মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

পিত্ত-প্রধান রোগ- কাস/কাশ

পিত্ত-প্রধান রোগ- কাস/কাশ

image_pdfimage_print

পশুপক্ষীই হোক আর মানবই হোক, গলার স্বর শুনলেই বোঝা যায়- এ পীড়িত, কিম্বা সুখী। এর স্বর কি বুঝাতে চায়-উদবেক না হর্ষ, চিন্তা না শোক, হর্ষ না ব্যাকুলতা, সবই অনুধাবন করা যায় ঐ গলার স্বরে। যদি না সে কৃত্রিম করে।  গলার আওয়াজই তো বোবার পীড়া বোঝায়, আবার শিশুর পীড়া, উম্মাদের পীড়া, অজ্ঞানের মূছির্তের পীড়া-সবই বোঝা যায় কণ্ঠের স্বরে।

কণ্ঠের এই বায়ু আসে প্রাণবায়ু আর ঊদান বায়ুর মিলনে। কিন্তু যখনই ঐ প্রাণবায়ু ও ঊদান বায়ুর ক্ষেত্রটি বায়ু, পিত্ত, কফ কিম্বা ক্ষয়ের জন্য দুষিত হয়, তখন সেই প্রাণ ও উদান বায়ুর ধ্বনিটি হয় দেহটি রোগগ্রস্থ হলেই, তা প্রকাশ করে দেয় হয়েছে পীড়িত এবং এই দোষের দ্বারা পীড়িত।

বায়ু ছাড়া যখন ধ্বনি ওঠে না, তখন বায়ুকে লক্ষ্য করেই তার চিকিৎসা করতে হবে। তাকে প্রধান ভেবেই পিত্ত, কফ এবং ক্ষয়ের চিকিৎসা করতে হবে। সাধারণ ভেষজের দ্বারা কি ভাবে এই কাস উপশম বা নিরাময় হতে পারে, তারই একটা ছক এখানে দেওয়া হলঃ

১। বায়ু-প্রবাহ হলে- কচি মূলো, সুষনী শাক, কাকমাচী শাক, বেতোশাক, আখের রস খুব দ্রুত উপশম করে।

২। পিত্ত-প্রধান হলে- মুগের যূষ, যবের পালো, বৃহতী, কন্টকারী, বাসক প্রভৃতি ভেষজের ক্বাথ।

৩। স্লেষ্মপ্রধান হলে- কূলথের যূষ, পিপুল, চৈ, শুঁঠ, আদার রস, শুকনো কূল বিশেষ উপকারী।

৪। সান্নিপাতিক কাসি হলে- এলাইচ, জটামাংসী, আকন্দমূল, তুলসী, শঙ্খ-পুষ্পী প্রভৃতি এইসব ভেষজ।

৫। ক্ষয় জন্য হলে- নাগেশ্বর, যব, কন্টকারী, বেড়েলা, বামুনহাটি, চিতা এইগুলি কাজে লাগতে পারে, তবে কোনটা এক্ষেত্রে কার্‍্যকারী হবে, সেটা চিকিৎসকের পরামর্শ ভিন্ন সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। তবে কোনটাতেই যে অপকার হবে না, এ বিষয়ে সন্দেহের অবিকাশ নেই।

সর্বশেষে জানিয়ে রাখি- যেকোন রকমের কাঁসি হোক না কেন, এই কাস রোগগ্রস্ত  ব্যক্তির যদি জ্বর, প্রচুর পিপাসা, প্রবল অতিসার (পেট ছাড়া) আর ফুলো দেখা দেয়, তবে সেইটাই অশুভ বা অরিষ্ট লক্ষন।

সে রোগীর আর সামলে ওঠার ভরসা নেই বললেই হয়। আয়ুবের্দিক পরিভাষায় এইটাই তখন তার বৈকারিক বিকৃতি লক্ষন।

তথ্যসূত্রঃ চিরঞ্জীব বনৌষধি (তৃতীয় খন্ড)

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন