শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

অ্যানজাইনার রোগীর ভবিষ্যৎ

অ্যানজাইনার রোগীর ভবিষ্যৎ

image_pdfimage_print

সঠিক নিয়মকানুন মেনে চললে আর সমস্যার তীব্রতা খুব বেশি না হলে অ্যানজাইনার রোগী বহুদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনারি ধমনীর গহ্বরের সংকোচন আরও বাড়ে, সমস্যা আরও বাড়ার আশঙ্কাও বাড়তে থাকে। তবু প্রথম অ্যানজাইনা দেখা দেবার পর ২০, এমনকি ২৫ বছর সুস্থ শরীরে বেচে আছেন হৃদশূলের রোগী, এমন ঘটনা বিরল নয়। বেশিরভাগ রোগী ব্যথা শুরু হবার পর গড়ে দশ বছর সুস্থভাবে জীবন কাটান।

অ্যানজাইনার রোগী যে পরবর্তী জীবনে হাট অ্যাটাকে বা অন্য হৃদ-জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারেন তা  বলাই বাহুল্য। অ্যাথেরোসক্লেরোসিস করোনারি ধমনীর পাশাপাশি মস্তিস্কের সেরিব্রাল ধমনীকে সংকুচিত করে। যে-কোনও করোনারি হৃদরোগী তাই হার্ট-অ্যাটাকের পাশাপাশি আক্রান্ত হতে পারেন মস্তিস্কের নানা ধরনের, নানা মাত্রার স্ট্রোক ( CVA- Carebrovascular Accident) এ ।

দেখা গেছে যত কম বয়সে অ্যানজাইনার শিকার হবেন একজন মানুষ, সেই মানুষের জীবন (Life Spam) তত ছোট হবে। যত বেশি বয়সে অ্যানজাইনা শুরু হবে আয়ু তত বাড়বে। ৫০ বা ৬০ বছরে অ্যানজাইনা শুরু একজন মানুষ হয়তো আরম্ভ ১৫-২০ বছর বাঁচার পর মারা গেলেন হার্ট অ্যাটাকে। অথচ মাত্র ৪০ বছর বা তারও আগে অ্যানজাইনায় আক্রান্ত অন্য একজন মানুষ হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়ে মারা গেলেন  মাত্র ৮-১০ বছর পরেই। অ্যানজাইনার রোগী কতটা বাচবেন তা নির্ভর করে জীবনযাপন পদ্ধতি, করোনারী অ্যাথেরোমার তীব্রতা আর মোট আক্রান্ত করোনারি ধমনীর শাখা-প্রশাখার সংখ্যার ওপর।

একটি ধমনী আক্রান্ত, অ্যাথেরোমা মাঝারি মাত্রার, নিয়মকানুন কোঠর ভাবে মেনে চলেন এমন মানুষ বাঁচবেন অনেক বেশি দিন। অন্যদিকে একাধিক ধমনী তীব্র মাত্রার অ্যাথেরোমায় আক্রান্ত হলে আর বিধি নিষেধ ঠিক ঠিক মেনে না – চললে বেশি দিন বাঁচার সম্ভাবনাও কম হবে। এটাই সাধারন নিয়ম। তবে ক্ষেত্র বিশেষে এর ব্যতিক্রমও যে ঘটে না তা নয়। সাধারন ভাবে বলা যায়, রক্ত চাপ খুব বেশি হলে, হৃদযন্ত্র খুব বড় হয়ে গেলে ( Marked Cardiac Enlargement), আগে হার্ট ফেইলিওর বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে অথবা ডায়াবেটিস থাকলে অ্যানজাইনার রোগীর বিপদের আশঙ্কাও বাড়ে।

আশঙ্কা বিশেষ করে বাড়ে ধূমপান ছাড়তে না পারলে। অথবা পরিবারে বাবা-মা ও অন্য সদস্যদের মধ্যে আগে অ্যানজাইনা বা হার্ট অ্যাটাক দেখা দিয়ে থাকলে। আশঙ্কা বাড়ে নিয়মিত মদ্য পানে অভ্যস্ত মানুষের বেলাতেও। আশঙ্কা বলতে অ্যাটাক বা হৃদযন্ত্রের অন্য জটিলতা দেখা দেবার ভয়। জন্মগত কারণে রক্তে লিপিডের মাত্রা বেশি হলে কম বয়সে যে অ্যানজাইনা দেখা তার তীব্রতা বেশি হয়, ভবিষ্যতের আশঙ্কাও বেশি থাকে।

সামান্য অ্যানজাইনা দ্রতলয়ে তীব্র হয়ে দেখা দিল হার্ট অ্যাটাক, এমন ঘটনাও ঘটতে পারে। আবার কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর ব্যথার উপসর্গ থাকার পর করোনারির নতুন নতুন কোল্যাটারাল গজিয়ে অনেক কালের জন্য বা চিরকালের মতো উধাও হল অ্যানজাইনা, বিরল হলেও এমন ঘটনা ঘটে।

অ্যানজাইনা মানেই হার্ট অ্যাটাক যেমন নয়, অ্যানজাইনার ব্যথা শুরু হয় করোনারি ধমনীর যে সমস্যার তা জটিলতর হলেই দেখা দেয় হার্ট অ্যাটাক। অ্যানজাইনাকে তাই হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষন বলা না গেলেও সতর্ক বার্তা অবশ্যই বলা যায়। কত কাল সুস্থ থাকবেন একজন অ্যানজাইনার রোগী, কতকাল বাঁচবেন, কিভাবে বাঁচবেন তা যে নানা শর্ত নির্ভর, আগে বলেছি। একেক জন অ্যানজাইনার নানা ধরনের ক্ষেত্রেও তারতম্য ঘটে এরকম ঝুঁকির। ঝুঁকি কম হলেও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন অ্যানজাইনার রোগীর জীবন ছিনিয়ে নিতে পারে খুব তাড়াতাড়ি।

অন্যদিকে, ঝুঁকি বেশি এমন ইসকিমিয়ার রোগী নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করে সহজেই জীবনের কাছে চেয়ে নিতে পারেন মুল্যবান কয়েকটা বছর, অনেকগুলো দিনরাত।  

FavoriteLoadingপ্রিয় পোস্টের তালিকায় নিন।

About The Author

মন্তব্য করুন