সোমবার, ডিসেম্বর ৯, ২০১৯

আট বছরের রিশাদের পায়োজেনিক মেনিনজাইটিস

আট বছরের রিশাদের পায়োজেনিক মেনিনজাইটিস

image_pdfimage_print

আমাদের ওয়ার্ডে ভর্তি আট বছরের রিশাদের পায়োজেনিক মেনিনজাইটিস। মেনিনজাইটিসের কমপ্লিকেশন হিসেবে হাইড্রেকেফালাস ডেভেলপ করেছে। অনেকদিন ধরে অজ্ঞান ছিল ছেলেটা। তীব্র জ্বরের কারণে সান্ট অপারেশন করা যাচ্ছিল না। বিকল্প হিসেবে টেম্পরারিভাবে External Ventricular Drainage দেয়াতে সিএসএফ প্রেশার বেশ কমেছে। ফলশ্রুতিতে রিশাদ একটু একটু হাত পা নাড়ছে, তাকাচ্ছে, কথা বলছে। জ্বরও কমেছে। আজ ওর সান্ট অপারেশন হবে।

গতকাল বিকেলে যখন ওকে দেখি কানেকানে ফিসফিস করে বললাম – বাবা, তোমার গল্পটা লিখবো। একটা ছবি তুলি?
রিশাদ বলল – গল্প লেখো। কিন্তু ছবি তুলো না আন্টি।
জানতে চাইলাম – কেনো রে?
ও বলল – ভালো হই আগে, তারপর হাসি দিয়ে ছবি তুলবো!
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। নিজের অজান্তেই আমার একটা হাত ওর পিঠ বুক হাতড়ায়। কী হাতড়ায়? একটা ছোট্ট শিশুর বেঁচে থাকার আকুতি? মায়ের কোলে ফিরে যাবার তীব্র বাসনা? নাকি ওর ছোট্ট বুকে জমানো রঙীন রঙীন স্বপ্ন? জানিনা।

চোখ ছলছল করে আমার। ডাক্তারদের চোখ ছলছল করতে নেই, করলেও সেই ছলছল চোখ কাউকে দেখাতে নেই। আমি ঘুরে দাঁড়াই, ফিরবো বলে।
রিশাদ ফিসফিস করে বলে – আন্টি কাল আমার জন্মদিন।
আমি আর দাঁড়াতে পারি না। দৌড়ে পালাই। আমি জানি, ওর মায়ের কাছে শুনেছি আজ ওর জন্মদিন, আজই ওর অপারেশন।

পরমকরুণাময়ের কাছে ওর জন্য একটাই চাওয়া – রিশাদ সুস্থ্য হয়ে ফিরে যাক ওর মায়ের কোলে। ওর মা অনেক রাত ঘুমায় না, শুধু ওকে বুকে জড়িয়ে একটা শান্তির ঘুম দেবে বলে।

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন