিকিৎসার সাথে সাথে গ্রহনে রোগীর যুদ্ধ সহজ কইরা দিব।

আল্লাহ সবাইরে সুস্থ্যতা দান করুন।

সূত্রঃ হেলথলাইন.কম

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন