রবিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯

পুরুষ মানুষের অসুখ – চিকিৎসা

পুরুষ মানুষের অসুখ – চিকিৎসা

image_pdfimage_print

রোগ শোক পুরুষ মহিলা বাছবিচার করে না কিন্ত একটা রোগ যা পুরুষদেরই হয় কারন এই রোগ হওয়ার অনূকুল পরিবেশ পুরুষেই বিদ্যমান, প্রস্টেট ক্যান্সার। মেয়েদের প্রস্টেট গ্ল্যান্ড নাই আর তাই এই রোগের ঝুঁকিও নাই। আজকার বিষয় প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের কান্সার।

প্রস্টেট আখরোটের মত দেখতে আর সাইজে একটা অংগ যা পুরুষের মুত্রথলীর নিচের দিকে অবস্থিত, তাও আবার দুইভাগে, মুত্রথলী থাইকা মূত্রনালী বাইর হইয়া এর মধ্য দিয়া গেছে। এর প্রধান কাজ হইল মানুষ মারা! নাহ, এর প্রধান কাজ বংশবৃদ্ধির মূল উপাদান প্রস্তুতে সহায়তা করা, এটা বীর্যের একটা অংশ তৈরী করে।

প্রস্টেট ক্যান্সার পুরুষ মানুষের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত। আমার কাছে বাংলাদেশী পরিসংখ্যান নাই তাই দেশের কি হাল কইতে পারুম না।

প্রফেসার ডাক্তার এ্যালান হরউইচ লন্ডনের ইন্সটিটিউট অফ কান্সার রিসার্চ , রয়েল মার্সডেন হাস্পাতালে গবেষণা করেন, যা বৃটিশ সরকারের ক্যান্সার রিসার্চ শাখার অন্তর্ভূক্ত, তিনি বলেন, “প্রস্টেট ক্যান্সারের বিভিন্নরূপ আছে, কিছু কিছু কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই রইয়া যায় আর কিছু আগ্রাসী, ছড়ায়া যায় শরীরের অন্য অংশে”।
“যদি প্রস্টেট ক্যান্সার শুরুতেই বা সময়মত শনাক্ত হয় আর তা প্রস্টেট গ্ল্যান্ডেই থাকে তবে সাধারনত রেডিওথেরাপী ও অস্ত্রপোচারের মাধ্যমে তা নিরাময় করা যায়”।

এল্লা কই, বুঝুম কেমনে যে আমার ইয়ে হইছে!!

প্রথমেই জল বিয়োগের কথা ধরা যায়, প্রস্রাবের স্বাভাবিকতা হারায়। সাধারনতঃ বারবার যাওয়া লাগে প্রশ্রাব করতে অথবা প্রশ্রাবের ধারা ঠিক থাকে না। বাধাপ্রাপ্ত অবস্থায় একটু একটু কইরা যারে ইংরাজী তে ‘ট্রিকল’ কয় নাইমা আসে। কিন্তু এইটা হইলেই ক্যান্সার হইছে ভাবার কোন কারণ নাই, এইটা প্রস্টেট গ্ল্যান্ড এনলার্জড হইলেও হয়। যা বেনাইন বা ক্যান্সারাস না।

মূত্রনালীর রে ইউরেথ্রা কয় ইংরাজীতে, প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের কোষ আকৃতিতে বৃদ্ধি পায়া তা মুত্রনালী বা ইউরেথ্রাতে চাইপা ধরে দুই দিক দিয়া, (আগেই কইছি প্রস্ট্রেট গ্ল্যান্ডের মধ্যদিয়া মূত্রনালী গেছে নিচের দিকে)।

এছাড়াও আরো কয়েক্টা উপসর্গ দেখা যায়ঃ
১। প্রস্রাবকালীন অথবা বীর্যস্খলন কালীন ব্যাথা।
২। প্রসাবকালীন জ্বালা পোড়া।
৩। প্রস্রাব শুরু করা বা থামানো।
৪। বারবার মুত্রত্যাগে ইচ্ছা বিশেষ কইরা রাত্রি কালে।
৫। প্রস্রাব অথবা মুত্রে রক্তের উপস্থিতি।
৬। শরীরের নিম্নাংগে, নিতম্ব ও থাই অংশে ব্যাথা।

অবশ্যই অন্য কারণেও এই উপসর্গ গুলি দেখা যাইতে পারে, কিন্ত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত পরীক্ষা কইরা দেখার জন্য। ডাক্তার মাম্মাদের কয়েক্টা পদ্ধতি আছে প্রস্টেটে গ্ল্যান্ডে ক্যান্সারের উপস্থিতি নিরুপনের জন্য।

প্রথম আর সবচেয়ে ব্যবহৃত পদ্ধতিটা হইল ডিজিটাল রেক্টারল এক্সামিনাশন বা ডি আর ই, এই পদ্ধতিতে ডাক্তার বা পরীক্ষক রোগীর পায়ূপথে একটি দস্তানা পরা আঙ্গুল প্রবেশ করায়া প্রস্টেট চেক করা হয়। এই কারণেই অনেক রোগী যাইতে চায় না ডাক্তারের কাছে।

দ্বিতীয় পদ্ধতি হইল রক্ত পরীক্ষা পি এস এ বা প্রস্টেট স্পেসিফিক এ্যন্টিজেন, সাধারন যে কোন রক্ত পরীক্ষার মতই, প্রস্টেট ক্যান্সার রক্তে কিছু রাসায়নিক এর উপস্থিতি ও বৃদ্ধি করে।

তৃতীয় পদ্ধতি হইল আল্ট্রাসাউন্ড ও এক্স রে পদ্ধতি।

James Gallagher এর লেখা গত ২০ডিসেম্বর ২০১৬ বিবিসি ওয়ার্ল্ডের হেলথ সেকশনে Professor Mark Emberton রেডিও ৪ এর সাথে ইন্টারভিউ ছাপছে। তাতে তিনি বলেন প্রস্টেট ক্যান্সার চিকিৎসায় এক ‘যুগান্তকারী সাফল্যের’ দেখা পাইছেন তারা। ইয়োরোপের কয়েকটা দেশে এর সাফল্যজনক প্রয়োগ হইছে। এইটা লেসার রস্মি আর গভীর সমূদ্র থাইকা আহরিত একটা ব্যাক্টেরিয়া থাইকা উদ্ভাবিত একটি অষুধ এর প্রয়োগে কোন জটিল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই রোগী নিরাময় হইছে।

বিখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল The Lancet Oncology লান্সেট অঙ্কোলজী পত্রিকায় ৪১৩ রোগীর একটা পরিসংখ্যান দেওয়া হইছে যাতে দেখা গেছে প্রায় অর্ধকে রোগীর শরীরে কোন ক্যান্সারের লক্ষন রইয়া যায় নাই।

প্রথাগত চিকিৎসায় পুরুষত্বহীনতা, প্রস্রাব নিয়ন্ত্রন হারানো প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অবশ্যম্ভাবী, গড়ে প্রতি দশজনে নয়জনই পুরুষত্বহীনতা ও লিংগোত্থান এ ব্যার্থতায় ভোগেন। প্রায় প্রতি দশজনের পাঁচজন মূত্র ত্যাগে নিয়ন্ত্রণ হারান। তাই দেখা যায় বেশীর ভাগ রোগীই প্রস্টেট ক্যান্সারের প্রথম স্টেজে চিকিৎসা নিতে চায় না আর ডাক্তার মাম্মারাও “ওয়েট এ্যান্ড সী” ফর্মূলা প্রয়োগ করে যতক্ষন না ক্যান্সার সংহারী রূপ ধারণ করে।

প্রফেসর এম্বারটন বলেন “দিস চেঞ্জেস এভ্রিথিং”, তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এ এই প্রক্রিয়ার প্রয়োগ করেছেন।

যে অষুধটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সমূদ্রের অন্ধকারাচ্ছন্ন তলদেশ থাইকা আহরীত, এই ব্যাক্টেরিয়া আলোর সংস্পর্শে আসলেই তা টক্সিক বা বিষাক্ত রূপ নেয়।

দশটি সরু ফাইবার অপটিক লেসার তন্তু ‘পেরিনিয়াম’ (গুহ্যদ্বার ও অন্ডকোষের মাঝামাঝি জায়গা) দিয়া ক্যান্সারাক্রান্ত প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডে পাঠানো হয়। তারপরে তাতে লাল লেসার প্রবাহিত করা হয় যা নিরামক অষুধকে এ্যাক্টিভেট করে তা ক্যান্সার কোষ গুলিরে মাইরা ফেলে আর সুস্থ্য প্রস্টেট গ্ল্যান্ড অক্ষত রাখে।

ইয়োরোপের ৪৭ টি হাসপাতালে এই পদ্ধতির প্রয়োগ হইছে আর তাতে রোগীর ৪৯% সম্পূর্ন নিরাময় হইছে, ফলোআপে ৬% রোগীর প্রস্টেট গ্ল্যান্ড অপসারণ করতে হইছে।

আর সবচাইতে জরুরী বিষয় যা প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের প্রসিডিঊরে দেখা যাইতো লিংগোত্থানে ব্যার্থতা মুত্রত্যাগে নিয়ন্ত্রণ হারানো, এইগুলি তিনমাস পরে আর ছিল না। আর দুই বছর পরে কারো কোন অভিযোগ ছিল না।

এই চিকিৎসা এখনো সাধারনের জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদন পায় নাই, সবাই আশা করতাছেন ২০১৭ সালেই এই যুগান্তকারী প্রাণরক্ষাকারী চিকিৎসা সাধারন্যে প্রয়োগ হইব।

ইংল্যন্ডে প্রতি বছর ৪৬,০০০ লোক প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের ক্যান্সার নিরুপিত হয় আর তা থেকে ১১,০০০ রোগী মারা যায়, প্রস্টেট ক্যান্সার অপসারন ছাড়া বর্তমানে আরেকটা পদ্ধতি চালু আছে ভেরী ফোকাসড আল্ট্রাসাউন্ড যা ফোক্যাল হাইফু (focal Hifu) নামে পরিচিত, কিন্তু এতে কিছু কম ঝুঁকিপূর্ণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

এই লেসার চিকিৎসা পদ্ধতিটি ইজরাইলের ওয়েইজম্যান ইন্সটিটিউট অফ সাইন্স The Weizmann Institute of Science ও Steba Biotech স্টেভা বাইওটেক কর্তৃক উদ্ভাবিত।

চিকিৎসা বিজ্ঞ্যানে নতুন কিছু আবিস্কার হইলেই আমি আহলাদিত হই, ইচ্ছা করে সবাইরে ডাইকা কই, না প্যানডোরা বক্সে এখনো “আশা” আছে। মানুষ চেষ্টা কইরা যাইতাছে, আল্লাহ মানুষরে আরো জ্ঞ্যান দাও যাতে কষ্ট লাঘব কইরা কোয়ালিটি জীবন যাপন করতে পারে।

 

“বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ আমি ডাক্তার না, নিচের লেখায় আমার নিচের বক্তব্য খুব কম যেইগুলি আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, আমার লেখার উদ্দেশ্য সচেতনতা সৃষ্টি করা। আমার লেখার নিচে রেফারেন্স দেওয়া আছে আর গুগল মাম্মার সার্চ অপসনে গিয়া প্রস্টেট ক্যান্সার লেখলেই উত্তর পায়া যাইবা”।

http://www.bbc.com/news/health-383040

 

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন